#প্রিয়_নীলপদ্ম —১৯.
#মুশরাফা_মিরা
[কোনো প্রকার কপি করা নিষিদ্ধ]
ছোটবেলা থেকেই নৌমির ভূতে ভয় ভিষণ। কখনো ভুতের কথা,গল্প শুনলে সেদিন তার পাশে কাউকে না কাউকে ঘুমাতেই হতো।ছোটবেলার সেই ভুূতের ভয়টা এখনও রয়ে গেছে।তারউপর একা রয়েছে এ বাড়িতে। ভয়টা আজ একটু বেশিই পেয়েছে ও! অবশ্য ভয় পাওয়ার কারনও আছে।সাদা রঙের কাপড়ে পুরো শরীর মোড়ানো সামনে থাকা মানুষটির।মুখের উপর ভূতের মাক্স লাগিয়ে দাড়িয়ে আছে।আকাশ গর্জে উঠে হঠাৎ হঠাৎ জ্বলে ওঠে ভুতুড়ে মাক্স পরিহিত মানুষটির চেহারা। হূট করে এমন কিছু দেখলে ভয় পাবে না?অবশ্যই পাওয়ার কথা!নৌমি এখনও চোখ বুজে আছে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে।সামনে দাঁড়ানো মানুষটি বুঝলো নৌমি ভিষণ ভয় পেয়েছে তাই আর এই বেশভূষা ধারণ না করে খুলে ফেললো তা ।ভিজে শরীর নিয়ে দু কদম এগিয়ে আগলে নিলো নৌমির গালজোড়া।কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,
‘ভয় পেও না নৌমি।আমি ছিলাম ওটা!’
স্পর্শ, কন্ঠ শুনে নৌমির আর বুঝতে বাকি নেই যে মানুষটি কে।রাগ হলো ওর এভাবে কেউ কাউকে আতঙ্কিত করে?সহসাই নিজের হাতের পাশাপাশি তূর্যের হাতদুটো ছিটকে দূর সরিয়ে দেয় বলে,
‘আপনি.. আপনি জানেন আমি কত ভয় পেয়েছিলাম? এভাবে কেউ মজা করে?আপনি ভিষণ খারাপ!’
‘আ-হা! বুঝি কিভাবে বলো?এমনিতে সারাক্ষণ চটপট চটপট করা মেয়েটা যে এভাবে ভয় পায় ভূতে তা আমি কিভাবে বুঝবো?একটু সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম তোমার। অথচ দেখো এমন জোরে চিৎকার দিলে যে আমিই সারপ্রাইজড হয়ে গেছি।কানে তালা লেগে গেছে একপ্রকার!’
নাটকীয় ভঙ্গিতে নিজের কানে ভিতরে আঙুল দিয়ে নড়াচড়া করতে করতে বলে তূর্য।নৌমি মুখ ভেংচায়।রাগ হচ্ছে ওর এভাবে ভয় দেখানোতে তবে তূর্যের পানে চেয়ে দেখে আগাগোড়া ভিজে চুপ চুপে হয়ে আছে। ফ্রেশ হওয়া দরকার না হলে আবার কখন জানি ঠান্ডা লাগে।তাই ওকে কথা বলতেই হলো।
‘হয়েছে আর নাটক করতে হবে না, আপনি পাস!দেখি ভিতরে আসুন। আমি পানি গরম করে দিচ্ছি। তারাতাড়ি গোসল সেরে নিন তো,আসুন।’
নিজে পাশে সরে তূর্যকে ভিতরে আসার জায়গা করে দেয় ও।তূর্য নিজের অবস্থা দেখে আর কিছু বলে না। আসলেই প্রায় সবটাই ভিজে গেছে ও।কাপড় বদলানো দরকার। তাই দেরি না করে সোজা চলে যায় উপরে। আর নৌমিকে বলে যায়,
‘পানি গরম করতে হবে না তোমায়।তুমি বরং খাবার সাজাও।দুপুরে খেয়েছি আর খাওয়া হয়নি।বড্ড খিদে পেয়েছে আমার।’
নৌমি সাদা রঙের কাপড়টি আর ভূতের মাক্সটি হাতে উঠিয়ে হাসে।লোকটা আসলেই পাগল না হলে কেউ রাতবিরেতে এভাবে মজা করে?ওগুলো একপাশে রেখে রান্না ঘরে ঢোকে।একজনের জন্য খাবার এনেছে ও।চাইলে দুজনেই ভাগ করে খাওয়া যায় তবে তূর্যের খিদে পেয়েছে বেশি এখন ভাগ করে খেলে হবে না।তাই অল্প সময়ের মাঝে আগে থেকে রান্না করা ভাত ভেজে নিলো আর মেরিনেট করা মুরগির মাংস ভেজে নিলো।
সিড়ি ভেঙে তূর্য নামতে নামতে নাকে রান্নার সুবাস আসে।তাই আগে রান্না ঘরে উঁকি দিয়ে বলে,
‘কি করছো?এতো আয়োজন করতে কে বলেছে তোমায়?’
‘চুপ করে আপনি গিয়ে বসুন টেবিলে চিকেন ফ্রাই করা শেষ প্রায়। এক্ষুনি খাবার সার্ফ করছি।’
বাধ্য বরের মতো মেনে নিলো বউয়ের কথা। চুপচাপ গিয়ে বসে পরে টেবিলে।নৌমি খাবার সাজিয়ে নিয়ে আসে টেবিলে। চাইনিজ প্ল্যাটারও রাখে তূর্যের সামনে বলে
‘বলুন কোনটা খাবেন? বাহিরে গিয়েছিলাম তাই এইসব এনেছি। এগুলো খাবেন নাকি মাত্র যা করলাম তা খাবেন?’
‘ওসব বাহিরের খাবার আমি খাবো না।আমার বউয়ের হাতের রান্না খাবো।’
হেসে নৌমি ভাত ভাজা আর চিকেন ফ্রাই তূর্যের প্লেট উঠিয়ে দিয়ে নিজেও খেতে বসে।
‘আপনি না তখন বললেন কাজে ব্যস্ত তাহলে হঠাৎ আসলেন কিভাবে? মিথ্যা বলে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলেন তাই না?’
তূর্য নৌমির ঠোঁটের পাশে লেগে থাকা খাবার নিজের মুখে পুরে বলে,
‘কে বলেছে নৌমির মাথায় বুদ্ধি নেই? এইতো কত বুদ্ধি তোমার! সকালে একজন মন খারাপ করে জানিয়েছিলো সে আমায় মিস করে
ভাবলাম চলেই আসি।ওদিকেও তেমন কাজের প্রেশার নেই। গতবারের ছুটিতেও তেমনভাবে থাকতে পারিনি।তাছাড়া বাড়ি ফাঁকা আমার বউটার সাথে একান্ত সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছি। সবমিলিয়ে চলেই আসলাম!’
নৌমি তূর্যের কথার মানে বুঝে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরলো।পুরুষটার মনের বাসনা ওর জানা।অবশ্য ও নিজেও চায় না কোনো দূরত্ব রাখতে নিজেদের মাঝে অনেক তো হলো এবার না হয় সংসার হোক ওদের।নৌমিকে চুপ হয়ে বসে থাকতে দেখে তূর্য বলে,
‘কি হলো?পাথর হয়ে গেলে কেন?আরে চিন্তা করো না তোমার অনুমতি ছাড়া স্পর্শ করবো না তোমায়।খাও তো..খাও!’
নৌমি ঘাড় বাঁকিয়ে তূর্যকে দেখলো।মুখে কিছু না বললেও মনেমনে বলে,
‘আপনার আমার সংসারের পথচলা আজকে থেকেই শুরু হবে জনাব।’
তূর্য শুনলো না ওর মনের কথা।নৌমির রান্না করা খাবার মজা করে খেয়ে উঠে গেলো।নৌমিকেও আসতে বললো তারাতাড়ি সব গুছিয়ে।
__________
অসময়ের বৃষ্টি থামছেই না। সময়ের তালেতালে আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। নৌমি নিচের সকল কাজ গুছিয়ে নিয়ে তুলির সাথে কথা বলে নিলো।যতই হোক না কেন আত্মীয় তো!খোঁজ তো নেওয়া কর্তব্য ওর।কথা শেষে নিচের আলো নিভিয়ে সিড়ি ভেঙে তূর্যের রুমে আসলো।এটাই ওর যে ঠিকানা তাই আর নিজের ঘরে গেলো না।গিয়ে পুরো ঘর খালি দেখতে পেলো।কপালে ভাজ পরে ওর কোথায় গেলো তূর্য?ওয়াশরুমের দরজা হা হয়ে আছে অতএব ওয়াশরুমে নেই।বারান্দায়?দু পা এগুতেই শুনতে পেলো তূর্য ফোনে কথা বলছে।তাই ওদিকে আর গেলো না।সারাদিন কাজ..কথা ছুটিতে এসেছে তাও দুদণ্ড শান্তিতে বসতে পারছে না,উফ!বিরক্তিতে নৌমির নাকমুখ কুঁচকে গেলো।তবে সোফার দিকে চোখ পরতেই কপালের ভাজগুলো বিলীন হলো।
ভর করলো চোখমুখে বিস্ময়,কৌতূহল, জানার আগ্রহ কি আছে ওই সাদা রঙের আড়-ং এর ব্যাগটিতে?চঞ্চল পায়ে এগিয়ে গেলো সোফায় দিকে।হাতে তুলে নিলো ব্যাগটা।কৌতূহল বশত হাত ঢুকিয়ে বের করলো ব্যাগের ভেতরর কাপড়টা।শাড়ি!দেখেই নৌমির চোখ চিকচিক করে উঠলো।অধিকাংশ মেয়েদেরই শাড়ি পছন্দ নৌমিও তার ব্যতিক্রম নয়।তাও যদি হয়ে প্রিয় মানুষের কাজ থেকে পাওয়া শাড়ি তাহলে তো কোনো কথাই নেই।হাত বুলিয়ে দেখলো নরম কাপড়ের পাতলা লাল জর্জেট শাড়িটায়।মনে ধরলে ভিষণ।ব্যাগটা সোফায় রাখতেই ভিতর থেকে বের হলো একটা কাগজের টুকরো।বিস্ময় এর পরে আরেকটা বিস্ময় যে ওর জন্য অপেক্ষা করছে তা নৌমি জানতো না।একটু ঝুঁকে তুলে নিলো নিচ থেকে কাগজটি।শাড়িটি কাঁধের উপর রেখে দু’হাতে খুললো কাগজের ভাজ।দেখা মিললো দু-তিন লাইনের বাক্য
‘বউজান যেদিন আপনার আমার মাঝে আর কোনো দূরত্ব থাকতে না।যেদিন আপনি আমায় মেনে নিবেন,অনুমতি দিবেন আপনাকে স্পর্শ করার—অনুরোধ রইলো এই শাড়িখানা সেদিন গায়ে জড়াবেন।এই ইচ্ছে আমার বহুদিনের আপনাকে শাড়িতে দেখার, আশা করি তার মান রাখবেন’
আবেগে আপ্লূত হয়ে চিরকুটটা বুকের সাথে মিলিয়ে নিলো নৌমি।তূর্যের এই আদর মাখা চিঠিটা ওর চোখে পানি এনে দিলো। দৌড়ে বের হয়ো গেলো তূর্যের রুম হতে।কে জানে কি করবে এবার মেয়েটা!
_________
তূর্য কথা শেষে রুমে এসে কোথাও দেখলো না নৌমিকে।ও তো কিছুক্ষণ আগেও উপস্থিতি টের পেলো নৌমির তাহলে কোথায় গেলো আবার? তূর্য রুম ছেড়ে নিচে উঁকি দিলো তবে আলো নিভানো দেখে বুঝতে পারলো নিচে যায় নি নৌমি।তাহলে? ওর নিজের রুমে?কথাটা ভাবনায় আসতেই চোয়াল শক্ত হলো ওর।কেন যাবে নৌমি তূর্যের ঘর ছেড়ে নিজের রুমে?যেখানে তূর্য আগে থেকেই বলে দিছিলো একসাথে থাকার কথা।দাঁত কিড়মিড়িয়ে নৌমির ঘরের দিকে পা বাড়ালো।ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখে আরো রাগ হলো।মেয়েটা কি ওকে একটুও বোঝে না?চোখ বন্ধ করে আবার খুললো।শান্ত হতে পারছে না কিছুতেই।তাই বেশ জোরে করাঘাত করলো দরজায়।ডাকলো রাশভারি কন্ঠে
‘এই..এই মেয়ে দরজা খোলো।এক্ষুনি খুলবে।না হলে…!’
খট করে শব্দ হয়ে দরজা খুলতেই তূর্য হা হয়ে গেলো, কথা মুখেই রইলো।এ কাকে দেখছে ও?সাক্ষাৎ লাল পরী দাঁড়িয়ে ওর সামনে!লাল রঙের শাড়িটা নৌমির ফর্সা শরীরে বেশ মানিয়েছে।এই প্রথম নৌমিকে শাড়ি পরিহিত দেখলো ও।কথা তো আটকাবেই!নৌমির লজ্জা লাগছে খুব এভাবে শাড়ি পরে তূর্যের সামনে দাঁড়াতে।তখন আবেগ,ভালোবাসা এতোটাই জেঁকে ধরেছিলো ওকে যে শাড়ি পড়তে হবে এটাই ছিলো মূল কথা।তবে এখন এতো লজ্জা লাগছে ওর!তূর্যকে কিছু না বলতে দেখে নৌমি চোখ তুলে তূর্যকে মুগ্ধ চোখে ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে।
‘কি দেখছেন এতো?’
‘আমার ধ্বংস!’
ঘোরের মাঝেই কথাটা বললো তূর্য। নৌমি শাড়ির দুপাশ আঁকড়ে ধরলো তূর্যের এমন কথায়।তূর্য নৌমির দিকে চোখ রেখেই রুমে ঢোকে।বা হাতে বন্ধ করে রুমের দরজাটা।নৌমি পিছিয়ে যায় তূর্যের এগোনোতে।বেশি দূর যাওয়া হলো না ওর।তূর্য হেঁচকা টানে নিজের কাছে নিয়ে এলো নৌমিকে।এমন করাতে নৌমি হকচকিয়ে তাকায় তূর্যের হালকা বাদামি চোখের দিকে।দেখতে পায় তূর্যের অস্থিরতা। নৌমি চোখ সরায় ঠোঁট নাড়িয়ে উচ্চারণ করে কিছু কথা,
‘ছাড়ুন তূর্য’
‘উঁহু, শাড়ির পড়ার পাশাপাশি চিরকুট ও নিশ্চয়ই পড়েছেন?যেহেতু মেনেই নিয়েছেন আমার তাহলে আর ছাড়াছাড়ি কিসের? শাড়ি পড়ার আগে কেন ভাবেন নি যে তূর্য আমায় ছাড়বে না। কেন ভাবেন নি?যেহেতু বুঝেশুনেই শাড়ি পড়েছেন অতএব এ রাতে আমি ছাড়ছি না তোমায় বেগমজান!’
বলেই নৌমির গ্রীবাদেশে নাক ঘসলো তূর্য।নৌমির শ্বাস বেরে গেলো।ঠোঁট কাপছে, হাত কাঁপছে ওর।ছটফটিয়ে উঠলো কয়েক মুহূর্ত বাদে।তূর্য মাথা সোজা করে চাইলো চোখ বন্ধর লজ্জাবতীর পানে।মেয়েটা ওকে পাগল বানাতে চায়৷ তাই তো ঠোঁট দুটিও রাঙিয়েছে লাল রঙে।জানে না মেয়েটা এই..এই ঠোঁট দুটো ওর দূর্বলতা?অবশ্যই জানে আর জেনেশুনেই ওকে পাগল বানাতে চাচ্ছে। তূর্য শব্দ করে নৌমি গালে চুমু খেয়ে বলে,
‘আমায় পাগল বানানোর ধান্দা এগুলো তাই না বেগম সাহেবা?’
নৌমি চোখ খুলে মিনমিন করে উত্তর দিলো,
‘মোটেই না!আপনাকে পাগল বানাতে যাবো কেন?আপনি তো শুরু থেকেই পাগল!’
তূর্য শব্দ করে হেঁসে উঠলো।ওর হাসির শব্দ বদ্ধ রুমের দেয়ালে বাড়ি খেয়ে ফিরে এলো নৌমির কানে।তূর্য নৌমের কোমড়ে রাখা হাতের বেষ্টনী আরো দৃঢ় করলো।নৌমির নাকের সাথে নাক ঘসে বলে,
‘গভীরভাবে ছোঁয়ার অনুমতি চাই, মিসেস।এতোটাই গভীর যে আমার আপনার মাঝে একটুকরোও দূরত্ব থাকবে না,লিপস্টিকে রাঙা ঠোঁটে লিপস্টিকের চিহ্ন থাকবে না।দিবেন সে অনুমতি? অবশ্য শাড়ি পরেই অর্ধেক অনুমতি দিয়েই দিয়েছেন তবুও আপনার মুখে শুনতে চাই,বলুন। মুখে বলুন আপনার’
মুখে কিভাবে বলতে নৌমি?লজ্জা পায় না?জেনেই যেহেতু তাহলে আবার কেন এমন করছে ওর সাথে?কথা,কাজে সবভাবেই আজকে লজ্জায় ফেলছে তূর্য ওকে।তবে তূর্যের চোখমুখ দেখে ওর বোঝা হয়ে গেলো না বললে মোটেও ছাড়বে না ওকে তূর্য তাই বলে,
‘বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট জনাব!’
‘আমি মূর্খ, বুদ্ধি আমার হাঁটুর গোড়ায়। তাই তোমার ইশারা বুঝতে পারছি না।দয়া করে মুখে বুঝিয়ে বলো!’
তূর্যের চোখমুখে দুষ্টুমির ঝলক দেখে নৌমি চোখজোড়া ছোটছোট করে ফেলে।বদ লোক একটা!ওকে লজ্জায় ফেলার ধান্দা যত।নৌমি নিরুপায় হয়ে তূর্যের পায়ের উপর নিজের পায়ের ভর রেখে উঁচু হয়ে দাঁড়ায়। কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে কিছু গানের লাইন গেয়ে ওঠে,
আমার এ দেহের দখল
আমার এ রূপের সকল
তোমার দিলাম তাই
তুমি ছাড়া আর কেহ নাই
তূর্য নিঃশব্দে হাসলো বউয়ের এমন স্বীকারোক্তিতে।খুশি হলো ভিষণ। দু’হাতে ঝাপ্টে ধরলো নৌমিকে।মেয়েটাকে পিষ্ট করে ফেলবে একদম নিজের সাথে এমন ভাবে ধরে রেখেছে ওকে।নৌমি কিছু বলে না শুধু অনুভব করে তূর্যকে।কিছুক্ষণ পরে হাতের বাঁধন আগলা করে তূর্য নৌমির গালে হাত রেখে কপালে চুমু একে বলে,
‘আমার পিচ্চি,ঘাড়ত্যাড়া বউটাকে বড্ড ভালোবাসি’
‘আমিও জনাব’
তূর্য নৌমিকে তুলে নিলো পাঁজা কোলে এগিয়ে গেলো বিছানায়। নৌমি ভয়ে,লজ্জায় আঁকড়ে ধরলো তূর্যের গলা।মুখ লুকায় ওর বুকে।বিছানায় নৌমিকে রেখে বন্ধ করে ঘরের লাইটগুলো। ক্ষনে ক্ষনে আকাশ গর্জে ওঠার প্রাকৃতিক আলোয় দেখে তার একান্ত প্রিয়তমাকে।মেয়েটার চোখ বন্ধ। অজানা ভয়ে,আতঙ্কে কেঁপে ওঠে তার পুরো শরীর। ওঠানামা করে বুক!তূর্য দেখলো সবটা।নিজেদের মাঝের দূরত্ব ঘুচিয়ে শুরুতে নৌমির কপালে ঠোঁট ছোঁয়ায় পরে গালে এরপর নাকে।তারপর? ঠোঁটে বেশকিছুক্ষন আঁকড়ে ধরে রাখে নৌমির পাতলা,কোমল ঠোঁটজোড়া।নৌমি তূর্যের বেসামাল ছোঁয়ায় ছটফট করে ওঠে। পুরো শরীর কেঁপে ওঠে তার। তূর্য ঠোঁট ছেড়ে নৌমির গলায় মুখ গুজে বিরবির করে বলে,
‘ তোমায় আমি আগলে নিলাম খুব যতনে।কথা দিলাম থাকবো পাশে যতদিন আছি বেঁচে এ ভুবনে’
চলবে…?
[পর্বটা লিখতে গিয়ে বিরাট লজ্জা পাচ্ছিলাম পাখিরা।বারবার হাত থেমে গেছিলো তাই তো আজ দেরি হলো!তবুও দেখো বড় পর্ব দিয়েছি কিন্তু।রাগ করবে না একদম। কুট্টুস পাখিরা আমার আজকের পর্ব পড়ে অনুভূতি কেমন? জানাবে না আমায়? হ্যাপি রিডিং]

