#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
বোনাস পর্ব
আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে।নিচের তলা পুরোটা জ্বলে গিয়েছে।এখন সেই আগুন ধেয়ে উঠছে উপরের দিকে।উপরের কয়েকটা ঘরে আগুন ঢুকে গিয়েছে ইতিমধ্যে।আগুনের উত্তপ্ত তাপে ঝলসে যাচ্ছে চামড়া।বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম।ফুসফুস টা ভীষণ জ্বালা করছে ধোঁয়ার ঝাঝে।
নিস্পার চোখ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।নাকের পানি, চোখের পানিতে জান যায় অবস্থা।নিভু নিভু চোখ সম্পূর্ণটা বন্ধ করার মূহুর্তে ঝাপসা দৃষ্টি একবার দেখতে পেলো ত্রিজয়কে।গায়ে শার্ট নেই,উন্মুক্ত শরীরে দৌড়ে আসছে লোকটা।উন্মাদের মতো এলোমেলো লাগছে তার ফর্সা চেহারা।
এদিকেই আসছে,ত্রিজয় এদিকেই দৌড়ে আসছে,নিস্পা আর কিছু দেখতে পেলো না,বন্ধ হয়ে গেলো তার চোখ,কানের কাছে অস্পষ্ট শুনতে পেলো ত্রিজয়ের ধপ করে বসে পড়ার শব্দ।
নিস্পা সজ্ঞানে আছে,তবে শরীর সায় দিচ্ছে না,শক্তি পাচ্ছে না চোখ খোলার।ত্রিজয় দিক হারা পথিকের ন্যায় বিভ্রান্ত, সে দু’হাতে পাজাকোলে তুলে নিলো নিস্পার ভেঙে পড়া শরীর টা,অবিন্যস্ত কন্ঠে ডাকলো,
“কলিজা!কলিজা ঠিক আছো তুমি?”
নিস্পা দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরলো,চোখের পাতা টনটন করছে তার,সে সাড়াশব্দ করলো না।চুপচাপ উপলব্ধি করলো ত্রিজয়ের বুকের ভেতর বয়ে চলা অস্থিরতা।
ত্রিজয় নিস্পার কাঁধ ঝাকালো,দু গালে মৃদু থাপ্পড় দিয়ে কাপা কাপা কন্ঠে ডাকলো,
“এই কলিজা!ঠিক মতো তাকাও আমার দিকে।”
নিস্পা বড় করে একটা চাপা শ্বাস ফেললো,ঢোক গিললো ঘনঘন,বুকের ভেতর ভূমিকম্প অবিচল।
ত্রিজয় উন্মাদের মতো চুমু খেলো নিস্পার চোখেমুখে,বক্ষপটের চিনচিনে ব্যাথায় ভিজে এলো তার নীল অক্ষিপট,সে নিস্পার কপালে কপাল ঘষে ভাঙা কন্ঠে আবার ডাকলো,
“এই তাকাস না কেন আমার দিকে?তাকা, চোখ বড়ো বড়ো করে তাকা।”
নিস্পা পিটপিট করে তাকালো, নিজের হাতটা রাখলো ত্রিজয়ের গালের উপর,অস্পষ্ট আওড়াল,
“আপনি এসেছেন?”
ত্রিজয়ের ঝাপসা চোখে জমে থাকা পানিটুকু গড়িয়ে পড়লো এবার,বেশ কিছুক্ষণ হার্ট ব্লক হওয়ার পর যেমন হরে হৃদস্পন্দন ফিরে আসে ঠিক তেমন করেই ধড়ফড়িয়ে উঠলো সে,বিদ্যুতের গতিতে নিস্পাকে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে,বেহিসেবী চুমু খেয়ে বললো,
“আমার তো আসতেই হতো।আর ভয় নেই।”
নিস্পা ডুকরে উঠলো, ত্রিজয়ের পিঠ আঁকড়ে ধরতেই টের পেলো ত্রিজয়ের পিঠের কয়েকটা যায়গায় পুড়ে গিয়েছে,যন্ত্রণায় আর ভয়ে এবার কেঁদে দিলো মেয়েটা,ভেজা কন্ঠে বললো,
“ভয় হচ্ছে, মনে হচ্ছে প্রেমের সমাপ্তিতে সমাধি চিরধার্য।”
ত্রিজয় নিস্পাকে কোলে তুলে এনে একটা জানালার কাছে বসলো,আগুন এখানে পৌছাতে আরও বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগতে পারে।নিস্পাকে ভরসা জুগিয়ে বললো,
“সমাধি সমাপ্তি নয়।দেহের পরিনতি কখনো আত্মার বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে না।”
“আপনি কেন এলেন এখানে।এখন যে আমার সাথে আপনাকেও মরতে হবে।”
“তাতে কি?এই যে তোমাকে বুকে নিয়েছি।এখন মৃত্যুও কবুল।”
নিস্পা মুমূর্ষু কন্ঠে বললো,
“আপনি প্লিজ চলে যান।কিছুক্ষণের মধ্যে এই ঘরটাকেও আগুনে গ্রাস করবে।জ্বলেপুড়ে যাবে সব,সাথে আমরাও,,,”
ত্রিজয় নিস্পাকে বসিয়ে উঠে দাড়ালো এবার,নিস্পাকে বাচানোর এক টুকরো অনুপ্রেরণা দিতে বললো,
“চিন্তা করো না,তোমাকে সাথে নিয়েই বেড়োবো এখান থেকে,এই পাশের জানালাটা ভাঙতে হবে।”
ত্রিজয় ভারি কিছু খুজলো কিন্তু হাতের কাছে কিচ্ছু পেলো না,আগুন নৈকট্যে এসে পড়েছে, ঘরের দেয়াল গুলো পুড়ছে শা শা করে,ত্রিজয় লাথি দিলো কয়েকটা,শরীরের সব শক্তি কাজে লাগিয়ে ভাঙার চেষ্টা চালালো জানালাটা কিন্তু না ভাঙা গেলো না কিছুতেই।ত্রিজয় হাল ছাড়লো,নিস্পার নিস্তেজ মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,
“ভাঙা যাচ্ছে না,ভারি কিছু লাগবে।এখানে তো কিচ্ছু নেই।”
নিস্পা বুঝে গিয়েছে, বুঝে গিয়েছে মৃত্যু দ্বারপ্রান্তে। আর কিচ্ছু করার নেই,বাঁচার সব আশাই এখিন বিফলে যাবে,সে নিরাবেগ কন্ঠে আওড়াল,
“উপায় নেই,সমস্ত পথ বন্ধ।”
ত্রিজয় কর্ণপাত করলো না নিস্পার কথায়,আবারও চেষ্টা চালালো জানালাটা ভাঙার জন্য। কিন্তু খালি হাতে শুধু মাত্র শরীরের শক্তি দ্বারা সম্ভব নয়।
নিস্পা ত্রিজয়ের দিকে তাকিয়ে ম্লান কন্ঠে বললো,
“আপনি যেভাবে এসেছেন সেভাবে চলে যান।আমাকে নিয়ে বেড়োতে পারবেন না।”
ত্রিজয় জানালাটা ভাঙতে না পেরে রাগে একটা জোড়ালো ঘুষি বসালো, রাগান্বিত কন্ঠে বললো,
“বলেছিনা যাওয়ার হয় তোমাকে নিয়েই যাবো।”
নিস্পা জানে তাদের সামনে মৃত্যু আগুন ঘরে প্রবেশ করে ফেলেছে,আসবাবপত্র গুলো পুড়ছে কি নিদারুণ ভাবে,কিছুক্ষণের মধ্যে তারাও পুড়বে,মৃত্যু থেকে পালিয়ে বাঁচা যায় না,তারচেয়ে মৃত্যুকে সাদরে গ্রহণ করে নেওয়াই উত্তম।
ত্রিজয় নিরাস হয়ে এসে বসলো নিস্পার কাছে,একহাতে চেপে ধরলো নিস্পার বাহু,চোখের সামনে সবকিছু পুড়ে যাচ্ছে,ফনাধরা বিষধর সাপের মতো আগুন হিসহিসিয়ে ধেয়ে আসছে তাদের দিকে।তারা নিরুপায়, মৃত্যুকে গ্রহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মনে মনে।
অতিরিক্ত শোকে ভয়ডর একেবারেই লোপ পেয়েছে নিস্পার,সে আস্তে কতে ত্রিজয়ের কাঁধে মাথা রাখলো,রিনরিনিয়ে বললো,
“ভালোবাসেন?”
ত্রিজয়ের নীল মনি জোড়ায় আগুনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে স্বচ্ছ কাচের ন্যায়,সে গমগমে স্বরে বললো,
“সন্দেহ আছে?”
“আমার জন্য মরতে পারবেন?”
“চোখ বন্ধ করে।”
“চলুন মরে যাই।”
ত্রিজয় শ্লেষ হাসলো, মৃত্যু কাছে,অনেক কাছে।চামড়া ঝলসে যাচ্ছে আগুনের উত্তাপে, তার নগ্ন শরীরের একাংশ ফোসকা পড়ে গিয়ে লাল হয়ে গিয়েছে। সে নিস্পাকে আগুনের উত্তাপ থেকে বাচাতে দু’হাত মেলে দিলো,বুকের ভেতর জড়িয়ে ধরলো নিস্পার লতানো দেহখানি, আগুনের দিকে ঘুরিয়ে নিলো নিজের পিঠ,নিস্পাকে আরও কয়েক মিনিট নিশ্চিন্ত রাখার জন্য বললো,
“বেডে চলো মরার আগে শেষ বাসরের ফিল নিয়ে যাই।”
নিস্পা নাক মুখ কুচকে কিছু একটা বলতেই যাবে তার আগেই শোনা গেলো ভারি কিছুর আঘাতে জানালা ভাঙার শব্দ।নিস্পা আর ত্রিজয় রীতিমতো হকচকালো, থতমত খেয়ে উঠে দাড়ালো তড়িৎ।তাকরিমের হাতে মোটা একটা লোহার দন্ড,সে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়েছে ইতিমধ্যে। কিন্তু তাদের আসার অপেক্ষায় বসে থাকতে পারেনি হাত গুটিয়ে,তাই নিজেই ঢুকে পড়েছে নিস্পাকে বাঁচানোর জন্য।ত্রিজয়ের চেয়ে আরও কয়েকগুন বাজে ভাবে পুড়ে গিয়েছে তার শরীর,অথচ শরীরের জ্বালা কাবু করতে পারে নি তাকে যতটা কাবু করলো ত্রিজয় নিস্পার এমন ঘনিষ্ঠ আর জ্বালাময় মূহুর্ত।
ত্রিজয় তখনও নিস্পাকে দু’হাতে জড়িয়ে আগলে রেখেছে।তাকরিম সেদিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য হাসলো,নিস্পাকে উদ্দেশ্য করে উপহাস করে বললো,
” তুমি ভালোবাসা চিনে উঠতে পারো নি, তোমার জন্য বড্ড আফসোস হচ্ছে আমার।
নিস্পা কি বলবে বুঝতে পারছে না,তাকরিমের অবস্থা মারাত্মক ভয়াবহ, শরীর পুড়ে গিয়েছে বাজে ভাবে,আর সেই কারণ টা সে,কি এক পীড়াদায়ক অনুভূতিতে চেপে এলো তার গলা,সে জড়ানো কন্ঠে বললো,
” আপনি এখানে কেন এলেন?”
তাকরিম জ্বলন্ত চোখে তাকালো ত্রিজয়ের দিকে, তারপর দাঁতে দাঁত চিবিয়ে বললো,
“আগুনের ভেতর রোমান্স করতে করতে জ্বলেপুড়ে মরে যাবে সেটা তো হতে দিতে পারি না,তাই বাঁচাতে এলাম।”
ত্রিজয়ের বুকের ভেতরে বরফ গলার মতো সমস্ত রাগ গলতে শুরু করলো,তাকরিমের উপর জমে থাকা সমস্ত রাগ ক্ষোভ উধাও হলো এক নিমিষে,তাদেরকে বাঁচানোর জন্য তাকরিমের এমন প্রদক্ষেপ সত্যিই তার ধারনারও বাহিরে ছিলো,সে রুদ্ধশ্বাসে বললো,
” বোকামি করবেন না এমপি মশাই, আমরা বেঁচে গেলে কিন্তু আপনাকে মামা ডাক শুনতে হবে।আপনি এখান থেকে বেড় হন।”
তাকরিম দাঁতে দাঁত পিষল,ক্ষুব্ধ কন্ঠে বললো,
“আগে এখান থেকে বেড় হ তারপর চার ডজন ফয়দা করিস মাদা*চোদ।”
ত্রিজয় অসম্মতি জানিয়ে বললো,
“আমাদেরকে কশাই ভাবেন নাকি আপনি? আগে আপনি নিজে বের হন এমপি মশাই।আমরা নিজেরদেরকে বাঁচানোর জন্য আপনার সাহায্য চাই না।”
“নাটাক মারাছ আমার সাথে? এখন নাটক মারানোর সময়?আলোরে নিয়া বের হ এখান থেকে।”
আগুন পুরো রুমে ছড়িয়ে পড়েছে তর্কে সময় নষ্ট হচ্ছে অযথা,ত্রিজয় বুদ্ধি করে কোলে তুলে নিলো নিস্পাকে তারপর জানালা দিয়ে বেড় করে বললো,
“ওই পিলার টা ধরো কলিজা,তারপর আস্তে আস্তে নিচে নামো।”
নিস্পার হাত পা কাঁপছে,সে বিভ্রান্ত কন্ঠে বললো,
“আমি পারবো না,ভয় করছে।”
ত্রিজয় হন্তদন্ত হয়ে একবার তাকালো তাকরিমের দিকে তারপর নিস্পার কপালে একটা চুমু খেয়ে বললো,
“তুমি পারবে।কষ্ট করে একবার নামতে পারলে বেঁচে যাবে তুমি।আর একবার বেঁচে গেলে এমন চুমু সকাল বিকেল পাবে।চুমু খাওয়ার জন্য হলেও নামো প্লিজ।”
নিস্প ডুকরে উঠলো, দু’হাতে শক্ত করে ধরলো পিলার টা ফ্যাসফ্যাসে কন্ঠে বললো,
“আপনি খুব অসভ্য,বেঁচে ফিরতে পারলে শোধ তুলবো বলে দিলাম।”
নিস্পা আস্তে আস্তে নিচে নামতে শুরু করলো।উপরে দাঁড়িয়ে সে দৃশ্য দেখে নিশ্চিন্ত হলো দুই প্রেমিক পুরুষ।একটা রুদ্ধশ্বাস ছেড়ে দু’জনেই তাকালো দুজনের দিকে।ত্রিজয় গমগমে কন্ঠে বললো,
“নিচে যান এমপি মশাই।”
তাকরিমের পাঞ্জাবীতে আগুন ছুই ছুই,ত্রিজয় দ্রুত দুই হাতে টেনে ছিড়লো তাকরিমের পাঞ্জাবী,হন্তদন্ত হয়ে বললো,
“নিচে নামুন এমপি মশাই।আপনার ভালোবাসা জিতে নেওয়ার সুযোগ হাত ছাড়া করবেন না।”
তাকরিম রেগে গলা চেপে ধরলো ত্রিজয়ের,রূঢ় কন্ঠে বললো,
“মাদা*চোদ তুই আগে নাম।”
“পাগলামি করবেন না এমপি মশাই,যান আপনার ভালোবাসা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।”
“কুত্তার বাচ্চা তুই নাম।তোর কিছু হয়ে গেলে আমার আলেকজান্দ্রা মরে যাবে।”
⭕এই পেজটা চলে যেতে পারে।নতুন পেজে যুক্ত থাকার জন্য ফলো দিয়ে রাখার অনুরোধ রইলো
https://www.facebook.com/share/1YsAbYmfgb/
চলবে,,,,

