সাঝের_প্রণয়ডোর #সাদিয়া_সুলতানা_মনি #পর্ব_৬১

0
20

#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৬১

রাত্রি তখন পৌঁনে তিনটা। বাড়ির গেটের সামনে থামল ফারাবীর গাড়ি। গাড়ি পার্ক করে এসে হাঁটা দিল গার্ডেনের দিকে, যেটির অবস্থান তাদের বাড়ির পেছনের দিকে। বাড়ির ভেতরে ঢোকার কোনো তাড়া তার নেই। হাতে ধরা এপ্রোনটা আলগো করে মুঠোয় চেপে, ধীরে ধীরে সেদিকটায় যেতে থাকে ফারাবী।

গার্ডেন যেন রাত্রির কোলে লুকিয়ে থাকা কোনো গোপন স্বপ্ন রঙিন ফুলে ভরা, সুগন্ধে মোড়া। নিশিথের নিস্তব্ধতা তাদের সৌন্দর্যকে আরও গভীর, আরও রহস্যময় করে তুলেছে। একপাশে পেতে রাখা বেতের সোফায় বসে পড়ে সে। এপ্রোনটা পাশে রেখে, হাঁটুর ওপর জোড়া হাত রেখে তাকিয়ে রইল সামনের সারি সারি সূর্যমুখীর দিকে।

মৃদুমন্দ বাতাস এসে ফুলগুলোকে দুলিয়ে দেয়— যেন নিঃশব্দে তাদের হলুদ পাপড়ি দিয়ে ফারাবীর ক্লান্ত মনকে আদর করছে।

এই সূর্যমুখী ফুলগুলো লাগানোর পেছনে একটা সুন্দর ইতিহাস রয়েছে। ফারাবী ও জাহানের যেমন বন্ধুত্ব ছিল, তেমনি তাদের বাবাদের মধ্যেও বেশ ভালোই বন্ধুত্ব ছিল। সেই সম্পর্কের জেরে একদিন তালুকদারদের দাওয়াত করা হয়েছিল তাদের বাসায়। ফারাবী তখন নতুন নতুন হায়ার প্রেমে পড়েছে। প্রায়শই তাকে তালুকদার বাড়ির আশেপাশে দেখা যায়।

হায়ারা ফারাবীদের দেওয়া দাওয়াতে তাদের বাসায় আসলে ফারাবীই সবচেয়ে বেশি খুশি হয়। সে নিজ তাগিদে বাড়িঘর পরিষ্কার করায়। নিজে সুন্দর ড্রেস আপ করে রেডি হয়ে অপেক্ষা করতে থাকে তার প্রেয়সীর জন্য। হায়ারা আসার পর তাদের বেশ ভালোই আপ্যায়ন করা হয়। সমবয়সী জাহান ও জায়িনের আতিথেয়তার দায়িত্ব পড়ে ফারাবীর কাঁধে।

ফারাবী জাহান ও জায়িনকে নিয়ে চলে যায় গার্ডেনে। সেখানে বসে তারা আড্ডা দিতে থাকে। তখনই হায়াকে সাথে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয় ফারাবীর ছোট বোন ফাউজিয়া। হায়া বড়দের মাঝে বসে বসে বোর হচ্ছিল বলে তার বাবা ফাউজিয়াকে দায়িত্ব দিয়েছে, হায়াকে যেনো সে তাদের পুরো বাড়ি ঘুরিয়ে দেখায়। ফাউজিয়া সেই কথা অনুযায়ী কাজে লেগে পড়ে। পুরো বাড়ি দেখানো শেষ করে তারা এবার বাড়ির বাহিরে এসেছে।

গার্ডেনে তখন বেশি একটা ফুল ছিল না। দুই এক পদের ফুল ছিল। হায়া ও ফাউজিয়া জাহানদের কাছে যেতেই ফারাবীর মন খুশিতে খলবলিয়ে উঠে। সে নিজের জায়গা ছেড়ে উঠে গিয়ে হায়াকে বসার জায়গা দেয়। এমন না বসার জায়গা কম, কিন্তু তাও অতিরিক্ত উত্তেজনা ও খুশিতে কাজটা করে বসে। হায়া কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলে–

—ভাইয়া আপনি ব্যস্ত হবেন না। আপনি বসুন আমি গার্ডেনটা ঘুরে দেখছি।

—আচ্ছা যাও তাহলে।

হায়া চলে যায় ফাউজিয়ার সাথে আর জাহান,জায়িন ও ফারাবী আবারও আড্ডা দিতে শুরু করে দেয়। কিন্তু এবার ফারাবী আড্ডায় তেমন একটা মনোযোগ দিতে পারে না, কারণ তার চোখ ঘুরে ফিরে হায়াতে গিয়েই আটকে যাচ্ছে। তাদের গার্ডেনের একপাশে গোলাপ ফুলের গাছগুলোর কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে তারা। হায়া তার কোমল হাতে গোলাপ ফুলগুলোর উপর বুলিয়ে দিতে দিতে তার বোনের সাথে কি যেনো বলছে। বেশ কিছুক্ষণ তারা সেখানে থাকে। তারপর ভেতর থেকে লাঞ্চের জন্য তাদের সকলকে ডাকা হলে তারা ভেতরে চলে যায়।

বিকেলের দিকে হায়া’রা চলে যাওয়ার পর ফারাবী তার বোনকে ইনিয়েবিনিয়ে জিজ্ঞেস করে সে হায়ার সাথে কি কথা বলছিল। তার বোন তখন নিতান্তই ছোট, মাত্র ক্লাস সেভেনে পড়ে। সে সরল মনে বলে দেয়, তারা গার্ডেনে কি গল্প করেছে। ফারাবী জানতে পারে, হায়ার পছন্দের ফুল সূর্যমুখী। এটা জানার পরের দিনই সে তাদের অর্ধেক গার্ডেন সূর্যমুখী ফুল দিয়ে ভরিয়ে ফেলেছে। তার ইচ্ছে ছিলো, বিয়ের পর কোন এক চাঁদনী রাতে সে আর হায়া গল্প করতে করতে ফুলগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করবে। হায়া তার কাঁধে মাথা রেখে তার সারাদিনের সকল গল্প বলবে, আর ফারাবী একজন মনোযোগী শ্রোতা হিসেবে সেসব গল্প শুনবে। মাঝে মধ্যে আবার হায়ার ললাটে আলতো করে ভালোবাসার পবিত্র স্পর্শ দিবে।

ফুলগুলো চাঁদনী রাতে নিজেদের সৌন্দর্য উপস্থাপন করছে, ফারাবীও সেই জায়গায় বসে আছে, নেই শুধু সেই রমনীটি যাকে ঘিরে ফারাবী এত সব জল্পনা-কল্পনা। যাকে নিয়ে ফারাবী সুখী হতে চেয়েছিল, সে এখন আরেকজনকে জীবনসঙ্গী করে সুখী। ফারাবীর প্রাপ্তি খাতায় সাদা, নেই সেখানে কোন পূর্ণতার কাহিনী লেখা।

ফারাবী সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে আকাশের দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকে। সময় গড়ায় তার আপন নিয়মে, সেই সাথে ফারাবীর চোখের কার্নিশ বেয়ে অপ্রাপ্তির অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে। সে ঐ বিশাল আকাশের অধিপতিকে বলে–

—আপনি তো জানেন, আমি হায়াকে ঠিক কতটা ভালোবেসেছিলাম। তার হাসিতে নিজেকে খুশি করতাম, তার বেদনা আমায় কাঁদাত। সে আশেপাশে থাকলে নিজেকে সুখী ভাবতাম। ভাবতাম আমার জীবনে আর কোন অপূর্ণতা নেই, তার আগমনে আমার জীবন পরিপূর্ণতা লাভ করেছে।

কিন্তু না, আমার ভাবনা ভুল ছিল। সে আমার ছিল না, সে যাকে ভালোবেসেছিল তারই ছিল। সে যদি আমারই না হবে, তাহলে কেনো ক্ষণিকের জন্য আমায় জীবনে আসলো? কেনো আমার মনে তার জন্য এত ভালোবাসা দিলেন? এখন যে তাকে ছাড়া আমার বেঁচে থাকা দায় হয়ে গিয়েছে। আমি তাকে হারিয়ে বেদনার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি, আর সে তার ভালোবাসার মানুষটির বুকে নিজের সুখের নিঃশ্বাস ফেলছে। পূর্ণতার বেলায় আমিই কেনো অপরিপূর্ণ? কেনোওওও?

ফারাবীর হৃদয়ভাঙা আর্তনাদ রাতের সেই নিস্তব্ধ পরিবেশকে আরো গম্ভীর ও ভয়াবহ করে তুলছে ক্ষণে ক্ষণে।

___________________________

আজ তিনদিন হয়েছে হায়া’রা গ্রামে এসেছে। এসেছে পর থেকে একদিনের জন্যও গ্রামটা ঘুরে দেখতে পারেনি। কারণ সময়টা এখন বর্ষাকাল। হায়া’রা যেদিম এসেছে তার পরের দিন থেকে টানা তিনদিন মুশলধারে বৃষ্টি নামছে। কখনো কখনো আধা ঘন্টার জন্য বৃষ্টি থামলে পরবর্তীতে দেখা যায় দুই ঘন্টায়ও বৃষ্টি থামার নাম নেই। বৃষ্টিমুখর এই গ্রাম্য পরিবেশ শুরুতে শুরুতে ভালো লাগলেও একটানা কয়েকদিন ঘরেই বসে থেকে হায়া আর মেহরিমা প্রচন্ড বিরক্ত। আশিয়ান ও জাহানও বিরক্ত হলেও তাদের দু’জনের মতো এতটা না। তারা দু’জনই নিজেদের পারসোনাল ল্যাপটপ নিয়ে এসেছে আশিয়ান তার বিজনেস কাজ ঘরে বসেই করে ফেলে, যেহেতু দুই বাপ-বেটাই বর্তমানে গ্রামে অবস্থান করছে। আর জাহানও তাই।

আজ সকাল থেকে বৃষ্টি নেই বরং অল্পস্বল্প রোদের দেখা মিলেছে। হায়া জেদ ধরেছে আজ যদি তাদের ঘুরতে নিয়ে না যাওয়া হয়, তাহলে তারা দুই বান্ধবী একা একাই বেড়িয়ে পড়বে। মেহরিমাও বান্ধবীর কথায় সম্মতি দিয়ে তার পেছন পেছনই ঘুরছে। ইদানীং মেয়েটা একটু জেদ দেখায়, অভিমান করে মুখ ফুলিয়ে রাখে, কখনো আবার প্রাণ খুলে হাসে। আর এইসব টাই যে জাহানের জন্য সম্ভব হয়েছে আর হচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ছেলেটা তাকে সবসময় প্রিন্সেস ট্রিটমেন্ট দেয়। সেই সাথে তার পরিবারের আদর, আহ্লাদ, শাসন তে আছেই।

নাস্তা খাওয়ার পরপরই হায়া আর মেহরিমা স্পর্শ পেছন পেছন ঘুরছে, তাদের আবদার- স্পর্শ আশিয়ানকে বলিয়ে তাদের গ্রাম ঘুরিয়ে আনতে বলে যেনো। স্পর্শ প্রথমে নিজেও সম্মতি দেয়নি এখনই ঘুরতে যাওয়ার, কারণ কাল রাতেও বেশ ভালোই বৃষ্টি নেমেছিল, সকালে যেই একটু রোদ উঠেছে কাদা এখনও ভালো করে শুকায়নি। আর তাদের বাড়িটা একটি ভেতরের সাইডে, মেইন রাস্তা থেকে আসতে একঘন্টার মতো লাগে গরুর গাড়িতে। তারউপর আকাশ তেমন একটা স্বচ্ছও না, এই একটু রোদ উঁকি মারে তো আবার মেঘ এসে আকাশ ছেয়ে যায়। কিন্তু হায়া আর মেহরিমা অনেক ইমোশনাল কথা বলে তাকে পটিয়ে ফেলে।

সকাল নয়টার নাস্তা খেয়েই মায়ের নির্দেশে আশিয়ান হায়া, মেহরিমা ও জাহানকে নিয়ে বের হয়ে পড়ে। উদ্দেশ্য আশেপাশের সবটা ঘুরিয়ে দেখানো তাদের। তারা লাস্ট গ্রামে এসেছিল সেই সাত কি আট বছর আগে। তখন হায়া আর জাহান ভালোই ছোট ছিল, সেই তুলনায় আশিয়ান বুঝদার ও বড় ছিল। যদিও আশিয়ানের তেমন একটা কিছু মনে নেই তাই তাদের সাথে মি.মির্জা চাচাতো ভাইয়ের নাতনী মহুয়াকে। তার বয়স সতেরো, আর সে কিছুদিন আগেই সে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে তার তার হাতে এখন অফুরন্ত সময়। গ্রামেই তার জন্ম এবং বড় হওয়া, তাই এই গ্রামের প্রতিটি রাস্তা-ঘাট, অলিগলি তার মুখস্থ।

সে তাদের চারজনকে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একদম মেইন রোডের দিকে এসে পড়ে। সেখানে এসে হায়া ফুচকার দোকান দেখতে পেলে ফুচকা খাওয়াট বায়না করে। আশিয়ান একটু মানা করলেও বউয়ের জেদের কাছে তার হার মানতেই হয়। আশিয়ান হায়া, মেহরিমা ও মহুয়া তিনজনকে ফুচকার প্লেট ধরিয়ে দিয়ে সে আর জাহান আশেপাশে হাঁটাহাঁটি করতে থাকে। হঠাৎই অফিস থেকে ম্যানেজার ফোন করায়, সে ফোনটা কানে লাগিয়ে কথা বলতে বলতে হায়াদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে, তখনই তার অসাবধানতা বসত এক পথচারীর সাথে ধাক্কা লেগে যায়। পথচারীটি নিচে পড়ে গিয়ে “আহ্” বলে আর্তনাদ করে উঠে। আশিয়ান হকচকিয়ে গিয়ে ফোনটা কেটে দেয়। সে নিজেও কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছে কিন্তু পথচারী টির মতো নিচে পড়ে যায় নি।

আশিয়ান নিচের দিকে তাকিয়ে দেখে পথচারীটি একটা মেয়ে, যে কিনা কংক্রিটের মাটিতে পড়ে গিয়ে হাত ছি”লে ফেলেছে। আশিয়ান ঘাবড়ে যায় মেয়েটার হাতে রক্ত দেখে। সে হাঁটু গেড়ে তার সামনে বসে পরে, তারপর কিছুটা ভীত গলায় বলে–

—সরি সরি, আমি ইচ্ছে করে করিনি। এক্সট্রিমলি সরি আমি।

মেয়েটা আশিয়ানের এতবার সরি বলা শুনে তার দিকে চোখ তুলে তাকায়। দেখতে পায় বছর ২৯ কি ৩০ এর এপ সুদর্শন পুরুষ তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে কথাগুলো বলছে। তারমানে এই লোকটার সাথেই তার ধাক্কা লেগেছে। ততক্ষণে হায়ারাও আশিয়ানদের কাছে চলে এসেছে। হায়া বলে–

—কি হয়েছে?

আশিয়ান হায়ার দিকে তাকিয়ে বলে–

—আমি ফোনে কথা বলতে বলতে হাঁটছিলাম তখন উনার সাথে ধাক্কা লাগে, আর উনি নিচে পরে গিয়ে হাত কেটে গিয়েছে।

আশিয়ানের কথা শুনে হায়া ও মেহরিমাও ঘাবড়ে যায়। তখনই তাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মহুয়া বলে উঠে–

—মেঘলা তুই?

সকলে চমকে যায় মহুয়ার মুখে নামটা শুনে। মেহরিমা মহুয়াকে জিজ্ঞেস করে–

—তুমি ওকে চিনো?

মহুয়া বলে–

—হ্যা, ভাবী ও আমার ক্লাসমেট আর ছোট দাদীর(মিসেস মির্জার) বোনের নাতনী।

এত লতানো পাতানো সম্পর্ক আশিয়ানদের মাথার উপর দিয়ে যায়। মহুয়া মেঘলাকে বলে–

—তুই একা একা এখানে কি করছিস? তোর ছোট চাচী জানে তুই এখানে এসেছিস?

মেঘলা শান্ত গলায় উত্তর দেয়–

—ছোট চাচীর সাথেই এসেছি। সামনে আমার বিয়ে তার জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি।

সকলে অবাক হয়ে যায় মেঘলার মুখে এহেন কথা শুনে। এমনকি মহুয়া নিজেও। সে বান্ধবীকে জিজ্ঞেস করে–

—কি বলছিস? তোর তো এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করার কোন ইচ্ছে ছিল না, তুই না ডাক্তার হতে চাস? তাহলে এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করে নিচ্ছিস যে?

—কি করবো বল? ভালো পাত্র পেলো তাই করেই নিচ্ছি বিয়ে।

—তা পাত্রটাকে শুনি?

—পাত্র হলো….

তাদের কথার মাঝেই জাহান বলে উঠে–

—তোমরা কথাবার্তা পরে বলো, ওর হাতে ব্লি”ডিং হচ্ছে, আগে ওর হাতটা ড্রেসিং করানো জরুরি।

সকলে তার কথায় সম্মতি দেয়। তারপর হায়া ও মহুয়ার সাহায্যে মেঘলা উঠে দাঁড়ায়। বেকায়দায় পড়ে যাওয়ায় পায়েও খানিকটা ব্যথা পেয়েছে। তারা পাশের এক ফার্মেসির দোকানে তাকে নিয়ে যায়। জাহান নিজেই মেঘলার হাত ড্রেসিং করে দেয়। এরই মাঝে মেঘলার চাচা-চাচী তাকে খুঁজতে খুঁজতে সেখানে এসে উপস্থিত হয়। হায়াদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মেঘলা তার চাচা-চাচীর সাথে চলে যায়। টোটো-তে উঠার পর মেঘলা কি মনে করে আশিয়ানের দিকে ফিরে তাকায়, দেখতে পায় আশিয়ানও হায়ার হাত ধরে বাসার পথে হাঁটা দিয়েছে।

__________________________

আশিয়ানদের বাড়িতে ফিরতে ফিরতে আকাশে কালো মেঘ জমে পুনরায় বৃষ্টি নামতে শুরু করে। তারা সকলেই ভিজিয়ে যায় খানিকটা। হায়া তো মহা খুশিতে হাঁটার গতি কমিয়ে দিয়ে ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরেছে। গিয়েছিল ঘুরতে, ফিরে আসল বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে। আশিয়ান তো এই জন্য ভীষণ রেগে গিয়েছে। হায়ার ঠান্ডার ধাত আছে, এটা অবশ্য সে তার মায়ের থেকে পেয়েছে। মহারাণী গ্রামে এত বছর পর এসে আবার বৃষ্টিতে ভিজেছে, শরীর খারাপ যে হবে সেটা তার টমেটোর মতো লাল নাকটা দেখে যে কেউ বলে দিতে পারবে।

বাড়িতে ফিরে আশিয়ান কিছুক্ষণ বউয়ের সাথে রাগ করছে তো কিছুক্ষণ নিজে একা একাই রাগারাগি করছে। হায়া গোসল দিয়ে বের হলে সেও গোসল করে এসে দেখে তার বউয়ের মুখ চোখ অলরেডি লাল হয়ে এসেছে। আজ রাতে যে তার গা কাঁপিয়ে জ্বর আসবে সেটা আর বুঝতে বাকি থাকে না। আশিয়ানের নিজের মাথা কোনমতে মুছে গায়ে একটা টি-শার্ট জড়িয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসে। কিছুক্ষণ পর এক প্লেট খাবার নিয়ে ফিরে আসে।

হায়া খাবার খেতে না চাইলে ধমকে-ধামকে খাওয়ায়। তারপর নিজে খেয়ে নেয়। হাত-মুখ ধুয়ে এসে হায়াকে একটা প্যারাসিটামল খেতে দেয়। হায়া ঔষধটা না খেতে চাইলে এবার আশিয়ান দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে–

—আজ রাতে জ্বরটা খালি আসুক, তখন বৃষ্টির মধ্যে বাহিরে দাঁড় করিয়ে রেখে আসব।

হায়া কাঁদো কাঁদো গলায় বলে–

—কি পাষাণ আপনি! বউটা অসুস্থ একটু সেবাশুশ্রূষা না করে এসেছি পর থেকে বকছেন তো বকছেনই। আবার বলছেন রাতে বাহিরে রেখে আসবেন। না রাখেন, আমার থাকার জন্য রুমের অভাব পড়েছে নাকি?

আমি মাম্মামদের রুমে চলে যাবো আর বাবাইকে আপনার রুমে পাঠিয়ে দিবো। এরপর যতদিন এখানে থাকব ততদিন আমি ঐ’ রুমেরই থাকব, ঢাকায় ফিরেও আমি ঐ’ বাড়ি চলে যাবো।

কথাটা বলে হায়া বেড থেকে নেমে দরজার দিকে হাঁটা দেয়। আশিয়ান বড় বড় কদম ফেলে তার কাছে গিয়ে ঝট করে দুই হাত দিয়ে হায়ার পেট জড়িয়ে ধরে কিছুটা উঁচু করে ফেলে, তারপর সেই অবস্থাতেই হেঁটে নিয়ে এসে বিছানায় ফেলে তাঁকে। হায়া পল্টি দিয়ে অন্যপাশ চলে যেতে চাইলে আশিয়ান তার পা ধরে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসে। তারপর তার মুখে জোর করে ঔষধ ঢুকিয়ে দিয়ে পানি খাইয়ে দেয়।

ঔষধ খাওয়ানো শেষ হলে সে এবার হায়ার উপর আধশোয়া হয়। তার গলায় মুখ গুঁজে দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে–

—রাতের টা রাতে দেখা যাবে, এখন আদর নাও।

আশিয়ান বলে তো আদর নিতে কিন্তু দেয় ক্ষত। নিজের ধারালো মাঝারি সাইজের দাঁত গুলো দিয়ে হায়ার ফর্সা কোমল কাঁধ কা”মড়ে ধরে। হায়া ব্যথায় একহাত দিয়ে আশিয়ানের চুল ও আরেক হাত দিয়ে তার পিঠ খামচে ধরে।

শব্দসংখ্যা~১৯২৫
~চলবে?

[হুশ! হায়ার রোমান্স না দেখে তার বাবা-মা অর্থাৎ জাভিয়ান-হানিয়ার রোমান্স দেখতে পড়ুন আমার প্রথম #জলরঙে_আঁকা_অভিমান। বিস্তারিত কমেন্ট…👇]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here