violent_love Mariam_akter_juthi #পর্বঃ১৩

0
48

#violent_love
Mariam_akter_juthi
#পর্বঃ১৩

🚭(রাজনীতি+পজেসিভ+রোমান্টিক+টক্সিক লাভ স্টোরি)

‘তোর পছন্দ খারাপ না। বলে তানিশার দিক তাকিয়ে বললো,
‘তুমি কিছু মনে করো না,আসলে মৌ এর সাথে তোমার অনেক মিল। এটা যারা সামনে থেকে না দেখবে তারা কখনোই ধরতেই পারবে না, যে তোমরা দুজন আলাদা মানুষ।

তানিশা, আরিশের কথা শুনে ওর দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললো,
‘বুঝলাম আমাদের মিল আছে, তাই বলে আপনি আমাকে চাচী বলবেন?

তানিশের কথা শুনে আরিশ ফিক করে হেসে দেয়,আরিশের পাশাপাশি আয়ান ও মুখে হাত চেপে মুচকি হাসে, ততক্ষণে জুথি ঠান্ডা পানি নিয়ে এসে দেখে আরিশ আয়ান তানিশার দিক তাকিয়ে কি নিয়ে যেন হাসছে। এটা দেখে ও তানিশার কাছে এসে বললো,
‘এই নে তোর পানি।

তানিশা পানি পেয়ে, চেয়ারে বসে সম্পূর্ণটা শেষ করে দম ফেলে বললো,
‘অনেক ধন্যবাদ তোকে, বোন।
‘আয়ান ভাই তুমি আমার জানুর দিক তাকিয়ে মুখ টিপে হাসছো কেন?

আরিশ জুথির কথা শুনে শার্টের কলার, উপরে জাগিয়ে ঠিক করতে ঠিক করতে আয়ানের উদ্দেশ্যে বললো,
‘আয়ান আমি গেলাম, তুই বরং আজকে বাড়ি থাক। বলে আরিশ আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে ব্যস্ত পায় চলে যায়।

আরিশ চলে যেতে, বাড়ির প্রায় সব মানুষ বসার ঘরে উপস্থিত হয়, লিমা খান তানিশাকে দেখে মুচকি হেসে ওর কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো,
‘আরে তানিশা আম্মু তুমি?
‘হ্যাঁ আন্টি কেমন আছেন আপনি?
‘আলহামদুলিল্লাহ মা ভালো আছি, তোমার আম্মু কেমন আছে?
‘হ্যাঁ তারা সবাই ভালো আছে।
‘তুমি তো আমাদের বাসায় আসোই না, আজ এসেছ যেতে পারবে না।
‘কি বলেন আন্টি আমি তো সপ্তাহে একবার হলেও আসি,আর আপনি বলছেন আমি আসি না?
‘সে হলেও আজকে তোমাকে যেতে দেব না।

তানিশার সাথে সকলের প্রায় মোটামুটি কথা হয়েছে, মেয়ে হিসেবে তানিশাকে খান বাড়ির সকলের পছন্দ। বিশেষ করে লিমা খানের, উনার মনে সুপ্ত ইচ্ছা ছেলের বউ বানানোর। কারণ আয়ান ওনাকে বলেছে, সে তানিশাকে পছন্দ করে। উনি মা হিসেবে ছেলেদের পছন্দ কে সব সময় প্রায়োরিটি দেয়। তানিশা সকলের সাথে আরো বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে, জুথির সাথে ওর রুমে চলে যায়।

সময়টা প্রায় দুপুর বেলা, জুথি তানিশা নোট কমপ্লিট করে মাত্র বিছানায় গোল হয়ে বসলো। জুথি নোটগুলো গুছিয়ে রাখতে রাখতে বিরক্তি ভঙ্গিমা নিয়ে বললো,
‘ধুর *বালের মাথা, এই ICT চ্যাপ্টার শেষ হলে এক বাচ্চা বাঁচি। এটা mathematics এর থেকেও কঠিন।
‘মানলাম, তোর কথা। কিন্তু কথায় কথায় এত বাজে কথা বলো কেন?
‘তুই কথা বলিস না তো ললিতা।
‘শোন তুই যে আমার সাথে কথায় কথায় *বাল বল তোর জন্য একটা *বাল ঘরের নামতা বানিয়েছি।
‘কিহহ,
‘হ শুনবি?

জুথি তানিশার দিক কে কৌতুহল হয়ে তাকাতে দেখে, তানিশা গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,
‘আমি শিওর আমার নামতা শুনে তুই আর জীবনে কোনদিন বাজে কথা বলবি না। বলে ওর বানানো নামতাটা শুরু করল—‘বারো অক্ষে বারো, *বাল ফালাইতে পারো? ‘ বারো দু গুনে চব্বিশ, *বাল হালাইয়া আডা বান্দিস। তিন বারোং ছএিশ,*বা ওর বাকি নামতা শেষ করার আগে, দরজার দিক চোখ পড়ে। দেখে আয়ান হা করে ওর দিক তাকিয়ে, হুট করেই আয়ান মেঝেতে ঠাস করে পরে সেন্সলেস হয়ে যায়। তানিশাকে থামতে দেখে সাথে দরজার দিকে কিছু পড়ার শব্দ পেয়ে জুথি তাড়াতাড়ি সেদিকে তাকিয়ে দেখে আয়ান মাটিতে সেন্সলেস হয়ে পড়ে আছে। এটা দেখে ও দৌড়ে আয়ানের কাছে গিয়ে গালে চাপড় দিতে দিতে বললো,
‘ভাই ও ভাই, কি হয়েছে তোমার? তুমি এভাবে পড়ে গেলে কিভাবে?

আয়ান, কিছুক্ষণ হয় জুথির রুমের সামনে এসেছিল, তখন তানিশা মাত্র ওর বিখ্যাত নামতা শুরু করতে যাচ্ছিল,জুথিকে শোনানোর জন্য। আর তখন আয়ান তানিশার এমন নামতা শুনে,,, তানিশার বুঝতে বাকি থাকে না আয়ান ওর নামতা শুনেই কোমায় চলে গেছে। তাই দু তিনবার পরপর ঢোগ গিলে কাচুমাচু করে বিছানার এক কোনায় গিয়ে বসলো। আয়ান কথা বলছে না দেখে জুথি রুম থেকে পানি নিয়ে আয়ানের মুখের উপর ছিটাতে আয়ান পিটপিট করে চোখ খুলে তাকায়। আয়ান কে তাকাতে দেখে জুথি স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো,
‘বাবা আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম, যাক তুমি ঠিক আছো এতেই অনেক।

আয়ান জুথি কে পাস করে, বিছানার উপর গোল হয়ে বসে থাকা তানিশাকে একবার দেখে বললো,
‘বোন আমি ভুলবশত রুমে ফোনটা ফেলে এসেছি, তুই একটু কষ্ট করে খুঁজে নিয়ে আয়।
‘আচ্ছা আমি নিয়ে আসছি। বলে আয়ানের রুমের দিকে চলে যায়।

জুথি চলে যেতে, আয়ান তানিশার দিক তাকিয়ে, বাঁকা হেসে ওর দিকে এগোতে এগোতে বললো।
‘তুমি কি যেন নামতা বলছিলে এতক্ষন আমার বোনকে?

আয়ান কে এমন হাসতে এবং ওর কাছে এগোতে দেখে বিছানা চাদর খামছে ধরে বললো,
‘ক, কই আমি তো কিছু বলিনি।
‘সত্যি? কিন্তু আমি তো শুনলাম মনে হয়। বলে তানিশার একদম কাছে গিয়ে ওকে দুই হাতের মাঝে করে নিয়ে আবারো বললো,
‘তুমি যে এত সুন্দর নামতা বলতে পারো সেটা আমার জানা ছিল না। বলে ওর দিক আরেকটু ঝুঁকতে নিলে জুথি রুমের মধ্যে ঢুকে বললো,
‘ভাই তোমার ফোন,— ব্যাস এতোটুকু বলে সামনে তাকাতে দেখে এমন দৃশ্য। আয়ান ও কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে তানিশার উপর থেকে উঠে এসে ওদের কিছু বলতে না দিয়েই রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
‘কি হলো এটা? অবাক হয়ে।
‘আমি জানিনা।

হলকেন্দ্র থেকে, দু বান্ধবী ICT পরিক্ষা শেষ করে একসাথে বের হয়ে দু’জনে বেশ খুশি। কারণ তাদের সব চেয়ে কঠিন সাবজেক্টে আজকে শেষ। তাছাড়া পরিক্ষা টা বেশ ভালো হয়েছে।তাই খুশি মনে দু’জন গল্প করে একসাথে রিক্সায় উঠে বাড়ি আসে। বাড়ির অনেক টা কাছে আসার পরে তানিশা রিক্সা থেকে নেমে চলে যায়,জুথিও চলে আসে।জুথি রিক্সা থেকে নেমে, বাড়িতে ঢোকার সময় ওর পাশ দিয়ে আরিশ ও তখন বাইক নিয়ে বাড়িতে ঢুকছিল।জুথি আরিশে কে দেখে তাড়াতাড়ি বাড়িতে ঢুকতে নিলে, আরিশ বাইক পার্কিংয়ে রেখে তার মৌকে তাড়াহুড়া করে ভিতরে ঢুকতে দেখে সেও তার পিছনে যায়। দুজনে প্রায় একসাথে বাড়িতে ঢুকে, আরিশ চারপাশে তাকিয়ে দেখে আশেপাশে কেউ নেই, অতঃপর আস্তে করে জুথির কাছে গিয়ে টুপ করে ওর বা’গালে চুমু খেয়ে, মাথাটা চুলকাতে চুলকাতে সিঁড়ি দিয়ে নিজের রুমে চলে গেল। হঠাৎ এমন হওয়ায় জুথি ও চমকে ওঠে আশেপাশটায় তাকায়। না আপাতত আশেপাশটায় কেউ নেই দেখে জুথি আরিশের যাওয়ার দিক তাকিয়ে গালি দিয়ে বললো,
‘লুচ্চা’ ১ নাম্বার লুচ্চা একটা বেডা, যখন দেখে খালি চুমু খায়।বলে ও সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে চলে যায়।

করা রোদের মধে ভার্সিটি শেষ করে ইভা ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি আসার জন্য, রাস্তার এক কিনারে দাঁড়িয়ে ওয়েট করছিল, গাড়ি আসার জন্য। কারণ বাড়ি থেকে করা আদেশ ইউনিভার্সিটিতে বাড়ির গাড়ি ছাড়া আসা যাবেনা। তাছাড়া ওদের বাড়ি থেকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি প্রায় ৩০ মিনিটের মত লাগে গাড়িতে আসতে। তাছাড়া আজকে বাড়ি ফেরার আগে ভার্সিটি বৈশাখি প্রোগ্রামের জন্য সাদা কাপড় কিনতে হবে।ওর কিছুক্ষণ ওয়েট করার পরে গাড়ি চলে আসে। ইভা গাড়ি আসতে ড্রাইভারকে আগে কাপড়ের শপে নিয়ে যেতে বলে। ড্রাইভার কিছুক্ষণ ড্রপ করার পর ওরা গিয়ে থামে নৈয়র লেডিস ফ্যাশন হাউজ এর সামনে। শপে এসে ইভা গাড়ি থেকে নেমে দেখে বিশাল বড় এক সাদা বিল্ডিং এর উপর লেখা, নৈয়র লেডিস ফ্যাশন হাউস। তার পাশে ডিজাইন করে বড় করে লেখা ইমরান খান রনি। Please welcome, ইভার বাহিরের ভিউ টা দেখা হয়ে গেলে মনে মনে বলে, বাহিরের ডিজাইনটা এত সুন্দর করে ডেকোরেট করেছে। না জানি ভিতরের ভিউ টা কত সুন্দর করেছে এসব ভেবে ইভা সাপের ভিতর ঢুকে,,,

Continue,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here