গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৩২| #শার্লিন_হাসান

0
37

#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৩২|
#শার্লিন_হাসান

ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতায় আদনান নিজের নাম দিয়েছে। আজকে প্রথম ধাপে গান গাইবে। সেখানে সিলেক্ট হলে বাকী ধাপে যাবে। সবার আশা আছে, আদনান টিকে যাবে। তার ভয়েজ সুন্দর, দেখতেও সুন্দর, সুদর্শন।

আদনান ব্যাংক থেকে ছুটি নিয়ে সেই প্রতিষ্ঠানে গিয়েছে। যেটার উদ্যোগে প্রতিযোগিতা হচ্ছে। আদনান এসেই আরো অনেক প্রতিযোগিদের দেখে। তার মধ্যে ছেলে আছে, তবে মেয়ের সংখ্যাটাই বেশি। কিন্তু আদনান সেসব মেয়েদের দিকে তাকায় না। চুপচাপ বসে গান শোনে। যখন তার নাম আসে গিয়ে গান পরিবেশন করে। আদনানের গান গাওয়া শেষ হতে চলে আসে।

বাসায় আসতে তৃপ্তি জিজ্ঞেস করে, “কেমন কাটলো দিনটা?”

আদনান চকিত তাকায়। আনমনা হয়ে জবাব দেয়, “ভালো।”

“যদি সিলেক্ট হও,তোমার কপাল তো খুলে যাবে। তখন নিশ্চয়ই ভাব দেখাবে। এখনি তো কাউকে দাম দেও না।”

“এই সর তো। ফালতু কথা বলবিনা।”

আদনান বিরক্ত হয়ে চলে আসে। তৃপ্তি তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকায়। ছুটে যায় ইলমার রুমে। ইলমা শুয়ে ফোন স্ক্রোল করছিল। ফোন স্ক্রোল করা বললে ভুল হবে। ম্যাসেজের রিপ্লাই দিচ্ছে। তৃপ্তিকে দেখে ইলমা বলে, “তাড়াতাড়ি আয়, তোকেই খুঁজছি।”

“কী?”

ইলমা তৃপ্তির হাতে ফোন দেয়। তৃপ্তি দেখে ‘জয় আবরণ’ নামের আইডি থেকে ম্যাসেজ এসেছে। ইলমা রিপ্লাই দিয়েছে দু’একটা। তবে ইগনোর করে গেছে। তৃপ্তি ম্যাসেজের ধরণ দেখে। পুরাই ফ্লার্টিং। ইলমা তৃপ্তিকে ফোনটা দেয়। ম্যাসেজ পড়া শেষ হতে আলগোছে ব্লক মেরে দেয়। সূক্ষ্ম দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলে, “এই ছ্যাচড়া বেডা, আইডিও কালেক্ট করে নিয়েছে।”
“বাজে ছেলে। দেখ গিয়ে, কত মেয়ের সাথে ক্লাবে নেচেছে।”

ইলমা জবাব দেয়, “সবই একরকম।”

★★★

সন্ধ্যায় সবাই নাশতা করে কথা বলছিল। আদনান তারেক মাহমুদকে চোখ দিয়ে ইশারা করছে। আদনানের ইশারা দেখেও না দেখার ভাণ করছেন তারেক মাহমুদ। অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও,পাত্তা পায়নি আদনান। বিরক্তি নিয়ে উঠে যেতে তারেক মাহমুদ ইনান শেখকে বলে, “আদনানের জন্য ভালো কোন মেয়ের খোঁজ দাও। ভাবছি বিয়ে-শাদি করিয়ে দেব।”

ইনান শেখ ভ্রু কুঁচকে তাকায়। গম্ভীর কন্ঠে বলেন, “ফেসবুকে একটা পোস্ট করে জানিয়ে দিতে বলো। মেয়ের অভাব পড়বেনা।”

ইনান শেখের কথায় তারেক মাহমুদ হো হো করে হেঁসে উঠেন। ইনান শেখ নিজেও মৃদু হাসেন। তারেক মাহমুদ ইনিয়েবিনিয়ে বলেন, “ইলমার বিয়ে-শাদি নিয়ে কিছু ভেবেছ?”

“হুম। পড়ুক না। ভালো ছেলে ফেলে ভেবে দেখব।”

“দূরে দেওয়ার কী দরকার। আমাদের মাঝেই থেকে যাক না।”

তারেক মাহমুদের কথা শোনে ইনান শেখ গুরুগম্ভীর ভাব করে নেয়। কিন্তু তিনি তো আদনানকে পছন্দ করেন না। সেখানে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। যেহেতু বড় ভাই একটা আবদার করেছে, মুখের উপর না করার জো নেই। কিন্তু ইনান শেখ কোন মত দেন না। তারেক মাহমুদ সূক্ষ্ম দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলেন, “ভেবে উত্তর দিও। আদনান নিজেকে পরিবর্তন করছে। ইলমাকে আমাদের মাঝেই রেখে দাও। সারাক্ষণ চোখের সামনে থাকবে। অন্য জায়গায় কেমন না কেমন পড়ে।”

“তোমার আমার পরিকল্পনা তো সময় নষ্ট মাত্র। ভাগ্যে যা আছে তাই ঘটবে।”

ইনান শেখের কন্ঠস্বর সাবলীল। নেই কোন সম্মতি। তারেক মাহমুদ ভাইয়ের কথায় জবাব দেন, “পরিকল্পনা করেই তো আমরা বাস্তবায়ন করি। কর্মই সৌভাগ্যের প্রসূতি! হার্ড ওয়ার্ক করলে সফলতা ধরা দেয়। তেমনি অলসতায় কখনো সফলতা আসেনা। পরিকল্পনা এবং কথাবার্তা বলে ঠিক করলে নিশ্চয়ই বাস্তবায়ন হবে।”

“আমার মেয়ের মত চাই। সে রাজী থাকলে আমার আপত্তি নেই।”

তখন ফরিদা পারভীন বলেন, “তারেক খারাপ কিছু বলেনি। আমার নাতিকে পরিবারে রেখে দেই। আদনান আগে বদমাইশি করলেও এখন নামাজ পড়ে, জব করে।”

“সময় দেও না। বললেই কী সব হয়ে যায়?”
কথাটা বলে ইনান শেখ উঠে চলে যায়। ফরিদা পারভীন তারেক মাহমুদকে বলেন, “আমি ইনানকে বলে রাজী করাব। তুমি বিয়ের ব্যবস্থা করো। আমার যে কী খুশি লাগছে। ওদের দু’জনকে বেশ মানা….

কথা শেষ হওয়ার আগেই চিৎকারের আওয়াজে বাকীরা দরজার দিকে তাকায়। ইলমা তর্জনী উঁচু করে আদনানকে শাসিয়ে বলছে,
“আমাকে উল্টাপাল্টা কিছু বললে খবর আছে। তুই আমাকে আর ম্যাসেজ দিবি না।”

“এই শালী, সবসময় শাসাবি না। আমি কী ভুল কিছু বলেছি?”

“দয়াল প্রেমিকনারী কেমন কথা? তোর মতো বারো রাইস আমি?”

“একদমই না। তুই তো দয়াল।”

“সর তুই আমার চোখের সামনেও আসবিনা।”

“তোর চোখ তুই বন্ধ করে রাখ।”

ওদের ঝগড়া দেখে বাকীরা কথা বলা ভুলে গেছে। এদেরকে এক কবরে মাটি দিলেও যুদ্ধ করবে। সেখানে বিয়ে করে, সংসার কীভাবে করবে? ঝামেলা হয়েছে মূলত, আদনান ইলমার ফেসবুক পোস্টে জয়ের রিয়েক্ট এবং কমেন্ট দেখেছে। মূহুর্তে মাথা গরম হয়ে যায়।
সেটা নিয়ে ইলমাকে ম্যাসেজ দিয়ে আবোলতাবোল কথা শুনিয়েছে।
ম্যাসেজটা ঠিক এরকম ছিলো, “প্রেমিকনারীর সদরঘাটে কত মানুষের রিয়েক্ট, কমেন্ট থাকে। তলে,তলে ভালোই টেম্পু চলছে। আমরা কিছু বললেই হরতাল লাগে। দয়াল প্রেমিকনারী।”

এই নিয়ে ম্যাসেজে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ইলমা রুম থেকে ব্যালকনিতে গিয়ে আদনানকে ডেকেছে। সেখানেও কথা কাটাকাটি হয়েছে। সেই ঝগড়া লিভিং রুম অব্দি এসেছে।

ওদের ঝগড়া দেখে ফরিদা পারভীন এবং তারেক মাহমুদ স্তব্ধ হয়ে যান। তারেক মাহমুদ আদনানকে শাসিয়ে বলেন, “এরকম ঝগড়া করলে কিছুই হবেনা। স্বপ্ন দেখো।”

ইলমা আদনানের দিকে চোয়াল শক্ত করে তাকায়। তারেক মাহমুদকে বলে, “আদনান আমায় উল্টাপাল্টা বলছে কেন? ও একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে। সবসময় এমন করে।”

ইলমার বিচার দেওয়া দেখে আদনান বিরক্ত হয়ে বলে, “এই চোপ।”

“তুমি চুপ।”

ওদের ঝগড়া শোনে ইনান শেখ লিভিং রুমে আসেন। এসেই জিজ্ঞেস করেন, “কী হয়েছে?”

সবাই চুপ। ইলমা মাথাটা নিচু করে রেখেছে। আদনানও চুপ তখন ফরিদা পারভীন বলেন, “ঝগড়া লেগেছে।”

“ওরা আজীবন ঝগড়াই করতে পারবে।”

“আপনি চাইলে বিয়েটাও করতে পারব।”

আদনানের কথায় ইলমা চোখ রাঙিয়ে তাকায়। আদনান সেসব দেখেও না দেখার ভাণ করে। ইনান শেখ আদনানের কথা আমলে নেয়না। ইলমা পারছেনা,আদনানের মাথাটা ফাটিয়ে দেয়। কতবড় নির্লজ্জ হয়ে গেছে। ঈশিতা ছেলের বিয়ে নিয়ে পাগলামি দেখে কিছুটা বিরক্ত হোন। লাজলজ্জা সব খেয়ে নিয়েছে। ইলমা আর এক মূহুর্ত দাঁড়ায়নি সোজা রুমে চলে আসে।

এভাবে খোঁচাখোঁচি ঝগড়ার মাঝে দিন পেরোয়। ফাতিহা ইনান শেখকে বিয়ের জন্য বলছেন। আরেকদিকে তারেক মাহমুদ আদনানের জন্য ইলমাকে বলছে। সব মিলিয়ে ইনান শেখ দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছেন। আদনানের থেকে ফারিশ যথেষ্ট ভদ্র এবং মার্জিত ছেলে। সেখানে বাবা হিসাবে, মেয়ের জন্য অবশ্যই ভদ্র ছেলেকেই বাছাই করবেন। কিন্তু ইলমাকে জিজ্ঞেস করলে, সে ইনান শেখপর মতের উপর নির্ভর করে।
সব মিলিয়ে বিয়ের ব্যপারটা নিয়ে যেমন আলোচনা হচ্ছে তেমন চিন্তাও হচ্ছে।

এসবের ভেতরে ইলমা এবং তৃপ্তির পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়। ইলমার বরাবরই ভালো রেজাল্ট। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তৃপ্তিও ভালো রেজাল্ট করেছে। এই নিয়ে শেখ পরিবারের খুশির শেষ নেই। আদনান এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি বরাবরই অপছন্দ করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যেখানে৷ সবাই রেজাল্টের খুশিতে মিষ্টি খায়, সেখানে আদনান মিষ্টি মুখে তোলা তো দূরে থাক,উল্টো নাক মুখ কুঁচকে বলে, “নাটকবাজ।”
সে মিষ্টি খাবে সেদিন যেদিন তার জীবনে বিয়ে নামক সুখবর আসবে। এখন মিষ্টি খেয়ে সুগার বাড়িয়ে লাভ নেই। এখন তার একটাই লক্ষ্য বিয়ে করা। এছাড়া কোন লক্ষ্য নেই। কিন্তু ইনান শেখের হাবভাব এমন ঠেকছে, যে উনি শোনেও না শোনার ভাণ ধরে আছেন।

আদনানের ওতো ধৈর্য কুলাচ্ছে না। সেজন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইলমাকে আবারো প্রপোজাল দিবে। এরপর যা হওয়ার হবে। সবাই যখন আননৃদ উল্লাসে মেতেছিল, তখন আদনান এতো সব ভাবনা ভেবে রেখেছে। আজকে কয়েকদিন হলো ইলমার সাথে তার ঝগড়াঝাঁটি হয়না। দু’জনে কেউই কারোর ধারেকাছে ঘেঁষে না।

পরিবারের সবার সাথে আনন্দ ভাগ করে ইলমা যখন ব্যালকনিতে এসেছিল তখন আদনানও ব্যালকনিতে যায়। কথা বলার মতো কিছু খুঁজে পায়নি আদনান। কিন্তু এখন কথা বলাটা জরুরি। কারণ, সে প্রেমের প্রস্তাব দিবে। ইলমা আদনানকে দেখে চলে আসতে যাবে তখন আদনান মৃদু চেঁচিয়ে বলে, “এ প্লাস পাওয়ায় আমাকে ইগনোর করছিস? আগে আমার মতো ভার্সিটিতে চান্স পেয়ে দেখা।”

“এই খোঁচা না মারলে হয়না?”

“শোন?”

মূহুর্তে আদনানের কন্ঠস্বর চেঞ্জ হয়ে যায়। ইলমা বুঝেছে এখন বেটা কী আবদার করবে। গিরগিটিও এতো তাড়াতাড়ি পরিবর্তন হয়না আদনানের মুড যত তাড়াতাড়ি পরিবর্তন হয়। ইলমা বুঝেও বলে, “এ্যাই দয়াল প্রেমিকনারীর সাথে এতো ভালো করে কথা বলতে নেই।”

“আচ্ছা বাদ দে। তখন মাথা গরম হয়ে গেছে।”

“কী?”

“তোর বাপ তো আমায় মেয়ের জামাই হিসাবে গ্রহণ করছেনা। চল তাহলে পালিয়ে যাই।”

“এই সরো। আর আবদার পাওনা?”

“প্রেমিকা হবি?”

“না।”

“তাহলে বউ?”

“না।”

“তাহলে, ভবিষ্যত বাচ্চার আম্মু।”

আদনানের কথায় ইলমা বেশ লজ্জা পায়। উত্তর দেওয়ার মতো কিছু খুঁজে পেলো না। ইলমাকে চুপ দেখে আদনান পুনরায় বলে, ” সারাক্ষণ তোকে হারানোর ভয়ে থাকি। এক জীবনে এর থেকে বেশি আর কী চাস?”

“তুমি তো দেখি,আমার মাথা খারাপ করে দিবে।”
“হ্যাঁ, ঠিক যেভাবে তুই আমারটা খারাপ করেছিস।”

ইলমা জবাব দেয়না। সুদূরে তাকায়। আদনান হুটহাট ইলমাকে চুপ থাকতে দেখে বিরক্ত হয়। এই মেয়ে তাকে আর কত ঘুরাবে? আদনান ভাবছে, আজ পর্যন্ত যে মেয়েকে পছন্দ করেছে প্রেমের বুলেট মিস যায়নি। এই ইলমা একমাত্র মেয়ে যাকে পছন্দ করে, ভালোবেসে এতো ঘুরতে হচ্ছে। যতবার হৃদয়ের আকুলতা দিয়ে প্রেম নিবেদন করছে,প্রতিবারই মেয়েটা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই শোক কাটিয়ে উঠার মতো না। ইলমা আকাশের দিকে তাকায়। হুট করে আবদার করে, “এই ইভটিজার একটা গান শোনাও তো?”

ইকমার আবদারটা আদনান ফেলতে পারেনি। কিন্তু কী গান শোনাবে? খুঁজে পাচ্ছেনা। সেজন্য ইলমাকে বলে, “কোন গান শোনাব? তুই নাম বল?”

ইলমা সুযোগ বুঝে বলে, “ওইযে, সখি তোরা প্রেম করিও না। পিরিত ভালা না।”

ইলমার কথায় আদনান রেগে বলে,
“এ্যাই মেলিচা চুপ। তুই আমার সাথে ইয়ার্কি করছিস?”

ইলমার ভীষণ হাসি পেলো। বিশেষত আদনানের মুখটা দেখার মতো হয়েছে। আদনান রাগ দেখিয়ে ব্যালকনি ছাড়তে গেলে ইলমা অধিকার খাঁটিয়ে বলে, “এ্যাই গান না শুনিয়ে গেলে খবর আছে।”

“সখি তুমি আবদার করিও না। পরপুরুষের কাছে আবদার করা ভালা না।”

“বজ্জাত।”

“সদরঘাটের প্রেমিকনারী কথা বলবিনা।”

“কিসের সদরঘাটের প্রেমিকনারী ? বলবা, আমার প্রেমিকনারী।”

#চলবে

(অনেক অপেক্ষা করেছেন। এবার ওদের প্রেম দেখবেন। বিয়েশাদি পরে দেখলেও চলবে। ইভটিজার ভাইকে ঘরে তোলার জন্য প্রস্তুত তো সবাই? সামনে বইয়ের প্রি অর্ডার আসছে।)🖤

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here