গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪৮| #শার্লিন_হাসান

0
30

#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪৮|
#শার্লিন_হাসান

“তুমি যদি সত্যি আমাকে ভালোবাসতে, তাহলে আমার সব কথা শোনতে।”

“তাই বলে বাসন মাজব?”

কথাটা বলে আদনান ইলমা ছেড়ে দাঁড়ায়। ইলমা আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে, “ভালোবেসে মানুষ জীবন দিয়ে দিতে পারে, আর তুমি সামান্য বাসন মাজতে পারবেনা?”

“না পারব না। আমি তোর প্রেমিক,চাকর নই।”

“বেয়াদব!”

“এরকম বুদ্ধি নিয়ে কথা বলিস। ঠাটিয়ে দু’টো মেরে সোজা করে দেব।”
আনানের কথায় ইলমা তেজ দেখিয়ে, আদনানের বুকে ধাক্কা দিয়ে বলে, “ঠাটিয়ে দু’টো মারো দেখি। কথায়,কথায় মারের হুমকি দেওনা? আমার বাপ আসলে বাপের কাছে বিচার দেব।”

“আমার হাতের চড় খেলে তুই একসপ্তাহও কানে শুনবিনা।”

“আর,আমার হাতের মাইর খেলে তুমি তোমার নামটাই ভুলে যাবে।”

“একটু আগেও তো বাটি ছুঁড়ে মেরেছিস। কথায়,কথায় হাত চলে তোর।”

“তুমি তো চারবিয়ে করবে।”

“না, না। তুই ছাড়া বাকী সব মেয়েরা আমার খালা লাগে।”

“তাহলে আর চার বিয়ের কথা তুলবি?”

“তুলব।”

ইলমা পিছু হাঁটে। জবাব না দিয়ে কিচেনে যায়। আদনানও তার পেছন,পেছন যায়। ইলমা দাঁড়িয়ে, দাঁড়িয়ে প্লেট ধুচ্ছে। আদনান দাঁড়িয়ে, দাঁড়িয়ে দেখছে।

ইলমার টুকটাক কাজ শেষ হতে, আদনানকে জিজ্ঞেস করে, “এ্যাই, তুমি সেদিন রাতের পর থেকে আমায় ইগনোর করতে কেন?”

“কোন রাত?”

“ওই যে বাইকে ঘুরতে বেরুলাম। আবার জয়ের সাথে ঝামেলার পর থেকে।”

“তোকে নিয়ে যে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম, সেসময় টেপলা ফারিশ আমাদের দেখেছিল কোথাও। ছবি তুলে তোর বাপের কাছে দিয়েছিল। এরপর তো জয়ের সাথে ঝামেলা। তুই রাগ করেছিস, সেদিন বিকেলে তোর বাপ ইনানের সাথে ব্যালকনিতে বসে, গল্প করতে করতে কফি খেয়েছিস। তোর আসার আগে ইনানকে না দেখেই বলেছিলাম, ” প্রেমিকনারী এতোক্ষণে আসার সময় হলো।” পরে দেখি তোর বাপ ইনান। তুই যাওয়ার পেছন দিয়ে আমাকে শাসিয়েছে। তোকে কিছু বলেনি, কিন্তু আমাকে থ্রেট দিয়েছে, তোর থেকে দূরে না গেলে তোকেই আমার থেকে দূরে নিয়ে যাবে। ছেলে মেয়ে দুটো নিয়ে কী যে নাটক করত তোর বাপ। ভাগ্যিস তোকে ভালোবেসেছিলাম নাহলে তোর বাপের বালের নাটক দেখার সময় আছে নাকী? পরে রাগে জেদে তোর থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছি।”

“যদি ফারিশের সাথে আমার বিয়ে হয়ে যেত?”

“এটা অসম্ভব কিছুছিলো।”

“অসম্ভবও সম্ভব হয়।”

“সেটা অন্যক্ষেত্রে। আমার প্রেমিকনারীকে আমি থাকতে অন্য কেউ বিয়ে করবে? আমি আদনান থাকতে কখনোই সম্ভব না। সব জ্বালিয়ে দেব, ধ্বংস করে দেব।”

“আমার থেকেও বেটার মেয়ে আছে।”

“বললাম না, তুই ছাড়া বাকীসব মেয়েরা আমার খালা লাগে। আমার বেটার প্রয়োজন নেই। তোকে প্রয়োজন।”

“আমি অসুন্দর।”

“আমার চোখে সেরা সুন্দরী।”

“মিথ্যে। তুমি আমাকে খুশি করাতে চাচ্ছ। কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়ালে আমি আমার আসল প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।”

“ওইটা তোর ভ্রম।”

“আমাকে ছেড়ে দিতে। আবার কেন আগলে নিলে?”

“ভালোবেসেছি হাত ধরে সারাজীবন পথচলার জন্য, মাঝপথে ছেড়ে যাওয়ার জন্য না।”

“অসুন্দরকে সুন্দর বলা তোমার থেকে শিখতে হবে আদনান শেখ।”

“কীভাবে তিন কবুল বলা স্বামীকে আদর করতে হয় সেটাও শিখতে হবে।”

“অসভ্য।”

“শোননা?”

“বলো?”

“আমি কিন্তু মাঝপথে হাত ছেড়ে দিয়েছিলাম, তবে দূরে সরে যাইনি।”

ইলমা জবাব দেয়না। আদনান ইলমা পোড়া গালে হাত রেখে স্লাইড করে বলে, “সব ঠিক হয়ে যাবে।”

★★★

জয়ের বিরুদ্ধে দেওয়া মামলা খুব একটা কাজে আসেনি। না জয়ের কোন ক্ষতি হয়েছে না এসব নিয়ে কথা উঠেছে। আদনান আগে থেকেই বুঝেছে, এসব মামলা জয়ের কিছুই করতে পারবেনা। সেজন্য পরিকল্পনা একটা করে রেখেছে।

ফারিশের বিয়েশাদি শেষ হতে তারেক মাহমুদ সবাইকে নিয়ে চলে আসেন। তাঁদের আসার পরের দিন ইনান শেখও আসে। সন্ধ্যায় লিভিং রুমে সবাই বসে খোশগল্পে মেতেছে। তারেক মাহমুদ ইনান শেখকে বলেন, “জয়ের মামলা তো কোন কাজে আসলোনা।”

“হ্যাঁ। দেখলাম।”

তখন আদনান বলে, “জয়ের প্ল্যানিংয়ে ফারিশও যুক্ত ছিলো।”

ইনান শেখের মুখটা গম্ভীর হয়ে যায়। বাকীরা তাকিয়ে আছে। ইনান শেখ কিছুক্ষণ মৌনতা বজায় রেখে বলে, “হ্যাঁ, সেজন্যই তো তার হাত ভেঙে দিয়েছ।”

“আপনার মেয়ে বললে, পা টাও ভেঙে দেব।”

আদনানের কথায় ইলমা, আদনানের কাঁধে থাপ্পড় মেরে বলে, “বড়রা আছে।”

“তো?”

আদনান গলার স্বর চওড়া করে। বাকীরা কেউ হাসছে তো কেউ অন্য দিকে তাকাচ্ছে। আদনান ইলমার দিকে তাকিয়ে বলে, “পা ভাঙব?”

তখন ইনান শেখ বলে, “ভেঙে দাও। হেল্প লাগলে বলিও, আমি করব।”

ইনান শেখের কথায় সবাই সবিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে। ইনান শেখ নড়েচড়ে বসেন। আদনান ইলমার দিকে তাকিয়ে নিম্ন আওয়াজে বলে, “পা ভাঙব?”

“আচ্ছা।”

★★★

জয়, জেভিনকে নিয়ে লং ড্রাইভে বেরিয়েছে শেষ বিকেলের দিকে। গোধূলি দেখতে,দেখতে দু’জন সুনশান নিরব রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। জয় ড্রাইভা করছে। গাড়ির উপরের ছাঁদ উঠানো। জেভিন সীটে দাঁড়িয়ে বাতাস চোখেমুখে মাখছে। এই লম্বাচওড়া রাস্তার শেষ নদী আছে। মাঝেমধ্যে অনেকেই ঘুরতে আসে এখানে। রাস্তাটা নিরিবিলি এবং ভীষণ সুন্দর। জয় রাস্তার সাইডে গাড়ি থামায়। জেভিনকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। রাস্তার সাইডে দাঁড়িয়ে ফোন স্ক্রোল করছিল। জেভিন গাড়ির দিকে যায় কোল্ড ড্রিংকসের বোতল আনার জন্য। জয় বুঝে উঠতে পারেনি। তার আগেই একটা বাইক। দু’জন লোক বসা বাইকে। তাদের মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা। দুটো হিংস্র চোখ দেখা যাচ্ছে। একজন বাইক চালাচ্ছে, পেছনের জন বেশ বড়সড় ধারালো দা দিয়ে তার হাত বরাবর কোপ বসিয়ে দেয়। একটা কোপ দেয়নি, পরপর তিনটা কোপ বসিয়েছে একজায়গায়। যার ফলে হাতের মাংশ হাড্ডি থেকে ঝুলে গেছে। গলগলিয়ে রক্ত পড়ছে। জয় হা হয়ে তাকিয়ে আছে। তখন তার কাঁধ বরাবর আরেকটা কোপ বসানো হয়। জয় কিছু বুঝে উঠার আগেই বাইকার জয়ের হাত থেকে ফোন টান দিয়ে নিয়ে, জোরে বাইক টান দেয়। জয় সেদিকে তাকিয়ে থাকে। নিজের ব্যাথা অনুভব হতে গগনবিদারী চিৎকার করে উঠে। জেভিন জয়ের চিৎকার শোনে দৌড়ে আসে। জয় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

জেভিন জয়কে দেখে স্তব্ধ হয়ে যায়। রক্ত দিয়ে শার্ট ভিজে গেছে। ঝুলন্ত মাংশ লাফাচ্ছে। চারদিকে মাগরিবের আজান পড়ছে তখন। জয়ের চিৎকারে বাতাস জেনো ভারী হয়ে উঠেছে। জায়গাটাও সুনশান নিরব হওয়ায় মূহুর্তে জেনো গা চমচম করা পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

জেভিন ফোন হাতে জয়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে কল দিয়ে লোকেশন বলে। জয় ব্যাথায় কাতরাচ্ছে। রক্ত গলগল করে বেরিয়ে পড়ছে। জেভিন স্তব্ধ। কিছুবলার মতো পাচ্ছে না। জয় যন্ত্রণায় ছটফট করতে,করতে ইলমার কথা মাথায় আসছে। সেদিন এসিড মারার পর ইলমাও ঠিক একই রকম ভাবে মাটিতে কাতরেছে। মনে আসছে রাহেলার সাথে জোর করে ইন্টি’মেন্ট হওয়ার সময় সেও আকুতি মিনতি করেছিল, ছাড়া পাওয়ার জন্য। সেদিন জয় নিজের মতকে প্রাধান্য দিয়েছে। কারোর যন্ত্রণা,চিৎকার, আর্তনাদ তার কান অব্দি পৌঁছায়নি।

আধঘন্টার বেশি সময় পর জয়ের লোকেরা আসে। ততক্ষণে জয় অজ্ঞান হয়ে গেছে। এসেই তাকে গাড়িতে তোলে হসপিটালের উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। জেভিন যে গাড়ি দিয়ে জয়ের সাথে এসেছিল, সে গাড়ি নিয়ে একাই ব্যাক যায়।

ঘটনা ঘটেছে সন্ধ্যায়। জেভিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে সবটাই খুলে বলে। জেভিনের ধারণা, তাঁদের চিন্তাইকারীরা তাদের আক্রমণ করেছে। কারোর ব্যক্তিগত আক্রোশ থাকলে শুধু মারত। ফোনটা নিতো না। সে অনুযায়ী সেখানটায় তল্লাশি চালানো হয়। জায়গাটা যেহেতু সুনশান নিরব সেখানে ডাকাত এবং চিন্তাকারী ট্রলে থাকবে এটা স্বাভাবিক।

মূহুর্তের মাঝে খবর ছড়িয়ে পড়ে। সেই নদীর নাম এবং জায়গার নাম নিয়ে হেডলাইন হয়। এমপির ছেলে ঘুরতে গিয়ে চিন্তাইকারীর কবলে পড়েছে। তার অবস্থা গুরুতর।

নামাজ পড়ে এসে টিভির পর্দায় এরকম একটা নিউজ দেখে ইনান শেখের কলিজা ঠান্ডা হয়ে যায়। বাসার সবাইকে ডেকে এনে নিউজ দেখায়। ফরিদা পারভীন নিউজ দেখতে,দেখতে আরো দু’চারটা অভিশাপ দিয়েছে জয় আবরণকে।

ইলমা নিউজটা দেখে রুমে চলে আসে। ফোন হাতে আদনানকে কল দেয়। সেই যে দুপুরে বেরিয়েছে এখনো আসার খবর নেই। বলেছে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিবে। ইলমা ফোন দিলে আদনান ফোন তোলে না। বেশ কয়েকবার এরকম হওয়ায় ইলমা বেশ চিন্তায় পড়ে যায়।
লিভিং রুমে এসে মুখ ভার করে বসে ইলমা।

ঘড়ির কাটা সাড়ে দশটা ছুঁতে তারেক মাহমুদ আদনানকে কল দেন। কল ঢুকলেও কল তোলেনা আদনান। সবাই বেশ চিন্তিত। আদনানের হঠাৎ কী হলো? ঈশিতা নির্মাণকে কল দেয়। নির্মাণের ফোন সুইচড অফ বলছে। সবাই যখন আদনানকে নিয়ে চিন্তিত ইলমা এসে তৃপ্তিকে ধরে। তৃপ্তি বই নিয়ে বসেছিল। ইলমাকে দেখে বলে, “কিছু বলবি?”

“নির্মাণের সাথে তোর কথা হয়েছে?”

“হ্যাঁ। ওর ফোনে চার্জ নেই বলল। ভাইয়া সহ কোথাও গিয়েছে।”

“আদনান ফোন তোলছে না কেন?”

“কী করে বলব?”

ইলমা চলে আসে। তৃপ্তি আদনানকে কল দেয়। দুইবার কল দেওয়ার পর আদনান রিসিভ করে বলে, “সমস্যা কী তোদের?”

“কয়টা বাজে? বাসায় আসবা না?”

“আসব।”

“সবাই চিন্তিত।”

“কিছুক্ষণ চিন্তা করতে দে। ঘন্টার মাঝে আসছি।”

“বলে দেব?”

“খবরদার কিছু বলবি না। সবাই চিন্তা করুক।”

আদনান কল কেটে দেয়। তৃপ্তি আদনানের কথায় হাসে। উঠে লিভিং রুমে যায়। ঈশিতা জিজ্ঞেস করে, আদনানের সাথে কনটাক্ট হয়েছে কীনা। তৃপ্তি বলে, “ফিরবে শোনলাম।”

আর কেউ কিছু বলেনা। ইনান শেখ ইলমার দিকে তাকিয়ে বলেন, “অনেক রাত হয়েছে। রুমে যাও, আদনান চলে আসবে।”

ইলমা কিছু বলেনা। সোজা রুমে গিয়ে দরজা লক করে দেয়।

রাত ঠিক বারোটায় আদনান এন্ট্রি নেয়। ভেতরে এসে দেখে সবাই যে যার রুমে। আদনান দরজায় নক করে বলে, “দরজা খোল।”

কিছুক্ষণ ডাকাডাকির পর ইলমা দরজা খুলতে আদনান চোয়াল শক্ত করে বলে, “দরজা লাগিয়ে ঘুমাতে কে বলেছে? সর সামনে থেকে।”

কথাটা বলে ইলমাকে পাশ কাটিয়ে ভেতরে যায় আদনান। ইলমার আদনানের যাওয়া দেখে বলে, “সারাদিন কোথায় ছিলে?”

“শ্বশুর বাড়িতে।”

আদনানের কথা শেষ হতে ইলমা তেড়ে এসে কলার চেপে ধরে। রাগী কন্ঠে বলে, “শ্বশুর বাড়ি মানে?”

“সর তো! ক্লান্ত লাগছে আমার।”

“তুমি আমাকে ইগনোর করছ?”

“খুদা লাগছে। গিয়ে খাবার আন।”

“পারব না। আগে বলো সারাদিন কোথায় ছিলা?”

“এমন একটা থাপ্পড় দেব। ভাত চেয়েছি দিতে পারবি না?”

“আগে বলো?”

“খেয়ে বলব।”

ইলমা মানে। রুম থেকে বেরোয়। আদনানের জন্য তরকারি গরম করে, ভাত নিয়ে রুমে আসতে দেখে আদনান শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে। ইলমার দিকে জামাকাপড় এগিয়ে দিয়ে আদনান বলে, “ব্যালকনিতে মেলে দে।”

ইলমা বাধ্য মেয়ের মতো জামাকাপড় নিয়ে ব্যালকনিতে যায়। আদনান খেতে বসে। ইলমা রুমে এসে খাটের উপর বসে। আদনান খেতে,খেতে ইলমার দিকে তাকিয়ে বলে, “রাতে খেয়েছিস?”

“হুম।”

আদনান ইলমাকে উপরনিচ পরখ করে বলে, “আমার সাথে খাবি?”

“না। তুমি খাও।”

“এদিকে আয়।”

“ঘুম থেকে উঠেছি। কথা বলোনা, ভালো লাগছেনা।”

কথাটা বলে ইলমা শুয়ে পড়ে। আদনান কিছু বলেনা। চুপচাপ খাওয়া শেষ করে উঠে দাঁড়ায়। ইলমাকে ঠেলে সরিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। ভীষণ ক্লান্ত থাকায় মূহুর্তের মাঝে চোখে ঘুৃম চলে আসে। ইলমা তো সে কখন ঘুমিয়ে গেছে।

#চলবে

(একটা পার্টে কিছু অংশ জেসিয়া মাহজেবিনকে নিয়ে থাকবে।)

আমার গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here