#অবাধ্য_হৃৎস্পন্দন (৫০ = অর্ধশত)
#সোফিয়া_সাফা
উর্বী আর ফুল পা মিলিয়ে হাঁটছিল। অনিলা খানিকটা পিছিয়ে পড়ায় একা হয়ে পড়েছিল তাদের থেকে। ঠিক সেই মুহূর্তেই অনি অতর্কিতে সামনে এসে দাঁড়াল। আচমকা তার এই উপস্থিতিতে অনিলা রীতিমতো ঘাবড়ে গেল।
“অনিলা, তোমার সাথে কিছু কথা ছিল। একটু ওদিকে যাবে প্লিজ?” অনির প্রস্তাবে অনিলা বুকের ওপর হাত রেখে নিজেকে ধাতস্থ করে নিল। শ্বাস স্বাভাবিক করে বলল, “পেছন থেকে ডাকতে পারতে না? এভাবে এসে ভয় দেখানোর মানে কী?”
“সরি, শুনবে না কথা?”
অনিলা আর দ্বিরুক্তি না করে মাথা নেড়ে তার সাথে উল্টো পথে হাঁটা ধরল।
“অই কেয়ারফুল, শোনো না।” সোহমের ডাকে ফুল হাই তুলে পিছু ফিরল। সোহম দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে বলল, “তোমাকে কিছু কথা বলার ছিল।”
ফুল অনাগ্রহী ভঙ্গিতে চোখ উল্টে বলল, “হ্যাঁ, বলে ফেলুন।”
সোহম উর্বীর দিকে একনজর তাকিয়ে গলার স্বর নামিয়ে আনল। হাত উঁচিয়ে ফিসফিস করে বলল, “তেহুর বিষয়ে গোপন কথা বলবো। এখানে বলা যাবেনা, একান্তে বলতে হবে।”
ফুল তবুও আগ্রহ দেখাল না। বরং বেশ বিরক্তি মিশিয়ে বলল, “তার সম্পর্কে আমি আপনার থেকে কোনো কথা শুনতে চাইনা।”
সোহমের মুখটা ছোট হয়ে গেল, “কেন ডাউটফুল?”
“হ্যাঁ ডাউট, আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে যে আপনি তার ব্যাপারে যা বলবেন সত্যি বলবেন।”
সোহম যেন কথা খুঁজে পেল না। একটা ফাঁকা ঢোক গিলে করুণ স্বরে বলল, “আমি কি তোমাকে এপর্যন্ত কোনো মিথ্যা বলেছি?”
ফুল হাঁটা ধরে বলল, “সেটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই একবার জিজ্ঞেস করে দেখুন।”
তাকে চলে যেতে দেখে সোহম হড়বড়িয়ে গেল, “আমি যা বলব একদম সত্যি বলব। একবার শুনে তো দেখো।”
না চাইতেও ফুলের পা থেমে গেল। প্রসঙ্গ যখন উদ্যান তখন সে এত সহজে এড়িয়ে যেতে পারবে না। ফুল উর্বীর দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলতে চাইল, কিন্তু উর্বী তাকে সুযোগ না দিয়েই বলল, “আমি নিজের রুমে যাচ্ছি, তুমি কথা শেষ করে চলে যেও।”
ফুল মাথা নেড়ে সোহমের দিকে প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকাল। উর্বী রুমের সামনে আসতেই কেউ একজন তার হাত ধরে ফেলল। উর্বী চোখ তুলে রিদমকে দেখে এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিল। রিদম হতবিহ্বল হয়ে গেলেও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “আপনি বুঝতে পারছেন উর্বী? নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি ‘রিদম’ আপনার সাথে কিছুই করিনি। যা করেছে আমার টুইন ব্রাদার করেছে। তারপরও কেন এমন আচরণ করছেন?”
উর্বী মুখ ঘুরিয়ে নিল। কঠিন স্বরে বলল, “কারণ সবকিছুর জন্য আপনিই দায়ী। আপনার মুখটা আমার ভীষণ অপ্রিয়। আপনার দিকে তাকালেই আমার চোখের সামনে সেইসব দিনগুলোর বর্বরতার প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে যা আমি মনে করতে চাই না আপাতত।”
রিদমের চোখে অসহায়ত্ব ফুটে উঠল, “আপনি কি সারাজীবন আমাকে ঘৃণাই করে যাবেন? এই অপ্রিয়তা কি কখনো মিটবে না?”
“আমি এইমুহূর্তে বলতে পারব না। তবে আপনি আমাকে শহরে ছেড়ে দিয়ে এলে বড় উপকার হতো।”
“আপনি চলে যেতে চাইছেন?”
“হ্যাঁ, চলে যেতে চাওয়াটাই কি স্বাভাবিক নয়? আমি অতিদ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইছি।”
রিদম বাক্যহারা হয়ে পড়ল। কতকিছু যে বলতে চায় তার মন কিন্তু বলার মতো কোনো ভাষাই খুঁজে পাচ্ছে না। উর্বী চোখ বুজে দীর্ঘশ্বাস ফেলে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ল।
এদিকে ফুল অধৈর্য হয়ে বলল, “কিছু কি বলবেন আপনি? আর কতক্ষণ এভাবে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবেন? ঘুম পাচ্ছে আমার।”
সোহম মাথা নিচু করে বলল, “তুমি জেনে অবাক হবে যে তেহ বেশিরভাগ সময় চোখ খোলা রেখে ঘুমায়।”
ফুল কয়েক মুহূর্ত বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর তিক্ত স্বরে বলল, “ওহ! দারুণ তো! আমি সত্যিই খুব অবাক হলাম। ধন্যবাদ এই মহামূল্যবান তথ্যটা জানানোর জন্য। আপনি না বললে তো আমি জানতেই পারতাম না যে পৃথিবীতে এমন বিচিত্র ঘটনাও ঘটে।”
সোহম অপ্রস্তুত হয়ে বলল, “তুমি কি বিশ্বাস করলে না?”
“আরে না না, বিশ্বাস করবো না কেন? আমি নিজেও তো চোখ খোলা রেখে ঘুমাই। এই যে দেখুন এখনো চোখ খোলা রেখেই ঘুমাচ্ছি।”
সোহম হয়তো আরও কিছু বলতেই যাচ্ছিল তখনই রিদম টালমাটাল পায়ে তাদের পাশ কাটিয়ে চলে যেতে লাগল। ফুল তেছড়া চোখে তার দিকে তাকাল। একটু আগেই সে দেখেছে রিদমকে প্রবল বেগে দৌড়ে যেতে কিছুক্ষণের মধ্যেই কী এমন ঘটল যা রিদমকে তটস্থ করে দিয়েছে? সোহম কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে রিদমকে থামাল। চোখেমুখে উদ্বেগ নিয়ে শুধাল, “আব্বে ম’রার মতো হেঁটে যাচ্ছিস কেন? কথা বলতে পেরেছিস? কী বলল?”
রিদম নিষ্প্রাণ কণ্ঠে বিড়বিড় করল, “বলেছে শহরে রেখে আসতে।”
তাদের কথোপকথন শুনে ফুল এবার নিজেই এগিয়ে এল। আগ বাড়িয়ে বলল, “আপনি উর্বী আপুর সাথে কথা বলতে গিয়েছিলেন? আর এই যে আপনি…” সোহমকে উদ্দেশ্য করে, “এ কারণেই আমাকে ভুজুংভাজুং বলে আটকে রাখলেন?”
সোহম জোরপূর্বক হাসলো, “সরি মার্সিফুল। আসলে ও উর্বীর সাথে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেলতে চেয়েছিল।”
ফুল মুখ ভার করে বলল, “তো আমাকে সোজাসুজি বললেই পারতেন। আমি কি চাইনা উর্বী আপু সবটা বুঝতে পারুক? আমিও তো তাকে কয়েক বার সবকিছু খুলে বলেছি। সে বুঝতেও পেরেছে।”
এরপর রিদমের বিমর্ষ মুখের দিকে তাকিয়ে ফুল ধীরস্বরে বলল, “সে যখন চলেই যেতে চাইছে তখন রেখে এলেই ভালো হবে।”
সোহম বলল, “চাইলেই রেখে আসা সম্ভব নয় ফুল, তেহুর পারমিশন লাগবে।”
রিদম কুণ্ঠিত স্বরে বলল, “তুমি একটু তেহুর কাছ থেকে পারমিশন এনে দেবে?”
ফুল আকাশ থেকে পড়ল, “আমি?” মনে পড়ে গেল উদ্যান তার সাথে কথা বলা তো দূর ইদানীং তার দিকে ফিরেও তাকায় না।
“না, না বাবা আমি পারবো না।”
সোহম বলল, “তাহলে কে যাবে? রিদমও তো যেতে পারবে না।”
ফুল ছোট ছোট চোখে তাকাল, “এটাই সুযোগ আপনি এই বাহানায় তার সাথে ভাব জমিয়ে নিন।”
রিদম দীর্ঘশ্বাস ফেলল, “আমি এই বিষয়ে পারমিশন আনতে গেলে তেহ আরও বেশি রেগে যাবে।”
সোহম সায় দিয়ে বলল, “ওহহো রিদম, ভুলে যাসনা উর্বী তোকে বলেছে ওকে শহরে রেখে আসতে। তুই যদি রেখে আসিস তাহলে একটু হলেও ওর মন হালকা হবে। তাছাড়াও তুই ব্যাতিত আমাদের মুখ থেকে উর্বীর কথা শুনলে তেহ মারাত্মক রেগে যাবে। বলবে আমরা ওকে নিয়ে কেন ভাবছি।”
রিদম অসহায় কণ্ঠে বলল, “কিন্তু আমি কীভাবে গিয়ে দাঁড়াবো ওর সামনে?”
ফুল এবার ভাবুক ভঙ্গিতে গালে হাত রেখে কিছু একটা ভাবল। পরক্ষণেই বলল, “আমার কাছে একটা আইডিয়া আছে। উর্বী আপুর জন্য আমি এইটুকু সাহায্য করতেই পারি।”
রিদম জানতে চাইল, “কী আইডিয়া, বলো শুনি।”
ফুল বুদ্ধিদীপ্ত কণ্ঠে বলল, “এতোদিনে ওনার রাগ প্রায় পানিই হয়ে গেছে। আপনি শুধু ওনার সামনে গিয়ে দাঁড়াবেন তারপর…” ফুল বাকিটুকুও বুঝিয়ে বলল।
তার পরিকল্পনা শুনে রিদম বড়সড় ঢোক গিলল। “তুমি সিওর এমন করলে আমি অক্ষত শরীরে ওর রুম থেকে বেরোতে পারব?”
ফুল ভরসা দিয়ে বলল, “হ্যাঁ, পারবেন। আপনার উচিত এখনই ওনার মুখোমুখি হওয়া। নইলে ওনার মনে ক্ষোভ জমবে। ভাববে আপনি ওনাকে একটুও পরোয়া করেন না।”
রিদম উদাস মনে বলল, “ও-ই বা কবে পরোয়া করল আমার।”
ফুল মিষ্টি হেসে বলল, “পরোয়া করেছে বলেই তো সামনে যেতে নিষেধ করেছে। সে জানতো কিছুক্ষণ পরেই মুখোমুখি হলে সে নিজের রাগকে কন্ট্রোল করতে পারবে না। সময়ের সাথে সাথে রাগ গলে পানি হয়ে যায় ঠিকই কিন্তু খুব বেশি দেরি হয়ে গেলে অভিমান জন্মায়।”
সোহম রিদমের কাঁধে হাত রেখে অভয় দিল, “তুই এবার চলেই যা ওর সামনে। আর কতোদিন বল?”
বেশ অনেকটা সাহস পেয়ে রিদম পা বাড়াল উদ্যানের রুমের দিকে।
কানে হেডফোন গুঁজে ফোনের মধ্যে ডুবে ছিল মেলো। মূলত সে রুমে একা বসে বসে কাজ করতে চাইছিল না সেইজন্যই সবার সাথে এসে বসেছে। নইলে আজ সিনেমা দেখার ফুরসত ছিল না তার। হঠাৎই কাজের ফাঁকে সে আশেপাশে তাকিয়ে দেখল সে আর লুহান বাদে বাকি সবাই বেরিয়ে গেছে। লুহান তার ঠিক পাশের সিটে বসে একদৃষ্টে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। সেই চাউনিতে কী ছিল জানা নেই, তবে মেলো তড়িৎবেগে হেডফোন নামিয়ে আসন ছাড়ল। তারপর গটগট পায়ে থিয়েটার হল থেকে বেরিয়ে গেল। লুহান তাকে আটকানো চেষ্টা করল না অবশ্য। সে জাস্ট এই সুযোগে একটু দেখে নিয়েছে তাকে।
মেঝেতে বিছিয়ে রাখা কৃত্রিম সবুজ ঘাসের গালিচায় বসে তানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে উদ্যান। তানও বেশ আয়েশ করে ডগ ফুড চিবিয়ে যাচ্ছে। মুখে থাকা স্ট্রবেরি ফ্লেভারের ললিপপটা গালের মাঝে রেখে উদ্যান প্রশ্ন করল, “ঘুমোবি না তান? অলরেডি রাত দুটো বাজে।”
তান সহসাই উত্তর দিল না, তবুও উদ্যান একটুও ক্ষিপ্ত হলো না। এই একটা প্রাণীই সবসময় তার প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েও পার পেয়ে যায়। উদ্যান আরও যোগ করল, “তুই খাচ্ছিস না ঠিকঠাক? পুরোটা শেষ কর।”
এমন সময়েই আচমকা ডোরবেল বেজে উঠল। উদ্যান জিজ্ঞেস করল, “অ্যালেক্স হু ইজ ইট?”
উত্তর এলো, “ইটস রিদম।”
নামটা শুনে উদ্যান দরজার দিকে তাকাল। ললিপপটা অন্য গালে নিয়ে শান্ত স্বরে বলল, “ওপেন দ্য ডোর।”
দরজা খুলে যেতেই রিদম একটু সময় নিয়ে ভেতরে ঢুকল। উদ্যান একবারও তাকাল না তার দিকে। রিদমই এগিয়ে এসে উদ্যানের সমুখে হাঁটু গেড়ে বসল। অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে বলল, “সরি তেহ, সেদিন তোর সাথে ওভাবে কথা বলা ঠিক হয়নি।”
উদ্যান নিরুত্তর। সে একমনে তানের পিঠে হাত বুলিয়ে যাচ্ছে আর ললিপপ চুষছে। রিদম গলা খাঁকারি দিয়ে ফের বলল, “আমি সরি বলেছি তেহ, প্লিজ কিছু বল।”
“আমি তোকে সামনে আসতে নিষেধ করেছি না? তারপরও কেন এসেছিস?”
রিদম মিনমিনিয়ে বলল, “না এসে সরি বলতাম কীভাবে?”
“তুই কি ভুলে গেছিস, আমার কথার অবাধ্য হলে পানিশট করি?”
রিদম মাথা আরও নিচু করে বলল, “এখন যখন এসেই পড়েছি তখন আর কী করার? তুই চাইলে পানিশট করতেই পারিস কিন্তু সারাজীবন তোর থেকে লুকিয়ে থাকাটা সম্ভব ছিল না। এমনিতেও রিহান অনেক টর্চার করেছে, এখন তুইও পানিশট কর। যদিও তোর সামনে না আসাটাও একপ্রকার পানিশমেন্টই ছিল।”
উদ্যান চোখ তুলে তাকাল রিদমের দিকে। তার কেমন কেমন যেন লাগল কথাগুলো। মনে হলো এমন ক্রিঞ্জ টাইপের কথা রিদমের মনগড়া হতেই পারেনা। সে ললিপপটা মুখ থেকে বের করে পাশে থাকা টেকিলার গ্লাসে রেখে দিয়ে বলল, “কী বলতে এসেছিস বলে ফেল।”
রিদম হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। ফুলের বুদ্ধি কাজে আসায় মনে মনে ফুলকে ধন্যবাদ জানাতেও ভুলল না।
“বলছিলাম কী উর্বী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছে। বাড়িতে ফিরে যেতে চাইছে, ওকে রেখে আসবো?”
উদ্যান পরপরই বলল, “নো।”
“কিন্তু কেন? দেখ ওকে আমরা নিজেদের সাথে রাখতে পারব না তো তাইনা? তাহলে কী করবো?”
“সেটা এস্টেটে আনার আগে ভাবা উচিত ছিল। তুই কি জানিস না জায়গাটাই এমন একবার ঢুকে পড়লে মুক্তি মেলে না?”
“জানি কিন্তু তখন আমার মাথা কাজ করছিল না। ভেবেছিলাম এস্টেটই ওর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হবে।”
“আমিও ভেবেছিলাম মেয়েটা তোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যেমনটা অনিলা অনির জন্য। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তেমন কিছুই নয়, রাইট? দ্যাটস গুড! তাহলে মে’রে ফেললেই তো হয়ে যায়। শুধু শুধু বাঁচিয়ে রেখে কী লাভ!”
রিদম জানত উদ্যান এমন কিছুই বলবে। তবুও সে বোঝানোর চেষ্টা করল, “তেহ বোঝার চেষ্টা কর, মেয়েটার এই অবস্থার পেছনে আমি দায়ী। ও আমার ফ্রেন্ড…” বলতে গিয়েও থেমে গেল রিদম। ফ্রেন্ড বললে তেহ আরও গুরুত্ব দেবে না।
উদ্যান উচ্চারণ করল, “গার্লফ্রেন্ড?”
রিদম না বোধক মাথা নাড়ল। উদ্যান ফের বলল, “গার্লফ্রেন্ড হলেও মুক্তি দেওয়া যেতো না রিদম। মেয়েটা একজন পুলিশ কর্মকর্তা, পরবর্তীতে আমাদের জন্য ডিস্টার্বিং হবে।”
“তেহ ওর মতো সামান্য ইনস্পেকটর আমাদের আহামরি কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।”
“রুলস ইজ রুলস, গার্লফ্রেন্ড না হলে মেইড বানিয়ে রেখে দে। যদিও ওর মতো মেইড প্রয়োজন নেই আমাদের। তবুও অ্যাটলিস্ট খেয়েপড়ে বেঁচে থাকবে। নইলে আর কোনো অপশন নেই।”
রিদম মরিয়া হয়ে বলল, “তোর সব রুলস কি কেবল উর্বীর জন্যই? রুমার বিষয়ে তো বাধা দিসনি।”
“রুমার ব্যাপারে একটু খোঁজ নিয়ে দেখলেই উত্তর পেয়ে যাবি।”
“মানে?”
“লুহানকে জিজ্ঞেস কর গিয়ে।”
“লুহান জানে তুই করেছিস?”
“হু…”
“সবাই জানে?”
“নো… ওরা রুমার বিষয়ে জানতে ইন্টারেস্টেড নয়। লুহান ইন্টারেস্টেড ছিল তাই জানতে পেরেছে।”
“তাহলে এই মুক্তির মানে কী? লুহান কেন এতো পরিশ্রম করে আসল স্পাইকে খুঁজে বের করল?”
“আসল স্পাইকে খুঁজে বের করাটা জরুরি ছিল। সিম্পল!”
রিদমের চোখেমুখে বিষন্নতা ছেয়ে গেল। রুমার মুক্তিই আশার আলো হয়ে এতোক্ষণ জ্বলছিল। অবশেষে সত্যের মুখোমুখি হয়ে সেই আলো টুকুও নিভে গেল।
“তোর কথা বলা শেষ হয়ে গেলে যেতে পারিস।”
রিদম অবচেতন মনে উঠে দাঁড়িয়ে ধীরপায়ে রুম ত্যাগ করল।
রাতের শেষভাগে লুহানের রুমে আসর বসিয়েছে সোহম আর রিদম। রুমা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেই তাদের এই অকাল বৈঠক।
“রুমা কি জানতো যে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব?” সোহমের প্রশ্নে লুহান বলল, “জানতো কিনা জানিনা। মাঝেমধ্যে মনে হতো যে এই বিষয়ে জানে। আমি যতবারই ওকে পালিয়ে যেতে বলেছি ও ততবারই এটা ওটা বলে এড়িয়ে গিয়েছিল।”
রিদম শুধাল, “তুই-ই বা পালিয়ে যেতে বলতি কেন? আর কেনোই বা নির্দোষ প্রমাণের বিপরীতে ওকে মুক্তি দিতে চাইলি? না মানে তুই তো জানতি তাইনা?”
লুহান খাটের সাথে হেলান দিয়ে বলল, “ওকে সহ্য করতে পারছিলাম না। ওকে দেখলেই নিজের ওপর রাগ হতো। অনেক চেষ্টা করেছিলাম সহ্য করে নিতে কিন্তু পারিনি।”
সোহম অবাক হয়ে বলল, “কেন সহ্য করতে পারতি না ওকে? আর সহ্য যখন করতেই পারতি না তখন যেচে পড়ে নিয়ে এসেছিলি কেন? আমার স্পষ্ট মনে আছে তুই-ই ওকে নিয়ে এসেছিলি।”
লুহান থামল একটু, তারপর বলল, “তখন বুঝতে পারিনি, ও আমার মাথাব্যথার কারণ হবে৷ আমি চেয়েছিলাম ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে কিন্তু ও সুযোগ পেয়ে আমাকে প্রতিনিয়ত কথা শোনাতো।”
রিদম মুহূর্তেই সব বুঝতে পারল, “রুমাই সেই মেয়েটা ছিল, যার সাথে তুই নাইট স্পেন্ড করেছিস?”
সোহম তব্দা খেয়ে গেল, “কীহ!”
লুহান আজ আর লুকানোর চেষ্টা করল না। ম্লান হেসে বলল, “হ্যাঁ রুমাই ছিল, সেই ঘটনার কয়েকদিন পর আমি যেদিন ক্ষমা চাইতে গিয়েছিলাম সেদিন ও অনেক কান্নাকাটি করেছিল। যা দেখে খারাপ লেগেছিল আমার। সেই জন্যই নিজের সাথে মেইড হিসেবে নিয়ে এসেছিলাম।”
রিদম ধাঁধায় পড়ে গেল, “আরে তুই ক্ষমা চাইতে কেন গিয়েছিলি? না মানে তুই কি জেনে শুনেই ওর সাথে রাত কাটাস নি?”
“আমি সজ্ঞানেই কাটিয়েছি বাট ছিল একটা কিছু যা আমাকে বাধ্য করেছিল। নইলে আমিও প্রমাণ করে দিতাম সব ছেলেরা জঘন্য হয়না।”
সোহম উত্তেজিত হয়ে প্রশ্ন করল, “তোকে কে বাধ্য করেছিল শুনি? কার এতো বড় স্পর্ধা?”
লুহান নিজেকে সামলে নিয়ে প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলল, “তেমন কিছুনা বাদ দে। রিদম, তুই বল এখন কী করবি।”
রিদম সোহমের পানে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বলল, “কী আর করবো, মেইড বানিয়ে তো আর রাখতে পারব না। অনি যেভাবে অনিলাকে রেখেছে তেমন ভাবেই রাখতে হবে।”
লুহান বিস্মিত চোখে তাকাল, “তুই বিয়ে করবি?”
“উঁহু আমি না, সোহম করবে।”
লুহান অবিশ্বাস্য চোখে তাকাতেই সোহম দাঁতে দাঁত চেপে হাসার চেষ্টা করল। আর কিইবা করবে সে। এতোদিন চেষ্টা করেও উর্বীর আর রিদমের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারেনি বেচারা। হয়তো এবার তাকেই বিয়েটা করে ফেলতে হবে। তারও এটা মেনে নিয়ে বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত বোধহয়।
“তুই বললে বিকালেই প্রস্তাব নিয়ে যাবো রিদম।” সোহমের কথায় রিদম মাথা নেড়ে সায় জানাল। লুহান এখনো ব্যাপারটা হজম করতেই পারছেনা।
“আর ইউ সিরিয়াস সোহম?”
“ইয়েস বাডি, আমি এতোটা সিরিয়াস যে, মনে হচ্ছে বয়সে ছোট হয়েও তোদের আগেই বাপ হয়ে যাবো।”
লুহান হাসিতে ফেটে পড়লেও রিদম জ্বলন্ত চোখে তাকাল সোহমের দিকে। সোহম সরল হেসে বলল, “তোর চোখে লাল বাতি জ্বলছে কেন? ওহ বুঝেছি, এখন থেকেই লাইটিং এর প্ল্যানিং করছিস বুঝি? এই না হলে দোস্ত আমার। শোন বিয়েতে তুই কিন্তু আমাকে স্পেশাল হানিমুনের টিকিট গিফট করবি আর লুহান তুই একটা ভালো রিসোর্ট বুক করে দিবি। যেখানে শুধু আমি আর আমার বউ থাকবো।”
রিদম কথা না বাড়িয়ে ধুপধাপ পা ফেলে লুহানের রুম থেকে বেরিয়ে গেল। লুহান হাসি থামিয়ে চিন্তিত কণ্ঠে বলল, “রিদম ভালোবাসে মেয়েটাকে, ও তোকে জোর করলেও বিয়েটা করা উচিত হবেনা সোহম।”
“ও যা চাইবে আমি তাই করবো। ও যদি উর্বীকে আমার সঙ্গে সহ্য করতে পারে তবে আমি কেন বউ হিসেবে ওকে মেনে নিতে পারব না?”
লুহান মৃদু গলায় বলল, “ও মনে করছে ও সহ্য করতে পারবে কিন্তু এটা বুঝতে পারছে না মনে করাটা সহজ হলেও বাস্তবতা সহজ নয়।”
সোহম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “বিয়ের পর মেনে নিতে না পারলেও কিছু করার থাকবে না। তখন ওকেও বন্ধুত্বের পরীক্ষা দিতে হবে।”
“উর্বীর প্রতি তোর কোনো ইন্টারেস্ট আছে আদৌ?”
সোহম একগাল হেসে বলল, “নাহ!”
“তাহলে এতো হাসিখুশি আছিস কীভাবে?”
“বউয়ের প্রতি অটোমেটিক ইন্টারেস্ট চলে আসবে। তাই চিন্তা করছি না।”
লুহান মাথা চুলকাতে লাগল। “তোরা একেক জন একেক রকম। একজন তুলে এনে বিয়ে করেছে, আরেকজন উদ্ধার করে এনে অন্যজনের মাথায় চাপিয়ে দিচ্ছে। রইল বাকি তেহ! বিয়ে করে বউকে মেইড বানিয়ে রেখেছিল। মানে যা ইচ্ছে তাই।”
“তোর আর মেলোর কথাও কিছু বল।”
লুহান এক মুহূর্তের জন্য চমকে গেল। ভাবল সোহম কি বুঝে গেছে সে মেলোর পেছনে ঘুরছে? পরক্ষণেই কথাটা বিশ্লেষণ করে উপলব্ধি করল তেমন কিছুই না। সোহম কথাটা জেনুইনলি বলেছে।
“মেলোর খবর জানিনা কিন্তু আমি কোনো ঝামেলার মধ্যে নেই বাবা।”
“তুই-ই শান্তিতে আছিস।”
“হু, অনেক কথা হয়েছে যা এখন। ঘুমাবো।” লুহান অলস ভঙ্গিতে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ধপাস করে তার ওপর আড়াআড়ি ভাবে শুয়ে পড়ল। লুহান বিরক্ত হয়ে বলল, “কী সমস্যা? গায়ের ওপর পড়ছিস কেন?”
“রুমে যাওয়ার শক্তি নেই রে। কাল পাত্রী দেখতে যাবো। ভাবতেই আনন্দ লাগছে, আমারও অবশেষে বিয়ে হবে।”
লুহান ঝাড়া মেরে সোহমকে সরিয়ে দিয়ে বলল, “আগেই এতো কিছু আশা করিস না। উর্বী খুব সহজে রাজি হবে বলে মনে হয়না।”
“হুহ! আমি ছাড়া ওর কাছে আর কোনো অপশন নেই।”
দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামল। দুপুরের খাবারের পরপরই সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যেন বিকেলে সবাই লিভিং রুমে জমায়েত হয়। সমান্তরালে রাখা নরম গদির সোফায় এস্টেটের সব সদস্য বসে আছে। ফুল একবার চোখ তুলে সামনের সোফায় বসা উদ্যানের দিকে তাকাল। লোকটা হাত গুটিয়ে টানটান হয়ে বসে আছে। সে ঠিক কোনদিকে তাকিয়ে আছে, ফুল তা অনুমান করতে পারল না। উদ্যান একধ্যানে ললিপপ চুষতে ব্যস্ত; যেন এই মুহূর্তে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আর দ্বিতীয়টি নেই।
“উপস্থিত সবার চেয়ে বয়সে বড় হওয়ায় আমিই প্রস্তাবটা সবার সামনে পেশ করবো।” লুহানের কথায় ফুলের মৌনতা ভাঙল।
ফুল, অনিলা আর উর্বী বাদে হয়তো বাকিরা লুহানের প্রস্তাবটা সম্পর্কে পূর্বেই অবগত। তাই তাদের মধ্যে বাড়তি কোনো কৌতূহল দেখা গেল না। লুহান গলা পরিষ্কার করে বলল, “গতকাল সোহম আমাদের একান্তে জানিয়েছে যে সে উর্বীকে বিয়ে করতে চায়। তাই আমরা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে বসেছি।”
উর্বী ভীষণ অবাক হলো। বিস্ময়ের চাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হা হয়ে গেল তার মুখ। চোয়ালটাও খসে পড়বে পড়বে ভাব।
ভ্যাবাচেকা খেয়ে বসে রইল ফুল আর অনিলাও। এই ধরনের প্রস্তাব তারা অবশ্যই আশা করেনি। অনেকক্ষণ নিরবতার পর উর্বী মজার ছলে বলল, “আমাকে উনি বিয়ে করবেন? এখন কি এপ্রিল মাস চলছে?”
অনিলা পাশ থেকে মাথা নেড়ে বলল, “না উর্বী, এখন সেপ্টেম্বর মাস চলছে।”
উর্বী হেয়ালি করে বলল, “এপ্রিল ফুল শুনেছিলাম। আচ্ছা সেপ্টেম্বর ফুল বলেও কি কিছু আছে নাকি?”
ফুল ছোট ছোট চোখে তাকাল। একটু গর্ব করেই বলল, “না আপু, তবে ডিসেম্বর ফুল আছে। কারণ ডিসেম্বরে আমি নামক ফুলের জন্ম হয়েছিল।”
তখনই ওপাশ থেকে ভেসে এলো উদ্যানের গম্ভীর কণ্ঠস্বর, “প্রসঙ্গবহির্ভূত কথা উঠছে কেন? লিসেন, সোহম বিয়ে করতে চাইছে তোমাকে, এ তোমার সৌভাগ্য। আর তোদের বলছি, উঠতে হবে আমায়। যা করার দ্রুত কর।”
অনি তাড়া দিয়ে বলল, “আপাতত ডেট ফিক্সড করে ফেল তেহ। বাকি প্ল্যানিং নাহয় রাতে ঠান্ডা মাথায় বসে করবো।”
উর্বী হঠাৎ উঠে দাঁড়াল, “আপনারা আমাকে পাগল পেয়েছেন? দেখুন আমি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছি। এগুলো বন্ধ করে আমাকে আমার অ্যাপার্টমেন্টে রেখে আসুন।”
সোহম ঝট করে লাফিয়ে উঠে উর্বীর সমুখে এগিয়ে এসে বলল, “আমি একদম সুস্থ, সবল মস্তিষ্কে তোমাকে বিয়ে করতে চাইছি।”
উর্বী নিজের বিরক্তি দমিয়ে রেখে বলল, “আপনি হয়তো আমার ব্যাপারে কিছুই জানেন না সেই জন্যই এমন উদ্ভট কিছু করতে চাইছে। শুনুন প্রথমত আমি একজন হিন্দু, দ্বিতীয়ত একজন ডিভোর্সি, আর তৃতীয়ত…”
সোহম মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বলল, “আমি সব জানি তোমার সম্পর্কে। কষ্ট করে বিস্তারিত বলতে হবেনা। সবকিছু জেনেও আমি বিয়ে করবো তোমাকে। আর হ্যাঁ, আমি জন্মগত মুসলিম হলেও ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করিনা। বিয়েটা কাগজে কলমে হবে, তাই ধর্ম এখানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।”
বিয়ের কথা উঠতেই উর্বীর চোখে পানি জমে উঠল। মাথা ঝেড়ে বলল, “আপনারা শুধুমাত্র আমাকে আটকে রাখার জন্য এমন করছেন তাইনা? বুঝতে পেরে গেছেন, আমি বাইরে গেলে আপনাদের পেশা থেকে নেশা সব খুঁজে বের করে ফেলব।”
উদ্যান শীতল চোখে তাকাল রিদমের দিকে। রিদম শুকনো ঢোক গিলে ঝড়ের বেগে উর্বীকে দূরে টেনে নিয়ে গেল। অনিলা আর ফুল হতভম্ব হয়ে সেদিকে তাকিয়ে রইল।
উর্বী নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, “বন্ধ করুন এসব, যেতে দিন আমাকে।”
রিদম হঠাৎই তার বাহু চেপে ধরে বলল, “সোহম খুব ভালো ছেলে, আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ের সাথে রিলেশনেও যায়নি। আপনি ওকে বিয়ে করলে ঠকবেন না। খুব ভালো রাখবে আপনাকে।”
উর্বী একবার ভুল করে তাকিয়ে ফেলেছিল রিদমের দিকে ঠিক পরক্ষনেই সে শিউরে উঠে চোখ বন্ধ করে নিল। রিদমের হাত থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলল, “উনি এতো ভালো হওয়ার পরেও আমার মতো একটা মেয়েকে বিয়ে করতে চাইছে কেন, তা আমি বেশ ভালোই বুঝতে পারছি। আপনারা ফুল আর অনিলার মতো আমাকেও বন্দী করে রাখতে চাইছেন। তাইনা?”
“হ্যাঁ চাইছি, তো? বিয়ে করে বউকে বন্দী কিরে রাখাটাই আমাদের রুলস। আপনাকেও সেই রুলস ফলো করতে হবে।”
“আমি নাতো বউ হতে চাই আর নাতো বন্দী হয়ে থাকতে চাই।”
“আপনি কী চান না চান, তা জানতে চাইনি। সোহম আপনাকে বিয়ে করতে চেয়েছে সেটাই যথেষ্ট। আর শুনুন, তেহুর সামনে বেশি কথা বলবেন না। ও এমনিতেই আপনাকে পছন্দ করে না।”
“অপছন্দ করাটাই স্বাভাবিক আমার মতো মেয়েকে।”
“উল্টো বুঝিয়েন না। আপনাকে ও অপছন্দ করে কারণ আপনি ওর বউকে ওরই সৎ ভাইয়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।”
“হ্যাঁ দিয়েছিলাম, উনি কেন ফুলকে জঙ্গলের মধ্যে বেধে রেখে চলে গিয়েছিল?”
“সেটা ওদের ব্যাপার। আপনি মাঝখানে না এলেই পারতেন।”
“আমি এতোকিছু শুনতে চাইনা, আমাকে যেতে দিন আপনারা।”
“যেতে চাইবেন না প্লিজ! কার কাছেই বা ফিরে যেতে চাইছেন আপনি, আপনার বাবা-মা কিন্তু আপনার অপেক্ষায় নেই। আরাফাত সানি নিজ উদ্যোগে কিছুদিন খুঁজেছেন, তারপর তিনিও প্রায় ভুলেই গেছেন। তার চেয়ে আপনি এখানেই খুব ভালো থাকবেন। সোহম আপনাকে আগলে রাখবে, সব খারাপ স্মৃতি ভুলিয়ে দেবে। ওর চেয়ে ভালো কাউকে আপনি কোথাও খুঁজে পাবেন না।”
উর্বীও কি একটু নরম হলো রিদমের কথা শুনে? হলো বোধহয়, নইলে কেন আচমকাই ছটফট করা থামিয়ে দিল মেয়েটা?
“উনি… ভালোবাসবেন আমায়?” উর্বীর কণ্ঠে আক্ষেপ ঝরে পড়ল। রিদম উপলব্ধি করতে পারল সোহম ঠিকই বলেছে ‘একজন মেয়ে সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়েও তাকেই বেশি যোগ্য মনে করে যে তাকে ভালোবাসে।’
রিদম উর্বীর বাহু ছেড়ে দিয়ে বলল, “হ্যাঁ, ও নিজের বউকে খুব ভালোবাসবে। আপনার আগের স্বামীর মতো নালায়েক হবে না।”
উর্বীকে ভালোভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছিল রিদম তখনই সোহম ফোন বের করে স্ক্রিনের ওপর ট্যাপ করল কয়েকবার, মুহূর্তের মধ্যেই তার ফোন থেকে ভেসে এলো হিন্দি গানের লিরিক্স; গানের সাথে সাথে ঠোঁট মিলিয়ে সোহম উর্বীর সামনে গিয়ে গাইতে লাগল:
ঝুমকা দিলাউঙ্গা,
কাঙ্গনা দিলাউঙ্গা
সাব কুছ ম্যায় লাউঙ্গা তেরি কাসাম!
সোহম উর্বীর মাথায় হাত রাখতে গেলে রিদম বাধা দিল। সোহম হাত সরিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করে আবার গাইল:
চান্দা চুরাউঙ্গা,
তারে ভি লাউঙ্গা
সুরাজ ঝুকাউঙ্গা তেরি কাসাম!
আবারও উর্বীর মাথায় হাত রাখতে গেল সে। এবারও রিদমের দ্বারাই বাধাপ্রাপ্ত হলো। সোহম ঠোঁট উল্টে উর্বীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। হাত বাড়িয়ে আকুতি জানাল:
কাভি তো মেরি জান দিওয়ানি বানোগি
মুঝসে শাদি কারোগি…
হে মুঝসে শাদি কারোগি?
তার নাটক দেখে উর্বী হতবুদ্ধি হয়ে গেল। রিদম তার হয়ে বলে দিল, “হ্যাঁ ও বিয়েতে রাজি আছে।”
সোহম বিরক্ত সূচক শব্দ উচ্চারণ করে বলল, “হোপ, তুই বারবার মাঝখানে আসছিস কেন?”
রিদম নিষ্প্রভ কণ্ঠে বলল, “তুই সত্যি সত্যিই কসম কাটতে চলে যাচ্ছিলি সেই জন্যই বাধা দিয়েছি।”
চলবে,,,
শব্দসংখ্যা: ৩৪০০+

