#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|১৮|
#শার্লিন_হাসান
সকাল আটটার দিকে ঘুম ভাঙে ইলমার। চোখ মেলতে নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করে। আশেপাশে চোখ বুলিয়ে বুঝতে পারে সে আদনানের বিছানায় আছে।
কারেন্ট চলে এসেছে। কখন এসেছে ইলমা জানেনা। এই মূহুর্তে মাথায় আসে, সে আদনানের বিছানায় ঘুমিয়েছিলো। বোঝার সাথে সাথে ধরফড়িয়ে উঠে বসে। তার লম্বা সরু চুল পিঠ ছড়িয়ে আছে। মানে খোলা চুল নিয়ে ঘুমিয়েছিল সে। নিজের লম্বা চুল সহজে কাউকে দেখায় না ইলমা। আদনান দেখে নিয়েছে? তার চেয়ে বড় কথা তাকে বসা থেকে কীভাবে শোয়ালো? আদনান না হাতে ব্যাথা পেয়েছে?
সাথে সাথে কপাল চাপড়ায়। সে তো টুলে বসে ঘুমিয়ে পড়েছিলো। এরপর আদনান? তাকে পাশে ঘুমানোর জন্য জায়গা দিয়েছিল? ছিঃ,ছিঃ! আজেবাজে চিন্তা এসে ইলমার মাথায় ভর করে। আদনান আর যাই হোক এরকম কিছু করবেনা। কারণ তাকে দেখে মনে হয়না বাজে চিন্তা,কুমতলব আছে। ইলমা খাট থেকে নেমে সামনে এগুতে কাউচে নজর আসে। সেখানে একটা কম্বল অর্ধেক হয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে ফ্লোরে। তারমানে আদনান তাকে বিছানায় রেখে নিজে কাউচে শুয়েছিল? নাকী ধান্দাবাজি সবকিছু?
ইলমার কেন জানি বিশ্বাস হয়েছে, আদনান কাউচে ঘুমিয়েছে। বাকীটা আদনান ফিরলে ভালো মতন জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যাবে। আপাতত রুমটা গুছিয়ে সব পরিপাটি করে রাখাই উত্তম। ভাবা অনুযায়ী ইলমা কাজে নেমে পড়ে। আদনানের খাট,টেবিল গুছিয়ে ব্যালকনির দরজা মেলে। ভেজা টাইলসে পা রাখে ইলমা। বাতাসের বারিতে পানি এসে পড়েছে ব্যালকনিতে। যদিও চিকন পাইপ দিয়ে পানি বেরিয়ে গেছে। তবুও মেঝে ভেজা রয়ে গেছে। ইলমা আদনানের ব্যালকনি দেখে রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দেয়। লাইট অফ করে রুৃের মেইন দরজা আটকে দেয়। যে আদনান তার রুমে সহজে কাউকে ঢুকার পারমিশন দেয়না সে আদনান অসুস্থতা নিয়েও ইলমার জন্য বিছানা খালি করে দিলো? নিজে কষ্ট করে কাউচে ঘুমালো?
আজেবাজে চিন্তা সব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দেয় ইলমা। নিজের রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে নেয়। চুলায় চা বসিয়ে নিজের রুমটা সুন্দর করে পরিপাটি করে নেয়। কিছু আধোঁয়া জামাকাপড় ছিলো, সেগুলো ওয়াশিং মেশিনে দিয়ে দেয়।
চায়ের মগ হাতে নিজের সুন্দর ব্যালকনিতে আসে ইলমা। বাইরের খোলা মাঠটায় চোখ বোলায়। বৃষ্টি থামার পর প্রকৃতির আলাদা একটা সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। বাতাসে স্নিগ্ধ, শীতল ঘ্রাণ। চারপাশ আলাদা একটা শান্তি বিরাজ করে। ইলমার ভালো লাগছে সবকিছু। টবে ফোটা অপরাজিতা বৃষ্টির পানিতে স্নিগ্ধ হয়ে বৃষ্টিস্নাত অপরাজিতা হয়ে নিজের রুম মেলে ধরেছে। ইলমা সেই অপরাজিতা ছিঁড়ে কানের পিঠে গুঁজে। নিজের এলোমেলো চুলগুলোতে হাত বোলায়। এই সুন্দর কেশ তার ভীষণ পছন্দের। একদম তার মায়ের মতো চুল পেয়েছে সে। রুমে এসে ফোন হাতো নিয়ে ঈশিতাকে কল দেয় ইলমা। রিসিভ হতে সালাম দিয়ে খোঁজ খবর জিজ্ঞেস করে। ঈশিতা, ইলমাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বলে। সব শুনে ইলমা আসল কথায় আসে। বলে, “কী রান্না করব? আইডিয়া দাও।”
ঈশিতা জবাব দপয়
” চাল ধুয়ে ভাত বসিয়ে দাও কুকারে। মাছ,মাংশ তোমার যেটা ভালো লাগে রান্না করে নেও।”
“আচ্ছা করবো।”
“হ্যাঁ। তোমার জেঠু,আমি,ইনান বিকেলে রওনা দেব। আসতে,আসতে রাত হবে।”
“থাকবেনা?”
“ছিলাম তো। সবারই কাজ আছে।”
“তাহলে আমি কী রান্না করব? তেমরা সবাই খাবে রাতে, আমার রান্না যা বাজে।”
“আরে তুমি যা পারো। ফিরে রান্না করার এনার্জি পাবো না।”
“ঠিক আছে।”
ইলমা কল রেখে রান্না করতে যায়। চাল মেপে ধুয়ে, পানি সহ পরিমাণ করে ভাত বসিয়ে দেয়। ফ্রিজ থেকে মুরগির মাংস বের করে ভিজতে দেয়। বাকী সরঞ্জাম কেটেকুটে রেডি করে।
মাংশ বরফ ছুটতে রান্নায় মনোনিবেশ করে ইলমা। কেমন হবে জানেনা কিছু। তবুও চেষ্টা করছে ভালো করে রান্না করার।
ইলমার রান্নার মাঝে আবার ইনান শেখ কল দেয় তাকে। ইলমা কল রিসিভ করে সালাম দিয়ে কথা বলে। ইনান শেখ ইলমাকে জিজ্ঞেস করেন, “গতকাল রাতে ভয় করেনি তো মা?”
“না বাবা। কিসের ভয়?”
“তবুও। ভীষণ চিন্তিত ছিলাম। তারউপর বৃষ্টির জন্য তোমার দাদী আসতে পারেনি। ফারিশকপ বলেছিলাম, এসে তোমায় নিয়ে যেতে। কিন্তু প্রবল বৃষ্টির জন্য বাসা থেকে বেরুতে পারেনি।”
“আমি ঠিক আছি বাবা। শোনলাম তুমি চলে আসছ।”
“হ্যাঁ। ফিরতে,ফুরতে রাত হবে মা।”
“সাবধানে এসো। নিজের খেয়াল রেখো।”
“তুমিও। ঠিক করে খাবার খেও। রান্না সাবধানে করো মা। গরম তেল হাতে পড়বে।”
“আচ্ছা।”
★★★
দুপুরের দিকে মেয়ে দেখতে এসেছে ফরিদা পারভীন, ফাতিহা,তৃপ্তি। তারা তিনজন এসেছে জহির আহমেদের ভাইয়ের মেয়েকে দেখতে।
এমপির বাড়িতে এসেছে তারা তিনজন। ফরিদা পারভীন তেমন রাজী নন এই মেয়েকে নিয়ে। বেশি বড়লোক বাবার মেয়ে বিয়ে করলে কপালে দুর্গতি আছে। ফাতিহাও তেমন রাজী না। তবুও ফারিশের পছন্দ মেয়েটিকে। সেজন্য নাকচ করতে পারেনি কেউই।
তিনজন ভেতরে আসতে শায়েলা পুষ্প এবং তার ছোট ঝা সোহেলী রহমান তিনজনকে সাদরে গ্রহণ করে। সোফায় বোসতে কোল্ড ড্রিং দেওয়া হয়। টুকটাক কথাবার্তার পর্ব সারতে খাবার পর্ব শুরু হয়।
তাঁদের খাওয়ার মাঝে আগমন হয় আবরণের। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে সে। হাতে ব্যান্ডেজ। কপালেও ব্যান্ডেজ। দেখেই মনে হচ্ছে অসুস্থ। ফরিদা পারভীন শায়েলা পুষ্পকে জিজ্ঞেস করেন, “ওর কী হয়েছে?”
“এক্সিডেন্ট করেছে।”
“বলো কী? আল্লাহর রহমত থাকায় বেশি ক্ষতি হয়নি।”
আবরণ সোফায় বোসতে বোসতে বিড়বিড় করে বলে, “জ্বী, অল্পের জন্য আমার জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান হয়ে যায়নি। মেয়েদের সাথে ক্লাবে গিয়ে রুমডেট করার কাজকর্ম একটুর জন্য ছুটে যায়নি। যেই লাথি মেরেছিলো শালারবেটা।”
সোহেলী রহমান খাবার প্লেট এনে আবরণের সামনে দেন। আবরণ ধীরে সুস্থ খাবার খাচ্ছে।
সবার খাওয়াদাওয়ার পর্ব শেষ হতে আবরণের কাজিন রৌদিয়া আইরিনকে আনা হয়। শাড়ি পড়ে এসেছে তবে মাথায় গোমটা নেই। কাঁধ বরাবর চুলগুলো, কিছু সামনে আনা বাকীগুলো পেছনে। আহামরি সাজেনি তবে মেয়েটা সুন্দরী। ফারিশের পছন্দ সুন্দর মানতে হবে। কিন্তু ফাতিহার মনে অন্য পরিকল্পনা।
আবরণ রৌদিয়ার দিকে তাকায়। বাকীদের দিকেও তাকায়। সে ভালো করে জানে, এই বিয়েটা হবেনা। রৌদিয়াকে এতো তাড়াতাড়ি বিয়েশাদি দেওয়া হবেনা। যদিও দেওয়া হয় পছন্দের কেউ থাকলে তার সাথে দিবে এতে আপত্তি নেই।
আবরণ তৃপ্তির দিকে নজর দেয়। বেশভূষা দেখে বুঝতে বাকী নেই মেয়েটা ভদ্র পরিবারের সন্তান। চলাফেরা যথেষ্ট শালীন। কিন্তু আবরণ এরকম হিজাব পর্দা দেখে কিছুটা বিরক্ত হয়ে নাক-মুখ কুঁচকায়। আজীবন ওয়েস্টার্ন, পেট দেখিয়ে শাড়ি পড়া নারী দেখে এসেছে সে। এরকম ভদ্র,শালীন মেয়েমানুষ খুব কমই নজরে এসেছে। সেজন্য তেমন কিছু মনে আসেনি। নিজের শরীরের ব্যাথায় দম যায় যায় অবস্থা সেখানে মেয়ে নিয়ে ভাববে কী!
তাঁদের কথাবার্তা শুরু হয়। তবে ভদ্রমহিলাদের কথা অনুয়ায়ী বোঝা যায় মেয়ে বিয়ে দিবেনা। ফাতিহা জেনো হাফ ছেড়ে বাঁচে। বিদায় জানিয়ে বাইরে আসতে ফরিদা পারভীন বলেন, “মেয়ে সুন্দর কিন্তু জাতের না। দেখো, বয়ফ্রেন্ডের অভাব নাই।”
“ফারিশের কথা রাখতে এসেছি। এখন আর মেয়ে দেখছিনা ওর জন্য। ছয়মাস একবছর গেলে আবার দেখব।”
ফাতিহার কথায় তৃপ্তি বলে, “এটা কেমন কথা? ভাইয়া তো এখন বিয়ে করতে চায়।”
“আরে না। আমায় বলেছে, জাস্ট মেয়েটা দেখতে। পছন্দ হলে পরে ভাবা যাবে। এখন বিয়েশাদি করবেনা সে।”
“ওহ্।”
তিনজন বাসায় আসে। তৃপ্তির ব্যাগ আগে থেকে গোছানো। সেজন্য তারা আর দেরি করেনি। আবারো রিকশা ধরে রওনা হয় নিজেদের বাসার উদ্দেশ্যে।
তৃপ্তিরা বাসায় আসার পেছন দিয়ে ইলমা আদনানকে ম্যাসেজ দেয়, “দাদীরা চলে এসেছে।”
আদনান রিপ্লাই করে, “সন্ধ্যায় ফিরব।”
ইলমা সীন করে কিছু লিখে না। দাদী, তৃপ্তির সাথে গল্পগুজবে মেতে উঠে। তিন দাদী নাতনি ভালোই আড্ডার আসর জমিয়েছে তৃপ্তির রুমে। সাথে আছে তৃপ্তির আনা কিছু ফাস্টফুড। সেগুলো খাচ্ছে আর গল্প করছে।
তাঁদের গল্প করার মাঝে ব্যাঘাত ঘটায় আদনান কলিংবেল চেপে। তৃপ্তি ইলমাকে চোখ দিয়ে ইশারা করে উঠতে। সে পারবেনা। ইলমা না করেনি। উঠে দরজার হোল দিয়ে দেখে কে এসেছে। আদনানকে দেখে দরজা খোলে। বেচারার চোখমুখ শুকিয়ে আছে। দেখে যে কেউ বলবে অসুস্থ। ইলমা আদনানের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“তুমি কাউচে ঘুমিয়েছিলে?”
“না, তোর পাশে।”
বিরক্তি নিয়ে জবাব দেয় আদনান। ইলমাকে পাশ কাটিয়ে ভেতরে যায়। আদনানের ত্যাড়া কথায় ইলমা মৃদু চিৎকার করে বলে, “অসভ্য,বজ্জাত। লজ্জাশরম নেই?”
“এতো সুন্দর সুন্দর এক্স গার্লফ্রেন্ডদের সাথে এক বেডে ঘুমায়নি তুই কোথাকার কে?”
ইলমা রেগে জবাব দেয়,
“সুন্দর ভাবে কথা বলা যায়না।”
“না।”
ইলমার মুখের উপর জবাব দেয় আদনান। ইলমা মুখ ঝামটি মে’রে বলে, “আহারে, বাংলাদেশের শাহরুখ খান।”
“সেজন্য একটা পার্মানেন্ট গৌরী ওরফে কাজেরঝি দরকার।”
“এরকম বজ্জাতের জন্য কোন গৌরীর জীবন ধ্বংস না হোক।”
“প্রেমিকনারী বেশি বকছিস না? আমার জন্য কাজেরঝি অভাব পড়বেনা। চারটা বিয়ে করব।”
ইলমা জবাব দেয়না। সোজা তৃপ্তির রুমে চলে যায়। আদনান দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ইলমার যাওয়া দেখছে। মনে মনে ইলমাকে বকছে সে।
এইজন্যই কারোর উপকার করতে নেই। একটু মায়া করে হাতের ব্যাথা নিয়ে খাটে টেনেটুনে এনেছিলো। এই মেয়ে ঘুমন্ত নাকী মৃত বোঝার উপায় নেই। কোন খবরই ছিলোনা। উল্টো আদনান হাতের ব্যাথা নিয়ে কাউচে শুয়েছিল। এখন কত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।
তার পরিবারের একেকটা সদস্য সেরা নাটক বাজ।
#চলবে
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। ৩৫% ছাড়ে ২৪০৳ টাকায় বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1
গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

