সাঝের_প্রণয়ডোর #সাদিয়া_সুলতানা_মনি #পর্ব_৩৫

0
21

#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৩৫
[রোমান্টিক পর্ব এলার্ট⚠️]

নিশুতিরাত। নিঃস্তব্ধতার গভীরে হারিয়ে যাওয়া এক আবেশময় মুহূর্ত। আবছা আলোয় মোড়ানো ঘরটি যেন নীরব কোনো কবিতা, যেখানে দু’টি ভালোবাসার পাখি শুয়ে আছে নিঃশব্দে, একে অপরের গভীর আগলে। এমনভাবে লেপ্টে রয়েছে তারা, যেন এই ছোঁয়া না থাকলে মুছে যাবে অস্তিত্ব, হারিয়ে যাবে কোনও অচেনা শূন্যতায়।

তাদের বুকের গভীরে জমে থাকা ভয় হারিয়ে ফেলার, আবার একা হয়ে যাওয়ার। কারণ, এই মানুষটিকে পেতে হয়েছে অনেক তীব্র ঝড়, ব্যথা আর অপেক্ষার ভিতর দিয়ে হেঁটে। তাই তো আজ, ভালোবাসার এই মুহূর্তে—তারা ধরে রেখেছে একে অপরকে এমনভাবে, যেন বিচ্ছেদের নির্মম যন্ত্রণা আর কখনও না আসে।

হায়া সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে ভাবছে মেহরিমার কথা। আশিয়ানের হেল্থ নিয়ে এতটা বিজি হয়ে গিয়েছিলো সে বিয়ের ঐদিকের কোন খোঁজখবরই জানত না। তার মা অবশ্য একবার বলেছিলো তার ভাইদের বিয়ে তাদের ভালোবাসার মানুষদের সাথেই হচ্ছে, কিন্তু নামটা শুনেও খেয়াল করেনি। সে যদি খেয়াল করত তাহলে আজ তার বড়দা ভাইয়ের এতটা কষ্ট সহ্য করতে হতো না। ভালোবাসায় বিচ্ছেদের কষ্ট কতটা নির্মম হয় সে তো জানে, সেই একই যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে তার ভাই যাচ্ছে। বিষয়টি তাকেও পীড়া দিচ্ছে।

তার ব্রেনের সাথে হাতও চালিয়ে যাচ্ছে। বুকের উপর শুয়ে থাকা ব্যক্তিগত পুরুষ টির মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে তাকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার জন্য। হুট করে লোকটার মাথায় আবার ব্যথা শুরু হলে আশিয়ানের থেকে হায়াই বেশি অস্থির ও ভয় পেয়ে যায়। আশিয়ান তার এমন অস্থিরতা দেখে হায়ার বুকে শুয়ে তাকে মাথার হাত বুলিয়ে দিতে বলে। হাত বুলিয়ে দেওয়ার একসময় আশিয়ান আরামে ঘুমিয়ে পরলেও হায়া এখনও জেগে আছে। বিভিন্ন কারণে সে ইদানীং রাতে ঘুমাতে পারছে না।

আশিয়ান একটু নড়েচড়ে ওঠায় হায়া তার হাত চালানো থামিয়ে দেয়। নড়তে চড়তে একসময় আশিয়ানের ঘুম ছেড়ে যায়। সে মাথা উঠিয়ে হায়া’র দিকে তাকালে দেখতে পায়, হায়া তার দিকেই তাকিয়ে আছে। আশিয়ান তার বুকে থুতনি ঠেকিয়ে ঘুমুঘুমু কণ্ঠে বলে–

—ঘুমাওনি জান?

কথাটা যেনো হায়া’র বুকে গিয়ে লাগে। ভালোবাসার পুরুষটির এমন নেশা ধরানো কণ্ঠে হায়া’র ঘোর লেগে যায়। হায়া কাঁপা কাঁপা গলায় বলে–

—না…আস..ছিলো না ঘু..ম।

হায়া’র এমন ছাড়া ছাড়া গলা শুনে আশিয়ানের কপালে ভাজ পড়ে। মেয়েটা তোতলাচ্ছে কেন? আশিয়ান বলে–

—আমি বুকে শুয়ে আছি বলে সমস্যা হচ্ছে? উঠে যাবো?

আশিয়ানের কথা শুনে হায়া’র সব ঘোরটোর টায়টায় ফিস হয়ে যায়। সে তড়াক করে আশিয়ানকে ঝাপটে ধরে ধমক দিয়ে বলে–

—বলেছি আমি সমস্যা হচ্ছে আমার? বেশি বুঝেন কেন সবসময়, ঘুমান চুপচাপ।

কথাটা বলেই আশিয়ানের মাথা চেপে ধরে নিজের বুকে তারপর আবারও হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। আশিয়ান হায়া’র কথা শুনে নিঃশব্দে হেঁসে দেয়। তারপর মুখটা আস্তে আস্তে উপরে এনে তার গলায় মুখ গুঁজে দেয়। কোন কথা বার্তা ছাড়াই ছোট্ট ছোট্ট আদরে ভরিয়ে দিতে থাকে হায়া’র গলদেশ, কাঁধ ও বুকের কাছের কিছুটা অংশ।

আশিয়ানের এমন কান্ডে হায়া’র চলতে থাকা হাতটা থেমে যায়। সারা শরীরে এক আলাদা ধরনের শিহরণ বয়ে যায়। সে একহাত দিয়ে আশিয়ানের কাঁধ খামচে ধরে আরেক হাত দিয়ে বেডশিট। আশিয়ান কিছু সময়ের জন্য তার অসুস্থতার কথা ভুলেই গিয়েছে। হায়া ঘন হয়ে আসা নিঃশ্বাস তার কাঁধে পড়ছে। তার স্পর্শ আরো গভীর হতে শুরু করে সেই সাথে খানিকটা পীড়াদায়কও।

আশিয়ান তার কাজ করতে করতেই একহাত দিয়ে হায়া’র লেডিস শার্টের বাটান খুলতে শুরু করে। দু’টো বাটান খুলতেই হায়া ঠাশ করে চোখ মেলে তাকায়। সে আশিয়ানের স্পর্শে এতটাই ডুবে গিয়েছিল যে, তার অসুস্থতার কথাটাও মাথা থেকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বের হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আশিয়ান যখন তার শার্টের বাটান খোলা শুরু করে তখন সে বুঝতে পারে আশিয়ান কি চাইছে।

হায়া বড় বড় শ্বাস ফেলে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে, কিন্তু তেমন একটা সফল হয় না। আশিয়ান আরেকটা বাটান খোলার আগেই হায়া তার হাত ধরে ফেলে। কাঁপা কাঁপা গলায় বলে–

—আপনি অসুস্থ আশিয়ান। এখন না প্লিজ।

—এখনি জান প্লিজ।

কথাটা বলে আশিয়ান হায়া’র কাঁধ থেকে মুখ তুলে নিজেদের অধর এক করে দেয়। উন্মাদের মতো শুষে নিতে থাকে হায়ার ওষ্ঠসুধা। সেই সাথে তার অবাধ্য হাতের স্পর্শ তো রয়েছে। আশিয়ানের এমন উন্মাদনায় সাড়া না দিয়ে পারে না হায়া। সেই আশিয়ানের জন্মদিনের রাত্রে তারা কাছাকাছি এসেছিল, তারপর তো আশিয়ানের এক্সিডেন্ট, বিয়ের ঝামেলায় সব মিলিয়ে বেহাল অবস্থা ছিলো তাদের। আজ এতগুলো দিন পর আবার একটু কাছে আসার, ভালোবাসার সুযোগ পেয়ে হাত ছাড়া করতে চাইছে মা কেউই।

তারা দু’জন যখন একে অপরকে ভালোবাসা ছোয়া দিয়ে রাঙিয়ে দিতে ব্যস্ত তখন হায়া’র অসভ্য ফোনটা ককর্শ সুরে বেজে উঠে। প্রথমে তারা পাত্তা না দিলেও তিনবারের বেলায় হায়া নিজেও একটু বিচলিত হয়ে পড়ে। সে বহু করে নিজের অধর মুক্ত করে আশিয়ানের থেকে, তারপর বালিশের পাশ হাতড়ে ফোনটা বের করে।

হায়া ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে আদিবা ফোন দিয়েছে। এত রাতে ফোন করলো কেন? ঐ বাড়িতে কারো কিছু হয়নি তো আবার? বড়দা ভাই নিজের কোন ক্ষতি করে দেয়নি তো আবার? প্রশ্নগুলো মনে হতেই এক অজানা ভীতি তাঁকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। আশিয়ান তার হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিতে চাইলে হায়া তার মাথায়, পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে শান্ত করতে করতে বলে–

—আপনি একটু শান্ত হন। ঐ বাড়ি থেকে ফোন দিয়েছে। এত রাতে ফোন দিয়েছে নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে। আমি একটু কলটা রিসিভ করি প্লিজ।

আশিয়ান হায়া’র কথা শুনে তার কাঁধে মুখ গুঁজে শান্ত করার চেষ্টা চালায়। হায়া ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরে। ফোনটা রিসিভ হতেই অপর পাশ থেকে আদিবা হুড়মুড়িয়ে বলা শুরু করে–

—হায়া, জাহান ভাইয়া বিয়ে করে ফিরেছে।

জাহান বিয়ে করে ফিরেছে? কাকে? মেহরিমা গায়েব আর জাহান বিয়ে করে ফেললো? তাহলে মেহরিমার কি হবে? প্রশ্নগুলো হায়া’র মাথায় ঝড় তুলতে শুরু করে। হায় বেশ খানিকটা জোরেই বলে–

—বড়দা ভাই বিয়ে করেছে ফিরেছে? কাকে? কখন? কেন? বড়দা ভাই বিয়ে করে ফেললে মেহুর কি হবে এখন?

সবগুলো প্রশ্ন এক নিঃশ্বাসে করে তারপর শ্বাস ফেলে। অন্যদিকে আশিয়ান হায়া’র কথা শুনে বড়বড় চোখ করে তার দিকে তাকায়। জাহান মেহরিমার জন্য কতটা পাগল আর কেমন পাগলামি করতে পারে সেটা সেও দেখেছে। তাহলে আজ হঠাৎ কাকে বিয়ে করে ফেললো?

আদিবা হায়ার পরপর প্রশ্ন শুনে একটু বিরক্তই হয় বটে। মেয়েটা বড্ড অধৈর্য। সে হায়া’কে বলে–

—আমাকে বলতে তো দিবি পুরো কথা।

—আচ্ছা বল।

আশিয়ান হায়া’কে ইশারায় বলে ফোনটা লাউডস্পিকারে দিতে। হায়া তাই করে। তারা দু’জন শুনতে পায় আদিবা বলছে–

—আজ বাবাই কোথা থেকে জানি খবর পেয়েছে মেহু চট্টগ্রাম আছে, এই কথাটা জাহান ভাইয়াকে বলতেই সে রওনা হয় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য। জায়িনও গিয়েছিল, একটু আগে এসেছে। তখন জায়িন বললো ভাইয়া আর মেহু নাকি চট্টগ্রামেই বিয়ে করে ফেলেছে।

আদিবার কথা শুনে হায়া আর আশিয়ান স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। হায়া বলে–

—যাক, আলহামদুলিল্লাহ। দুই পাগল অবশেষে এক সুতায় বাঁধা পড়লো।

—হুম। কিন্তু ভাইয়া তো ঠিক নেই হায়া। এসেছে পর থেকে দেখছি মেহুর সাথে রাগারাগি করছে, মেহুকে কাঁদতে দেখে একবার মারতেও গিয়েছে। ভাইয়ার এমন রূপ দেখে মেহু ভয় পেয়ে আরো কাঁদছে। বাবাই তাকে ধমকেধামকে কোন মতে বসিয়ে রেখেছে, কিন্তু তাও ভাইয়া একটু পরপর ফুঁসে উঠছে।

কথাটা শুনে হায়া’র চোখ বড় বড় হয়ে যায়। তার ভাই মেহরিমাকে মারতে গিয়েছে? অবিশ্বাস্য বিষয় তার কাছে।

—কি বলিস? ভাইয়া এমন করছে কেন? মেহরিমা একটা ভুল করেছে বুঝলাম, কিন্তু ভাইয়া তো জানে মেহরিমা কেমন তাহলে ঐবিষয় নিয়ে এখন রাগারাগি করে লাভ আছে কোন? উল্টো সম্পর্ক আরো খারাপ হয়ে যাবে।

—ভাইয়া হয়ত মেনে নিতে পারছে না মেহু উনাকে ছেড়ে গিয়েছে। তার দিকটাও তো ভেবে দেখতে হবে। সে তো মেহরিমাকে কম ভালোবাসেনি। মেহরিমা এমন অন্যের কাছে ভাইয়াকে ছেড়ে দেওয়ায় সে ভীষণ কষ্ট পেয়েছে সেটা তার চেহারা দেখে যে কেউ বলে দিতে পারবে।

—হুম। আচ্ছা তুই আম্মুর কাছে ফোন দে।

আদিবা ফোনটা হানিয়াকে দেয়। হায়া তার মা’কে বলে–

—আম্মু বড়দা ভাই নাকি রাগারাগি করছে?

—হ্যা রে মা। ছেলেটা এতদিনের রাগ আজ যেন জোয়ালামুখী হয়ে বের হচ্ছে। মেয়েটা জাহানের এমন আচরণ দেখে আরো কাঁদছে।

—শুনো, তুমি আজ মেহুকে তোমার সাথেই রাখো। আর পাপাকে ভাইয়ের সাথে পাঠিয়ে দাও। এই দুইজনকে তোমরা দু’জন বুঝাও তারা কি কি ভুল করেছে আর করছে। বড়দা ভাই পাপার কথা নিশ্চয়ই শুনবে। আর আমি কাল সকালে আসছি।

—আচ্ছা। রাখছি তাহলে।

—হুম আল্লাহ হাফেজ।

—আল্লাহ হাফেজ।

হানিয়া ফোনটা কেটে দেয়। এতক্ষণ চুপ করে আশিয়ান সব কথা শুনছিল। হায়া ফোনটা বালিশের পাশে রেখে আশিয়ানের দিকে তাকালে দেখতে পায় আশিয়ানও তার দিকে তাকিয়ে আছে। হায়া মাথাটা বালিশ থেকে উঠিয়ে আশিয়ানের কপালে টুপ করে একটু চুমু দিয়ে আবারও শুয়ে পড়ে। তার মনটা খুশি-খুশি তাই আদর দিলো একটু। হায়া প্রফুল্লচিত্তে বলে–

—আশিয়ান আমি না ভীষণ খুশি। অবশেষে ভাইয়া আর মেহু এক হলো।

বউয়ের খুশি দেখে আশিয়ান আরো দ্বিগুণ খুশি হয়ে যায়। সে হাসিহাসি মুখে দিয়ে বলে–

—আমিও খুশি। তা তোমার ভাইয়ের বিয়ে হলো আমায় মিষ্টি মুখ করালে না?

হায়া আশিয়ানের কথা শুনে বলে–

—মিষ্টি খাবেন এতরাতে? আচ্ছা সরুন আমি নিচের থেকে গিয়ে নিয়ে আসছি।

—নিচের থেকে আনা লাগবে না। তোমার কাছে যেটা আছে সেটাই দাও।

হায়া তার কথা না বুঝতে পেরে অবুঝের মতো বলে–

—আমার কাছে তো কোন মিষ্টি নেই। কোন মিষ্টির কথা বলছেন আপনি?

আশিয়ান হায়া’র ঠোঁট নিজের আঙ্গুল দ্বারা স্লাইড করতে করতে বলে–

—এর চেয়ে সুস্বাদু মিষ্টি আমার কাছে আর দুটো নেই জান। একদম ইয়াম্মি ইয়াম্মি।

কথাটা বলে সে আবারও হায়াত ওষ্ঠে নিজের ওষ্ঠ মিলিয়ে দেয়। তাদের অসম্পূর্ণ কাজটা সম্পূর্ণ করতে থাকে। একে অপরকে রাঙিয়ে দিতে থাকে নিজেদের ভালোবাসার রঙে।

______________________

গুনগুনিয়ে কান্নার আওয়াজে জাহানের রাগটা চিড়চিড়িয়ে বাড়তে থাকে। ঢাকায় আসার পুরোটা রাস্তা এমন গুনগুন আওয়াজ শুনতে শুনতে এসেছে। কয়েকবার ধমক দিয়েও কোন লাভ হয়নি। জাহান রাগ দমন করতে না পেরে বিকট আওয়াজে আবারও ধমকে উঠে বলে–

—এই তুই চুপ করবি নাকি কানের নিচে একটা দেওয়া লাগবে? এই কে মরছে তোর যে তখন থেকে কেদেই চলেছিস? নাকি আমাকে বিয়ে করে আফসোস হচ্ছে? শুন আফসোস হোক আর যাইহোক আজ থেকে আমি মরার আগ পর্যন্ত তোকে আমার সাথেই থাকতে হবে। না না, আমি মরার পরও তুই কারো হতে পারবি না। চুপ একটা আওয়াজ যদি আমি শুনেছি আর তাহলে কিন্তু খবর করে ছাড়ব তোর।

জায়িন আর আদিবা জাহানের এমন হুংকার শুনে ভয় পেয়ে যায়। জায়িন জাহানের জমজ ভাই হয়েও আজ পর্যন্ত তাকে কখনোই এমন বিভৎস রকমের রেগে যেতে দেখেনি। হানিয়া-জাভিয়ানও বড় ছেলের এমন রাগ দেখে চমকে গিয়েছে। তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে এই বড় ছেলেটা একটু বেশিই চুপচাপ আর শান্ত। জায়িন আর হায়া একটু চঞ্চল হলেও জাহান একদম ঠাণ্ডা। সেই ছেলের এমন রাগ দেখে তারা ভীষণ অবাক হয়ে গিয়েছে।

এদিকে জাহানের এমন রূপ মেহরিমার কাছেও নতুন। জাহান কখনো তার সাথে এমন ব্যবহার তো দূর ধমক দিয়ে পর্যন্ত কথা বলেনি। সেই জাহান আজ মারতে যাচ্ছে, এমন ধমকাচ্ছে দেখে মেহরিমা ভয়ে আরো কাঁদছে।

হানিয়া ইশারায় জাভিয়ানকে বলে বড় ছেলেকে এখান থেকে নিয়ে যেতে। জাভিয়ান ছেলের কাছে এসে বলে–

—যথেষ্ট হয়েছে বাবা। আর বকা দিও না মেয়েটাকে। দেখো তোমাকে ভয় পাচ্ছে মেয়েটা। তুমি আমার সাথে চলো, ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে ঘুমাবে। কাল সকালে বাকি বিষয় দেখা যাবে।

জাহান যেতে চায় না জাভিয়ানের সাথে। জায়িন আর জাভিয়ান টেনে তাকে নিয়ে যায় রুমে। এদিকে হানিয়া মেহরিমাকে নিজের বুকে আগলে নেয়। পিতামাতাহীন সন্তানদের কষ্ট সে একটু হলেও জানে।

~চলবে?

[ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here