#violent_love
Mariam_akter_juthi
#পর্বঃ৩৪(এর প্রথম অংশ)
🚭(রাজনীতি+পজেসিভ+রোমান্টিক+টক্সিক লাভ স্টোরি)
“চারিদিকে ছমছমে নীরবতা বিরাজ করছে, কারো মুখে টু শব্দটি পর্যন্ত নেই। থাকবে কি করে যেখানে স্বয়ং আরিশ খান বসে আছে সেখানে কারো কথা বলা বিলাসিতা। সবার নীরবতা লংঘন করে মিজান খান কিছুটা রুট কণ্ঠে বললেন,
‘আরিশ খান দীর্ঘদিন ধরে আমি আপনার সাথে কাজে আছি। বয়সেও আমি আপনার বড় হই, সেই অনুযায়ী আপনার কাছে আমার ছেলের মৃত্যুর রহস্যটার উদঘাটন করতে জানিয়েছিলাম, কিন্তু আপনি বিষয়টা একদম চাপিয়ে গেলেন! এটা আমার মোটেও সুবিধার লাগছে না।
‘আপনার কি মনে হয় আরিশ খান কারো অর্ডারে কাজ করে?
‘আমি সেটা বলতে চাইনি, আমি শুধু আমার ছেলে,, — ওনার কথা সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগে আরিশ উনাকে থামিয়ে দিয়ে গরম চোখে তেরা কন্ঠে একটা ঝুঁকে ঠোঁট চুলকে বললো,
‘ছেলের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে আপনার এই পথ পজিশনটায় যদি না থাকে?
‘মা,মানে?
‘এই যে আপনি বারবার সানভির মৃত্যুর রহস্য জানতে চাচ্ছেন, এর বিপরীতে কিনা আপনার নামের পাশে নেতা ট্যাগটা মুছে না যায়।
‘আ,আপনি কি বলতে চাইছেন?
‘আমার যতটুকু জানা, আপনার রাজনীতির বিপক্ষের কিছু শত্রু সুযোগ পেলেই আপনাকে উপরে, এর মধ্যে যদি আপনার নেতা পদেটাই চলে যায় ভাবতে পারছেন কি হবে?
আরিশের পথ চলে যাবে ঘুরেফিরে এক কথায়, মিজান খান পরপর ঢোগ গিলে কপালের পাশাপাশি ঘাড়ের ঘাম মুছতে মুছতে শুধালেন,
‘আ,আপনি,,
‘মনে করেন আমি আপনার ছেলের মৃত্যু রহস্য খুজতে গেলাম, সেখান থেকে কিনা আপনার পজিশনটা চলে গেল, তারপর আপনাকে তো মানুষ ভাগেও পাবে না। এখন আপনি বলুন আপনি কি আপনার পজিশনটা ধরে রাখতে চান? নাকি ছেলের মৃত্যু কিভাবে হল, কে বা কারা করেছে সেটা জানতে চান? অবশ্যই আপনি যেটা বলবেন সেটাই হবে। যদি চান ছেলের রহস্য বের করতে ,অবশ্যই বের করব। অল দ্যাট আপনি আমার একজন খাস লোক বলতে কথা। ভাব শূন্য হয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে কথাটা বললো।
মিজান খান আরিশের এমন দায়ছাড়া, ভাবমূর্তিমার কথা শুনে, মনে কিছুটা ভয় জাগরণ হলো, আসলেই এই মুহূর্তে উনার নেতা পথটা চলে গেলে উনি বিপদে পড়বেন, ওনার প্রাণ সংশয় হওয়ার চান্স বেশি। আর ছেলে সে তো মরেই গেছে, এখন কে বা কারা মেরেছে সেটা বের করে ওনার লাভ নেই বরং আরিশ খানের কথা অনুযায়ী উনার বিপদ। তাই নিজের কথা চিন্তা করে গলার স্বর নিচু করে বললেন,
‘আমি আমার পজিশন চাই!
‘আরে বাহ, ভেবেছিলাম প্যাসলাপেছলি করবেন। যাইহোক আপনার ডিসিশনটা ভালো। এবার আপনি আসতে পারেন। আরিশ কথাটা বলতে, মিজান খান তৎক্ষণে উঠে ওকে সালাম জানিয়ে পার্টি অফিস থেকে চলে যেতে,আরিশ ও উঠে দাঁড়ায় বাসার উদ্দেশ্যে, তখন ওখানে থাকা সেদিনের এক পুলিশ কন্ঠ রিনরিনিয়ে বললো,
‘ব্যাপারটা এভাবে ধামাচাপা দিলেন? বিষয়টা যদি আপনার সাথে হত? উনার ছেলের জায়গায় যদি সেদিন আপনার বউ,,, —উনার বাকি কথা ওনার মুখেই সীমাবদ্ধ হলো, কারণ উনার কথা মুখে থাকতেই আরিশ ঘুরে উনার পা বরাবর গুলি করে।
‘ঠাসসস,,
‘আহহ,, বলে লোকটা পায়ের অংশ চেপে ধরে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়তে কাত্রড়নো কণ্ঠে বললো,
‘সামান্য কথায় গুলি করলেন? আমার বাড়িতে বউ বাচ্চা সবই আছে, তাদেরও তো আমি ভালোবাসি। এখন তাদের ভবিষ্যৎ কে দেখবে?
লোকটার কাএড়ানো কথায়, আরিশ লোকটার পায়ের কাছে হাটু ঘিরে বসে স্থিকি সরে বললো,
‘ভয় নেই মরবেন না, তবে সাবধান বউ মানে আমার পুরো দুনিয়ার সবটা, তাকে ছোঁয়া কিংবা কিছু করার আগে আমাকে ক্রজ করতে হবে। তাই ভেবেচিন্তে কথা বলবেন। বলে রাফ পায় হেঁটে পার্টি অফিসে থাকা একজন লোকের দিক তাকিয়ে বলতে বলতে বের হয়ে গেল। — ‘উনাকে হসপিটাল নিয়ে যান। খরচ আমি পাঠিয়ে দিব। বলে চলে আসতে, সেখানে থাকা প্রতিটি মানুষ সরু চোখে তাকালো ওর পথ গমনে। আরিশ খান মানুষটাই এমন কাউকে পরোয়া করে না। সেখানে তাকে পার্সোনাল অ্যাটাক করা মানে নিজের পায়ে কুড়োল মারা।
“খান বাড়ির আনায় কোনায়, অতীত জনের ভিড় যেন এক জায়গার হয়েছে। হবে না? ইভার হলুদ সাজ কমপ্লিট করে পার্লার থেকে ফেরার সাথে সাথে ওকে সোজা স্টেজে বসিয়ে হলুদের আয়োজন শুরু করেছেন। তাই সবার ভিড় স্টেজ জুড়ে। কর্তীরা তো সব জয় জগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। খান বাড়ির বিয়ে, কোম আয়োজন? বরঞ্চ এ বাড়িতে প্রথম আনুষ্ঠানিক আয়োজন সহকারে প্রথম বিয়ে বলতে কথা। ইভা কে স্টেজে একা বসিয়ে ফারি তানিশা সুচি সব একসাথে উধাও। এক একজন কোন কোনায় নাপাত্তা হয়ে আছে কে জানে?
ফারি লম্বা চুল গুলো মাজ সিঁথি করে খোলা রেখে সিঁথিতে গোলাপ প্লাস গাধা ফুলের সংমিশ্রণের টিকলি, হাতে হলুদ চুড়ি গলায় হলুদ সেট কানে সেম কালার দুল, uk ডল সাজে সবমিলিয়ে যেন আজ তাকে সুন্দর রাজ্যের রানী লাগছে। ফারি হাতে দুটো ভারী বক্স নিয়ে সামনে পা রাখতে দেখা হয় লুসিয়ান এর সাথে, সাদা রংয়ের টি শার্ট কালো হাফ প্যান্ট হাটু পর্যন্ত। অগোছালো চুল, অতিরিক্ত ফর্সা শরীর,চোখ গুলো কেমন ভিতরে ঢুকানো দেখেই বোঝা যাচ্ছে বিদেশি বিদেশি ভাব। সব মিলিয়ে গুলুগুলু
— ‘উফ একদম পারফেক্ট। ফারি লুসিয়ানকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার মধ্যে লুসিয়ান বলদ মার্কা হাসি দিয়ে বললো,
‘তময় দখত অনাক সন্দর লগছ।
‘মানে? ভ্রু কুঁচকে।
‘সন্দর লগছ।
ফারি লুসিয়ানের অদ্ভুত বাংলায় দাঁতে দাঁত চেপে হালকা চেঁচিয়ে বললো,
‘হাঁদারাম ওটা, সুন্দর হবে সন্দর না।
লুসিয়ান বুঝলো এখানে তার বাংলা বালা সম্ভব না, তাহলে এই মেয়ে বিয়ে বাড়িতে তার মান-ইজ্জতের ফালুদা বানিয়ে দিবে। তাই এবার ফিটফাট বিদেশিদের মত ভাবসাব নিয়ে বললো,
‘মেবি আই ক্যান্ট স্পীক বাংলা প্রপারলি, বাট ইউ কুড অ্যাট লিস্ট টিচ মি ইনস্টেড অফ সেয়িং ইট লাইক দ্যাট।
~অর্থ (হয়তো বাংলা ঠিকভাবে বলতে পারি না, তাই বলে এভাবে না বলে আমাকে একটু শিখালেও তো পারো?)
ফারি ভ্রু কুঁচকে তাকালো লুসিয়ানের মুখের দিক, এতক্ষণ লুসিয়ান বাংলা পারছিল না বলে, তা কে কিভাবে কথা শুনালো, এখন সে তার বলা ইংলিশ বাক্য ঠিকভাবে বুঝতে পারল না। এখন কি উত্তর দিবে? ভেবে পাচ্ছে না, কারণ সে ইংলিশে ততটা পারদর্শী নয়। মোটামুটি বইকি চলে। ফারিকে কাচুমাচু করে দাঁড়াতে দেখে লশিয়ান ফারির দুই বাহু আস্তে করে ওর দিকে ঘুরিয়ে শুধালো,
‘হুয়াই আরেন্ট ইউ টকিং বিউটি?
~অর্থ(কথা বলছো না কেন সুন্দরী)
ফারি এবার কিছুটা হলেও বুঝলো, লুসিয়ান কি বলতে চাইছে। তাই মাথাটা নিচু করে মেকি সরে বললো,
‘আসলে আমি আপনার প্রথম কথাটা সঠিকভাবে বুঝতে পারিনি, আমি ইংলিশে ততটাও ভালো না। বলতে পারেন মোটামুটি।
‘সমোরসা নই। তমি অমকে বাংলা সিকাভে অমি তমকে ইংলিশ সিকাভো।
‘আপনি তো বিয়ের পর চলে যাবেন? তাহলে বাংলা শিখে কি করবেন? তাছাড়া আপনাদের দেশের মেয়েদের তো বাংলা শিখার প্রয়োজন হবে না! মুখটা ছোট করে।
‘ইফ ইউ সে সো, আই উইল স্টে-ইফ ইউ ওয়ান্ট মি টু, আই উইল স্টে ফরএভার।
~অর্থ (তুমি বললে থেকে যাব, থাকতে চাইলে আজীবন রেখে দিব)
লুসিয়ানের দুটো শিকরোক্তি কথা যেন ফারির হৃদয় থমকালো। ছল ছল নয়নে লুসিয়ানের দিক তাকাতে লুসিয়ান চমৎকার হেসে ফারিকে আরেকটু কাছে টানলো। লুসিয়ান সম্পূর্ণ বিদেশী একটা ছেলে যার দরুন ফারির সামনে তাকে দানব আকৃতির লাগছে,ফারির উচ্চতা ৫ ফিট ৩ ইঞ্চি। আর লুসিয়ান ৬.২ইঞ্চি। যার দরুন ফারির মাথা এসে পড়ল লুসিয়ানের বুকের এক ইঞ্চি নিচ বরাবর। লুসিয়ান ফারিকে একদম কাছে আনলে ফারির হার্টবিট কেমন দ্রুত চলতে শুরু করল। তবে লুসিয়ান স্বাভাবিক তার কোন কাপাকাপি নেই, বরং সে ফারির মায়াময় মুখটা একটু উপরের দিক তুলে বললো,
‘ইউ ডিডন্ট আন্সার?
~অর্থ (উত্তর দিলে না যে)
‘আমার বলায় কিবা আসবে যাবে?
‘উইল ইউ ম্যারি মি?
লুসিয়ানের ডাইরেক্ট কথায় ফারি মাথাটা নিচু করে নিতে লুসিয়ান বললো,
‘ডোন্ট ইউ লাইক ফরেন বয়েজ?
~অর্থ (তোমার না বিদেশি ছেলে পছন্দ)
‘আপনি কিভাবে জানলেন?
‘শে অমি যবাবই জনি তমার উত্তরটা ভোলো!
‘দুদিনে কিভাবে পছন্দ করলেন আমাকে?
‘পিপল মিট জাস্ট ওয়ান্স, ফিক্স এ ডেট অ্যান্ড গেট ম্যারিড, দেন দে গেট টু নো ইচ আদার অ্যান্ড বিল্ড আ লাইফ টুগেদার। আই’ভ সিন ইউ ফর জাস্ট টু ডেইজ কান্ট উই অলসো হ্যাভ আ লাইফ লাইক দ্যাট?
~অর্থ (মানুষ তো একবার দেখে ডেট ফিক্স করে বিয়ে করে, তারপর দুজন দুজনার চেনাজানা হয়। তাদের একটা সংসার হয়। সেখানে তোমাকে দুদিন ধরে দেখলাম, আমাদের কি সংসার হওয়া সম্ভব নয়?)
‘কিন্তু আপনার আম্মু আব্বু,,
‘তুমি শুধু হ্যাঁ বলো বাকিটা আমার বাবা-মাই দেখে নিবে,,,
Continue,,,
#violent_love
Mariam_akter_juthi
#পর্বঃ৩৪(এর শেষ অংশ)
🚭(রাজনীতি+পজেসিভ+রোমান্টিক+টক্সিক লাভ স্টোরি)
“চারিদিকে হইচই, এর আওয়াজে জুথি আর ঘরে বসে থাকতে পারলো না, আরিশ গেছে প্রায় দেড় ঘন্টা হতে চলল, সেই তখন থেকে ঘর বন্দী হয়ে আছে। আর কতক্ষণ থাকা যায়? এখন নিচ থেকে সাউন্ডবক্সের, উরাধুরা লিরিক্স গান শুনে বুঝতে বাকি থাকে না নিচে কাজিনমহলরা নাচ গান শুরু করে দিয়েছে। এখন সেখানে না গেলে সবকিছু মিস করবে,তাই আর নিজেকে রুম বন্দি না রেখে, আর একবার আয়নার সামনে নিজেকে দেখে, দরজাটা খুলে দ্রুত পায়ে হেঁটে সিঁড়ি বরাবর আসতে থামতে হয় সানজিদা খানের পিছু ডাকে।
‘মৌ!
‘জি বড় আম্মু!
‘তোমার সাথে কথা ছিল, আমার সাথে আসো।
জুথি সানজিদা খানের কথায় একবার নিচে তাকালো, দেখে সবাই স্টেজের সামনে যাচ্ছে। অতঃপর তপ্ত নিশ্বাস ফেলে বাধ্য মেয়ের মত ওনার পায়ের সাথে পা মিলিয়ে রুমে আসতে, সানজিদা খান ওকে বসতে বলে আলমারির কাছে গিয়ে দুটো বক্স বের করে, জুথির পাশে বসে বক্সগুলো খুলে ওখান থেকে এক জোড়া, মোটা দু বড়ি স্বর্ণের প্লাস হীরার পাথর মিশ্রিত সেপ ডিজাইনের রুলি বের করে ওর হাতটা তুলে দুহাতে পরিয়ে বললেন,
‘এগুলো তোমার, কখনো খুলবে না।
‘এগুলো তো অনেক ভারী।
‘সামলাতে শেখো!
সানজিদা খানের কথায় জুথি সেদিনের আরিশের পরানো বালাটার দিকে তাকিয়ে নম্র কন্ঠে বললো,
‘কিন্তু উনি তো এই বালাটা আমাকে সেদিন পরিয়ে খুলতে নিষেধ করেছিলেন, এখন,,, — ওর কথার মধ্য সানজিদা খান ওর পা দুটো ওনার কোলের মধ্যে নিয়ে দুটো স্বর্ণের ডায়মন্ড পাথর দিয়ে ডিজাইন করা একজোড়া নুপুর পরিয়ে দিতে দিতে বললেন,
‘কিছু বললে, বলবে আমি খুলে দিয়ে এটা পরিয়ে দিয়েছি।
তৎক্ষণে জুথি সানজিদা খানের কোল থেকে পাটা সরিয়ে আনতে চেয়ে বললো,
‘কি করছো বড় আম্মু? আমার পা তোমার কো, – ওকে সম্পূর্ণ শেষ করতে না দিয়ে সানজিদা খান দৃঢ় কন্ঠে শুধালেন,
‘আমাকে বড় আম্মু বলে ডাকবে না।
জুথির মুখটা তৎক্ষণে ছোট হয় আসে, তার বড় আম্মু বলছে, তাকে বড় আম্মু বলে না ডাকতে? কি দোষ তার? জুথি কে মাথা নিচু করতে দেখে সানজিদা খান নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,
‘আজ থেকে মা ডাকবে! পারবে না?
জুথি নিচু মাথাটা তুলে সানজিদা খানের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বললো,
‘মা ডাকবো?
‘হুম। — বলে গোল মাঝারি বক্স থেকে ছোট ডায়মন্ড পাথরের স্বর্ণের নাকফুল বের করে জুথি কে তারা দিয়ে বললেন,
‘নাকের ওটা খোলো, এটা পরিয়ে দিচ্ছি।
জুথি সানজিদা খানের কথায় ওনার হাতের দিক তাকাতে দেখে, বেশ মোটামুটি বিবাহিত নারীদের মতো ডায়মন্ড স্বর্ণের নাকের তা জলজল করছে। এটা পরলে নিশ্চিত ওকে বিবাহিত লাগবে, তাই কন্ঠটা চাপিয়ে বললো,
‘এটাই তো ঠিক আছে, ওটা পড়লে কেমন বুড়ো টাইপের লাগবে না?
‘যেটা বললাম, সেটা করো না।
“ব্যাচারির কি আর করার? যেহেতু সানজিদা খান বলেছেন এখন না চাইলেও পড়তে হবে। তাই নাকের ছোট নাক পিনটা খুলে রাখতে সানজিদা খান নিজেই পরিয়ে দিলেন। অতঃপর ওকে দাঁড়া করিয়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখতে দেখতে বললেন,
‘নাও,পারফেক্ট আছে।
জুথি ছোট ছোট পায়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়াতে দেখে আজ ওকে একদম ওর মা চাচীদের মত লাগছে। উনারাও এমন মোটা মোটা ভারী গহনা পড়ে থাকেন। অতঃপর নিজেকে সম্পূর্ণ দেখে আনমনেই বিড়বিড় করে বললো, —‘আমাকে তো পুরো বউদের মত লাগছে, কেমন বুড়ো টাইপের লোকেদের মত সাজিয়ে দিল। এসব নিজের মনে বিড়বিড় করে ঘুরে সানজিদা খানের দিক তাকিয়ে বললো,
‘আমি নিচে যাই?
‘হুম। – উনার হুম বলার সাথে সাথে জুথি দরজা পর্যন্ত যেতে উনি আবারও ডেকে বললেন,
‘মৌ শোন!
‘হ্যাঁ বড় আম্ম, বলতে নিয়েও থেমে বললো –‘ মা বলো?
‘সন্ধ্যার পরে তো কিছু খাওয়া হয়নি, দুপুরেও খেতে যাওনি, টেবিলে খাবার রাখা আছে, আগে খাবে তারপর স্টেজের ওখানে যাবে। ওয়াডার দেওয়ার মতো করে কথাটা বললেন।
জুথি যেতে নিয়েও দৌড়ে এসে সানজিরা খানের গলা জড়িয়ে বললো,
‘মা তোমায় একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
‘হুম।
‘তুমি কি বকা দিবে?
‘বলো!
‘আমি তো ওনাকে ভালবাসতাম, উনার জন্য সবকিছু সহ্য করে নিতাম। কিন্তু বিগত কিছুদিন ধরে উনার প্রতি অতিরিক্ত দুর্বল অনুভব হয়, ওনার প্রতি অন্তর থেকে কেমন অদ্ভুত টান অনুভব করি। উনি ছাড়া প্রতিটা মুহূর্ত কেমন খালি খালি লাগে, কেন এমনটা হয় মা?
জুথির কথায় সানজিদা খান মুচকি হেসে ওর মাথায় চুমু খেয়ে,বললেন,
‘এটাতো হওয়ারই কথা, প্রণয়নের টান যে! সেটা আল্লাহর তরফ থেকে স্বামী স্ত্রী দুজনের হৃদয় তৈরি করে দেন।
জুথি চমকালো অবিশ্বাস্য চোখে মাথাটা একটু উঁচু করে সানজিদা খানের মুখটা দেখল, সত্যি কি ওর বড় আম্মু ওকে চুমু খেলো? জুথি কে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে উনি বললেন,
‘একজন মেয়ে, মা ব্যতীত আর কাকে মা বলে ডাকে? আর কেনই বা ডাকে?
জুথি সরু চোখে তাকিয়ে নম্র স্বরে বললো,
‘ওই ব্যক্তির ছেলের সাথে যখন মেয়েটার বিয়ে হয়!
‘এগজ্যাক্টলি! বিয়ে’ বিয়ের পর একটা মেয়ের হৃদয়ে আল্লাহ তায়ালা অদৃশ্য যাদুর মত এক মায়া সৃষ্টি করে দেন স্বামীর প্রতি। আর তোমারও এজন্যই আরিশের প্রতি এমন অনুভূতি হয়।
‘মানে?
‘সেদিন রাতের কথা মনে আছে? ঐদিন তোমাদের বিয়ে হয়েছে।
জুথির মুখে খুশির ঝলক দিয়ে উঠলো সানজিদা খানের কথায়, তাহলে তার ধারণাই ঠিক, সেদিন সত্যি তার বিয়ে হয়েছিল? আরিশ ভাই তার স্বামী? স্বামী কথাটা মনে হতেই কয়েকবার বিড়বিড় করে আওড়ালো অতঃপর উনাকে আবারও জড়িয়ে ধরে লজ্জা লজ্জা ভাব টেনে বললো,
‘শাশুড়ি আম্মু!
‘হুম।
‘উনি যে আমার স্বামী উনার প্রতি ভালোবাসা থাকলেও উনার প্রতি ভয় জিনিসটা কমে না কেন আমার?
‘সময়ের ব্যবধানে ঠিক হয়ে যাবে!
____________
“চারদিক লাইটিং এর স্বচ্ছ আলোয়, হলুদ শাড়িতে uk সাজ ফর্সা মুখোনিতে তানিশাকে যেন দোকানে সাজিয়ে রাখা পুতুল গুলোর মত লাগছিল, আয়ান বার কয়েক তানিশাকে পর্যবেক্ষণ করে, নিজেকে আর স্থির রাখতে পারল না। সাউন্ড বক্সের দায়িত্ব ওখানে থাকা একটা ছেলেকে দিয়ে, উঠে দাঁড়ালো প্রিয়সির নিকট যাওয়ার উদ্দেশ্যে। তানিশার হঠাৎ স্টেজের সামনে চোখ পরতে দেখে আয়ান ঘোর লাগা দৃষ্টি নিয়ে ওর দিকে কেমন করে এগিয়ে আসছে। এটা দেখে তাড়াহুড়ায় চেয়ার থেকে উঠে, দৌড়ে চলে যেতে নিলে আয়ান খপ করে পিছন থেকে হাতটা ধরে একটানে বুকের উপর ফেলে হিসহিশিয়ে বললো,
‘সেজেছো ভালো কথা, আমার সামনেই কেন বাচ্চাদের মত কাচুমাচু করতে থাকো? বোঝো না আমি ঠিক থাকতে পারি না?
‘দেখুন স্টেজ জুরে অনেক মানুষ আছে, এভাবে দেখলে মানুষ খারাপ ভাব,,
‘বুঝতে পেরেছি, অনেক শখ তোমার’ তোমার সবকিছু আমাকে দেখানোর, চিন্তা করো না বেশি দিন অপেক্ষা করাবো না তার আগে,, ততক্ষণে তানিশা দুহাত দ্বারা পা দুটো উঁচু করে আয়ানের মুখ চেপে ধরে বললো,
‘চুপ করুন, এত নির্লজ্জ কেন আপনি?
তৎক্ষণে গমগম কন্ঠে চেপে রাখা হাতের নিচ থেকে শোনা গেল,
‘বউ যদি সারাদিন সামনে ঘুরঘুর করে, তাহলে কি স্বামী নিজেকে ঠিক রাখতে পারে?
তানিশা বুঝলো, এই লোকটার সাথে পেরে ওঠা সম্ভব না। তাই মুখের চেপে রাখা হাতটা সরিয়ে আবার চলে আসতে নিলে আয়ান তাৎক্ষণে ওকে হুট করে কোলে তুলে স্টেজের সামনে যেতে যেতে একটু ঝুঁকে ওর নাকে নাক ঘষে বললো,
‘পালাই পালাই করা অভ্যাসটা বন্ধ কর, এখন আমরা কপাল নাচ করবো!
‘আল্লাহ, লজ্জা লাগছে! আমাকে নামান প্লিজ।
‘সবাইকে দেখাতে হবে তো, খান বাড়ির ছোট ছেলের বউকে? – বলে লিরিক্সের থাকা ছেলেটির দিক তাকিয়ে রোমান্টিক গান ছাড়তে বললে,
Hum teri mohabbat mein..
yun pagal rahte hain…
Deewane bhi ab humko
deewana kehte hain…
ছেলেটা গান চালু করতে আয়ান তানিশার দিক করা চোখে তাকিয়ে বললো,
‘এখন যদি ঠিক মত নাচ না করো, তো স্টেজে সবার সামনে চুমু খাব!
কি আর করার? এমন হুমকি দিয়েছে, এখন না চাইলেও নাচতে হবে তার সাথে। তাই গানের সাথে তাল মিলিয়ে দুজনে নাচার মধ্য বেশ ঘনিষ্ঠ হয়েছে কয়েকবার, ওদেরকে এভাবে কপাল নাচতে দেখে কাজিন মহল প্লাস সমবয়সী ছেলেমেয়েরা সবাই একটু জোরেই চেঁচিয়ে উঠলো, জিও জিও বলে। সবার এমন উৎসাহ পেয়ে আয়ান মুচকি হেসে, আরেকটু তানিশার কাছে ঘিষতে তানিশা লজ্জায়, ওর শাড়ি খামছে ধরল। এর আগে মনে হয়, এমন বিব্রস্থ অবস্থায় আর কখনোই পড়েনি ও। ওদেরকে কাপল নাচ করতে দেখে লুসিয়ান মুচকি হেসে ফারির কাছে এগিয়ে ওর হাত চেপে স্টেজে উঠলো। যদিও লুসিয়ান সেভাবে নাচতে পারেনা, আর ফারি সেও তানিশের মত লজ্জায় মুখটা লাল হয়ে গেল। লুসিয়ান সে ওকে কিছু না বলেই এভাবে ডাইরেক্ট স্টেজে নিয়ে আসবে ভাবেনি, কিন্তু এখন স্টেজে উঠে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে মান সম্মান সব পাঞ্জা হয়ে যাবে। তাই যেটুকু পারলো দুজনে মিলে, মিলিয়ে নাচার চেষ্টা করল।
“তখন জুথি সানজিদা খানের সাথে কথা শেষ করে আসার সময় উনি আবারও খেতে বললে, ও হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে, আর কোন রূপ কথা না বলে হেঁটে চলে আসে খাবার টেবিলে। খিদে সংবরণের জন্য যতটুকু প্রয়োজন সেটুকু খেয়ে ডানে বামে না চেয়ে সোজা দৌড়ে স্টেজের কাছে যেতে দেখে। আয়ান তানিশা, লুসিয়ান ফারি কাপল ডান্স করছে। কি সুন্দর লাগছে দুই জুটিকে, জুথি অবাক চোখে তাকিয়ে থাকার মধ্য ওদের ডান্স শেষ হয়। আর ওদের নাচ শেষ হতে জুথির মুখ থেকে আফসোসের সুরে বেরিয়ে আসে,
‘ইস মিস করলাম!
ওদের ডান্স শেষ হতে মাইশা, মনি দৌড়ে গিয়ে,
Ishqam dilbar didi na, didi na.. গানটা ছাড়তে বলে উরাধুরা নাচতে শুরু করলো। ওদের তিন মিনিটের নাচ শেষ হতে পাশ থেকে, আয়ান কালো চশমা পড়ে জামা কাপড়ের উপরে লুঙ্গি পেঁচিয়ে অন্য হাতে লুসিয়ানের দিক লুঙ্গি ক্যাচ করতে সেও ডান হাতে, লুঙ্গিটা কেচিং করে হাটু পর্যন্ত প্যান্টের উপর পড়ে নিয়ে লুঙ্গি ড্যান্স গানটায় স্টেজে উঠে লুঙ্গি জাগিয়ে নাচ দিতে সবাই হু হু করে হেসে দিল। যদিও লুসিয়ান শুধু লুঙ্গিটা উপর নিচ করছে, কারণ তার নাচার কোন অভ্যাস নাই। ওদের এমন ডিজে নাচ দেওয়ার মধ্যে কোত্থেকে আরিশ ও ওদের মত লুঙ্গি পেঁচিয়ে উরাধুরা নাচ দিতে জুথি অবিশ্বাসে চোখে হা করে তাকিয়ে দৌড়ে গেল, স্টেজের উপর। জুথি গিয়েছে তো ভালো কথা, গিয়ে আয়ানের পরনের লুঙ্গিটা টেনে খুলতে নিলে, আইয়ান হঠাৎ এমনটা হওয়ার দরুন ঠাস করে চিৎ হয়ে পরে লুঙ্গি চেপে সামনের দিক তাকিয়ে জুথি কে দেখে ভ্রু কুঁচকে বললো,
‘কি করছিস বনু? আমার মান ইজ্জত!
কে শুনে কার কথা? জুথি আয়ানের পরনের লুঙ্গি টেনে খুলে ওদের মতো শাড়ির উপর পেঁচিয়ে বললো,
‘তুমি অনেক নাচ করেছো আয়ান ভাই! এখন আমি তোমার ভাইয়ের সাথে নাচবো তুমি বরং দেখো, — বলে আরিশের সামনে গিয়ে সুন্দর একটা হাসি উপহার দিয়ে, আরিশের মত লুঙ্গি জাগিয়ে জাগিয়ে মুখে লুঙ্গি ড্যান্স গানটা বিড়বিড় করে নাচতে লাগলো। ওদের লুঙ্গি ড্যান্স শেষ হতে কাজিন মহলের সব স্টেজে উঠে ‘চিকনে চামিলি চুপকে রাঙ্গলি, দুয়া খেলোসে আইয়ি.. সাড়ে তিন মিনিটের গানটায় একসাথে নাচ শেষ করে সবগুলো ক্লান্ত হয়ে একেকটা চেয়ারে এসে বসলো। এইবার বুড়ো বুড়িদের পালা! উনাদের নাচতে বলায় প্রথমে ওনারা নাচতে না চাইলেও ওদের জোরাজুরিতে জুথির নানা-নানী, ফারির নানী, রাদিফের নানা-নানী সবাই স্টেজে উঠে এমন নাচ দিল যা দেখে ছোট থেকে শুরু করে বুড়োরা না হেসে পারলো না। বিশেষ করে জুথির নানীর নাচ দেখে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার পালা। কি ভৌতিক স্টাইল নাচ। আরিশের নানা নানী কেউ বেঁচে নেই, ওর মামারা আর খালারা এসেছেন বিয়েতে। ওনাদের বিখ্যাত নাচ শেষ হতে জুথিদের নাটকের পালা এল, তাই ওরা ক্যাটাগরী অনুযায়ী যে যার সাজ দিতে মাঝ পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালো আরিশ। আরিশ কে দেখে জুথি কিছু বলবে তার আগেই আরিশ বললো,
‘মৌ কোন জামাই সাজবে না! ও তোদের নাটকের বউ হবে।
আরিশের এমন কথায় সবাই সবার দিকে তাকিয়ে, ফারি ভ্রু কুঁচকে বললো,
‘ও না হলে জামাই হবে কে?
‘কেন আমি!
‘তুমি? – চোখ দুটো বড় বড় করে।
আরিশ আর দাঁড়ালো না জুথির হাত ধরে স্টেজের দিক যেতে যেতে বললো,
‘জামাই বউ, আমি আর মৌ! তোরা কে কি সাজবি, তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আয়, গো।
কি আর করার? আরিশ ভাই তাদের সাথে অভিনয় করবে এটা ভাবতেই কেমন লাগছে। তবে ছেলের বাড়ি যেতে দেরি হয়ে যাবে বলে, ওদিকে যাওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি করে, ফারি মাদবর চাচা সাজল, ওর আব্বুর পাজামা পাঞ্জাবি পরে। সূচি সাফওয়ান খানের ফতুয়া লুঙ্গি পরে ঘটক সাজলো। তানিশা শালী, এভাবে পাট অনুযায়ী একেকজন একেকটা পরে চলে এলো আবারও স্টেজে। ওদের এমন সাজ দেখে চোখ কোঠায় উঠে গেল, সাফওয়ান খান, সাইফুল খানের, সাথে উনাদের কর্তীরা তো আছেন নি। ওনারা মুচকি হাসলেন, উনাদের ছেলে মেয়েরা যে এতটা আনন্দ করতে জানে, বিয়ের অনুষ্ঠান না পাতলে হয়তো জানাই হতো না।
ওরা রেডি হয়ে আসতে, জুথি আরিশের কাছে একটু ঘিঁষে ফিসফিসিয়ে বললো,
‘আপনি যে চলে এলেন অভিনয় করতে? জামাই এর অভিনয় পারবেন?
‘জানিনা!
জুথি আরিশের মুখে জানিনা শুনে, নিঃশ্বাস ছেড়ে আয়ানের আনা তখনকার একটা লুঙ্গি এনে ওর হাতে দিয়ে বললো,
‘নিন এটা পড়ুন, আর শার্টটা খুলুন!
‘কেন?
‘এটাই জামাই পড়া থাকবে!
‘আমি পারবো না!
‘তাহলে আমি আপনার বউ হব না!
‘বউ তোকে আমারই হতে হবে। গম্ভীর কন্ঠে।
‘তাহলে লুঙ্গি পরেন, শার্টটা খুলেন!
আরিশ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে দেখে, জুথি লুঙ্গিটা নিজেই আরিশকে কোনরকম পরিয়ে, গায়ের শার্ট টা টেনে খুলে ভিতরের সেন্ডেল গেঞ্জিটা টেনেটুনে ছিড়ে দম নিয়ে বললো,
‘এইবার পারফেক্ট!
জুথি আরিশের নতুন গেঞ্জিটা ছিড়ে ফেলতে, আরিশ রাগি চোখে তাকিয়ে দাঁত দাঁতের উপর চেপে বললো,
‘এটা কি করলি?
জুথি একটু বেশিই আবেগি হয়ে গিয়েছিল, সন্ধ্যা বেলার সানজিদা খানের কথায়, ও আরিশের এমন ডিপলি নরম ব্যবহারে। ওর মনেই ছিল না,আরিশ কতটা ডেস্পারেট গম্ভীর রাগী মানুষ। সেখানে ও কিনা আরিশের গেঞ্জিটা ছিঁড়ে দিল?
জুথি কে কাচুমাচু করতে দেখে, আরিশ বিরক্তির নিশ্বাস ফেলে ওর হাতটা টেনে কাছে এনে বললো,
‘একদম ঢং করবি না, বিরক্তি লাগে আমার।
তৎক্ষণে ফারি মাদবর চাচা নাটকটা প্লে করে, আরিশ কে তারা দিয়ে বললো, – ‘ভাই শুরু হয়ে গেছে, ব্যাস কথার তালে তাল মিলিয়ে সবগুলো অভিনয় শুরু করল।
‘আপনি চেইতেন মাদবর চাচা! চুপ কইরা বন.. আপনি চাইতেন না মাদবর চাচা। আর ওদের অভিনয়তে গড়াগড়ি করে হাসতে শুরু করলো বড়রা সবাই। শেষ পর্যায়ে এসে, যখন ফারি লুঙ্গি জাকিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলে, – ‘ আবে তুই শালায় মানুষ খারাপ লাঠির বাড়ি খা, বলে সবাই আরিশের পিঠে মারতে শুরু করলে জুথি দৌড়ে এসে কান্নার অভিনয় করে ফারির হাত ধরে বললো,
‘মারবেন না, মারবেন না,মাদবর গো, ও মাদবর মারবেন না মোর স্বামী রে, শোনেন মাদবর গো। আমাগোরে মাফ কইরা দেন। বলে নিচ থেকে আরিশ কে তুলে বাড়ি চলো বলে যেতে নিলে, আরিশ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নিজের ব্যক্তিত্বে ফিরে এসে স্টেজে বসেই জুথি কে কোলে তুলে সবার উদ্দেশ্যে একটু চেচিয়ে বললো,
‘দুনিয়া এক দিক, বউ এক দিক, বউয়ের খুশির জন্য মাঝে মাঝে নিজের খোলস ছেড়ে এমনটা হওয়া যায়। কারণ সবার ঊর্ধ্বে বউ, তাই আমি আমার মৌ কে নিয়ে গেলাম। – বলে কারো দিকে আর না তাকিয়ে, রাফ পায়ে হেঁটে ভিতরে চলে গেল।
Continue,,,

