#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৩৪|
#শার্লিন_হাসান
“আমাকে কোন মেয়ে বিয়ে করবে না। তাইনা?”
ইলমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে আদনান। আদনানের কথায় ইলমা উপরনিচ মাথা দুলিয়ে বলে, “না করবে না।”
“কোন মেয়ের আমাকে বিয়ে করতে হবেনা। তুই করলেই হবে।”
“দেখো, তোমার সাত কপালের ভাগ্য।”
ইলমার কথায় আদনান মৃদু হাসে। জবাব দেয়,”হ্যাঁ সাত কপালের ভাগ্য দেখেই তো, তোর মুখে আমাকে ভালোবাসার স্বীকারোক্তি পেলাম।”
আদনানের কথায় ইলমা ব্যালকনির গ্রীলে হাত রাখে। শো, শো করে ভেসে আসা লিলুয়া বাতাসে চুলগুলো অবাধ্য হয়ে উড়ছে। আদনান ইলমার দিকে তাকিয়ে বলে, “চল, তোকে নিয়ে রাতের শহর ঘুরব।”
“না।”
“কেন?”
“কেউ দেখে নিবে।”
“তোর বাপ ছাড়া অন্য কেউ দেখলেও কিছু হবেনা।”
আদনানের কথায় ইলমা সায় দেয়। রুমে এসে মাথায় ওরনা টেনে ঘোমটা দেয়। নিজেকে আয়নায় একবার পরখ করে ইলমা। কী মনে হতে মুচকি হেঁসে রুম থেকে বেরোয়।
আদনান বাইকে চাবি নিয়ে বেরিয়ে আসে। দু’জনে একসাথে বাসা থেকে বেরোয়। আদনান বাইক নিয়ে গার্ডেনে আসতে, ইলমা পেছনে উঠে বোসে। আদনান বাইক স্টার্ট দিয়ে বলে, “আজকে ফুল স্পিডে বাইক চালাব। শক্ত করে ধরে বোস।”
“না। আমি পড়ে যাব।”
“পড়বি না। মিডিয়াম স্পিডে বাইক চালিয়ে মজা পাইনা।”
ইলমা জবাব দেয়না। আদনানের পিঠে মাথা গুঁজে রাখে। ইলমার এমন চুপ থাকা দেখে আদনান ভ্রু কুঁচকে তাকায়। জিজ্ঞেস করে, “মন খারাপ?”
“না।”
আদনান কিছু বলেনা। সুনশান নিরব রাস্তা দিয়ে বাইক চালাচ্ছে গন্তব্যহীন ভাবে। ইলমা রাতের আবহাওয়া, রাতের আকাশ,প্রকৃতি সবটাই চুপচাপ দেখছে, উপভোগ করছে।
দুজন অনেকক্ষণ বাইকের ঘুরার পর আদনান শহরের দিকে আসে। বাইক থামিয়ে, ইলমাকে নিয়ে নামে একজন ফুল বিক্রেতার কাছে। কিছু ফুটন্ত গোলাপ এবং জারবেরা কিনে নেয়। বেলীফুলের মালা নিয়ে ইলমার হাতে পড়িয়ে দেয়। ইলমা ফুলগুলোর দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে। আদনান ফুলের টাকা দিয়ে, ইলমার হাত ধরে সামনে এগোয়। একটা টংয়ের দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায়। ইলমা শুধু আদনানের কার্যকলাপ দেখে যাচ্ছে। দু’টো চায়ের কাপ আসতে, আদনান একটা চায়ের কাপ ইলমার দিকে এগিয়ে দেয়। চোখ দিয়ে ইশারা করে পান করার জন্য। দু’জন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে চা পান করছে। আদনান চায়ের টাকা দিয়ে ইলমার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে সামনে এগোয়। ইলমার ডান হাত আদনানের হাতের মুঠোয়,বাম হাত আদনানের পেশিবহুল পুরুষালী হাত স্পর্শ করে রেখেছে। আদনানের কাঁধ বরাবর খানিক নিচে ইলমার মাথা। মানে সে, আদনানের থেকে অনেকটাই খাটো। তবে সোজাসুজি দাঁড়ালে, আদনানের বুক বরাবর গিয়ে মাথা ঠেকবে। ইলমা আনমনা হয়ে আদনানকে জিজ্ঞেস করে, “তুমি এতো বাজে তবুও কী এমন আছে তোমার মাঝে, আমি বারবার মুগ্ধ হই?”
ইলমার কথায় আদনান মজা নিয়ে বলে, “শেখ পরিবারে অত্যন্ত ভদ্র মেয়েটাও শেষমেশ একটা বাজে, ইভটিজার ছেলের প্রতি মুগ্ধ হলো।”
“যাহ। তোকে আর কিছু জিজ্ঞেস করব না।”
“এই কথায়, কথায় রাগ করবি না।”
“তুই কী পরিমাণ ঝগড়ুটে বাবাগো! মেয়েফ্রেন্ড আছে তাই না? বুঝি,বুঝি! সবই মেয়েফ্রেন্ড রাখার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।”
“এই! তুই আমার কথা আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছিস?”
“হুম। তো?”
“মেয়ে মানুষ এতো ঝগড়ুটে হয় কীভাবে?”
“আর ছেলেমানুষ?”
“মেলিচা চল ক্লাবে যাই। মদ খাবো।”
আদনানের এমন আবদারে ইলমা, আদনানের হাতের থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়। মূহুর্তে মুখশ্রীর রঙ পরিবর্তন হয়। আদনান ইলমাকে রেগে যেতে দেখে ভড়কে যায়। আমতাআমতা করে বলে, “এই বাজে কিছু বলিনি আমি।”
“তুমি এখনো ক্লাবের নেশা ছাড়তে পারোনি?”
“কেন?”
“আবার কেন কী?”
“এটা তো মজা করে বলেছি। ভালো মেয়েদের নিয়ে এসব জায়গায় গেলে,আমার পাপ হবে।”
“বজ্জাত। ক্লাবের নাম মুখে নিলে ব্রেকআপ।”
“এই প্রেমিকনারী, তুই প্রেম করলি কখন যে ব্রেকআপ,ব্রেকআপ বলে থ্রেট দিচ্ছিস?”
“এই যে তোমার কথায় সায় দিয়ে সাথে ঘুরতে এসেছি। কেন এসেছি বলোতো?”
“কেন?”
“কিছুনা।”
“আচ্ছা, তুই আমার সাথে রাতবিরেত কেন এসেছিস? একটিও ভয় করেনা?”
আদনানের কথায় ইলমা মুখের উপর জবাব দেয়, “না। একটুও ভয় করেনা।”
“এতো বিশ্বাস?”
“মেরে ফেলবে নাকী?”
“তোকে মেরে ফেললে আমি কী নিয়ে বাঁচব শুনি?”
আদনানের কথায় ইলমা ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলে, “তুমি বাজে ছেলে তবে বাজে মতলব নেই তোমার মধ্যে।”
আদনান ইলমার দিকে একপলক তাকায়। দু’জনে গল্প করতে,করতে হেঁটে একটা ব্রিজের উপর যায়। দু’পাশে ল্যাম্পপোস্টের আলো। আদনানের ভীষণ ভালো লাগছে এই সময়টা। কখনো কল্পনা করেনি তার প্রেমিকনারী তার সাথে আসবে। বা কখনো এরকম একটা সময় পাবে।
ইলমা আশেপাশে দেখছে। আদনান ফোন স্ক্রোল করছে। প্রায় অনেকক্ষণ সময় কাটানোর পর আদনান ইলমাকে নিয়ে বাজারের দিকে যায়। দু’জনে বাইকে উঠে বাসার উদ্দেশ্য রওনা দেয়।
বাসায় এসে কেউই ঘুমায়নি। বরং দু’জন দুই ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে, দাঁড়িয়ে কথা বলেছে। কথা কম, ঝগড়াই বেশি করেছে।
শেষ রাতের দিকে আদনান বকে ইলমাকে রুমে পাঠিয়েছে। তখন তার মুখের বুলি ছিলো, “বেশি প্রেম ভালো না।”
ইলমার মতো গম্ভীর, স্বল্পভাষী মেয়েও প্রেমে এমন ভাবে ডুব দেবে আদনান কোন কালেও ভাবেনি।
দু’জনের কথা বলার সুযোগ বেশি সেই দুইদিন ছিলো। ইনান শেখ বাসায় ফেরার পর আগের মতোই দূরত্ব বজায় রেখেছে।
ফাতিহা, ফারিশের সাথে ইলমাকে বিয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে প্রায়।
ইলমা,তৃপ্তি ভার্সিটি এডমিশন হয়েছে। সেই ঘুরেফিরে আদনান যেই ভার্সিটিতে আছে সেটাতেই দু’জন গিয়েছে।
প্রথম কয়দিন না গেলেও নবীন বরণের দিন যাবে দু’জন। ইলমা,তৃপ্তির নবীন বরণের অনুষ্ঠানের দিন আদনান ব্যাংক থেকে ছুটি নিয়েছে।
দু’জন রেডি হয়ে গেটের বাইরে আসতে আদনান বাইক নিয়ে বেরোয়। ওদের দু’জনকো রিকশায় উঠিয়ে দিয়ে,নিজে আগে-আগে ভার্সিটি চলে আসে।
আদনান অনেকদিন পরেই ভার্সিটি এসেছে। বন্ধুরাও তাকে অনেকদিন পর কাছে পেয়েছে। আদনান আসতেই নির্মাণ আদনানের কাঁধে হাত রেখে বলে, “আজকে তো জুনিয়রা আসবে। রেডি তো?”
“এ্যাই সর। আমার প্রেমিকনারী মেলিচা জুনিয়র ছাড়া কারোর দিকে তাকানোর সময় নেই।”
আদনানের কথায় বাকীরা তাকায়। শেজান বলে, “প্রেম জমে ক্ষীর।”
আদনান মাথা নাড়ায়। নির্মাণ আফসোসের স্বরে বলে, “গুলি মিস গেলোও শালারব্যাটার পছন্দ করা নারী কখনো মিস যায়না।”
“এ্যাই চোপ। মেলিচার সামনে আমার পুরোনো প্রেমপিরিতির কথা তুলবি না।”
“একশবার তোলব। ও তো জানেই সব!”
“জানুক। তুই বলবিনা। মন খারাপ করবে।”
কথাটা বলে গেটের দিকে এগোয় সবাই। ইলমা,তৃপ্তিকে দেখপ রাহা,নিশাত খোঁজখবর জিজ্ঞেস করে। এদিকে তৃপ্তিকে দেখে নির্মাণ আদনানকে ফিসফিস করে বলে, “তোর দুলাভাই হওয়ার সুযোগ দিবি?”
“এই সর। তোর মতো বারো রাইসকে আমার বোনের সাথে ইংকিপিংকি মারতে দেব না।”
“ভণ্ডামি ছেড়ে দিয়েছি। সিরিয়াস ভাই। এমনিতে তোর বোনকে ছ্যাকা দেওয়ার সাধ্য আমার নাই। তুই যেই!”
“সর আমার প্রেমিকনারী চলে এসেছে।”
কথাটা বলে নির্মাণকে ছেড়ে আদনান ইলমার কাছে আসে। সামন-সামনি দাঁড়িয়ে ইলমাকে একনজর দেখে। শাড়ির সাথে হিজাব পরে এসেছে। আদনান ইলমাকে পরখ করে মুচকি হাসে। আদেশ করে বলে, “উল্টাপাল্টা ছেলেদের দিকে তাকাবি না।”
ইলমা মুখ বাকিয়ে বলে, “আমার বন্ধুরা আসছে একটুপর।”
তৃপ্তি আদনানের দিকে তাকিয়ে আছে। আগে তো তাকে শাসন করত। এখন ইলমাকে এমন ভাবে বলছে, জেনো বিয়ে করা বউ। আজকে তৃপ্তিকে শাসাতে ভুলে গেছে আদনান। কথার মাঝে আদনানের নজর তৃপ্তির দিকে আসতে সাথে,সাথে তৃপ্তিকে ধমক দিয়ে বলে, “এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? দুজনকেই বলছি। আর তৃপ্তি নির্মাণের কথায় একদম পাত্তা দিবি না।”
আদনানের কথা শেষ হতে নির্মাণ আদনানের মাথায় গাট্টি মারে। পিঠে থাপ্পড় বসিয়ে দিয়ে বলে, “এ্যাই শালা, আমি ওকে বোনের নজরে দেখি। তুই উল্টাপাল্টা কুমন্ত্রণা দিচ্ছিস কেন?”
তখন পাশ থেকে রাহা বলে, “বোন থেকেই বউ হয়।”
রাহার কথায় ইলমা সুর মিলিয়ে বলে, “আর ভাইয়া থেকে সাইয়া।”
আদনান ইলমার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকায়। ইলমা সেসব তোয়াক্কা করেনা। তৃপ্তি আদনান, ইলমা দু’জনকে দেখছে। হাবভাব ভালো ঠেকছেনা। তৃপ্তির মনে প্রশ্ন জাগে, ‘দুজন ডুবে জল খাচ্ছে না তো?’ কিন্তু হাবভাব যাই হোক, ঝগড়া তো আগের মতোই চলছে। তাঁদের ঝগড়ার মাঝে নির্মাণ তৃপ্তিকে বলে, “তুমি আমাকে নানার চোখে দেখতে পারো। ভাই-বোনের সম্পর্কে ঝামেলা বেশি।”
“নানাতেও সমস্যা আছে। তুই তৃপ্তির মামা।”
আদনানের ঠান্ডা মাথায় বলা কথায় নির্মাণ রেগে তাকায়৷ বাকীরা শব্দ করে হাসে। নির্মাণ পারছে না আদনানের মাথাটাই ফাটিয়ে দেয়। নিজপ তো গার্লফ্রেন্ড পেয়েও গেলো। তার বেলায় এরকম স্বৈরাচার গিরি মেনে নেওয়া যাচ্ছেনা। আদনান, ইলমা এবং তৃপ্তিকে নিয়ে বাকীদের সাথে অনুষ্ঠানে যোগদান করে। গান-নাচ,বক্তব্য সব মিলিয়ে অনেকক্ষণ সময় কাটে। অনুষ্ঠানের প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে আসে তৃপ্তি এবং ইলমা। উদ্দেশ্য ঠান্ডা পানীয় পান করবে। দু’জনকে এক সাইডে দাঁড় করিয়ে আদনান শেজানের সাথে ক্যান্টিনে যায়। রাহা,নিশাত,নির্মাণ তারা আসেনি। দু’জন দাঁড়িয়ে টুকটাক কথা বলছিলো।
তাদের কথার ব্যাঘাত ঘটাতে আগমন হয় জয় এবং তার দলের ছেলেদের। জয় এসেই ইলমা এবং তৃপ্তিকে দেখে খুশি হয়ে যায়। ইলমার দিকে তাকাতেই খুব নম্র ভদ্র ভাবের মেয়েমানুষ নজরে আসে। দু’জনেি হিজাব পরে এসেছে। তবে জয়ের নজর ইলমার দিকে। জয়কে অসময়ে দেখে ইলমা বিরক্ত হয়। কিন্তু জয় তো জয়ই! ইলমাকে মনে ধরেছে তার। এখন যদি শোনে তার মনে ধরা নারী আগে থেকেই আদনানের গার্লফ্রেন্ড তাহলে তো হয়েছে। জয় তৃপ্তিকে বলে, “হেই হোয়াটসআপ?”
তৃপ্তি ইলমার দিকে তাকায়। জবাব দেওয়ার আগে পাশ থেকে একটা ছেলে বলে, “ওরা তো জুনিয়র। ভাই চিনেন নাকী?”
জয় ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে বলে, “হ্যাঁ চিনি।”
ইলমা তৃপ্তিকে তাড়া দিয়ে বলে, “যাওয়া উচিত।”
তখন জয় সেই কথা কাউন্ট করে জবাব দেয়, “এতো তাড়া কিসের? ভার্সিটির সিনিয়রদের সাথে পরিচিত হবেন এরপর যাবেন।”
“আপাতত প্রয়োজন মনে করছিনা।”
খুব নিখুঁত ভাবে ইলমার দেওয়া অপমানে জয়ের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। বাকীরা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। ইলমার সাহস দেখে উপস্থিত বেশীরভাগ অবাক হয়েছে। ইলমা বিরক্ততে নাক মুখ কুঁচকে নেয়। তৃপ্তির হাত ধরে চলে আসতে গেলে জয় পথ আটকে দাঁড়ায়। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ইলমার দিকে। ইলমা সেসব তোয়াক্কা না করে পাশ কাটাতে যায়, জয় পুনরায় বাঁধা দেয়। ইলমার ভীষণ রাগ হয়। চোখমুখ শক্ত করে বলে, “এসব কোন ধরনের অসভ্যতামী? পথ ছাড়ুন বলছি।”
জয় তৃপ্তির দিকে তাকিয়ে বলে, “এই মেয়েটা আপনার কাজিন? এতো তেজ কেন?”
“এক্সকিউজ মি! আপনাকে তেল মেরে কথা বলতে পারব না। পথ ছাড়ুন বলছি।”
ইলমার কথা শোনে পাশ থেকে একটা ছেলে বলে, “আপু ভদ্র ভাবে কথা বলুন।”
“এর থেকে বেশি ভদ্রতা আমি দেখাতে পারব না।”
“প্রথমদিন ঝামেলা বাঁধাতে চাও?”
ইলমা বিরক্ত হয়। পাশ কাটিয়ে গেলে জয় তার হাত খপ করে ধরে নেয়। ইলমা সবিস্ময় নিয়ে তাকায় জয়ের দিকে। হাত ঝাড়ি মেরে ছাড়াতে যাওয়ার আগে জয়ের হাত বরাবর শক্তপোক্ত পায়ের আঘাত পড়ে। যার দরুন জয় পড়ে যেতে নিলেও ইলমার হাত ছাড়েনা। ইলমাকে নিয়ে পড়তে যাবে,এমন সময় আদনান ইলমার আরেকটা হাত ধরে। জয়ের হাত থেকে ইলমার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আদনান রেগে আছে। জয়ের দিকে তেড়েফুঁড়ে আসতে গেলে ইলমা তাকে বাঁধা দেয়। আদনান ইলমাকে উপেক্ষা করে জয়ের দিকে পুনরায় তেড়েফুঁড়ে আসতে যায়, তখন শেজান তৃপ্তির হাতে খাবার গুলো দিয়ে আদনানকে আটকায়। জয় আদনানকে দেখে মেজাজ হারায়। চেঁচিয়ে বলে, “এখানেও তোর সমস্যা? সবসময় কেন আমার পছন্দের নারী নিয়ে তোর লালসা থাকে?”
“তুই ওকে চিনিস?”
আদনান জিজ্ঞেস করে। জয় জবাব দেয়, “আগে থেকে পরিচয়।”
মূহুর্তে আদনানের মাথায় আসে ইলমার ফেসবুকে, জয়ের রিয়েক্ট কমেন্ট দেখেছিল। আদনানের মেজাজ ভীষণ খারাপ হয়। ইলমার দিলে রক্তচক্ষু করে বলে, “তুই ওকে চিনিস?”
ইলমা নির্বিকার ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে। তার সাথে তো কনভারসেশন হয়েছিলো সেটা তৃপ্তিও জানে। চিনে না এমন কোন ব্যপার না। বলা যায়, সে জয়কে আগে থেকে চিনে। কিন্তু এই মূহুর্তে স্বীকারোক্তি দিলে বড় ঝামেলা বাঁধবে। ইলমাকে চুপ দেখে আদনান নজর সরিয়ে নেয়। জয় এসে আদনানের পিঠ বরাবর লাথি দিতে আদনান ছিটকে সামনে যায়। জয়ের আচমকা এট্যাকে ইলমা ভয় পায়। তৃপ্তি ভয়ে ইলমার পাশে এসে দাঁড়ায়। তারা কেউই জানে না আদনানের সাথে যে জয়ের ঝামেলা। জয় জানেনা তৃপ্তি যে আদনানের বোন। সব জানা-অজানার ভেতর ঝামেলা লেগে গেছে। শেজান কল দিয়ে নির্মাণকে ডেকে আনে। এই জয় আর আদনান কারোর ঝামেলা এই জীবনেও শেষ হবেনা। আদনান এতোদিন পর ভার্সিটি এসেছে তাতেও জয়ের সাথে ঝামেলা,মারামারি একচোট হবেই হবে।
লাথি খেয়ে আদনান পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়ায়। এসেই জয়ের গলা চেপে ধরে। নিজের শক্ত মাথা দিয়ে জয়ের কপালে আঘাত করে। নির্মাণ, শেজান দুজন মিলে আদনানকে ছাড়িয়ে নেয়। জয় পুনরায় তেড়েফুঁড়ে আসতে গেলে নির্মাণ এবং শেজান বাঁধা দেয়। ইলমা আদনানের দিকে তাকিয়ে আছে। এই ব্যাটা এভাবেই মারামারি করবে। সেদিন নিশ্চয়ই এদের হাতেই মার খেয়ে বাসায় ফিরেছিল।
জয় তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে প্রস্থান করার আগে আদনানকে থ্রেট দেয়, “বেশি উড়ছিস না। দেখ কী করি।”
ইলমা আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে, “তোমার কাজকর্মের এই অবস্থা কেন? ভার্সিটি এসে ওর সাথেই মারামারি করো?”
“এই শালী সর। একদম চোপ। নিমকহারাম কোথাকার।”
আদনানের ধমকে ইলমা কেঁপে উঠে। বাকীরা তাকিয়ে আছে দু’জনের দিকে। এই মূহুর্তে আদনানের মাথা ঠিক নেই। ইলমা কিছু বললো না। তবে কথাটায় ভীষণ কষ্ট পেয়েছে। আদনান তৃপ্তির দিকে তাকিয়ে ধমকে বলে, “তুই ওকে চিনতি?”
তৃপ্তির গলা দিয়ে কথা আসছেনা। মস্তিষ্ক শূন্য। এক মূহুর্তের জন্য ফারিশের জন্য মেয়ে দেখতে গিয়ে,জয়ের সাথে দেখা হয়েছে সেকথা ভুলে গেছে। কয়েকদিন আগে যে ইলমার সাথে বসে জয়ের সাথে ম্যাসেজে কথা বলা দেখছিলো সেটাই মাথায় আসছে।
কাঁপা কাঁপা গলায় জবাব দেয়, “ওই ইলমার ফোনে ম্যাসেজ দেখেছিলাম।”
আদনান জবাব দেয়না। তৃপ্তি ভয়ে ইলমার হাত চেপে ধরে। বাসায় গেলে আদনান যদি বাবার কাছে বিচার দেয় তাহলে তো ঝামেলা বাঁধবে। এদিকে আদনান পুরো কাহিনী জানে না। তৃপ্তি বা ইলমা কেউই জানেনা জয়ের সাথে আদনানের শত্রুতা। অন্যদিকে জয় জানে না তৃপ্তি যে আদনানের বোন আর ইলমা যে আদনানের কাজিন। শুধু এতোটুকু জেনেছে, আদনানের সাথে ইলমার কোন প্রেম জনিত সম্পর্ক আছে।
তৃপ্তি এখনো, আদনান ইলমার প্রেমের ব্যপারে অবগত না। সেজন্য তার বলা কথা কতটুকু ঝামেলা হবে সেটা তার অজানা।
#চলবে
আদনানকে নিয়ে যে বইটা আসার কথা, সেটা প্রথম অর্ডারকারী
নির্দিষ্ট কয়েজন আমার হাতের লেখা চিরকুট পাবেন। সেজন্য যারা আগে প্রি অর্ডার করবেন তারা পাবেন। বইয়ের নাম/দাম সবকিছু প্রকাশ করা হবে।
আমার গ্রুপ লিংক,
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

