#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
বোনাস পর্ব
কথাগুলো বলতে বলতে ফ্লোরেন্সা আরও জোরে গলা চেপে ধরলো নিস্পার।নিস্পা কি করবে বুঝে উঠতে পারলো না,সে চোখে মুখে অন্ধকার দেখতে শুরু করলো, নিজেকে ছাড়ানোর জন্য শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কা মারলো ফ্লোরেন্সাকে, ফ্লোরেন্সা টাল সামলাতে না পেরে পিছিয়ে গেলো,নড়বড়ে রুগ্ন শরীরটা চক্কর কেটে গিয়ে পড়ল কলপাড়ে।চাপকলের লোহার হাতলে বিধলো মাথার পেছনের অংশ।বেশ জোড়ালো আঘাতে মাথা ফেটে বেড়োতে শুরু করলো রক্ত।
ফ্লোরেন্সার মাথা থেকে রক্ত বেড়োতে দেখেই নিস্পার হুশ উড়ে গেলো। কি করবে ভাবতে পারলো না।অবশ হয়ে এলো পুরো শরীর। চেচাতে গিয়েও কন্ঠ নিভে এলো নিস্পার।উন্মাদের মতো দৌড়ে গিয়ে বসলো ফ্লোরেন্সার কাছে।একে রুগ্ন ক্লান্ত শরীর, তারুপর মানসিক শারীরিক যন্ত্রণায় বিবষ মস্তিষ্ক এই আঘাতটুকু সহ্য করার ক্ষমতা হারালো,সামান্য আঘাতেই ফ্লোরেন্সার শরীর নেতিয়ে পড়লো রোদে শুকিয়ে যাওয়া স্বর্নলতার মতো।
নিস্পার চোখে জল।বানভাসি স্রোতের মতো অথৈই জলে ভরে উঠেছে তার অক্ষিপুট।ফ্লোরেন্সাকে বুকের সাথে জড়িয়ে উন্মাদের মতো বিলাপ কর বললো ,
“কিচ্ছু হবে না, কিচ্ছু হবে।দাড়াও,পানি, পানি আনছি তোমার জন্য। বিশ্বাস করো, বিশ্বাস করো আমি তোমার আইরিশ ভাইকে কেড়ে নেই নি,আইরিশ কেবল তোমাকেই ভালোবাসে।”
সময় নষ্ট করলো না নিস্পা।ফ্লোরেন্সাকে কলপাড়ে রেখেই ছুটে চলে গেলো উঠানের দিকে,কম্পিত হাতে একটা কলশ থেকে পানি ঢেলে নিলো স্টেলের গ্লাসে,তারপর পায়ে একই গতি সঞ্চার করে দৌড়ে এসে হাটু গেড়ে বসলো ফ্লোরেন্সার কাছে।ফ্লোরেন্সা চাপকলের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে,সজ্ঞানে আছে তবে শরীর দূর্বল হওয়ায় নড়াচড়া করতে পারছে না।ঝিম ধরে আছে সর্বাঙ্গ।
নিস্পা পানির গ্লাসটা মুখের সামনে ধরতেই ঘৃনায় মুখ ফিরিয়ে নিলো ফ্লোরেন্সা,ফ্যাসফ্যাসে স্বরে আওড়াল,
“পানির সাথে বিষ মিশিয়ে এনেছ তাই না?আমাকে রাস্তা থেকে একেবারে সরিয়ে ফেলতে চাইছো?”
নিস্পা ডুকরে কেঁদে উঠলো,কানের লতি জ্বলে উঠলো ফ্লোরেন্সার মিথ্যা অপবাদে,পানিতে কিছু মেশায় নি এটা বিশ্বাস করাতে ঢকঢক করে কয়েক ঢোক পানি খেয়ে বললো,
“বিষ মেশাই নি বিশ্বাস কর,যদি মিশিয়ে থাকি তবে একই পানি প্রান করে আমারও মরন হবে।দয়া করে পানি খেয়ে নেও,রক্ত বেড় হওয়া বন্ধ হবে।”
ফ্লোরেন্সার গলা শুকিয়ে কাঠ,এই মূহুর্তে এইটুকু বিশ্বাসও করতে চাইলো না নিস্পাকে,কিন্তু কিছু করার নেই,পানিটা যদি না খায় তবে বোধ হয় কন্ঠ ফেটেই মরে যাবে সে।
ফ্লোরেন্সা মুখ হা করে,নিস্পা খুশিতে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলে,ঠোঁট কামড়ে নিজেকে শান্ত করে পানির গ্লাসটা তুলে দেয় ফ্লোরেন্সার মুখে।
পানি খাওয়ার পরেও রক্ত বের হওয়ার নামগন্ধ নেই নিস্পা খেয়াল করলো বিষয়টা, মাথার পেছনে অনেকটা ফেটে গিয়েছে, দ্রুত ব্যান্ডেজ করতে হবে,নিস্পা ফ্লোরেন্সাকে রেখে উঠে দাড়ালো ফের,তাড়াহুড়ো কন্ঠে বললো,
“তোমার রক্ত বন্ধ হচ্ছে না,এক্ষুনি চিকিৎসার ব্যাবস্থা করতে হবে,তুমি এখানে অপেক্ষা কর,আমি তোমার আইরিশ ভাইকে ডেকে আনছি।”
নিস্পা শাড়ির আঁচল খামচে ধরে আবারও দৌড়ে চলে গেলো উঠানের দিকে।কিন্তু এবার গিয়ে সে যা দেখতে পেলো তা তার হৃদস্পন্দন থমকে দিলো।
পুরো বিয়ে বাড়ির একটা মানুষও স্বাভাবিক নেই,কেউ মাটিতে গড়াগড়ি করে কাতরাচ্ছে,কেউ বা গলায় দু হাত চেপে চিৎকার করছে মৃত্যু যন্ত্রণায়, কেউ কেউ এলোপাতাড়ি দৌড়াচ্ছে মৃত্যু যন্ত্রণার করাল গ্রাস থেকে বাঁচতে।আবার কেউবা বুক চেপে কাঁপছে শেষ নিঃশ্বাসে।
পুরো বাড়ি জুড়ে হাহাকার আর হাহাকার।নিস্পা দিকভ্রান্ত উন্মাদের মতো ছুটছে, হন্যে হয়ে খুজছে আইরিশকে,অত:পর লাগাম হারা ঘোড়ার মতো ছুটতে ছুটতে মেয়েটার ক্লান্ত শরীরটা গিয়ে ধাক্কা খায় সুঠাম দেহি পুরুষের প্রসস্থ বুকের সাথে।ঘটনার আকস্মিকতায় জ্ঞানশুন্য হতহ্বিবল মেয়েটা বুঝে উঠার আগেই শুনতে পায় রাশভারি পুরুষালি কন্ঠস্বর,
“ব্লু ব্লাড গার্ল।আমার নীল রক্তের মেয়ে।”
নিস্পার বোধবুদ্ধি ঝাপসা হয়ে গেছে। চারপাশের হাহাকার, মৃত্যু-চিৎকার আর যন্ত্রণার আর্তনাদ একসাথে এসে তার মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষে ছুরির মতো বিঁধছে। মনে হচ্ছে, চোখের সামনে পুরো পৃথিবীটা ধসে পড়ছে, অথচ সে দাঁড়িয়ে আছে সেই ভাঙনের মাঝখানে নিরুপায়, অসহায়, একা।
আর এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ প্রিন্স স্বয়ং জোসেফকে দেখতে পেয়েই হিংস্র সিংহের মতো গর্জে উঠলো মেয়েটা।উন্মাদের মতো খামচে ধরলো জোসেফের শার্টের কলার,চোখের চিকন শিরাগুলো রক্তলাল,কোটর ফেটে বেড়িয়ে আসছে মার্বেলের মতো দুটো চোখ,যে চোখে কোন নমনীয়তা নেই,কোমলতা নেই,আছে কেবল ঘৃনা আর ঘৃনা।
মেয়েটা জোসেফের কাধ খামচে ধরে ঝাকালো কয়েকবার, চিৎকার করে বললো,
“জানোয়ারের বাচ্চা এই মানুষ গুলো তোর কি ক্ষতি করেছে?”
জোসেফকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে এক ঝটকায় দূরে সরে দাড়ালো নিস্পা,দগ্ধ কিন্ঠে আর্তনাদ করে বলল,
“জানোয়ার, তুই জানোয়ার।তুই মানুষ না।মানুষ কখনো মানুষের খুনি হইতে পারে না।ঘৃনা করি, আমার হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে ঘৃনা করি তোকে।”
কথাগুলো বলার ফাঁকেই নিস্পার কর্নগোচর হলো এক বিবষ শব্দ,মনে হলো কেউ একজন রক্তাক্ত কন্ঠে ডাকলো,
“নিস্পা।”
নিস্পা তড়িৎ পেছনে ঘুরে তাকায়,পেছনে তাকানো মাত্রই আত্মা ছলকে উঠে তার,বিক্ষিপ্ত নয়নজোড়ায় ধরা দেয় আতংক, লোহার মতো ভারি হয়ে এলো তার হৃদপিন্ড।মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে আইরিশ,বিষের যন্ত্রণায় কাতর লোকটার চোখ মাত্রাতিরিক্ত লাল,হয়তো বিষ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শরীরে।
নিস্পা জোসেফ কে রেখে ছুটে গিয়ে বসলো আইরিশের কাছে,কাঁদতে কাঁদতে বললো,
“কি হলো?কি হলো আপনার?আপনার কিছু হতে পারেনা।আপনার আলেকজান্দ্রা কলপাড়ে অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।”
আইরিশের দম ফুরিয়ে আসছে, কণ্ঠনালীতে আটকে যাচ্ছে সমস্ত শব্দ,সে ভেঙে ভেঙে বললো,
“প,,পানিতে বিষ মিশেয়েছে কেউ।”
নিস্পা আঁতকে উঠে,আতংকে নীল হয়ে উঠে তার চেহারা,ততক্ষণে বিষের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে তার মাঝেও,সে মুমূর্ষু কন্ঠে বলে,
“পানিতে বিষ ছিলো? আমি যে ওই একই পানি ফ্লোরেন্সাকে,,,”
বাকি কথা শেষ করে উঠতে পারে না নিস্পা,বিষক্রিয়ায় জ্বালাপোড়া শুরু হয়ে গিয়েছে তার পায়ের নখ থেকে মাথার তালু অব্দি,সাপের বিষের মতোই দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে গিয়েছে শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
আইরিশ শেষ বারের মতো শুনতে পায় ফ্লোরেন্সার নাম,কিন্তু তার আর কিছু করার থাকে না,মন উড়ে যেতে চাইলেও শরীর যে আজ কথা শুনবে না,চাইলেই বাজপাখির মতো উড়ে গিয়ে জাপ্টে ধরতে পারবে না তার আলেকজান্দ্রাকে।
শক্ত শেকলের মতো তার হাতটা ধিরে ধিরে শক্ত হয় আসছে,নিস্পার একটা হাত আঁকড়ে ধরা তখনও,অবশেষে শেষ রক্ষা হলো না,বাঁচাতে পারলো না তার আলেকজান্দ্রাকে।সে বিরবির করে,বিষে রাঙা নীল ঠোঁটে বিরবির করে বলে,
“আমি তোমাকে ভালোবাসি আলেকজান্দ্রা, তুমি আমার কাছে মহা মূল্যবান রত্ন, যদি আরও একটি জন্ম সুযোগ পাই, তোমায় বুকের ভেতর আগলে রাখবো আমি,এই জনমের সমস্ত অভিযোগ পুষিয়ে দিবো নাহয়।”
এদিকে কলপাড়ে পড়ে থাকা ফ্লোরেন্সার শির্ণ দেহখান লুটিয়ে পড়েছে।বিষের তীব্রতায় নীল হয়ে গিয়েছে তার সর্বাঙ্গ।কেউ নেই পাশে কেউ নেই, হাহাকার আর এক বুক শুন্যতা নিয়েই সে ঘুমিয়ে গেলো,শেষ নিঃশ্বাস ছেড়ে দিলো বিষাক্ত বাতাসে,শেষবারের মতো বড় আক্ষেপের সহিত বিরবির করে বললো,
“বিশ্বাসঘাতক,বিশ্বাসঘাতক।”
বাড়ির উঠানেও সেই একই নির্মম দৃশ্য।নিস্পা বিষের তাড়নায় বেহুশ হয়ে লুটিয়ে পড়বে ঠিক সেই মূহুর্তে নিস্পার আরেকটি হাত আগলে ধরলো জোসেফ,নিরেট কন্ঠস্বরে বললো,
“এতো অভিমান কেন তোমার মেয়ে?আমি নির্দোশ,আজ জিততে নয় পরাজয় মেনে নিতে এসেছিলাম তোমার কাছে।সেই তো দোষি বানিয়ে দিলে,খুনের দায় চাপিয়ে দিলে নতুন করে।”
“আমার কি অন্যায় বলো?ব্রিটিশ হয়ে জন্ম নেওয়াটা? নাকি তোমায় ভালোবেসে নিজেকে ভুলে যাওয়াটা?”
নিস্পার কন্ঠ নেতিয়ে এসেছে, বিষক্রিয়ায় দগ্ধ কন্ঠস্বর নিভে আসছে প্রায়,সে অবস্থাতে বিরবির করে বললো,
“ছোবেন না, ছোবেন না আমায়।আপনি খুনি,সবচেয়ে নিকৃষ্ট।আপনাকে কক্ষনো ক্ষমা করবো না আমি।”
প্রিন্স জোসেফের চোখ টালমাটাল,ঠিক একই বিষক্রিয়ায় মরন দসা তারও,অথচ সে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজেকে নির্দোশ প্রমাণ করার জন্য উঠে পড়ে লাগলো,যন্ত্রণায় রাঙানো কন্ঠে বললো,
“এতো কেন ঘৃনা করছো মেয়ে?ভালোবাসতে না পারো অন্তত ঘৃনাটুকু দিও না।আমি অপরাজিত যোদ্ধা বারবার হেরে যাই,তোমার কাছে মাথানত করে খুজি এক টুকরো বিশ্বাস,অথচ তুমি সেটুকু দিতেই নারাজ।”
“শোন মেয়ে ভালোবাসি তোমায়,নিজের ভালোবাসাকে এতো যন্ত্রণা দেওয়ার সাধ্য আমার নেই।আমি যদি আরও একবার সুযোগ পাই তখন প্রমাণ করে দিবো আমি খুনি নই।”
নিস্পার হাত চেপে ধরা অবস্থাতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লো জোসেফ,নিস্পা শত চেষ্টা করেও ছাড়াতে পারলো না সেই হাতের বাধন।প্রিন্স জোসেফ তার শেষ শক্তিটুকু দিয়ে আঁকড়ে ধরে আছে নিস্পার হাত।তার নীলাক্ষি চোখ দুটোর মতোই বিষের নীল রঙে রাঙা ঠোঁটে বিরবির করে আওড়াচ্ছে,
“পৃথিবী ধ্বংস হবে, জীবন ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু ভালোবাসা ফুরাবে না।এ জন্মে না হোক পরের জন্মে তোমাকে আমার হতে হবে ব্লু ব্লাড গার্ল।”
নিস্পার কণ্ঠনালী জখম হয়ে গিয়েছে, অনেক কথা বলতে চাইছে অথচ মুখে আনতে পারছে না।চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়লো ফোটা ফোটা জল, ঠোঁট কামড়ে আরেকটু সময় ভিক্ষা চাইলো প্রভুর নিকট, ভেঙে ভেঙে বললো,
“পূনর্জন্ম বলে কিছু না হোক, এমন বিষাক্ত ভালোবাসা দ্বিতীয়বার না আসুক।”
“পাল্টে যাক ভবিষ্যৎ।”
_____________
ধীরে ধীরে অন্ধকারের গভীরে তলিয়ে যেতে লাগলো নিস্পা।মনে হচ্ছে চারপাশে অদৃশ্য কোনো শক্তি এক অগাধ, অনন্ত শূন্যতার দিকে টেনে নিচ্ছে তাকে। মহাকালের চাকা ধীরে ধীরে ঘুরছে, প্রতিটি ঘূর্ণনের সাথে আরও ঘন, আরও গভীর হয়ে উঠছে অন্ধকার। চারদিকে কেবল অদম্য কালোর বিস্তার যেন সমগ্র বিশ্ব ঢেকে গেছে এক অশরীরী আস্তরণে।
হঠাৎ সেই অসীম কালোকে বিদীর্ণ করে, ডানা ঝাপটে উড়ে এলো এক টুকরো শুভ্র আলো,পবিত্রতার প্রতীক।নিস্পা শুনলো দিগন্ত ভেদ করে আসা স্বর্গীয় দূতের ডানা ঝাপটানোর শব্দ।নিস্পা ছটপটিয়ে উঠলো, কাঁপা কণ্ঠে অস্ফুটে অবিলম্বে উচ্চারণ করলো,
“বীনা পাখি”
নিস্পাকে কয়েকগুণ অবাক করে দিয়ে এবার আর পিউক পিউক শব্দ করলো না পাখিটি,বরং সেই প্রথমবারের মতো কথা বলল সুরেলা কণ্ঠে,
“শুধু বীনা নয় লো কন্যা আমি সত্যবীনা। সত্যবীনা পাখি। ”
সত্যবীনার দেখা পেয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো নিস্পা,কাঁদতে কাঁদতে বললো,
“আমাকে সময় ভ্রমণে কেন পাঠানো হইলো সত্যবীনা পাখি?আমি এখনো কেন এই প্রশ্নের উত্তর পাইলাম না?”
“কি কও লো কন্যা?তুমি এহনো উত্তর পাও নাই বুঝি?তোমারে তো অতীত পালটানোর জন্য পাঠানো হইছে সেইখানে।”
“কি পাল্টেছে? কই কিছুই তো পাল্টায় নি,দাদির মুখে যেই গল্প শুনেছি সে তো সত্যিই হইলো,সেই মৃত্যুর খেলা আমি বন্ধ করতে পারলাম কই।”
“নিয়তি তো তুমি খন্ডাইতে পারবা না লো কন্যা,নিয়তি তোমারে দিয়া যা করাইবো তাই করতে হইবো মুখ বুইজ্জা।”
“কি করতে পেরেছি আমি?কিছুই করতে পারি নি।কাউকে বাঁচাতে পারি নি কাউকে না।”
“বাঁচাইতে না পারো মারতে তো পারছো কন্যা।”
সত্যবীনার এবারকার কথায় পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গেলো নিস্পা,বাকরুদ্ধ হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“তুমি কি বলতে চাইছো সত্যবীনা পাখি?”
“তুমি মাত্রই নিজের হাতে তোমার অস্তিত্বকে শেষ কইরা দিয়া আইলা কন্যা।”
“অস্তিত্ব?”
অস্ফুটে আওড়ায় নিস্পা,সত্যবীনা চিকন স্বরে বলে,
“তোমারে কইছিলাম না এক অস্তিত্বের দুটো মানুষ হইছে ফ্লোরেন্সা আর নিস্পা।সেই একটা অস্তিত্বকেই নিজের হাতে শেষ কইরা দিয়া আইলা তুমি।তুমি চাইলেও অতীত বদলাইতে পারতা না কন্যা,যা ঘটে গেছে তা যে পাল্টানো অসম্ভব।”
নিস্পা তাজ্জব।সত্যবীনার ইঙ্গিত বুঝতে বাকি নেই তার।নিয়তি তাকে নিয়ে এক ভয়ংকর, অনন্ত খেলায় মত্ত হয়েছে যা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে নিস্পা।আতঙ্ক আর বিস্ময়ের নির্দয় স্রোতে তছনছ হয়ে গেলো নিস্পার চিন্তাধারা , মস্তিষ্কের ভেতর শুরু হলো তপ্ত তীরের বৃষ্টি।
শীতিল আতংকে মস্তিষ্ক ঝাজিয়ে উঠলো হটাৎ, নির্জিব ঠোঁট নাড়িয়ে অস্ফুটে আওড়ালো,
“তার মানে,,,,, ”
“তার মানে তুমিই ফ্লোরেন্সা তুমিই নিস্পা,আর দ্বিতীয় কোন অস্তিত্ব রইলো না এই পৃথিবীতে।”
সত্যবীনা পাখি আবার বলতে শুরু করলো,
“শোন কন্যা,আমার কথা মন দিয়া শোন।ভাগ্য তোমারে একটা সুযোগ দিয়াছে,তোমার অতীত নিজ চোখে দেখার আর ছোয়ার সুযোগ দিয়াছে। কিন্তু তোমার পদার্পনে রটেছে এক ভিন্ন অতীত, যা ঘটার কথা নয় তাও ঘটলো তোমার হাতে।তুমি চাইয়াছো অতীত পরিবর্তন করতে,সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর মেলা থামিয়ে দিয়ে সবাইকে বাঁচাইতে।পৃথিবীর নিয়ম যে ভঙ্গ করা যায় না কন্যা।
নিয়তি ঠিকই তার কাজ হাশিল কইরা নিছে,তোমার হাতেই মুইছা দিছে তোমার নিজের অস্তিত্ব।প্রকৃতির নিয়ম অব্যাহত রাখার লাইগা এইটা করতেই হইতো কন্যা,অতীত রটাতে পারলেও অতীতের ঘটিয়মান ঘটনা যে পাল্টানো যায় না কন্যা।আজ এই মৃত্যু খেলা সংঘটিত না হলে যে ধ্বংস হইয়া যাইতো মহাকালের সমস্ত নিয়ম।ফ্লোরেন্সার আর পূনর্জন্ম হইতো না,সে আর জন্মাইতো না নিস্পা হইয়া।”(কাল্পনিক বিষয়বস্তু বিশ্বাস করা শিরক)
“তার মানে আমিই ফ্লোরেন্সার পূনর্জন্ম। এজন্যই আমার পেটে ওই পোড়া চিহ্ন হয়েছে,এজন্যই আমি স্বপ্ন দেখি এই বিভৎস ঘটনা গুলো, আর এমন অনুভব করি যেন সব আমার সাথেই ঘটেছে।”
“হ লো কন্যা হ।তুই বুদ্ধিমতি, সব কথা বুঝাইয়া কইলে কেমনে হইবো?কিছু কথা নিজের বুইঝা নিতে হইবো।”
“কিন্তু আমি যদি ফ্লোরেন্সা হই তাহলে আমার কিছু মনে নেই কেন ওর ব্যাপারে।”
“এতো তাড়া কিসের কন্যা?তুমিই ফ্লোরেন্সা এটা খুব শীঘ্রই মনে পড়বে, সব মনে পড়বে তোমার।”
নিস্পার কানের কাছে সত্যবীনার কথাগুলো একজোটে বাজতে শুরু করে,নিস্পা কি করবে বুঝতে পারে না,এতোগুলো দিন নিজের অস্তিত্বের বিপরীতে একই সময়ে থেকে এসেছে সে,আর আজ?আজ কোন বহুরূপী হয়ে নয়, বরং নিজেই নিজেকে শেষ করে দিয়ে এলো?এটা কী করে সম্ভব,এটা সে কি করল।দু দুটো পুরুষ যে আবার জন্মেছে, তাকে পাওয়ার আকাঙ্খায় তারা যে পাগলের মতো লড়াই করছে এ লড়াই তবে তো থামবে না,আরও বেশি তীব্র হয়ে উঠবে।
নিস্পা আর কিছু ভাবতে পারলোনা,শ্বাসরুদ্ধকর কন্ঠে বিরোধিতা করতে চাইলো সত্যবীনা পাখির কথাকে,
“কিচ্ছু মনে করতে চাই না আমি ,কিচ্ছু না।আমি নিস্পা শুধু নিস্পা।”
কথাগুলো একনাগাড়ে বলতে বলতে চিৎকার করে উঠে বসলো নিস্পা,তবে চোখ খুলতে পারলো না সঙ্গে সঙ্গে,চোখের উপর ভারি ব্যান্ডেজ বাধা তার।নিস্তেজ মস্তিষ্ক কিছুই ঠাওর করতে পারলো না প্রথম,বোধবুদ্ধি হারিয়ে চেচালো পুনরায়,
“আমার চোখ বেধেছে কে?চোখ খুলুন চোখ খুলুন আমার।”
তড়িঘড়ি নিজেই হাত লাগায় ব্যান্ডেজে,খোলার উদ্দেশ্যে টানা হেচড়া শুরু করতেই নার্স সহ কয়েকজন ডাক্তার ছুটে আসে ওটিতে,দ্রুত নিস্পাকে বাধা দিয়ে বলে,
“একি কি করছেন আপনি?সবে মাত্র চোখের অপারেশন হলো আপনার,এর মাঝে ব্যান্ডেজ খোলা অসম্ভব।”
ক্রোধে ভয়ে আতংকে গলা কাঁপছে নিস্পার,বর্তমান অতীত পার্থক্য করার চেষ্টায় জট পাকিয়ে যাচ্ছে বারবার,বেড়োতে পারছে না ঘোর থেকে,এই মূহুর্তে সবচেয়ে বেশি পাগল পাগল লাগছে নিজেকে।
বেপরোয়া ছন্দে ধুকপুক করছে নিস্পার হৃদস্পন্দন। প্রতিটি স্পন্দন বাইরে ছুটে আসতে চাইছে বুক ভেদ করে। মনে হচ্ছে, অন্ধকারের এক গোলকধাঁধার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে সে, আর সামনেই তার নিজেরই এক বিকৃত, ভয়ংকর ছায়া। সেই ছায়া তাকেই গ্রাস করে ফেলার তাড়নায় আছে যেকোনো মুহূর্তে।
নিজের কাছে নিজেকেই অপরিচিত লাগছে এখন।। শত চেষ্টা করেও সময়ের এই অদৃশ্য ঘূর্ণি থেকে মুক্তি মিলছে না তার।
আইসিউর বাইরেই বসে অপেক্ষা করছিলো ত্রিজয় আর ইভান।অবচেতনেই নিস্পার জন্য খুব বেশি চিন্তা হচ্ছে তার।এর মাঝেই এতোজন ডক্টরকে ছুটে ভেতরে ঢুকতে দেখে চিন্তার পাল্লা টা ভারি হলো আরেকটু।
তন্মধ্যেই ডাক পরলো তার,ভেতরে যাওয়ার কথা শুনেই ছুটে গেলো চপল পায়ে,ইভানও গেলো পিছু পিছু।
ভেতরে ঢুকতেই একজন ডক্টর এগিয়ে এলো ত্রিজয়ের দিকে,ফর্মাল কন্ঠে বললো,
“আপনার রোগীকে শান্ত করুন মিস্টার ত্রিজয়।উনি এতোবেশি উত্তেজিত হলে চোখের উপর প্রেশার পরবে।”
ত্রিজয় ভ্রুকুটি তুলে তাকালো নিস্পার দিকে,মেয়েটা হাফাচ্ছে,এতো জোড়ে জোড়ে হাফাচ্ছে যেন মনে হচ্ছে এই মাত্রই একটা যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে ফিরেছে।নয়তো মনে হচ্ছে এই মেয়েকে জোড় করে নিয়ে এসে অপারেশন থিয়েটারে শুইয়ে দিয়েছে কেউ।মানে নিস্পার এমন অদ্ভুত রিয়েকশনে পুরোপুরিই থ হয়ে গলে ত্রিজয়।
ইভান পাশেই দাঁড়ানো তার,নিস্পার অবস্থা আর ত্রিজয়ের চেহারা দেখে খুব একটা ঠাওর করতে পারলো না পরিস্থিতি, সে কেবল ত্রিজয়ের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,
“কোনভাবে এই মেয়েরে জোর করে অপারেশন করতে আনেন নি তো স্যার?যদি এমন হয় নয়তো কেস খেয়ে যাবো বলে দিলাম।”
ত্রিজয় চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত পিষলো,চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
“রাবিশ কোথাকার বুদ্ধি কি হাটুর নিচে রেখে ঘুরো?একজন এডভোকেট কে কেস খাওয়ার ভয় দেখাচ্ছো তুমি?”
ইভানের মুখটা চুপসে গেলো ওমনি,ত্রিজয়ের ধমক খেয়ে চুপচাপ সটান হয়ে দাড়ালো নিজের যায়গায়।
ত্রিজয় কিছু বুঝে উঠতে না পেরে সোজা গিয়ে বসলো নিস্পার সামনে,তারপর নিস্পাকে শান্ত করার জন্য এক হাত রাখলো নিস্পার গালের উপর।শ্বাসকষ্টের রোগীর মতো বড়বড় করে শ্বাস নেওয়া মেয়েটা একটু স্থির হলো, ত্রিজয়ের ঠান্ডা স্পর্শে শীতিল হয়ে এলো তার শ্বাস প্রশ্বাস।ত্রিজয় শুখনো ঢোক গিললো,অপলক দৃষ্টিতে চাইলো নিস্পার দিকে, তারপর নিখাদ স্বরে বললো,
“কি হয়েছে?ভয় লাগছে?ডোন্ট ওয়ারি, আছি তো আমি।”
কন্ঠস্বর টা শোনা মাত্রই আবারও উত্তেজিত হয়ে উঠলো নিস্পা,মস্তিষ্কে শুরু হলো রক্তক্ষরণ,মানস্পটে ভেসে উঠলো ফেলে আসা সেই বিভৎস দৃশ্য,আর প্রিন্স জোসেফের বলা সেই কথাটা,
“আমি যদি তোকে না পাই তবে কাউকে পেতে দিবো না,কাল তোর বিয়ে বাড়ি আমি শ্মশানে পরিনত করবো।”
মূহুর্তেই মাত্রাতিরিক্ত হাইপার হয়ে উঠলো নিস্পা, পরপরই ঠাস করে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো ত্রিজয়ের গালে,গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বললো,
“জানোয়ারের বাচ্চা তোকে শেষ করে ফেলবো আমি।কি করলি তুই এটা?এতো বড় জঘন্য কাজ করতে বুক কাঁপলো না তোর?”
ঘটনার আকস্মিকতায় দু সেকেন্ডের মতো মাথা হ্যাং হয়ে যায় ত্রিজয়ের,গালে হাত রেখে ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকে নিস্পার দিকে।ইভান ততক্ষণে এগিয়ে এসেছে,ত্রিজয়ের দিকে ঝুকে গিয়ে বললো,
“ঠিক আছেন স্যার?লাগেনি তো?”
ত্রিজয়ের হাত তখনও গালে,নিস্পার এমন দুঃসাহস দেখে রীতিমতো ভ্যাবাচেকা খেয়ে বসে আছে সে,ইভানের প্রশ্নের প্রতিত্তোরে সে শুধু অস্পষ্ট বললো,
“এই ছেমরি করলো ডা কি ইভান?”
“কি করলো সেটা ভাবার আগে ভাবুন কেন করছে এসব?কি হাবিজাবি বলছে আপনাকে,কি জঘন্য কাজ করেছেন আপনি?”
ইভানের কথায় থাপ্পড়ের ঘোর কাটে ত্রিজয়ের,সে অদ্ভুত ভাবে তাকায় নিস্পার দিকে,নিস্পা তখনও একইভাবে হাফাচ্ছে আর বিরবির করছে,
“তুই এটা কি করে করলি?কি করে করতে পারলি?কি করে করলি?”
নিস্পার বিরবিরানির আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছে না ত্রিজয়।তবে থাপ্পড় খেয়ে ভিষণ চটেছে মেজাজ,
“আরে বইন করছি ডা কি আমি ওইডা তো ক?অপারেশনের আগে জাস্ট একটা শুকনো চুমু দেওয়া ছাড়া আর কিচ্ছু করি নাই।”
নিস্পার রাগ তরতর করে বাড়লো আরও কয়েক ধাপ,সে ক্ষেপা বাঘিনীর ন্যায় তেড়ে এসে আরেকটি থাপ্পড় বসিয়ে দিলো ত্রিজয়ের গালে,রুদ্রাণী কন্ঠে বললো,
“জানোয়ারের বাচ্চা,তোকে বলেছিনা স্পর্শ কিরবি না আমাকে,কেন স্পর্শ করেছিস?তোর মতো জালেমের স্পর্শ ঘেন্না লাগে আমার।”
ব্যাস!ধৈর্য এমনিতেই কম ত্রিজয়ের,এতোক্ষণ ধরে ধৈর্য নিয়ে সব হজম করলেও আর সহ্য করা গেলোনা,রীতিমতো ধৈর্য এখন তার মাথায় চড়ে পাগলু ডান্স করছে।সে ধুপধাপ উঠে দাড়ালো,ঘুরলো ডাক্তারের দিকে,তারপর চাপা স্বরে জিজ্ঞেস করলো,
“এই মূহুর্তে যদি ওর গালে আশি বোল্ডের একটা থাপ্পড় পড়ে তাহলে কি ওর কোন ক্ষতি হবে ডক্টর?”
“অবশ্যই সবে মাত্র চোখের অপারেশন হয়েছে,এতো জোড়ালো আঘাতে যেকোনো কিছু হয়ে যেতে পারে।”
ত্রিজয় দাঁতে দাঁত চেপে চোখ বন্ধ করলো,তারপর নিঃশ্বাস চেপে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো নিস্পার গালে,থাপ্পড়ের তোপে মাথা ঘুরে গেলো নিস্পার,অতিরিক্ত স্ট্রেস আর মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে না পেরে টলে পড়লো বেডের উপর।
ত্রিজয়ের এমন কাজে হকচকিয়ে এগিয়ে এলো সিনিয়র ডাক্তার,রেগে গিয়ে বললো,
“একি এটা কি করলেন আপনি?মাত্রই তো বলা হলো জোড়ালো আঘাত করলে ক্ষতি হবে।”
“প্রবলেম নেই, আপনি বলেছেন আশি বোল্ডের দেওয়া যাবে না,তাই আমি চল্লিশ বোল্ডের দিয়েছি।ইচ্ছে তো করছিলো এক থাপ্পড়ে চোখদুটো আবার আন্ধা করে দিতে,কিন্তু বারবার চিকিৎসা করার মতো টাকার বস্তা নিয়ে বসি নি আমি।”
ত্রিজয়ের কথা শুনে ঠোঁট উল্টালো ইভান,মুখের ভঙ্গি বিকৃত করে বিরবির করে আওড়াল,
“শালা কিপ্টা,এ জীবনে ভালো আর হইলি না।সিরিয়াস মূহুর্তেও কিপ্টামি গেলো না তোর।”
তারপর তপ্ত শ্বাস ফেলে আবার বিরবিরায়,
“মনকে বোঝা,মনকে বোঝা ইভান,কুত্তার লেজ বারোমাস চুঙ্গির ভেতর ঢুকিয়ে রাখলেও সোজা হয় না।”
ইভানের কথা স্পষ্ট শুনতে পেলো না ত্রিজয়,তাই গ্রিবা ঘুরিয়ে ভ্রুকুটি তুলে জিজ্ঞেস করলো,
“কিছু বললে ইভান?”
ইভান ভড়কে তাকায়,হাত তুলে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলে,
“না স্যার বলছি না ভাবছি।নিস্পা ম্যামের হটাৎ হলো টা কি?”
ত্রিজয় ঠোঁট চেপে কিছু একটা ভাবলো, তারপর দ্বিধাগ্রস্থ কন্ঠে বললো,
“সেটাই তো ইভান।এরে দেখে তো মনে হচ্ছে চোখের অপারেশন নয় বরং ব্রেইনের অপারেশন হয়েছে।”
ইভানও বেশ গুরত্ব দিলো বিষয়টায়,চেহারার একটা গম্ভীর ভাব ফুটিয়ে বললো,
” ডাক্তার মনে হচ্ছে ভুল করে মাথার তার কেটে দিয়েছে স্যার।ওটি তে ঢুকলো কবুতরের বাচ্চা আর বের হলো বাঘিনী হয়ে,দুই ঘন্টায় এতো চেঞ্জ কেমনে?”
ত্রিজয়ের চোখ মুখ শক্ত,আইসিউতে দাঁড়িয়ে কোনরকম সিনক্রিয়েট না করে ইভানকে নিয়ে বেড়িয়ে যেতে যেতে বললো,
“শালার ডাক্তারের মায়রে বাপ।আমার আগের বউ ফেরত না দিলে সোজা মামলা করে দিবো,এই তার কাটা বউয়ের অত্যাচার সহ্য করা অসম্ভব।দু ঘন্টা পর ওটি থেকে বেড়িয়েই গোলামের বেডি দু মিনিটে দুটো চড় মেরে দিয়েছে।”
চলবে,,,,,,,,,
(এটাই হবে গল্পের মেইন আকর্ষণ। নিস্পার একটা স্বত্ত্বা চাইবে তাকরিমকে আরেকটা স্বত্ত্বা চাইবে ত্রিজয়কে।দুই স্বত্ত্বার সংঘর্ষে নিস্পা অবশেষে কাকে ভালোবাসে সেটাই দেখার পালা।)

