আপনার_হৃদয়ে_আমি #পর্ব_৩২

0
21

#আপনার_হৃদয়ে_আমি
#পর্ব_৩২
#জান্নাত_সুলতানা

“এটা কাপল কি-চেইন আর আমি এটার চাবি খুঁজে পেয়ে গেছি, নির্ভাণ ভাই।”

নির্ভাণ দৃষ্টি এলোমেলো ঘুরায়। চাবি হঠাৎ নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরে। সানায়া নিজের হাত টা সামনে আনলো। মুঠো খুলতেই বেরিয়ে এলো সেই অর্ধেক লাভ। যার চাবিটা নির্ভাণের কাছে।

“খুঁজে না পেলেই তোর জন্য ভালো হতো। যখন পেয়েই গেছিস তখন রেডি থাকিস।”

“কিসের জন্য?”

“ইউ উইল ফিল ইট স্টেপ বাই স্টেপ।”

নির্ভাণ বাইক স্টার্ট করে চলে গেলো। সানায়া তখনও গার্ডেনে দাঁড়িয়ে থাকে। হঠাৎ সুইমিং পুলে নজর যেতেই মনে পড়ে যায় সেদিন সন্ধ্যার ঘটনা। লজ্জায় মূহুর্তে মুষড়ে পড়ে মেয়ে টা। কী আশ্চর্য! যখন ভেজা শরীর নিয়ে মানুষ টার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো তখন লজ্জা করে নি আর এখন মনে পড়তেই লজ্জা পাচ্ছে!
সানায়া এসব চিন্তা মাথা থেকে কোনো রকম ঝেড়ে ফেলে আফির রুমে ছুটলো। ফ্রেন্ডদের জানাতে হবে না, তাকেও নির্ভাণ ভাই পছন্দ করে যে!

——

“সোজা প্রপোজ করব? না, না আমি পারব না।” তায়েবার পরামর্শ নাকচ করে সানায়া। রিক্তা বিরক্তিকর স্বরে বলে,

“তো? প্রেম কিভাবে করবি তাহলে?”

“আমার লজ্জা করবে না?” ফ্যালফ্যাল চোখে চেয়ে বলে উঠলো মেয়ে টা। তায়েবার এই মূহুর্তে তার মায়ের কথা সত্যি মনে হচ্ছে সুন্দরী মেয়ে মানুষ বোকা হয় বেশি। সে দীর্ঘ শ্বাসের সাথে মুখ ভেংচি কেটে বললো,

“এহ্ আইছে লজ্জাবতী। যখন লুকিয়ে ভালোবাসতে শুরু করেছিস তখন লজ্জা করে নি?”

“আমি মনে হয় পারবো না।” তখনও টলমল চোখে তাকিয়ে সানায়া ফোন স্ক্রিনে। আর ওর এমন অবস্থা দেখে তায়েবা রিক্তা দু’জনেই হতাশ। ওরা দুজনেই এক সাথে বলে,

“না পারলে বাদ দেয়।”

——

সকাল সকাল চৌধুরী বাড়ি থেকে কল এসছে।
রাফার নানি অসুস্থ একান্ত কে তার বাবা কল করে ফিরে যেতে বলেছে। অনেকদিন তো হয়েছে। তারাও এমনিতেও আজ চলেই যেতো। তবে ফারাজ সিদ্দিকী একটু দ্বিমত আচরণ করলেন। ভদ্রলোক কিছু বলতেও পারলো না।
বাইরে এগিয়ে দিতে এসে নির্ভাণ একান্তর কানোর কাছে ধীরে ধীরে বলে,

“তুই কাল আসবি।”

“তোর বোনকে প্রটেক্ট করতে?”

“শাট আপ।” তীক্ষ্ণ স্বরে শাসায় নির্ভাণ। একান্ত ঠোঁট টিপে হাসে৷ আফি দূরে দাঁড়িয়ে আছে। একান্ত আচমকাই চোখ টিপে মেয়ে টাকে। আফি থতমত খেয়ে মায়ের আড়ালে গিয়ে দাঁড়ায়৷ একান্ত মাথা নেড়ে গাড়িতে ওঠে বসলো।

—-

সারাটাদিন সানায়ার এটা ভাবতে ভাবতে চলে গেলো নির্ভাণ ভাই কে সে কিভাবে প্রকাশ করবে সে-ও ভালোবাসে তাকে। রিলস দেখতে দেখতে হঠাৎ করে তার মাথায় এলো নিজের ব্যালকনিতে থাকা গোলাপ ফুলের কথা। সে আফির ফোন রেখে দ্রুত নিজের রুমে গিয়ে টুকটুক করে ডায়েরিতে কিছু লিখে ফেললো। একটা গোলাপ ফুল ব্যালকনি থেকে ছিঁড়ে এনে সেই পাতার ভাজে রেখে এবং ডায়েরি বন্ধ করে আবারও বইয়ের মাঝে আড়ালে রাখলো।
এরমধ্যে ডিনারের ডাক পেয়ে নিচে এলো সে। নির্ভাণ ছিলো না সেখানে। সানায়া স্বস্তি পায় কিছু টা। বাকিরা লিভিং রুমে বসে কিছু একটা নিয়ে আলোচনা করছিলো। সানায়া কান পাততেই বুঝতে পারলো আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হলো তাদের কক্সবাজার ঘুরতে যাওয়া। সানায়ার খুশি আর দেখে কে। ফারাজ সিদ্দিকী সব কিছু ঠিকঠাক করে রেখেছে। সানায়া আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। মামা কথা যেমন দিয়েছে তেমনই কথা রেখেছে।

—–

নির্ভাণের এসিস্ট্যান্ট হয়ে তিয়ান চাকরিতে জয়েন দিয়েছে। নির্ভাণ বন্ধুর মন ভালো করতে সুযোগ হাত ছাড়া করে না। আজো সে বন্ধু কে নিয়ে কোচিং সেন্টারে এসছে। যেহেতু তারা দু’জন আগের মতো সময় দিতে পারে না ক্লাসে তাই ইকবাল উৎসব কে কোচিং সেন্টারে নিয়ে নিয়েছে। আরও একটা অপরিচিত ছেলে কেও নিয়েছে। তাদের দুটো চায়ের আড্ডার আসর আছে। কোচিং সেন্টারের পাশেই একটা আরেকটা হচ্ছে সিদ্দিকী বাড়ি থেকে একটু সামনে একটা মোড়ে চায়ের দোকানে। তারা তিনজনই আজ সেখানে বসে। ইকবাল এতো সময় ফোনে কারোর সঙ্গে চ্যাট করছিল। ছেলেটার মুখ দেখেই স্পষ্ট। দুই বন্ধুর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সে ঘাবড়ে গেলো। ফোন রেখে নির্ভাণ কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,

“তারপর কী হলো?”

“কী?”

নির্ভাণ ভ্রু কুঁচকে রাখে। ইকবাল আমতা আমতা করে। বলে,

“তোর অন্তঃকরণে থাকা প্রেয়সীর কী খবর?”

নির্ভাণ উদাস দৃষ্টিতে সামনে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। বললো, “এটা তোর জানতে হবে না।”

“সানা এখনো তোর গার্লফ্রেন্ড না। আমাদের এখনো সুযোগ আছে।”

তিয়ানের খামখেয়ালি সুর নির্ভাণের শান্ত স্বভাব টা মূহুর্তেই আগুনের শিখার ন্যায় করে তুললো। হঠাৎ জ্বলে উঠলো সে। এ-ব্যাপারে কোনো কম্পেয়ার হবে না বন্ধুদের সাথে। সে চায়ের কাপ ফেলে শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে রোষপূর্ণ স্বরে বললো, “বুঝেছি তোদের বউ-বাচ্চা দেখার শখ নেই।”

ওরা দু’জন ও বুঝলো ঘুমন্ত সিংহ কে জাগানোর সাথে সাথে রাগানোর কাজও শেষ। হাতের কাপ ফেলে দুজনেই দৌড়ে লাগাল সোজা। নির্ভাণ ওদের পেছনে গেলো না। সে বন্ধুদের বাচ্চামিতে হাসলো এবং বাড়ির দিকে গেলো।

——–

“মামুনি তোমার নির্ভাণ ভাই কে একটু ডেকে দাও তো।”

ফারাজ সিদ্দিকীর কথায় চমকাল সানায়া। সে গতকাল রাতের পর থেকে আর নির্ভাণের সামনে যাচ্ছে না। দূরে দূরে থাকছে সে। লজ্জা পাচ্ছে যখনই মনে পড়ছে সেই ছবির কথা তক্ষুণি লজ্জায় সে আষ্টেপৃষ্ঠে যাচ্ছে। একটু আগেই নির্ভাণ ভাই ছাঁদে গিয়েছে। আর সানায়া সুযোগ পেয়ে লিভিং রুমে রাতের খাবার খেতে এসছে। তার এই মূহুর্তে মানুষ টার মুখোমুখি হওয়া একপ্রকার নিজের সাথে যুদ্ধ করে জয়ী হওয়া।

“আচ্ছা মামা।”

মামার আদেশ উপেক্ষা করা অভদ্রতা। এদিকে আবার সানায়া খুব ভদ্র। মামাদের সাথে সম্পর্ক বেশ মধুর। সে গুটি গুটি পায়ে সিঁড়ি বেয়ে ছাঁদের দরজা পর্যন্ত পোঁছাল। নির্ভাণ ফ্লোরে বসে আছে। সানায়ার বুকের ভেতর ধুকপুক ধুকপুক করছে। দুরুদুরু বুকে সে নির্ভাণের সামনে এসে দাঁড়াল। মাথা নুইয়ে দেখলো গিটার রেলিঙের সাথে হেলান দিয়ে রাখা। যেমন করে হেলান দিয়ে বসা নির্ভাণ। কালো শার্ট গায়ে বুকের বাটন দুটো সব সময় খোলা থাকলেও আজ তিনটি। বুকের উপরিভাগ প্রায় উন্মুক্ত। আবছা আলোয়ে আরও ভয়াবহ সুন্দর দেখাচ্ছে মানুষ টাকে।

দৃষ্টি সংযত করে সে। লম্বা শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করে। মিইয়ে আসা গলায় বলে, “মামা ডাকছে আপনাকে।”

“বোস এখানে।”

নির্ভাণের শান্ত গম্ভীর কণ্ঠ। হুকুমের বার্তা সানায়ার কানে পৌঁছাতেই তার হাঁটু কাপে ক্ষণেক্ষণে। কী আশ্চর্য! চোয়াল ও কাঁপছে। তবুও মন টা বড্ড বেহায়া। মস্তিষ্ক না করলে-ও রাতের আঁধারে প্রিয় মানুষ টার পাশে বসার লোভ সামলাতে হিমশিম খেয়ে বসলো গুটিয়ে। নির্ভাণের হাত পেছনে ছড়ানো। সানায়া নিজের হাত রাখতে গিয়ে সংস্পর্শ পেলো দানবীয় হাতের। না চাইতেও কনিষ্ঠ আঙুল টা ছুঁয়ে দিলো সেই হাত। সাথে সাথেই শুরু হলো বুকের ভেতর আন্দোলন। দ্রিম দ্রিম শব্দ সে শুনতে পেলো স্বয়ং কানে। কার হৃৎস্পন্দনের ধুকপুকানি? নির্ভাণ ভাই?

“ঘুরতে গিয়ে এমন কিছু করবি না যাতে করে তোর এবং আমার দুজনেরই আনন্দ নষ্ট হয়।”

গম্ভীর কিন্তু অতি শীতল সেই সুর। সানায়ার অস্বস্তি, লজ্জায় ডুবে থাকা চোখ দু’টো ফ্যালফ্যাল হয়ে আসে। সে কী সত্যি অনেক বেশি ছন্নছাড়া? নির্ভাণ ভাই কে কী খুব বেশি বিরক্ত করে ফেলে! তবে কেনো তিনি এমন কথা বলে?

“নিচে যা।”

দ্বিতীয় দফায় নির্ভাণের গম্ভীর স্বর শোনা যায়। সানায়া ওঠে দাঁড়াল। খুব দ্রুত আড়ালে চলে গেলো। ও যেতেই নির্ভাণ দীর্ঘ শ্বাস ফেলে গিটার নিয়ে ছাঁদ থেকে নেমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরলো।

——

“আম্মু!” সানায়া দরজায় দাঁড়িয়ে ডাকলো মাকে। আরোরা সব সময়ের মতো বই হাতে ইজি চেয়ারে বসে ছিলেন। মেয়ের ডাক অনুসরণ করে দরজায় তাকালেন। শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করলেন,

“কিছু বলবে?”

সানায়ার এই দুটো বাক্যতেই কান্না পায়। মা কেনো তাকে এতো পর পর করে? তার তো মায়ের চেয়ে আপন আর কেউ না। তবে কেনো মা তাদের সম্পর্ক টা এতো জটিল করে রেখেছেন? মেয়ে কী কোনো কারণ ছাড়া মায়ের দুয়ারে আসতে পারে না? সে নিজেকে সামলায়। কান্না গিলে চোখ ভরতি জল আড়াল করার নিরুত্তাপ চেষ্টা করতে করতে আবদার করলো,,

“তুমিও চলো না আমাদের সাথে।”

“না।” আরোরা এক বাক্যে মেয়ের আবদার মাটিতে মিশিয়ে দিলেন। থেমে আবারও প্রতিবারের ন্যায় বলেন, “ওখানে গিয়ে একদম কোনো অঘটন ঘটাবে না। আর এমন কিছু করো না যাতে করে কেউ আমাকে নিয়ে বাজে কথা বলার সুযোগ পায়।”

সানায়া মায়ের কথায় মাথা নাড়ে। দাদি আর মা ছাড়া বাকি সবাই যাচ্ছে। সানায়া মায়ের রুম থেকে ফেরার পথে দেখা হলো তুষারের সাথে। তুষার ওকে উপেক্ষা করে। সানায়াও মাথা নুইয়ে নিজের রুমের কাছাকাছি যেতেই শুনতে পায় তুষার ডাকছে। সে পেছনে ফিরে। নিজেকে যথেষ্ট স্বাভাবিক দেখানোর ব্যার্থ চেষ্টা করে মৃদু হেঁসে বললো,”জি ভাইয়া।”

“তুমি কী আমাকে একটা হেল্প করবে?”

“কী সাহায্য বলুন। অবশ্যই করবো।”

তুষার ওকে ইশারায় তাকে ফলো করতে বলে। সানায়া না চাই তেও তুষারের পেছন পেছন আসে। তুষার একদম গার্ডেনে এসে থামলো। আর নিজের পকেট থেকে ফোন বের করলো। ফোনে তখনও কল বেজে যাচ্ছে। সানায়া ভ্রু কুঁচকে নেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তুষার কল রিসিভ করে। সানায়া বিস্মিত। চমকে সে সামনে তাকিয়ে দেখলো তুষারের ফোনের স্ক্রিনে চমৎকার সুন্দর দেখতে একটা মেয়ে। এমন মেয়ে সাধারণত টিভিতে ড্রামায় দেখা যায়। সানায়া অবাক দৃষ্টিতে মেয়ে টার মুখ পানে তাকিয়ে যখন এসব ভাবছিল তখনই ভেসে এলো মেয়ে টার অভিমানী অভিযোগ নিয়ে বলা কিছু ইংরেজি শব্দ,

“হোয়াই আর ইউ অ্যাভয়ডিং মি তুষ?”

“আই অলরেডি টোল্ড ইউ, আই হ্যাভ আ গার্লফ্রেন্ড।” তুষার আঁড়চোখে নিজের পাশে দাঁড়ানো সানায়ার দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে জবাব দেয়। সানায়া অবাক। চোখ দু’টো যেনো এক্ষুনি বেরিয়ে আসবে। এরমধ্যে মেয়ে টার কন্ঠে আবারও ভেসে আসে,

“বাট ইউ নেভার শোড মি!” মেয়ে টা কথা শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে তুষার আচমকাই হেঁচকা টানে সানায়া কে নিজের সাথে ঘনিষ্ঠ করে নিলো। সানায়া চমকায়, থমকায়। কেঁপে ওঠে আচমকাই তুষারের সংস্পর্শে এসে। তুষারের হাতটা দৃঢ়ভাবে সানায়ার কাঁধে আঁটকে যায়। সানায়া সেদিকে আঁড়চোখে তাকাতেই গিয়ে তুষারের কথায় সেটাও আর হয়ে ওঠে না। তার আগেই তুষারের মুখ দিয়ে গড়গড়িয়ে বেরিয়ে আসে,

“আই ডোন্ট নিড টু প্রুভ ইট টু ইউ। বাট শি’জ দ্য ওয়ান।”

সানায়ার চোখ টলমল করে। কী হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারে না। তুষার ভাই কী বলছে এসব? তুষার কল কেটে দেয় সাথে সাথে এবং সে-ই সাথে সানায়ার কাঁধ ছেড়ে দিতেই সানায়া পড়ে যাচ্ছিল। তবে তার আগেই কেউ ওকে বুকে আগলে নিলো। সানায়ার শরীর থরথর করে কাঁপছে। পরে যাওয়ার ভয়ে না-কি একটু আগে হওয়া ঘটনা কেন্দ্র করে সে বুঝে না। ক্রন্দনরত দৃষ্টি তুলে যখন সামনে চাইলো তখন দেখলো নির্ভাণের অগ্নি চক্ষু জ্বলজ্বল করছে। কপালের রগ গুলো টানটান হয়ে ভেসে ওঠেছে। চোয়াল শক্ত। সানায়ার যেনো এতো সময়ের আতংকের চেয়ে এই চোখ দুটোই সব ভয় কে টেক্কা দিতে যথেষ্ট ছিলো। নির্ভাণ ওকে মিনিট বেরুবার আগেই ছেড়ে দিলো। আর এক কদম সামনে এগিয়ে তুষারের নাক বরাবর পাঞ্চ মারল। তুষার শান্ত। সোজা হয়ে দাঁড়ানোর আগে নির্ভাণ আবারও একই কাজ করলো। সানায়া ভয়ে হাত চেপে ধরে মুখে। তুষার মুচকি হেসে এবার নির্ভাণের রাগ উবে যাওয়ার অপেক্ষা করে বললো, “আমি জানতাম তুমি জেলাস হবে। অ্যান্ড ফাইনালি। আর এমনিতেও আমার কাজ হয়ে গেছে।”

তুষারের নাক বেয়ে গড়িয়ে পড়া রক্ত হাতের উলটো পিঠ দিয়ে মুছতে মুছতে চলে গেলো বাড়ির ভেতর। নির্ভাণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। যখনই সানায়া কে তুষারের আশেপাশে দেখে তার সহ্য হয়না। সানায়া ভয়ে ভয়ে এগিয়ে এসে নির্ভাণের হাত টা ধরলো। সামন্য থেঁতলে গিয়েছে দুই আঘাতে। সানায়ার কান্না পায়। সত্যি এবার নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। তার জন্য শুধু ঝামেলাই হচ্ছে কখনো বাইরে কখনো ঘরে। তুষারের ভাইয়ের হেল্পের পূর্ণ অর্থ সে এখন বুঝতে পারছে। হয়তো ওই মেয়ের পিছু ছাড়াতেই এমন অভিনয় করেছে। কিন্তু এটা আগে বলে দিলে সে এমন আতংকিত হতো না আর না নির্ভাণ ভাই এমন ক্ষেপে যেতো।

সানায়ার ভাবনার মাঝেই নির্ভাণ ওকে ধাক্কা মারলো। সানায়া হঠাৎ ধাক্কায় তাল সামলাতে না পেরে পুলে পড়ে গেলো। নির্ভাণ যেনো ইচ্ছে করে ধাক্কা দিয়েছে। তার কোনো হেলদোল নেই। সে নিজের গা থেকে থ্রি-পিস স্যুটের জ্যাকেট খুলে পাড়ে রেখে বললো, “এটা পরে রুমে যাবি।”

“ইচ্ছে করছে এক্ষুনি গোসল করিয়ে দেই।” আজ যেনো সে নিজের ইচ্ছে পূরণ করতে পেরে খুশি। সে খুশ মেজাজে বাড়ির দিকে চলে গেলো। বিস্ময়কর দৃষ্টিতে সানায়া তখনও মানুষ টার যাওয়ার পানে চেয়ে রইলো।

#চলবে…..

[অনেকদিন অপেক্ষা করানোর জন্য দুঃখিত, ভীষণ দুঃখিত। ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here