চূর্ণচূড়ায়_চাঁদের_পাহাড় লেখনিতে— #সৈয়দ_মারিয়াহ্_হামিদ ২১.

0
27

#চূর্ণচূড়ায়_চাঁদের_পাহাড়
লেখনিতে— #সৈয়দ_মারিয়াহ্_হামিদ

২১.
দূর থেকে গ্রামের মসজিদে ফজরের আযানের সুর ভেসে আসতেই তুলির চোখের পাতা নড়ে উঠল। কাল রাতে সাইরের বুকে জড়িয়ে কতক্ষণ কেঁদেছে আর কতক্ষণ ঘুমানোর চেষ্টা করেছে তার হদিস নেই। তবে আযানের শব্দ কানে আসতেই এক অদ্ভুত প্রশান্তি তাকে গ্রাস করল।

তুলি ধীরপায়ে বিছানা ছাড়ল। সাইর তখনও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তার কপালে চিন্তার ভাঁজগুলো ঘুমের ঘোরেও স্পষ্ট দাগ কেটেছে কপালে। তুলি কলপাড়ে গিয়ে হিমশীতল পানিতে গোসল সেরে নিজেকে পবিত্র করে নিল।

জায়নামাজ বিছিয়ে সে সিজদায় লুটিয়ে পড়ল। নামাজ শেষে মোনাজাতে একটা প্রার্থনা করল„ — “হে মালিক, এই জমিদার বাড়িতে যে অশুভ ছায়া ঘনিয়ে এসেছে, তুমি তা থেকে আমাদের রক্ষা করো।”

নামাজ শেষ করে তুলি সাইরের কাছে গেল। তার গায়ে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে ডাকল„ —“শুনছেন? উঠুন। ফজরের আযান দিয়েছে নামাজের সময় হয়ে গেছে।”

সাইর ঘুমের ঘোরেই বিরক্তি প্রকাশ করল। চোখ না খুলেই বলল„ —“উুম্ম। ঘুমাতে দাও তো তুলি। সারা রাত দুশ্চিন্তায় চোখে পাতা এক করতে পারিনি।”

তুলি এবার সাইরের কপালে হাত রেখে একটু জেদ নিয়ে বলল„ —“নাহ, তা হবে না। নামাজ পড়তেই হবে, উঠুন বলছি। নিজেকে শুদ্ধ না করলে অন্ধকারের সাথে লড়াই করবেন কী করে? উঠুন, অন্তত দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করে নিন।”

সাইর এবার ধড়ফড় করে উঠে বসল। তার চোখেমুখে ঘুমের বদলে এক ধরণের জেদ। কর্কশ গলায় বলল„ —“তুলি, তুমি জানো আমার অস্তিত্ব কীসের সাথে মিশে আছে। নামাজ পড়ে কার কাছে সাহায্য চাইবো আমি? যে মালিক আমার বাবাকে পিশাচ বানালো আর আমার মা’কে কেড়ে নিল, তার কাছে?”

তুলি দমে গেল না। সাইরের চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল„ —“মালিক কাউকে পিশাচ বানায় না, মানুষ নিজের লোভে পিশাচ হয়। আপনি যদি নিজেকে পবিত্র না করেন, তবে অর্কা আপনাকে খুব সহজেই কব্জা করে ফেলবে। দয়া করে আমার জন্য হলেও আজ জায়নামাজে দাঁড়ান।”

সাইর আর তুলির মাঝে কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি চলল। সাইরের যুক্তির বিপরীতে স্রষ্টার প্রতি তুলির অগাধ বিশ্বাসের লড়াই। এক সময় সাইরের কঠোরতা হার মানল তুলির চোখের টলটলে পানির কাছে।

সে লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কলপাড়ের দিকে অগ্রসর হলো। গোসল সেরে পবিত্র হলো আগে। তারপর ওজু করে নামাজে দাড়িয়ে পড়লো।

সকাল গড়াতেই জমিদার বাড়ির চেহারা পাল্টে গেল। আজ মুন্নির গায়ে হলুদের আয়োজন। সকাল থেকেই নানান ডেকোরেটর আর বাবুর্চিদের আনাগোনা। উঠোন জুড়ে রঙিন শামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। গাদা ফুলের মালা আর আমপাতার তোরণে সাজানো হয়েছে পুরো সদর দরজা। গ্রামের মহিলারা ঢোল নিয়ে এসে গান জুড়ে দিয়েছে। জমিদার গিন্নী হন্তদন্ত হয়ে সবার তদারকি করছেন।

হলুদের তোড়জোড়ের মাঝে রাইসুলকে দেখা গেল বারান্দার এক কোণে। সে বুকে দুই হাত গুঁজে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। তার পরনে বাসন্তী রঙের একটা ফতুয়া। তাকে দেখে তুলি হাসি মুখে এগিয়ে গেল„ —“কী রাইসুল ভাই? মুন্নি আপুর সাথে কি দেখা হলো?”

রাইসুল একটু লজ্জিত হয়ে বলল„ —“না ভাবি। আজ তো আপনাদের কড়া নিয়ম, পাত্রীকে দেখা যাবে না। তবে আমার মন বলছে, হলুদ শাড়িতে তাকে আজ বনফুলের মতোই সুন্দর লাগবে।”

তুলি মুচকি হাসল। রাইসুলের সরলতা দেখে তার খুব মায়া হয়। বেচারা জানেও না এই বিয়ের পেছনে কত বড় ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে।

জমিদার বাড়ির সদর দরজার বাইরে বিশাল আম্রকাননের নিচে টানানো হয়েছে ধবধবে সাদা আর নীল রঙের শামিয়ানা। গ্রামের ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র দাওয়াতে কাউকেই বাদ দেননি জমিদার মামুনুর রহমান। আজ যেন উৎসবের আমেজ শুধু জমিদার বাড়িতেই। তিনি পুরো গ্রামেই আষ্টেপৃষ্টে বিয়ের দাওয়াত করেছেন।

কাঠের চুলায় বড় বড় ডেকচিতে রান্না হচ্ছে ঘি দিয়ে পোলাও আর খাসির মাংস। রান্নার সেই গন্ধে পথচারীদেরও খিদে দ্বিগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

দুপুর গড়াতেই খাওয়ার তোড়জোড় শুরু হলো। শামিয়ানার নিচে সারিবদ্ধভাবে পাতা হয়েছে লম্বা মাদুর। গ্রামের মুরুব্বিরা দল বেঁধে এসে বসছেন সেখানে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা হইহুল্লোড় করে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটছে। সাইর নিজের দুশ্চিন্তা একপাশে সরিয়ে রেখে মেহমানদারিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তার সাদা পাঞ্জাবিতে ঘামের ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। এদিক সেদিক কাজের চাপে সে ঘামে একাকার। তবুও হাসিমুখে সবার সাথে কাজ করছে।

রাইসুলও বসে থাকেনি। শহরের ছেলে হলেও সে সাইরের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে খাবার পরিবেশন করতে শুরু করল। সাইর বেশ কয়েকবার মানা করেছে কিন্তু রাইসুল শুনেনি। তার কাছে বিষয় অনেক আনন্দের লাগছে। আগে কখনো এমন আনন্দের মাঝে অংশগ্রহণ করে নি সে। তাই তার আনন্দ একটু বেশিই।

লবণের বাটি নিয়ে যাওয়ার সময় সাইর তাকে মৃদু স্বরে বলল„ —“কী রাইসুল ভাই, পরিশ্রম বেশি হয়ে যাচ্ছে না তো?”

রাইসুল কপালে জমা ঘাম মুছে স্মিত হাসলো„ —“আরে না সাইর ভাই। গ্রামের এই আন্তরিকতা শহরে কোথায় পাবো? সবাই কত তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছে, দেখে নিজেরই পেট ভরে যাচ্ছে।”

সাধারণত পোলাও-মাংসের পাশাপাশি পরিবেশন করা হচ্ছে ঘন দুধের পায়েস আর বিশেষ এক ধরণের পিঠা, যা এই জমিদার বাড়ির নিজস্ব রেসিপি। গ্রামের প্রতিটি মানুষ তৃপ্তির ঢেকুর তুলে জমিদারের দীর্ঘায়ু কামনা করছে।

রোদের তেজ কমে আসতেই উঠোনে শুরু হলো কাঙ্ক্ষিত মেহেদি অনুষ্ঠান। সহিনী আর তুলি ছাড়াও গ্রাম থেকে অনেক মেয়ে এসেছে মুন্নিকে সাজাতে। মাঝখানের পিঁড়িতে বসা মুন্নির চারপাশে যেন হাসির ফোয়ারা ছুটছে। কেউ শাড়ি ঠিক করে দিচ্ছে, কেউ বা চুলে হলুদ রঙের গাঁদা ফুল গুঁজে দিচ্ছে।

সহিনী মুন্নির এক হাতে নকশা করতে করতে বলল„ —“মুন্নি, মেহেদির রঙটা যেন তোর কপালে থাকা ঐ টিপের মতো লাল হয়। তবেই বুঝবো রাইসুল তোকে খুব ভালোবাসে!”

মুন্নিমুখ টিপে হাসলো। রাইসুল বারান্দার খুঁটিতে হেলান দিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল মুন্নির দিকে। মুন্নি যখন হাতের সূক্ষ্ম নকশা দেখতে হাত উচিয়ে তাকালল। তখনই তার চোখাচোখি হলো রাইসুলের সাথে। রাইসুল দুই আঙুলে নিজের হৃদপিণ্ড স্পর্শ করে একটা ইশারা করলো। মুন্নি সাথে সাথে চোখ নামিয়ে নিল। তার বুকের ধুকপুকানি তখন ঢোলের বাদ্যিকেও হার মানিয়েছে।

সহসা বাতাসটা একটু ঠান্ডা হয়ে এলো। তুলি লক্ষ্য করল, বাগানের শেষ প্রান্তে থাকা সেই পুরনো গাছটা কেমন অদ্ভুতভাবে দুলছে। হঠাৎই ভয় পেল তুলি। গাছটি জ্বলজ্বল চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। যেন কিছু বলতে চায় সে। তুলি মোহিত হলো। সবাইকে উপেক্ষা করে উঠে গেলো সেদিকে।

সন্ধ্যার ঘনছায়ায় বাগানের দিকে হেঁটে যাচ্ছে তুলি। সাজাদ একগোদা ব্যাগ হাতে বাড়িতে প্রবেশ করলো। তুলিকে এভাবে অন্যমনস্ক হয়ে যেতে দেখে ডাকলো„ —“তুলি। তুলি এদিকে এসো। ব্যাগগুলো নিয়ে ভেতরে যাও তো।”

তুলি কোনো উত্তর দিলো না। সে কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা ঐ গাছটার দিকে হাঁটছে। সাজাদ বেশ অবাক হল। হয়তো তুলির কোন কাজ আছে তাই আর তার কথা শুনছে না সে। এটা ভেবে বাড়ির ভেতরে এগিয়ে গেলো সাজাদ।

খানিক বাদে সাইর অন্দর থেকে বের হয়ে এলো। তার বাঁ ইন্দ্রিয় বারবার উঠানামা করছে। ভয়ে বুক ধক করে উঠলো। অনেকক্ষণ হলো তুলিকে দেখতে পালো না সে। তুলিকে আশে পাশে কোথাও দেখতে না পেয়ে সে জমিদার গিন্নীর কাছে গেলো। জমিদার গিন্নী কাজে ব্যস্ত। রন্ধনশালায় তিনি মিহি বাঁছছেন।নসাইর ডেকে বলল„ —“আম্মা। তুলি কোথায়?”

জমিদার গিন্নী খিটখিটে মেজাজে জবাব দিলো„ —“তোর বউ কি আমাকে বলে কয়ে কোথাও যায়? যা খুঁজে দেখ আছে কোথাও। আমাকে বিরক্ত করিস না।”

সাইর একে একে সব ঘর খুঁজলো কিন্তু তুলিকে পেলো না। হন্তদন্ত হয়ে মেহেদীর অনুষ্ঠানে চলে গেলো সাইর। সহিনীকে ডেকে বলল„ —“ভাবি। তুলিকে দেখেছো?”

সহিনী বিড়ম্বনা ছেরে বলল„ —“না। তুলি তো অনেক আগেই বাড়ির ভেতরে গিয়েছিল।”

সাইর বেশ চিন্তিত হলো। রাতের অন্ধকার নামার উপক্রম হয়েছে কিন্তু তুলি কেথাও নেই। কোন দিকে না তাকিয়ে দ্রুত পায়ে নিজের ঘরের দিকে গেলো সাইর। ঘরে এসেই তুলিকে ডাকতে লাগলো„ —“তুলি। তুলি কোথায় তুমি? ঘরে আছো? তুলি?”

নিস্তব্ধ ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ এলো না। সাইর এবার ভয় পেয়ে গেলো। অর্কা আবার তুলির সাথে খারাপ কিছু করলো না-তো। ঘর ছেড়ে বাইরে এলো সাইর। না এখানেও তুলি নেই। দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নামতেই সাজাদের সাথে ধাক্কা খেলো সাইর। সাজাদের দিকে না তাকিয়ে বলল„ —“মাফ করবেন‚ দেখতে পারি নি।”

সাজাদ সাইরের চিন্তিত মুখ দেখে বিচলিত হলো। সাইরকে থামিয়ে দিয়ে বলল„ —“কিরে কি হয়েছে? তুই এতো চিন্তিত কেন?”

—“ভাই তুলিকে দেখেছিস?”

সাজাদ একটু মনে করে উত্তর দিলো„ —“হ্যাঁ। সন্ধ্যায় দেখেছি।”

সাইর অকপটে প্রশ্ন করল„ —“কোথায় দেখেছিস? তাড়াতাড়ি বল?”

—“আমি যখন বাজার থেকে ফিরলাম তখন তুলি বাগানের দিকে যাচ্ছিল। আমি বার কয়েক ডাকলেও শুনেনি সে। মনে হলো হয় তো কোনো কাজের জন্য যাচ্ছে তাই আর বাঁধা দিই নি আমি।”

সাইর মুহূর্তেই কুঁকড়ে গেল। এই সন্ধ্যার আঁধারে তুলি একা বাগানে যাওয়ার মেয়ে নয়। সে দ্রুত পা চালিয়ে বাগানের দিকে ছুটল। তার কণ্ঠ চিরে বের হয়ে এলো এক আর্তনাদ। সে জোরে জোরে ডাকতে লাগলো„ —“তুলি! তুলি কোথায় তুমি?”

পুরো বাগান হন্তদন্ত হয়ে খুঁজেও তুলির কোনো চিহ্ন পেলো না সাইর। এদিক ওদিক তাকাতেই সাইরের দৃষ্টি গিয়ে স্থির হলো বাগানের একেবারে শেষ প্রান্তে থাকা সেই শতবর্ষী পুরনো বটগাছটার ওপর। অন্ধকার কুয়াশায় ঢাকা সেই গাছটার দিকে তাকালো সাইর। মনে হচ্ছে গাছটা দেখতে কোনো জীবন্ত দানব ন্যায়। সাইর বুঝতে পারল সাধারণ চোখে তুলিকে পাওয়া সম্ভব নয়। অর্কা নিশ্চয়ই তাকে কোনো মায়াজালে আবদ্ধ করেছে।

সাইর দুই হাতে নিজের কপাল চেপে ধরল। সে চেয়েছিল এই কালো শক্তি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে কিন্তু আজ তার অর্ধাঙ্গিনীর জীবন বিপন্ন তাই যে করেই হোক সে তার অর্ধাঙ্গিনীকে বাঁচাবেই।

সাইর গভীর শ্বাস নিয়ে দুচোখ বন্ধ করল। তার ঠোঁট নড়তে লাগল প্রাচীন কোনো এক নিষিদ্ধ ভাষায়। তার চারপাশের বাতাস হঠাৎ হিলশীতল করে উঠল। চারপাশ থেকে ভেসে এলো খিলখিল করে হাসার শব্দ। সাইরের পায়ের আসে-পাশে হাজার হাজার সাপ একসাথে হিসহিস করছে।

সাইরের নিজের চোখ দুটো খুলল। তার চোখের মণি সাধারণ মানুষের ন্যায় অন্যরকম ধারণ করলো। চোখের মণি নীল হয়ে এসেছে তার। হাত দিয়ে সামনে গোলাকার চিহ্ন অনাবৃত করতেই আয়না ভেসে এলো।

কালো জাদুর দৃষ্টি দিয়ে তাকাতেই সাইরের রক্ত হিম হয়ে গেল। ঐ পুরনো বটগাছটা তুলিকে মোহিত করে নিজের দিকে টানছে। গাছটা দেখতে ক্ষুধার্ত পিশাচের শরীর মতো লাগছে। গাছের প্রতিটি মোটা মোটা শেকড় যেন বিষধর অজগরের মতো নড়াচড়া করছে।

বটগাছটার কাণ্ড বুক চিরে দুই ভাগ হয়ে গেছে, ঠিক যেন একটা বড় হা করা মুখ। সেই গহ্বরের ভেতর থেকে সহস্র কোটি কালো রক্তচোষা লতা আর শিকড় সাপের মতো বেরিয়ে এসে তুলির নমনীয় শরীরটাকে আষ্টেপৃষ্ঠে পেঁচিয়ে ফেলেছে। তুলির মুখটা অর্ধেক ঢুকে গেছে গাছের ভেতরে। সাইর যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগলো। তুলির শরীর বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পরছে। তুলির চোখের তারা স্থির হয়ে আছে অজানা আতঙ্কে আর ভয়ে। তুলি চাইলেও চিৎকার করতে পারছে না। কারণ শিকড়গুলো তার কণ্ঠনালী চেপে ধরেছে।

বটগাছটি তুলিকে একটু একটু করে নিজের ভেতর গিলে ফেলছে। লতাগুলো তুলির ফর্সা গায়ের চামড়া ভেদ করে শিরায় ঢুকে পড়ছে, যেন তার রক্ত শুষে নিতে চায়। গাছের কাণ্ড থেকে টপ টপ করে ঘন কালো রঙের পিচ্ছিল কোনো তরল ঝরে পরছে। যার গন্ধ ঠিক পঁচা মাংসের মতো।

সাইর পাগলের মতো চেঁচিয়ে উঠল„ —“না! তুলিকে ছেড়ে দে জানোয়ার! ওকে ফিরিয়ে দে বলছি!”

গাছের পাতাগুলো খিলখিল করে হেসে উঠল। গাছের কাণ্ডে হঠাৎ ভেসে উঠল একটা বীভৎস মুখের আদল। সাইর স্পষ্ট হলো দেখার জন্য মুহুর্তেই চমকে উঠল সে। কখনো গাছটা জমিদার মামুনুর আবার পরক্ষণেই তা অর্কা’র ছায়ায় পরিণত হয়। সেই মুখ থেকে গমগম করে শব্দ ভেসে এলো„ —“সাইর। বলী তো শুরু মাত্র। তোর ভালোবাসাকে আজ এই গাছ নিজের প্রাণ রস হিসেবে গ্রহণ করবে। দেখ, দেখ কীভাবে ও মিশে যাচ্ছে আমার শেকড়ে।”

তুলির হাত দুটো এখন শুকনা ডালপালার মতো দেখাচ্ছে। তার সুন্দর মুখমণ্ডল ক্রমশ গাছের বাকলে রূপান্তরিত হচ্ছে। শিকড়গুলো তুলিকে গহ্বরের গভীরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তুলির চোখ থেকে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল মাটিতে। কিন্তু রক্তচোষা লতাগুলো তুলির অশ্রু কোণা পড়ার আগেই চুষে নিল।

সাইর অস্থির হয়ে দিক বিদিক খুঁজতে লাগলো। কোনো উপায় তার চোখের সামনে এলো না। নিজেকে ছন্নছাড়া বিবর্ণ পুরুষ মনে হলো। হাটু গেরে বসে অঝড়ে কাঁদতে লাগলো সে।

সৈয়দ মারিয়াহ্ হামিদ 🕊️

[ আপনাদের রেসপন্স পেলে পরবর্তী পর্ব খুব তাড়াতাড়ি দিবো ইন-শা-আল্লাহ । ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ভালো থাকবেন‚ সুস্থ থাকবেন‚ ধন্যবাদ ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here