#violent_love
Mariam_akter_juthi
#পর্বঃ৩৯ (এর প্রথম অংশ)
🚭(রাজনীতি+পজেসিভ+রোমান্টিক+টক্সিক লাভ স্টোরি)
“খান বাড়ির মহল জুড়ে, রান্নাবান্নার ব্যস্ততা। জামাই আদর বলতে কথা, আজ রিসিপশনের পর ইভা কে ফের আনা হবে। যদিও জুথির বিষয়টা সবার মাথায় ছিল, তবুও বাড়ির একটা নিয়ম ধরে রাখার জন্য সবাইকে সবটা ম্যানেজ করার জন্য করতে হচ্ছে। ক্ষণে ক্ষণে উনারা এই তিন দিন বারবার গিয়ে ওকে দেখে এসেছে। জুথির জ্ঞান ফিরেছে কিনা। আর বেশিও চিন্তা হয়নি, আরিশ সব সময় ওর পাশে ছিল বলে। তাই ইভার বিয়ের কার্য কাজ কোনথায় কমতি না হয় সবাই সেটা খেয়ালে রেখেছেন, ও যেন কারো কর্মের জন্য কোন জায়গায় ছোট না হয়।
তখন আরিশ জুথির জন্য খাবার আনতে নিচে আসতে, জুথি তাড়াতাড়ি করে কোনরকম শরীরের শক্তি সঞ্চয় করে, ছোট ছোট পা করে কভারের কাছে এসে, কালো পিঙ্ক কালারের কম্বিনেশন করা, কুচি দেওয়া গোল ফ্রক, পাশাপাশি প্যানকাট সেলোয়ার, মেইলি প্রয়োজনীয় সবকিছু বের করে, দ্রুত ওয়াশরুমে ঢুকে দরজাটা নক করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। জুথি ওয়াশ রুমের দরজার সাথে হেলান দিয়ে, পর পর দুটো ঢোগ গিলে হাতের জামাকাপড় গুলো শাওয়ার রডের উপর রেখে তাড়াতাড়ি করে বাথ টপের পাশে রাখা বালতিতে পানি ছেড়ে বালতি ভরে নিল, নিয়ম কানোন অনুযায়ী গোসলটা তাড়াতাড়ি শেষ করে, তোয়ালে দিয়ে ভেজা শরীর মুছে ভেজা কাপড় চেঞ্জ করে, সালোয়ারটা পড়ে নিতে, ঠাস ঠাস করে ওয়াশরুমের দরজায় কড়াঘাতের শব্দে,জুথি তৎক্ষণে কেঁপে উঠলো। তাৎক্ষণে আরিশ ওর সর্বশক্তি দিয়ে, দরজা ধাক্কাতে জুথির মনে হলো এখনই দরজাটা ভেঙে ওর শরীরে পড়বে। ভয়ে ওর মুখ থেকে কথা ও বের হচ্ছে না।
আরিশ নিচে গিয়ে, সোজা হেলদি খাবার প্লেটে নিয়ে, আবারো ওপরে আসতে নিলে সানজিদা খান ওকে পিছু ডেকে জিজ্ঞেস করলেন,
‘এভাবে ছুটে আসলে, এখন আবার ও যাচ্ছ কেন?
‘আম্মু, আমার বউয়ের সেন্স ফিরেছে।
‘শুকরিয়া।
আরিশ আর দাঁড়ালো না, ব্যস্ত পায় হেঁটে রুমে আসতে বিছানায় জুথি কে দেখতে না পেয়ে, ভ্রু কুঁচকে খাবার প্লেট টা নতুন আনানো ড্রেসিং টেবিলটার উপর রেখে, চারপাশ তাকাতে ওর কানে আসে ঝপ ঝপ পানির শব্দ। আরিশ এটা শুনে আর একটু ওয়াশ রুমের কাছে এগোতে ওর হাত দুটো আপনা-আপনি মুঠিবদ্ধ হয়ে যায়। যখন বুঝতে পারে তার নিজ নারী আবারো তার কথার অবাধ্য হয়েছে, আরিশ পর পর চোঁখের পল্লব ফেলে রাগি নিশ্বাস ফেলে একটু জোরেই ওয়াশ রুমের দরজাটা ধাক্কা দিতে, ওপাশ থেকে কনো রেসপন্স না পেয়ে, দরজা ভেঙ্গে ফেলার মতো দাঁত কিড়মিড় করে ধাক্কা দিয়ে মনে মনে আওড়ালো , — ‘অবাধ্য বেয়াদব নারী, যেই জিনিসটা মানা করি, সেটা করতেই হবে। ওদিকে এতো জোরে দরজা ধাক্কানোর শব্দ পেয়ে জুথি শরীরে তোয়ালে পেঁচিয়ে ভয়ে ভয়ে তুতলিয়ে বললো ,
‘আ,আমার হয়ে গেছে তো, এ,একটু পরেই বের হচ্ছি।
‘তুই দরজা খুলবি? নাকি আমি দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকবো?
‘ব,বললাম তো ব,বের হচ্ছি।
‘তোর বের হওয়ার গুষ্টি কিলাই, তুই এই মুহূর্তে দরজা খোল। আর নয় তো…
কি আর করার? জুথি মারের ভয়ে এক প্রকার বাধ্য হয়ে, দরজা খুলে দিতে আরিশ হুমুরি খেয়ে ভিতরে এসে ওকে কিছু বলবে, তার আগেই জুথি তোয়ালেটা বুকের কাছ থেকে খামচে ধরে, অন্য পাস ঘুরে যেতে,ওর হলুদ ফর্সা শরীরে পানির ফোঁটায় আরিশের চোখে চিকচিক করে ধরা দিল। মুহূর্তেই আরিশের রাগ গলে পানি হয়ে গেল। হঠাৎ করেই ওর শরীর কেমন কাঁটা দিয়ে উঠলো। মনে হলো ওর নাক পাশাপাশি ফিলট্রামের অংশটা মুহূর্তে ঘামে ভিজে উঠছে। ওর এটা মনে হতে দ্রুত ডান হাত দ্বারা নাকের ডগার পাশাপাশি ফিল ট্রামের চিকচিক করা ঘাম গুলো মুঝে পরপর ঢোগ গিলে নিল। নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বললো,
‘আমার দিকে ঘোর।
‘,,,,,,,,,,,,।
জুথি কে একইভাবে পিছন ভাবে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, আরিশ ফের কিছু না বলে নিজেই ওর সামনে যেতে, জুথি আবারো ঘুরে অন্ন পাশ হতে নিলে তাৎক্ষণে আরিশ ওকে ধরে ওর দিক ঘুরিয়ে দেয়ালের সাথে চেপে বললো,
‘গোসল করতে নিষেধ করেছিলাম না?
‘,,,,,,,,,,,।
জুথি আরিশের কথায়,কি উওর দিবে? ওর হাত পা সহ ঠোঁট জোড়াও মধু কাঁপছিল ওর ভয়ে। জুথির চোখ বন্ধ, ঠোঁটের পাশাপাশি পিসিগুলো ও মধু কাঁপছিল, ঠোঁটের নিচের তিলটা, যেন পানির ছোঁয়ায় ওর চেহারায় আকর্ষণীয়টা ক্ষণে ক্ষণে বাড়িয়ে তুলছিল, এটা দেখে আরিশ আর নিজেকে সামলাতে পারল না। তাৎক্ষণে জুথির কাঁপা ঠোঁট দুটো নিজের ঠোঁট দুটোর সাথে মিশিয়ে নিল। গুনে গুনে দুটো মিনিট শেষ হতে, জুথি নিজের থেকে আরিশ কে ঠেলে সরাতে চেষ্টা করতে, আরিশ নিজেই ওর ঠোঁট ছেড়ে দিল। আরিশ ঠোঁট ছেড়ে দিতে, জুথি স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ার উদ্যেগে বড় করে শ্বাস টানতে আরিশ ওকে টেনে বুকের সাথে জড়িয়ে বললো,
‘আমাকে পাগল করার জন্যই হয়তো, heart queen এর জন্ম। এখন আমি এটা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি।
আরিশ ওকে এভাবে জড়িয়ে ধরতে, জুথি ওকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বললো,
‘ছা,ছাড়ুন, জামা পরবো।
জুথির কথা শেষ হতে না হতে আরিশ ওকে ছেড়ে, ওর দুই বাহুতে হালকা হাত রেখে বললো,
‘দে আমি পরিয়ে দিচ্ছি।
‘একদম না, আমি পড়ে নিতে পারবো। নির্লজ্জ লোক। শেষ কথাটা নিচের দিক তাকিয়ে বিড়বিড় করে বললো।
‘কিন্তু আমি যে তোকে পরিয়ে দিবই!
জুথি আরিশের ত্যাড়া কথা শুনে, দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে আওড়ালো, — ‘এখন কি আপনি আমার ইনার ও পরিয়ে দিবেন।
‘তুই চাইলে দিতে পারি। ঠোঁট কামড়ে হেসে।
‘এ্যাহ
‘এ্যাহ নয় হ্যাঁ।
‘অসভ্য নির্লজ্জ লোক।
আরিশ আর তার অবাধ্য নারীর কথা শুনল না, নিজ হাতে ওকে জামা পরিয়ে কোলে তুলে ওয়াশরুম থেকে বের হতে নিলে জুথি নামার জন্য বলে উঠলো,
‘আরে নামান আমাকে, ভেজা জামা কাপড় গুলো ধুবো তো?
‘তোকে ধুতে হবে না। — কথাটুকু শেষ করে ওকে নিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে টুলে বসিয়ে, তোয়ালে দিয়ে ওর চুলগুলো নিজ হাতে মুছে দিয়ে, হেয়ার ড্রায়ার টা এনে চুলগুলো শুকিয়ে নিল। অতঃপর আবারো ওকে কোলে তুলে, বিছানার ওপর বসিয়ে খাবার প্লেটটা নিজ হাতে তুলে ওর মুখে খাবার দিতে, জুথি সেটা আরিশের হাত থেকে এনে নিজ হাতে খেতে খেতে আস্তে করে বললো,
‘প্রয়োজন নেই।
জুথির খাবার অর্ধেক শেষ হতে, মোমেনা খান আরিশের রুমে আসেন জুথির সেন্স ফিরেছে শুনে। উনি এই তিন দিন, এই রুমে মেয়েকে দেখতে বেশ কয়েকবারই এসেছেন। তার বড় মেয়ের বিয়ে, তাই বলে মেঝো মেয়ের খেয়াল রাখবে না এমনটা তিনি নন। হতে পারে ভালোবাসাটা একটু অন্য দুই মেয়েকে উনি বেশি দেন, তাই বলে এটা নয় সে মেঝো মেয়েকে ভালোবাসে না। ওকেও সে ভালোবাসে। মেয়ে কে খাবার খেতে দেখে, ওর পাশে এসে বসে বললেন,
‘শরীর কেমন লাগছে তোমার?
‘মোটামুটি আম্মু।
‘খাবারগুলো সম্পূর্ণ শেষ করবে।
‘হুম।
‘শরীর ভালো লাগলে আমার রুমে এসো, তাকে দেখলে ভীষণ খুশি হবে। – মুচকি হেসে।
‘আচ্ছা। – উনার শেষ কথা না বুঝেই উত্তর দিল।
উনি বেশ কিছুক্ষণ,জুথির সাথে কথা বলে নিজের রুমে চলে যেতে, ডিম সেদ্ধ অন্য হাতে গ্লাস ভর্তি দুধ নিয়ে হাজির হলেন সানজিদা খান। সানজিদা খানের হাতে এসব দেখে, জুথি ঢোগ গিলে আড় চোখে আরিশের দিকে একবার চাইল। তাৎক্ষণে সানজিদা খান হাতে আনা খাবার গুলো টেবিলে রেখে, জুথির পাশে বসে ওকে টেনে বুকের সাথে জড়িয়ে কপালে চুমু খেয়ে বললেন,
‘কেমন লাগছে তোমার শরীর আম্মু?
‘জি মা মোটামুটি।
‘তোমার সাথে আমার কথা আছে।
‘বলো?
সানজিদা খান, আরিশের দিক তাকাতে দেখে ও ওদের দিকেই তাকিয়ে আছে, এটা দেখে সানজিদা খান একটু চাপা কন্ঠে বললেন,
‘আমার ওর সাথে কিছু কথা আছে, তুমি বরং এখন এই রুম থেকে যাও।
‘বললে আমার সামনেই বল, আর নয়তো আমি কোথাও যাবো না।
‘ঠিক আছে, তো দাঁড়িয়ে থাকো ওখানে, আমি বরং আমার রুমে নিয়ে যাই।
সানজিদা খান কথাটা বলতে, আরিশ বিনা বাক্যে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। আরিশ কে চলে যেতে দেখে সানজিদা খান, মনে মনে আওড়ালেন, -‘তুমি যেমন তোমার সাথে ঠিক তেমনি করেগ চলতে হয়। – ভেব উনি জুথির দিকে ঘুরে আদেশের সুরে বললেন,
‘তোমাকে যেমন বলবো তুমি সেভাবেই চলবে। কি পারবে তো?
‘,,,,,,,,,,,।
‘কথা বলছো না কেন?
‘হুম।
‘আমি জানি, তুমি আমার ছেলের প্রতি দুর্বল। তার থেকেও তোমার প্রতি দুর্বল আমার ছেলেটা। তাই তোমার সাথে কাউকে সহ্য করতে পারে না। একটুতেই ওর মাথা গরম হয়ে যায়, এটা তুমি হওয়ার পর দিনে দিনে ওর মাথা খারাপ করে ফেলেছে। তাই আমি চাই তুমি ওর সাথে কথা বলবে না,
‘আ,,
‘আমার কথা শেষ হয়নি?
‘বলো? নিচের দিক তাকিয়ে।
‘তোমার গায়ে হাত তোলা এটা আমি মোটেও পছন্দ করি না, মানছি ওর রাগ বেশি, একটু উন্মাদ টাইপের। তাই বলে ওর প্রতিটা কাজ তুমি মুখ মুঝে সহ্য করবে এটা আমি মানবো না। ও যতদিন পর্যন্ত তোমার কাছে ক্ষমা না চাইবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না বলবে তোমার গায়ে আর হাত তুলবে না, ততদিন পর্যন্ত তুমি ওর সাথে কথা বলবে না। এটা আমার আদেশ
‘উনি যদি রেগে যান?
‘সেটা দেখা যাবে, আমি জানি, তুমি ওর সাথে দু’দিন ঠিক ভাবে কথা না বললে, তখন ঠিকই বুঝবে, বউয়ের মর্মতা।
‘আমি পারবো আম্মু? উনি বুঝবেন আমার অভিমান?
সানজিদা খান ওর এমন কথায় ওকে বুকের মধ্য জড়িয়ে, ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
‘আমার আম্মু পারবে, ঠিক পারবে। – বলে আবারো ওর মাথায় চুমু খেলেন।
‘আম্মু?
‘হুম?
‘আজ তো আপুর বিয়ে তাই না? বুকের থেকে মুখটা একটু উনার মুখের দিক উঁচু করে।
‘মানে? ওর দিক ভ্রু কুঁচকে?
জুথি সানজিদা খানের কোলের মধ্যে থেকে উঠে গোল হয়ে বসে বললো,
‘ইভা আপুর!
সানজিদা খান এবার বুঝলেন, জুথি এখন পর্যন্ত স্মরণে আনতে পারিনি, ওর সেন্স একদিন পর নয়, বরং তিনদিন পর ফিরেছে। উনার নিজেরি এবার খারাপ লাগলো, বোনের বিয়ে হয়ে গেল মেয়েটা একটু আনন্দ করতে পারল না। তাই তপ্ত নিশ্বাস ফেলে বললেন,
‘তুমি সেন্স হারিয়েছিলি কবে মনে আছে?
‘হুম,৮ তারিখ ছিল ঐদিন!
‘আজ ১১ তারিখ, তোমার আপু আজকে জামাই নিয়ে ফের আসবে।
‘কি বলছো? তিন দিন আমার সেন্স ছিল না?
‘হুম।
সানজিদা খানের হুম, বলে স্বীকারোক্তি দিতে, সাথে সাথেই ওর মনটা খারাপ হয়ে গেল। ও ভাবতেও পারিনি ওর বোনের বিয়েটা ও খেতে পারবে না। স্বামী নামক মানুষটার জন্য। এটা ভেবে এবার আরো বেশি অভিমানের পাল্লাটা ভারী হয়ে এলো ওর আরিশের প্রতি। ও মনে মনে ভেবেই নিল এই লোকটার সাথে কোনভাবেই আর কথা বলবে না, বলবেই না। জুথি কে মুখটা ভেজার করে চুপ হয়ে যেতে দেখে, উনি উঠে দাঁড়িয়ে ওর গালে হাত দিয়ে বললেন,
‘মন খারাপ করো না আম্মু, সব ঠিক হয়ে যাবে। দুধ আর ডিম সিদ্ধটা দিয়ে গেলাম, খেয়ে নিও।
‘আম্মু ডিম সিদ্ধ খাব না বমি আসবে। ওটা তুমি নিয়ে যাও।
সানজিদা খান ও আর কথা বাড়ালেন না, ডিমের পিরিজ হাতে নিয়ে দুধ টুকু রেখে চলে গেলেন।
“বিকেলের স্বচ্ছ বাতাস, জুথি নিজের রুমের বারান্দায় বিষন্ন মন নিয়ে দাঁড়িয়ে আকাশের দিক তাকিয়ে আছে। তখন সানজিদা খান চলে যেতে, এক রাজ্যে অভিমান এসে ওর মনে জেঁকে বসতে আরিশের রুমেও থাকবে না বলে তৎক্ষণেই নিজের রুমে চলে আসে। এসে দরজা বন্ধ করে, চিত হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকতে, এক সময় শরীর দুর্বলতায় ঘুমিয়ে যায়। জুথি এক ঘন্টা প্রায় রুমে আসতে,ইভা এসেছিল বোনকে দেখতে কিন্তু ডাকার পরও সারা শব্দ না পেয়ে ঘুমাচ্ছে ভেবে নিজের রুমে চলে যায়। ইভা যেতে পরপর ফারিও এসেছিল জুথির কাছে। বিকাল পেরিয়ে যাচ্ছে দেখে সানজিদা খান প্লেটে খাবার বেড়ে ফারি কে ডেকে জুথি কে দিতে বললে ফারি প্লেট হাতে নিয়ে জুথির দরজার কাছে এসে ধাক্কা দিতে নিলে, দেখে দরজা ভেতর থেকে খোলাই আছে। ফারি রুমে এসে প্লেটটা রেখে রুমের চারপাশ তাকাতে দেখে জুথি বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ফারি ওকে দেখে এগিয়ে গিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললো,
‘কেমন আছিস?
জুথি ফারির উপস্থিতি টের পেয়ে, আকাশের দিক থেকে চোখ সরিয়ে তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো,
‘এইতো আছি।
‘তুই জানিস তিন দিন তোর সেন্স ছিল না।
‘হুম আমার শাশুড়ি বলেছে।
‘জানিস এই তিন দিনে কি হয়েছে?
‘তুই না বললে কিভাবে জানব? ক্লান্ত চোখে ওর দিক তাকিয়ে।
‘জানলে, দেখলে আমার মত হার্ট ব্লক করবি, — বলে ফারি বলতে শুরু করলো,
[ফ্লাশ] ….
Continue,,,,,।
#violent_love
Mariam_akter_juthi
#পর্বঃ৩৯ (এর শেষ অংশ)
🚭(রাজনীতি+পজেসিভ+রোমান্টিক+টক্সিক লাভ স্টোরি)
[ফ্লাশ]
“সেদিন ডক্টর আহিম চলে যেতে, ওনার সাথে সাথে সানজিদা খান ও আরিশ কে উক্ত কিছু কথা বলে,নিজের রুমে চলে যায়। তখন নিজের করা, একমাত্র প্রাণপ্রিয় হৃদপিণ্ডকে এভাবে নিথর দেহে পড়ে থাকতে দেখে, নিজেই নিজের হাত থেতলে দেয়। তারপর? তারপর আর কি, হাত অতিরিক্ত যন্ত্রণা হওয়ার কারণে, সে জায়গা ড্রেসিং করে মলম লাগিয়ে নিজেই নিজের ব্যান্ডেজ করে নেয়। সময় পার হয়ে, ঘন্টা পেরিয়ে এক সুন্দর সকালের সূচনা হয়। খান মহল জুড়ে হয় আনন্দের মেলা, আজ কাঙ্খিত দিন। ইভার বিয়ে। যদিও এটা ভেবে কষ্টও হচ্ছে, বাড়ির শান্তশিষ্ট ভদ্র মেয়েটা অন্যের বাড়ি চলে যাবে। জামাইয়ের পারমিশন ছাড়া এ বাড়ি আগের মত আর থাকতে পারবে না। সকাল সূচনা এ বাড়ি বয়ে করতে পারবেনা, আসলে মেয়েদের জীবনই এমন।
ইভা সেই সকাল থেকেই চোখ মুখ কালো করে বিছানার হেডবোর্ডের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে। আজ এত এত আপন মানুষ, এত এত চেনা মুখ রেখে, সব অচেনা ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাবে। তখন তার একমাত্র ভরসা হয়ে উঠবে তার স্বামী। এই স্বামী নামক মানুষটার জন্যই রক্তের মানুষগুলোর থেকে আলাদা হয়ে ওই একটা শব্দ নামক ব্যক্তির জন্য আজীবনটা তার হাত ধরে চলতে হয়। সুখ দুঃখের সাথী হতে হয়। আসলেই কি ইভার জীবনটা এমন হবে? ওর স্বামী কি ওকে ভীষণ ভালবাসবে? সবার থেকে,একটু কি স্পেশাল হবে! নাকি পৃথিবীর মানুষদের মতোই স্বামী-স্ত্রী, নাম, মিলন ওই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে? ইভা নানান কিছু চিন্তা করার মধ্য, সকালের নাস্তা নিয়ে হাজির হয় দৃষ্টি। ফুপাতো বোন দৃষ্টির সাথে ইভার খুবই ভালো সম্পর্ক। ছোট থেকেই দুজনার ভিতর ভীষণ মিল, কারো সামান্য কথাটুকু কারো কাছে শেয়ার করতে না, পারলে মনে হয় তাদের পেটের ভাত হজম হয় না। ঠিক ফারি আর জুথির মত। দৃষ্টি আসতে ইভা হেডবোর্ডের থেকে মাথা সরিয়ে সোজা হয়ে বসে ওকে বসতে বললে, দুজনে বেশ অনেকক্ষণ গল্প গুজব করলো।
সময়টা প্রায় ১০.২৩ মিনিট, সবাই পার্লার যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে এক জায়গা হতে, জুথি কে, কোথাও না পেয়ে, ফারি সূচি তানিশা একসাথেই গেল ওর খোঁজ করতে। তবে খোঁজে এসে যে এমন একটা ঘটনা ওদের শুনতে হবে, ওরা কল্পনাও করেনি। আরিশের পুরো রুম জুরে নীরবতা বিরাজ করছে। তার একমাত্র কারণ আরিশ নিজেই। যখন ফারিরা আরিশের রুমে এসে জথির এমন অবস্থা দেখে, সবাই অবিশ্বাস্য কণ্ঠে একটু জোরে চেঁচিয়ে বলে ওঠে,
‘আরে ওর মুখে মাক্স কেন? কি হয়েছে ওর?
ওদের এমন বাজখাঁই চেঁচানো, কথায় আরিশ শুধু অপরাধী কণ্ঠে একটা কথাই বলেছিল,
‘বেল্ট দিয়ে মেরে, জোর করে বাসর করে অজ্ঞান করে রেখেছি।
ব্যস আরিশের এতোটুকু, কথায় ওদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো মনে হল। সবাই নিশ্চুপ, শুধু সবার মাথায় একটা কথাই ঘুরছে,
‘যে আরিশ এই একটা মেয়ের জন্য গোটা দুনিয়ার বিরুদ্ধে যেতে পারে, সে নিজে এভাবে মেরে অজ্ঞান করে রাখল? এটাও চোখে দেখতে হবে?
পরক্ষণই আবার তারা ভাবল, আরিশ যে মানুষ, তার দ্বারা সবই সম্ভব। পুরো রুমের নীরবতা ভাঙ্গন করে ফারি বললো,
‘ভাই, কি করেছিল ও? যার জন্য এভাবে আঘাত করলে?
‘ও কেন চিলেকোঠার ঘরে রাদিফ কে জড়িয়ে ছিল? ও জানে না ওর শরীরের একটা পশম পর্যন্ত আমি ব্যতীত অন্য কেউ স্পর্শ করুক, সেটা আমার পছন্দ না। মেঝের দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে গম্ভীর কণ্ঠে।
আরিশের এতুর কথায়, তৎক্ষণে সূচি মুখে রাগি আভা ফুটিয়ে একটু জোরেই বললো,
‘তুই কি মানুষ ব্রো? মেয়েটা তোর জন্য এত কিছু করলো সেখানে তুই…?
‘মানে? এরপরও তোরা বলবি আরো বড় সারপ্রাইজ ছিল?
‘হ্যাঁ হ্যাঁ তোর জন্যই ছিল। কদিন ধরেই তো দেখছিলাম, তোর পিছে পিছে সারপ্রাইজ দিবে বলে ঘুরঘুর করছিল। কালকে মেহেদী আর্টিস্ট সবার হাতে মেহেদি দিয়ে দিলেও, জুথির হাতে দিতে পারিনি। কারন সে তোর নাম নিজের হাতে যত্ন সহকারে লিখবে বলে নিজে দুহাত রাঙিয়ে ছিল। কাল সারা সন্ধ্যা বসে আমরা এত প্লান করে, মেহেদী অনুষ্ঠান রেখে তোর জন্য রুমটা সাজালাম যেন তোর পছন্দ হয়, তোদের এই মুহূর্তটা তোরা স্মৃতি হিসেবে রাখতে পারিস। সেখানে তুই কি করলি ব্রো?
আরিশ এক দৃষ্টিতে নিচের দিক স্থির ভাবে তাকিয়ে ছিল, সূচির এতগুলো কথায়, মাথাটা তুলে জুথির বিছানায় পড়ে থাকা হাত দুটো উঠিয়ে ঘুরিয়ে ফিরেয়ে দেখতে দেখতে দেখলো, জুথির হাত দুটো মেহেদি রঙে চমৎকার ডিজাইনে রঙিন হয়ে আছে। দু হাতের তালুর মাছ বরাবর AK লেখা গোল আবৃত বৃত্তের মধ্য। হলুদ ফর্সা হাতে লেখাটা যেন ঝকঝক করে বোঝা যাচ্ছে। আরিশ এটা দেখে, ওর চোখ দুটো বন্ধ করে নিল। সাথে সাথেই গড়িয়ে পড়ল দু ফোটা চোখের পানি। আরিশ কোন রকম মাথা ঠান্ডা রেখে বললো,
‘তোরা আমার রুম থেকে এক্ষুনি যা।
‘কিন্ত আমাদের কথা তো এখনো শেষ..
‘তখন তোরা কোথায় ছিলি? যখন আমি আমার মৌ কে ভুল বুঝে, ওর সাথে চিৎকার চেঁচামেচি করছিলাম? ওকে ব্যথা দিয়েছিলাম? – শেষ কথাগুলো একটু চেঁচিয়ে বলতে, ওরা দেখল আরিশ অবরতন কান্না করছে। ওরা বুঝল এই টাইপের মানুষ গুলো এমনই হয়। দোষ করলে ভিতরে অনুতপ্ত ঠিকই হয়, তবে তা স্বীকার করতে রাজি নয়। এই যেমন আরিশ না বুঝে, কারো কোন কথা না শুনে, আঘাত করলো। এখন দোষ গুলো ওদের মাথায় দেওয়ার জন্য, ওরা কেন আসলো না বলে আক্ষেপ করল। ওরা আরিশের রাগ দেখে তপ্ত শ্বাস ফেলে , এ রুমে আর দাঁড়ানোর সাহস পেল না। নিজ দায়িত্বে যেমন এসেছিল ঠিক সেভাবেই চলে গেল।
“ওরা নিচে এসে সাজার আর ইচ্ছা দেখালো না। সিম্পল ভাবে জামাকাপড় গুলো পরে নিলো। ওরা সাজতে যাবে না বলতে, ইভা কে দৃষ্টি মাইশা মনির সাথে পাল্লার পাঠিয়ে দিল। যদিও রোদ কে ইভার সাথে পার্লার যেতে বলেছিলেন, মেহজাবিন খান। আজ রোদ আর রাদিফের বিয়েটাও উনারা একসাথে দিয়ে রাখবেন বলে। তবে রোদ ওদের সাথে যায়নি, গিয়ে কি করবে? কার জন্য বউ সাজবে? রাদিফ সে তো জুথি কে ভালোবাসে, আর রোদের বিষয়? তাহলে ও,ওর মা বাবার ইচ্ছা কে প্রধান্য দেওয়ার জন্যই বিয়েতে হ্যাঁ বলা, তাছাড়া সে একটা মেয়ে, তার কতটুকুই বা ক্ষমতা? যে সে বিয়ে করবে না বলে বেঁকে বসবে। যেখানে রাদিফ ছেলে হয়ে মা বাবার মুখের উপর কিছু বলতে পারল না। বিয়ে আটকাতে পারল না, সেখানে সে… বিষয়টা হাস্যকর হয়ে যেত না? তবে সে জেনে শুনে এক বিষাক্ত জীবনে পা রাখতে যাচ্ছে, বিষয়টা তার মাথায় চওড়া হয়ে দাঁড়াচ্ছে বারংবার। কারন সেও জানে ভালবাসা না পাওয়ার বেদনা। তবে পার্থক্য হচ্ছে, সে পেরেছে আরিশ কে ভুলতে,কারণ সেটা তার মোহ ছিল। সুপ্ত একটা বাসনা ছিল মাত্র। কিন্তু রাদিফের ক্ষেত্রে বিষয়টা সম্পূর্ণ উল্টা, আদৌ কি তাদের সংসার হবে? নাকি নামেই মাত্র তারা বিয়ে করছে?
তখন ফরিরা চলে যেতে, আরিশের ফোনে ফোন আসতে আরিশ সেদিকে খেয়াল দিল না। ও তখন ও দুহাতে মাথা চেপে ধরে নিজেকে শান্ত করতে ব্যস্ত। তার বউ তার কলিজা পাখি তার জন্য.. শুধু এই বাক্যটাই মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। আরিশের ফোনে তখনও একই ভাবে সমান তরে ফোন বেধে যাচ্ছিল। বারবার এভাবে ফোন আসতে আরিশ বিরক্ত হয়ে ফোনটা রিসিভ করে কানের কাছে নিয়ে ক্ষিপ্ত কন্ঠে কিছু শুনতে যাবে তার আগেই ওপাশ থেকে বলে উঠলো,
‘Ak উনাকে হসপিটাল থেকে রিলিজ করা হয়েছে। গতরাতে উনাকে আমরা ফ্লাইটে উঠিয়ে দিয়েছি, হয়তো এখন এয়ারপোর্ট পৌঁছে গেছে। আপনি যদি উনাকে নিতে আসতেন।
‘জি আসছি। — বলে ফোনটা কেটে আরিশ উঠে দাঁড়িয়ে, একবার জুথির দিকে তাকিয়ে সেভাবেই চোখ দুটো মুছে হেঁটে বেরিয়ে গেল।
“সময়টা দুপুর দুটো, ছেলে বাড়ির লোকেরা আসতে এখনো দেরি হবে, এমনটা তারা জানিয়েছেন কিছুক্ষণ আগেই। উনারা যে যার ব্যস্ততায় কাজ করায়, হঠাৎ থমকে যায় আরিশের আগমনে, উনাদের মনে হল উনারা জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছেন। কারণ উনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ওনাদের চার বছর আগে হারিয়ে যাওয়া সেই ছোট্ট ভাই ইউনুস খান। যাকে উনারা নিখোঁজ হওয়ার পর তন্ন তন্ন করে পুরো শহর খুঁজেছেন। কিন্তু পাননি, আজ এত বছর পর ওনাকে এমন ভাবে দেখে আবেগ প্রফুল্ল হয়ে তিন ভাই একসাথে ছুটে এসে উনাদের বুকে জড়িয়ে নিলেন প্রিয় ছোট ভাইকে, অতঃপর ওনারা একসাথেই বলে উঠলেন,
‘ভাই আমার, তুই বেঁচে আছিস? এত বছর কোথায় ছিলি? কোথায় না খুঁজেছি তোকে?
বড় ভাইদের এমন আবেগ প্রফুল্লতা, পাশাপাশি উত্তেজিত হতে দেখে ইউনুস খান আস্তে ধীরে বললেন,
‘আয়না ঘরে ছিলাম।
‘মানে?
ইউনুস খানের কথায়, সাফওয়ান খান বিস্ফোরিত কন্ঠে বললেন,
‘কি বলছিস ছোট ভাই?
‘হুম, বড় ভাই আমি দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়েছিলাম, দেশের বিরুদ্ধে কিংবা দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অবৈধ কাজ করতে নয়। আর সেজন্যই আমাকে সরকার আয়না করে বন্দী করে রেখেছিল, কেন জানো এই আয়না ঘর সম্বন্ধে আমি জেনে গিয়েছিলাম। তো সেখান থেকে আমাকে সতর্ক করা হয়েছিল, এ বিষয়ে যেন আমি কাউকে না জানাই, মুখ না খুলি। কিন্তু ভাই আমি এটা মানতে পারছিলাম না। এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, আমাকে চার বছর আগে আয়না ঘরে বন্দী করা হয়। যেন আমি বাহিরের আলোটুকু পর্যন্ত দেখতে না পারি। – এক সাথে কথাটুকু বলে উনি নিঃশ্বাস ছাড়লেন।
‘কি বলছিস ভাই? সেখান থেকে বের হলে কিভাবে?
‘সরকার পদত্যাগ হওয়ার কারণে, সেখানে খাবার প্রায় ছড়িয়ে যায়। তখন আমার অবস্থা ছিল বেদারুণ। বাঁচার কোন রাস্তা ছিল না। আমি ভেবে নিয়েছিলাম,হয়তো আমার এখন এই দুনিয়ার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে হবে। আমি মরে যাব, কিন্তু না, আল্লাহ তোমার ছেলেকে ফেরেশতা স্বরূপ আমার সাথে যোগাযোগ পাইয়ে দেন। আর আমার খবর পাওয়ার সাথে সাথে আরিশ আমাকে ইমিডিয়েটলি সুইজারল্যান্ড নিয়ে সুচিকিৎসা দেয়, যার দরুন এখন আমি তোমাদের সামনে। — উনার কথা শেষ হতে সাফওয়ান খান, ছোট ছোট চোখ করে ছেলের পানে চাইলেন। আজ ওনার সত্যি মনে হচ্ছে, আরিশ নামক ছেলেটা ওনার। আজ ওনার গর্ব হচ্ছে। ছেলের প্রতিটা পদক্ষেপে ঠিক। এসব ভেবে উনি আরিশের কাছে এগিয়ে ওকে বুকের সাথে জড়িয়ে পিঠের উপর চাপড় মেরে বললেন,
‘তুমি ছোট ভাইয়ের খবর পেয়েছো, ওর চিকিৎসা করার জন্য সুইজারল্যান্ড পাঠিয়েছো। আমাদের বললে না কেন?
‘বলার প্রয়োজন বোধ করিনি। গম্ভীর কণ্ঠে।
আরিশের এমন কন্ঠে সাফওয়ান খান কিছু জিজ্ঞেস করার মত, বলার থাকলেও বললেন না, তার ভাইয়ের খবর কবে পেয়েছে? ভাইয়ের অবস্থা কি ছিল? এসব জিজ্ঞেস করার থাকলে উনি করলেন না, কারণ আরিশের থেকে যে ওনারা উত্তর পাবেন না, এটা ওনারা সবাই জানেন। তাই কথা না বাড়িয়ে সবাই আরিশ এর কাছে এসে ওকে জড়িয়ে কৃতজ্ঞতা জানালো। পরিশেষে সবাই একটা কথা ধিক্কার দিয়ে জানালো,
‘তুমি যে বংশের বড় ছেলে আজ তা আবার প্রমাণ করলে।
ইউনুস খান ওনার উপস্থিতি ছিল সবার কাছে কাল্পনিক স্বপ্নের মত, ইভা সে বাবার ফিরে আসার কথা শুনে বউরুমে আর বসে থাকতে পারেনি। ছুটে এসে বাবার কাছে তাকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কান্না করেছিল সেদিন। চোখ থেকে টপটপ করে পানি বেরিয়েছিল মোমেনা খানের। বাবার উপস্থিতিতে ইভার ধুমধাম ভাবে বিয়েটা সম্পূর্ণ করে মেয়েকে বিদায় করেছিলেন। তার ইচ্ছা ছিল তার মেয়েদের বিয়ে দেখার, তাইতো একটু সুস্থ মনে হতে আজ ইভার বিয়ে শুনে একদিন আগেই ফ্লাইটে উঠেছিলেন। উনার সাথে দেখা হতে ওনার উপস্থিতিতে খান বাড়ি যেন আনন্দের মেলা ক্ষণে ক্ষণে ভেসে উঠছিল।
ইভার পাশাপাশি তিন কবুল বলে, আইনি পেপার সাইন করে সবার উপস্থিতিতে বিয়ে হয়েছে রাদিফ রোদের, ইভার বিয়েতে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকায়,রাদিফের বিয়েটাও সবাই সেভাবেই দিল। এ বাড়ির ছেলের বিয়ে, মেয়ের টা সম্পূর্ণভাবে ঠিক করে। রাদিফের জন্য ও,ওর রুমে বাসর ঘর সাজানো হলো। বিয়েটা যেভাবেই হোক, বিয়ে যখন হয়েছে দুজনের সংসার করতে হবে। সেটা তারা যেভাবে যত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারবে, সেভাবেই ভালো।
“মোমবাতির স্নিগ্ধ আলোয়, গোলাপ ফুল রজনীগন্ধা ফুলের গন্ধে রাদিফের রুম জুড়ে মো মো করছে। তার ঠিক মধ্যখানে, রোদ ঘাপ্টি মেরে গুজো হয়ে ঘুমিয়ে আছে…
Continue….।

