আপনার_হৃদয়ে_আমি #পর্ব_৩

0
40

#আপনার_হৃদয়ে_আমি
#পর্ব_৩
#জান্নাত_সুলতানা

“তুমি তো সাইন্টিস্ট হয়ে গেলে আপু।”

সেহেরর কথায় দুম করে ওর পিঠে কিল বসিয়ে দিলো আফি। পাশ থেকে প্রিয়ম চোখ কটমট করে তাকিয়ে বলে উঠলো,

“তোর মেয়ে মানুষের সাথে কী রে? যা এখান থেকে।”

সেহের মূহুর্তেই মুখ গম্ভীর করে নিলো। বললো, “আসবো না কিছুদিন পর থেকে আর।”

“কিছুদিন পর কেনো? আজ থেকে যা।”

আফি ভ্রু কুঁচকে বললো। সেহের বেশ ভাব নিয়ে ওঠে দাঁড়াল। চোখের চশমা টা ঠিক করতে করতে বলে উঠলো,

“কিছুদিন পর মেঝো ভাইয়া দেশে আসবে তখন থেকে আর তোমাদের মতো ঝগরুটে মেয়েদের কাছে আসবো না আমি।”

“কিইই বললি? এই দাঁড়া তুই।” আফি রেগে-মেগে ওর পেছনে ছুটতে যাচ্ছিল তবে পেছন থেকে সানায়া আফির হাত টেনে ধরলো। ওর মুখে হাসি দেখে প্রিয়ম আফি দুজনেই ভ্রু কুঁচকে নিলো। সানায়া তৎক্ষনাৎ থতমত খেয়ে বললো, “ছোট মানুষ। সব কথা ধরতে নেই আপু।”

আফি প্রিয়ম দুজনেই একে-অপরের মুখের দিকে তাকায়। ঝগড়া তো তারা এই মেয়ে কে নিয়ে মজা নিচ্ছিল বলেই শুরু করেছে। আর এখন? ওরা দু’জন পরপর এক সাথে বলে উঠলো, “যার জন্য চুরি করি সেই বলে চোর।”

সানায়া মেকি হাসে। সেহেরের জন্য অদ্ভুত টান ওর। ছেলেটা স্কুলের টপার। পরীক্ষার রেজাল্ট থেকে শুরু করে ঈদের নতুন জামাটা পর্যন্ত এনে সানায়া কে সবার আগে দেখাবে। যেকোনো কিছু হোক সে সানায়ার সাপোর্টে থাকবে। যদিও ওপর ওপর ভাব এমন করবে যেনো সানায়া কে সে সহ্যই করতে পারে না।

—–

ফারাজ সিদ্দিকী খুবই ব্যাস্ত মানুষ। রাজনীতির কারণে সারাদিন বাইরে থাকতে হয়। তাই পরিবারের সময় দিতে পারে না তেমন। বর্তমানে তিনি আজকের নিউজপেপার পড়ছেন। রাতের খাবার খেতে কেউ তখনও আসেনি। নির্ভাণ সোফায় বসা ফারাজ সিদ্দিকীর বিপরীত পাশে বসলো। ফারাজ সিদ্দিকী মৃদু হেঁসে খবরের কাগজ থেকে দৃষ্টি তুলে নির্ভাণের দিকে তাকলো।

“মেঝো আব্বু তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।”

নির্ভাণ ভণিতা না করে সোজাসুজি বলে। ফারাজ সিদ্দিকী খুবই মিষ্টভাষী মানুষ। বাড়িতে নির্ভাণ এমন একটা মানুষ যার কথা সবাই শুনে। যেকোনো বিষয়ে তার মতামত প্রাধান্য দেওয়া হয় বেশি। তবে ফারাজ সিদ্দিকী রাজনীতিতে বাড়ির কাউকে জড়াতে নারাজ। এটা তিনি নিজের প্রফেশনাল আলাদা করে রাখেন সর্বদা। আর ফারাজ সিদ্দিকী কে দেখে কেউ এই রাজনীতিতে জড়াতে রাজি নয়। ওনার একমাত্র ছেলেও বিদেশে পড়াশোনার জন্য। নির্ভাণ নিজেও এসব জড়াত না। তবে এবার ব্যাপার টা বাড়াবাড়ি রকমের পর্যায়ে চলে গেছে। তাই তাকেও নাক গলাতে হচ্ছে। ফারাজ নিউজ পেপার টা ভাজ করে সেন্টার টেবিলের ওপর রেখে বলে উঠলো, “বলো মাই সান।”

“কলেজের পেছনের ওই মার্কেটটা,,,”

তিনি নির্ভাণ কে কথা সম্পূর্ণ করতে দিলেন না। ঠোঁট এলিয়ে ফিচলে হাসি দেন। বলেন, “এসব নিয়ে তুমি ভেবো না। আমি সামলে নেবো।”

“আপনি ঠিক করছেন না কাজটা।”

“রাজনীতি ঠিকবেঠিক খুঁজে হয় না লিটল সান।”

নির্ভাণ অবাক দৃষ্টিতে তাকায়। ফারাজ সিদ্দিকী হাসেন। কলেজের পেছনে মার্কেটটা। যায়গাটার দাম এতো চড়া। আর এইজন্য যারা দুর্বল তাদের জমি গুলো ওনার ছেলেপুলেরা হাতে নিচ্ছে। এতোদিন ফারাজ সিদ্দিকীর হাত বেশ লম্বা হয়েছে। তাই এই অন্যায় করতে গিয়ে সমস্যা তেমন হচ্ছে না।

—–

স্কুলের জন্য রেডি হচ্ছে সানায়া। সাদা পায়জামা। সাদা ভি বেইল সাথে স্কাই রঙের জামা। ওড়না তাদের স্কুলে পড়তেই হবে এমন ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। ইচ্ছা অনুযায়ী সবাই পড়ে এটা। তবে সানায়া কোনোদিন হিজাব ছাড়া স্কুল যায়নি। মূলত সুযোগ কিংবা ঘর থেকে অনুমতি সে কখনই পায়নি। হিজাব বাঁধতে বাঁধতে নজর গেলো টেবিলের ওপর থাকা লিপস্টিকের দিকে। গোলাপি রঙের লিপস্টিক একটা। গত সপ্তাহে ওই জুনিয়র ছেলেটা দিয়েছিলো। এমনই এমনই না। প্রপোজ করেছে ছেলেটা এই লিপস্টিক দিয়ে। রিক্তা তো তাই বললো। কিশোরী লিপস্টিক হাতে নিলো। ঠোঁটে লাগিয়ে নিলো সন্তপর্ণে। হালকা গোলাপি ঠোঁট গাঢ় গোলাপি হতে সময় নিলো না। ঠোঁটের সৌন্দর্য দেখে সানায়ার চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে। হিজাবের সামনের অংশ তুলে মুখোশ টাও বেঁধে নিলো। বাড়ি থেকে বেরিয়েই খুলে নিবে মনঃস্থির করলো।

সকাল সকাল ওয়াকআউট শেষ বাইরে গিয়েছিল নির্ভাণ। এরমধ্যে কল আসায় বাগানের সাইডে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো সে। তখন স্কুল ড্রেসে সানায়া কে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে যেতে দেখে ভ্রু কুঁচকে নিলো নির্ভাণ। কল কেটে দিয়ে ডেকে উঠলো, “সানা!”

নিজের নাম টা নির্ভাণের মুখে শোনামাত্র থমকে দাঁড়াল সানায়া। ভয়ে তৎক্ষনাৎ কলিজা টা চিনচিন করে ব্যাথা করতে শুরু করলো। ছোট করে উত্তর করলো, “জ-জি ভাইয়া।” নির্ভাণ ততক্ষণে এসে ওর সামনে দাঁড়িয়েছে। সানায়া সামন্য মাথা ঝুঁকে রেখে মানুষ টার কোমর পর্যন্ত দেখতে পেলো। কালো ট্রাউজার পরনে। সাদা টি-শার্ট গায়ে আছে। হাতে একটা সাদা টাওয়াল। অন্য হাতে একটা পানির পট। সানায়া ঢোক গিলে আস্তে। এই যুবককে দেখলেই তার ভয়ে হাতপা কাপে তেমন বিরক্ত। কেন সব সময় তাকে নিয়েই পরে থাকতে হবে ওনার? রাগ হলে-ও সে জোর করে নিজেকে সামলে নেয়। তবে এই মূহুর্তে সে ভয় পাচ্ছে। কেননা সে যে আজ চুরি করেছে। তাই কোনো ভাবেই সেটা বুঝতে দেয়া যাবে না। সানায়া অপেক্ষা করলো। এক মিনিট। এরমধ্যে নির্ভাণ গম্ভীর স্বরে বললো, “মুখ খুল।” কণ্ঠে আদেশ যুবকের। সানায়া হতবিহ্বল হয়ে যায়। চমকায়। কিছুতেই এখন মুখের কাপড় সরানো যাবে না।

“কথা কানে যায় না, হুঁ? হিজাব খুল মুখ থেকে।”

দাঁতে দাঁত চেপে নির্ভাণ আবার বলে। সানায়া কাঁপা কাঁপা হাতে মুখ থেকে কাপড় সরায়। নির্ভাণ সাথে সাথে বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে নেয়।

“স্কুল যাচ্ছিস না-কি বিয়ে বাড়ি?”

“আপনি যেখানে মনে করেন।” মনে মনে কথাটা বলেই সানায়া দৃষ্টি তুলে নির্ভাণের দিকে তাকালো। নির্ভাণ নিজের হাতের টাওয়াল টা ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে গুরুগম্ভীর স্বরে বলে উঠলো, “মুছে ফেল।”

সানায়ার রাগ হলো। তবুও সে কিছু সময় চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে নির্ভাণের হাত থেকে টাওয়াল টা নিলো আর ঠোঁটের লিপস্টিপ মুছে ফেললো।

“এখন যা।”

সানায়া টাওয়াল টা নির্ভাণের হাতে দিতেই নির্ভাণ সেটা কাঁধের ওপর রেখে দিলো। আর ট্রাউজারের পকেট থেকে ফোন বের করে দৃষ্টি সেখানে নিবদ্ধ করে সামনের দিকে পা বাড়াল। সানায়া রাগ হলো। কিন্তু তবুও সে চুপচাপ বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে।

#চলবে……

[গল্প টা একদিন পরপর পাবেন আবার মাঝেমধ্যে গ্যাপ ও যেতে পারে। তাই গল্প না পেলে কেউ দুঃখ পাবেন না। ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here