হিপনোটাইজ #তাজনিন_তায়্যিবা পর্ব:21

0
36

#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:21
⭕পূনর্জন্ম বা টাইম ট্রাবল কোন ধর্মে গ্রহনযোগ্য
___________________________________________ নয়,এটি কেবল রুপকথার উপমা।
_______________________________⭕

সাল 1947
‘দ্যা ম্যান্ডেট ‘ মহলের নির্মল বাতাসে আজ সুখ সুখ গন্ধ।চারদিক মো মো করছে কাঁচা ফুলের সুবাস।পুরো মহল সেজে উঠেছে নতুন সাজে।মহলের প্রত্যেকটি কোণা প্রান পেয়েছে নতুন করে, অথচ অন্ধকার ঘরে হাঁটুর উপর কপাল ঠেকিয়ে বসে থাকা ফ্লোরেন্সার মনের কোণে জমেছে বাদল।

ঠিক তিনদিন পর আয়োজিত হবে প্রিন্স জোসেফ এবং জুবাইদার বিয়ের অনুষ্ঠান।রানী ক্যাথরিন নিজে দায়িত্ব নিয়ে এই বিয়ের কাজ সারার জন্য মড়িয়া হয়ে উঠেছেন।তাতে অবশ্য প্রিন্স জোসেফ বেশ খুশি,তার জীবনের কোন এক পর্যায়ে তার মায়ের অতি আগ্রহ এই প্রথম দেখলো সে,তাই মায়ের মুখের উপর অমত পোষন করে নি,নির্দিধায় সম্মতি দিয়েছে বিবাহে।

মহলের ফটক দরজার কাছে বসে গাঁধা ফুলের মালা গাঁথছে নাবহা,তার অন্যমনস্ক দৃষ্টি নিবদ্ধ সুঁই সুতোর খেলায়।নিপুণ দক্ষতার সাথে একের পর এক গেঁথে যাচ্ছে হলুদ ফুলের মালা।
কোন এক নাম না জানা কারণে প্রিন্স জোসেফ এসে দাড়ালো সেখানে,চারদিকে নজর বুলিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

“দাসী ফ্লোরেন্সা কোথায়?”

প্রিন্স জোসেফের কড়া কন্ঠে হকচকালো নাবহা,অতিরিক্ত চমকে সুঁচ ফুটে গেলো নরম আঙুলের আঁগায়,
“উফফ” অস্ফুটে শব্দ বের করে মুহুর্তেই যন্ত্রণা গিলে নিলো মেয়েটা, প্রিন্স জোসেফের সামনে চিবুক ঝুঁকিয়ে বললো,

“পরি বোনের শরীর ভালো নেই অসুস্থ। ”

প্রিন্স জোসেফ চুপচাপ শুনলো নাবহার উত্তর,তবে প্রতিক্রিয়া বা প্রতিত্তোর কোনটাই করলো না, নিরবে প্রস্থান করলো সে স্থান।

_____________

ফ্লোরেন্সার ঘর থেকে ভেসে আসছে মৃদু কম্পনের শব্দ।নিশ্চিত কান্নার তোপে কম্পন তুলছে শরীর।প্রিন্স জোসেফ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো ফ্লোরেন্সার ঘরের সামনে।আজ আর সাথে প্রহরী নিয়ে আসে নি,ভাবগতিকও বুঝে উঠা মুশকিল,ফ্লোরেন্সার ঘরের সামনে কি কাজে এসেছে সে কারণ বুঝি সে নিজেও জানে না।

ঘরের ভেতর এখনো একইভাবে বসে আছে ফ্লোরেন্সা,দুই হাঁটু ভাজ করে মাথাটা গুজে রেখেছে সেথায়।পুরো ঘরটা অন্ধকার করে রেখেছে ইচ্ছে করেই,যেখানে তার সম্পূর্ণ জীবন অন্ধকারে তলিয়ে গিয়েছে সেখানে ঘরের ভেতর অকৃত্রিম আলোর প্রয়োজন বোধ করে না সে।

খুব মনে পড়ছে বাবা মায়ের কথা, আইরিশ ভাইকে তো ভুলতেই পারে না এক মূহুর্ত।তবে কখনো কখনো সুফির কথা ভাবলেই মনে প্রশান্তি আসে, যত যাই হোক, সুফি আর আইরিশ ভাইয়ের মাঝখান থেকে সরে যাওয়াটা তো হলো, এখন নিশ্চয়ই আইরিশ ভাই সুফিকে ভালোবাসবে।কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই হটাৎ করে দরজা খুলে যাওয়ার ক্যাচ ক্যাচ আওয়াজ কানে এলো ফ্লোরেন্সার।সাথে কক্ষের অন্ধকার দূর হলো নিমিষেই।

ফ্লোরেন্সা মাথা তুললো না,সেই একইভাবে বসে রইলো তখনও, ভাবলো নাবহা এসেছে বোধহয়।ফ্লোরেন্সা মুখ গুযে থাকা অবস্থায়ই নাক টানলো,রিনরিনিয়ে বললো,

“দরজা টা লাগিয়ে দাও নাবহা, আলোতে দম বন্ধ হয়ে আসে আমার।”

প্রিন্স জোসেফ চোখ ছোট ছোট করে তাকালো ফ্লোরেন্সার দিকে,তাকিয়েই রইলো কয়েক পল,তারপর চুপচাপ বন্ধ করলো দরজা, মনে মনে বিরবির করে বললো,

“কি স্পর্ধা তোমার মেয়ে, প্রিন্স জোসেফের উপর হুকুম জারি করো অথচ প্রিন্স জোসেফ তোমার বেলায় আনুগত্য স্বীকার করতে প্রস্তুত।তুমি সাক্ষাৎ কোন জাদুকন্যা।”

“ওই জালিম পুরুষ কি খুব খুশি নাবহা?” প্রিন্স জোসেফের ভাবনার মাঝেই প্রশ্ন করে বসলো ফ্লোরেন্সা।

নাক টেনে পুনরায় বললো,

“নিশ্চয়ই দুই ঠোঁটে হাসি উপছে পড়ছে তার?নিশ্চয়ই সেই হাসির সাথে চিকচিক করছে তার নীল দুখানা নয়ন।”

প্রিন্স জোসেফ অনুভুতি শুন্য দুটো চোখ তাক করে নিশ্চুপ রইলো,ফ্লোরেন্সা উত্তর শোনার অপেক্ষায় নেই, মনের ভেতত চাপা কষ্টগুলো উগ্রে দেওয়ার জন্যই উদগ্রীব সে,

“আমার কেন এতো কষ্ট হচ্ছে বলতো নাবহা?আমার কেনো বুকটা ফেটে যাচ্ছে অদৃশ্য যন্ত্রনায় দগ্ধ হয়ে?ওই জালিম পুরুষের বিয়ের সংবাদ কেনো আমাকে খুশি করতে পারলো না?আমার কেন মনে হচ্ছে আমার খুব প্রিয় কিছু আমার জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আয়োজন চলছে?আমার কেনো এতো যন্ত্রণা হচ্ছে বলতো?”

ত্রিজয় নিশ্চুপ ভঙিতে পকেট থেকে বের করলো সিগারেট,ধীর হস্তে ধরালো আগুন,উড়িয়ে দিলো ধোঁয়ার কুন্ডলি।বড় প্রানহীন নিশ্চল কন্ঠে বললো,

“প্রিন্স জোসেফের প্রেমে পড়েছো মেয়ে,এই যন্ত্রণা তার সাক্ষী দিচ্ছে নিঃশ্বব্দে।”

নিকোটিনের কড়া ধোঁয়া নাসিকাপথে প্রবেশ করার সাথে সাথেই ফ্লোরেন্সা বিব্রত হলো,অবাক হলো প্রিন্স জোসেফের কন্ঠ ধ্বনিত হওয়ায়,তড়িৎ মুখ তুলে তাকালো, অন্ধকার ঘরের নিভু আলোয়, সাদা ধোঁয়ার আড়ালে ইস্পাতের মতো মুখটা ভেসে উঠতেই ধ্বক করে উঠলো বুক,অস্ফুটে জিজ্ঞেস করলো,

“আ,,আপনি?”

প্রিন্স জোসেফ কিঞ্চিৎ ঠোঁট এলিয়ে দিলো,বললো,

“এসময়ে নিশ্চয়ই আমার উপস্থিতি আশা করো নি।”

“আশা করি নি কিন্তু বিব্রত হই নি,কারণ আমার আশা সর্বদাই আপনার দ্বারা ক্ষুন্ন হয়।”

“যদি বলি আমি তোমার আশা ক্ষুন্ন করেই তৃপ্তি পাই।”

“তবে অবাক হবো না।” এক হাতের পৃষ্ঠ দিয়ে চোখের জল মুছলো ফ্লোরেন্সা, আবার বললো,

“আপনার মতো জালিম কারো আশা ভাঙে, কারো স্বপ্ন ভাঙে, কারো মন ভাঙে এর আর এমনকি?যে ভাঙে সে বুঝে না, যার ভাঙে সে বুঝে যন্ত্রণার তীব্রতা।”

প্রিন্স জোসেফ হাত বাড়ালো, আঙুলের ডগায় তুলে নিলো ফ্লোরেন্সার এক ফোটা চোখের জল,সেদিকে তাকিয়েই বললো,

“এ জলের কারণ টাও কি তা?”

তাচ্ছিল্য হাসলো ফ্লোরেন্সা,রিনরিনিয়ে বললো,

“কারণ যেনে কি করবেন?এই তুচ্ছ মেয়ের চোখের পানির কদর করতে পারবেন?”

“প্রিন্স জোসেফ দুনিয়াবি কোন কিছুই কদর করে না, এ তো সামান্য চোখের জল।”

“তবে মুছে নিন, আপনার স্পর্শে আমার চোখের পানি অপবিত্র হবে।”

“গোটা তুমিটাকেই অপবিত্র করার নেশায় আছি অথচ তোমাকে ছুয়ে দেওয়ার সাহস আমার নেই।”

“আপনি অপবিত্র, জালিম পুরুষ,পবিত্রতা ছুয়ে দিলে ঝলসে যাবেন।”

“আমাকে ঝলসে দিলে সে দহনে নিজেও পুড়বে মেয়ে।”

“আপনি ভস্ম হয়ে গেলেও আমার হৃদয় কাঁপবে না।”

“অথচ আমার বিবাহের কথা শুনেই কান্নার তোপে শরীরে কম্পন তুলেছো হাজার বার।”

“কে বলেছে আপনাকে?এসব মিথ্যা কথা।”

“পবিত্র ফুল তুমি,মিথ্যাচার করা শোভা পায় না তোমায়।”

ফ্লোরেন্সা ঢোক গিললো,দূর্বলতা প্রকাশ্যে আনতে চায় না সে,কথা এড়িয়ে গিয়ে এক নিঃশ্বাসে বললো,

“এখানে কি করছেন আপনি? চলে যান আমার চোখের সামনে থেকে,আমি আপনাকে কৈফিয়ত দিতে প্রস্তুত নয়।”

“অবশ্যই তুমি প্রিন্স জোসেফ কে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য মেয়ে,কিন্তু প্রিন্স জোসেফ তোমার কাছে কৈফিয়ত চাইতে নারাজ।”

“হটাৎ,সুর পাল্টে যাওয়ার কারণ?বিবাহের আনন্দে নাকি?”

“কেনো?আমার বিবাহের সংবাদে খুশি নও তুমি?”

“খুশি না হতে পারলেও অন্তত ভালো থাকবো আমি।”

প্রিন্স জোসেফ চোখ বন্ধ করলো, ফ্লোরেন্সার উত্তর মনঃপূত হলো না তার।আঙুলের ভাজে চেপে রাখা সিগারেটটার শেষ অংশ পুড়ে গিয়েছে ততক্ষণে, আগুনের ক্ষীন তাপ চামড়া স্পর্শ করতেই, ভেতরকার চাপা রাগ দপ করে জ্বলে উঠলো ঠিক সেই আগুনের উল্কার মতোই।

সিগারেটের পুড়ে যাওয়া অংশ টা এগিয়ে নিয়ে চেপে ধরলো ফ্লোরেন্সার উদরে,জামা পুড়ে গিয়ে দগ্ধ হলো ফ্লোরেন্সার মসৃণ চামড়া, তপ্ত আগুনের ছোঁয়ায় শরীর কেঁপে উঠল ফ্লোরেন্সার। ব্যথার তীব্রতায় চোখ বিস্ফারিত হলো, নিঃশ্বাস আটকে এলো, অথচ কণ্ঠনালী দিয়ে কোনো শব্দ বেরোল না।

এই যন্ত্রণা সয়ে নিয়েছে তার শরীর আর কণ্ঠনালী,কোনো অভিযোগ নেই, নেই একটুও কাঁপন। তীব্র শ্বাস টেনে, দন্তসন্ধি শক্ত করে দাঁড়িয়ে রইল কেবল,অটল, অবিচল,এক অটল পিলারের মতো । দগ্ধ চামড়ার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল বাতাসে , চোখ দিয়ে ঝরল একফোঁটা জল , ধিকিধিকি জ্বলে উঠল ভেতরের আগুন।

প্রিন্স জোসেফ তাকিয়ে রইলো ফ্লোরেন্সার নিশ্চল ব্যাথাতুর মুখের দিকে,চাপা অভিমানী কন্ঠে বললো,

“নিজের ভালো চাইলে অথচ আমার ভালোবাসা চাইলে না? বোকা মেয়ে।”

“আপনি মানুষটার মতো আপনার ভালোবাসাও বিষাক্ত, আমি সজ্ঞানে সে বিষ প্রান করি কি করে?”

“ভালোবাসা জীবনের অনিবার্য সত্য,মানুষ মৃত্যু যেনেও এই বিষ স্বইচ্ছায় প্রান করে।”

“তবে মৃত্যুই কবুল,তবুও বিষাক্ত ভালোবাসা চাই না।”

“মৃত্যুতেও তো মুক্তি নেই ব্লু ব্লাড গার্ল,মানুষ মৃত্যু রটায় পুনরায় ফিরে আসার জন্য।”

“আমি ফিরবো, এ জন্মে না হোক পূনর্জন্মে আমি আবার ফিরবো, তোমার ঘৃনাকে ভালোবাসায় রুপান্তর করার জন্য হলেও ফিরবো আমি।ব্লু ব্লাড গার্ল আমাকে ভালোবাসার প্রস্তুতি শুরু করো।”

গভীর ঘুমে বুদ নিস্পাপ, অথচ নিদ্রা শান্ত নয়। চোখের পাতার নিচে রক্তিম ছায়া, কপালে জমেছে স্বেদবিন্দু, দুই ঠোঁট অনবরত কাঁপছে।ঘন ঘন নিঃশ্বাস নেওয়ার কারনে বুক উঠানামা করছে তার,

যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে, এক অশুভ শীতল হাত চেপে ধরেছে তার হৃদয় । দম নেওয়ার তাড়নায় ফাঁপিয়ে উঠছে বুক, ভারী হয়ে আসছে শ্বাসগুলো।কেবল অন্ধকারের করাল গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে সে, যেখানে আলো নেই, নেই কোনো আশ্রয়।

চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছায়ামূর্তি , তাকে স্পর্শ করতে চায়, টেনে নিতে চায় অতল অন্ধকারে।কারও ক্ষীণ কন্ঠে ডাকা ব্লু ব্লাড গার্ল “নামটা তাকে গ্রাস করছে,অশরীরী ছায়ার মতো ধেয়ে আসছে পেছন,অথচ তার সামনে দিগ্বিদিক শূন্য সে, পালানোর পথ নেই।

নিস্পাপের নরম আঙুল মুষ্টিবদ্ধ,ভয়ের দোলাচলে দুলছে ছোট্ট হৃদয় ।স্বপ্নের অন্ধকার জগৎ থেকে বেড়িয়ে আসার চেষ্টা চালালো খুব চিৎকার করে উঠলো ঘুমের ঘোরে,

” চাই না, বিষাক্ত ভালোবাসা চাই না, পূনর্জন্ম চাই না।কিছুতেই চাই না।”

নিস্পাপের চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে ছুটে এলো ত্রিজয়,নিস্পাপের ঘাবড়ে যাওয়া আতংকিত চেহারা, আর ঘামত্মক মুখ কোন প্রভাব ফেললো না তার উপর। উল্টো নিস্পাপের দিকে তেড়ে গেলো রাগে বিরক্তিতে হিসহিস করতে করতে।

নিস্পাপ তখনও ঘামছে, ভয়ে হাত পা ঠান্ডা তার,সেসবের বিন্দু মাত্র তোয়াক্কা করলো না ত্রিজয়, সোজা নিস্পাপের হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেলো দেয়ালে সেট করা ঘড়িটির সামনে।ঘড়িটির দিকে নিস্পাপের ঘাড় টা চেপে ধরে বললো,

“দেখ কয়টা বাজে,এতো রাতে চিৎকার করে ঘুম ভাঙালি কেন আমার।”

নিস্পাপ ব্যাথায় ফুঁফিয়ে উঠলো, জড়ানো কন্ঠে বললো,

“কি করছেন কি আপনি? ”

ত্রিজয় চোখ উল্টালো,কিছু একটা মনে পড়ার ভঙিতে দুই আঙুল রাখলো কপালে, তিরিক্ষি কন্ঠে বললো,

“ওহ! কাকে কি দেখাচ্ছি?কানাকে বলছি ঘড়ির টাইম দেখতে?এই কানার সাথে থেকে তো দেখছি আমার মাথার পিন্ডি চটকে যাবে।”

নিস্পাপ মোচড়াল নিজের হাত, ত্রিজয়ে শক্ত মুঠোর থেকে ছাড়া পেতে বললো,

“ছাড়ুন আমাকে, আমি চিৎকার চেচামেচি যা ইচ্ছে করি, তাতে আপনার কি?আপনাকে তো আমি ঘুম ভেঙে চলে আসার জন্য ইনভিটেশন পাঠাই নি।”

“কানার বাচ্চা,মাঝরাতে শেয়ালের মতো চিৎকার করলে ঘুমানো যায়?”

কথাটা বলতে বলতে কপাল কুচকালো ত্রিজয়,বললো,

“ওয়েট ওয়েট, রাতে খেতে দেই নি বলে আমার ঘুম হারাম করার প্লেন করেছিস না তো?”

নিস্পাপ দাঁতে দাঁত পিষলো,বললো,

“একদম ফালতু কথা বলবেন না,খাবার না খেয়ে আরও এক সপ্তাহ কাটিয়ে দিতে পাড়বো আমি।”

“রিয়েলি?তাহলে একসপ্তাহ পরেই খাস,আমার টাকা বেঁচে যাবে।”প্রফুল্ল কন্ঠে বললো ত্রিজয়

নিস্পাপ চোয়াল শক্ত করে বিরবির করলো,

” কিপটে কোথাকার।”

__________________

তাকরিম নিজের জেদে অনড়,নাছোড়বান্দা ছেলে।অনুরিকার চটাং চটাং কথা একেবারেই পছন্দ নয় তার, নিস্পাপকে দেখে রাখতে পারে নি মেয়েটা, তার আলেকজান্দ্রাকে রক্ষা করতে পারে নি অথচ গলাবাজি তে পি এইচ ডি করেছে। তাইতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে যতদিন নিস্পাপকে খুঁজে না পাবে ততদিন তার বাড়িতে কাজের বুয়া করে রাখবে এই মেয়েকে।

জেসমিন বেগম প্রতিক্রিয়া বিহীন অনুরিকার দিকে একবার তাকালেন,তারপর আরো একবার তাকালেন তাকরিমের দিকে। ছেলের এমন কঠিন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ তিনি, তবুও বাধ্য হয়ে সম্মতি দিতে হলো।

মনের ভেতর চাপা দীর্ঘশ্বাস আটকে, অনুরিকাকে থাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট ঘর দেখিয়ে দিয়ে নিজের কাজে চলে গেলেন তিনি ।তাকরিমের জেদের কাছে হার মানতে হয়েছে অনুরিকার,নয়তো তাকে ড্রাগস সেবনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে, জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়েছে তাকরিম।অনু বেশ ভালো করেই যানে এমপি তাওসিফ তাকরিমের পক্ষে এই কাজটা পান্তা ভাত।তাই উপায় না পেয়ে মেনে নিতে হয়েছে তাকরিমের সীদ্ধান্ত।তার চোখেমুখের অভিমান, ক্ষোভ স্পষ্ট। তাকরিমের চোখে একরোখা জেদকে পরাস্ত করতে চাইছে,নিজের চোখের অগ্নিশিখা দ্বারা।

_________

জেসমিন বেগম নিজের ঘরে যাওয়ার সময় প্রভাকে ডেকে দিলো, অনুরিকার ঘরে খাবার পাঠানোর জন্য বলে গেলো তাকে।
প্রভা বাধ্য মেয়ের মতো খাবার গুছিয়ে চলে এলো অনুরিকার ঘরে,কিন্তু ঘরের দরজায় পা রাখতেই রাগে দপদপ করতে শুরু করলো তার শিরা উপশিরা , মস্তিষ্কে ফুটতে শুরু করলো টগবগে রক্ত।
পরমুহূর্তেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলো সে, কৌশলে চোখের ভাষা করলো স্বাভাবিক,ঠান্ডা শীতল কন্ঠে বললো,

“আমি খুব করে চেয়েছিলাম পূনর্জন্মে তোর জন্ম যেনো হয় সুখ পাখির বেশে,তুই বারবার আমার চাওয়া কেনো ভেঙে দিস ফ্লোরেন্সা?”

পেছন থেকে অচেনা অথচ চেনা কন্ঠস্বর শুনে চমকে উঠলো অনুরিকা, চোখ ছোট ছোট করে তাকালো সামনে দাঁড়িয়ে থাকা চিকন পাতলা গড়নের মেয়েটির দিকে,বিস্ময়ে ফাঁক হয়ে গেলো দুই ঠোঁট,অবিশ্বাস্য কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

“তুমি ওই মেয়েটা না?যে আমাকে ভার্সিটিতে এটাক করেছিলো? ”

চলবে,,,,,,

(গল্পের এক একটি শব্দ এবং সংলাপ লিখতে প্রচুর ভাবতে হয়, কখনো কখনো সাড়া দিন লেগে যায় ভাবতে ভাবতে,তাই গল্প দেরি করে দিলে আশাহত হবেন না,আমি মনে করি দেরিতে আসলেও সুন্দর কিছু আসাটাই মুখ্য।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here