শেহরোজ – ১৭ #ইসরাত_জাহান_দ্যুতি

0
20

#শেহরোজ – ১৭
#ইসরাত_জাহান_দ্যুতি
***

“সাব্বির?” আদেশ দিলো শেহরোজ‚ “কাজ শুরু করো তোমার।”

ল্যাপটপ কোলের ওপর নিয়ে বসে থাকা সাব্বির ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে৷ শেহরোজের নির্দেশে জবাব দিলো‚ “মাত্র দুই মিনিট‚ শায়েগান।”

ঝড়ের গতিতে ল্যাপটপের কিবোর্ডে আঙুল চালাল সাব্বির। পাশে বসে আকাশ দেখল‚ কীসব একগাদা কোড লিখল সে। তারপর দু মিনিটের মাঝেই সে জানাল‚ “ডান!”

লাইব্রেরির ভেতর থাকা সিকিউরিটি ক্যামেরাসহ লাইব্রেরির পেছনের বাড়িটার সকল ক্যামেরা হ্যাক করে নিয়েছে সে। এখন সে ক্যামেরাগুলোকে নিজের ইচ্ছামতো মুভমেন্ট করাতে পারবে।

“আমাদের প্ল্যানটাকে কি আবার রিপিট করতে হবে?” জিজ্ঞেস করল শেহরোজ।

আকাশ বলল‚ “রমেশচন্দ্রকে সহজে কব্জা করতে পারলে তো আর কারও জান কবজ করতে হবে না‚ তাই না?”

শেহরোজ কিছু বলার আগেই ইব্রাহীম একটু হেসে উঠল। তিরস্কার সুরে বলল‚ “ব্যাটা‚ তুমি কবজ না করতে চাইলেও তারা ঠিকই সুযোগ খুঁজবে তোমার জানটাকে কবজ করার।”

“অপারেশনের লক্ষ্যটাকে সবাই মাথায় রাখবে”‚ গম্ভীরস্বরে নির্দেশ দিলো শেহরোজ। “ভিসিকে সহজে ধরা গেলে তো ভালো৷ আর সহজ না হলে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই তাকে ধরতে হবে।”

মেজর শেহনানের অভিব্যক্তি নির্বিকার ছিল। শেহরোজের কথাটা শুনে বলল‚ “রমেশচন্দ্রকে হালকাভাবে নিয়ো না।”

“আপাতত কোনোভাবেই নিচ্ছি না”‚ মুচকি হেসে বলল শেহরোজ৷ “আগে মুখোমুখি তো হই।”

“ক্যাপ্টেন?” শেহরোজকে জিজ্ঞেস করল ইব্রাহীম‚ “সাব্বিরের কি গাড়িতে একা থাকাটা সেইফ হবে?”

“আরে গাড়ির মধ্যে আমার আর কী হবে?” সাব্বির আশ্বস্ত করল সবাইকে‚ “টেনশন নিয়েন না আপনারা।”

“আপনি কী বলেন‚ বস?” শেহরোজের জবাবের আশায় রইল ইব্রাহীম।

“ড্রোন কন্ট্রোল‚ সিকিউরিটি ক্যামেরা কন্ট্রোল‚ এগুলোর জন্য তার চেয়ে বেশি যোগ্য আর কেউ নয়। ওর জন্য গাড়িই সেইফ।” জানাল শেহরোজ‚ “কিন্তু আপনাকে কিংবা আকাশকে ভেতরে একা এগোতে দিতে রাজি নই আমি। এজন্য সাব্বিরকে একাই থাকতে হবে।”

পাঁচজনের মাঝে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার সমাপ্তি টেনে গাড়ি থেকে নেমে পড়ল শেহরোজ। মাথা আর মুখ পুরোটাতেই কালো মুখোশে ঢাকা সবার। পরনে বুলেটপ্রুফ ভেস্ট‚ পায়ে আর্মি কমব্যাট বুট। পাঁচজন সদস্যের এই অপারেশনে মেজর শেহনান বাদে শেহরোজ বয়সে বাকিদের চেয়ে ছোটো হলেও সে-ই সিনিয়র এজেন্ট। এসপিওনাজ জগতে আজ অবধি যত মিশনে তাকে নামতে হয়েছে— তার তালিকা মুখে বলেও শেষ হবে না৷ এই মিশনে আপাতত ওর মতো ডেমোলিশন এক্সপার্ট‚ ফায়ারআর্ম এক্সপার্ট এবং ফ্রি হ্যান্ড কমব্যাট এক্সপার্ট আর কেউ নয়। তবে কাছাকাছি পর্যায়ে আছে মেজর শেহনান। যে কয়েক মাস আগেই প্যারা কমান্ডো ট্রেনিং শেষ করেছিল। আর বাকি তিনজন দীর্ঘদিন অবসর জীবন কাটানোর ফলে ওদের দুজন থেকে সব কিছুতেই বেশ পিছিয়ে।

তাই ওরা দুটো ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। এক দলে ইব্রাহীম আর শেহরোজ‚ অন্য দলে শেহনান আর আকাশ। দুই দলের নেতৃত্বে শেহরোজ আর শেহনান।

লাইব্রেরিটা হচ্ছে জনসাধারণের চোখে একটি ধোঁকা এই বাড়িটার। সকল অফিসার বই পড়ার অছিলাতে এই লাইব্রেরিতে প্রবেশ করে। তারপর লাইব্রেরির পেছনে গুপ্ত পথ দিয়ে ঢুকে পড়ে বাড়িটাতে। বাড়িটার মধ্যে চলে এনএসআই অফিসারসহ সেনাবাহিনীর ইনটেলিজেন্স অফিসারদের প্রশিক্ষণ‚ সরকারের স্বার্থ জড়িত নানানরকম আলোচনাসভা। তবে আরও একটি তথ্য মেজর শেহনান পেয়েছে। সরকারের জন্য হুমকি বা বিপজ্জনক হতে পারে এমন ব্যক্তিদের গুম করা হয় এখানেই— তাদের জন্য ‘টর্চার সেল’ তৈরিও আছে এখানেই। তথ্যটা কতটুকু সত্য তা জানা নেই। সেই সত্যতা যাচাই করা আর ভার্সিটির ভিসি রূপী স্পাই এজেন্ট রমেশচন্দ্রকে শিকার করাই মূল উদ্দেশ্য এই অপারেশনের।

লাইব্রেরির দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলানো৷ তালা খোলা শেহরোজসহ বাকি তিনজনের কারও জন্যই কোনো ঘটনা নয়৷ পিনের সাহায্যে তালাটা শব্দ না করেই খোলা যায়। কিন্তু ওরা জানে‚ ভেতর থেকেও দরজাটা বন্ধ৷ তাই শেহরোজ ইশারায় বাকিদের দু পাশে সরে যেতে বলে দরজার দুটো স্থানে এক্সপ্লোসিভ লাগিয়ে দিলো। কয়েক সেকেন্ডের মাঝে শব্দহীন বিস্ফোরণ ঘটে দরজার ওই স্থানই শুধু ভাঙল৷ সঙ্গে সঙ্গে বাকি তিন সদস্য অস্ত্র তাক করল দরজার দিকে—ওপাশে কেউ যাতে হামলা করার আগেই ওরা হামলা চালাতে পারে৷ ভাঙা অংশের ফাঁকে হাত ঢুকিয়ে শেহরোজ দুটো ছিটকিনি খুলে ফেলল। কোনো বাঁধা আসলো না ভেতরে ঢোকার সময়। অন্ধকার লাইব্রেরির মাঝে ঢুকেই চোখে সবাই নাইট ভিশন পরে নিলো। সামনে এগোতেই লাইব্রেরিয়ানের চেয়ারে বসা একটি কালো কুচকুচে যুবককে বসে বসেই ঘুমে ঢুলতে দেখল শেহরোজ৷ আর তার সামনে টেবিলের ওপর পিসি যন্ত্রপাতি। সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা যাচ্ছে কম্পিউটারে।

ছেলেটাকে এভাবে ঘুমাতে দেখে ইব্রাহীম ফিসফিসিয়ে বলে উঠল‚ “আহাম্মকটাকে এক্কেরে ঘুমিয়ে যেতে বারণ করেছে কে?”

তার রসিকতার কোনো জবাব দিলো না কেউ। শেহরোজ ছেলেটার সামনে গিয়ে পকেট থেকে ছোট্ট একটা বোতল বের করে স্প্রে করে দিলো তার নাকের কাছে৷ ঢুলতে থাকা ছেলেটা এবার ঘুমের মাঝেই চেয়ার থেকে এক পাশ হয়ে মেঝেতে পড়ল কাটা কলাগাছের মতো৷ জ্ঞানশূন্য থাকবে সে অন্তত ঘণ্টা দুই।

এরপর খুব সতর্কতার সাথে চারজন অস্ত্র নিয়ে চারদিকে নজর বুলাতে বুলাতে লাইব্রেরির শেষ সীমানায় এসে পৌঁছল। তারপর পেছন দরজাটাও একইভাবেই খুলে ফেলল ওরা৷ আর তখনই স্পাই ইয়ারপিসে সাব্বিরের কথা শুনতে পেলো সবাই‚ “কমপক্ষে ছজন টহল দিচ্ছে বাড়ির চারপাশ জুড়ে৷”

বাড়ির মাথার ওপর সাব্বিরের ড্রোন ক্যামেরা উড়তে আরম্ভ করেছে৷ পাহারাদার চিহ্নিত করা শেষ তার। এরপর যেটা ঘটল সেটা কেবল নয় মিনিটের একটি একপাক্ষিক লড়াই৷

লাইব্রেরির পেছন দরজা দিয়ে ওরা প্রবেশ করল মূল আস্তানার পেছন দিকে৷ অর্থাৎ বাড়িটার পেছনে। তারপর চলল সাব্বিরের নির্দেশনা মোতাবেক ছজন শত্রুকে ধরাশায়ী করার ছোট্ট অপারেশন। ছজন পাহারাদার ওদের চারজনের উপস্থিতি বোঝার আগেই বিভৎস মারে জ্ঞানশূন্য হলো কেউ৷ আর কেউ হলো শেহরোজের কাছে থাকা ক্লোরোফর্ম স্প্রে-তে।

এরপর শেহনান বাদে ওরা তিনজন বেরেটা পিস্তল হাতে নিয়ে চলে এলো বিশাল এরিয়ার ডুপ্লেক্স বাড়ির মূল ফটকের সামনে। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে শেহরোজ আবারও এক্সপ্লোসিভ লাগাল দরজাতে। অপেক্ষা করল শেহনানের জন্য৷ ঠিক তিন মিনিটের মাঝে সারা বাড়ি ডুবে গেল অন্ধকারে৷ শর্ট সার্কিটের ব্যবস্থা করে ফিরে এসেছে শেহনান। তারপরই এক্সপ্লোসিভ ফাটাল শেহরোজ। ভাঙা দরজা দিয়ে প্রবেশ করল একে একে খুব সতর্কতার সাথে। ওদের মাথার ওপর দিয়ে ঢুকল ড্রোন ক্যামেরাটাও৷ সাব্বির গাড়িতে বসে রিমোটের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করছে ওটাকে৷

বেশ বড়ো ড্রয়িংরুমের মাঝে এসে দাঁড়াল হান্টার টিম৷ চারপাশে একবার সতর্ক দৃষ্টি বুলিয়ে নিয়ে শেহরোজ নির্দেশ দিলো শেহনানকে‚ “আমাকে কভার করবে তুমি।” আকাশ আর ইব্রাহীমকে জানাল‚ “টার্গেট ওপরেই আছে৷ তোমরা পজিশন নিয়ে থেকো।” তারপর সাব্বিরকে ডাকল‚ জিজ্ঞেস করল‚ “কিছু নজরে পড়ছে না?”

“এখনো না।”

ড্রোন পৌঁছে গেছে ওপরতলাতে৷ যতগুলো খোলা ঘর আছে‚ সবখানে ঢু মারছে ওটা৷ শেহরোজের অপেক্ষার পালা শেষ হলো ওপর থেকে গুলির আওয়াজ শুনে৷ মেঝেতে ঝুপ করে কিছু একটা পড়ার আওয়াজও শুনল ওরা৷ ড্রোনের গুনগুন আওয়াজ পেয়েছিল হলরুমে থাকা সকলে৷ ড্রোনটা হলরুমের কাছাকাছি আসতেই একজন অফিসার সেটাকে লক্ষ করে গুলি করে বসেছে। তখনই সাব্বির চেঁচিয়ে উঠল‚ “ড্রোনে শুট করেছে‚ ভাই। ওপর থেকে অ্যাটাক…” কথাটা সম্পূর্ণ করারও সুযোগ পেলো না সে—ওপরতলা থেকে নিচে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলিবর্ষণ আরম্ভ হয়ে গেল মুহূর্তেই। দৌড়ে চারজন চারদিকে ছুটে কভার নিলো সোফার পেছনে। নাইট ভিশন গ্লাসের দৌলতে দেখতে পেলো শত্রুদের অবস্থান আর তাদের হাতে থাকা টর্চ লাইট। তা দেখেই শেহরোজ মৃদুস্বরে সাবধান করল সঙ্গীদের‚ “লাইট থেকে চোখ বাঁচিয়ো।”

স্পাই ইয়ারপিসে প্রত্যেকে শুনে আরও সাবধান হলো৷ নাইট ভিশন চোখে থাকা অবস্থায় চোখে আলো এসে পড়লে সাময়িক সময়ের জন্য অন্ধ হয়ে যেতে পারে তারা।

ঘুটঘুটে অন্ধকারে শত্রুরা ওদের অবস্থান কেবল আন্দাজ করে গুলি ছুঁড়ছে। কিন্তু ওদেরকে দেখতে না পাওয়ার ফলে নিচে নেমে যাওয়ার সাহস করছে না কেউ। হান্টার টিমের বেরেটা পিস্তল থেকেও বিরতিহীন গুলি শুরু হলো৷ একদম প্রথম আক্রমণেই চারজনের লাশ পড়ল। বুকে ক্রল করে করে ওরা সামনে এগোলো। তারপর সামনেটা ফাঁকা দেখেই উঠে পড়ল। সিঁড়ি বেঁয়ে ওপরে চলে এসে শেহরোজকে কভার দিতে দিতে এগোলো শেহনান। একইভাবে ইব্রাহীমকেও কভার দিয়ে অন্যদিকে এগোলো আকাশ।

পিস্তলটা দুহাতে ধরে নিঃশব্দে এগোলো শেহরোজ মাস্টার বেডরুমের দিকে৷ অন্ধকারটা এমন যে চোখ সয়ে যায় না। নেহাৎ নাইট ভিশনের কারণে হান্টার টিম সবটাই দেখছে। ঘরে ঢুকে শেহরোজ আবিষ্কার করল কোনো মাস্টার বেডরুম নয়৷ এটা হলঘরের মতো বিশাল। আর একটু আগেও এখানে কিছু মানুষের উপস্থিতি ছিল৷ কানটা খাঁড়া করল সে। শুনতে চেষ্টা করল কিছু একটা—নিঃশ্বাসে শব্দ। কিন্তু সামনে কেউ নেই৷ বিড়াল পায়ে নিঃশ্বাসের শব্দকে অনুসরণ করল সে৷ পিছু পিছু শেহনানও এলো। ইশারায় শেহরোজ তাকে টেবিলের নিচে দেখাল৷ জবাবে বাঁকা হাসল শেহনান। দুজন টেবিলের দুদিকে পজিশন নিয়ে তারপর আচমকা নিচু হয়ে বসে পড়ল একই সঙ্গে। পেলো দুজন শিকারকে। সজীব আর দীপক। ভীত ইদুরের মতো কাঁপছে তারা পিস্তল হাতে বসে৷ হঠাৎ দীপক শেহনানের উপস্থিতি টের পেলো কী করে যেন— টর্চের আলো শেহনানের দিকে তাক করে গুলি ছুঁড়তে এক মুহূর্ত ব্যয় করল না সে৷ তার দেখাদেখি সজীবও একইদিকে আক্রমণ চালাল৷ কিন্তু ওদের মৃত্যু ছিল নিশ্চিত। দীপকের কপালের মাঝ বরাবর টিপ পরিয়ে দিয়েছে শেহরোজ৷ উষ্ণ রক্ত ছিটকে সজীবের চোখে-মুখে লাগল। দীপকের লাশটা ঢলে পড়ল তার গায়ের ওপর৷ ব্যাপারটা কী হয়েছে তা বুঝে উঠতেই তার কানের ভেতর এসে প্রবেশ করল শেহনানের ছোঁড়া বুলেট।

হলঘর ফাঁকা‚ আর কোনো শিকার এখানে নেই৷ দুজন ঘর থেকে বেরিয়ে শেহরোজ ডাকল আকাশ আর ইব্রাহীমকে‚ “বয়েজ‚ তোমাদের কোনো আওয়াজ নেই কেন?”

“ইব্রাহীম ভাই একটার ভবলীলা সাঙ্গ করেছে। এ মুহূর্তে আমরা আসল টার্গেটের মুখোমুখি হতে চলেছি।” বলল আকাশ।

“তোমাদের পজিশন বলো ফাস্ট!” আদেশ করল শেহরোজ।

“একদম কর্নারের ঘরটা‚ ভাই। ওখানেই শব্দ পাচ্ছি। দুজন আছে ঘরে।”

“এগিয়ো না।” বলতে বলতে শেহরোজ শেহনানকে নিয়ে ছুটল সেদিকে। আর হঠাৎ তার মাঝেই গোলাগুলির আওয়াজ শুনল ওরা৷ তা শুনে জিজ্ঞেস করে উঠল শেহনান‚ “ঠিক আছো তোমরা।”

“ওরা এলোপাথাড়ি শুট করতে করতে এগোচ্ছে”‚ জানাল ইব্রাহীম।

শেহরোজ নির্দেশ করল‚ “নিচে চলে যান‚ ইব্রাহীম ভাই। আমি আর মেজর…” বলার মাঝপথেই শুনতে পেলো আকাশের আর্তনাদ।

“আকাশ কাঁধে গুলি খেয়েছে”‚ উত্তেজিত স্বরে অবগত করল ইব্রাহীম।

শেহরোজ শুনতে পেয়ে একই নির্দেশ দিলো‚ “তাকে নিয়ে নিচে চলে যান। কোনো শুট করবেন না। রমেশচন্দ্রকে জীবিত প্রয়োজন কিন্তু।”

কিন্তু ইব্রাহীম শিকারকে এত কাছাকাছি পেয়ে কেন যেন পিছু হটে পালাতে চাইলো না৷ সে সামনে দেখতে পেলো দুজন প্রায় একই শারীরিক কাঠামোর ব্যক্তিকে৷ অদ্ভুতভাবে তারাও মুখ ঢেকে ফেলেছে৷ যার জন্য সে সহজে চিনতে পারল না রমেশচন্দ্রকে৷ তবে রমেশচন্দ্রের উচ্চতার কথা মাথায় রেখে পালটা আক্রামণ চালাল সে৷ যেহেতু সে শত্রুর অবস্থান দেখছে‚ তাই টার্গেটদের গুলিবিদ্ধ করতে সফল। দুজনের শরীরেরই বুলেট ঢুকেছে৷ কেবল রমেশচন্দ্রের হাত আর পা লক্ষ করে গুলি করেছে সে—যাতে মরে না যায়। কিন্তু গুলি খেয়ে দুজনই ছুটে গেল কর্নারের ঘরটির আগের ঘরে।

আহত আকাশ কাঁধ চেপে ধরে করিডরে বসে আছে৷ ব্যথায় মাথা ঝিমঝিম করছে তার৷ বুলেটের শক্তিটা প্রচণ্ড। মনে হচ্ছে কাঁধ থেকে হাতটা ছিঁড়ে পড়ছে। শেহরোজ আর শেহনান তার কাছে পৌঁছতেই ইব্রাহীম এসে জানাল‚ “দুজনই আহত। কর্নারের আগের ঘরটাই ঢুকেছে।”

“আকাশকে নিয়ে নেমে যান জলদি”‚ বলল শেহরোজ। “ওর অবস্থা আরও খারাপ হলে বের হতে ঝামেলা হবে।”

“ভাই।” সাব্বিরের আতঙ্কিত গলা এলো আকস্মিক৷ প্রত্যেকে ইয়ারপিসে শুনল‚ “দুটো এলিয়ন আসছে ছুটে। রমেশচন্দ্র ওর ফোর্সকে ইনফর্ম করেছে নিশ্চয়ই।”

কথাটা শুনে আর এক মুহূর্ত দেরি করল না শেহরোজ। রমেশচন্দ্রের খোঁজে ঘরটাই সাবধানে ঢুকে পড়ল সে। ভেবেছিল গুলি ছুটে আসবে কিংবা টর্চের আলো৷ কিন্তু ঘরের মাঝ বরাবর চোখ পড়তেই একটা লাশ দেখল পড়ে থাকতে। চারপাশে আর কোথাও দ্বিতীয়জনকে পেলো না৷ জানালাতে চোখ আটকালো ওর৷ লাশটাকে টপকে ছুটে এলো জানালার কাছে৷ কোনো সন্দেহ নেই দ্বিতীয়জন এদিক থেকেই পালিয়েছে। তাহলে লাশটা কার? ফিরে এসে লাশটার মুখ দেখে আবিষ্কার করল‚ রমেশচন্দ্র নয় সে৷ মুহূর্তেই রাগে‚ হতাশায় চোয়ালদুটো শক্ত হয়ে উঠল ওর। ঘর থেকে বের হতেই শেহনানের মুখোমুখি হলো শেহরোজ। “পালিয়েছে”‚ জানাল শেহনানকে।

জবাব দিলো শেহনান‚ “তাহলে এক্ষুনি এখান থেকে বের হতে হবে৷ সাব্বির রিস্কে আছে।”

“কোনো টর্চার সেল নেই এখানে‚ রাইট?”

“না নেই। এই ব্যাপারে তবে আমার ভাইকে মিথ্যে ইনফরমেশন দিয়েছিল। ট্র্যাপে ফেলার জন্যই আরকি।”

“না থাকলেও জায়গাটাকে আর আড়ালে রাখার সুযোগ দেবো না৷”

সহমত দিলো শেহনানও‚ “জনসম্মুখে আর সাংবাদিকদের নজরে চলে আসে যাতে সে ব্যবস্থায় করা দরকার।”

ইব্রাহীম আকাশকে নিয়ে ইতোমধ্যে বেরিয়ে এসেছে বাসা থেকে। এদিকে শেহরোজ আর শেহনান কিছু জায়গা নির্বাচন করে কাঁধের হ্যাভারস্যাক থেকে এক্সপ্লোসিভ ফিট করল। এর মাঝেই সাব্বির শঙ্কিত গলায় জানাল‚ “লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়েছে গাড়িদুটো। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ নামছে না গাড়ি থেকে।”

“রমেশচন্দ্রের সেইফলি আসার অপেক্ষায়”‚ জবাব দিলো শেহরোজ।

“ওকে ধরতে পারেননি?”

“না। চাইলেও আজ আর ধরতে পারব না ওকে।” মেজাজের সঙ্গে বলেই শেহরোজ নির্দেশ দিলো ইব্রাহীমকে‚ “আকাশকে নিয়ে বাড়ির সামনের দিকে চলে যান।”

তাই করল ইব্রাহীম। এরপর শেহরোজ আর শেহনান নিরাপদে সরে এসে প্রথমে বিস্ফোরণ ঘটাল লাইব্রেরির পেছনে৷ ভয়াবহ আওয়াজ হলো বিস্ফোরকের৷ একইভাবে বাড়ির আরও দুদিকে ঘটল বিস্ফোরণ। উত্তেজিত সাব্বির এর মাঝে জানাল‚ “রমেশচন্দ্রকে দেখেছি। একটা গাড়িতে উঠে পড়েছে। কিন্তু কীভাবে‚ কোনদিক থেকে ওই বাড়ির ভেতর থেকে বের হয়ে এলো বুঝতে পারলাম না।”

আস্তানার আরও কত গুপ্ত পথ আছে তা জানা নেই হান্টার টিমের৷ তবে এক্সপ্লোসিভের কারণে রমেশচন্দ্রের বাহিনী বাড়িতে প্রবেশের সুযোগ‚ সাহস‚ কোনোটাই পেলো না। আর ঠিক এই সুযোগেই শেহরোজ ওর সঙ্গীদের নিয়ে বেরিয়ে এলো বাড়ির ডান পাশের উঁচু বাউন্ডারি টপকে। কিন্তু বাউন্ডারির ওপাশে কোনো বিপদ আছে কি-না তা ওদের জানা নেই।

সাব্বির গাড়িটাকে টেনে নিরাপদ স্থানে পিছিয়ে এনেছে৷ কারণ‚ বিস্ফোরণের আওয়াজ আশেপাশে থাকা যেসব সাধারণ মানুষের কানে গেছে‚ তারা চিৎকার চেঁচামেচি আর এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেছে। এতে অবশ্য লাভই হয়েছে ওর টিমের জন্য। শেহরোজ আর বাকিরা কারও মুখোমুখি হয়ে পড়লেও তারা ভাববে বোমা বিস্ফোরণের ভয়ে পালাচ্ছে। কিন্তু তবুও ভয় থেকেই যায়। রমেশচন্দ্রের বাহিনী কি এই অতর্কিত হামলার রহস্য উদ্ঘাটন না করেই কেটে পড়বে?

#নোট__ ফেসবুক অথোরিটির রেস্ট্রিকশনের ভয়ে ভয়ে আজকের পর্বটা লিখলাম। যেভাবে আজকের অ্যাকশন পর্বটুকু লিখতে চেয়েছিলাম সেটা লেখা সম্ভব হয়নি৷ সেনাবাহিনীর ইনটেলিজেন্স নিয়ে বিরোধী কিছু লিখলে পেইজটা রিস্কে পড়ে যায় নাকি সেই ভয়েই আরকি। ইনশা আল্লাহ আজ থেকে আবার নিয়মিত হয়ে যাব৷ সবাই রিয়্যাক্ট, কমেন্ট করবেন। ৫/৬ দিনের বিরতিতে পেইজের রিচ, এঙ্গেজমেন্ট সব মাইনাস হয়ে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here