#উৎসর্গ
#পর্ব:৩৩
#তানজিনা ইসলাম
আকাশের গুমোট অবস্হা।কালো মেঘের আড়ালে ঢেকে গেছে তেজস্বী সূর্য। সকাল থেকে সুন্দর যে রৌদ্রময় দিন ছিল তা কিঞ্চিৎ অন্ধকারে ছেয়ে গেছে।গুড়ুম গুড়ুম ডাকে আকাশ পাতাল এক করে বজ্রপাত হচ্ছে। ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যাওয়া পৃথিবীকে হঠাৎ আলোকিত করে বজ্র ডাক দিচ্ছে বারংবার।
শো শো বাতাসের মাঝ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে রুদ্র।বাতাসের তোপে গাড়ির ব্যালেন্স ধরে রাখাও কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।আশেপাশের জনমানব উৎকন্ঠা নিয়ে তাদের বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। আকাশের অবস্হা ভালো নয়।যেকোনো সময় ভারী বর্ষণ শুরু হবে।
এই অবস্থায়ও এক ঘন্টার রাস্তা রুদ্র ত্রিশ মিনিটে পৌঁছালো।হন্তদন্ত হয়ে দোতলায় উঠে চটজলদি শাওয়ার নিলো।কয়েকজন সার্ভেন্ট আছে বাড়িতে।এর মধ্যে একজন টেবিলে খাবার বেড়ে দিলো রুদ্রকে।রুদ্র কালবিলম্ব না করে খেতে বসলো।কিন্তু খাওয়ার চেষ্টায় বুঝতে পারলো, ওর গলা দিয়ে খাবার নামছে না।যে মানুষ টা ও বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত খেতো না,সে যে না খেয়ে আছে।
হসপিটালের ঐ সাদা বেডে স্যালাইন কে সঙ্গী করে বেঁচে আছে।তার এক ফোটা পানি খাওয়াও মানা।রুদ্রর চোখ ভিজে আসে।বা-হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছে।আজকে হাত দিয়ে খাওয়ার শক্তি টুকুও পাচ্ছে না ও।বারংবার মনে পরছে, কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলে কতোবার ওকে খাইয়ে দিয়েছিলো মায়া।তারপরও ও কেমন করেছিলো মায়ার সাথে!মেয়েটা অপেক্ষা করতো ওর জন্য আর ও আসা মাত্র ঝগড়া শুরু করে দিতো।ও মন খারাপ করে না খেয়ে শুয়ে পরতো।
রুদ্র জানতো ও খিদে সহ্য করতে পারে না তবুও, একবার উঠিয়ে খাওয়াতো না পর্যন্ত।কতবার ও রুদ্রর বিষাক্ত বাণী গুলো সহ্য করতে না পেরে কেঁদে দিয়েছে।কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পরেছে। কিন্তু রুদ্রর কাছে এসব নাটক মনে হয়েছে।ওর কান্না, কষ্টগুলো রুদ্রর কাছে ক্রিঞ্জ, নাটক মনে হয়েছে।
রুদ্র অক্লিষ্টে ঢোক গিলে।আজব!হঠাৎ খেতে বসে এসব মনে পরছে।মেয়েটার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়নি।ভালোবাসার কথা বলেছে,কিন্তু ক্ষমা তো চাওয়া হয়নি।।মায়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন পরেনি কোনোদিন ওর।বন্ধুত্বে ক্ষমা নামক কোনো শব্দ নেই।কিন্তু আজকে খুব করে ক্ষমা চাইতে মন চাচ্ছে।এতো এতো অন্যায়ের ভার রুদ্র নিতে পারছে না।নিজের অপরাধের জন্য নিজেকেই যে ক্ষমা করতে পারেনি ও।তাহলে মায়া কী করে করবে?আজকেই ক্ষমা চাইতে হবে।মায়া যতই বলুক ও এসব কিছু মনে রাখেনি তারপরও মনের ক্ষত গুলো থেকে যায় সবসময়।
দরকার হলে রুদ্র, মায়ার পা ধরে থাকবে,ক্ষমা না করা পর্যন্ত। নিশ্চয়ই মায়া রুদ্রর এই অবস্থা দেখে ক্ষমা না করে থাকতে পারবে না।
সকালে সত্যিই অনেক খিদে লেগেছিল রুদ্রর।কিন্তু এখন কেন যেন মনে হচ্ছে একটুকুও খিদে নেই।মনের মধ্যে উত্তাল ঢেউ। মস্তিষ্কে শুধু একটা চিন্তা মায়ার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।ও মন থেকে ক্ষমা করবে তো ! রুদ্র তৃপ্তি করে খেতে পারলো না,শুধু যতটুকু খেলে পেট ভরবে ততটুকু নাকে মুখে ঢুকালো।কিছু খাবার পানি দিয়ে খেলো বহু কষ্টে ।
আকাশ পাতাল এক করে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।রুদ্র বাড়ির সদরদরজায় এসে দাঁড়ায়।আকাশপানে তাকিয়ে আকাশের কালো রূপ দেখে।ছাতা না নিয়েই বৃষ্টি মাথায় এক দৌড়ে গিয়ে গাড়িতে উঠে।বৃষ্টির তোপে বাইরের দিকটা ঘোলাটে দেখা যাচ্ছে।গাড়ির সামনের গ্লাসের উপর বড় বড় ফোঁটায় বৃষ্টি পরছে।এই ঝুম বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি চালাতে রুদ্রর বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। প্রলয়ঙ্কারী বৃষ্টি তার দাপুটে রূপে চারপাশ গ্রাস করে নিচ্ছে। জনমানবশূণ্য রাস্তা।ক্ষণে ক্ষণে বিজলি চমকাচ্ছে,বাজ পরার শব্দ হচ্ছে। এই ভারী বর্ষণে গাড়ি নিয়ে সামনে আগাতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে রুদ্রকে।
গড়গড় আওয়াজে গাড়ি থেমে যায়।রুদ্র চাবি দিয়ে আবার স্টার্ট দেওয়ার চেষ্টা করে।কিন্তু কোনোমতেই গাড়ি চলছে না।রুদ্র বিরক্তি নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। গাড়ির বনেট (সামনের ঢাকনা) খুলে চেক করে।বনেটে পানি ঢুকে জবজবে অবস্থা।গাড়ির ভিতর থেকে কাপড় নিয়ে সাবধানতার সাথে মোছার চেষ্টা করে ও।কিন্তু ভেতরে ঠিক করতে গেলেই সংঘর্ষ হয়।
হাজার চেষ্টা করেও গাড়ি স্টার্ট করতে পারেনা।রুদ্র মুখ হাত দিয়ে ঢেকে গাড়ির সামনে বাবু হয়ে বসে।কান্না পাচ্ছে ভীষণ ওর।হসপিটাল থেকে বের হয়েছে দু ঘন্টা হয়ে গেছে।মায়া কেমন আছে কে জানে? অপেক্ষা করছে নিশ্চয়ই ওর জন্য!কখন দেখতে পাবে মায়াকে ও?ওর মুখটা যে ভীষণ মনে পরছে । মনের ভিতর কু ডাকছে।বারংবার মনে হচ্ছে খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।
রুদ্র উঠে দাড়ায়।এই বৃষ্টির মধ্যে ক্যাব পাওয়া সম্ভব নয়।রুদ্র আশেপাশে তাকিয়ে গাড়ি খোঁজার চেষ্টা করে।কিন্তু পুরো রাস্তা খালি। যানবাহন তো দুরের কথা একটা মানুষেরও অস্তিত্ব নেই। রুদ্রর হঠাৎ মাথায় আসলো, হসপিটাল থেকে বেশি দুরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে নেই ও।এখান থেকে গাড়ি করে গেলে দশ মিনিটের রাস্তা।
রুদ্র চোখমুখ খিচে দৌড় লাগালো।এখন যদি পুরো রাস্তা দাপিয়েও দৌড়ায়, তবুও এক্সিডেন্ট হওয়ার কোনো চান্স নেই।
বৃষ্টির ফোটার কারণে চোখ খুলে সামনে তাকাতেও কষ্ট হচ্ছে। রুদ্র ঝাপসা চোখে সামনে তাকিয়ে দেখলো হসপিটালের নেমপ্লেট।রুদ্র বিজয়ের হাসি হাসে।উচ্ছসিত হয়ে হসপিটালের ভেতরে প্রবেশ করে।কোমড়ে হাত রেখে বড় বড় করে শ্বাস নেয়।শার্টের হাতা দিয়ে মুখমন্ডল থেকে পানি মোছার চেষ্টা করে।কিন্তু কপালের সামনের চুলগুলো থেকে টপটপ পানি পরে আবার মুখ ভিজিয়ে দেয়।
কালো শার্ট টা ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে গেছে।শার্ট, প্যান্ট থেকে চুইয়ে চুইয়ে পানি পরছে।যেন এক্ষুনি সুইমিং পুল থেকে উঠে এসেছে।শ্যামবর্ণ ভেজা মুখে ওকে সতেজ স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে।যে কজন নার্স ওর সামনে দিয়ে যাচ্ছে, যাওয়ার সময় ওকে পুরোটা স্ক্যান করে গেছে।
রুদ্র ঠোঁট টিপে হেসে সামনে আগায়।যদি মায়া এদেরকে দেখতো তবে নিশ্চিত জেলাসিতে শেষ হয়ে যেতো।তারপর জেলাসি রাখতে না পেরে এদের সামনে গিয়ে বলতো ‘আরেকজনের জিনিসে চোখ দেওয়া ঠিক না।’
রুদ্র হাসে মায়ার এসব পাগলামো মনে করে।মনে মনে ঠিক করে নেয়, মায়াকে আজ ওর দৌড়ানির গল্প শোনাবে।বলবে, মায়া যে বলে রুদ্র ওকে একটুও ভালোবাসে না,শুধুমাত্র ওর জন্য কিভাবে এই ভয়ানক বৃষ্টির মধ্যে দৌড়ে এসেছে।
মায়া নিশ্চয়ই এসব শুনে বকবে ওকে ।শাসন করে বলবে ‘কেন এই বৃষ্টির মধ্যে এভাবে দৌড়ে এসেছে ও?”এই শাসনগুলো অনেকদিন ধরে মিস করছে রুদ্র। মায়া অনেকদিন ওর সাথে ভালো করে কথা বলে না৷ অনেকগুলো দিন ওঁদের ঝগড়া হয় না, মারামারি হয় না।
রুদ্র আবার হাসে।কিন্তু ইউনিটের সামনে আসতেই রুদ্রর হাসি মিলিয়ে যায়,পা থেমে যায়।ইউনিটের সামনে মানুষের ভিড়।নার্সরা দৌড়াদৌড়ি করে যাচ্ছে সেদিকে। কান্নার স্বর ভেসে আসছে ক্রমে ক্রমে।রুদ্র চুপসে যায়।মনের ভেতর আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।সামনে আগানোর সাহস পায় না।
তারপরও নিজের অবশ পা কোনোমতে টেনে নিয়ে যায় ইউনিটের কাছে।সবাই কাঁদছে। মাহেরা খান আর রাফানা চৌধুরী ও কাঁদছেন।মুস্তাফিজ খান এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন।তারপাশে রুয়ান চৌধুরী বারবার চোখ মুছছেন।রুদ্র অবাক হয় না,নিজের বাবাকে দেখে।এখন অবাক হওয়ার মতো পরিস্থিতি না।রুহানি আর রাহুলের মা দোয়া পরছেন।তাদের চোখেও পানি। আরিয়ান আর সাহিরের বাবা দাঁড়িয়ে আছে মুস্তাফিজ খান ও রাফানা চৌধুরীর সাথে। রুদ্রর ঘোলাটে চোখে তাকায় সবার দিকে।আশেপাশে তাকিয়ে সবার কান্নার উৎস খুঁজে পায় না।ওর বন্ধুরা দাঁড়িয়ে আছে এক জায়গায়।সবাই হিচকি তুলে কাঁদছে। রুহানি রুদ্রকে দেখে আরো জোরে কেঁদে দেয়।রুদ্র বোকা বোকা চোখে তাকায় সবার দিকে।ঘটনার অদ্ব্যপ্রান্ত বুঝতে পারে না।
রুদ্র বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই রুয়ান চৌধুরী এসেছিলো মায়াকে দেখতে।সম্পর্কে বৌমা হলেও তিনি সবসময় মায়াকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসেছেন,স্নেহ করেছেন।মেয়ের অসুস্থতায় নিজের সব কাজ ফেলে ছুটে এসেছেন সুদুর কানাডা থেকে।তাই এয়ারপোর্ট থেকে খোঁজ নিয়ে আর বাড়ি যান নি, একেবারে হসপিটালেই চলে এসেছেন তিনি।
রুয়ান চৌধুরী আসার একটু পরেই আরশি এসেছিলো মায়ার সাথে দেখা করতে হাতে ফুলের বুকেট নিয়ে।রুহানি,রাহুল সাহিল,রিয়ানা আর আরিয়ান তখন ইউনিটের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলো। সবাই ভুত দেখার মতো তাকিয়ে ছিলো ওর দিকে।আরশি থমথম খেয়ে যায় ওদের তাকানোর ধরন দেখে।
কিন্তু যখনি ওদের তাকানো উপেক্ষা করে আরশি কক্ষের ভিতরে ঢুকতে যায়,নার্স বাঁধা দেয় ওকে।পেশেন্ট কে ঘুমের মেডিসিন দেওয়া হবে।তাই কাউকে এখন ভেতরে এলাউড করা হবে না, যাতে কোনো ডিস্টার্বেন্স না হয় ।আরশি অনেক কাকুতিমিনতি করে ঢোকার জন্য,বলে একটু কথা বলেই চলে আসবে। কিন্তু নার্স ওকে বারণ করে,ঢোকার অনুমতি দেয় না।
রুহানি গিয়ে জিজ্ঞেস করে আরশি থেকে, ‘কেন এসেছে ও?’ আরশি উত্তর দিলো ‘মায়াকে দেখতে।একটু আগেই এক ক্লাসমেট থেকে খবর পেয়েছে মায়া অসুস্থ হয়ে পরেছে।তাই একটাবার দেখতে এসেছে মায়া কে।’
আরশি অনুরোধ করে রুহানি কে যাতে নার্স কে বলে ওকে ঢুকতে দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।রাহুল আরশির উৎকন্ঠা দেখে, এগিয়ে এসে অনুরোধ করে নার্স কে।একে একে সবাই অনুরোধ করলে নার্স আর নাকোচ করতে পারে না।ঢোকার অনুমতি দেয়।
আরশি হাসি মুখে কক্ষে ঢোকে।কারো আসার শব্দ অনুভূত হতেই মায়া চোখ খুলে । আরশি কে দেখেই চোখ বড় বড় করে তাকায়।আরশি মিষ্টি হেসে ফুলের বুকেট রাখে সাইড টেবিলের উপর।মায়ার সামনে ছোট বেঞ্চি টেনে বসে।মায়াকে উদ্দেশ্য করে বলে
-“কীরে?কী অবস্থা করেছিস নিজের?এভাবে অসুস্থ হয়ে পরলি কী করে?
মায়া উত্তর দেয় না।এখনো অবাকের ভাবটা পুরোপুরি কাটে নি।আরশি হাসে মায়ার রিয়েকশন দেখে।নিজ থেকেই বলে
-“এতো অবাক হওয়ার কিছু নেই।আমি যখন হসপিটালে এডমিট হয়ে ছিলাম, তখন তুইও আমাকে দেখতে গিয়েছিলি। তো এমন রিয়েকশন দেওয়ার দরকার নেই।”
মায়া আস্তে করে বলে
-“ফর্মালিটি পূরণ করতে এসেছিস??”
-“শত্রুর সাথে ফর্মালিটি কীসের?দেখতে এলাম তোকে।”
-“আর ঐটা?”মায়া সাইডটেবিলের দিকে তাকিয়ে বলে।
-“ফুলের বুকেট।তোর না কালো গোলাপ পছন্দ। তাই কালো গোলাপ চোখে পরতেই নিয়ে এসেছি।”
-“থ্যাংস।”মায়া চোখ পিটপিট করে বলে।
-“ওয়েলকাম।”
ক্ষণকাল নিরবতায় কেটে যায়।আরশি খুঁজে পায় না কী দিয়ে কথা শুরু করবে!
-“আরশি।”
মায়ার ডাকে আরশি একটু ঝুঁকে মায়ার কাছে যায়।মায়া আধো আধো স্বরে বললো
-“তুই জিতে গেছিস রে আরশি।”
-“কীসে?”আরশি ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করে।
-“মনে নেই, চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম আমরা।”
আরশি হাসি মুখে ফিসফিসিয়ে বলে
-“কী করে জিতলাম?রুদ্র তো এখনো তোর কাছেই?আমার কাছে ফিরে আসলো কই ও?”
-“তোর কাছে ফিরে যায়নি কারণ ও দোটানায় ভুগছিলো।ও চায়নি বড় রা কষ্ট পাক।বড় রা সবাই একসাথে ডিসিশন নিয়ে আমাদের বিয়ে দিয়েছিলো,তাই আমাদের ডিভোর্স হয়ে হয়ে গেলে কষ্ট পেতো ওরা।”
-“হুম।যেমন তেমন।ফিরে আসেনি তো।জিততে পারিনি আমি চ্যালেঞ্জে।”
-“ভুল তুই। আমি হেরে গেছি।অনেক অহংকার করে না বলেছিলাম,রুদ্র ভালো থাকবে আমার সাথে।ওর বন্ধুত্ব ওর কাছে সবচেয়ে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। তাই কখনো ফিরে যাবে না তোর কাছে।সব অহংকার মিথ্যা হয়ে গেছে রে।ওর কাছে আমার বন্ধুত্বের চেয়েও তোর দুই বছরের ভালোবাসা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।দেখতিস না,ও সবসময় তোর সাইড নিতো।কোনো দোষ করলে, তোর সাইড নিয়ে বকতো আমাকে।সবসময় বলতো আমাকে তোকে যাতে কষ্ট দিয়ে কিছু না বলি। ও আগে বুঝতে পারে নি সেটা।তুই সুইসাইড করার পরই বুঝেছিলো।ও আমাকে অনেকবার ডিভোর্স দিতে চেয়েছিলো।আমিই দিতে দিই নি ওকে।ডিভোর্সের জন্য দুইজনের মতামতের প্রয়োজন হয়,তাই আমার পারমিশন ছাড়া ও আমাকে ডিভোর্স দিতে পারে নি।”
আরশি মুখ গম্ভীর করে বলে
-” তাহলে স্বীকার করছিস,হেরে গেছিস তুই আমার কাছে?”
মায়া উপর নিচ মাথা নাড়ে।
আরশি তাচ্ছিল্য স্বরে বলে
-“বাহ!ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল তাহলে আমার কাছে হেরে গেছে।সেই হার আবার কে স্বীকার করছে?মায়া ।এই দিনও সৃষ্টিকর্তা দেখালো আমাকে।”
মায়া কিছু না বলে তাকিয়ে থাকলো ওর দিকে।এবার আরশি নরম কন্ঠে বললো
-“এমন বিহেভ কেন করছিস মায়া?তোকে এসব বিহেভ মানায় না।তোর এই নরম বিহেভ ঠিক হজম হচ্ছে না।সুস্থ হয়ে যা তুই তাড়াতাড়ি। কতদিন হয়ে গেল তোর সাথে ঝগড়া হয় না।”
মায়া ঠোঁটে সুক্ষ হাসি ফুটিয়ে বলে
-“আমার হাতটা একটু ধর,আমি উঠাতে পারছি না।”
রুহানি আলতো হাতে মায়ার হাত ধরে।মায়া হাসফাস করে বলে
-“আমি যদি মরে যাই,তাহলে রুদ্রকে বিয়ে করে নিস।দেখিস ওকে, কেমন?ও অনেক কষ্ট পাবে আমি চলে গেলে।কিন্তু তুই থাকলে ও নিজেকে সামলে নিতে পারবে।”
-“এসব বলে না,মায়ু।ভালো হয়ে যাবি তুই।”আরশি মায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে।
-“ও আমার সাথে ভালো না থাকলেও তোর সাথে ভালো থাকবে।কখনো ওকে ছেড়ে যাস না, কেমন?আমার জন্য আলাদা হয়ে গেছিস তোরা,কিন্তু আমি মরে গেলে যাতে এক হয়ে যেতে পারিস।তুই ওকে দেখে রাখবি তো আরিশি?”
আরশির কষ্ট লাগে এসব কথায়।মায়ার সাথে সবসময় ঝগড়া হলেও ওর বন্ধুরা যেমন ওর সাথে লেগে থাকতো,আরশি ও তেমন লেগে থাকতো মায়ার সাথে।বন্ধুত্ব না হলেও শত্রতা ছিল আটসাট ভাবে।আরশি ভেজা গলায় বললো
-“তোর মনে হয় রুদ্র এমন করবে?তুই জানিস না ও তোর জন্য কেমন করে?ওকে স্বার্থপর ভাবছিস?তুই নিজেও তো বলিস ও কনফিউজড হয়ে যায়,কী করবে!তাই এমন করেছে তোর সাথে।নয়তো তোকে ভালোবাসে অনেক।তোদের বিয়ে পর যতবার আমার সাথে দেখা করতে এসেছে ততবার তোর কথা বলতো। তুই না-কি কথা বলিস না। বাড়ি যাওয়ার পর একবারো ফোন দিসনি। ও লজ্জায় কল করতে পারছে না তোকে। সত্যিই ও অনেকবার যেতে চেয়েছিলো তোর বাড়ি, তোকে নিতে। ওর না-কি ভয় লাগতো, তোর সাথে নজর মেলাতে।আর তুই এসব বলিস না, ভালো হয়ে যাবি তুই।”
মায়া আরশির কথা অগ্রাহ্য করে বললো
-“অনেক অন্যায় করেছি তোর উপর।তোর ভালোবাসার মানুষকে কেড়ে নিয়েছি। যদি পারিস মাফ করে দিস আমাকে।কারো মনের ভেতর কষ্ট রেখে আমি দুনিয়া ছাড়তে চাইনা।”
আরশি মাথা নুইয়ে মায়ার হাতের উপর মাথা রাখে।কাঁপা কাঁপা গলায় বলে
-“এমন কেন করছিস তুই? আমি কাঁদতে চাচ্ছি না। শত্রুর জন্য কান্না করা খুবই লজ্জাজনক ব্যাপার।
তুই অনেক ভালো রে মায়ু। তোর উপর আমি কোনো কষ্ট রাখিনি।ভালোবাসার মানুষের সাথে কোনো কম্প্রোমাইজ না।তুই সেটাই করেছিস।কিন্তু এখন কী করছিস তুই?তোর সবচেয়ে প্রিয় মানুষকে দিয়ে দিচ্ছিস তাও আমাকে।এসব তোর ক্ষেত্রে মানায় না রে।ভালো হয়ে যাবি তুই।”
আরশি মুখ তুলে তাকায় মায়ার দিকে। মায়ার চোখের কার্ণিশ ফোঁটায় ফোঁটায় পানি গড়িয়ে বালিশ ভিজিয়ে দেয়।অক্সিজেন মাক্সের ভিতর ঠোঁট দুটো শুষ্ক ঠোঁট দুটো তিরতির করে কাঁপে কিছু বলার জন্য। আরশি বাঁধা দেয়।চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে
-“আর কিছু বলিস না।উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছিস তুই।খারাপ লাগছে কোথাও?
-“বুকে ব্যাথা।”
-“ডক্টরকে ডেকে আনছি আমি।”
-“আরে তেমন ব্যাথা না।মনে হচ্ছে আর দেখতে পাবো না কাউকে,ছেড়ে চলে যেতে হবে সবাইকে এমন মনে হচ্ছে। ”
-“কিচ্ছু হবে না তোর।ঘুমের ইনজেকশন দেওয়ার টাইম পেরিয়ে যাচ্ছে।আমার জন্য নার্স ইনজেকশন দিতে আসতে পারে নি।আমি ডাকছি তাকে।”
আরশি বেরিয়ে আসে কক্ষ থেকে।দরজার সামনে রাহুলকে দেখে থেমে যায়।রাহুল কান্নাভেজা চোখে তাকালো ওর দিকে।চোখে প্রশ্ন ‘কেন তুমি মায়াকে এসব বলতে বাধ্য করলে?’আরশি মাথা নিচু করে চলে যায়।রুহুল আরেকবার কক্ষে গিয়ে মায়ার সাথে দেখা করে আসে। নার্স গিয়ে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে আসে মায়াকে।আরশি চলে যাওয়ার চল্লিশ মিনিট পর হন্তদন্ত হয়ে নার্স বেরিয়ে আসে।চিৎকার করে ডক্টর কে ডাকে
-“হামিদ স্যার।পেশেন্ট কেমন করছে!পাল্স রেট একদম লো।পেশেন্টের শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি স্বাভাবিক না।”
ডক্টর দৌড়ে আসে।সবার চোখেমুখে আতঙ্ক ছড়িয়ে যায় এসব শুনে।
ডক্টর জানায় পেশেন্টের বডি সব ধরনের মেডিসিন নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।অক্সিজেন নিতে পারছে না।স্যালাইন বডিতে পুশ হচ্ছে না।পেশেন্ট নিজেই বেঁচে থাকার সমস্ত আশা ছেড়ে দিয়েছে।সে নিজেই বাঁচতে চাচ্ছে না।তার মস্তিষ্কে প্রতিনিয়ত মৃতুর কথা ঘুরছে।আর আমাদের বডি আমাদের মস্তিষ্ক থেকেই উদ্দীপনা গ্রহণ করে।তাই ওর মস্তিষ্ক যেটা ভাবছে, সেটা বডিতেও এফেক্ট করছে ওর।
রুদ্রর মাথা ঘুরে উঠে এসব কথা শুনে।পা দুলছে। এজন্যই তো মায়াকে ছেড়ে যেতে চায় নি ও।আর আরশি?আরশি কেন এসেছে?মায়া ওকে রুদ্রকে দেখে রাখতে বলেছে মানে?
রুদ্র ব্যালেন্স রাখতে না পেরে পরে যাবে,তার আগেই রাহুল ধরলো ওকে। জানালো, এখনো সব আশা শেষ হয়ে যায়নি।ডক্টররা দেখছে ওকে।আল্লাহ চাইলে ভালো হয়ে যাবে ও।রুদ্র বাইরে সবার মতো অপেক্ষা করার ধৈর্য পায় না।সবাইকে ডিঙ্গিয়ে কক্ষের ভেতরে ঢুকে।
ডক্টর হতাশ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে মায়ার বেডের সামনে।তার আশেপাশে তিন-চার জন নার্স।রুদ্র ঢোক গিলে তাকায় সবার দিকে।সবাই দাঁড়িয়ে থাকায় মায়াকে দেখা যায় না।
নার্স রা সবাই অসহায় চোখে তাকায় ওর দিকে।হামিদ ইয়াসির এখনো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছেন।হয়তো চোখের পানি আর নিজের অপারগতা দেখাতে চাচ্ছেন না কাউকে।
হার্ট রেট মেশিনের লাইনগুলো সমান হয়ে চলছে।রুদ্র সেদিক থেকে চোখ ফিরিয়ে টলমলে দৃষ্টিতে তাকালো সামনে।হামিদ ইয়াসির এগিয়ে আসেন ওর দিকে।ওর কাঁধে হাত রেখে ভেজা গলায় বলেন
-“আই এম সরি বাবা।আমি তোমার মায়াকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারিনি।বাঁচানোর মালিক তো সৃষ্টিকর্তা।আমি তো শুধু উছিলা মাত্র। সৃষ্টিকর্তা তাকে এই দুনিয়ায় এই টুকু সময় দিয়েই পাঠিয়েছিলো।আমি সম্পূর্ণ চেষ্টা করেছি।কিন্তু সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার উপর কারো হাত নেই।”
বলেই চোখ মুছতে মুছতে বাইরে চলে যান তিনি।
,
হসপিটালে কারো আহাজারি আর বজ্রপাতের শব্দ একাকার হয়ে মিশে যাচ্ছে। স্বজন হারানোর তীব্র দুঃখে কলিজা ফেটে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে সবার।বুকের ভেতর এক আকাশ সমান যন্ত্রণা। কারো চোখের পানিই যেন বাঁধ মানছে না।মাহেরা খান চিৎকার করে কাঁদছেন। রাফানা চৌধুরী বসে আছেন তার পাশে।কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন তিনি।কিছুক্ষণ পর পর হিচকি তুলছেন।পাশেই রুহানি আর রাহুলের মা হু হু করে কাঁদছেন।
মুস্তাফিজ খান শব্দ করে কাদছেন।তার বুকের মধ্যে কী হচ্ছে তা কাউকে বোঝাতে অপারগ তিনি।
মাহেরা খান চিল্লিয়ে কেঁদেও শান্তি পাচ্ছে না।তার একটা মাত্র মেয়ে।বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। ছোটোবেলা থেকে একটা বাচ্চার মতো বড় করেছে ওকে।কখনো ধমক পর্যন্ত দেননি। সবসময় ওর সব জেদ,সব ইচ্ছা পূরণ করেছে।তবুও কেন এভাবে নিষ্ঠুর ভাবে চলে গেলো মায়া?কেন? কেন?
রুয়ান চৌধুরী বিলাপ করে কাঁদছেন।রুদ্র আর মায়া তার জন্য কখনই আলাদা ছিলো না। সবসময়ই দুজনকে নিজের সন্তানের মতো দেখেছেন তিনি।
রুহানি চুপচাপ বসে আছে। দেখে মনে হচ্ছে হয়তো ও কাঁদতে জানে না।রিয়ানা ওর কাঁধে মাথা রেখে হিচকি তুলছে।রাহুল মেঝেতে বসে নিশ্চুপ চোখের পানি বিসর্জন দিচ্ছে। সাহিল আর আরিয়ানেরো একই অবস্থা।
পাশের কেবিনেই রুদ্রকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। মায়ার মৃত্যুর সংবাদ নিতে পারে নি ও।জ্ঞান হারিয়েছে।কতক্ষণ ধরে এভাবে সেন্সলেস অবস্থায় আছে তার হিসাব নেই।
হামিদ ইয়াসিরের কথা বুঝতে রুদ্রর কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে।কিন্তু বুঝে আসতেই টালমাটাল পায়ে মায়ার কাছে যায়।ধপ করে বসে মায়ার সামনে।একজন নার্স এসে মায়ার অক্সিজেন মাক্স খুলে দেয়।ক্যানোলা খুলতে যাবে তার আগেই রুদ্র মায়ার মাথা কোলে নিয়ে নেয়।বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ওকে।নার্সদের কে উদ্দেশ্য করে বাচ্চাদের মতো করে বলে
-“খুলবেন না এসব।কিচ্ছু হয়নি ওর।আমি জানি কিচ্ছু হয় নি।ও এসব আমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য নাটক করছে।এর আগেও অনেকবার এমন করেছে ও,আমাকে ভয় দেখানোর জন্য। হাতে টমেটো সস লাগিয়ে, ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে ছবি দিতো। সব নাটক ওর।আপনারা ওর কথা বিশ্বাস করবেন না।”
নার্স রা সবাই অসহায় চোখে তাকালো ওর দিকে।রুদ্র মায়াকে বুকে নিয়ে বিরবির করে কিছু বললো।মায়ার পুরো শরীর বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেছে। রুদ্রর দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে সবকিছু।ঐ দিনের মতো হয়তো এটাও স্বপ্ন দেখছে।এক্ষুনি হয়তো স্বপ্ন টা ভেঙে যাবে।
রুদ্র কোলের মধ্যে মায়াকে দেখলো।ওর মায়াবী মুখটা শুকিয়ে গেছে।চোখের পাতা বন্ধ। রুদ্র আলতো হাতে ছুয়ে দেয় মায়ার মুখ।মুখে হাত বুলিয়ে বলে
-“জান।এবার উঠ।অনেক হয়েছে এক্টিং।আমি সত্যিই অনেক ভয় পেয়েছি।খুশি তো? এবার চোখ খোল।”
রুদ্রর হাত পা কাঁপছে।হৃদপিণ্ড ছলাৎ ছলাৎ করে লাফাচ্ছে। এখনো সবকিছু স্বপ্ন মনে হচ্ছে ওর কাছে।রুদ্র আবার মায়ার মুখ তুললো।ফিসফিস করে বললো
-“এখন কিন্তু বেশি হয়ে যাচ্ছে। কেঁদে দিব কিন্তু আমি।আমাকে কাঁদাস না।উঠ! প্লিজ জান,উঠে পর।
পরিবারের সবাই দৌড়ে কেবিনে এসেছে।রুদ্র ঝাপটে ধরে রেখেছে মায়াকে।সবাই জোরে জোরে কাঁদছে।
রুদ্র বারবার বলছে ‘কেঁদো না তোমরা।কিছু হয়নি ওর।’
সবার কান্নার শব্দে রুদ্র চিৎকার করে কেঁদে দেয়।ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলে
-“উঠ মায়া।প্লিজ একবার উঠ। সবাইকে ভুল প্রমান করে দে।সবাই বলছে তুই ছেড়ে চলে গেছিস আমাকে।কিন্তু আমি জানি সব মিথ্যা। আমার মায়া আমাকে ছেড়ে যেতে পারে না।সবাই মিথ্যুক।আমি জানি তো,আমার মায়া স্বার্থপর না।সে এভাবে তার রুদ্রকে একা ফেলে চলে যেতে পারে না।”
রুদ্র একের পর এক কথা বলেই যাচ্ছে। কিন্তু মায়া উত্তর দিচ্ছে না।রুদ্রর বুক ফেটে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ছুরি দিয়ে কেও ওর বুক এফোড় ওফোড় করে কাটছে।আজ প্রথমবার মায়া এমন নিষ্ঠুরতম ব্যবহার করছে।আজ প্রথম বার রুদ্রর ডাকে সাড়া দিচ্ছে না ও।
রুদ্র চিৎকার করে বললো
-“কথা বলছিস না কেন তুই?রাগ করেছিস আমার উপর? শাস্তি দিচ্ছিস?তোকে কষ্ট দিয়েছিলাম তাই শাস্তি দিচ্ছিস আমাকে?এতো বড় শাস্তি দিস না আমাকে মায়ু।আমি সইতে পারছি না।মরে যাচ্ছি আমি।মেরে ফেল আমাকে, নয়তো নিয়ে যা তোর সাথে।”
ও আল্লাহ, প্লিজ ফিরিয়ে দাও ওকে আমার কাছে।একবার ফিরিয়ে দাও। আর কোনোদিন একটুও কষ্ট পেতে দিব না ওকে।ও যা বলবে তাই শুনবো।আমি কী করে বাঁচবো আল্লাহ? মায়া বিহীন এই দুনিয়ায় কীভাবে বেঁচে থাকবো?”
রুদ্র চিৎকার করে কাঁদছে। বারবার উঠতে বলছে মায়াকে।কিন্তু আজ যে মায়া রুদ্রর কথা শুনবে না।সে যে অন্য দুনিয়ায় পাড়ি জমিয়েছে। যেখান থেকে কেও কখনো ফিরে আসতে পারে না।রুদ্র কাঁদছে। গলা ফাটিয়ে কাঁদছে। কিন্তু নিষ্ঠুর মেয়েটা উঠছে না।সে আর কখনো উঠবে না।নিষ্ঠুর মেয়েটা জানলো না এই দুনিয়ায় তার ভালোবাসার মানুষের অভাব নেই।সে জানতেও পারলো না,যার ভালো থাকার আশায় সে দুনিয়া ছেড়ে দিলো, সে কখনো ভালো থাকবে না ওকে ছাড়া।মেয়েটা তাকে একবারে শাস্তি না দিয়ে প্রতিনিয়ত শাস্তি দেওয়ার জন্য রেখে গেলো।প্রিয় মানুষকে ছাড়া একা এই দুনিয়ায় বেঁচে থাকার চেয়ে বড় শাস্তি আর কী কিছু হতে পারে?মায়া নেই, রুদ্র চায়লেও আর ওঁকে কষ্ট দিতে পারবে না।দেখতে পারবে না ওঁকে। এর চেয়ে বড় শাস্তি আর কিছু হতে পারে না রুদ্রর জন্য।
#চলবে

