ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ #পর্ব__________২৪

0
21

#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব__________২৪

সাদ বিছানায় হেলান দিয়ে বসে একটা ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করার ভান করছে, কিন্তু ওর চোখ বারবার ঘড়ির কাঁটার দিকে যাচ্ছে।
রাত এগারোটা বেজে গেছে। ফালাক অবশেষে রুমে আসে। ফালাক রুমে এসে একটা কথাও বলেনি। সোজা বারান্দায় চলে গেছে। এক ঘণ্টা পার হয়ে গেল, মেয়েটা এখনো রুমে আসার নামগন্ধ নেই। সাদ কয়েকবার আড়চোখে বারান্দার দিকে তাকাল। কাঁচের দরজার ওপাশে দেখা যাচ্ছে ফালাক বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। পিঠটা দেখা যাচ্ছে শুধু।
বিড়বিড় করল—
“What is she doing out there for so long? Is she trying to avoid me? (ও বাইরে এতোক্ষণ ধরে কী করছে? ও কি আমাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে?)”

সাদের ইগো বলছে চুপচাপ বসে থাকতে, কিন্তু ওর মন বলছে অন্য কিছু । সাদ ল্যাপটপটা একপাশে সরিয়ে রাখল। দুই তিনবার বারান্দার দরজার দিকে উঁকি দিল। ফালাকের কোনো নড়চড় নেই।
শেষমেশ সাদ আর থাকতে পারল না। ধীরপায়ে বারান্দার দরজা ঠেলে বাইরে গেল। ফালাক তখনো অন্য দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে বসে আছে। সাদ ফালাকের ঠিক পেছনে গিয়ে দাঁড়াল।

“কিরে? রুমে আসছিস না কেন? এখানে কী করছিস এতো রাত পর্যন্ত?”

ফালাক কোনো উত্তর দিল না। সাদের গলার আওয়াজ পেয়েও ফিরে তাকাল না। দৃষ্টি দূরের কৃষ্ণচূড়া গাছটার দিকে স্থির। ফালাকের এই উপেক্ষা সাদের সহ্য হচ্ছে না। ফালাকের একটু কাছে সরে এল।
“কথা কানে যাচ্ছে না?
ফালাক এবারও কিছু বলল না, শুধু মুখটা আরও একটু অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিল। সাদ বুঝতে পারছে ফালাকের মনে এখনো সেই অপবাদের আঘাতটা দগদগে।
কিন্তু ফালাকের এই পাথরের মতো নীরবতা ওকে পাগল করে দিচ্ছে।
সাদ হুট করে ফালাকের হাতটা ধরল। ফালাকের হাত বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে আছে।

“জিজ্ঞেস করলাম তো, রুমে আসছিস না কেন?
ফালাক এবার খুব ধীরলয়ে সাদের দিকে তাকাল।
চোখ দুটো চাঁদের আলোয় চিকচিক করছে, হয়তো জল জমেছে। ঠোঁটে কোনো কথা নেই। শুধু সাদের চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে আবার মুখ ফিরিয়ে নিল।

সাদের সহ্য হচ্ছিল না। ফালাকের এই অবজ্ঞা মাথায় আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে যেন । সাদ আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না। এক ঝটকায় ফালাকের হাত ধরে নিজের দিকে ঘুরায় । ফালাক কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাদ ফালাকের দুই গালে হাত রেখে নেশাতুর আক্রোশে ফালাকের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল।

ফালাক প্রচণ্ড চমকে গেল। দুই হাত দিয়ে সাদের বুক ঠেলে নিজেকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগে । দম বন্ধ হয়ে আসছে। শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে ও সাদকে দূরে সরিয়ে দিতে চাইল, কিন্তু সাদের পাথরের মতো শরীরের কাছে ফালাক বড় অসহায়।

বেশ কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তির পর সাদ ফালাক কে ছেড়ে দিল। ফালাক হাঁপাতে হাঁপাতে কয়েক কদম পিছিয়ে গেল। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে, বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছে। অপলক চোখে সাদের দিকে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল—

“কী… কী করছেন এসব? আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন?”

সাদ কোনো উত্তর দিল না। ফালাকের বিধ্বস্ত মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। চাঁদের আলোয় সাদের চোখ দুটো এক অদ্ভুত মায়ায় চিকচিক করছে। দীর্ঘ এক নীরবতার পর সাদের গলা দিয়ে খুব নিচু স্বরে তিনটা শব্দ বেরোল—

“আমার ভুল হয়েছে।”

ফালাক থমকে গেল। এ বাড়ির দাপুটে বড় ছেলে, যার অহংকারে আকাশ ছোঁয়া, সে আজ ‘ভুল হয়েছে’ বলছে? ফালাক বিশ্বাস করতে পারছিল না নিজের কানকে। পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। ফালাক কোনো কথা বলল না, কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না। শুধু কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
সাদ ফালাকের উত্তরের অপেক্ষায় ছিল। ভেবেছিল ফালাক হয়তো এবার অন্তত কিছু একটা বলবে। কিন্তু ফালাকের এই অনড় নীরবতা সাদের ভেতরে থাকা ভয়ঙ্কর রাগী সত্তাটাকে আবার জাগিয়ে তুলল। ক্ষমা চাইল, অথচ ফালাক এখনো তাকে দূরে সরিয়ে রাখছে?
সাদের চোয়াল শক্ত হয়ে এল। হুট করে ফালাকের কাছে গিয়ে দাঁড়াল।

“আমি ক্ষমা চেয়েছি ফালাক। এরপরেও তুই এমন মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকবি?

ফালাক তখনো নিশ্চুপ। যেন এই জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সাদের রাগ এবার তুঙ্গে উঠল। আর কোনো কথা না বলে এক ঝটকায় ফালাককে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিল।

ছাড়ুন আমায়! কী করছেন?”

সাদ কোনো কথা শুনল না। ফালাককে কোলে নিয়ে গটগট করে বারান্দা থেকে রুমে ঢুকল। ফালাক হাত-পা ছুড়ছে , সাদ লোহার মতো শক্ত বাঁধনে আটকে রেখেছে। সোজা গিয়ে ফালাককে বিছানায় সজোরে শুইয়ে দিল। ফালাক উঠে যেতে চাইলেই সাদ দুই হাত বিছানায় চেপে ধরে ফালাকের ওপর ঝুঁকে পড়ল।

“অনেক হয়েছে তোর অভিমান।

আমি বলেছি আমার ভুল হয়েছে, তার মানে চ্যাপ্টার ক্লোজড। এখন থেকে তুই আমার চোখের সামনে থাকবি, ঠিক যেভাবে আমি চাই। পালানোর চেষ্টা করবি না ফালাক, কারণ তুই জানিস আমি কতটা ভয়ংকর হতে পারি।”

ফালাক সাদের চোখের দিকে তাকিয়ে দেখল—সেখানে অনুশোচনা আর উগ্রতা মিলেমিশে একাকার। বুঝতে পারল, এই লোকটাকে বদলানো অসম্ভব। সে ক্ষমা চাইলেও রাজা, শাসন করলেও রাজা। ফালাক শুধু চোখের জল ছেড়ে দিয়ে সাদের বুকের নিচে নিজেকে সঁপে দিল।

__________

পরের দিন সকালে। ফালাকের দেখা নেই। সাদ আর রুমে বসে থাকতে পারল না। বিছানা ছেড়ে উঠে ধীরপায়ে করিডোরে বেরিয়ে এল। সিঁড়ির কাছে আসতেই মিরা’র সাথে দেখা। মিরা হাতে কয়েকটা বই নিয়ে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিল।

“মিরা, ফালাক কোথায়?”

মিরা একটু অবাক হয়ে ভাইয়ের দিকে তাকাল। ভাইয়ের গলায় আজ অদ্ভুত এক ব্যাকুলতা।

“ভাবি তো ছাদে গেছে ভাইয়া।

সাদ আর কথা বাড়াল না। লম্বা পা ফেলে ছাদের দিকে এগিয়ে গেল। ছাদের দরজাটা আধখোলা। বাইরে ফুরফুরে বাতাস বইছে। সাদ ছাদে পা দিতেই দেখল, ফালাক ছাদের রেলিং ধরে একা দাঁড়িয়ে আছে। ফালাক সাদের উপস্থিত টের পেলেও ফিরে তাকাল না। ওর মৌনতা যেন আজ পাহাড়ের মতো অটল।
সাদ গিয়ে ফালাকের ঠিক পেছনে দাঁড়াল। কিছুক্ষণ নীরব থেকে খুব নিচু আর গাঢ় স্বরে বলতে শুরু করল —
“ফালাক… আমি কিছু বলতে চাই ।”

ফালাক একটু নড়েচড়ে উঠল। সাদ একটা লম্বা নিশ্বাস নিয়ে বলতে লাগল—

“সেদিন আরিয়ানের পাশে তোকে দেখে আমার মাথা ঠিক ছিল না। বারবার মনে হচ্ছিল, আমার থেকে তোকে বুঝি কেউ কেড়ে নিচ্ছে। আমার মনে হয়েছিল তুই আমাকে ছেড়ে চলে যাবি । এসব ভেবে আমার মাথায় আগুন ধরে যায়। আর তাই আমি ওসব কথা বলে ফেলেছিলাম…”

সাদ একটু থামল।

“আমি সহজে কাউকে বিশ্বাস করি না ফালাক, এটা আমার স্বভাবটাই এমন— কিন্তু তবুও… আমি তোর কাছে ক্ষমা চাইছি। আমার ওসব বলা ঠিক হয়নি।”

ফালাক আকাশ থেকে পড়ল। সাদের মতো অহংকারী মানুষ, সে আজ নিজের ভুল স্বীকার করছে? ফালাকের মনের কোণে একরাশ প্রশান্তি খেলে গেল। ভাবতেই পারেনি সাদের ভেতরে ওকে হারানোর ভয় কাজ করে। সাদ মির্জার মতো লোক তাকে হারানোর ভয় পায়! এই চিন্তাটাই ফালাকের সবটুকু কষ্ট এক মুহূর্তে ধুয়ে দিল।
ফালাক খুব ধীরে সাদের দিকে ঘুরে দাঁড়ায় । ফালাকের খুব ইচ্ছা করছিল সাদের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়তে, নিজের আবেগ সংবরণ করে মাথা নিচু করে রইল।
ফালাক খুব নিচু স্বরে বলে -“হুম…”

সাদের বুক থেকে যেন একটা ভারী পাথর নেমে গেলো।
সাদ ফালাকের চিবুক ধরে মুখটা একটু উঁচু করল। দুজনের চোখাচোখি হলো। ফালাকের চোখের কোণে জমে থাকা জল আজ আর দুঃখের নয়, পরম প্রাপ্তির। সাদ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার এই শান্ত পরীর দিকে, যে তার সব বিষাক্ত নীলকে নীলকণ্ঠের মতো শুষে নিয়েছে।

___________

বাগানটা আজ খুব সজীব লাগছে। ফালাক সবসময়ই একটু প্রকৃতিপ্রেমী। মির্জা বাড়ির এই বাগানটা ওর খুব প্রিয় জায়গা। যখনই খুব একা লাগে বা মন খারাপ থাকে, এখানে এসে গাছের সাথে কথা বলে। ফালাক পরম মমতায় একটা গোলাপ গাছের গোড়ায় মাটি আলগা করে দিচ্ছিল। শাড়ির আঁচলটা কোমরে গোঁজা, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। টেরই পায়নি কখন আকাশটা গম্ভীর হয়েছে।

ওদিকে সাদ ফোনে কার সাথে কথা বলতে বলতে বাড়ির পেছনের নির্জন দিকটায় চলে আসে। পরনে নীল শার্ট , হাতে ফোন। সাদও খেয়াল করেনি প্রকৃতির এই হুট করে বদলে যাওয়া।

হঠাৎ করেই আকাশ চিরে বিদ্যুত চমকালো, আর তার পরেই ঝমঝমিয়ে নামল বৃষ্টি। সাদ ফোনটা পকেটে পুরে বাগানের পাশের আউটহাউসটার বারান্দার নিচে দাঁড়ালো। শার্ট সামান্য ভিজেছে। যেখানে দাঁড়িয়েছে, সেখান থেকে পুরো বাগানটা স্পষ্ট দেখা যায়।
সাদ ওখান থেকে ফালাককে দেখতে পেল।

ফালাক দু-হাত ডানা মেলে দিয়ে আকাশের দিকে মুখ তুলল। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা শরীরে শীতলতা বুলিয়ে দিচ্ছে। লেভেন্ডা রঙের শাড়িটা মুহূর্তেই ভিজে ওর ফর্সা শরীরে লেপ্টে গেল। চুলগুলো পিঠ বেয়ে কোমর পর্যন্ত নেমে এসেছে, সেখান থেকে বৃষ্টির জল গড়িয়ে পড়ছে। ফালাক যেন আজ এক ডানাকাটা পরীর মতো বৃষ্টিতে ভিজছে । ঠোঁটে এক স্বর্গীয় হাসি, চোখ দুটো বন্ধ। নিজের মনেই বৃষ্টির তালে দুলছে।

সাদ মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে রইল। চোখের পলক পড়ছে না। ফালাককে এতোটা জীবন্ত, এতোটা আবেদনময়ী আর এতোটা ছটফটে আগে কখনো দেখেনি। বৃষ্টির জলে ভিজে ফালাকের শরীরের ভাঁজগুলো শাড়ির নিচে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মিনিট পাঁচেক মন খুলে ভেজার পর ফালাকের ঘোর কাটল। পিছনে ফিরে দেখল কয়েক গজ দূরে আউটহাউসের নিচে সাদ দাঁড়িয়ে আছে।
সাদের গভীর আর নেশাতুর দৃষ্টি সরাসরি ফালাকের ওপর নিবদ্ধ। ফালাকের সারা শরীরে বৃষ্টির শীতলের মাঝেও এক উষ্ণ শিহরণ খেলে গেল।

ফালাক সামনে এসে দাঁড়িয়ে সিক্ত গলায় বলল

“আপনি এখানে? এদিকে কখন এলেন?”

সাদ একটু নড়েচড়ে দাঁড়িয়ে নির্লিপ্ত গলায় বলল—

“ফোনে কথা বলতে বলতে এদিকে চলে এসেছিলাম। হুট করেই তো বৃষ্টিটা নামল।”

ফালাক হুট করেই এক সাহসী কাজ করে বসল। নিজের ভেজা নরম হাত বাড়িয়ে সাদের শক্ত হাতটা চেপে ধরল।

সাদ কিছুটা চমকে উঠল। ফালাকের হাতের এই হিমশীতল স্পর্শ শরীর দিয়ে এক তীব্র বিদ্যুতের মতো বয়ে গেল। ফালাক টান দিয়ে বৃষ্টির মধ্যে নিয়ে আসতে চাইল।
সাদের হাতের বাঁধন আরও শক্ত করে এক পা বৃষ্টির মাঝখানে নিয়ে এল। বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটাগুলো সাদের নীল রঙা শার্ট এ পড়তে শুরু করল।

“মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে ভিজে দেখুন!সবসময় এতো নিয়ম মেনে চলা উচিত নয়। জীবনটাকে একটু উপভোগ করতে হয়!

সাদ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। বৃষ্টির জলের ফোঁটাগুলো মুখে, কপালে আছড়ে পড়ছে। সত্যিই তো! এভাবে তো কেউ কোনোদিন তাকে বলেনি। জীবনের এই ছোট ছোট আনন্দগুলো যে উপভোগ করা যায়, তা আজ এই ছোট্ট মেয়েটা তাকে শেখাচ্ছে।
তাকিয়ে রইল ফালাকের দিকে। বৃষ্টির জলে ভেজা ফালাকের মুখটা এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর দৃশ্য বলে মনে হচ্ছে সাদের কাছে। ফালাকের চোখের পাতায় জলের কণাগুলো মুক্তোর মতো চিকচিক করছে।
সাদ নেশাভরা চোখে ফালাকের দিকে তাকিয়েই রইল। সাদের ঠোঁটের কোণে খুব ক্ষীণ কিন্তু পরম এক প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল।
সাদ আকাশের দিকে মুখ তুলে চোখ বন্ধ করল। বৃষ্টির জল কপাল আর চোখের পাতা ছুঁয়ে নামছে, সত্যিই উপভোগ করছে! বৃষ্টির এই ছন্দময় শব্দ, মাটির সোঁদা গন্ধ ।

সাদ চোখ না খুলেই ফিসফিস করে বলল—
“ঠিকই বলেছিস । আসলেই তো… মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে ভেজা উচিত। এতোটা হালকা আগে কখনো
লাগেনি।

চলবে —

#everyonefollowers #উপন্যাস #উপন্যাসপ্রেমী #গল্পফ্যাক্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here