#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৭|
#শার্লিন_হাসান
বাসায় এসে লিভিং রুমের সোফায় বোসে আদনান। ফাইজা ইসলাম আদনানের জন্য ঠান্ডা শরবত নিয়ে আসেন। সেটা পান করে উঠে দাঁড়ায়। ঈশিতাকে ডাক দিয়ে বলে, “আম্মু খাবার দাও। খুদা লাগছে।”
ফাইজা খাবার বেড়ে দেয়। আদনান হাত ধুয়ে খেতে বসে যায়। খুব খিদে পেয়েছিলো। চার টাকার নাশতা তার পোষায় না। আদনান খাবার খেয়ে ঔষধ খায়। উঠে দাঁড়াতে ফরিদা পারভীন এগিয়ে এসে আদনানের হাত ধরে। তাকে তার রুমে যেতে সাহায্য করে।
আদনান রুমে এসে দরজা লক করে একটা সিগারেট ধরায়। খাটের উপর বসে পুরো সিগারেটটা শেষ করে। মাথা আর মন দু’টোই হালকা লাগছে তার। হাত পায়ের ব্যাথা আছে তবে সেসব নিয়ে ভাবছে না সে।
পকেট থেকে ফোন বের করতে অসংখ্য নোটিফিকেশন দেখে। ফোন সাইলেন্ট থাকায় টের পায়নি। আদনান ম্যাসেন্জারে ঢুকতে অনেকগুলো ম্যাসেজ পায়। সেগুলোর রিপ্লাই করে রিয়ানাকে কল দেয় সে।
সাথে সাথে রিসিভ হতে রিয়ানা জিজ্ঞেস করে, ‘এতোক্ষণ কোথায় ছিলে? কতগুলো ম্যাসেজ দিয়েছি।”
“তোর বাপ তো আমায় গাড়ি চাপা মেরে দিতে চাইছে। এখন আদর দেখাও। তোর বাপের ড্রাইভার কী গাঁজা খায় নাকী? দেখে চালাতে পারেনা। ভাগ্যিস অজ্ঞান হয়েছিলাম নাহলে তোর বাপ আর ড্রাইভার দু’জন এতোক্ষণ ব্রীজের সাথে উল্টো ঝুলতো।”
রিয়ানা বিরক্তি নিয়ে বলে, “তুমি তো আজকে বেয়াদবি করেছ বাবার সাথে।”
“এই চোপ। তুই আমাকে ভদ্রতা শেখাবি নাকী?”
” আমার বাবা জীবনেও তোমার মতো অসভ্যের সাথে আমার সম্পর্ক মানবে না।”
“তোর কী মনে হয় তোর বাপের মানার অপেক্ষায় আছি আমি? তোর মতো কত রিয়ানা আজাদ আদনানের ডানে বামে থাকে। এসব আমি কেয়ার করি না।”
“আদনান কথা উল্টাপাল্টা বলছ কিন্তু।”
“কল রাখ শ্লী।”
কথাটা বলে নিজেই কল কেটে দেয়। বালিশে মাথা রাখতে, কপাল টনটন করে ব্যাথা আরম্ভ হয়। আদনান চুলগুলো স্লাইড করে চোখ বন্ধ করে নেয়।
★★★★
তিনটা দিন পর আদনান ভার্সিটিতে এসেছে। বাসা থেকে বেরুনোর কোন ইচ্ছেই ছিলোনা। তাঁদের নতুন বাড়ির কাজ শুরু হয়েছে গত দুইদিন হলো। আদনান ভেবেছে জায়গাটা ভিজিট করে আসবে। এখন যে বিল্ডিংয়ে আছে সেটা ছেড়ে দিবে নতুন বাড়ির কাজ শেষ হলেই। বর্তমানে যে বাড়ির কাজ চলছে সেটা শেখ পরিবারের একপ্রকার ড্রিম হাউজ ও বলা চলে। অনেক শৈল্পিক কারুকাজ, নকশা দিয়ে তৈরি হবে রাজকীয় ভাবে।
আদনান বাইক রেখে তার বন্ধুমহলের কাছে যাচ্ছিলো। এমতবস্থায়, পথ আটকে দাঁড়ায় জয় আবরণ এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা। আদনান আবরণের মুখশ্রী পরখ করে। পুরোটাতেই রাগ এবং হিংস্রতা সুস্পষ্ট দেখতে পায়। আবরণের রেগে যাওয়ার কারণ কিছুটা আন্দাজ করেছে আদনান। তাতেই ঠোঁট কামড়ে হেঁসে উঠে। আদনানকে হাসতে দেখে আবরণের মাথায় দপ করে আগুন ধরে যায়। তেড়ে এসে আদনানের শার্টের কলার চেপে ধরে। দাঁতে দাঁত পিষে বলে, “আমার জিনিসের দিকে তোর এতো লালসা কেন?”
আদনান ক্রুর হেঁসে কলার ছাড়িয়ে নেয়। আবরণের কাঁধে হাত রেখে আফসোসের স্বরে বলে, “জয় আবরণ, বিশ্বাস কর আমি তোর জিনিসপত্র ছুঁয়ে কেনো,নজরও দিতে চাইনা। কিন্তু শ্লার কপাল, তোর পছন্দ করা সবকিছু না চাইতে আমার দুয়ারে চলে আসে। এমনিতে শাহরিয়ার আদনান শেখের মন অনেক বড়। কোন নারীকেই ফেরায় না সে।”
আদনানের কথায় আবরণ তেড়ে আসে। আদনান হাত ঠেকিয়ে দাঁড় করায়। আবরণ তীব্র ঝাঁঝালো কন্ঠে আওড়ায়,
“জেভিন রেহমানের দিকে নজর দিলে, তোকে আমি জ্যান্ত পুঁতে ফেলব।”
“সে তোর রেজিস্ট্রি করা প্রোপার্টি নাকী?”
“আমার পছন্দের নারী।”
“তাহলে তোর নারী আমার কাছে আসে কেন?”
“সেটা নিজেকে জিজ্ঞেস কর।”
আবরণের কথায় আদনান বিরক্ত হয়। কন্ঠস্বরে গম্ভীরতা টেনে জবাব দেয়,
“তোর পুরুষত্বে সমস্যা আছে সেজন্য মেয়েমানুষ হাতছাড়া হয়ে যায়। আসল পুরুষ হো দেখবি জেভিন কেনো, জেভিনের মা ও তোর কাছে।”
আবরণ হাত উঠাতে, আদনান তার গলা চেপে ধরে। রক্তচক্ষু করে চোখ রাঙিয়ে বলে, “ভুলেও না। তোর কোন বাপকেই আমি ভয় পাইনা। সেখানে তুই তো নিত্যান্ত পিঁপড়ে মাত্র।”
আরো দু’জন ছেলে আদনানকে টানতে থাকে ছাড়ানোর জন্য। আদনান তবুও আবরণকে ছাড়ে না। তাঁদের হাতাহাতি দেখে বাকীরাও এগিয়ে আসে। আসে নির্মাণ এবং শেজান। আদনানকে টেনে সাইডে
নিয়ে আসে। আবরণ কাশতে থাকে। পানি এগিয়ে দিতে সেটা পান করে হুংকার ছেড়ে বলে, “এসবের জন্য একদিন তোকে চরম মূল্য দিতে হবে। সময় সব বলে দিবে। মাইন্ড ইট।”
কথাটা বলে সে চলে যায়। আদনান এখনো রেগে আছে। নির্মাণ জিজ্ঞেস করে, “কী হয়েছে?”
“তার শিকার আমার খাঁচায় এসেছিলো সেজন্য রেগে আছে।”
আদনানের কথায় শেজান জবাব দেয়, “জেভিন রেহমান?”
আদনান মাথা নাড়ায়। নির্মাণ ফোন বের করে। গ্যালারী থেকে কিছু পিকচার্স আদনানের সামনে ধরে। আদনান সেসব ছবির দিকে তাকিয়ে থেকে জবাব দেয়, “এই ছবি আবার আমাকে দেখাচ্ছিস কেন?”
“রিয়ানা দেখেনি?”
“জানি না।”
আদনানের সোজাসাপটা জবাবে নির্মাণ আওড়ায়, “ক্লাবে তোর আর জেভিনের ছবি। বসন্তবরণে তোর আর জেভিনের ছবি সবই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সবাই ধরে নিয়েছে, রিয়ানার সাথে ব্রেকআপ হয়ে, জেভিনের সাথে আছিস।”
“সর আমি গেলাম। রিয়ানা আসলে বলিস এসব কিছুনা। নর্মাল পিকচার্স। বেশি করলে বলে দিস আদনান রিলেশন রাখবেনা।”
“কোথায় যাচ্ছিস তুই?”
শেজানের কথায় আদনান জবাব দেয়, “বাড়ির কাজ চলছে। সেটাই দেখতে যাব।”
কথাটা বলে আদনান এক মূহুর্ত সময় ব্যায় করেনি। বাইকে উঠে পুনরায় রওনা হয় সেই নতুন বাড়ির কাজ দেখার উদ্দেশ্যে।
বাইক চালানোর সাথে আশেপাশেও নজর রাখছে আদনান। সামনে তিনটা মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে। খুব সম্ভবত কলেজের স্টুডেন্ট হবে। আদনান বাইকের স্পিড কিছুটা কমিয়ে আনে। মেয়েগুলোর পাশাপাশি আসতে বাঁকা হেঁসে বলে, “সুন্দরীরা কোথায় যাচ্ছে?”
মেয়েগুলো জবাব দেয়না। শুধু আদনানের মুখ পানে তাকিয়ে রয়। আদনান শিস বাজাতে বাজাতে বাইক নিয়ে সামনে এগোয়।
★★★
বারোটা দিকে কলেজ থেকে এসেছে তৃপ্তি এবং ইলমা। প্রেকটিক্যাল পরীক্ষা থাকায় তাড়াতাড়ি এসেছে দু’জন। তৃপ্তির চোখেমুখে রাগের রেশ উপচে পড়ছে। ইলমা নিজেও জানেনা তৃপ্তি কেনো রেগে আছে। দুই তিনটা কথা হয়েছে তাতেও ত্যাড়া জবাব দিয়েছে সেজন্য ইলমার সাহস হয়নি কিছু বলার।
তৃপ্তি বাসায় এসে নিজের রুমে চলে যায়। অনেক কষ্টে রাগ সংবরন করছে সে। লম্বা শাওয়ার নিয়ে তৈরি হয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য বাইরে আসতে দেখে আদনান চেয়ারে বসে খাবার খাচ্ছে আর ফোন স্ক্রোল করছে। আদনানকে দেখে তৃপ্তির মাথায় দপ করে আগুন ধরে যায়। রাগ উঠে যায়। আদনানের খাওয়া অর্ধার্ধিতে। তৃপ্তি আদনানকে জিজ্ঞেস করে, “আজকে রাস্তায় মেয়ে দেখে শিস বাজিয়েছ কেন?”
আদনান চকিত তাকায়। তৃপ্তির কথায় বিরক্ত হয়। ফোন অফ করে পাশে রেখে জবাব দেয়, “এসব খবর তোকে কে বললো?”
“আমার প্রশ্নের জবাব পাইনি।”
কণ্ঠস্বর রুক্ষ শোনাচ্ছে। আদনান মেজাজ হারায়। সে কোন কিছুর উত্তর দিতে বাধ্য নয়। সেটা মনে হয় তৃপ্তি ভুলে গেছে। আদনানের চুপ থাকা দেখে তৃপ্তি মৃদু চিৎকার করে বলে, “আল্লাহ তোমাকে কী মাটি দিয়ে বানিয়েছে?”
“সেটা তোর জানতে হবে না। আমার সম্পর্কে বেশি পাকনামি করতে আসবি আর ঠাটিয়ে দু’টো মে’রে বসিয়ে দেব।”
ওদের কথার আওয়াজে ইলমা,ফরিদা পারভীন এবং ফাইজা আসে। ইলমা তৃপ্তির পাশে এসে দাঁড়ায়। জিজ্ঞেস করে, “কী হয়েছে?”
তার কথার কোন রেসপন্স দেয়নি তৃপ্তি।
তৃপ্তি তীব্র আক্রোশ নিয়ে আদনানকে বলে,
“তোমার পার্সোনালিটির থেকে রাস্তার কুকুরের পার্সোনালিটি অনেক সুন্দর।”
ব্যাস! হয়ে গেলো। আদনান বসা থেকেই খাবারের প্লেট ছুঁড়ে মারে তৃপ্তির দিকে। কিন্তু সেটা তৃপ্তির গায়ে নয় ইলমার গায়ে গিয়ে পড়ে। মূহুর্তে মেজাজ হারায় ইলমা। ভাতের প্লেটটা হাতে নিয়ে পুনরায় আদনানের দিকে ছুঁড়ে মারলে সেটা গিয়ে বা’রি গায় আদনানের কপালে। তীব্র যন্ত্রণায় আদনান কপালে হাত রাখে। মূহুর্তে মাথাটা জিম ধরে যায়। আদনান নড়াচড়া করছেনা। বাকীরা হতভম্ব হয়ে গেছে মূহুর্তে ঘটে যাওয়া ঘটনায়। কেউই বুঝতে পারেনি আসলেই এতোকিছু ঘটে গেলো। ফরিদা পারভীন নাতির দিকে এগিয়ে যায়। আর্তনাদ করে বলেন, “আমার নাতির কপালডা শেষ কইরা দিছে জেরা৷ তোগোর জ্বালায় আর ভালো লাগে না।”
তৃপ্তি চুপ। ফাইজা কিছু বলতেও গিয়েও বলতে পারেনি। ইলমার রাগে শরীর কাঁপছ রীতিমত। রেগে চিৎকার করে বলে, “এবার শুধু কপাল এরপর হাতও গলায় ঝুলানো থাকতে পারে। একদিন, দুইদিন, তিন নাম্বার দিনে রিপিট খাও। ফাল’তু কোথাকার। তোর মুখটাও দেখতে চাইনা আমি।”
কথাটা বলে নিজের রুমে চলে যায় ইলমা। তৃপ্তি তাকে ডাকে সেসব কানেও তোলেনি ইলমা। আদনান মূহুর্তে চুপসে গেছে। ইলমার কথার ভাঁজে কথা বলেনি। চিৎকার করেনি, উত্তর দেয়নি। ইলমা যা বলেছে শুধু শুনেছে আদনান। তৃপ্তিও সেখান থেকে চলে যায়। কিছু বলার মতো বাক্য নেই তার কাছে। আদনান যে মেয়ে তিনটাকে দেখে শিস বাজিয়েছিলো, সুন্দরী বলেছিলো সেই মেয়েগুলো তৃপ্তির গ্রুপের। আদনানকে বেশ ভালো করেই চিনে তারা। কলেজে গিয়ে দুদণ্ড দেরি করেনি। কথাগুলো তৃপ্তির কানে তুলে দেয় সেই সাথে কতগুলো কথাও শুনিয়ে দিয়েছে মেয়েগুলো। তৃপ্তির হৃদয় আহত! বাইরে গেলে আদনানকে নিয়ে টুকটাক কথা শোনা লাগে। আদনান কী বেশিরভাগ কলেজের মেয়েগুলোকে চোখে দেখে? একটুও লাজলজ্জা, নূন্যতম জ্ঞান নেই তার বোনও সেই কলেজে পড়াশোনা করে। কবে জানি কলেজের ম্যামকে ইভটিজিং করে বোসে কে জানে! তৃপ্তির মাঝেমধ্যে মন চায় আদনানের মাথাটা ফাটিয়ে দিতে। যেটা ইলমা করে দেখিয়েছে, মাথা না ফাটালেও কপাল কাঁপিয়ে দিয়েছে সাথে আদনানের হৃদপিণ্ড অল্প স্বল্প কাঁপিয়েছে।
ফরিদা পারভীন, ফ্রিজ থেকে আইস এনে আদনানের কপালে ঢলে দেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন, “নাতি, জীবনের রঙ এখনো দেখোনাই। বাপের হোটেলে খাও তো দুনিয়া টের পাওনা। দায়িত্ব কাঁধে নেও, কারোর মায়ায় জড়াও,বাস্তবতা দেহো এতো রাগ থাকবো না।তৃপ্তি যে কইলো, কারে দেইখা শিস বাজাইছো, এহন যদি তৃপ্তিরে দেইখা কোন ছেড়া শিস বাজায় ভাই হইয়া তুমি কী করবা? আর জেরার রাগ কিন্তু সাংঘাতিক। লাড়া দিওনা।”
আদনান কোন কথা বলেনি। উঠে হাত ধুয়ে রুমে চলে যায়। কপালে ঔষধ ঢলে শুয়ে পড়ে চুপচাপ। মাথার ব্যাথায় চোখ খোলতেও কষ্ট হচ্ছে তার। কিন্ত আদনানের আজ কী হলো? কোন কথার কোন জবাব দিলো না। মেলিচা তাকে কতগুলো কথা শোনালো, পাল্টা জবাব দেয়নি আদনান। দাদীন তাকে এতোগুলো কথা বললো তাতেও বিরক্তি ভাব দেখায়নি সে। নিজের কাজকর্মে নিজেই অবাক হয় আদনান।
#চলবে
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1
আমার গ্রুপ লিংক,
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

