#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪৫|
#শার্লিন_হাসান
সুপ্রভাতে, আদনান ইলমার পাশে বসে। মেয়েটা গভীর ঘুমে তলানো। আদনান এক দৃষ্টিতে ঘুমন্ত ইলমাকে দেখে। ঘড়ির দিকে নজর যেতে দেখে সাড়ে সাতটা বাজে। আদনান ইলমার দিকে ঝুঁকে বলে, “তোর শাড়ি কোথায়?”
ইলমা চোখ মেলে আদনানের মাথার চুল নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে রাগ দেখিয়ে বলে, “বেয়াদব, জিজ্ঞেস করতে লজ্জাও করেনা?”
“না, আমার কোন লজ্জা করেনা। গতকাল রাতে লজ্জা ভাঙিয়ে দেওয়ার পরেও তোর এতো লজ্জা আসছে কোথা থেকে?”
“অসভ্য।”
ইলমার কথায় আদনান উঠে দাঁড়ায়। বালিশের পাশ থেকে ইলমার ওরনাটা হাতে নেয়। ইলমার দিকে একনজর তাকিয়ে, ওরনাটা ইলমার মুখ বরাবর ছুঁড়ে বলে, “যা, স্বামীর জন্য এক কাপ চা বানিয়ে আন।”
ইলমা ওরনাটা হাত নিয়ে উঠে বসে। আদনানের দিকে তাকিয়ে জবাব দেয়, “পারব না। তোরটা তুই বানিয়ে আন।”
“এ্যাই চোপ। আমার সাথেই যত গলা বাজি। কই গতকাল তোর বাপের কাছে ফারিশের কাহিনী বললি না কেন? মায়া লাগে?”
“সময় হলেই বলব। তোর জ্বালায় বলতে পারি নাকী?”
“আজকেই তোর বাপকে সব বলবি। নাহলে আমার সামনেও আসবিনা।”
“ব্যবহার ঠিক কর।”
“এক থাপ্পড় দিয়ে বয়রা বানিয়ে দেব। বেয়াদব মেয়ে, নিজের স্বামীর জন্য টান-মায়া কিছুই নেই। যা আছে, সব পরপুরুষের জন্য।”
ইলমা জবাব দেয়না। আদনানকে পাশ কাটিয়ে চলে আসে। আদনান ইলমার যাওয়া দেখে বিরক্ত হয়। ত্রস্ত পায়ে হেঁটে ব্যালকনিতে আসে। রাগে কপালের রগ সুস্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। আজকের দিনটা দেখবে সে। যদি ইলমা কিছু না বলেছে, তাহলে সেই সব বলবে। তবে এরপর ইলমার সাথে তার কথা নেই। ইলমা আর ইলমা নেই। পরিবর্তন হয়েছে অনেক। আগের তেজী রুপটাও ইলমার মাঝে নেই। যা আছে, সব শুধু আদনানের সাথে ঝগড়ার তেজ।
ইলমা মুখ ভার করে বসেছিল। ফরিদা পারভীন এসেই ইলমার পাশে বসে। ইলমাকে উপর নিচ পরখ করে বলে, “কীলো তোর শাড়ি কই?”
ইলমা বিরক্ত হয়। নিজের রাগ দমিয়ে রেখে বলে, “কাবাডে তুলে রেখেছি।”
ইলমার কথা শেষ হতে ফরিদা পারভীন, ইলমার ওরনা মৃদু সরিয়ে চুলো হাত দিয়ে বলেন, “কোন কাজই তো হইলোনা।”
“এই বুড়ি সরো তো। তোমার শাড়ি পরে রুমে যেতে,যেতে দশবার উষ্ঠা খেয়েছি।”
“আদনানকে বলব, তোর জন্য শাড়ি কিনে আনতে। পরে,পরে অভ্যাস করবি।”
ইলমা জবাব দেয়না। উঠে নিজের রুমে চলে আসে। সোজা ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ায়। চারপাশে মৃদু বাতাস বইছে। ইলমা সূক্ষ্ম দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। জয়ের বিরুদ্ধে, মামলা দেওয়া হয়েছে। ইনান শেখ সেসব নিয়ে পড়ে আছেন। ইলমা ভাবছে, ফারিশের কথা ইনান শেখকে বলে দিবে। অনেক হয়েছে। আর অপেক্ষা করা ঠিক হবেনা। তার বাবার সাথে আদনানের সম্পর্কটা ঠিক হওয়া জরুরি।
ইলমা নিজের রুমে এসে ফ্যান ছেড়ে বসে। চুলগুলো ছাড়তে পিঠ ছড়িয়ে, খাটের উের গড়াগড়ি খাচ্ছে। ইলমা, মৃদু হাসে। হেয়ার ড্রয়ার দিয়ে চুল শুকানোর কারণে, বড়সড় লজ্জা পায়নি। ফরিদা পারভীন যেভাবে তার পিছু পরে আছে।
আদনান রেডি হয়ে নাশতা খেতে এসেছে। আদনান চেয়ার টেনে বসতে, ইলমা চায়ের কাপ দিয়ে দেয়। আদনান ইলমার দিকে না তাকিয়ে চায়ের কাপ হাতে নেয়। ইনান শেখ কলে কথা বলতে,বলতে আসছিলো। আদনান তাকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ইলমা কেতলি থেকে চা কাপে ঢেলে সবাইকে পরিবেশন করছে। নিজেও বসে পড়ে নাশতা খেতে। ইনান শেখ নাশতা খাওয়ার মাঝ দিয়ে ইলমাকে বলে, “তুমি কী ভার্সিটি যাবেনা?”
ইলমা, আদনানের দিকে তাকিয়ে জবাব দেয়, “হ্যাঁ যাব তো।”
ইনান শেখ মৃদু হেঁসে বলেন, “বিয়ে করলে অনেক দায়িত্ব বাড়ে। স্ত্রীর ভরণপোষণ, লেখাপড়ার খরচ, নিজের পড়ালেখার খরচ,হাতখরচ সামান্য পঁচিশ-ত্রিশ হাজার টাকায় চলাতে পারবে তো?”
আদনান বুঝেছে খোঁচা তাকেই মেরেছে। ফরিদা পারভীন ইনান শেখকে বলেন, “কয়টা বছর একটু কষ্ট করবে। সমস্যা কী?”
আদনান কোন প্রতিত্তোর করেনা। তার ইনকাম খুবই সামান্য। নিজের জমানো অঢেল টাকাও নেই। কোনরকম টেনেটুনে দু’জন চলতে পারবে। আদনান বাপের টাকা উড়ানো ছেলে, এখন নিজের ঘাড়ে দায়িত্ব পড়েছে। বাপের টাকায় নিজে চললেও, বউ চালাবে না। সে জানে, ইলমার চাওয়া-পাওয়া সীমিত। আহামরি কিছুর প্রয়োজন নেই। এই ব্যপারটাই আদনানের ভীষণ ভালো লাগে।
তারেক মাহমুদ আদনানের দিকে তাকিয়ে বলেন, “কয়টা বছর বাস্তবতা বুঝো,শিখো, দায়িত্বের ভার অনুভব করো।”
“সঙ্গী যদি স্বস্তি দেয়, তাহলে তাকে নিয়ে হাজার মাইলের কঠিন পথ পাড়ি দিতে আমার আপত্তি নেই।”
আদনানের কথায় ঈশিতা মৃদু হেঁসে ইলমার দিকে তাকান। সে কিছু বলছেনা। এই টপিক ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তারেক মাহমুদ বলেন, “জয়ের খবর কী ইনান?”
“আর খবর! ওর বাবা এমপি বুঝোই ক্ষমতার বড়াই। আমার দেওয়া একটা মামলা তার কিছুই করতে পারবেনা।”
“তবুও তো! আমিও চেষ্টা করব ওর একটা ব্যবস্থা করার।”
আদনান রুমে আসার পেছন দিয়ে ইলমাও আসে। ইলমাকে দেখে আদনান আওড়ায়, “ভার্সিটি যাবি না?”
“যাব, আগামীকাল থেকে।”
“ওহ্। সকালে কী বলেছি মনে আছে?”
“আছে। আমার মনে হয় তোমার কথা তোলা উচিত। তখন আমিও সব বলব।”
“আমি কেন বলব? তোর বাপকে তুই বলবি। ফারিশ আমার গলা চেপে ধরেনি, ইনান শেখের আদরের কন্যার গলা চেপে ধরেছে।”
“আচ্ছা। তেমার কাছে আর কোন প্রমাণ আছে?”
“কয়টা লাগবে?”
“সবগুলো।”
“হোয়াটসঅ্যাপে ব্লক খুলে দিস, পেয়ে যাবি।”
“মনে ছিলোনা।”
“ব্লক কেন করেছিস?”
কথাটা বলে আদনান একপা একপা করে ইলমার দিকে এগোয়। ইলমা পেছাতে,পেছাতে বলে, “মনে পড়ছেনা।”
“আমাকে ভালো লাগেনি?”
“এরকম কিছুনা।”
আদনান জবাব দেয়না। ইলমার পিঠ দেওয়ালে ঠেকতে আদনান ইলমার মাথার পাশে, দেওয়ালে একটা হাত ঠেকিয়ে নিচু হয়ে দাঁড়িয়ে, ইলমার মুখোমুখি হয়। ভ্রু কুঁচকে বলে, “আমার আহামরি টাকাপয়সা নেই। যখন যেটা চাইবি সেটা হয়ত দিতে পারব না। বেকার, আমির সাথে আগামীর পথচলতে তোর আপত্তি আছে?”
“যদি আপত্তি থাকতো তাহলে কখনোই, বিয়েটা করতাম না।”
ইলমার কথায় আদনান মুচকি হাসে। ইলমার ডান হাত নিজপর হাতের মুঠোয় নিয়ে, চুমু দেয় আদনান। ইলমার কপালের উপরে থাকা অগোছালো চুলগুলো স্বযত্নে কানের পিঠে গুঁজে দেয়। আলগোছে ইলমার কোমড়ে হাত রেখে তাকে জড়িয়ে ধরে, শূন্যে তুলে। নিজের মুখোমুখি রেখে বলে, “আমাদের পথচলা চিরস্থায়ী হোক।”
“তেমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
ইলমার কথায় আদনান মাথা নাড়ায়। ইলমাকে রেখে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে আসে রুম থেকে। বাইকের চাবি ঘুরাতে,ঘুরাতে এগুচ্ছিলো। ফরিদা পারভীন আদনানকে দেখে এগিয়ে আসেন। নাতিকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “আদনান শোন।”
আদনান দাঁড়ায়। মাথা নাড়িয়ে বলে, “বলতে থাকো।”
ফরিদা পারভীন কিছু টাকা আদনানের হাতে গুঁজে দিয়ে বলেন, “এখন তো মাসের মাঝামাঝি। বেতন আসতে দেরি আছে। ইলমার জন্য শাড়ি কিনে এনো।”
দাদীর কথায় আদনান টাকাগুলো ফেরত দিয়ে বলে, “বেতন পেলেই আনব। আমার বউয়ের প্রথম শাড়ি পরের টাকা দিয়ে কেন আনব?”
“আমার নাত বউরে আমার তরফ থেকে উপহার। নতুন বউ শাড়ি পরলে সুন্দর লাগে।”
কথাটা বলে ফরিদা পারভীন আদনানের হাতে টাকাগুলো গুঁজে দিয়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। আদনান মৃদু হেঁসে বেরিয়ে আসে।
গ্যারেজে থেকে বাইক নিয়ে রওনা হয় নিজের কর্মস্থলে।
ইলমা নিজের বেশ কিছু জামাকাপড় আদনানের কাবাডে এনে রাখছে। সাথে নিজের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রগুলোও। আদনানের রুমের আনাচেকানাচে চোখ বুলাচ্ছে ইলমা। সবকিছু সুন্দর করেই গুছিয়ে রাখে সে।
বিকেলে আদনান বাড়ি আসতে, ইলমা পানির গ্লাস এগিয়ে দেয়। আদনানের হাতে বেশ কয়েক শপিং ব্যাগ। পানি পান করে আদনান ফ্রেশ হতে চলে যায়। ইলমা হোয়াটস অ্যাপে আদনানের পাঠানো ছবি এবং ভিডিও দেখছে। কিছু ছবি কনসার্টের। সেই মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে ফারিশ যাকে ইলমা রেস্টুরেন্টে দেখেছিলো। সাথে আছে, ইলমার গলা চেপে ধরার ভিডিও। ইলমা সুন্দর করে সবকয়টা ভিডিও এবং ছবি ইনান শেখকে ফরওয়ার্ড করে দেয়। আদনান আসতে, ইলমা জিজ্ঞেস করে, “চা-কফি বানিয়ে আনব?”
“না। শাড়ি দেখ।”
“শাড়ি কেন?”
“তুই পরবি।”
“আমি তো ভার্সিটিতেই থাকব।”
“ছুটির দিনে।”
“আহ্লাদের শেষ নাই।”
“আমার বউ নিয়ে আমি আহ্লাদ করি নাহয় যা খুশি তা করি, তোর কোন সমস্যা?”
“অবশ্যই সমস্যা। তোমার বউ তো আমি।”
ইলমার কথায় আদনান ইলমার পাশ দপ করে বসে। সামনে দৃষ্টি রেখে বলে, “আজকে, শাড়ি পরবি?”
“না, কেন?”
“এমনিতে।”
“অসভ্য।”
“ওই একটু আধটু।”
আদনানের কথায় ইলমা চোখ রাঙিয়ে তাকাতে আদনান ইলমার দুগাল আলতো করে চেপে ধরে বলে, “আজকে আবারো—প্লিজ।”
ইলমা আদনানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়ায়। পেছাতে,পেছাতে বলে, “আমি গেলাম।”
“কই যাবি?”
“আমার রুমে।”
“রাতে তো আমার পাশেই ঘুমাবি।”
“না।”
“যেখানে খুশি যা। রাতে নিজের পাশে শাহরিয়ার আদনান শেখকেই পাবি।”
ইলমা জবাব দেয়না। বাইরে চলে আসে। আদনান ইলমার পালানো দেখে হো হো করে হেঁসে উঠে। নিজেও বেরিয়ে আসে, ইলমার পেছন দিয়ে। আদনান আসতেই তার চোখ নাছোড়বান্দা। ইনান শেখ রেগে বসে আছেন। মুখের অবস্থা পরিবর্তন। ইলমা পাশে দাঁড়ানো। ইনান শেখ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ইলমাকে বলেন, “তুমি সেদিন আমায় এসব না জানিয়ে, এনগেজমেন্টে রাজী হয়ে গেছ?”
“ও সেদিন রাতে কল দিয়ে আমাকে থ্রেট দিয়েছিল। এনগেজমেন্টে রাজী না হলে তোমার ক্ষতি করবে।”
“তুমি কী গাধা? আমার মেয়ের গলা চেপে ধরেছে, ওর এতে বড় আস্পর্ধা আসে কোথা থেকে?”
আদনান কাহিনী বুঝে বলে উঠে, “লেগেছে রে,লেগেছে, সম্পর্কে আগুন লেগেছে।”
ইনান শেখ আদনানের কথা কানে তোলেন না। রাগে রীতিমত শরীর কাঁপছে তার। আদনান ইলমার দিকে তাকিয়ে হাসে। ইনান শেখ উঠে দাঁড়ায়। ফরিদা পারভীন, তারেক মাহমুদ সহ বাকীদের সব পিকচার এবং ভিডিও দেখায়। ফারিশের পিকচার-ভিডিও দেখে সবাই ভীষণ অবাক হয়েছে। ইনান শেখ সবাইকে সাফসাফা জানিয়ে দেয়, “ফারিশ যাতে তার বাড়ির ধারেকাছেও না আসে। এতো বড় বেঈমানী, এর ফয়সালা হবে।”
আদনানের বিরক্ত লাগায় উঠে চলে এসেছে। ইনান শেখ যা খুশি করুক। তার সেসব দেখার বিষয়না। নতুন বিয়ে করেছে, ফুল টাইম কাজে ব্যস্ত যেহেতু, পার্ট টাইম রোমান্স করবে। কিন্তু তার বউ তো তার ধারেকাছেও আসছেনা। আদনান কিছুক্ষণ রুমে পায়চারি করে। পুনরায় রুমের বাইরে এসে ইলমাকে ডাকে। ইলমা তার বাবাকে দেখছে। ভয়ংকর রাগা রেগেছে ইনান শেখ। নিজের রাগ দমাতে না পেরে ফারিশকে কল দেন তিনি। কল রিসিভ হতে ফারিশ সালাম দেয়। ইনান শেখ কঠোর গলায় বলেন, “রাখো তোমার সালাম। বেঈমান। তোমার সাহস কতবড় চমার মেয়ের গলা চেপে ধরেছ। অন্য মেয়ের সাথে রেস্টুরেন্টে গিয়ে রঙঢঙ করে, আবার আমার মেয়েকে বিয়ে করতে এসেছ? কনসার্ট গিয়ে মেয়েদের জড়িয়ে ধরে নাচো, আবার আমার কাছে ভালো সাজো। বেয়াদব,লম্পট, অসভ্য।”
“এই ইনান শেখ, আওয়াজ নিচে।”
চিৎকার করে বলে ফারিশ। ইনান শেখও চিৎকার করে বলে, “তোমার আওয়াজ নিচে। বেয়াদব ছেলে, আমার মেয়ের জীবন নিয়ে লুডু খেলতে চেয়েছ? অসভ্য! আমার সামনে পরলে তোমার খবর আছে।”
“কী করবেন শুনি?”
“কী করব মানে? তুমি চেনো আমি কে?”
“না।”
“বেয়াদব ছেলে। নিজে এতো বড় বেয়াদব, অসভ্য হয়ে পরের ঢোল পেটাতে।”
“বেশ করেছি। আদনান কিন্তু দূধের ধোঁয়া তুলসি পাতা না।”
“সে বিছুটি পাতা,তবে তোমার মতো মুখোশধারী না।”
ফারিশ কল কেটে দেয়। তারেক মাহমুদ হা হয়ে তাকিয়ে আছেন। কল লাউডস্পিকারে দেওয়া ছিলো। ইনান শেখ রাগ দমানোর বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইলমা বলার মতো কিছু পেলো না। আদনান কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মৃদু আর্তনাদ করে বলে, “আমার বুকে ব্যাথা করছে।”
সবাই তার দিকে তাকায়। ইলমা বুঝে আদনানের ভণ্ডামী। ফরিদা পারভীন উত্তেজিত হয়ে বলেন, “কী হয়েছে তোমার?”
“গলা শুকিয়ে বুকে ব্যাথা করছে। এখন পানি লাগবে। মেলিচা পানি নিয়ে আয় তো।”
কথাটা বলে আদনান প্রস্থান করে। তার কথায় কেউ পাত্তা দেয়না। ইলমা লজ্জা পেয়েছে ভীষণ। কী আর করার! ফ্রিজ থেকে পানির বোতল নামিয়ে রুমে আসে। দরজা লাগিয়ে দিয়ে আদনানের দিকে পানির বোতল ছুঁড়ে মারলে আদনান সেটা ধরে নেয়। না ধরলে, নাক-মুখ ফাটত। ইলমা রেগে তাকিয়ে আছে। আদনান ইলমার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে, “মেরে ফেলবি নাকী?”
“সবার সামনে ভুলভাল বলো কেন?”
“ভুলভাল কী? তোর আক্কেল বিক্রি করে চিপস খেয়েছিস নাকী? নতুন জামাই রুমে রেখে কেউ বাইরে যায়?”
“না, শুনেছি নতুন জামাই রুমে রেখে বাইরে যায়না, কোলে নিয়ে বাইরে যায়।
আদনান পানির বোতল রেখে ইলমার হাত ধরে টেনে নিয়ে আসে। খাটের উপর ফেলে, নিজেও তার উপর আধশোয়া হয়ে বলে, “আজকে তোকে শিখাব, স্বামীর আদর কীভাবে নিতে হয়।”
“লাগবেনা।”
“না লাগবে।”
ইলমা মোচড়ামুচড়ি শুরু করলে আদনান তার ঠোঁট জোড়ার দখল করে নেয়। আদনানের এরকম এট্যাকে ইলমার শক্তি কুলোয় না। মূহুর্তের মাঝে নেতিয়ে যায়। আদনান ইলমার থেমে যাওয়া দেখে ঠোঁট ছেড়ে দেয়। ইলমার হাতের আঙুলের ভাঁজে নিজের আঙুল বসায়। গ্রীবাদেশের নিচের দিকে ঝুঁকে উষ্ণ পরশ দেয়। আদনানের এক একটা ছোঁয়া ইলমাকে বরফের ন্যায় জমিয়ে দেয়। আদনানের এরকম পাগলামিতে ইলমা হার স্বীকার করে নেয়। চুপচাপ আদনানের দেওয়া আদর নিজের অঙ্গে মাখে।
#চলবে
আদনান-ইলমার জুটি নিয়ে লেখা বই, “বুকপকেটের মায়াবিনী” অর্ডার করতে ম্যাসেজ দিন,
https://www.facebook.com/share/1AKGvBibLx/
আমার গ্রুপ লিংক,
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

