উৎসর্গ #পর্ব:৩৫(অন্তিম) #তানজিনা ইসলাম

0
22

#উৎসর্গ
#পর্ব:৩৫(অন্তিম)
#তানজিনা ইসলাম

ঘড়ির কাটায় টিক টিক শব্দ হচ্ছে। রুদ্র গুটিশুটি মেরে ফ্লোরে শুয়ে আছে। বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে ডাইরিটা।হৃদয় চিৎকার করে কাঁদলেও সে কান্না বাইরে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হচ্ছে বারংবার।মনের মধ্যে কারও সুন্দর, মায়াবী মুখ বারবার উকি দিয়ে যায়।কত সুন্দর করে মানুষটা বলে গেছে ওকে আরেকজনের সাথে ভালো থাকতে,সংসার পাততে।মনের মধ্যে ঝংকার তুলে প্রতিধ্বনি হলো, স্বার্থপর! মায়া ভীষণ স্বার্থপরঁ কত সুন্দর ওকে এঁকা ফেলে চলে গেছে মেয়েটা। একবার ভাবলোও না রুদ্র কী করে বাঁচবে!মায়া মারা গেছে, আর রুদ্র বেঁচে থেকে প্রতিনিয়ত মরছে।
রুদ্র উঠে বসলো।ডাইরিটা টেবিলের ডেক্সে ঢুকিয়ে রাখলো যত্ন করে।পা টেনে কক্ষের বাইরে বেরোয়।পুরো বাড়ি সুনশান নিরবতায় ছেয়ে আছে। যেন একটাও মানুষ নেই।আসলে সবাই আছে বাড়িতে। শুধু বাড়ি মাতিয়ে রাখার মানুষটা নেই।রুদ্র অন্ধকার সিড়ি বেয়ে কাঁপা কাঁপা পায়ে ছাদে উঠে।ছাদের রেলিং ধরে আকাশের দিকে মুখ করে তাকায়।আকাশে আজ অসংখ্য তারার মেলা।মিটিমিটি আলো তে জ্বলজ্বল করছে।রুদ্র মলিন হাসে সেদিকে তাকিয়ে।সবচেয়ে আলাদা তারাটির দিকে তাকিয়ে বলে

-“মায়ু।ভালো আছিস তুই?ভালো থাকার জন্যেই তো ছেড়ে চলে গেলি আমাকে।আমার ভালো মনের মানুষ টা অন্য দুনিয়ায় নিশ্চয়ই ভালো থাকবে। কিন্তু দেখ,আমি ভালো নেই।একটুও ভালো নেই আমি।তোকে ছাড়া ভালো থাকবো কী করে? কেন তুই আমাকে তোর সাথে নিয়ে গেলি না?কেন?আমার যে খুব করে দেখতে ইচ্ছে করছে তোকে। সৃষ্টিকর্তা যে তোকে অনেক ভালোবাসে।দেখ তুই বলেছিলি না,সৃষ্টিকর্তা যাতে তোর জানাযা পরার মতো কষ্টটা না দেয় আমাকে।আমি পরতে পারিনি, জান।তোর জানাযা পরার সুযোগ হয়নি আমার।আমি শেষবারের মতো তোকে দেখতে পারিনি।”

বলতে বলতে রুদ্রর গলা ভেঙে কান্না আসে।মাথা নিচু করে শ্বাস নেয় ও।

নিজের মনের উত্তর শোনে।মায়া বলছে
-“আমি তোকে ছেড়ে যাইনি রুদ্র।আমি তোর সাথেই আছি।মায়া কখনো রুদ্রকে ছেড়ে যেতে পারে?পারে না।আমি তোর কষ্টগুলোর সাথেই আছি। তোর সবকিছুর সাথেই আছি আমি।”

রুদ্র টলমল চোখে তাকায় আকাশের দিকে।দেখতে পায় মায়ার হাসি মুখ।ও হ্যালুসিনেশনে ভুগছে। ওর মনে হচ্ছে মায়া ডাকছে ওঁকে। মেয়েটা তো ওঁকে ছাড়া থাকতে পারে না। বেঁচে থাকতে তো রাখলো না ওঁকে নিজের কাছে, ওই জগতেই না-হয় একসাথে থাকলো ওরা।
রুদ্র হাসলো তার সাথে।রেলিঙের উপর উঠে দাড়ালো।আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো
-“জান,তোর আর আমার দুরত্ব শুধু এই মাটির শরীর ছাড়া আর কিছুই নয়।তাই আত্মাকে মুক্তি দিয়ে তোর কাছে আসছি।”

রুদ্র আকাশের দিকে তাকিয়ে এক পা বাড়াতে যাবে তার আগেই পেছন থেকে রাহুল ওর হাত টেনে ধরলো।
রুদ্র পরে যায় নিচে। রাহুল আতঙ্কিত চোখে তাকায় ওর দিকে।রুদ্র অনুভূতিহীন দৃষ্টিতে তাকালো ওর দিকে।রাহুল শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ওকে।হড়বড় করে বললো
-“কী করতে যাচ্ছিলি তুই!”

রুদ্র উত্তর দেয় না।নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকে রাহুলের কাছে।রাহুল শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে ওকে।
বুক কাঁপছে এখনো ওর।ছেলেটা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরেছে। কিন্তু এসব কী করতে যাচ্ছিলো ও!এক বন্ধুকে হারিয়েছে ও।অন্য বন্ধুকে হারানোর শক্তি আর নেই।
ও যাতে নিজের কান্না বের করে কষ্টগুলো হালকা করতে পারে সেজন্যই তো কক্ষে একা রেখে গিয়েছিল ওকে।ভাগ্যেস রুদ্রকে খুঁজতে খুঁজতে ছাঁদে এসেছিলো।নয়তো এখন কী ঘটতো সেটা ভাবতেই রাহুল শিউরে উঠছে।রাহুল ছাড়লো ওকে।পিঠে হাত দিয়ে উৎকন্ঠা নিয়ে জিজ্ঞেস করলো
-“ঠিক আছিস তুই?কোথাও লাগেনি তো?”

রুদ্রর মুখ দিয়ে একটা শব্দও বের হয়না।শুধু অনুভূতি শূন্য দৃষ্টিতে তাকায় রাহুলের দিকে।রাহুলের কান্না পায়।মায়ার দাফনের খবর শোনানোর পর থেকেই রুদ্র চুপ হয়ে গেছে। সেই থেকে একটা কথাও বলেনি রুদ্র।একটু কান্না পর্যন্ত করেনি।রাহুল হাত টেনে ধরে দাঁড় করালো ওকে।শক্ত করে রুদ্রর বাহু ধরে দোতলায় নামলো।কক্ষে নিয়ে গিয়ে বিছানায় বসালো ওঁকে।
রাহুল স্যুপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে রুদ্রকে।কিন্তু রুদ্র কিছুতেই খাচ্ছে না।রাহুল চামচ ধরে অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।ও চামচ মুখের কাছে নিয়ে গেলেই, হয় রুদ্র বামে মাথা ঘোরায় নয় ডানে।রাহুল নরম গলায় বললো
-“এমন কেন করছিস?ক’দিন ধরে না খেয়ে আছিস হিসাব আছে?এরকম করলে তো মরে যাবি রুদ্র।মরে যেতে চাস?”

রুদ্র বালিশের কাছে মাথা হেলিয়ে দেয়।অপলক রাহুলের দিকে তাকিয়ে ভাঙা গলায় বলে
-“যদি মরে যেতে পারতাম!তাহলে মায়ার সাথে আবার দেখা হতো ।মেয়েটাকে আর অপেক্ষা করতে হতো না আমার জন্য। কিন্তু তুই তো আমাকে আটকে দিলি।”
রাহুল হতভম্ব হয়ে তাকায়।শোকে পাগল হয়ে গেছে ছেলেটা।বিধ্বস্ত মস্তিষ্কে উলোটপালোট চিন্তা ভাবনা আসছে।

রাহুল ঢোক গিলে বললো
-“রুদ্র।তুই মরে গেলেই কী সব ঠিক হয়ে যাবে?”

-“সব ঠিক হবে কি-না জানি না।কিন্তু আমি এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবো।জানিস,আমার না শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। বুকের ভেতর কেমন জানি লাগছে। আমি বোঝাতে পারছি না রে।উফ! খুব ব্যাথা হচ্ছে বুকে। অনুশোচনা হচ্ছে। জানাযাটুকু অন্তত পড়তাম আমি। কোনো দায়িত্বই তো পালন করলাম না। কিচ্ছু দিতে পারলাম না ওঁকে। তবুও এতো বড় শাস্তি তো আমি ডিজার্ভ করতাম না। ও আমাকে এত বড় শাস্তি না দিলেই পারতো।

-“মৃত্যুর উপর কারো হাত নেই,রুদ্র।আল্লাহ চেয়েছে মায়াকে তার কাছে নিয়ে যেতে,তাই ও চলে গেছে। তুই জানিস না,আল্লাহ যেসব বান্দাদের বেশি ভালোবাসেন তাদেরকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যান।”

রুদ্র মলিন হাসে।নিরবতায় কেটে যায় কিছু সময়। নিরবতা ভেঙে রুদ্র বলে
-“ভালোই করেছিস আমাকে বাঁচিয়ে। ঐ নিষ্ঠুর যে আমাকে অনেক অনেক দায়িত্ব দিয়ে গেছে রে।যদি ছাদ থেকে পরে যেতাম তাহলে এতক্ষণে হয়তো ওর কাছে পৌঁছে যেতাম।কিন্তু ওর দেওয়া দায়িত্ব তো পূরণ করা হতো না।এক অসীম যন্ত্রণা নিয়ে আমাকে বেঁচে থাকতে হবে রাহুল।ওর দেওয়া দায়িত্ব পালন করার জন্য হলেও আমাকে বেঁচে থাকতে হবে। ”

রাহুল প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকায়।রুদ্র আবার হাসে। রাহুলকে উদ্দেশ্য করে বলে
-“এবার তুই যা এখান থেকে।আমাকে একা থাকতে দে।”

-“কোথাও যাবো না আমি।আবার উলোটপালোট কিছু ঘটানোর জন্য তুই তাই না!”

-“বললাম তো কিছু করবো না।তখন নিজের মধ্যে ছিলাম না।রেলিঙে কীভাবে উঠেছি সেটাও মনে পরছে না।এতে সহজে মরবো না। আমি বাঁচবো রাহুল।ওর দেওয়া দায়িত্ব পালন করার জন্য হলেও আমি বাঁচবো। ”

-“খেয়ে নে রুদ্র।মরে যাবি নয়তো।”

-“তুই যা।খেয়ে নেবো আমি।”

-“সাহস পাচ্ছি না তোকে একা রেখে যেতে!”

-“কিছু হবে না আমার।কিছু করবো না আর।”

-“বাড়িতে কেও নেই রুদ্র। সবাই খান মঞ্জিলে গেছে।আমিও চলে যেতাম।কিন্তু তোকে এই অবস্থায় ফেলে যেতে পারিনি।তোর জন্য যখন থেকে গেছি তুই আমার দায়িত্ব। ভয় লাগছে তোকে একা ছাড়তে।

-“কিছু হবে না রাহুল।শুধু একটু একা থাকতে চাই। ”
রাহুল উঠে দাঁড়ালো।খাবার খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে কক্ষের বাইরে চলে গেলো।

রুদ্র নিশ্চুপ বসে থাকে।বুকের মধ্যে কী যে বয়ে যাচ্ছে তা মুখের দিকে তাকিয়ে বোঝা সম্ভব নয়!রুদ্র পাশ ফিরে মায়ার বালিশে হাত বুলিয়ে দিলো।এই বালিশে মাথা রেখে ঘুমিয়েছে খুব কম।সবসময় রুদ্রর বুকেই মাথা রেখে ঘুমাতো।রুদ্র বিছানা ছেড়ে বেলকনিতে আসে।গোলাপ গাছগুলো আলতো হাতে ছুঁয়ে দেয়। বেলকনিতে আসতেই বুক ভারী হয়ে আসে ওর।মায়ার সবচেয়ে ফেবারিট এই বেলকনিটা।সবসময় এই বেলকনিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকতো ও।রুদ্র দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না সেখানে।দমবন্ধ হয়ে আসে ওর।শান্তি পাচ্ছে না,কোথাও এতটু শান্তি মিলছে না।

রুদ্র এলোমেলো পায়ে কক্ষে আসে।কাবার্ড খুলে মায়ার একটা ড্রেস হাতে নেয়।বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।কাবার্ড,ওয়ারড্রবে সব মায়ার ড্রেস।ড্রেসিং টেবিলেও সব মায়ার জিনিসে ভর্তি।এই ফার্নিচার ভাগাভাগি নিয়ে কতই না মারামারি, ঝগড়া হয়েছিলো দুজনের।আজও মায়ার জিনিসগুলো সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করে আছে।সব জিনিস নিজের জায়গায় আছে, শুধু জিনিসগুলোর অধিকারী যে সেই নেই।
রুদ্র ধ্বপ করে বসে মেঝেতে।কান্নাগুলো দলা পাকিয়ে আসে গলার কাছে।কান্না গুলো বাইরে আনা দরকার। নয়তো মরে যাবে ও।এক্ষুনি মরে যাবে।রুদ্র মায়ার ড্রেসে মুখ ঢাকে।মায়ার গন্ধ লেগে আছে এই ড্রেসে।অনুভূত হচ্ছে ওঁকে ।চোখের পানিতে ড্রেস ভিজে যায়।রুদ্র শব্দ করে কাঁদে। এতক্ষণে বুকের ভেতর ছটফটে বন্দী কান্নাগুলো বাইরে আনতে সক্ষম হয়েছে।রুদ্র মায়ার ড্রেস বুকে জড়িয়ে মেঝেতে শুয়ে পরে।হিচকি তুলে ডাকে মায়াকে।
রাহুল দৌড়ে আসলো ওর চিৎকারে।কিন্তু কক্ষে ঢুকতে পারলো না,ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে।রাহুলের মনে ভয় ঢুকে যায়।ভেতর থেকে কান্নার শব্দ আসছে।রাহুল দরজায় ধাক্কা দিয়ে ডাকে ওকে।ছেলেটা আবার কিছু ঘটিয়ে না ফেলে।রুদ্র দরজা খোলে না।রাহুল ডাকতে ডাকতে ক্লান্ত হয়ে পরে।সারারাত এক বিধ্বস্ত প্রেমিক তার প্রেয়সীর জন্য মন -প্রাণ উজাড় করে কাঁদে। চার দেয়ালের মাঝে বন্দী করে রাখে তার হৃদয়ের ব্যাকুলতা,হাহাকার।
,

জোৎস্না রাত।চাঁদের আলো লুটোপুটি খেয়ে পরছে পৃথিবীর উপর।নিঃসঙ্গ জোছনা আলোয় একাকিত্বকে সঙ্গী করে দোলনার উপর বসে আছে রুদ্র।নিষ্পলক জোছনার রূপমাধুরী অবলোকন করছে।
রুদ্র বেঁচে আছে। মায়ার দেয়া সকল দায়িত্বকে সঙ্গী করে বেঁচে আছে।মায়াকে দেয়া প্রতিটা ওয়াদা রেখেছে।মায়ার বাবা-মা, ওর বাবা-মা সবাইকে দেখে রেখেছে।কিন্তু ওকে দেখে রাখার কেও নেই।অফিস শেষে যখন শ্রান্ত হয়ে বাড়ি ফেরে তখন কেও হাসিমুখে অপেক্ষা করেনা ওর জন্য।কারো হাসিমুখের কল্পনায় পুরোটা রাত নির্ঘুম কেটে যায়।কিন্তু কেও শাসন করে না ওকে। সব বন্ধুদের মন জুগিয়ে চলতে শিখেছে এখন।কিন্তু কেও জানে না,ওর মনটাই মরে গেছে।বন্ধুমহলের কেও এখন আর ঘুরতে যায় না।যদিও যায় সেখানে হাসি-খুশি, প্রানবন্ত জিনিসটা আর থাকে না রুদ্র হাসে।হাসিমুখেই কথা বলে সবার সাথে।কিন্তু কেও জানে না ওর হাসি খুশি প্রাণটা ওর মানুষটার সাথেই দাফন হয়ে গেছে।এখন আর কথায় কথায় রেগে যাওয়ার অভ্যাসটা নেই।
ওই মানুষটা ছাড়া আর কার উপর রাগ ঝাড়বে!কে ওর রাগ সহ্য করবে! রুদ্র এখন আর কনফিউজড হয়ে যায় না।সব সিদ্ধান্তই এখন দ্বিধাহীনভাবে নিতে পারে। তবুও আফসোস যে ওকে বাঁচতে দেয় না।কেন রুদ্র নিজের ভালোবাসার চেয়েও ইগোটাকে বড় করে দেখেছে!কেন প্রিয় মানুষটার বিরুদ্ধেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য উঠে পরে লেগেছিলো ও।কেন ইগোর চেয়ে ভালোবাসাটা বড় হয়ে দাঁড়ালো না!
সবাই নিজের জীবন গুছিয়ে নিয়েছে।শুধু ও নিজেই এলোমেলো হয়ে গেছে।সব ঠিকাছে। শুধু ওর জীবনটায় থমকে গেছে।সবাই ওর হাসিখুশি মুখের আড়ালে দেখতে পায় না,প্রতিনিয়ত কীভাবে মরছে ও!কীভাবে ওর কলিজা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় কেও জানে না!

নির্জন বাগানের মাঝে দোলনায় বসে আছে রুদ্র।চাঁদের আলো ছুয়ে দিচ্ছে ওকে।নিষ্পলক তাকিয়ে আছে আকাশের গোল থালার মতো চাঁদটার দিকে।এভাবেই এক জোৎস্না রাতে মায়ার সাথে এই দোলনায় বসে ছিলো ও।কিন্তু আজ ওর সাথে কেও নেই।একাকিত্বতা ওর সঙ্গী। মায়ার স্মৃতি আর ওর দেওয়া দায়িত্ব ছাড়া রুদ্রর কাছে বেঁচে থাকার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
নির্মল বাতাস ওর গা ছুয়ে দেয়।বাতাসের সাথে অনুভব করে ও প্রিয় মানুষটার উপস্থিতি।মায়া আছে,ওর মনের ভেতর আছে,থেকে যাবে সারাজীবন। ওখানে আর কেও জায়গা করতে পারবে না কখনো। রুদ্র জায়গা দেবে না। এখন শুধু অপেক্ষা। মায়ার কাছে যাওয়ার অপেক্ষা। মৃত্যুর অপেক্ষা!
রুদ্র চোখ বন্ধ করে নেয়।বন্ধ চোখের কোণা বেয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে।

চলো, আবার ফিরে যাই সেই সুন্দর ছোটোবেলায়।যেখানে স্বপ্ন সাজিয়ে ছিলাম।ছোটোবেলা কাটিয়েছিলাম।যেখানে বিরহ নামের কোনো শব্দ ছিলো না।যেখানে একটা ছোট্ট খেলনার কুঠির বানিয়েছিলাম।চলো, ফিরে যাই সেখানে।

নির্ভুল সুরের জন্ম
ওও তাকে আমার কাব্যে মেশাই
যেন হয় এক বিশুদ্ধ গান
আমার এই গানই আজ উৎসর্গ হোক
তার প্রতি আমার তীব্র ঘৃণা,
তবু স্বর্গদ্বারে একা
থাকব তার অপেক্ষায়
যেন আমার অভ্যর্থনা তাকে করে অবনত
জানি তখনও কিছুই আমার
হবে না তবুও
এ অপ্রাপ্তিটাই যেন আমায় করে পরিপূর্ণ।

(সমাপ্ত)।

(নোট: শেষ দিকের কিছু লাইন শাহরুখ খান অভিনীত, দেবদাস সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা হয়েছে।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here