#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৩১
গুনগুনিয়ে কান্নার আওয়াজে আশিয়ানের ঘুমটা ভেঙে যায়। চোখটা মেলতেই কিছুটা ঝাপসা লাগায় সে পুনরায় চোখ বন্ধ করে নেয়। তারপর আস্তে আস্তে আবারও চোখ খুলে। নাকে ফিনাইলের তীব্র ঝা্ঝওয়ালা গন্ধ আর সারা শরীরে অসহনীয় ব্যথায় বুঝতে পারে সে এখন কোথায়।
আবারও কান্নার আওয়াজ পেলে সে ঘাড়টা ডান দিকে ঘুরালে দেখতে পায় এলোমেলো চুলে মুখ ঢেকে থাকা এক রমণী তার হাতটা ধরে কাঁদছে। আশিয়ান তার হাতের মুঠোয় থাকা রমণীটির হাত আলতো করে চাপ দেয়, যাতে রমণীটির বুঝতে পারে তার প্রিয়তমের জ্ঞান ফিরেছে। আশিয়ানের পরিকল্পনা সফল হয় বটে।
হাতে চাপ পড়ায় হায়া মাথা তুলে তাকালে আশিয়ানকে তাকিয়ে থাকতে দেখে। হায়া’র মলিন মুখে নিমিষেই প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠে। সেই সাথে ঠোঁট ভেঙে কান্নাও করে দেয় আশিয়ানের বুকে মাথা রেখে। কাল তাদের এত সুন্দর একটা মুহূর্তের পর আজ প্রিয়তমের এমন অবশ্য সে কিছুতেই সহ্য করতে পারছে মা। তার উপর লোকটার জন্মদিন ছিলো আজ।
আশিয়ান ডান হাতটা উঠিয়ে হায়া’র মাথার উপর রেখে আলতো করে বুলিয়ে দিতে থাকে। ক্ষীণ স্বরে বলে–
—হয়েছে তো। আর কান্না করে না, আমি ভালো আছি দেখো।
হায়া বুঝি থামে এত সহজে? সে নিজের মনের মতো কান্নাকাটি করে তারপর থামে। কিছুক্ষণ পর সে আশিয়ানের বুকের থেকে মাথা সরিয়ে তার ক্ষতবিক্ষত মুখশ্রীতে এলোপাতাড়ি চুমু দিতে থাকে। চুমু দেওয়া শেষ হলে সে আশিয়ানের কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে পুনরায় কেঁদে দেয়। ছোট থেকে সে ভীষণ নাজুক ভাবে পালিত হয়েছে। তার ভালোলাগা, খারাপ লাগা সবটাতেই বেশি প্রায়োরিটি দিয়েছে তার পরিবার। বিশেষ করে তার বাবা ও ভাইয়েরা। হায়া তার এত বছরের জীবনে এমন দুঃসময়ের মুখোমুখি খুব কমই হয়েছে। বলতে গেলে হয়ই নি। তাই আজ আশিয়ানের এমন অবস্থায় সে একটু বেশিই ভেঙে পড়েছে।
হায়া’র কান্না কিছুতেই থামছে না দেখে আশিয়ান তার মাইন্ড একটু ডাইভার্ট করতে চায়। সে হায়া’র গালটা আলতো করে স্পর্শ করে বৃদ্ধাঙ্গুল দ্বারা স্লাইড করতে করতে বলে–
—বাহ বউ! তুমিতো ভীষণ ফাস্ট আর রোমান্টিক। সেদিন বেলকনিতে বসে বলেছিলাম তোমার ঠোঁটের উষ্ণ স্পর্শ আমার ব্যথা উপশমের প্রধান ঔষধ সেই কথা তুমি ভালোই মনে রেখেছো। তা থামলে কেনো? আরো কয়েকটা দাও। স্পেশালি এই জায়গাটায়। (নিজের ঠোঁট উঁচু করে দেখিয়ে বলে আশিয়ান)
অন্য সময় হলে হায়া লজ্জায় নেতিয়ে পরত কিন্তু আজ তার ব্যতিক্রম হয়। সে আশিয়ানের কাছ থেকে একটু সরে আসে। তারপর হুট করেই আশিয়ানের চোয়ালে হাত রেখে দু’জনের অধর এক করে দেয়। আশিয়ান কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে সেভাবেই পড়ে থাকে। সে যে রেসপন্স করবে তারও খেয়াল থাকে না। হায়া নিজের মতো আদর দিয়ে নিজেদের ওষ্ঠকে মুক্ত করে। ভাঙা ভাঙা গলায় প্রশ্ন করে–
—আরো লাগবে?
হায়া নরমাল ভাবে প্রশ্নটা করলেও আশিয়ান তা নরমাল ভাবে গ্রহণ করতে পারে না। আসলেই কি প্রশ্নটা নরমাল ছিলো? সে তার চোখ জোড়া বড় বড় করে হায়া’র দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকে–
—এক্সিডেন্ট হলো আমার আর মাথায় সমস্যা দেখা দিয়েছে ওর।
আশিয়ানের ভাবনার মাঝেই হায়া আবারও বলে উঠলো–
—কি হলো? বলছেন না কেনো? এই একমিনিট, একমিনিট আপনার কোথাও খারাপ লাগছে না তো? কোথায় খারাপ লাগছে আমায় বলুন… দাড়ান আমি ডাক্তারকে ডেকে নিয়ে আসছি…
হায়া’র মধ্যে আগের সেই অস্থির ভাবটা আবারও দেখা দেয়। সে আশিয়ানকে ছেড়ে দিয়ে ডাক্তারকে ডাক দেওয়ার জন্য ছুট লাগালে আশিয়ান পেছন থেকে তার হাত ধরে ফেলে। অসুস্থ, নিস্তেজ গলায় বলে–
—আমার কোথাও খারাপ লাগছে না জান। তুমি একটু শান্ত হয়ে বসো। তখন থেকে শুধু কান্নাকাটি আর পাগলামিই করছো।
হায়া আশিয়ানের কথামতো তার বেডের পাশের টুলে বসে পড়ে। আশিয়ানের ডান হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে সেটা ঠোঁট ছুইয়ে দিয়ে কান্নামাখা গলায় বলে–
—আমি কি করে শান্ত হয়ে বসবো বলেন তো? আপনার কিছু হলে আমি কিভাবে বাঁচতাম আপনি একবার ভাবতে পেরেছেন? এত বছর পরে একটু সুখের দেখা পেলাম সেটাও আমার থেকে আজীবনের জন্য দূরে চলে যাচ্ছিল। আমি মরে যেতাম আশিয়ান, একদম মরে যেতাম আপনাকে ছেড়ে।
কথাগুলো বলতে বলতে হায়া’র চোখ বেয়ে অসংখ্য অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। আশিয়ান নিভু নিভু চোখে প্রেয়সীর কান্না দেখতে থাকে। হায়া’র কান্না তার বুকে ব্যথার সৃষ্টি করলেও আজকের এই কান্না তাকে সুখ সুখ অনুভূতি দিচ্ছে। কেনো? কারণ এই কান্না যে স্বয়ং আশিয়ানের জন্য।
হায়া’র এই ক্ষণে ক্ষণে কেঁদে বুক ভাসিয়ে ফেলা আশিয়ানের কোন কালেই পছন্দ ছিলো না, ন্যাকামি লাগত তার এসব। কিন্তু আজ তার ভীষণ ভালো লাগে এই কান্না। হায়া’র চোখের অশ্রু বলে দিচ্ছে সে ঠিক কতটা ভালোবাসে আশিয়ানকে।
হায়া আশিয়ানের হাতটা নিজের কপালে ঠেকিয়ে রেখে ফুঁপিয়ে চলছে অনবরত। আশিয়ান নিজের হাতটা আলতো করে ছাড়িয়ে নেয়, তারপর হায়া’র চোখের অশ্রু মুছিয়ে দিয়ে হাত বাড়িয়ে হায়া’র দাঁত থেকে তার ওষ্ঠ ছাড়িয়ে নেয়। মেয়েটা কান্নার দমকে ঠোঁট কামড়ে ধরে রেখেছে যার কারণে তার গোলাপি ওষ্ঠজোড়া রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। আশিয়ান হায়া’র নিচের ঠোঁট স্লাইড করতে করতে বলে–
—হুঁশশ, আর কাঁদে না। আমি ঠিক আছি আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ মাঝে মধ্যে বিপদ দেন বান্দাকে পরীক্ষা করার জন্য। এই ধরো তোমার একটা পরীক্ষা হয়ে গেলো, তুমি আমায় কতটা ভালোবাসো বা আমার অসুস্থতায় কতটা পাগলামি করতে পারো তা আমায় দেখিয়ে দিলো উপরওয়ালা। তোমার এসব পাগলামি দেখে আমি তোমার প্রতি আরো দূর্বল হয়ে পড়লাম, মন চাইছে তোমায় আদরে আদরে ভরিয়ে দেই। একটা এক্সিডেন্ট তোমায় আমায় আরো কতটা কাছে নিয়ে আসলো এটা তুমি একবার ভেবে দেখেছো? যেই তোমায় আমি ধরে বেধেও চুমু দেওয়াতে পারতাম না, সেই তুমি আজ নিজ থেকে চুমু দিলে। কত পাগলামি দেখালে। এজন্যই বলে, যা হয় ভালোর জন্যই হয়।
চুমু দেওয়ার কথাটা হায়া’র পছন্দ হলো না। কাল রাতেও তো কতগুলো আদর দিলো নিজ থেকে আর আজ সকালে আশিয়ান সেগুলো ভুলে গেলো?
হায়া নাক টেনে মেকি রাগ দেখিয়ে বলে–
—মিথ্যা বলবেন না অসভ্য লোক। কাল রাতেও তো কতগুলো দিলাম। আজ সব ভুলে গেলেন?
—সেগুলো তো আমায় উস্কে দেওয়ার জন্য ছিলো যাতে আমি তোমায় আরো বেশি করে আদর দেই।
কথাটা বলে আশিয়ান হায়া’কে একটা চোখ টিপ দিয়ে অসভ্য মার্কা হাসি দেয়। এদিকে আশিয়ানের কথা শুনে হায়া ভীষণ লজ্জা পেয়ে যায়। সে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আশিয়ানের হাতটা সাবধানে রেখে তড়িঘড়ি করে কেবিন থেকে বের হতে হতে বলে–
—আমি সবাইকে ডেকে নিয়ে আসছি, আপনি চুপচাপ শুয়ে থাকুন।
আশিয়ান গলা উঁচু করে বলে–
—এই তুমি কি লজ্জা পেলে? দেখি এদিকে ঘুরো তো, তোমার লজ্জা পাওয়া মুখটা একটু দেখি কাল তো আদর করেই কুল পেলাম না মুখ দেখবো কখন। এদিক আসো তো…
হায়া সবটাই শুনে কিন্তু তাও আশিয়ানের দিকে ফিরে তাকায় না। সে পা চালিয়ে কেবিনের বাহিরে এসে পড়ে। ভীষণ লজ্জা পেয়েছে বেচারি। আশিয়ান তার এমন মুখ লুকিয়ে চলে যাওয়া দেখে হাহা করে হেঁসে দেয়।
___________________
আশিয়ানের কেবিন ভর্তি হয়ে রয়েছে তার ভালোবাসার মানুষদের দ্বারা। তার দুই পাশে মাথার কাছে বসে আছে তার দুই মা। একজন তার জন্মদায়িনী আরেকজন তার ভালো মা ওরফে তার শ্বাশুড়ি। দুইজনই কিছুক্ষণ পরপর তার দিকে তাকিয়ে কেঁদে উঠছে। দুই বংশের প্রথম সন্তান হিসেবে সকলের কাছে ভীষণ আদরের আশিয়ান।
স্পর্শ-আবরারের একমাত্র সন্তান আশিয়ান। তার স্বভাবতই সে তার বাবা-মায়ের যক্ষের ধন। স্পর্শ কেবিনে ঢুকে ছেলের কাটাছেঁড়া মুখ দেখে সে কি কান্না। আবরার অনেক কষ্টে তাকে শান্ত করেছে। হানিয়ারও তাই করেছিলো। এই ছেলেটাই তো তাকে প্রথম “মাম্মা” বলে ডেকে মাতৃত্বের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো।
আশিয়ান অসুস্থ গলায় বলে–
—আম্মু, মাম্মা আমি ঠিক আছি তো। তোমরা প্লিজ আর কান্না করো না। তোমাদের কান্না আমার ভালো লাগে না একটুও।
হানিয়া আশিয়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে–
—তুই যে আমাদের কাছে কি সেটা বুঝবি না আব্বু। আমরা কি স্বাদে কাঁদছি? আমাদের সন্তান অসুস্থ আর আমরা কাঁদবো না? এখন হয়ত আমাদের অনুভূতি তুই বা তোরা বুঝতে পারবি না, যেদিন বাবা-মা হবি সেদিন ঠিকই বুঝবি সন্তানের গায়ে পড়া একটা ছোট্ট আঁচড়ও বাবা-মায়ের বুকে কতটা লাগে।
সন্তানের কথায় আশিয়ান আঁড়চোখে হায়া’র দিকে তাকায়। দেখতে পায় মেয়েটাও তার দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে। আশিয়ান হতাশ, বড্ড হতাশ।
জাভিয়ান আশিয়ানের কাছে এগিয়ে এসে বলে–
—আব্বু, একটু সাবধানে গাড়ি চালাবে না? দেখলে তোমার একটা অসাবধানতা তোমায় কতটা ভোগাচ্ছে। পরবর্তী থেকে গাড়ি চালানোর সময় অন্যকিছু ভাববে না, জাস্ট গাড়ি চালানোতে মন দিবে।
জাভিয়ানের কথা গুলো শুনে আশিয়ানের কিছুটা একটা মনে পড়ে। সে চোয়াল শক্ত করে বলে–
—বাবাই আমি গাড়ি সাবধানেই চালাচ্ছিলাম। কিন্তু আমার এক্সিডেন্টটা প্রি-প্ল্যানড ছিলে বলে আমি ধারণা করছি।
আশিয়ানের কথায় যেনো কেবিনের মধ্যে বোম ফেলায়। সবাই অবাক চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। প্রি-প্ল্যানড মানে? কেউ ইচ্ছে করে আশিয়ানের এক্সিডেন্ট করিয়েছে? কিন্তু কেনো? ছেলেটা পাঁচ বছর পর দেশে আসলো কিছু মাস আগেই এরই মধ্যে এমন কোন শত্রু বানিয়ে ফেললো যে কিনা তার জীবন পর্যন্ত নিতে চাইছে?
আবরার চিন্তিত হয়ে বলে–
—কি বলছো তুমি? প্রি-প্ল্যানড মানে? কেউ তোমায় ইচ্ছে করে কেন মারতে চাইবে? দেশে ফিরলে তুমি এই কয়মাস, এর মধ্যেই এমন কোন কাজ করলে যার কারণে তোমার জান নিয়ে টানাটানি পড়ছে?
—জানি না আব্বু। কিন্তু আমার ৮০% সিউর এটা কেউ ইচ্ছে করে করেছে। ইদানীং কয়েকদিন ধরে আমায় উপর ছোট বড় অ্যাটাক হচ্ছিল, আমি সেগুলো জাস্ট নরমাল কোইন্সিডেন্ট হিসেবে অদেখা করে যাচ্ছিলাম, কিন্তু আজ আমি অনেকটাই সিউর যে কেউ ইচ্ছে করে এসব অ্যাটাক করাচ্ছে আমার উপর।
সবাই হতবাক হয়ে আশিয়ানের কথাগুলো শুনে। আশিয়ান আবারও বলা শুরু করে–
—আজ আমার বারোটার দিকে ক্লাস থাকায় আমি সাড়ে এগারোটায় বাসা থেকে ভার্সিটির জন্য রওনা দেই। গাড়ি চালাতে চালাতে আমি খেয়াল করি একটা ট্রাক আমার গাড়িটাকে ফলো করছে। আমি বারবার নিজের গাড়ি সাইড করে তাকে সামনে যাওয়ার জায়গা করে দেই কিন্তু সে আমায় ওভারটেক তো করেই না বরং আমার গাড়িকে হিট করতে চায়। আমি তার মতলব আন্দাজ করতে পেরে এমন একটা রাস্তায় গাড়িটা ঢুকিয়ে দেই যেখানে সেই বিশালাকৃতির ট্রাকটি ঢুকতে পারবে না। তারপর ভার্সিটিতে চলে যাই। বিকেলের দিকে ক্লাস শেষ করে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে রওনা হই অফিসের উদ্দেশ্য। তখন আমি সকালের এই ঘটনা একদমই ভুলে গিয়েছিলাম। হঠাৎই লুকিংগ্লাসে সেই ট্রাকটা আবার দেখতে পেয়ে আমার সকালের সেই কথাটা মনে পরে যায়। কিন্তু এবার কোন পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই ট্রাকটি আমার গাড়িকে জোরে হিট করে দেয়। প্রথমে আস্তে দিলেও সেকেন্ড বার বেশ জোরেই দেয়। আমার গাড়িটি কয়েকবার পল্টি খেয়ে একটা গাছের সাথে গিয়ে লাগে। গাড়ির তেলের ট্যাঙ্ক লিক হয়ে সেখান থেকে তেল পড়া শুরু করেছিলো, বুঝাই যাচ্ছিল যেকোন সময় গাড়িটা ব্লাস্ট করবে। আমি অনেক কষ্টে কোন মতে গাড়ি থেকে বের হয়ে কয়েক কদম হাটতেই সেটা ব্লাস্ট করে।মাথায় চোট পাওয়ার কারণে আমি মাটিতে পড়ে যাই। জ্ঞান হারানোর আগে আমি দেখতে পাই দু’জন মাস্ক পরা লোক একটা রড জাতীয় কিছু নিয়ে আমার দিকেই এগিয়ে আসছে। তারপর আমার আর কিছু মনে নেই। হসপিটালে আনার আগে আমার একবার অবশ্য জ্ঞান ফিরে ছিলো, তখন আমি নিজেকে এম্বুলেন্সে আবিষ্কার করি। আমায় উদ্ধার করা এক লোককে জানায়, গাড়ি ব্লাস্ট হওয়ার বিকট শব্দ শুনে, এবং সেখানকার আশেপাশের লোকেরা আমায় রেসকিউ করে হসপিটালে নিয়ে যাচ্ছে। আর তারাই হয়ত তোমাদের কাউকে ফোন দিয়ে আমার কথা বলেছে।
দীর্ঘ এক বক্তৃতা শেষে আশিয়ান থামে। স্বাভাবিকের চেয়ে একটু জোরে জোরেই নিঃশ্বাস নিতে থাকে। অসুস্থ হওয়ায় একসাথে এতগুলো কথা বলে হাঁপিয়ে উঠেছে সে। অন্যদিকে তার এসব কথা শুনে বাকি সবাই যেনো রিয়েক্ট করতেও ভুলে গিয়েছে। এমন জঘন্য ভাবে আশিয়ানকে মারা প্ল্যান করা হয়েছে বলে তারা ভাবতেও পারছে না। কিন্তু কে এমনটা করলো? কার সাথে আশিয়ানের এমন রক্তের শত্রুতা?
_________________________
—আমি এই বিয়ে কিছুতেই করতে পারবো না।
ভরা বিয়ের আসরে জাহানের এই ছোট্ট মন্তব্যটি পারমাণবিক বো**মার মতো কাজ করে। হাসি-খুশিতে জমে থাকা পরিবেশটা নিমিষেই শুনশান নীরবতা ছেয়ে যায়।
শব্দসংখ্যা~১৬৯২
~চলবে?
[আপনারা সকলেই অবগত আমার এক্সাম চলছে। একটা শেষ না হতে হতেই আরেকটা শুরু হয়ে গিয়েছে। তারউপর আমি বেশ অসুস্থও। পড়ালেখা+লেখালেখি দুটোর মাঝে পড়ে আমি চ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছি।🥲 সবাই আমার জন্য একটু দোয়া করবেন আর একটু রেসপন্স করেন প্লিজ 🥺 পেইজের অবস্থা তো সেদিন দেখালামই😞
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স 🎀💖]
পিক ক্রেডিট: আফরোজা আঁখি ধন্যবাদ মেহু😘

