#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~
#পর্ব_২৪
#সমৃদ্ধি_রিধী
নওশাদ আলমারি থেকে মেরুন রঙের পাঞ্জাবি বের করে। সেন্টু গেঞ্জি পড়ে বিছানায় মোবাইল নিয়ে বসে। কলেজ থেকে ফিরার পথে আজকে একটা বাটন ফোন কিনেছে। ওখানে কলেজের সবার নাম্বার রাখবে। আর টাচ ফোনে ব্যক্তিগত সবকিছু। সিম ওর আগে থেকেই দুটো ছিল। এখন কলেজে যে নাম্বার দেওয়া সেই সিম এই বাটন ফোনে ঢুকায়। নওশাদের আবার দুটো ফেসবুক আইডিও। একটা কলেজের জন্য, আরেকটা ব্যক্তিগত। সেখানে কলেজ বিষয়ক কোনো কিছু-ই নেই। ইভেন ও কোন কলেজে শিক্ষকতা করে সেটাও নেই।
নওশাদ বাটন ফোনের একটা একটা নাম্বার সেভ করছে আর টাচ ফোন থেকে ডিলিট করে দিচ্ছে। ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দ হয়। নওশাদ চোখ তুলে তাকায়। পুনম ব্লাউজ, পেটিকোট পড়ে গায়ে ওড়না জড়িয়ে বেরিয়েছে। তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে ড্রেসিংটেবিলের সামনে দাঁড়ায়। মুখে মশ্চারাইজার মাখতে মাখতে নওশাদকে জিজ্ঞাসা করে,
“রেডি হচ্ছেন না যে?”
“তুমি রেডি হয়ে নাও। আমার বেশিক্ষণ লাগবে না।”
“ওকে।”
পুনম চুল আঁচড়ায়। চুল আঁচড়াতে আচড়াতেই প্রশ্ন করে,
“এই চুল খোলা রাখবো নাকি খোপা করবো?”
“হিজাব বাঁধবে।”
“চুল খোলা রাখি?”
“না।”
পুনম কথা বাড়ালো না। মেকআপ করতে থাকে। নওশাদ নিজের কাজ করতে করতে বলে,
“মেকআপ করছো, করো। তবে সিম্পল হ্যাঁ? নিজের মুখই পাল্টে ফেলো না।”
“আমি মুখ পাল্টাইও না।”
নওশাদ কিছু বললো না। আধশোয়া হয়ে নাম্বার সেভ করতে থাকে। পুনম চোখে কাজল দিয়ে বলে,
“আপনি করছেনটা কি?”
“কলেজের স্টুডেন্ট, স্যার, ভিপি সবার যত নাম্বার আছে সব বাটন ফোনে সেভ করছি।”
“সিমও বাটন ফোনে ঢুকিয়ে ফেলেছেন?”
“হ্যাঁ।”
“সব নাম্বার না গুগলে সেভ করা আছে?”
“হু।”
“তো আপনি আরেকটা কাম দামি টাচ ফোন কিনতেন। টাচ ফোনে ওই গুগলে লগ ইন করলেই অটো নাম্বারগুলো চলে আসতো। এভাবে নাম্বার সেভ করতে হতো না। গাধার খাটুনি খাটছেন।”
“দুটো টাচ ফোন ক্যারি করার মতো এনার্জি নেই।”
লিপস্টিক দিয়ে বলে, “কতক্ষণ ধরেই তো সেভ করছেন। কয়টা বাকি?”
“শেষের দিকে।”
পুনম মেকআপ সামগ্রি গুছিয়ে রেখে শাড়ি পড়া শুরু করে। পুনম যখন শাড়ির আঁচল টেনে কুচি ধরছিলো তখন নওশাদ পুনমের দিকে তাকায়। দুটো মোবাইলই রেখে উঠে দাঁড়ায়। আড়মোড়া ভেঙে বলে,
“হেল্প করবো?”
“কুচি ধরতে পারবেন?”
“ট্রাই করি।”
নওশাদ পুনমকে কুচি ধরতে সাহায্য করে। পুনম কুচি গুঁজে আয়নার দিকে ফিরে। নওশাদ পুনমের পিছনে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবি পড়ে নেয়। পুনম কাঁধের আঁচলে সেফটিপিন মারে। নওশাদ পাঞ্জাবির কলার ঠিক করতে করতে বলে,
“ভালো করে সেফটিপিন মারো। শরীর যাতে দেখা না যায়।”
কুচিগুলোতে একসাথে সেফটিপিন মেরে পুনম বলে,
“মেরেছি।”
“শেষ?”
“হুম।”
নওশাদ পুনমের পিছনে এসে দাঁড়ায়। পুনমকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে আয়নায় তাকায়। পুনমও আয়নার দিকে তাকিয়ে আছে। নওশাদ পুনমের কোমরের বাম দিকে হাত দিয়ে গালে গাল ঘষে বলে,
“এখানে সেফটিপিন লাগাও।”
পুনম ড্রেসিংটেবিল থেকে সেফটিপিন নিয়ে লাগালো। সেফটিপিন লাগিয়ে বলে, “আপনি রেডি?”
“হুম।”
বলে পুনমকে ছেড়ে দেয়। ঘড়ি নিয়ে পড়ে। পুনম আলমারি থেকে হিজাব বের করে সময় নিয়ে হিজাব বাঁধে। একেবারে রেডি হয়ে নওশাদকে জিজ্ঞাসা করে,
“কেমন?”
নওশাদ মুখে কিছু বলে না। কেবল পুনমের কপালে চুমু খায় সময় নিয়ে। নওশাদ সরে যেতেই পুনম বলে,
“আপনার মোবাইল দিন।”
“কেনো?”
“জাইমা জেরিনকে কল দিবো। দেখি রেডি হলো কিনা!”
নওশাদ পুনমকে টাচ মোবাইল দেয়। বাটন ফোনট ড্রয়ারে রাখে। পুনম কল লিস্টে ঢুকে দেখে নওশাদ যাকে লাস্ট কল করেছিল তার নাম্বার হোম মিনিস্টার দিয়ে সেভ করা। পুনম চেক করে দেখে নাম্বারটা ওর। নওশাদ কলেজ থেকে ফিরার পথে পুনম করেছিল সেই সময়টার। পুনম ভেঙ্গায়, নওশাদ যে বড় জ্ঞানের কথা বলেছিলো ওর নাম্বার ফেনীর মধু নামে নাম্বার সেভ করায়? এখন? এখন নিজে পুনমের নাম্বার কি নামে সেভ করেছে? হোম মিনিস্টার নামটা দেখে বুঝি কেউ হাসাহাসি করবে না? জঘন্য বাটপার নোয়াখাইল্লা বেডা।
নওশাদ বলে, “কল দিচ্ছো না কেনো?”
“আপনি আমার নাম্বার হোম মিনিস্টার দিয়ে সেভ করেছেন?”
“হ্যাঁ?”
“মানুষ দেখলে হাসাহাসি করবে না?”
“কোন মানুষ দেখবে?”
“আমি যখন আপনার নাম্বার ফেনীর মধু দিয়ে সেভ করেছিলাম তখন তো খুব বলেছিলেন মানুষ দেখবে। আমারটা মানুষ দেখবে আর আপনারটা কেউ দেখবে না?”
“তোমার ফোন জাইমা, জেরিন ধরে, দেখে। ইদানীং দেখি জিসানও এসে ফ্রি-ফায়ার খেলে যায়। আমার ফোনে তুমি ছাড়া কেউ হাত দেয় না। সো দেখারও সুযোগ নেই, গাধা।”
পুনম ফোঁস করে শ্বাস ফেলে। নওশাদ পুনমের হাত থেকে মোবাইল নিয়ে নেয়। বলে,
“থাক তোমাকে কল করতে হবে না। আমিই করছি।”
নওশাদ জেরিনকে কল করে। জাইমা, জেরিনও রেডি। নওশাদ, পুনম, জিসান, জাইমা, জেরিন বেরিয়ে পড়ে। তবে পুনম, জাইমা, জেরিন সারা রাস্তা তৌহিদাকে বকতে বকতে যায়। রুমঝুমের কাজকারবার নিয়েও আফসোস করে। জেরিন তো পুনমকে থ্যাংকসও দিয়েছে ঠিক সময় পুনমের মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার জন্য৷ পুনম আর আসল কাহিনি বলেনি৷ সারা রাস্তা এত বকবক করেছে শেষমেশ নওশাদ জোরেশোরে ধমক দিয়ে বসে। জেরিন পুনমের কানে ফিসফিস করে বলে,
“এই লোকের সাথে সংসার করো কি করে? কথায় কথায় এভাবে ধমকায় কেনো? আম্মু বলেছে বিয়ে দিলে ঠিক হয়ে যাবে৷ এক চুলও তো ঠিক হয়নি।”
পুনম নওশাদের পিঠের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসে। ভণ্ড রে! ভণ্ডামিই শেষ হয় না৷ রাত হলে পুনমের কান জ্বালিয়ে ফেলে আর এখন এমন ভাব করছে যেন সে কথা বলা পছন্দই করে না।
_______________
আরিফ, তৌহিদা একসাথে স্টেজে বসা। যেই স্টেজে উঠে, সেই তৌহিদা, আরিফকে কেক, মিষ্টি খাইয়ে দিচ্ছে। তৌহিদা সবাইকে বলে দিয়েছে ওকে হলুদ না লাগানোর জন্য। তাই কেউ লাগাচ্ছেও না। কিন্তু এখানে উচ্চ শব্দে গান বাজছে। এক সাইডে নাচানাচি হচ্ছে। আরিফের বিরক্ত লেগে উঠেছে। ও রুমঝুমকে সবসময় বলতো বিয়ে করলে মসজিদে বিয়ে করবে। হলুদ, রিসেপশন এইসব ভংচং করবে না। টাকাও খরচ, সংয়ের মতো বসে থাকতেও বিরক্ত লাগে। এই দুই অনুষ্ঠান করার চাইতে অনুষ্ঠান করতে যে টাকা খরচ হতো তা দিয়ে পথশিশুদের খাওয়ালেও ভালো।
তৌহিদা আরিফকে ফিসফিস করে বলে, “তুমি কি হাসতে পারো না?”
আরিফ উত্তর দেয় না। টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে। তৌহিদা মাথা নিচু করে ফের বলে,
“এইযে তোমার এইসব ছাড়া ছাড়া ব্যবহারের জন্য সবাই আমার মজা উড়িয়েছে। কেউ কখনো আমাকে নিয়ে মজা করার সুযোগ পায়নি। শুধু তোমার জন্য আমাকে এগুলো ফেস করতে হলো। একটু পর আমার ফ্রেন্ড কাপল ডান্সের জন্য ডাকবে। তুমি এক ডাকেই যাবে। এনগেজমেন্ট নষ্ট করেছো, এটলিস্ট হলুদের রাতটা নষ্ট করো না।”
আরিফ মনে মনে ‘ডিজগাজটিং’ বলে টিস্যু ছুঁড়ে ফেলে দেয়। সবাই গেলেও জেরিন, জাইমা, নওশাদ, পুনম স্টেজে উঠেনি। ইসরাত তো জেদ করে আসেইনি। শাওনও তাই আসেনি। উপস্থিত বাকি সবাই মোটামুটি স্টেজে গিয়ে ওদের সাথে ছবি তুলেছে, কেক খাইয়ে দিয়েছে। সর্বশেষে আলামীন, হাসনাহেনা স্টেজে উঠে। হাসনাহেনার মুখ কালো। হাসনাহেনা তৌহিদার পাশে বসে একটু কেক কেটে তৌহিদার মুখের সামনে ধরে। তৌহিদা কেক খেয়ে বলে,
“আপনারা মা ছেলে হাসতে পারেন না? বিরক্তিকর। একটা ছবিও ভালো উঠছে না। অসহ্য লাগে।”
আলামীন কপাল কুচকে তাকিয়ে বলে, “তুমি তোমার শ্বাশুড়ির সাথে এভাবে কথা বলছো কেনো?”
“ভুল কিছু তো বলিনি। ছবি একটাও পোস্ট করতে পারবো না। মান সম্মান থাকবে আমার? এই বিয়ে করার থেকে না করলেই ভালো হতো।”
আরিফ দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “তো বিয়ে কোরো না। তোমাকে জোর করেছে কেউ?”
“তোমাকে আগেই বলেছি আমি জাস্ট একটা সোশ্যাল স্টাটাসের জন্য বিয়ে করছি। নাহলে আমার বিয়ে করা না করায় কোনো সমস্যা ছিল না। আমি ইন্ডিপেন্ডেন্ট। আর বিয়ে হলেও বা কি? আমি তো আগেই মতোই থাকবো। লাইফস্টাইলেই এক বিন্দু পরিমাণ ডিফারেন্স থাকবে না। এক্সকিউজ মি।”
তৌহিদা টিস্যু নিয়ে উঠে চলে গেল। হাসনাহেনা আরিফের দিকে একবার, আলামীনের দিকে আরেকবার তাকিয়ে স্টেজ থেকে নেমে যায়। আরিফও স্টেজ থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে যায়। বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে মুখে কয়েকবার পানি ঝাপটায়। পকেট থেকে রুমাল বের করে মুখ মুছতেই আরিফের ফোন বেজে উঠে। আরিফ পাঞ্জাবির পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখে মাহতাব কল করেছে। আরিফ রিসিভ করে,
“কি?”
“রিমি, সেজো খালুর সাথে রুমঝুম এসেছে।”
আরিফ ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞাসা করে, “কোথায়?”
“রুমঝুমের সাথে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এসো।”
আরিফ কেটে দিলো। আয়নার দিকে তাকিয়ে চুল ঠিকঠাক করে। রুমাল পকেটে ঢুকিয়ে পাঞ্জাবি টানটান করে কমিউনিটি সেন্টারের গেটের দিকে পা বাড়ায়।
রুমঝুম মাহতাবের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। আরিফ ওদের পিছনে দাঁড়িয়ে গলা খাঁকারি দেয়। রুমঝুম পিছনে ফিরে। মাহতাব অন্যদিকে চলে যায়। আরিফ দু পকেটে হাত গুঁজে বলে,
“কিরে ব্রাইড, গ্রুমের কাজিনদেরকে যে হলুদ শাড়ি দেওয়া হয়েছিল রিমি তোকে সেটা দেয়নি? কালকে না ওর কাছে দিয়ে দিলাম?”
রুমঝুম খাপছাড়া গলায় বলে, “আমি কি তোমার বিয়ে খেতে এসেছি?”
“বিয়ে না তো, আজ হলুদ। হলুদ তো খেতেই এসেছিস।”
“তুমি সত্যি সত্যিই বিয়েটা করছো?”
“তো মিথ্যা মিথ্যা বিয়ে করে নাকি?”
রুমঝুম আরিফের দিকে তাকিয়ে থাকে। “বিয়েটা করে নিবে? আমাকে একটু জোর করলে কি হতো?”
“করিনি?”
“বুঝিনি আমি এতকিছু।”
“গোপনীয়তা শিখেছিলি। কথা গোপন রাখ আরো। এতো বোঝাবোঝির কিছু নেই তো।”
“তুমি আরেকটু বোঝাতে আমাকে? আমি নাহয়…”
“তোর পা পর্যন্ত ধরেছিলাম। বলেছিলি কিছু? শেষমেশ মাইর খাওয়ার পর বলেছিলি। সবাই যে রিজনে বিয়ে দিতে চাচ্ছিলো না আনফরচুনেটলি আমি সেই কাজটাই করে ফেলেছিলাম। আমার গিল্টি ফিলিংটা তুই মুছে দিতে পারবি?”
“আমি..”
রুমঝুমের কথা শেষ হলো না। তার আগেই আরিফ বলে, “আয় তোর ভাবির সাথে দেখা করে যা।”
রুমঝুম কান্না চেপে বলে, “কেনো করছো এমন?”
“কি কেনো করছি?”
“জেদ করে বিয়েটা না করলে হতো না?”
“জেদ করে কোথায় বিয়ে করছি? জেদ করলে তোরা আমাকে এখান পর্যন্ত আনতে পারতি?”
“আমার উপর এত রাগ?”
“তুই আমার কে যে তোর উপর আমার রাগ হবে? তুই আমার বউ না কিছু? খালাতো বোনের উপর রাগ করে কে?”
“মেয়েটা তো ভালো না। সবাই বলেছে।”
“খারাপ হোক, ভালো হোক। বউ আমার, সংসারও হবে আমার। সবার এত জ্বলে কেনো? আমার যে কোনো কিছু নিয়েই সবার অনেক মাথাব্যথা। সবাই আমার অনেক চিন্তা করেছে, আর চিন্তা করতে হবে না।”
রুমঝুম আরিফের বুকে ধাক্কা মারে। আরিফের কাছে এসে পাঞ্জাবি মুঠো পুরে বলে, “কিসের বউ তোমার? হ্যাঁ কিসের বউ?”
আরিফ রুমঝুমকে সরিয়ে দিয়ে বলে, “গায়ে হাত দিবি না রুমঝুম। আমি তোর আপন বড় ভাই না বা তুই-ও ইসরাত না। কাজিন কাজিনের মতো থাকবি। প্রাপ্তবয়স্ক কোনো মেয়ে এভাবে তার খালাতো ভাইয়ের কাছে আসে না।”
রুমঝুম চুল খামচে ধরে। বড় বড় শ্বাস ফেলে বলে,
“সব বাদ দিলাম। তোমার একটুও খারাপ লাগবে না বিয়ে করতে?”
“বিয়ে করতে খারাপ লাগে কার? পাগল নাকি? ছেলেদের তো বিয়ে করতে আরো ভালো লাগে। আমার তো খুশি লাগছে অনেক। ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।”
“ছয় বছর আরিফ। ছয়..ছয়টা বছর রিলেশনে থাকার পর তুমি পারবে অন্য কাউকে বিয়ে করতে?”
আরিফ রুমঝুমের দিকে তাকালো। তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে,
“তোদের সবার কথাই তো রাখছি। সেদিন ছাদে বোঝাসনি আমাকে আম্মু-আব্বুর কথা মতো বিয়ে করে নিতে? আমি যেখানে তোকে রিকোয়েস্ট করছিলাম বিয়ে করা নিয়ে সেখানে তুই বলেছিস সবার কথা মতো বিয়ে করে নিতে। সবারটা বাদ, তোর কথা মতো করছি তো বিয়ে। তাহলে এভাবে মরে যাচ্ছিস কেনো? তাদের কথা রাখলেও দোষ, না রাখলেও দোষ? আমি যা করি তাই ভুল না?”
“আমি…”
মাহতাব ওদের সামনে এলো। হাতে ফোন, গান বাজছে,
“Har kisi ko nahi milta yahan pyar zindagi mein…”
রুমঝুমের চোখে পানি আসে। দৃষ্টি আড়াল করে। মাহতাব গান বন্ধ করে বলে, “ওপস সরি। স্ক্রিনে ভুলে টিপ পড়ায় ঠিক জায়গায় ঠিক গান বেজে উঠলো।”
আরিফের দিকে তাকিয়ে বলে, “তোমাকে তৌহিদা ভাবি ডাকছে কাপল ডান্সের জন্য।”
“যা আসছি।”
মাহতাব চলে গেল। রুমঝুম বলে, “কাপল ডান্স করবে না তুমি।”
“তোর কথা মতো? আমার বিয়ে, আমি সব করবো।”
“তুমি ওর সাথে নাচবে না।”
“নাচলে তোর কি?”
রুমঝুম দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “তোমার আসলে ওই তৌহিদাকে ভালো লেগেছে সেটা বলো। ও কিছুক্ষণ পর পর এসে গায়ে ঢলে পড়ে, টাচ করে এইসব তোমার ভালো লেগেছে না?”
“হ্যাঁ লেগেছে তো? কি করবি?”
“তুমি না মারলে আমি সেদিনই বিয়েতে হ্যাঁ বলে দিতাম।”
“তোকে মেরে ভুল করেছি আমি অবশ্যই। এন্ড আই ফিল রিয়েলি সরি ফর ইট। আমার রাইট নেই তোর গায়ে হাত তোলার। কিন্তু আমাকে তোর গায়ে কেনো হাত তুলতে হলো, সেটা আগে নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন কর। উত্তর খুব সোজা। ঝুঁকেছিলাম তোর সামনে, দাম দিসনি। হোয়াটএভার ন্যাকামির ফল ভোগ কর। আমি আমার বিয়ের প্রোগ্রামে তোর সাথে কথা বলে কেনো সময় নষ্ট করছি? আমাকে এখন কাপল ডান্স করতে হবে।”
আরিফ বড় বড় পা ফেলে ভিতরে চলে গেল। রুমঝুমও আরিফের পিছন পিছন যায়। রুমঝুম ভেবেছিল আরিফ এমনিই বলেছে। কিন্তু রুমঝুমকে অবাক করে দিয়ে আরিফ সত্যি সত্যি কাপল ডান্স করেছে। রুমঝুমের সাথে কিছুক্ষণ পর পর আরিফের চোখাচোখি হচ্ছিলো। তৌহিদা আরিফের গালে হাত দেয়, আরিফের বুকে মাথা রাখে। আরিফ তৌহিদার কোমরে হাত রাখে। আরিফ রুমঝুমকে দেখিয়ে দেখিয়ে আরো বেশি করে এইসব করেছে।
রুমঝুম আর থাকতে পারেনি। আব্বু, রিমির সাথে বাসায় চলে আসে। মাহতাব আবার কাজিন গ্রুপে আরিফের কাপল ডান্সের ভিডিও দিয়েছে। এগুলো পুনরায় দেখে কাঁদতে কাঁদতে অবস্থা খারাপ হয়ে যায় ওর। শেষমেশ টিকতে না পেরে ভোররাতের দিকে হাই পাওয়ারের ঘুমের ঔষধ খায়। রুমঝুমের ঘুম ভাঙে পরদিন বিকাল তিনটায়। তাও রিমির ডাকে।
রুমঝুম পিটপিট করে তাকায়। রিমি রুমঝুমকে ঝাঁকিয়ে বলে,
“আরিফ ভাইয়া কোথায়?”
রুমঝুম ঘুম থেকে উঠেই বিষয়টা ক্যাচ করতে পারেনি। বোকার মতো তাকিয়ে থাকে। রিমি আবারও রুমঝুমকে ঝাঁকিয়ে বলে, “বলছিস না কেনো? আরিফ ভাইয়া কোথায়?”
রুমঝুমের মেজাজ খারাপ হলো। এমনভাবে বলছে যেন আরিফকে ও আঁচলের তলায় লুকিয়ে রেখেছে। ঘড়ির দিকে তাকায়, সময় দেখে। তিরিক্ষি মেজাজেই বলে,
“আমার কোলে দেখতে পাচ্ছো না?”
“একটা থাপ্পড় দিবো বেয়াদব। যা জিজ্ঞাসা করছি শুধু তার উত্তর দে।”
“বিয়ে করতে গিয়েছে। আমাকে জিজ্ঞাসা করছো কেনো?
“বিয়ে করতে যায়নি। বারোটার পর থেকে আরিফ ভাইয়ার খোঁজই নেই। ফাজলামো না? একটা মেয়েকে বিয়ের জন্য প্রস্তুত করে বিয়েই করতে না যাওয়া? মজা পেয়েছে নাকি? মেয়ে ওর নামে কেস করবে বলেছে।”
চলমান……
(ভীষণ খাপছাড়া পর্ব। ভালো লাগছে না। হ্যাপি রিডিং…)

