#উৎসর্গ
#পর্ব:২৭
#তানজিনা ইসলাম
টবের গোলাপ গাছগুলোতে পানি দিচ্ছে মায়া।বেলকনিতে রঙবেরঙের বিভিন্ন জাতের গোলাপের গাছ লাগানো।সবগুলো চারা মায়া নিজেই শখ করে লাগিয়েছিলো।কিন্তু পানি না দেওয়ার দরুন সব গাছ নেতিয়ে গেছে।মায়া এতোদিন বাড়িতে ছিলোনা তাই পানি দেওয়ার সুযোগ হয়নি।পাশেই রুদ্র কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।কিছুক্ষণ অতিবাহিত হতেই রুদ্র মিনমিন করে বললো
-“গাছগুলোতে পানি দেওয়া উচিত ছিলো। আসলে এতো ব্যস্ত ছিলাম যে পানি দেওয়ার খেয়ালই ছিলো না। ”
-“আরে বাদ দে।যেখানে একটা বছর,এক ছাদের তলায় থেকে আমার প্রতিই এক বিন্দু পরিমাণ মায়া আসলো না তোর। সেখানে আমার গাছের জন্য তোর কনসার্ন আমি কোত্থেকে আশা করবো। একটা জীবিত মানুষকেই নিজের কথার আঘাতে জলজ্যানবত মেরে ফেলার চেষ্টা করছিস! সেখানে গাছ মরে যাওয়া কী খুব বড় ব্যাপার? না তো!”
মায়া মুচকি হেসে বললো।
রুদ্র অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো। আকুল হয়ে বলতে চায়লো কিছু।কিন্তু এর উত্তরে কিছু বলতে পারলো না,মুখ নেই যে। মায়া গাছে পানি দেওয়া শেষে উঠে দাঁড়ালো।
রেলিং এর সাথে হেলান দিয়ে রুদ্রকে উদ্দেশ্য করে বললো
-“কী যেন বলবি বলেছিলি?”
রুদ্র অগ্রাহ্য করলো মায়ার প্রশ্ন। বললো
-“তুই অনেক রেগে আছিস আমার উপর তাই না?”
-“ওমা!রেগে কেন থাকবো?রেগে থাকার মতো তো কিছু হয়নি।”
রুদ্র আরেকটু এগিয়ে এলো মায়ার দিকে। নরম স্বরে বললো
-“রেগে আছিস তো! তুই যখন রেগে যাস আমার উপর, তখন একদম শান্ত ব্যবহার করিস, যেন কিছু হয়নি।
আমি জানি রে,আমি অনেক অন্যায় করেছি। কিন্তু বিশ্বাস কর আমি এমন করতে চাইনি তোর সাথে।তোর সাথে খারাপ বিহেভ করতে চাইনি আমি।কিন্তু তখন আমার কী যে হয়েছিলো,আমি নিজেই বুঝতে পারতাম না।আমি সবসময় নিজেকে বোঝাতাম যে তোর তো কোনো দোষ নেই তারপরও এমন কেন করছি তোর সাথে! কিন্তু তোর সামনে এলেই সব ভুলে যেতাম।”
-“আমাকে দেখে রাগ উঠতো তোর?”
মায়া রুদ্রকে থামিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করলো।
রুদ্র থেমে গেলো। ব্যকুল চোখে তাকালো মায়ার দিকে।মায়া তাচ্ছিল্য হাসলো। উদাস গলায় বললো
-“তোর দোষ নেই রে রুদ্র।সব দোষ তো আমার।আমিই এমন এমন কাজ করেছি যে,আমাকে দেখে তোর রাগ হওয়াটাই স্বাভাবিক।”
-“প্লিজ এমন বলিস না।বিশ্বাস কর তোর প্রতি আমার কোনো অভিযোগ ছিলো না।কিন্তু আরশির সুইসাইডের পর ও আমাকে অনুরোধ করেছিলো যাতে আমি ওর সাথে থাকি।বন্ধুর মতো যাতে একটু সাহায্য করি ওকে।ও নাকি আমাকে দেখে শান্তি পায়।বিশ্বাস কর,আমি ওকে মানা করে দিতে চেয়েছিলাম।বলতে চেয়েছিলাম,আমার বিয়ে হয়ে গেছে। আমি যখন তখন ওর ডাকে দেখা করতে যেতে পারি না।কিন্তু ডক্টর বলেছিলো যাতে ওর উপর কোনো মেন্টাল প্রেশার না পরে।ও যা চাই,যা করতে চায় তাই যেন দেওয়া হয় ওকে।ওর আম্মু আমার হাত ধরে অনুরোধ করেছে যাতে আমি একটু থাকি ওর সাথে।নয়তো ওনার মেয়ে বাঁচবে না।আমি পারি নি মায়ু,আমি মানা করতে পারিনি, একজন মায়ের কথা আমি ফেলতে পারিনি।”
-“আর আমার বাঁচা মরা? আমার অসুস্থতা তোর উপর প্রভাব ফেলে না?তুই ওঁকে বাঁচাতে পেরেছিস রুদ্র। কিন্তু ওঁকে বাঁচাতে গিয়ে তুই যে আমাকে মেরে ফেললি, তার কী হবে? আমি তো ওর চেয়েও বেশি অসুস্থ ছিলাম। ওরটা বাহ্যিক ভাবে দেখা গেলেও আমি ভেতরে ভেতরে কতটা কষ্ট পাচ্ছিলাম। আমাকে কেন ফেলে দিলি? আমার কষ্ট কেন চোখে পরলো না তোর? আমি সস্তা তাই? তুই আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা কেন করলি না?
রুদ্র তাকালো মায়ার দিকে।মায়া নিশ্চুপ তাকিয়ে আছে ওর দিকে।রুদ্র ঢোক গিলে আকাশের দিকে তাকালো।আবার বলতে শুরু করলো
-“এই দুনিয়াতে কারা সবচেয়ে অসহায় জানিস, যারা অন্যের মুখের উপর না বলতে পারে না।যাদের নিজের অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অন্যের কথা মেনে নিতে হয়।আমি তোকে বলতে চেয়েছিলাম সব,কিন্তু তার আগেই আমার কী যে হয়েছিলো? কেন যে আমি তোর সাথে অমন করেছি! জানিস,আরশির সুইসাইডের পর যেদিন আমি ভার্সিটি তে গিয়েছিলাম।সেদিন রোহানের সাথে দেখা হয়েছিল আমার।তুইতো জানিস,ওর সাথে আমার সাপে নেউলে সম্পর্ক।ও আমাকে বলেছিলো আমি নাকি তোর হাতের পুতুল! তুই যা বলিস তাই আমাকে শুনে চলতে হয়।আমাকে তুই জোর করে বিয়ে করেছিস,আমি নাকি কাপুরুষ!আমার কোনো গায়রত নেই। তোর মুখের উপর কথা বলার সাধ্য নেই। এটা ভালোবাসা না, চামচামি।আরো অনেক, অনেক কিছু বলেছে।আমার খারাপ লেগেছিলো মায়ু।খুব রাগ হয়েছিলো।
আমি আমার সব রাগ তোর উপর ঝেড়েছি। তারউপর আমার মা-বাবা আমার বন্ধুরা সবাই খালি তোর পক্ষ নিতো।
-“কেন, তোর সব রাগের ভাগীদার আমি কেন হবো? ও কাপুরুষ বললেই কী তুই কাপুরুষ হয়ে যাবি!”
-“আমার মাথা কাজ করেনি তখন৷ আমি শুধু চেয়েছিলাম তোর থেকে প্রতিশোধ নিতে। এজন্য যা ব্যবহার করেছি তোর সাথে। মনে হতো, সবার ভালোবাসাই তো তুই পাচ্ছিস। আমার ভালোবাসার মানুষগুলোকেও কেড়ে নিয়েছিস। কিন্তু তুই চাস আমি তোকে ভালোবাসি! তাই আমি তোকে ভালোবাসবো না। এটাই হবে তোর প্রতি আমার সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ। আমি কেমন যেন হয়েগেছিলাম রে! আ’ম সরি!”
-“তোর হিংসে হতো আমার উপর?হিংসে করে এসব করেছিস?”
মায়া ঢোক গিলে বললো। রুদ্র অপরাধী দৃষ্টিতে তাকালো।
-“মিথ্যে বলবো না।হ্যাঁ, হিংসে হতো।অনেক বেশিই হিংসে হতো আমার।তোর সাথে ঝামেলা হওয়ার পর রাহুল আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলো।আমার সব বন্ধুরা আমার থেকে দূরত্ব বানিয়ে নিয়েছিলো। আম্মু আমার সাথে কথা বলতো না। তার মনে হতো, আমার জন্য তুই চলে গেছিস।তাই আমার মনে হতো সবাই খালি তোকে ভালোবাসে।আমার রাগ হতো,কষ্ট লাগতো।আর সব রাগ তোর উপর ঝারতাম। বিশ্বাস কর,তোকে কটু কথা বলার পর আমার নিজেরই খারাপ লাগতো।তুই না থাকার প্রতিটা ক্ষণে আমার তোকে মনে পরেছে।কষ্ট লেগেছে কেন তোকে এত বিশ্রীভাবে কষ্ট দিলাম।তোকে যাতে আর কষ্ট দিতে না হয় সেই জন্যই তোকে বাড়িতে চলে যেতে বলেছিলাম।তুই চলে যাওয়ার পর প্রতিটা সেকেন্ড আমি অনুতাপে ভুগেছি।প্রতি সেকেন্ডে বুঝেছি আমি যে কত বড় অন্যায় করেছি তোর উপর।তোকে কষ্ট দিয়ে আমি ভালো নেই মায়ু।অনুতাপের আগুনে প্রতিনিয়ত জ্বলছি আমি। আমার কিভাবে যে আফসোস হতো।”
-“তোর কেন অনুশোচনা হবে রুদ্র? তোর মনে কেন আফসোস জন্মাবে? আফসোস করার কথা তো আমার! আমি কেন নিজেকে এভাবে শেষ করে দিলাম? আমার তো এভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিলো না!”
মায়া মলিন হাসলো। রুদ্র এগিয়ে গিয়ে শক্ত করে মায়ার হাত ধরলো।মায়া হাত ছাড়িয়ে নিতে চায়লো রুদ্র ছাড়লো না। মায়া ব্যাথাতুর শব্দ করে বললো
-“হাত ছাড়। ব্যাথা করছে!”
রুদ্র হকচকিয়ে বললো
-“কী হয়েছে? এতো শক্ত করেও ধরিনি!”
মায়া এক হাত দিয়ে নিজের অন্য হাত চেপে ধরলো। রুদ্র ওর হাত টেনে নিলো। বিভ্রান্ত চোখে চেয়ে বললো
-“হাতে কী হয়েছে? দেখি! আল্লাহ, এতো দাগ কীসের? এই হাতের কী অবস্থা করেছিস তুই?”
-“আমি কিছু করিনি। ক্যানুলার দাগ।”
-“ক্যানুলা?তুই স্যালাইন নিয়েছিস?”
মায়া উদাস স্বরে বললো
-“হু! আমি বিশদিন হসপিটালে এডমিট ছিলাম।জ্বর কমছিলো না কোনোমতে। তুই তো জানিস আমার জ্বরগুলো কেমন! ব্লাড লেভেল কমে গিয়েছিলো অনেক। ব্লাড নিতে হয়েছে। তুই জানিস রুদ্র, আমি বিশদিন ঘুম ছাড়া প্রতিটা সেকেন্ড দরজার দিকে আশা নিয়ে তাকিয়েছিলাম। মনে হয়েছিলো তুই আসবি। আমার অসুস্থতার কথা শুনে হয়তো নিজের ইগো ধরে রাখতে পারবি না। জানিস, আমার সব বন্ধুরা এসেছিলো আমাকে দেখতে। প্রতিদিন ওরা নিয়ম করে আসতো। ইভেন আরশি পর্যন্ত এসেছে। ও যতই আমার চিরশত্রু হোক, আমি অসুস্থ হলেই দেখতে আসে। এ ব্যাপারটা আমার অনেক ভালো লাগে। ও হয়তো আমাকে দুর্বল দেখে মজা পায়। তারপরও আমার ভালো লাগে। রোহান এসেছে। বাঁশ মেরেছে আমাকে। তারপরও ওঁদের দেখে আমার ভালো লাগতো। ওই হসপিটালের সাদা বেডটা দেখতে দেখতে, কিছু পরিচিত মুখ দেখলেও বুকের মধ্যে শান্তি লাগতো। সবাই এসেছিলো রে। শুধু সে আসলো না, যার জন্য আমি সারাক্ষণ অপেক্ষায় থাকতাম। আকুল দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতাম দরজার দিকে। সে সত্যিই চেয়েছিলো আমি মরে যাই! ওটা তার মনের কথা ছিলো। শুধু রাগের কথা না।”
রুদ্র অকস্মাৎ কোনো কিছু বলতে পারলো না। মায়া তাকালো ওর দিকে। রুদ্রর টলমলে দৃষ্টি।কোনোমতে ঠোঁট নাড়িয়ে বললো
-“আমি জানতাম না।”
-“জানি আমি।”
-“আমাকে আমার কোনো ফ্রেন্ডরা বলেনি।”
রুদ্রর চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পরলো। মায়া বললো
-“আমিই বলতে মানা করেছিলাম। চেয়েছিলাম নিজ থেকে আমার খোজ নে। নিসনি!”
রুদ্র কাঁপা কাঁপা হাতে মায়ার হাত ধরলো। টপটপ চোখ বেয়ে পানি ঝরলো ওর। মায়ার দিকে তাকিয়ে ভেজা গলায় বললো
-“আমার খুব খারাপ লাগছে।”
মায়া নিশ্চুপ।
-“প্লিজ মাফ করে দে আমাকে।আর কখনো এমন করবো না তোর সাথে।আমি আমার দোষ স্বীকার করছি।তুই যা বলবি আমি তাই শুনবো।আরশির সাথেও কথা বলবো না কোনোদিন। আর কোনোদিন কষ্ট পেতে দেব না তোকে।বিশ্বাস কর যা করেছি সব রাগের মাথায়।তুইতো জানিস মায়ু তোর রুদ্র নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারে না।তুই আমাকে যা শাস্তি দিবি তাই গ্রহণ করবো আমি।”
মায়া বিষাদ হাসলো। অভিযোগের স্বরে বললো
-“তুই তো আমাকে ডিভোর্স দিতে চেয়েছিলি রুদ্র?তুই আমার সাথে ভালো নেই?আরশির কাছে গেলেই ভালো থাকিস তুই! আমার মাফ করা নিয়ে কী এসে যায়?
-“সব মিথ্যা মায়ু।সব মিথ্যা। তখন তোকে কষ্ট দেওয়ার জন্য যা পেরেছি তাই বলেছি। আমি তোকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা ভাবতেও পারি না মায়ু।তোকে ছাড়া কী করে থাকবো আমি?”
-“পঁচিশ দিন তো থাকলি।সেভাবেই সারাজীবন থাকতে পারবি।”
রুদ্র শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো মায়াকে।রুদ্রর চোখের পানিতে মায়ার কাঁধ ভিজে যাচ্ছে। মায়া পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। ছাড়াতে চায়লো না নিজেকে, না ওর পিঠে হাত রাখলো। রুদ্র হিচকি তুলে বললো
-“তোর কান্নাভেজা মুখটা যতবার আমার মনে পরতো,ততবার মরে যেতে মন চায়তো আমার।বারবার মনে হতো কেন তোর এই অগাধ ভালোবাসার বিনিময়ে কিচ্ছু দিতে পারছি না আমি তোকে।আমি অনেকবার যেতে চেয়েছি তোদের বাড়ি।নিয়ে আসতে চেয়েছি তোকে।কিন্তু আমার সাহসে কুলোয়নি।কীভাবে মুখ দেখাতাম আমি তোকে? বিশ্বাস কর, কেও জানায়নি আমাকে তুই হসপিটালে এডমিট আছিস। নয়তো আমি সেখান থেকেই নিয়ে আসতাম তোকে। কতোবড় কথা বলে ফেলেছি রে। মরে যেতে বলেছি তোকে। তুই মরে গেলে আমি বাঁচতে পারবো? মনে হয় তোর?তোর অসুস্থতার কথা শুনেই পাগল পাগল লাগছিলো আমার। এক্সাম হলে লিখছিলাম জানিস, খবর এলো তুই অসুস্থ হয়ে পরেছিস। আমি তো জানি তোর অসুস্থতা কেমন! তুই কেমন প্যানিক করোস! আর একটা অক্ষরও আমি লিখতে পারিনি বিশ্বাস কর। খাতা জমা দিয়ে বেরিয়ে বট গাছের নিচে অপেক্ষা করছিলাম তোর জন্য। তোর যে জ্বর সেটাও আমি সেদিসও জেনেছি।প্লিজ মাফ করে দে।আর কখনো এমন করবো না আমি।”
রুদ্র শক্ত করে জড়িয়ে ধরে থাকলো মায়াকে।
অনেক্ষণ কেটে যাওয়ার পর মায়া ছাড়া পেলো রুদ্রর থেকে।রুদ্রর দু’হাতে চোখ মুছলো।নাক টেনে বললো
-“কেন আমার এতো রাগ উঠেছিলো আমি নিজেও জানি না। কেন এভাবে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য উঠে পরে লেগেছি! একটা সিম্পল বিষয়কে কেন এতোটা জটিল করে দেখে তোকে কষ্ট দিয়েছি। মাফ করে দে।প্লিজ!”
-“এরপর তো যেতে পারতি। জ্বর শুনেও তো একবার দেখতে গেলি না।”
-“কে বলেছে আমি তোকে দেখতে যাইনি।প্রতিরাতেই দেখতে যেতাম তোকে।যখন সবাই ঘুমিয়ে পরতো তখন চুপিচুপি গিয়ে তোকে দেখে আসতাম।”
মায়া অবাক হয়ে বললো
-“তার মানে ওটা তুই যেতিস।আমি তো মনে করতাম চোর ঢুকছে আমার রুমে।”
রুদ্র চোখমুখ কুচকে বললো
-তুই আমাকে চোর ভেবেছিস!লাস্টের দুইদিন তো আরো বড়ো অমানবিক কাজ করেছিস আমার সাথে।বেলকনির দরজা বন্ধ রেখেছিস,যার কারণে আমাকে দুইদিন বেলকনি পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে।”
মায়া বিরক্তিকর দৃষ্টিতে তাকালো ওর দিকে।রুদ্রর মুখের এক্সপ্রেশন দেখে হাসলো একটু করে।
রুদ্র মায়ার দিকে তাকিয়ে হাসলো।যাক!এতক্ষণে মেয়েটার মুখে হাসি ফুটেছে।
মায়া হাসি থামিয়ে রুদ্রর দিকে তাকায়।রুদ্র ঠোঁটে হাসি চওড়া করে বললো
-“ক্ষমা কী পেয়েছি?”
-“এতো কষ্ট দিয়েছিস আমাকে।শাস্তি তো তোকে পেতেই হবে। এতো সহজেই ক্ষমা করে দিব তোকে?”
-” ঠিক আছে।যা শাস্তি দিবি সব শাস্তি মাথা পেতে নিব আমি। শুধু থেকে যা। বারবার যাওয়ার কথা বলিস না।
মায়া মুখ বাকালো।নিরব হয়ে গেছে দুজনে।রুদ্র নিরবতা ভেঙে বললো
-“কফি খাবি?”
-“না।”
-“ঠিক আছে।আমি গিয়ে বানিয়ে আনছি।”
রুদ্র চলে গেলো কফি বানাতে। মায়া বিরক্তিকর চোখে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে আনে সামনের পিচঢালা রাস্তায়। এই ছেলে সবসময় উল্টো বোঝে।পুরো রাস্তা সুনশান।মায়া এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকে সামনের নিরব রাস্তায়।
রুদ্রর ডাকে মায়ার ভাবনার সুতো ছিড়ে।রুদ্র এককাপ কফি এগিয়ে দেয় মায়ার দিকে।মায়া হাত বাড়িয়ে নেয়।
মায়া সামনের দিকে তাকিয়ে কফিতে চুমুক বসাচ্ছে। রুদ্র তার গা ঘেঁষে দাঁড়ায়।দেনামোনা করে হাতটা মায়ার কাঁধে রাখে।রুদ্রর মনে হয়েছিলো মায়া ওর হাত ঝারা মেরে সরিয়ে দিবে।কিন্তু মায়া কিছু করলোনা,চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলো।রুদ্র আরেকটু নিজের সাথে জড়িয়ে নিলো মায়াকে। ওর বুকের সাথে মায়ার মাথা ঠেকালো।আলতো চুমু খেলো ওর মাথায়।
#চলবে

