গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৩৭| #শার্লিন_হাসান

0
35

#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৩৭|
#শার্লিন_হাসান

কনসার্ট শেষ হতে ধীরে,ধীরে ভীড় কমে আসে। তৃপ্তিকে নিয়ে আদনানের বন্ধুমহল অপেক্ষা করছে গাড়ির কাছে। নির্মাণ চুলগুলো ব্যাকব্র্যাশ করে তৃপ্তির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। তার হাসি শেজানের নজরে আসতে বলে, “চোখে,চোখে কত কথা;মুখে কেন বলোনা?”

সাথে,সাথে শেজানের পিঠে ধুম করে কিল বসে যায়। নির্মাণ লজ্জা পেয়েছে খানিক। নিশাত,রাহা,তৃপ্তি তাকিয়ে আছে তাঁদের দিকে। তখন রাহা তৃপ্তিকে জিজ্ঞেস করে, “ইলমা আসলো না কেন?”

“ওর ভীড় পছন্দ না।”

তখন নির্মান বলে, “ওদের ব্রেকআপ হয়েছে মনে হয়।”

তৃপ্তি মুখ বাঁকা করে জবাব দেয়, “ওদের প্রেমটা কবে হয়েছিল, যে ব্রেকআপ হবে? ইলমা এসব প্রেমটেমে নাই। তবে ওরা কেউই কারোর সাথে কথাবার্তা বলেনা কয়েকমাস ধরেই।”

“ভার্সিটির ঝামেলার পর থেকে?”

নির্মাণের কথায় তৃপ্তি জবাব দেয়, “হ্যাঁ। তবে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। জয়ের সাথে ইলমার দেখাটা হয়েছে মূলত আমার মাধ্যমে। এর পেছনে কাহিনী আছে। আমার কাজিনের বিয়ের জন্য জয়ের কাজিন রৌদিয়াকে দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখা-পরিচয়। এরপর একদিন জয়ের সাথে আমার দেখা হয়েছিল ক্যাফেতে।সেই আগ বাড়িয়ে কথা বলেছে। তখন ইলমাকেও দেখেছে।”

তৃপ্তির কথায় শেজান জিজ্ঞেস করে, “রৌদিয়া আইরিন না? তোমার কাজিনের নাম কী?”

“ফারিশ মাহমুদ।”

তৃপ্তির কথা শেষ হতে না হতে ফারিশের আগমন হয়। হাতে কোকের বোতল। তৃপ্তিকে দেখে ফারিশ মৃদু হেঁসে বলে, “আরেহ তৃপ্তি, তুমিও এসেছ?”

তৃপ্তি উপরনিচ মাথা নাড়ায়। শেজান হা হয়ে তাকিয়ে আছে ফারিশের দিকে। তৃপ্তি সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে, “উনিই আমার কাজিন ফারিশ মাহমুদ।”

নির্মাণ, শেজানের দিকে তাকায়। ফারিশ হাসার চেষ্টা করে বলে, “হাই এভ্রিওয়ান।”

বাকীরাও মাথা নাড়ায়। শেজান,নির্মাণ, ‘হ্যালো’ বলে। ফারিশ তৃপ্তিকে উদ্দেশ্য করে বলে, “বাসায় যাবা না?”

“ভাইয়ার সাথে যাব।”

“ইলমা আসেনি?”

“না।”

“আচ্ছা, তাহলে এসো। আমি গেলাম।”

তৃপ্তি মাথা বাড়িয়ে বিদায় দেয়। শেজান পুনরায় তৃপ্তিকে জিজ্ঞেস করে, “তোমার ভাই কেমন? নাকী আদনানের মতোই প্লেবয়?”

“ফারিশ ভাইয়া ভীষণ ভদ্র। এরকম ভদ্র ছেলে আজকাল কমই দেখা যায়।”

তৃপ্তির কথায় নির্মাণ মুখ টিপে হাসে। শেজান জবাব দেয়, ” অনেক বেশি ভদ্র ফারিশ মাহমুদ।”

কথাটা বলে শেজানের কাঁধে হাত রাখে। তৃপ্তি বুঝেনি শেজান ঠিক কী বলেছে।

আদনানকে সাংবাদিক আজকের কনসার্ট নিয়ে জিজ্ঞেস করছে। আদনান সুন্দর ভাবেই উত্তর দিয়েছে। একেকটা প্রশ্ন করার পর সাংবাদিক আদনানের ব্যক্তিগত জীবনে নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
সাংবাদিক আদনানকে জিজ্ঞেস করে, “আপনার বউ আছে?”

আদনান ক্রুর হেঁসে জবাব দেয়, “হ্যাঁ আছে তো। শ্বশুর বাড়িতে পালতে দিয়েছি। সময় হলেই নিয়ে আসব।”

“তার মানে আপনি এখনো সিঙ্গেল?”

“সেটা জেনে আপনার কাজ নেই। আপনি তো আর প্রেম করার জন্য মেয়ে দিবেন না।”

“আপনার এখন অনেক মেয়ে ভক্ত আছে। সেখান থেকে একজন নিয়ে নেন।”

আদনান জবাব দেয়না। বরং তাড়া দেখিয়ে বেরিয়ে আসে সেখান থেকে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা তার পছন্দ না। প্রেম-ভালোবাসা-নারী এসব নিয়ে কথা বলার আগ্রহ নেই।

আদনান আসতে, নির্মাণ শেজানকে বলে, “আমাদের গায়ক চলে এসেছে। এবার রওনা হই।”
সবাই গাড়িতে উঠে বোসে। নির্মাণ ড্রাইভ করছে। পাশে নিশাত বসা। আদনান তৃপ্তিকে নিয়ে বাকীদের সাথে পেছনে বসেছে।

আদনান তৃপ্তির দিকে তাকিয়ে বলে, “আজকে ফারিশ এসেছে?”

“হ্যাঁ।”

“মেলিচা কেন না করে দিয়েছিল?”

“আমি কী জানি? তোমার ওর নামটা মনে আছে? আমি তো ভেবেছিলাম ভুলে গেছ।”

“এই চোপ। মেয়েমানুষের মতো নাটকবাজ দুটোও দেখিনি আমি।”

আদনানের কথায় তৃপ্তি বিরক্ত হয়ে জবাব দেয়, “মেয়েমানুষের নাটক দেখতে যাও কেন? চোখ বন্ধ করে রাখতে পারো না।”

“চোখের সামনে এসে নাটক করলে কীভাবে চোখ বন্ধ করে রাখব?”

ওদের কথার মাঝে নির্মাণ বলে, “ঝগড়া ছাড় ভাই। তোর প্রেমিকনারীকে নিয়ে ভাব।”

“সর শালা। ওর বাপ জানলে আমার কপাল বরাবর দুটো বুলেট গেঁথে দিবে।”

“ওই এডভোকেট ইনান জাউড়া এমন করছে কেন?”

নির্মাণের কথায় বাকীরা হা হয়ে তাকিয়ে রয়। তৃপ্তি নাক মুখ কুঁচকে বলে, “আপনাদের থেকেই আমার ভাই গালি শিখেছে।”

তৃপ্তির কথায় নির্মাণ বলে, “তোমার ভাইকে শিখাতে হয় নাকী? ও নিজেই তো গালির মাস্টার।”

“মাঙ্গের ছেড়ার পোলা চুপ থাক।”

“দেখলে তো?”

“ওই ইনান শেখ, শালার চোখ কয়টা ভাই? চট্টগ্রাম থেকেও সব খোঁজ পেয়ে যায়। শালার ছেড়া তো আমাকে থ্রেট দিয়েছে। মেয়ে একটা নিয়ে কত বাহাদুরি। ভুলবশত মন দিয়েছিলাম, সেজন্য এতো স্ট্রাগল করতে হচ্ছে। নাহলে ইনান শালার কথা শোনার টাইম আছে নাকী?”

আদনানের কথায় শেজান জিজ্ঞেস করে,” ফিউচার শ্বশুরকে গালি দিচ্ছিস?”

“ওনার মেয়েকে বিয়ে করলেও কী,ওনাকে আমি শ্বশুর হিসাবে মানব না। সে আমার বালের শ্বশুর।”

আদনানের কথায় নির্মাণ হো হে করে হেঁসে উঠে। শেজান হাসি থামিয়ে বলে,
“ইনান শেখও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বলবে, তুমিও আমার বালের জামাই।”

এই নিয়ে এক দফা হাসির রোল পড়ে যায়। আদনান বিরক্ত হয়। ওদের হাসি ঠাট্টাতে মন দেয়না। তৃপ্তিকে নিয়ে বাসার গেটের সামনে নেমে যায়। বাকীদের বিদায় দিয়ে ভেতরে চলে যায় ভাই-বোন দু’জন। আদনান এসেই সোফায় বোসে হাত দু’টো মেলে দেয়। তৃপ্তিকে আদেশ করে বলে, “ঠান্ডা পানি এনে দে।”

তৃপ্তি মাথা নাড়ায়। কিচেন থেকে পানির বোতল এনে দেয়। আদনান সেটা হাত নিয়ে ক্যাচ ধরতে,ধরতে রুমের দিকে চলে যায়।

তৃপ্তি দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। রাত বারোটার ঘর ছুঁয়েছে। সেজন্য দেরি না করে রুমে এসে চেঞ্জ করে,শুয়ে পড়ে।

আদনান চেঞ্জ করে ফোনটা হাতে নেয়। ইলমার আইডি স্টক করে। আইডির পাশে সবুজ বাতি জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। তবে কথা বলার মতো তাড়া নেই। ফেসবুক থেকে বেরিয়ে গ্যালারীতে প্রবেশ করে। আলাদা একটা ফাইলে যায়। যেখানে ইলমার অনেকগুলো ছবি আছে। আদনান শাড়ি পড়া ছবিগুলোতে চোখ বোলায়। তখন তার হোয়াটসঅ্যাপে শেজানের ম্যাসেজ আসে। ম্যাসেজ বলতে কী! ফারিশের কিছু ছবি। আদনান ছবিগুলো দেখে সেভ করে নেয়। শেজান লিখে, “অতিরিক্ত ভদ্র ছেলের কিছু সুন্দর ছবি।”

“এগুলো ইনান শেখকে নিয়ে দেখা। সাথেরটা কে রে?”

“জয় পাকিস্তানের কিছু হবে।”

“বাহ্! দুইদিন পর দেখব ঘষেটি বেগম বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। ইনান শেখও নেচে রাজী হবে। সমস্যা নেই, বসে,বসে বিয়ে দেখব।”

“সর! মেয়েটার জীবন নষ্ট হবে।”

“হোক! তাতে আমার কী?”

“সর হালারপো! বারোবাতারী মার্কা কথা বলবিনা।”

“সময়ের অপেক্ষা।”

★★★

শেখ পরিবারের সবাই গতকাল রাত থেকে জিনিসপত্র গোছানোর কাজে নেমেছে। সকাল,সকাল বড় ট্রাক এসে গেটের বাইরে দাঁড়িয়েছে। জিনিসপত্র সব ট্রাকে তোলা হবে। ইনান শেখ ছাড়া বাকীরা সবাই কাজে নেমেছে। আদনান নিজেও, নিজের জামাকাপড়, টুকটাক জিনিসপত্র গুছিয়েছে। সবাই যখন নিজেদের জামাকাপড়, কসমেটিকস গোছানোতে ব্যস্ত, ইলমা তার উপন্যাসের বইগুলো গোছাতে ব্যস্ত। বড়বড় মোটাসোটা বেশ কয়েক বই একসাথে বেঁধে রুম থেকে বেরিয়েছে। বইয়ের স্তর তার মুখ নাক অব্দি ঢাকা। ইলমা আল্লাহর নাম নিয়ে ধীরে,ধীরে হেঁটে দরজা অব্দি গিয়েছে। সেখানেই ঘটেছে বড়সড় বিপত্তি। এক দরজা দিয়ে তিনজন আসা যাওয়াতে ছিলো। ইলমা বেরুচ্ছিলো। তৃপ্তি এবং আদনান একসাথে ঢুকছিলো। তৃপ্তি সাইডে থাকায় বেঁচে গেছে। ভারী বইয়ের শক্ত স্তূপ আদনানের বুকের সাথে ধাক্কা লেগেছে জোরেশোরে। ইলমাও বই ছেড়ে দিয়েছে যা গিয়ে পড়েছে আদনানের পায়ের উপর। এতো শক্ত,ভারী বই পায়ের উপর পড়ায় আদনান প্রচুর ব্যাথা পেয়েছে। একে তো জোরেশোরে ধাক্কা দিয়েছে এখন পা টাই মনে হয় ভে’ঙে দিয়েছে। ইলমা মুখে হাত দিয়ে বলে, “সরি দেখিনি।”

আদনান রক্তচক্ষু করে নেয়। গুরুগম্ভীর কন্ঠে ধমকে বলে, “বালের দুটো চোখ নিয়ে ঘুরে। জলজ্যান্ত মানুষ চোখে লাগেনা? দেড় ফুট উচ্চতার লিলিপুট একটা বই নিয়েছে আড়াই ফুট উচ্চতার। সর সামনে থেকে।”

আদনানের কথায় ইলমার মন খারাপ হয়ে যায়। মূহুর্তে চোখমুখের ভাবের পরিবর্তন আসে। আদনান ইলমার মুখের দিকে তাকিয়ে আর কিছু বলেনা। ইলমা বইগুলো উঠিয়ে নেয়। আদনান খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে ভেতরে পা রাখতে আগমন হয় ফাতিহা এবং ফারিশের। ফারিশ ইলমার হাতে এতো বই দেখে এগিয়ে আসে। বইগুলো নিজের হাতে নিয়ে বলে, “আরে পিচ্চি, নিজেই তো হাঁটতে পারো না। আবার এতোগুলা বই নিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছ?”

পাশ থেকে আদনান বিরক্ত হয়ে জবাব দেয়, “এখানে এসে ওকে হাঁটতে দেখেছ? দেখেনি তো! তাহলে কীভাবে বললে ও হাঁটতে পারেনা? আর ওকে কোনদিক দিয়ে পিচ্চি মনে হয়? বিয়ে দিলে জামাইয়ের জীবন ধ্বংস করতে দুইদিন ও লাগবে না।”

ইলমা ঠিক বুঝেতে পারেনি। আদনান জ্বলেপুড়ে কথাগুলো বলেছে নাকী তাদের দুজনকে অপমান করে? আদনানের কথায় ফারিশ এগিয়ে এসে আদনানের হাতে বইগুলো ধরিয়ে দিয়ে বলে, “এবার তুমি হেল্প করো”

আদনান ইলমার হাতে বইগুলো ধরিয়ে দিয়ে কাঠকাঠ গলায় বলে, “শক্তি না থাকলে নায়ক সাজতে আসার কী দরকার। লিলিপুটের বই লিলিপুট নিজেই টেনে নিবে। মার খেয়ে আমার এতো ঠেকা পড়েনি।”

ইলমা বিরক্ত হয়। কাকে শাসাবে ঠিক বুঝেনি। তবে রাগী কন্ঠে বলে, “হেল্প না করলে আমার কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর কী দরকার ছিলো? একে তো চোখে সমস্যা। মানুষ কাজ করছে সেটা না দেখেই ধাক্কা দেওয়া। দ্বিতীয়ত, নায়ক সেজে হেল্প করতে এসে নাটক ক্রিয়েট করা। ফালতু যত্তসব!”

ইলমা তেজের ঠেলায় ভারি বইগুলো নিয়েই হাঁটতে থাকে। আদনান ঝগড়ার তালে নিজের পায়ের ব্যথার কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছে। সোফায় বসে তৃপ্তিকে বলে মলম ঢলে দিতে। তৃপ্তি মলম এনে আদনানের মুখের উপর ছুঁড়ে মারে। তাড়া দেখিয়ে বলে, “আমার কাজ আছে। নিজেরটা নিজে করে নেও।”

আদনান ধমকে বলে, “চোপ। যেটা বলেছি সেটা করবি।”

“ইলমার জন্য পায়ে ব্যাথা পেয়েছ,এখন ইলমাকে বলো মলম মালিশ করে দিতে।”

“তোর মতো কাজচোরকে যে পাবে তার কপালে দুঃখ আছে।”

আদনানের কথা শেষ হতে ফারিশ এসে সোফায় বোসে। তৃপ্তিকে আদেশ করে বলে, “এক গ্লাস পানি এনে দাও।”

তৃপ্তি যায় পানি আনতে। আদনান বিড়বিড় করে বকছে তাকে। তখন আগমন হয় ইলমার। ফারিশ ইলমাকে দেখে বলে, “ইলমা, আদনানের পায়ে মলম মালিশ করে দাও। তোমার জন্য বেচারা পায়ে ব্যাথা পেয়েছে।”

“কারোর চোখে সমস্যার কারণে পায়ে ব্যাথা পেলে, আমি কেন পায়ে মলম মালিশ করে দেব?”

আদনান বিরক্ত হয়ে জবাব দেয়,
“শালি তোকে আমি বলেছি মলম মালিশ করে দিতে? ফারিশ বলেছে মানে তার দরকার। জিজ্ঞেস কর, কোথায় কোথায় ব্যাথা আছে। জানা হলে, মলম মালিশ করে দে।”

তৃপ্তি পানি নিয়ে উপস্থিত হয় সেখানে। আদনানের কথায় শব্দ করে হেঁসে দেয়। ফারিশ থতমত খেয়ে চুপসে যায়। ইলমা হাতের কাছের কুশনটা নিয়ে আদনানের মুখ বরাবর ছুঁড়ে মারতে, আদনানও কুশনটা হাতে নিয়ে ইলমার মুখ বরাবর ছুঁড়ে মারে। দু’জনের ছুঁড়াছুঁড়ি খেলার মাঝে,ফারিশ পানি পান করে তৃপ্তির হাতে বোতলটা দিচ্ছিল, এমন সময় ইলমা তৃপ্তির হাত থেকে পানির বোতল ছোঁ মেরে নিয়ে,আদনানের কপাল বরাবর ছুঁড়ে মারে। তর্জনী উঁচু করে শাসিয়ে বলে, “মুখ সামলে কথা বলবে।”

আদনান পানির বোতল হাত নিয়ে কপাল ঢলে। পানির বোতলটা বেশ জোরেই পড়েছে। অনেকদিন পর ইলমার হাতে মারধর খাচ্ছে আদনান। সারামাস ভালো থাকে, হুট করে সাপের মতো ফোঁস করে উঠে আর এটা,ওটা আদনানের মুখের উপর ছুঁড়ে মারে। আদনান পানির বোতল হাতে নিয়ে কপাল ঢলে। রাগী কন্ঠে ইলমাকে বলে,
“সাহস বেশি বেড়ে গেছে?”

“তোর মুখ তুই সামলে রাখবি। উল্টাপাল্টা কথা বলবিনা।”

“আরে তোমরা এমন ভাবে ঝগড়া শুরু করেছ, তোমাদের এক কবরে মাটি দিলেও সেই ঝগড়াই করবে।”

ফারিশের কথায় ইলমা বিরক্ত হয়। আদনান পুনরায় ইলমাকে শাসিয়ে বলে, “তোর হাত-পা, মুখ সামলে রাখবি। নাহলে খবর আছে।”

ইলমা জবাব দেয়না। সোজা নিজের রুমে চলে যায়। ঈশিতা এসে আদনান,তৃপ্তিকে বকা দিয়ে বলে, “টপিক একটা পেলেই ঝগড়া শুরু করে দেও। কত কাজ বাকী চোখে লাগেনা?”

“পরিবারে কাজেরঝি থাকতে এতো তাড়া দিচ্ছ কেন?”

আদনানের কথায় ঈশিতা জবাব দেয়, “কে?”

তৃপ্তি বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে জবাব দেয়, “মেলিইইচা।”

“ও তো এক বই নিতে,নিতে ঝামেলায় কয়টা বাঁধালো।”

ঈশিতার কথায় আদনান হাসে। ফারিশ চুপচাপ বসে আছে। তৃপ্তি হাসি থামিয়ে বলে, “ওই সেরা! একদম পারফেক্ট কাজেরঝি। একটা কাজ করবে চার-পাঁচটা ঝগড়া-ঝামেলা বাঁধাবে সাথে টুকটাক মারামারি ফ্রি।”

“ওই মারটা সবসময় আমার কপালেই জুটে।”

“একদম ঠিক আছে।”

আদনানের কথায় ঈশিতা ফটাফট জবাব দেয়। তৃপ্তি তাকায় ইলমার দিকে। সে চাদরে মুড়িয়ে নিজের জামাকাপড় নিয়ে বেরিয়েছে রুম থেকে। বেচারির অবস্থা যায়যায় টাইপের। ইলমা জামাকাপড় সব কাঁধে নিতে বুঝেছে বেশ ভারি। ঈশিতা এগিয়ে আসে ইলমাকে সাহায্য করতে। ইলমার থেকে চাদরে মোড়ানো পোটলা হালকা করে ধরতে, ইলমা সেটার ভর ছেড়ে দিয়ে হাফিয়ে কোমড়ে হাত রাখে। যার দরুন ঈশিতা কাত হয়ে পড়ে যেতে নেয়। ইলমা তড়িঘড়ি তার হাত ধরে নেয়। অল্পের জন্য ঈশিতা বেঁচে গেছে। ফারিশ ইলমার কাজে হাসতে থাকে। তৃপ্তিও তাল মিলায়। তবে আদনানের চোখেমুখে বিরক্তি। ফারিশ হাসি থামিয়ে ইলমাকে বলে, “তুমি বসে রেস্ট নেও। শুধুশুধু কাজ করতে গিয়ে অন্যের হাত-পা,কোমড় ভাঙার ব্যবস্থা করারা দরকার না।”

“আমার বাবা আসলে, তার থেকে হেল্প নেব।”

“সবই কাজ চুরির ধান্দা। মনে হয় ওই এডভোকেটের জন্য কাজ রাখা হবে।”

“এ্যাই চুপ। আমার কোন কথা কাউন্ট করে কিছু বলবিনা। গত কয়মাস যেভাবে ছিলি বাকীমাস/বছরও ওইভাবেই থাকবি।”

ইলমার কথায় আদনান জবাব দেয়না। ইলমা, তৃপ্তিকে সাথে নিয়ে নিজের জামাকাপড়ের পোঁটলাপুটলি নিয়ে বেরিয়ে যায়। আদনান ইলমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে সূক্ষ্ম দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে।
ফারিশ আদনানকে পরখ করে। পিঞ্চ মেরে বলে, “বেশি দূরত্ব হয়ে গেলো নাকী? ”

“খারাপ মানুষের ব্যপারে, অতিরিক্ত সুশীল সমাজের, ভালো মানুষদের ভাবতে নেই। মাথা খারাপ হয়ে যাবে। তখন কনসার্ট মেয়ে মানুষের সাথে নাচতে গিয়ে, তাদের কোমড়ে হাত রাখতে গিয়ে অন্য কোথাও হাত চলে যেতে পারে।”

#চলবে

আদনান-ইলমাকে নিয়ে লেখা বইটা সবাই নিচ্ছেন তো?❤️

গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here