মেহবুব লেখনীতে:‎#তাবাসসুম_তোয়া ১৩. (প্রথমাংশ)

0
27

‎#মেহবুব
লেখনীতে:‎#তাবাসসুম_তোয়া
১৩. (প্রথমাংশ)

‎তারপর কেটে গেল কতগুলো দিন,মাস,বছর! আমি সেবার দু সপ্তাহ পর ঢাকায় ফিরলাম। আম্মু রেখে গেলেন। আর উনি?
‎উনি তো আরোও আগেই আমাকে বিদায় জানিয়ে পাড়ি জমালেন উনার ইউনিটে,বান্দরবান ক্যান্টনমেন্টে।

‎প্রত্যেকবার ফিরে যাবার সময়ই উনি আমাকে, আম্মুকে পুরোপুরি বিদায় জানিয়ে যান।
‎এটা উনার অভ্যাস! আর আমি কেঁদেকেটে একাকার হই! আমি তার থেকে বিদায় নিতে চাইতাম না একটুও। কিন্তু উনি কি মানবেন? উনি খুব সুন্দর ভাবে বলে যেতেন সেই ধারালো কথা গুলো। যেগুলো ক্ষতবিক্ষত করতো আমাকে। আমি চাইতাম সব ছেড়ে ছুড়ে যতদিন বেঁচে আছি তার পাশেই থাকবো, কিন্তু উনি! পাহাড়ি মানুষটা পাহাড়ের মতোই অবিচল!

‎”পড়াশোনা শেষ করে আমার কাছে এসো।”

‎ কিন্তু এটা যে কেন শেষ হয় না! এতো বছর লাগে পড়াশোনা শেষ হতে! আমি ত্যাক্ত বিরক্ত!

‎সেবার ফিরলাম তো কিন্তু ফিরলো কি আমার মন? ক্লাস পরীক্ষায় ব্যস্ত সময় কাটালেও আমার মন পড়ে থাকলো বান্দরবানের অফিসার্স মেসের সেই ছোট্ট রুমটিতে! মানুষটা কি করে! মানুষটা কই! শুধু ঐ চোখ জোড়া দেখতে ইচ্ছে হয়! যে চোখ জোড়ায় আমার রাজ্যের জড়তা, লজ্জা! অথচ সামনে না থাকলে বারবার ঐ চোখ জোড়াকেই মিস করি। ঐ ধারালো চাহুনিকে! প্রথম প্রথম তো ভীষণ কাঁদতাম! কেন জানি না, ফোন দিলে যখন কথা বলতে পারতাম না তখন বুঝতেন আমি কাঁদছি! আমাকে শান্ত করতে কত কথা যে বলে যেতেন! সেসব কথা এঁকে যেত আমার মানসপটে!

‎দেড় মাসের মাথায় যেদিন সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হলো,ফ্যাকাল্টি বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি বেয়ে নামছি তখনই হাস্যরত উনাকে দেখলাম বিল্ডিংয়ের সামনেই! আমি উন্মাদ হয়ে গেলাম! দ্রুত সিড়ি বেয়ে নেমে ঝাঁপ দিয়ে পড়লাম ঐ সেই পরম আকাঙ্ক্ষার জায়গাটাতে! আমি আবারও কাঁদলাম! উনি বললেন

‎”এই তো আমি, তবে কেন এই কান্নাকাটি মেহবুব! ”

‎সেই পড়ন্ত সন্ধ্যায় তেমন কেউ ছিলো না বিল্ডিংয়ের সামনে তবুও তিনি আমাকে নামিয়ে দিলেন। চুপচাপ বললেন,

‎”পাবলিক স্পেস”

‎তারপর আমাকে নিয়ে চললেন উনার হোটেলে, যেখানে উনি উঠেছেন! স্বপ্নের মতো কাটলো দুটো দিন! আমাকে খুলনা পৌছে দিয়ে উনি ফিরলেন বান্দরবান।

‎তারপর মাস ছয় পর উনাকে না জানিয়ে একদিন বান্দরবান চলে গেলাম। ক্যান্টনমেন্টে আমাকে সাহায্য করলেন নির্ঝর ভাইয়া। উনি তখনও কোয়াটার পাননি, নেননি! পরিবার নেই কোয়াটার কেন! অফিসার্স মেসেই থাকতেন। নির্ঝর ভাইয়া আমাকে উনার রুমের চাবি এবং মেস কমান্ডারের কাছ থেকে পারমিশন ম্যানেজ করে দিলেন!

‎উনি আসার আগে লুকিয়ে থাকলাম, উনি গেট খুলেই যখন আমাকে আবিষ্কার করলেন, পুরো শকড্ হয়ে তাকিয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ, চোখেমুখে কি অপার বিস্ময় !! আমার স্বপ্নের মানুষটার সেই স্তব্ধ হয়ে যাওয়া রুপটা আমার এত্তো এত্তো ভালো লাগলো!
‎আমি হেসে চললাম অবিরত! তারপর স্তব্ধতা কাটিয়ে উনি আমাকে তুলে নিয়ে সাঁই সাঁই ঘোরালেন! উনার সেই পাগলা হাওয়ার ভেসে গেলাম আমি! ভেসে গেল দীর্ঘ প্রতিক্ষা!

‎তারপর কি সুন্দর কয়েকটা দিন। একদম সোনার খাঁচায় বন্দি করে রাখার মতোই। উনি ছুটি নিয়ে আমাকে ঘুরিয়ে নিয়ে এলেন নীলগিরি, নীলাচল, চিম্বুক পাহাড়, রুমা বগা লেক।

‎আমি আমার আজন্মকালের সাথীর কেনু আঙ্গুল ধরে ঘুরে বেড়ালাম জীবনের এই পথ। প্রাগৈতিহাসিক যুগের গুহা থেকে শুরু করে পাহাড় নদী গিরিপথ ছাড়িয়ে হাজার হাজার মাইল! উনি উনার এক হাতের সাহায্য আমাকে কোলে নিয়ে হেঁটে গেলেন কতশত রাস্তা! এ পাহাড় থেকে সে পাহাড়! এই ঝর্ণা থেকে ঐ নদী। নিজ হাতে নৌকায় বয়ে নিয়ে চললেন আমার জীবন তরীর অসাধারণ মাঝি!

‎সেবার সবচেয়ে ভালো লেগেছিলো হর্স রাইডিং।

‎আর্মি ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাবের সেই স্নিগ্ধ বিকেলটা ছিলো জীবনের সবচেয়ে চমকপ্রদ বিকেল। আমি প্রথমে ভাবতেও পারিনি উনার পরিকল্পনা কি।
যখন একজন সৈনিক একটা উজ্জ্বল বাদামী ঘোড়া নিয়ে এগিয়ে এলো, উনার দিকে রাইডিং হেলমেটটা এগিয়ে দিতেই উনি পরে নিলেন আর ঝাঁপ দিয়ে উঠে পড়লেন বাদামী ঘোড়াটার পিঠে, সেটা দেখেই আমার হুশ উড়ে গেল।
‎উনি আমার ফ্যাকাসে মুখ দেখে মিষ্টি করে হেসে হাত বাড়িয়ে দিলেন। আমি ধরলাম না। আমি ভয় পাচ্ছিলাম ভীষণ সাথে উচ্ছ্বাস, নতুন চমক!! বিকেলের নরম সোনালী রোদে চিকচিক করছিলো ঘোড়ার পিঠ! উনি বললেন,

‎” Don’t’ move, stay right here, I’m coming”

‎বলেই ঘোড়া ছুটিয়ে দিলেন ক্লাবের ট্র্যাকে। ঘন গাছপালায় ঘেরা শান্ত শীতল সে ট্র্যাক!
‎আমি তাকিয়ে দেখলাম,

‎তেজস্বী সেই নওজোয়ান ঘোড়সওয়ার! যে যুগ যুগ ধরে ছুটে বেড়িয়েছে এই পৃথিবীর আনাচেকানাচে! ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে গেছে সকল মিথ্যার দূর্গ সেই নাঙ্গা তলোয়ার হাতেই!

‎আমি স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকলাম আমার স্বপ্নের পুরুষের দিকে! এটা কি সত্যিই উনি? আমার আহমেদ আল তারিক? এ যে একদম ভিন্ন রুপের মানুষ! যে রুপ আমি দেখিনি কখনও!

‎উনি মূহুর্তেই চোখের আড়াল হয়ে গেলেন,
‎আমি দাড়িয়ে থাকলাম দুরুদুরু বুকে, খানিকটা সময় পরই দেখলাম তীব্র বেগে ঘোড়া ছুটিয়ে আমার দিকেই এগিয়ে আসছেন। আমি ভয় পাচ্ছিলাম,
‎সৈনিক বললেন

‎”ম্যাডাম স্থানচ্যুত হবেন না, ভয় নেই স্যার অনেক দক্ষ।”

‎বাতাসের বেগে ছুটে আমার সামনে এসে হালকা ঝুঁকে এক লহমায় উঠিয়ে নিলেন আমাকে উনার ডান হাতের সাহায্যে!
‎আঁকড়ে ধরলেন পরম প্রশান্তির জায়গাটাতে। আমি খুশিতে চিৎকার দিয়ে উঠলাম।
‎তারপর,
‎তারপর…শুধুই ছুটে চলা অবিরত!

‎আমি যখন ঠিকভাবে বসে উনাকে ধরে নিয়েছি আষ্টেপৃষ্টে তখন উনি ছেড়ে দিলেন আমায়। দুই হাতের সাহায্যে ছুটালেন ঘোড়ার লাগাম! ছুটলেন কত শত মাইল! আমি মুগ্ধ হয়ে, বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে থাকলাম। বেশ সময় পর উনি বললেন,
-“সামনে তাকাও, চোখ মেলো ”
তীব্র বাতাসে আমি ভেসে যাচ্ছিলাম। বাতাসের তোড়ে আমার চোখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল!

‎আমি জানি না আমাকে নিয়ে কোথায় ছুটলেন! আমার জানার দরকারও ছিলো না। আমি শুধু জানলাম আমি ভাসছি জীবনের ভেলায়! উড়ছি বাতাসের বেগে!
‎উনি এভাবে চলতে চলতে আরেকটা কথা বললেন, একজন মেজরকে দেখেছিলেন নিজ স্ত্রীকে এভাবে ঘোড়ায় চড়াতে। সেদিন উনার ইচ্ছা হয়েছিল, আল্লাহ যদি কখনও সুযোগ দেয় তবে আমাকে নিয়েও এমন ভাবে ঘোড়ায় চড়বেন। গতকাল চিম্বুক পাহাড়ে ঘোড়া দেখে উনার সে কথা স্মরণে এলো! আমি বললাম

-‎” যদি আমাদের বিয়ে না হতো? ”

‎ঐ ধারালো চোখের চাহুনি দিয়ে তাকিয়ে বললেন

-‎” কিভাবে হতো না বলো?
‎আমি কি তোমাকে অন্য কাউকে হতে দিতাম? ”

‎আমি সে চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম কি আত্মবিশ্বাস!
‎তারপর চোখের ইশারায় আকাশ দেখিয়ে বললেন

-‎”ঐ দরবারে আর্জি জানিয়ে রেখেছিলাম, উনি কি এই নগন্য বান্দার আর্জি ফেলতেন? ”

‎আমি বাতাসে ভাসছিলাম আর উনার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।

-‎” আর যদি মারা যেতাম তখন তুমি কি করতে সেটা তোমার ব্যাপার ছিলো!”

‎আমি আবারও কাঁদলাম! উনি আমার সে চোখের পানি ঝরতে দিলেন না! কি করলেন সেটা বলা যাবে না। উনি আমাকে নিয়ে চললেন পাহাড় পেরিয়ে অন্য পাহাড়ে। পাহাড়ি ঢালু রাস্তা বেয়ে নামার সময় ভীষণ ভয় লাগছিলো আমার। উনি আগলে নিলেন শক্ত করে,

-‎” আমি আছি তো ”

‎জীবনের এতো রং,রুপ,সতেজতা, প্রানবন্ততা! টগবগিয়ে ঘোড়ার পিঠে ছুটে চলার মধ্যে যে কি ছিলো! আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আমি অন্ততকাল ধরে যেন এটারই প্রতীক্ষায় ছিলাম! এই জীবনের! উনি আমাকে জীবনের সকল বৈচিত্র্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন! সকল আনন্দের সাথে সেতুবন্ধন তৈরি করে দিলেন! আমার সে উচ্ছ্বাসে উনি হলেন বিস্মিত! আমি বাকরুদ্ধ হয়ে থাকলাম!
‎জীবনের এতো আনন্দ! আল্লাহর সৃষ্টির কি অপার সৌন্দর্য্য, মহিমা। সবকিছু ভরিয়ে দিলো আমার জীবনের প্রতিটি কোণা!
‎আমরা দুজন নতশির নগন্য বান্দা সন্তুষ্ট চিত্তে সিজদাবনত পড়ে থাকলাম মহান রবের দরবারে!

‎ ‘আমাদেরকে আপনার করুনা থেকে কখনও নিরাশ করবেন না। কখনও মুখ ফিরিয়ে নিবেন না।’

‎বান্দরবন ট্রিপটা ছিল একরকমের অঘোষিত হানিমুন! আমি তাকে সারপ্রাইজ করতে এসে নিজে সারপ্রাইজড হয়ে ফিরে এলাম!
‎তবে সাবধান করলেন তাকে না জানিয়ে এতো বড় পদক্ষেপ আর কখনও যেন নেওয়া না হয়!


‎প্রত্যেকবার যখনই উনার সাথে দেখা হয় আমার কাছে মনে হয় ‘এ আমার নতুন বিয়ে!’
‎আমরা সবসময় থেকে গেলাম নিউলি ম্যারেড ক্যাপল!

‎এতোকিছুর মাঝে আমাদের যে ঝামেলা হয় না তা নয়। আমি তো এখন বেশ বিদ্রোহী! উনার মতে! মাঝে মাঝেই নাকি বিদ্রোহ ঘোষণা করি! তবে
‎প্রত্যেকবার পরাস্ত হই সেই দৃষ্টির কাছে! সেই বড় বড় অপরিসীম সুন্দর দুটো চোখ! উনিও যেন জানেন কিভাবে আমাকে পরাস্ত করতে হবে। যখন আর আমার সাথে পারেন না, তখন চুপচাপ আমার দুহাত চেপে ধরে সামনে বসে পড়েন! তারপর ঐ ভয়ংকর চোখ জোড়া দিয়ে তাকিয়ে থাকলেই আমি কুপোকাত !!
‎এখনও প্রতিবারই সেই লুকোচুরি খেলি! প্রথম প্রথম ভীষণ লজ্জা পেয়ে লুকোতাম কিন্তু যখন লজ্জা অনেকটা কমে গেছে, তখনও লুকাই কারন উনি ব্যাপারটা ভীষণ পছন্দ করেন। উনি খুঁজে হয়রান হন। কারন এখন আর আমি সেই অবোধ বালিকা নই! আমি এখন মেজরের স্ত্রী! বুদ্ধি বেড়েছে সাথে কর্মদক্ষতাও! এখন আমাকে খুঁজে পেতে তার বেশ বেগ পেতে হয়!

‎আমি উনার পছন্দের লিস্ট মুখস্থ করে ফেলেছি। প্রত্যেকবার সব গুলো কাজ আমি রিপিট করি! উনার মুখের ঐ তৃপ্তির হাসি দেখার জন্য! উনার মুখের ঐ প্রশান্তি হওয়ার জন্য!

‎প্রত্যেকবার আমি তাকে একটা বিষয় বোঝানোর চেষ্টা করতাম সে বুঝতে চাইতো না কখনই! এবং সে ব্যাপারে কথা বলতেও পছন্দ করতো না! একদম মিউট হয়ে থাকতো! বার বার আমার আকুতি তার কাছে প্রত্যাখ্যাত হতো!

‎কিন্তু প্রত্যেকবার বিদায় নেওয়ার সময় উনি যে কথা গুলো বলতেন তখন আমার মনে হতো আমার হাতে সময় কত কম! কিংবা আমার হাতে আর কোনদিনই সুযোগ আসবে না! আর তাই আমিও একবার করলাম বড় পাগলামি তাকে বুঝতে দিলাম না মোটেও! কিন্তু যখন সত্য প্রকাশিত হলো!
‎উনি ছুটে এলেন বান্দরবান থেকে একদম উদ্ভ্রান্তের মতোই!

‎সেইবার মাস খানেক পার হয়েছিল আমাকে হলে রেখে উনি ফিরেছেন। একদিন সেন্সলেস হয়ে পড়ে গেলাম। সানি জ্যোতিরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো। আম্মুকে ফোন দিলো,ফোন পেয়েই আম্মু যেন উড়ে এলেন! এই দিনের প্রতিক্ষায় যেন উনি ছিলেন। ডাক্তার বললো

-‎” প্রেসার ডাউন হয়ে সেন্সলেস”

‎তারপরও কিছু টেস্ট দিলো। টেস্টে ধরা পড়লো সেই সত্যিটা। আম্মু উনাকে কিচ্ছুটি বললেন না। কারন আম্মুও জানতেন উনি শুনলে খবর আছে! কারন একটাই!
‎আম্মু আমাকে খুলনা নিয়ে চলে এলেন। সেদিন রাতে যখন আমি আম্মুর রুমে এলাম, আম্মু ভিডিও কলে কথা বলছিলেন উনার সাথে,আমি বেখেয়ালে উনার ভিডিওর রেঞ্জের মধ্যে এসে পড়লাম, আমাকে দেখে ভীষণ অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,

-‎” ও এখানে কেন? কবে গেল? ক্লাস চলে না? কালকেও তো কথা হলো? ”

-‎”একটু অসুস্থ বাবা, তাই নিয়ে আসলাম, হলের খাবার খেতে পারে না, তাই একটু যত্ন আত্তি করে পাঠাবো! ”

‎বাপ্পি লুকোচুরির ব্যাপারটা জানতো না,সে কোথা থেকে উড়ে এসে তখন বাড়িতে ঢুকেছে। ভাইকে দেখেই বলে ফেললো

-‎” ভাইয়া চাচা হচ্ছি, আনন্দে তো আমার নাচতে ইচ্ছে করছে! তুমি এখনও ওখানে কিভাবে? ”

‎ব্যস একটা কথা! তারপর সব ঠান্ডা! আম্মু বাপ্পির পিঠে দিলেন এক ঘা! আমি একপাশ থেকে উনার থমথমে চেহারা দেখছি!
‎উনি শুধু আম্মুকে একবার জিজ্ঞাসা করলেন।

-‎” আম্মু কথাটা সত্যি? ”

‎আম্মু আমতাআমতা করে বললেন,

‎”আলহামদুলিল্লাহ আব্বু, আলহামদুলিল্লাহ পড়ো।”

‎উনি খট করে ফোনটা কেটে দিলেন।

‎পরদিন ভোরেই পৌঁছে গেলেন খুলনা! বলতে গেলে ছুটে এলেন বান্দরবান থেকে একদম উদ্ভ্রান্তের মতোই!

‎তারপর ড্রয়িং-এর সোফায় এসে বসে থাকলেন চুপচাপ। চেঞ্জ অব্দি করলেন না। আম্মু শরবত দিলেন, সেটাও খেলেন না। বসে থাকলেন চুপচাপ। আম্মু ছেলেকে স্বাভাবিক করতে বলে উঠলেন

-‎” হবু বাবা মিষ্টি বাদে বাসায় ফিরেছে! এটা কোন কথা!”

‎উনি আম্মুর দিকে এমন ভাবে তাকালেন! আম্মু আর কিচ্ছুটি বললেন না। রুমে চলে গেলেন। আমি তো ভীষণ ভয় পেয়ে গেলাম!
‎উনি ক্ষেপেছেন খুব! পুরোটাই আমার পাগলামি!
‎উনার ভয় আমাকে নিয়ে! আমার ওয়েট গেইন করা নিয়ে! এতো খাই সব খাবার কই যাই!
‎উনি বলেন ‘ এতো ক্যাডেট মানুষ করলাম আর স্ত্রীর ওয়েট গেইন করাতে পারলাম না! ‘
‎উনি বলেছিলেন অনার্স শেষ হোক আমিও ঢাকাতে আসি তারপর দেখা যাবে। কিন্তু আমি তা মানি নাই!

‎পুরো একটা সকাল ড্রয়িংরুমে বসে থেকে রুমে আসলেন। আমি ভয়ে জড়সড় হয়ে দাড়িয়ে ছিলাম। উনি আমার পাশে এসেই শক্ত করে আমাকে আগলে নিলেন সেই প্রথম দিনের মতোই! মাত্র কিছুক্ষণ! আজ আমার কান্না পেলো না। পেলাম ভয়। তখন আমার মনে হলো সিদ্ধান্তটা আসলেই হঠকারী হয়েছে। উনার অনুমতির প্রয়োজন ছিলো! তারপর আমার হাত ধরে আম্মুর রুমে নিয়ে আম্মুর হাতে দিয়ে বললেন,

‎” তোমার মেয়ে যেন আমার সামনে না আসে! কি করে বসবো বুঝতে পারছি না! ”


‎আগামী পর্বে সমাপ্ত ….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here