প্রিয়_নীলপদ্ম —২১ #মুশরাফা_মিরা

0
40

#প্রিয়_নীলপদ্ম —২১
#মুশরাফা_মিরা

বাংলাদেশের পর্যটকদের প্রিয় জায়গায় মধ্যে রাঙামাটির বুকে থাকা সাজেক অন্যতম।বছরের অধিকাংশ সময়ই এখানে পর্যকটদের ভির থাকে।সৌন্দর্যে মোড়ানো সাজকে ছুঁতে চলে আসে নানান প্রান্তের মানুষ। এই মেঘের রাজ্যে নিজেকে হারাতে কত মানুষই না আসে এখানে। নিজেদের প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে হারাতে রহমান পরিবারও এসেছে সাজকে,মেঘকে ছুঁতে।এই তো সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে এসে পৌঁছালো মেঘের রাজ্যে।থাকার জায়গা আগে থেকেই বুকড্ তাদের। তাই বারতি কোনো ঝামেলায় পড়তে হলো না।আগাম বুকড্ করে রাখা হোটেলে এসে নিজনিজ রুমে চলে গেলো আরিফ-তুলি,তূর্য-নৌমি আর তাসফি-মেহরবা।আরিফ মেহরাবকেও বলে আনিয়েছ মেয়েটা বাবার কর্মে দারুণ শোক পেয়েছে। চুপ হয়ে গেছে একদম। প্রকৃতির সৌন্দর্যে যদি একটু মন ভালো হয়।রিদিশাকেও বলা হয়েছিলো তবে এসবে সে জড়ায়নি।রয়ে গেছে মায়ের পাশে।

রুমে এসেই নৌমি হাত-পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে শুয়ে পড়লো বিছানায়। এতো পথের জার্নিতে মেয়েটা ভিষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। পথে পথে আবার বমিও করেছে।তূর্য লাগেজ নিয়ে রুমে ঢুকে নৌমিকে ওভাবে শুয়ে থাকতে দেখে বিরক্ত হলো।মানছে শরীর ক্লান্ত তাই বলে হাত-মুখ না ধুয়ে শুতে হবে?এগুলো কেমন ম্যানার্স?সারাজীবন ডিসিপ্লিন মেইনটেইন করা তূর্যের এসব পছন্দ হলো না মোটেও। সহসাই টেনে উঠালো মেয়েটাকে।কড়া গলায় বলে,

‘হাত-পায়ে ধুলো ভর্তি আর তুমি এভাবেই বিছানায় গড়াগড়ি খাচ্ছো?এগুলো কেমন স্বভাব নৌমি?যাও..যাও আগে ফ্রেশ হয়ে আসো তারপর বিছানার সাথে লটকিয়ে থেকো, বারন করবো না।’

সারাদিনের ক্লান্তি কাটাতে বিছানা দেখে নৌমি আর লোভ সামলাতে পারেনি একটু বিশ্রাম নেবার।খেয়ালে আসেনি ওর গায়ে ধুলোবালি ভরে আছে। সবে চোখ বুঁজে এসেছিলো ঘুমে ওমনি তূর্যের ওমন বাঁক কথা শুনে ছুটে গেলো ঘুম,ভাঁজহীন কপালে ভাজ পরলো।অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠে বসলো। চোখমুখে রাজ্যের বিরক্ত ছড়িয়ে বলে,

‘আপনার কি আমার শান্তি একটুও সহ্য হয় না ডিসিপ্লিনের মাস্টার?কি হয় একটু শুয়ে থাকলে?ওমন করেন কেন?’

তূর্য এগিয়ে এলো আরেকটু নৌমির কপালের মাঝখানে দুআঙুলের সাহায্যে টোকা দেয় বলে,

‘তুমি শান্তিতে থাকলেই আমার প্রশান্তি ম্যাডাম।তাই বলে ভুল করলে কিছু বলবো না তা-কি হয়?’

নৌমি প্রতিউত্তর করলো না ওকথার।চুপচাপ ফ্রেশ হতে গেলো।ধুলোবালিতে এমনিতে ওরও গা-হাত-পা চিপচিপ করছে কথা বাড়ানোর চেয়ে বরং ফ্রেশ হয়ে আসাই ভালো।তূর্য বসলো না রুমের সাথে লাগানো বারান্দায় গেলো।ওখান থেকে পাহাড় দেখা যাচ্ছে তাই দেখায় পূর্ন মনোযোগ দিলো সে।

________

রাতে খেয়েদেয়ে মেয়েরা আড্ডা দিচ্ছে একসাথে। বাপ-ব্যাটা কোথাও একটা গিয়েছে তা জানা নেই ওদের। মেহরাবর মন একটু ভালো হয়েছে আগের থেকে। ভালো হওয়ার কারন হলো তাসফি আর নৌমি মিলে ওকে হাসাতে হাস্যকর কিছু গানে নাচে বেড়াচ্ছে পুরো ঘর জুড়ে।রাত বারার সাথেসাথে ওদের আড্ডার মজাও কমে আসলো।তুলি নিজের জন্য বরাদ্দ করা রুমে চলে গেলো।আজ আর বাহিরে বের হলো না কেউ একেবারে পরেরদিন বের হওয়ার প্ল্যান সবার, শরীর সায় দেয়নি কারোই।তুলি যেতেই তাসফি আর মেহরাব ইশারায় নিজেদের মাঝে কিছু বলাবলি করলো।এরপর একজোট হয়ে তাকালো নৌমির পানে।ওদের এভাবে তাকাতে দেখে নৌমি নড়েচড়ে বসে কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,

‘এভাবে তাকাচ্ছো কেন তোমরা আমার দিকে?’

‘তোমাকে মাধ্যমে তান’দা-কে পাগল বানাবো’

‘মানে?’

‘বোঝোনি না?’

মেহেরবার কথার পিঠে বাচ্চাদের মতো দু’দিকে মাথা নাড়ায় নৌমি।তাসফি হাসলো নৌমির সরল জবানে।নিজের লাগেজ খুলে একটা পাতলা শাড়ি বের করলো পাশাপাশি স্লিভলেস ব্লাউজ। রাখলো এগুলো নৌমির সামনে। নৌমি তাসফির কার্যক্রম খেয়াল করলো সূক্ষভাবে।

‘এসব দিয়ে কি হবে?কি করতে চাইছোটা কি তোমরা?’

‘এসব তোমায় পড়াবো বউমণি।’

‘নাহ!’

মৃদু চিৎকার করে ওঠে নৌমি।নৌমি তূর্যের জন্য শাড়ি পড়লেও এমন পাতলা ফিনফিনে শাড়ি পরে নি। তারউপর স্লিভলেস ব্লাউজ! মেয়েটা এগুলো পরে যাবে কিভাবে তূর্যের সামনে?

‘কেন? কেন?কি সমস্যা এটাতে?’

তাসফি ভ্রু-উচিয়ে জিজ্ঞেস করলো ওকে।নৌমি ওকে বুঝানোর স্বরে বললো,

‘এমন শাড়ি পরা কিংবা না পরা একই কথা তাসু।এগুলো পরে আমি ওনার সামনে! ভাবতেই আমার গা কেমন জানি করছে।ভাই মাফ করো তোমরা এসবে আমি নেই!’

তাসফি মেহেরবা জেঁকে ধরলো ওকে।তাসফি আফসোস করে বললো,

‘জানো তুমি আমি এই শাড়িটা কত কষ্ট পরে পেয়েছি। তোমার জন্য আনিয়েছি এখন বলছো পরবে না।আমি ভারি কষ্ট পাবো বউমণি।না করে না লক্ষীটি!’

তাসফির মুখটা কালো হয়ে গেলো।মন খারাপ করে শাড়ি-ব্লাউজ তুলে নিলো হাতে।নৌমি খপ করে ধরলো ওর হাত।মুখে হাসি টেনে বলে,

‘থাক থাক ওমন সুন্দর মুখ কালো করতে হবে না তোমায়।পড়িয়ে দাও শাড়িটা।আমি না হয় তোমার শখ পূরণ করতে গিয়ে লজ্জায় শেষ হয়েই যাই আজ সমস্যা নাই।’

তাসফির খুশি দেখে কে।মেহেরবাকে তাড়া দিলো মেকাপের জিনিস বের করার।তাসফি শাড়ি পরাতে বেশ পটু।চটজলদি শাড়ি পরিয়ে দিলো নৌমিকে শাড়িখানা।মেহেরবা এবার নিজের সামনে নৌমিকে বসালো সুন্দর করে মেকাপ করিয়ে দুজনে একসাথে বলল,

‘পারফেক্ট!’

নৌমি মুখ নিচু করে রাখে ওর লজ্জা লাগছে এভাবে খুল্লাম খুল্লাম কাপড়ে পরাতে।কিছু বলতেও পারছে না আর সইতেও পারছে না।তাসফিদের রুম নৌমির রুমের পাশেই। ওরা নৌমিকে নিয়ে রুমে বসিয়ে দিয়ে এলো তূর্য-আরিফ তখনও ফেরেনি। কে জানে কি করছে তারা!তাসফি-মেহেরবা যেতেই নৌমি বিছানা থেকে নেমে বড় আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।নিজের দিকে তাকাতেই চোখদুটো ডিম্বাকৃতির হয়।এতো সব দেখাই যাচ্ছে অযথা কাপড় জড়ানোর কি ছিলো গায়ে?হালকা রঙের শাড়ি হওয়ার দরুন পুরো বডির স্ট্রাকচার স্পষ্ট হয়ে আছে, ব্লাউজটাও সরু হাতার,শাড়িটি ভাঁজে ভাজে কাঁধে তোলা।এমন ভাবে শাড়িটা পরানো হয়েছে যে সবটাই প্রায় স্পষ্ট!নিজের এমন অবস্থা দেখে নৌমি লাজে মুখ লাল হয়ে আসে।কেমন লাগছে ওকে।মন চাইছে একছুটে এসব খুলে ফেলতে।এ ভাবনা মনে আসতেই ভাবলো শাড়িটি পাল্টিয়ে ফেলা যায় কেউ তো আর দেখছে না।ভাবনা অনুযায়ী লাগেজ খুলতে গেলো কাপড় বের করার জন্য কিন্তু বিধিরাম লাগেজের চেইন আটকে গেছে খোলা যাচ্ছে না মোটেও। রাগে,দুঃখে,লজ্জায় কান্না পেলো নৌমির।এখনই এমন হওয়া লাগলো?নৌমি উঠে দাঁড়ালো ঠোঁট কাঁপছে ওর দুঃখে।এরমাঝে খট করে দরজা খোলার শব্দ হলো।তূর্য যে এসেছে তা বুঝতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হলো না নৌমির। কিছু না করতে পেরে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো চোখজোড়া বন্ধ রেখে।খুলবেই না ও চোখ,আজকে তো নয়ই!যদিও তূর্যর সাথে ওর ঘনিষ্ঠতা হয়েছে আগে তবে আজকের কথা ভিন্ন, পোশাক ওকে লজ্জায় ফেলছে।

তূর্য আরিফের সাথে হাটতে বের হয়েছিলো খেয়ালই ছিলো না রাত বেড়েছে যে।তরিগরি করে রুমে ঢুকলো নৌমি একা যদি ভয় পায় এই আশংকায়। তবে ঘরে পা রাখতেই চোখজোড়া শীতল হয়ে যায়।মুখ ফাঁক হয়ে গেছে অল্প,জমে গেলো ও দরজার কাছেই। নৌমি উল্টো দিক ঘুরে দাড়িয়ে আছে তূর্যের দিক পিঠ রেখে।তবে তূর্য ওকে দেখতে পাচ্ছে সামনের আয়নায় সম্পূর্ণই।বেচারার মুখ হা হয়ে আছে ফিরে এসে যে এমন চমক পাবে তা কল্পনাও করেনি ও।কিছু মূহুর্ত ওভাবেই কেটে যায়।তূর্য নিজেকে সামলিয়ে এগিয়ে যায় প্রিয়তমার দিকে।নৌমির পিঠ তূর্যের বুকের সাথে লাগে তূর্যের হাত দখল করে নেয় নৌমির তুলতুলে পেট।নৌমি চোখ আরো খিঁচে বন্ধ করে ফেললো।তূর্য দেখলো তা, হাসলো কিঞ্চিৎ। আয়নায় চোখ রেখেই ঠোঁট ছোঁয়ায় নৌমির কাঁধে, ঘাড়ে ফিসফিসে বলে,

‘এ সাজ আমায় জন্য? এতো সুন্দর সারপ্রাইজ আছে তা আগে জানলে এতোক্ষণ বাহিরে থাকতাম না।’

নৌমি কিছু বললো না,মুলত বলতে পারছে না অস্বস্তিতে।তূর্য নিজের দিকে ঘুরালো নৌমিকে।নাকে চুমু একে বলে,

‘এমন রূপে কেন আসলে মেয়ে?আমি বিমুগ্ধ হয়ে তাল হারাচ্ছি নিজের। ভারি অন্যায় করেছো আমার সাথে!’

নৌমি এবারও নিরুত্তর,চোখজোড়া বন্ধ।তূর্য নৌমির অস্বস্তি বোধহয় বুঝলো। চোখদুটো নৌমির মুখের পানেই স্থীর রাখলো শুধু। মেয়েটা আসলেই সুন্দর, শুধু সুন্দর না ভয়ংকর সুন্দর। ও বারবারই হারিয়ে যায় মেয়েটার মাঝে।নরম হাতে নৌমি হাত ছুঁয়ে বলে,

‘তুমি একটু বেশিই সুন্দর বউ।আমায় ধ্বংস করার মতো সুন্দর!’

পিটপিট করে চোখ মেললো নৌমি। চোখদুটোয় কাজল টানা যা এতোক্ষণ বোঝা যায় নি এবার আরো নিজের নিয়ন্ত্রণ হারালো তূর্য।কোনো কথা ছাড়াই চুমু খেলো নৌমির চোখের পাতায়।হাতদুটো রাখলো নৌমির গলা জড়িয়ে, ঠোঁট আস্তে আস্তে ছুঁয়ে গেলো নৌমির কোমল ওষ্ঠযুগল। নৌমি বোধহয় মৌনব্রত পালন করছে এরাতে।কিচ্ছুটি যে বলছে না!তূর্যের তীব্রতা বারার সাথে সাথে নৌমি হাসফাস করতে লাগলো।কথা না বলে পারলো না এবার

‘তূর্য..,প্লিজ!’

‘আজ রাতটা আমার বউজান শুধুই আমায়।এরাতের মোটেও ভাগ হবে,দিবো না এক প্রহরও তোমায়!’

তূর্য তার কথা রাখলো।খুব যতনে আগলে নিলো,কাছে টানলো নৌমিকে।ভালোবাসার তীব্রতায় নৌমি নেতিয়ে পরলো একপর্যায়ে।অবাক চোখে দেখলো তূর্যের অস্থিরতা, পাগলাটে স্বভাব।নৌমি ছাড় পায়নি এরাতে তূর্যের কাছ থেকে। বড্ড জ্বালিয়েছে মেয়েটাকে তূর্য।নৌমি ছটফটিয়ে উঠলেও তূর্যের তলদেশে পৃষ্ঠ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া আর হয়নি।

চলবে…?

[কি লিখছি জানিনা।মনমেজাজ মোটেও ঠিক নেই আমার।কিছু অতিরিক্ত লিখে থাকলে জানিয়ো তো।মন হাসফাস করছে ওদের ওমন মুহূর্ত লিখতে… বেশি বেশি লিখে ফেলছি না তো!যাইহোক ভালোবাসার পাখিরা তোমারা পড়ে কি তৃপ্তি পাও?আমিতো লিখে একটুও তৃপ্তি পাচ্ছি না বিশ্বাস করো।হ্যাপি রিডিং]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here