violent_love Mariam_akter_juthi #পর্বঃ৪৮

0
29

#violent_love
Mariam_akter_juthi
#পর্বঃ৪৮

🚭(রাজনীতি+পজেসিভ+রোমান্টিক+টক্সিক লাভ স্টোরি)

“আয়ান আর এ নিয়ে কথা বাড়ালো না। তবে প্রিয়সি নিজ হাতে শরবত নিয়ে এসেছে এটাই তার শান্তি। ভেবে ডক ডক করে সম্পূর্ণ গ্লাস খালি করে গ্লাসটা এক পাশে রেখে পকেট থেকে কতগুলো কিটক্যাট চকলেট বের করে তানিশার দিকে দিতে। তানিশা আজ কোন বাধা ছাড়াই সেটা নিতে আয়ান হুট করেই হঠাৎ তানিশার হাত ধরে ঘুরিয়ে পিছন ভাবে জড়িয়ে তানিশার ঘাড়ে মুখ ঠেকিয়ে বলল,
‘তানুরানীর ব্যবহার কেমন চেঞ্জ চেঞ্জ লাগছে? সে কি তাহলে অবশেষে আমার প্রেমে পড়েই গেল? — আয়ান এমন কথা বলতে তানিশা আয়ান কে নিজের থেকে ছাড়িয়ে আয়ানের দিক ঘুরে বলল,
‘উহুম, একদম আপনার প্রেমে পড়িনি। শুধু মানবতা দেখিয়েছি।
‘ও তাই?
‘হুম।
‘সত্যিই?
‘হুম।
‘আসলেই?
‘হুমম।
‘ভেবে বলছো?
‘হুমমমম।
‘সত্যি তো? তানিশা বুঝলো ওর বারবার হুম বলায় আয়ান সেটা নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ওর সাথে মজা নিচ্ছে। তাই মুখ ফুলিয়ে বলল,
‘আপনি একটা যাতা। – বলে চলে আসতে নিলে, আয়ান ওর হাতটা ধরে ফেলতে তানিশা ওভাবে আয়ানের দিক মুখ ফেরাতে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
‘কি?
‘বিয়ে করবে আমায়?
‘জানিনা।
‘চলো ঐ বেঞ্চটাই বসি। বেঞ্চের দিকে ইশারা করে।

আয়ান কথাটা বলতে তানিশা বেঞ্চের দিক তাকাতে, আয়ান তানিশার নরম তুলতুলে হাতটা নিজের শক্ত পোক্ত হাতের মধ্যে নিয়ে সেদিক হাটতে হাটতে বলল,
‘জানো তোমার হাত ধরে নির্জন রাস্তায় হাঁটার কত শখ আমার? রাতে ঘুমানোর আগে রুমের বারান্দায় বসে তোমার ঘাড়ে মাথা রেখে গল্প করার কত শখ? তোমায় বিয়ের সাজে দেখার কত শখ? তোমাকে নিজের হাতে খাইয়ে দেওয়ার যত্ন করার কত শখ? বাসর রাতে আমার এলোপাথালি আদরের পর যখন তুমি লাল শাড়ি মাথায় সাদা তোয়ালে পেয়েছি আমার সামনে আসবে সেটা দেখার কত শখ?

আয়ান ওর ইমোশনাল কথাগুলো বলার মধ্যে তানিশা ফোড়ন কেটে বলল,
‘না মাত্রই জানলাম। — তানিশার সামান্য কথাটুকু আয়ানের রোমান্টিক মুডটাই নষ্ট হয়ে গেল, দেখে আয়ান বিরক্ত হয়ে নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
‘কলা গাছ।
‘মানে?
‘কস!
‘বুঝলাম না?
‘বলছি কলাগাছ অনেক কস। বলে ফিসফিসিয়ে আওরালো – ‘আনরোমান্টিক মেয়ে একটা।

তানিশা আয়ানের কথার মানে বুঝতে না পেরে ড্যাব ড্যাব করে আয়ানের দিক তাকিয়ে থাকতে আয়ান তানিশার এমন চাউনির মানে বুঝতে পেরে ওর ডান হাত দ্বারা তানিশার ঠোঁটের দুই পাশ আলতোভাবে ধরে বলল,
‘আপনাকে আর বুঝতে হবে না। এখানে বসুন। – তানিশা আয়ানের কথা মত বেঞ্চে বসতে আয়ান ওর সামনে হাঁটু ঘিরে বসে শূন্য হাতে তানিশার দিক ভারিয়ে বলল,
‘ভীষণ ভালোবাসি আপনাকে তানুরানী। আপনি কি হবেন আমার? সারা জীবনের সুখ দুঃখের সাথী করতে চাই। থাকবেন আমার সাথে? — আয়ানের কথার তানিশা চুপচাপ মাথাটা নিচে করে রাখতে আয়ান আবার বলল,
‘বিয়ে করবেন আমায়?
‘জানিনা! — তানিশা পুনরায় একই কথা বলতে আয়ান নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
‘অন্য কাউকে বিয়ে করবে?
‘,,,,,,,,,,,,,,। — তানিশা কিছু না বলে চুপচাপ বসে থাকতে আয়ান এবার বিরক্ত হয়ে ওর দু বাহুতে হাত রেখে বলল,
‘শোনো মেয়ে, বিয়ে তোমাকে আমাকেই করতে হবে। সে তুমি যখন কর।
‘যদি না করি?
‘করবে করবে।
‘ওভার কনফিডেন্স?
‘না।
‘তাহলে?
‘তোমাকে সব সময়ের জন্যই সময় দিয়েছি। তবে আমি ব্যতীত অন্য কারো চিন্তা মাথায় আনবে এজন্য নয়। আজ হোক কাল হোক তুমি খান বংশের ছোট ছেলে আজমান খান আয়ানের অর্ধাঙ্গিনী হবে।
‘বাধ্য করবেন?
‘না।
‘তুমি নিজ ইচ্ছায় আমাকে ভালোবেসে বিয়ে করবে। — বলে উঠে চলে আসতে নিলে তানিশা আয়ানের হাত ধরে বলল,
‘এখনই চলে যাবেন?
‘থেকে কি হবে?
‘সরি! – বলে তানিশা আয়ানের হাতটা ছেড়ে দিতে আয়ান আর এক মুহূর্তের জন্যও ওখানে দাঁড়ালো না। বাইক স্টার্ট দিয়ে চলে এলো। কারণ সে চায় না তানিশাকে কোন বিষয়ে জোর করুক। তানিশা ওর কোন রুড ব্যবহারে কষ্ট পাক। সেটা সে চায় না। তানিশার বয়স কম। বড় হোক। তখন মেয়েটা আয়ান কে ঠিকই বুঝবে। – ভেবে আয়ান চলে আসতে তানিশা সেদিক তাকিয়ে আয়ান কে চলে যেতে দেখে তার বুকে কেমন ব্যথা করে উঠলো। কেন উঠল সে জানে না। তবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সেটা এখন সে ভাবতেও চায়না। বরং গ্লাসটা হাতে নিয়ে বাসার মধ্যে চলে এলো।

“আরিশ তখন বাড়ি ফেরার পথে, তার মৌয়ের জন্য দুটো আইসক্রিম কতগুলো চকলেট কিনে ফুল স্প্রিডে বাইক রাইড করে বাসায় এসে বাইক পার্কিংয়ে পার্ক করে বাড়ি ঢুকতে, জুথিকে সবার সাথে বসার ঘরে সোফার উপর বসে সবার সাথে গল্প করতে দেখে সেদিকে এগোতে নিলে, আরিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সবাই গল্প করার মধ্যে একবার আরিশের দিক তাকাতে জুথিও সবার মত আরশের দিক চোখ পড়তে আস্তে করে উঠে সেখান থেকে চলে আসতে নিলে আরিশ ভ্রু কুঁচকে বলল,
‘মৌ? — জুথি আরিশের ডাকে দাড়ালো না হেটে সানজিদা খানের কাছে চলে যেতে আরিশও জুথির পিছন যেতে যেতে বলল,
‘মৌ।

“তবে প্রতিদিনের তুলনায় জুথির অভিমানটা আজ একটু বেশি মনে হলো। তাই কোন রুপ আরিশের ডাকে সাড়াশব্দ না করে চুপচাপ সানজিদা খানের কাছে না গিয়ে ঘুরে চলে আসতে নিলে আরিশ ওর বাহু টেনে ঘুড়িয়ে ওর দিক করতে জুথি নিজের বাহু থেকে আরিশের হাতটা ছাড়িয়ে মুখ ঘুরিয়ে চলে আসতে নিলে, আরিশ জুথির বাহু পুনরায় চেপে ধরে নিজের দিক ঘুরিয়ে চটা কণ্ঠে বলল,
‘সমস্যা কি তোর? জানিস না? তোর মুখ ঘুরানো দেখলে আমার রাগ হয়? সহ্য করতে পারিনা এটা?
‘ছাড়ুন আমাকে।
‘মৌ আমাকে রাগাস না। নয়তো, – আরিশ কথাটা বলতে জুথি আরিশের হাত দুটো নিজের বাহু থেকে ছিটকে সরিয়ে ঘনঘন নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে বলল,
‘নয়তো? কি করবেন আপনি হ্যাঁ? মেরে ফেলবেন? মারুন মেরেই ফেলুন। দুই দুই বার তো আপনার জন্য মরতে গিয়েও ভাগ্যের জোরে ফিরে এসেছি। এবার না হয় সম্পূর্ণটাই মেরে ফেলুন।
‘মৌ আমি তোকে ব্যথা,
‘চুপ করুন, ব্যথা দিতে চান না? অথচ সেটাই করেন। আপনার দেওয়া করা অত্যাচারে আমার শরীর পুরো ব্যথা হয়ে আছে। কতবার বলেছিলাম আমার ব্যথা লাগে। আপনি শুনেছিলেন আমার ব্যথা? অসভ্য আপনি একটা অসভ্য লোক। আমার কাছে আর আসবেন না। – জুথি এভাবে এতগুলো মুখের উপর কথা বলে ফেলায় ওর স্মরণে ছিল না। ও কার সাথে এই কথাগুলো বলছিল। যখন ওর স্মরণে এল ও কি কি বলে ফেলেছে, তখন আরিশের ভয়ে কথা বলাটা আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যায়। আস্তে মাথাটা নিচু করে ভয় কাচুমাচু করতে যখন দেখল আরিশ কোন কথা বলছে না। তখন সেখান থেকে দৌড়ে পালানোর জন্য সিঁড়ি পর্যন্ত আসতে উপরের ঘর থেকে মনিও নিচে নামার জন্য তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় দু বোন কেউ কাউকে না দেখে ধাক্কা খেয়ে ঠাস করে মেঝেতে পড়ে ব্যথায় দুজনেই চিৎকার করে বলে উঠলো,
‘আহহহহ! এমনিতেই জুথি আরিশ কে কথাগুলো বলে ফেলায় ভয়ে ছিল, এখন আবার ঠাস করে মেঝেতে পড়ে পায়ে ভীষণ ব্যথা পেয়ে কেঁদে উঠতে। মনি ব্যথা পেয়ে না কাঁদলেও ব্যথা জায়গায় হাত চেপে ছোট ছোট চোখ করে জুথির দিক তাকাতে আরিশ ততক্ষণে দৌড়ে এসে জুথির পাশে বসে ওর সমস্ত শরীর পাগলের মতো দেখতে দেখতে বলল,
‘মৌ আমার জান কোথায় ব্যথা পেয়েছ? দেখি‍? কাঁদে না আমার সোনা। – বলে জুথির শরীর-পা দেখার মধ্যে ওদের পড়ে যাওয়ার খবর শুনে সবাই বসার ঘরে উপস্থিত হতে আরিশের এমন পাগলামি দেখে হতভম্ব হয়ে চোখ বড় বড় করে আরিশের দিক তাকিয়ে থাকার মধ্যে আরিশ আবারো জুথির কান্না থামানোর জন্য জুথিকে বুকের সাথে চেপে বলল,
‘এইতো আমার সোনা, কাঁদে না। কোথায় ব্যথা পেয়েছ? বলো না আমায়। এই বলনা, এভাবে কাদিস না।

জুথি তখনও দুহাতে পা চেপে আরিশের বুকে মাথা রেখে কাঁদতে, আরিশ জুথির চেপে রাখা হাতের দিক তাকিয়ে জুথির পা দুহাতে নিজের কোলের মধ্যে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে দেখতে বলল,
‘আমার পাখি এখানে ব্যথা পেয়েছো?

জুথি আরিশের কথার ঠোট ফুলিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
‘হুম। ব্যাথা লাগছে ছাড়ুন।
‘আমি একটু দেখি এক্ষুনি ভালো হয়ে যাবে।
‘না, আপনি ব্যথা দিবেন। আমি আপনাকে দেখাবো না। আরিশ জুথির ব্যথা পাওয়া পাটা হুট করে ডানে চাপ দিতে জুথি হঠাৎ আবারো ব্যথা পেয়ে কেঁদে উঠতে আরিশ বলল,
‘এইতো আমার সোনা দেখো ব্যথা ভালো হয়ে গেছে।
‘না না, ভালো হয়নি। আপনি আরও ব্যথা দিয়ে আমার পা টা পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছেন। এখন আমি পঙ্গু হয়ে যাব। আর হাঁটতে পারবো না। এখন তো আপনি খুব খুশি তাই না? আমার পাটা ভেঙে ফেলেছেন। — জুথি শুধু শুধু ফালতু বকবক করতে আরিশ হুট করেই জুথি কে কোলে তুলে সিঁড়ি বেয়ে রুমের দিকে যেতে যেতে বলল,
‘মুখ থেকে আর কোন কথা বের করলে, একদম কোল থেকে ফেলে দিব।

আরিশ কথাটা বলতে জুথি আরিশের ভয়ে চুপ হয়ে গেলো ঠিকই। কিন্তু আরিশের উপর অভিমানটা যেন পাহাড় সমান হলো। কই সে পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যথা পেল। আবার নিজেই চাপ দিয়ে পা টা পুরো ভেঙ্গেই দিল। এখন ওকে হসপিটাল না নিয়ে বলছে কোল থেকে ফেলে দিবে? আরিশ জুথিকে কোলে করে নিয়ে যেতে মনি বেকুব বনে ওদের যাওয়ার দিক ড্যাপডাপ করে চেয়ে রইল। এই ভেবে, ‘কই সেও তো পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে। কিন্তু আরিশ ভাই তো একবারের জন্য জিজ্ঞেস করল না।
“ছোট আপু তুমি ব্যথা পেয়েছো”?

মনি ওদের যাওয়ার দিক তাকিয়ে থাকতে লিমা খান মনির কাছে এসে মনি কোথায় ব্যথা পেয়েছে জিজ্ঞেস করতে মনি বলল,
‘না! আমি তেমন ব্যথা পাইনি মেজো মাঝো মা। মনে হয় একটু বরফ দিলেই ঠিক হয়ে যাবে।

মনি কথাটা বলতে লিমা খান ওকে উঠিয়ে বসার ঘরের সোফায় বসিয়ে ফ্রিজ থেকে বরফ এনে মনির পায়ে দিয়ে দিলেন।

Continue…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here