#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|২৬|
#শার্লিন_হাসান
ইলমার টেস্টের রেজাল্ট দিয়েছে। সে ফার্স্ট হয়েছে। নিজের রেজাল্ট শোনার পর ইলমা ভীষণ খুশি। তার কারণ, সে ফাস্ট হয়েছে সেজন্য না। তার বাবা যে খুশি হবে সেজন্য। ইলমা পড়াশোনা নিয়ে খুবই সিরিয়াস সেটা ছোটবেলা থেকেই। তারউপর ইনান শেখ ভালো গাইডলাইন দেন সেজন্য এখনো টিকে আছে। শুধু মেধাবী হলে হয়না, ভালো গাইডলাইন ও প্রয়োজন হয়। নাহলে অতিরিক্ত ভালো স্টুডেন্ট ও ঝরে যায়। এরকম চিত্র চারদিকে অহরহ আছে।
তৃপ্তি তার গ্রুপে সেকন্ড হয়েছে। দুই বোন কলেজের কাজ শেষ করে ফ্রেন্ডদের সাথে বাজারে আসে।
একটা রেস্টুরেন্টে যায় তারা। সাথে আছে প্রীতি,মাহিম এবং রিহান। তারা সবাই পাশ করেছে। তাঁদের পড়াশোনা ওই চলে টাইপের। ওতোটা মনোযোগী না। কারণ তারা প্রেম নিয়ে সময় কাটায় বেশীরভাগ।
যেহেতু ইলমা ফাস্ট হয়েছে সেজন্য সবাই ঝোঁকে বসেছে ট্রিট দেওয়ার জন্য। ইলমার আর কী! বন্ধু মহল আবদার করেছে না করতে পারবেনা। তারা পিজ্জা অর্ডার দিয়েছে। যেহেতু আসতে একটু সময় লাগবে সেজন্য সবাই গল্প গুঁজবে মেতেছে। তৃপ্তি ফোন স্ক্রোল করছে। ইলমা প্রীতির সাথে কথা বলায় ব্যস্ত। রিহান,মাহিম ও ফোনে ব্যস্ত।
তৃপ্তি ফোন হাতে ওয়াশরুমের দিকে গেছে। ইলমার চারপাশে হুঁশ নেই। সে কথা বলায় এতোটাই ব্যস্ত যে আদনান যে তার ফ্রেন্ড নির্মাণের সাথে এই রেস্টুরেন্টে এসেছে সে জানেনা।
আদনান এসেছে এ পথ দিয়ে যাচ্ছিলো। নির্মাণের কথায় চলে এসেছে খাবার খেতে। কিন্তু এসে যে, ইলমাকে আবারো তার ছেলেফ্রেন্ডদের সাথে দেখবা ভাবতে পারেনি আদনান। দূর থেকে ইলমাকে দেখে মাথায় রক্ত উঠে যায় তার। তারা কেউই প্রাইভেট স্পেসে বসেনি। সবাই সামনের সোফায় বসেছে। আদনান এগিয়ে যায় ইলমাদের দিকে। ইলমা এসময় আদনানের উপস্থিতিতে হকচকিয়ে যায়। আশেপাশে তাকিয়ে তৃপ্তিকে খোঁজে। সে নেই! মূহুর্তে ইলমা চোয়াল শক্ত করে নেয়। এক্ষুনি আদনান তার মেজাজের বারোটা বাজাবে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। সেটাই হলো। আদনান অতিরিক্ত রুক্ষ গলায় ইলমাকে শাসিয়ে বলে, “কলেজের নাম করে ছেলেদের সাথে রেস্টুরেন্টে খেতে আসা। তোর বাপ জানে তো এসব খবর?”
ইলমা বিরক্ত হয়। জবাব দেয়, “বাবা সবই জানে। এছাড়া আমি ছেলেফ্রেন্ডদের সাথে আসিনা কার সাথে আসি তোমার এতো সমস্যা কিসের?”
“এ্যাই তুই আমাকে প্রশ্ন করছিস? বেয়াদব হচ্ছিস দিনদিন। ছেলেদের সাথে কিসের চলাফেরা?”
“ওরা আমার ভালো বন্ধু। আর তুমি নিজেকেই দেখো না। নিজের তো মেয়েফ্রেন্ডের অভাব নেই। আমারটা নিয়ে এতো সমস্যা কিসের?”
“এ্যাই মেলিচা চোপ।মুখ সামলে কথা বলবি।”
“তোর মুখ তুই সামলে রাখ।”
মূহুর্তে তুইতোকারি শুরু হয়। আদনান চোয়াল শক্ত করে বলে, “বেশি বেড়েছিস তুই।”
ইলমা মুখ ঝামটা মেরে বলে,
“নিজের ভুল দেখার বেলায় সবাই অন্ধ,
কিন্তু অন্যের ভুল দেখার বেলায় অণুবীক্ষণ যন্ত্র।”
“তোর থেকে এখন আমার ঠিক,ভুল আয়ত্ত করতে হবে?”
“প্রয়োজন হলে অবশ্যই। এমনিতে তোর মাথায় ঘিলু নাই। ব্রেইন সেটাও হাটুতে। যেখানেই দেখে, মেলিচা,মেলিচা। একদম মেলিচা,মেলিচা করবি না। তোকে দেখলেই আমার রাগ হয়। কয়টা মানুষ তোকে ভালো বলে শুনি? তোর মুখে নিজের নামের উচ্চারণ শোনলেও রাগ হয়।”
ইলমার করা অপমানে আদনান জবাব দিতে গেলে নির্মাণ তাকে টেনে নেয়। বলে, “আর ঝগড়া করিস না প্লিজ। ও তোকে অপমান করেছে।”
কথাটা বলে আদনানকে টেনে সামনে নেয়। আদনান শুধু ইলমার দিকে একনজর তাকিয়ে ছিলো। আদনানের এরকম চাহনি ইলমাকে অস্বস্তিতে ফেলে। কী রকম অস্বস্তি, সেটা হলো বেশি অপমান করা হয়েছে বলে মনে হলো ইলমার। নিজের মাঝেই খারাপ লাগা কাজ করছে। সে শুনেছে, আদনান সেদিন তার হাত ধরে মসজিদে যাওয়ার পর থেকে নিয়মিত নামাজ আদায় করছে। সে তো ভালো হচ্ছে। তাহলে ইলমার এসব বলা উচিত হয়নি। মূহুর্তে মন খারাপ হয়ে যায় ইলমার। আদনানের শাসন বারণে না। আদনানকে নিজের করা অপমানের জন্যই তার মন পুড়ছে। ইলমা সহসা কারোর সাথে রুড বিহেভ করে না। আর করলেও সেটা জঘন্য টাইপের হয়। কিন্তু এসব মায়া মনে জন্ম দেওয়া মানেই সর্বনাশ। কঠিন বাক্য শুনিয়ে দূরে সরিয়ে দেওয়াটাই উত্তম। এমনিতে আদনানের থেকে আর দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সেটা হোক হাজার মাইলের কিংবা আকাশ-পাতাল টাইপের। কিন্তু ঘুরেফিরে তাকে সেই আদনানের মুখোমুখি হতেই হয়।
ইলমা খাওয়ায় মন দিতে পারেনি। তৃপ্তি লুকিয়ে এসেছে ওয়াশরুমের কর্ণার থেকে। এতোক্ষণ তাদের ঝগড়া দেখে চুপসে গেছে বেচারি। এসেই ইলমাকে বলে, “আয় চলে যাই।”
ইলমা কিছুক্ষণ দম নিয়ে বলে, “হুম চল।”
ইলমা বিলটা রেখে উঠে দাঁড়ায়। বাকীরা তাকিয়ে আছে। মাহিম বলে, “ঝগড়া তো হয়েছে। না খেয়ে চলে যাবি?”
“পরে আসব আবার।”
তাদের কথার মাঝে তৃপ্তি পিজ্জার স্লাইস মুখে নেয়। ইলমা বাকীদের থেকে বিদায় নিয়ে তৃপ্তির হাত ধরে হাঁটা ধরে। তৃপ্তি হাতে আনার স্লাইস খাচ্ছে আর হাঁটছে। ইলমার দিকে এক বাইট এগিয়ে দিলে ইলমা তা প্রত্যাখান করে। দু’জনে রিকশা ধরে বাসার উদ্দেশ্য রওনা হয়।
রেস্টুরেন্টে বসে আছে আদনান এবং নির্মাণ। আদনানের মন পুড়ছে ভীষণ। একে তো তার প্রেমিকনারী ছেলেফ্রেন্ডদের সাথে রেস্টুরেন্টে এসেছে তারউপর তাকে জঘন্য অপমান করেছে। ইলমা যে তার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে সেটা স্পষ্ট। দূরত্ব চাইছে সেটাও তার কথার ভাঁজে সুস্পষ্ট ফুটে উঠেছে। আদনান ধৈর্য হারা হয়ে পড়ে। ইলমার জীবনে বিশেষ কেউ আসেনি তো? কিন্তু ইনান শেখের মেয়ে প্রেম করবে এটা অবিশ্বাস্য। বাবা যদি বলে, মা ইলমা তুমি ছাঁদ থেকে ঝাপ দাও, ইলমা হয়ত তাই করবে। সেখানে প্রেম করার তো প্রশ্নই আসেনা। কিন্তু ইনান শেখকে বিশ্বাস করে না আদনান। চুপ করে আছে মানে কখন কী সিদ্ধান্ত নিয়ে আদনানকে হার্ট অ্যাটাক করিয়ে দেয় কে জানে! হুট করে ছেলে একটা এনে বলবে৷ ইলমার বিয়ে ঠিক। তখন চাইলেও আদনান কিছু করতে পারবে না। এখনও না! কারণ আদনান পুরোপুরি ঠিক হয়নি। এখনো খারাপ শব্দটা তার সাথে যায়। নারী সঙ্গ ছেড়েছে,সিগারেট ছেড়েছে,ক্লাবে যাওয়া ছেড়েছে। সবই ইলমার জন্য।
কিন্তু দিনশেষে যদি ইলমা তারই না হয়?
নির্মাণের অর্ডার করা খাবার আসতে আদনান ধ্যাণ ভাঙে। ভীষণ গম্ভীর দেখালো তার মুখখানা। নির্মাণ প্রশ্ন করার সাহস পায়না। দু’জনে খেয়ে উঠে পড়ে। নির্মাণ বিল পে করে আদনানের পেছন দিয়ে বাইরে আসে। দু’জনে বাইকে চড়ে বসে। রওনা হয় নিজেদের গন্তব্যে।
★★★
ফাতিহার জিনিসপত্র আনা হচ্ছে লোক দিয়ে ফ্ল্যাট একটা তার জন্য রাখা। এদিকে তার ছেলে ফারিশ মাহমুদ এই বিল্ডিংয়ে আসতে রাজী না। এমনিতেও সে খুবই কম আসে মামুদের বাসায়। গত পাঁচ বছরে পাঁচবার এসেছে কি-না সন্দেহ।
তার মামুদের ক্ষমতা,যশ,টাকাপয়সাতে ফারিশের আগ্রহ নেই। কেবলই দূরত্ব রেখে চলতে চায় সে। কিন্তু তার মা ফাতিহা শেখের জন্য তার জমিয়ে রাখা রাগ ভে’ঙে গুড়িয়ে যাচ্ছে। যেহেতু ফারিশের বাবা গত হয়েছে আরো নয় বছর আগে। সেজন্য পরিবার বলতে ফারিশ আর তার মা ফাতিহা শেখ।
জিনিসপত্র আনার জন্য আলাদা লোক রাখা হয়েছে। ফাতিহা বাবার বাসায় এসেছে কিছুক্ষণ আগে। ফারিশ আসেনি সে অফিসে গেছে। দু’টো দিন এই বাসায় থাকতে হবে তাদের। জিনিসপত্র কিছুই গোছগাছ করা নেই। এখন ফারিশ থাকে কি-না শিওর না। সে হয়ত খাট বিছিয়ে নিজে একাই ফ্ল্যাটে থাকবে।
ইলমা তৃপ্তি বাসায় এসে ফুফিকে পেয়ে যায়। তৃপ্তির সাথে দেখা হলেও ইলমার সাথে বহুদিন পর দেখা ফাতিহা। আসতেই ভাইঝি কে জড়িয়ে ধরে ফাতিহা। কপালে চু’মু দিয়ে বলে, “মা ইলমা কেমন আছো?”
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুমি?”
“আলহামদুলিল্লাহ।”
ফাতিহা সোফায় বোসে। ইলমা,তৃপ্তি ফ্রেশ হতে যায়। ফরিদা পারভীন মেয়ের সাথে গল্প গুঁজবে মেতেছে। ফাইজা ধারে কাছেও আসেনি। আর না কোন কাজে হাত দেয়। ঈশিতা এক হাতেই সবটা সামলায়। তবে আজকে ফাইজার প্রতি ভীষণ বিরক্ত ঈশিতা। কারণ আজকে কাজের চাপ বেশি। যেহেতু ফারিশও আসবে। ছেলেটা সহজে আসেনা। আসবে যেহেতু ভালো ভাবেই অ্যাপ্যায়ন করতে হবে। সেজন্য রান্নার তোরজোর চলছে। ইলমা তৃপ্তি এসে কাজে লেগে পড়ে। ফাতিহা নিচে যায় নিজের জিনিসপত্র দেখার জন্য।
ফরিদা পারভীন যায় ফাইজার রুমে। গিয়ে দেখে কলে কথা বলছে ফাইজা। ফরিদা পারভীন বলেন, “বড়বৌ সকাল থেকে কাজ করছে। তোমার কী আক্কেল জ্ঞান লোপ পাইছে?”
“আপনার ছেলেকে বলে দিয়েন একটা কাজের লোক রাখতে। কাজ করে মানুষকে খাওয়াতে পারব না।”
“এ্যাই তুমি কথাটা কইলা কারে? ইলমা খাবে সেজন্য তুমি রান্নাবান্না করতে পারবা না?”
ফাইজা জবাব দেয়না। মনে মনে বিরক্ত হয়। বুড়ির বুদ্ধি ভালো। সহজে ব্যপারটা ধরে নিয়েছে। আগের থেকে ফাইজা এরকম! ইজাজের স্কুল যেদিন থাকেনা সেদিন সে নাশতা বানাতে যায়না। কারণ ইলমার প্রায় প্রতিদিন কলেজ থাকে। সে সকালে ঘুম নষ্ট করে ইলমাকে নাশতা বানিয়ে দিবে কোন দুঃখে?
ফাইজা উঠে কিচেনে যায়। তখন অবশ্য তাদের কাজ গোছানো হয়ে গেছে। ফাইজা কিচেনে এসে ঈশিতাকে বলে, “কিছু করতে হবে?”
ঈশিতা বিরক্ত হয়। কন্ঠস্বরে তেজ বৃদ্ধি করে জবাব দেয়, “না।”
ছ্যাৎ করে বলা কথাটা ফাইজা বিরক্ত হয়। দ্রুত পা ফেলে স্থান ত্যাগ করে। মূহুর্তে ঈশিতা রেগে বলে, “জমিদার তো। আমি তো এই বাসার কাজেরঝি। ইনান আসুক আজকে। সাথে আদনানের বাবাও আসুক।”
ইলমা ঝাড়ু হাতে লিভিং রুমে যায়। পুরো লিভিং রুম ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে। মোপ দিয়ে পুরো লিভিং রুমে মোছে। তৃপ্তি প্লেট নামিয়ে ধোয়। টেবিলে সেগুলো রাখছে। দু বোন মিলে কাজ শেষ করে গোসল করতে চলে যায়।
আদনান বাসায় আসে। মন মেজাজ খারাপ তার। সোফায় বোসে চিৎকার করে বলে, “আম্মুউউ পানি দাও।”
ফরিদা পারভীন পানির বোতল এগিয়ে দেয়। আদনান সেটা হাতে নিয়ে নিজের রুমে চলে যায়। গোসল সেরে মসজিদে চলে যায়।
#চলবে
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। ৩৫% ছাড়ে ২৪০৳ টাকায় বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1
গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

