গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪| #শার্লিন_হাসান

0
66

#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪|
#শার্লিন_হাসান

ঘড়ির কাটা রাত এগারোটা পয়তাল্লিশ মিনিট। ইলমার পুরোনো অভ্যাস বারোটার পর বিছানায় গা লাগানো। আজকের দিনটাই তার সপ্তদশী বয়সের সমাপ্তি টানবে। আর কিছু মিনিট এরপর সে অষ্টাদশী কন্যা হয়ে যাবে। ইলমা ফ্রেন্ডসদের গ্রুপে ম্যাসেজ দেখছিলো।
তখন তার হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজের নোটিফিকেশন আসতে ইলমা,কৌতূহল নিয়ে ম্যাসেজ দেখতে যায়। আদনানের ম্যাসেজ দেখে ইলমা ভ্রু কুঁচকে তাকায়। আদনান লিখেছে, ‘কিয়ো প্রেমিকনারী খবর কী?’
ইলমা হা হয়ে যায়! তাকে ‘প্রেমিকনারী’ বলে সম্মোধন করা হয়েছে? কিন্তু কেন? ইলমা রিপ্লাই করে, ‘কী নারী?’
‘প্রেমিকনারী।’
‘ফালতু কথার আর জায়গা পাও না। নিজের মতো সবাইকে ভাবো নাকী?’

‘কী যে বলে সদরঘাটের প্রেমিকনারী।’
‘আর কোন ম্যাসেজ দিবেনা আমায়।’

ঘড়ির কাটা বারোটা বাজতে আদনান লিখে,

‘হ্যাপি বার্থডে প্রেমিক নারী।’

ইলমা হতভম্ব! ধন্যবাদ টুকু দিবে কি-না সেটাই মনে এক্কাদোক্কা খেলছে। এই ছেলে বড় ফাজি তো। ইলমা কিছুক্ষণ ম্যাসেজটার দিকে তাকিয়ে থাকে। আদনান পুনরায় লিখে, ‘প্রেমিকনারী বলার কারণ, আপনাকে ছেলেদের সাথে দেখা যায় আজকাল। এখন তো দেখছি, আপনার প্রেমিকরা সব ফেসবুক কাঁপাচ্ছে আপনাকে বার্থডের শুভেচ্ছা জানিয়ে।’

‘আমার কোন প্রেমিক নেই। ফাল’তু কথা বন্ধ করো। মাহিম,রিয়ান আমার ভালো বন্ধু এর বাইরে কিছু না।’

‘রুমের বাইরে আয়।’
কথাটা বলে ফোন রেখে দেয় আদনান। টেবিলের উপর থেকে একটা হরলিক্সের বয়াম নেয়। যেটা সদ্য কিনে আনা হয়েছে।

ইনান শেখ, তৃপ্তি এবং ঈশিতা মিলে লিভিং রুমে কেক সাথে চিপস,চকলেট হাবিজাবি সাজাচ্ছে। বাকীরাও উপস্থিত হয়েছে তখন। আদনান ও এসেছে এখানে। তখন তৃপ্তি গিয়ে ইলমার দরজায় নক করে। লিভিং রুমের লাইট অফ করে দেওয়া হয়েছে। তৃপ্তি ইলমাকে ডেকে একপাশে দাঁড়িয়ে আছে।

ইলমা বাইরে আসতে অন্ধকার রুম আবিষ্কার করে। দুকদম এগুতে লাইট জ্বলে উঠে। আদনান ব্যতীত সবাই এক সঙ্গে বলে উঠে, ‘হ্যাপি বার্থডে ইলমা।’

ইলমা হাসে। তার বাবা এসে তাকে আগলে নেয়। ইজাজ বোনকে জারবেরা,গোলাপ মিক্স করা একটা ফুলের তোড়া দিয়ে বলে, ‘হ্যাপি বার্থডে বনু।’

ইলমা ফুলটা নিয়ে ইজাজের গালে আদর করে দেয়। তার ভাই। তার বাবার রক্ত। শুধু তাদের মা ভিন্ন। ফাইজা ইলমাকে বলে, ‘হ্যাপি বার্থডে ইলমা।’ ইলমা খানিক হেঁসে জবাব দেয়, ‘ধন্যবাদ।’

ইনান শেখ এবং তারেক মাহমুদ ইলমাকে মাঝে দাঁড় করিয়ে কেক কাটে। ইলমা সবাইকে কেক খাইয়ে দেয়। শেষে আদনানের কাছে যায়। নাক মুখ কুঁচকে তাকায় আদনানের দিকে। আদনান ইলমার দিকে তাকিয়ে বিরক্তি নিয়ে বলে, ‘নাটক কম কর। তোর হাতে কেক খাওয়ার জন্য আমি বসে নেই।’

মূহুর্ত ইলমা চোয়াল শক্ত করে নেয়। যেহেতু আদনান কেক খাওয়ার জন্য বসে নেই, সেহেতু তাকে কেক খাওয়ানোর মানেই হয়না। মুখ ঝামটা মে’রে চলে আসে। আদনান নিজেই কেক নিয়ে খায়। ইলমার দিকে হরলিক্সের বয়ামটা এগিয়ে দিয়ে বলে, ‘প্রেমিকনারীর বার্থডে গিফ্ট।’
মুখ ফসকে কথাটা বলে নিজেই জিভে কামড় দেয়। ইলমা গরম চোখ করে তাকিয়ে আছে। তৃপ্তি হা হয়ে তাকিয়ে রয়। বাকীরাও কেমন করে জেনো তাকাচ্ছে। তবে ফরিদা পারভীন হেঁসে বলেন, ‘জেরারে হরলিক্স দিলা কেরে আদনান?’

আদনান মেঝেতে দৃষ্টি স্থির করে ঠোঁট কামড়ে হাসে। বাকীরাও তাকিয়ে আছে তার দিকে। সবার কৌতূহল মেটাতে বলে, ‘মেলিচার তো হরলিক্স পছন্দ। সেজন্য দিয়েছি।’

‘প্রেমিকনারী বলেছ কেন?’

তৃপ্তির কথায় আদনান বিরক্ত হয়। রুমের দিকে পা ফেলে,চোয়াল শক্ত করে জবাব দেয়, ‘কারণ ও সদরঘাটের প্রেমিকনারী।’

কথাটা বলে রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয় আদনান। বাকীরা তার যাওয়া দেখছে এতোক্ষণ। ইলমা লজ্জায় মাথা নামিয়ে নিয়েছে। কতবড় বজ্জাত ভাবা যায়!! না জানি তার মান সন্মান নিয়ে কীভাবে কীভাবে ফুটবল খেলবে! যেখানে সেখানে যদি প্রেমিকনারী বলে সম্মোধন করে। হায়! এতোদিন মেলিচার বাচ্চা বলত এখন প্রেমিকনারী। সাথে সদরঘাটও যোগ করেছে।
না,না এর হেস্তনেস্ত করেই ছাড়ব।
মনে মনে ঠিক করে ইলমা।

কিছুক্ষণ থেকে ইলমাকে ঘুমানোর জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ইলমা হরলিক্স বয়াম নিয়ে রুমে প্রবেশ করে। আদনানকে নিয়ে কিছু বলার নাই। তার চয়েজ ইউনিক হয়। সাথে সম্মোধন ও। ইলমা হরলিক্সের বয়ামের দিকে একনজর তাকিয়ে শুয়ে পড়ে।

★★★

বসন্তের আগমন একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। প্রাকৃতিক দৃশ্যপট বদলে যায়, গাছপালায় নতুন কুঁড়ি ফুটে ওঠে, ফুলের মিষ্টি গন্ধ বাতাসে ভাসে, আর প্রকৃতি যেন একটি নতুন সাজে সেজে ওঠে।
বসন্তের আগমনে প্রকৃতি তার সবুজ রূপে ফিরে আসে, পাখিরা গানে মেতে ওঠে, আর বাতাসে মৃদু আর স্নিগ্ধ একটি শীতলতা থাকে। গাছগুলো মেলে ধরে তাদের শাখা-প্রশাখা, এবং ফুলের বাগানগুলি নতুন রঙে ভরে ওঠে। মানুষের মনে এক ধরনের সুখের অনুভূতি জাগ্রত হয়, যেন জীবনে বসন্তের আবহে নতুন চেষ্টার প্রেরণা এবং শান্তির সন্ধান মেলে। এ সময় সবাই যেন প্রকৃতির সঙ্গে এক হয়ে যায়, আর মনে মনে নতুন শুরুর আনন্দে উজ্জীবিত হয়।

বসন্তের প্রধান চিহ্ন হলো ফুলের বাহার। সেজন্য ভার্সিটির প্রাঙ্গনে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ফুল দিয়ে। সেই সাথে আছে পাতাবিহীন গাছ,পাখি, ইত্যাদি দিয়ে।
ক্যাম্পাসে আসতেই চোখে পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ছেলেমেয়ে আসছে। সবাই শাড়ি এবং পান্জাবি পরিধান করে। আদনান নিজেও আজকে পাঞ্জাবি পড়ে এসেছে। অফ হোয়াইট কালারের পাঞ্জাবি কায়ায় জড়ানো। হাতে কালো বেল্টের ব্র্যান্ডের ঘড়ি। ফর্সা মুখশ্রীতে খোঁচাখোঁচা কালো দাড়ি। উচ্চতা বেশ লম্বাটে। দেখতে যথেষ্ট সুদর্শন পুরুষ সে।
ভার্সিটিতে গান চলছে অবিরত। সবাই অনুষ্ঠানে যোগদান করছে।

রিয়ানা বাসন্তী রঙের শাড়ি পরিধান করেছে। সাথে খোঁপায় এবং দু’হাতে আছে কাঁচা হলুদ ফুলের মালা। একবারে স্নিগ্ধ লাগছে তাকে। আদনানের বন্ধুমহলের সদস্যরাও শাড়ি পাঞ্জাবি পড়ে এসেছে। আদনান একটু ব্যস্ত কাজকর্ম নিয়ে। সেজন্য রিয়ানা নিশাত এবং রাহার সাথেই থাকে। নির্মাণ, শেজান ও আদনানের আশেপাশে আছে।
রিয়ানা অপেক্ষা করছে আদনান কখন আসবে। নিশাত এবং রাহার পাশে বসে কিছু পিকচার তুলেছে। নিশাতকে দিয়ে আরো কিছু পিকচার তুলিয়েছে রিয়ানা। আদনানকে ম্যাসেজ দিয়েছে কয়েকটা। জানিয়েছে এক্ষুনি আসবে। রিয়ানার তর সইছে না। আদনান কখন আসবে। কখন পিক তুলবে। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর আদনান আসতে রিয়ানা মুখশ্রীতে হাসি দেখা গেলো না। আদনান রিয়ানাকে দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকায়। হাত দিয়ে ইশাতা করে সাইডে আসার জন্য। রিয়ানা অভিমান মিশ্রিত মুখটা নিয়ে সাইডে আসতে, আদনান তার হাত খপ করে ধরে নেয়। রিয়ানা চকিত তাকাতে আদনান কন্ঠস্বরে গম্ভীরতা টেনে বলে, ‘কী হয়েছে?’

‘আমার কোন দামই নেই তোমার কাছে।’
আদনান জবাব দেয়না। রিয়ানাকে পরোখ করে বলে, ‘সুন্দর লাগছে তোমায়।’
‘শুধু সুন্দর?’
‘নাহ্। ঐশ্বরিয়া লাগছে।’
দাঁতে দাঁত চেপে জবাব দেয় আদনান। রিয়ানা থতমত খেয়ে যায়। এই এক মানুষ! জীবনেও রাগ দেখানো যায়না। উল্টো নিজেই রেগে থাকে চব্বিশ ঘন্টা। আদনান বেশ বদমেজাজি। সেজন্য মাঝেমধ্যে বিরক্ত হয় রিয়ানা। কিন্তু ছাড়তে পারেনা। কেন জানি মনে হয়,বদমেজাজি ছেলেটাকে সঠিক পথে আনা যাবে। অনেক স্ট্রাগল করা লাগবে। সবচেয়ে বড় কথা এই সম্পর্কের মূল্য নেই। যেকোন সময় আদনান বলবে, ‘ব্রেকআপ’। একমাত্র বিয়েই পারে সম্পর্কের স্থায়িত্ব দিতে। রিয়ানা ভাবনায় তলানো। আদনান কিছুক্ষণ চুপ থেকে গম্ভীর কন্ঠে বলে, ‘অনুষ্ঠান শেষ হলে থেকো। একসাথে লান্স করব।’

রিয়ানা মাথা নাড়ায়। তাঁদের কথার মাঝে আগমন হয় নির্মাণ এবং বাকীদের। আদনান নিশাতকে চোখ দিয়ে ইশারা করে রিয়ানাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তার ইশারা নির্মাণের চোখ এড়ায়নি। রাহা, নিশাত এবং রিয়ানা যেতে নির্মাণ বলে, ‘কত যে ছলনা করলি। এখন কোথায় যাবি?’
আদনান বিরক্ত হয়। চোয়াল শক্ত করে জবাব দেয়, ‘জাহান্নামে যাব। তুই যাবি কি-না বল?’
‘টেম্পার এতো গরম কেন?’
‘সর তো! গেলাম আমি। কাজ আছে।’

কথাটা বলে আদনান উল্টো দিকে হাঁটা ধরে।

জয় আবরণ তার দলবল নিয়ে ভার্সিটি এসেছে। যেহেতু আদনান দায়িত্বে আছে সেজন্য সে সেদিকটায় যায়নি। নিজের আসনে বোসে জেভিনকে খুঁজছে। জয়ের টগবগানো চাহনি তার দুই বন্ধুর বুঝতে বাকী নেই কাকে খুঁজছে। সেজন্য গ্রুপে ম্যাসেজ পাঠিয়ে দেয়, জেভিনকে দেখলে যাতে তাদের বলে দেয়। জয় বসে, বসে ডান্স দেখছে।

আদনান কিছু গোলাপ কিনে হাতে রেখেছে। এগুলো মোটেও রিয়ানার জন্য না। কিছু জেভিনের জন্য আর কিছু ফ্লার্টিংয়ের জন্য। আদনান খুঁজে খুঁজে জেভিনকে বের করে। দেখা মাত্রই হাত উঠিয়ে, ‘হাই’ বলে। আদনানের ‘হাই’ বলা দেখে জেভিন এগিয়ে আসে। হাসিমুখে বলে, ‘হ্যালো।’
আদনান হোসে। জেভিনকে উপর-নিচে পরখ করে বলে, ‘শাড়িতে জেনো পরীকে দেখছি।’
আদনানের থেকে প্রশংসা পেয়ে জেভিন খুশি হয়। আদনান কিছু গোলাপ এগিয়ে দিয়ে বলে, ‘পরীকে ফুল না দিলে অন্যায় হয়ে যাবে।’

জেভিন ফুল নিয়ে বলে,’ ইউ আর সো সুইট। লেটস হেভ এ্যা ডেট উইথ ইউ?’

‘ইয়াহ্ অফকোর্স। গিভ মি ইউর হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার।’

জেভিমের সাথে নাম্বার আদানপ্রদান করা হয়। দু’জনে সামনে অগ্রসর হয় পাশাপাশি হেঁটে। তখন জেভিন আদনানকে বলে, ‘চলো পিকচার তুলব।’

‘আমি মেয়েদের পিকচার তুলে দেইনা।’
গম্ভীর কন্ঠে কথাটা বলে আদনান। জেভিন জবাব দেয়, ‘কাপল পিক।’
আদনান রাজী হয়। জেভিনের একটা ফ্রেন্ডের কাছে ফোন দিয়ে দু’জন দাঁড়িয়ে পিকচার তোলে। পিক তোলা হতে আদনান তাড়া দিয়ে বলে, ‘বায়। রাতে কথা হবে।’

জেভিনের থেকে বিদায় নিয়ে এগুতো পথে কিছু জুনিয়রদের দেখতে পায়। মেয়েগুলো বেশ সুন্দরী। সবাই জেনো সবাইকে ছাড়িয়ে। আদনান সেদিকে তাকিয়ে নজর সরিয়ে দেয়। সামনে এগুতে আরেকটা মেয়েকে দেখে। দেখতে বেশ সুন্দরী। আদনানের ভালো লাগে তাকে। মাঝ পথে থামিয়ে দিতে মেয়েটা ভ্রু কুঁচকে তাকায়। আদনান গেলাপ এগিয়ে দিয়ে বলে, ‘ফুল হাতে নিয়ে, পরী খুঁজছিলাম। পেয়েও গেলাম।’
আদনান শেখের থেকে এরকম কিছু পাবে আশা করেনি মেয়েটা। ফুল হাতে নিয়ে, ধন্যবাদ জানায়। আদনান ঠোঁট কামড়ে হাসে। মেয়েটাও হেঁসে বিদায় নেয়। শাহরিয়ার আদনান শেখ ভার্সিটিতে বেশ পরিচিত মুখ। সুদর্শন এবং বাবার টাকা ছাড়াও আদনানের বিশেষ একটা গুন আছে সপটা হলো গান গাইতে পারা। তার গানের ভয়েজ অসাধারণ।
তার ফেসবুকে কত জুনিয়র সিনিয়র আছে হিসেব নেই। যেমন মেয়ে বাজি করে তেমনি তার জন্য মেয়েরও অভাব পড়েনা।

জেভিনের একটা ডান্স পারফরম্যান্স ছিলো। সে তার দলের সাথে সেটায় যোগদান করে। বেশ ভালো নাচতে পারে সে। তার ডান্স দেখে বেশীরভাগ প্রশংসা করেছে। জয় আবরণ জেভিনের ডান্সের পুরোটা সময় এক নজরে তাকিয়ে ছিলো। তার পছন্দের নারী জেভিন।

★★★

ইলমা প্রীতি,মাহিম এবং রিয়ানের সাথে রেস্টুরেন্টে এসেছে। মূলত তাঁদের ট্রিট দেওয়ার জন্য। রাতে আবার আসবে তার পরিবারের সাথে। লান্সের টাইমে এসেই খাবার অর্ডার দিয়ে বোসে গল্প করছে চারজন। রেস্টুরেন্টের প্রাইভেট স্পেস বুকিং থাকায় তারা সামনেই বসেছে। গল্প করার মাঝ দিয়ে মাহিম ইলমাকে বলে, ‘আরেহ্ তোর সতীনকে দেখ।’

ইলমা কপাল কুঁচকে নেয়। হতভম্ব হয়ে যায়। মাহিমের কথায় জবাব দেয়, ‘রাতে নেশা করছিস নাকী? এখনো কাটেনি?’

ইলমার কথায় মাহিম হাত উঁচু করে আদনান এবং সাথে হাত ধরা মেয়েকে দেখিয়ে বলে, ‘দেখ আদনান ভাই মেয়ে নিয়ে এসেছে।’

ইলমা সেদিকে তাকায়। প্রীতি কিছুটা চিল্লিয়ে বলে, ‘ওই মেয়েটা কে আদনানে সাথে?’
সাথে সাথে থাপ্পড় মারে ইলমা। রিয়ান তাকে শাসিয়ে বলে, ‘এতো জোরে চেঁচাচ্ছিস কেরে?’

ইলমা আদনান এবং সাথে শাড়ি পড়া মেয়েটাকে দেখে। তারা এদিকেই আসছে। ইলমা তাঁদের আসা দেখছে। এখন যদি সবার সামনে তাকে প্রেমিকনারী বলে? সাথের মেয়েটা নিয়ে তার মাথা ব্যাথা নেই। গার্লফ্রেন্ড হবে। আর আদনান শেখের গার্লফ্রেন্ড থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না।

আদনান রিয়ানাকে বোসতে বলে। পেছন দিয়ে নিশাত রায়াও আসছে। শেজান ভেতরেরে দিকে চলে যায়। নির্মাণ এবং আদনান একসাথে আসছে। ইলমাদের ক্রস করে মেয়েগুলো চলে যায়। আদনান এগিয়ে আসতে দেখে ইলমা বসে আছে। সাথে দু’টো ছেলে এবং একটা মেয়ে। তাঁদেরকে দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকায় আদনান। ইলমাদের সামনে থামে। ইলমা আদনানের দিকে তাকিয়ে আছে। আদনানের চোয়াল শক্ত। ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে, ‘মেলিচা এখানে কী করছিস?’

‘রেস্টুরেন্টে মানুষ কেন আসে?’
বিপরীতে জবাব দেয় ইলমা। নির্মাণ তাকিয়ে আছে ইলমার দিকে। আদনান পুনরায় বলে, ‘সবার সাথে রাতে আসার কথা ছিলো । দেখছিস প্রেমিকনারী, সদরঘাটে বসে আছে প্রেমিকপুরুষদের নিয়ে।’

‘মুখ সামলে কথা বলো। তুমি নিজেও তো মেয়ে নিয়ে এসেছ।’
‘আমি ছেলে মানুষ মেয়ে নিয়ে আসলে কিছু হবেনা। তুই না ভদ্র, তাহলে ছেলে মানুষের সাথে কী?’

‘আরেহ্ আরেহ্ মায়ের থেকে মাসীর দরদ বেশি দেখা যাচ্ছে।’

নির্মাণ ওদের কথা-কাটাকাটি দেখে হা হয়ে যায়। কতটুকু একটা মেয়ে কীভাবে তর্ক করছে আদনানের সাথে। নির্মাণ আদনানকে থামিয়ে বলে, ‘ভেতরে চল। খুদা লাগছে।’

‘তুই যা। এই মেলিচার বাচ্চা বড় ভণ্ড।’

#চলবে

যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1

আমার গ্রুপ লিংক,
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here