#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~
#পর্ব_২১
#সমৃদ্ধি_রিধী
ঘড়ির কাঁটা বারোটার ঘরে। রুমের লাইট নেভানো। পুরো রুম অন্ধকার। নওশাদ কার্ডবোর্ডের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে। পুনম নওশাদের গায়ের উপর হাত রাখে। উদ্দেশ্য ছিল নওশাদের বুকের উপর হাত রাখা। নওশাদ বসে আছে অনুভব করে পুনম বলে,
“ঘুমাননি যে?”
“ঘুম আসছে না।”
পুনম উঠে বসে। “কেনো? আরিফ, রুমঝুমের বিষয় নিয়ে ভাবছেন?”
“হু।”
পুনম কিছু বললো না। বলার মতো কিছু পেলো না। নওশাদ বলে,
“তোমার কি মনে হয় আরিফের সাথে রুমঝুমের বিয়ে হলে ভালো হবে?”
“আপনারা তো চান না। বড়রা না চাইলে কি করে ভালো হয়?”
“ওরা নাকি একে অপরকে ভালোবাসে। দুজন মানুষের স্রেফ দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে সংসার হয়?”
“হবে না কেনো?”
“তোমার আমার মধ্যে ভালোবাসা আছে? তাহলে সংসার হচ্ছে কি করে?”
“সংসার হলোই দুমাস ছুঁই ছুঁই। তাছাড়া অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে ভালোবাসা টালোবাসা থাকে আদোও?”
“তো কি থাকে?”
“যত্ন থাকে, বিশ্বাস রাখতে হয় এটাই। দুটো অপরিচিত মানুষ জুড়ে যায়, একে অপরের প্রতি বিশ্বাস আসে এটাই কত না! আবার ভালোবাসা!”
“আরিফ, রুমঝুমের অন্যত্র অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ হলে ওরা সুখী হবে না?”
“না।”
“কেনো?”
“ওরা অনেক বছর ধরে রিলেশনে আছে। ওদের মাইন্ডে ওভাবেই সেট আপ করা ছিল যে ওরা একে অপরকে বিয়ে করতো। ওরা ভালোবাসে একে অপরকে। ওরা একে অপরকে বুঝে। তাই ওদের সংসারটা অন্যরকম হতো। ওরা নিজেরা নিজেদেরকে চুজ করেছে। নওশাদ আর পুনমের মতো আল্লাহর উপর বিশ্বাস করে ছেড়ে দেয়নি।”
“আরিফ দুলাভাইয়ের মতো হলেও সুখী হবে?”
“শিক্ষিত হলে আবালের মতো কথা বলবেন না। আরিফের আব্বু এমন বলে আরিফও ওমন হবে কেনো? বাবা এমন বলে ছেলেও এমন হবে তার কি গ্যারান্টি? আমার আব্বু, আম্মু দুজনেই ঠান্ডা। আমার ভাইদের যে ফটকা মেজাজ?”
“তোমাকে এমন পরিবারে জেনে বুঝে বিয়ে দিতো যেখানে বাবা-মার মধ্যে সমস্যা? বাবা খারাপ?
“সত্যি বলতে না।”
“কেনো না জানো? বাবা-মার ধারা সন্তানরা পায় তাই দিতো না।”
পুনম চুপ করে গেল। নওশাদ বলে, “আমরা রুমঝুমের ক্ষতি চাই না।”
“আপনাদের চিন্তা বাদ। রুমঝুম কি চায় জানতে চাননি?”
“ও চায় না।”
“মন থেকেই চায় না?”
“ও বলেছে চায় না।”
“আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করি?”
“হুম।”
“ধরুন আমার আপনার সাথে পাঁচ ছয় বছরের সম্পর্ক। আপনার পরিবারিক সমস্যার কারণে আমাদের বিয়েটা হলে ভালো হবে না। আপনি কি পারতেন আরেকটা জায়গায় বিয়ে করতে? এত বছরের সম্পর্ক ভোলা যায়?”
নওশাদ চুপ করে থাকে। পুনম বলে, “আবার ধরুন আমিও কি পারবো আপনাকে মন থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলে আরেকজনের ঘর করতে? সংসার মানে কড কিছু। আমার এমন কিছু নেই আমি তাই ইজিলি মেনে নিয়েছি। যদি থাকতো আপনার স্পর্শ, আপনার উপস্থিতি আমার সহ্য হতো? আবার ওরা কাজিন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ওদের অপ্রত্যাশিতভাবে হলেও দেখা হবে। তখন ওদের কষ্ট হবে না?”
“মুভ অন করা যায় না?”
“ক্ষেত্র বিশেষ, ব্যক্তিবিশেষ হয়তো-বা যায়। তবে আমি হলে পারতাম না। মুভ অন কি মুখের কথা? ওরা একে অপরকে বুঝে, ভালোবাসে, একে অপরের বিশ্বাসযোগ্য বলেই এত বছর লুকিয়ে সম্পর্কে ছিল। যদি একে অপরের ভরসা যোগ্য না হতো তাহলে কিন্তু এত বছর একসাথে থাকতে পারতো না। এখন ওদের মধ্যে পার্সোনাল কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা তা তো জানি না। ওরা এখন পার্সোনাল সমস্যার জন্য একে অপরকে ছাড়ছে নাকি শুধু ফ্যামিলির কথা ভেবে ছাড়ছে তা শুধু ওরাই জানে। নিজেদের মধ্যে সমস্যা হলে কথা বলে মিটিয়ে নেওয়াই ভালো না?”
“বিয়ের আগের সব সম্পর্কই হারাম। এইসব হারাম সম্পর্কে সুখী হওয়া যায়?”
“আমার ভাইয়া ভাবি প্রেম করে বিয়ে করেনি? ওরা কি বানের জলে ভেসে গিয়েছে?”
“জানি না।”
“আপনি পার্সোনালি পছন্দ করেন না তাই এমন মনে হয়।”
“এত ভালোবাসার বুলি আওড়াচ্ছো কিভাবে?”
“মুভি দেখে। মুভিতে এমন অনেক লাইট আছে। নায়ক-নায়িকার জন্য আত্নহত্যাও করে।”
“মুভি দেখায় খুব এক্সপার্ট না?”
“আপনি কি ধরনের মুভি দেখতে চান আমাকে বলুন। আপনি কোন দেশের মুভি দেখতে চান শুধু সেটা বলুন। এনিমি দেখবেন? লিস্টের অভাব নেই। হিন্ডি, বাংলা, ইংরেজি মুভি, ড্রামা, সিরিজ কি দেখিনি আমি?”
“তারপরও অভিজ্ঞতা এত কম কেনো? মাথায় তো শুধু গোবর।”
পুনম নওশাদের হাতে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলে, “বাজে কথা বলবেন না।”
“নায়করা নায়িকার জন্য সব করতে পারে?”
“মুভিতে হ্যাঁ।”
“যেমন?”
“যেমন ধরুন বিবাহ মুভিতে বিয়ের দিন পুনমের গায়ে আগুন লাগার পর নায়ক প্রেম ওকে হসপিটালে বিয়ে করেছিল। এটার মাধ্যমে পুনমের মনে সাহস এসেছে, কনফিডেন্স এসেছে। প্রেমের জন্যই মূলত পুনম সাহস পেয়েছে।”
“এখন আমি তোমার কোন গালে থাপ্পড় দিবো বলো?”
“এ্যাঁ কেনো?”
“প্রেম পুনমের বুলি আওড়াতে নিষেধ করেছি না?”
পুনম হাসে। “পাগল আপনি। আমি তো মুভির কথা বললাম।”
“প্রেম-পুনমের বুলি আরেকবার আওড়ালে বারান্দা দিয়ে ফেলে দিবো।”
“অনেক ভয় পেয়েছি।”
“তুমি বোধহয় ভুলে যাচ্ছো আম্মার রুমের বারান্দার গ্রিল খোলা যায়।”
“আমাকে আসলেই ফেলে দেওয়া পর্যন্ত চলে গিয়েছেন?”
“হ্যাঁ। আগেই বলেছি আমি এত ভালো না। আমি গাদ্দার।”
“গাদ্দার হলে আমি মরলে তো তাহলে আমাকে মনেও রাখবেন না। আরেকটা বিয়ে করে নিবেন।”
“তোমার মতো গাধা কাউকে পেলে অবশ্যই।”
“আমি মরলে আপনি বিয়ে করবেন- এটা আবার বলছেনও? আপনার মনে একটুও মায়া দয়া নেই?”
“আগেই বলেছি আমি গাদ্দার। মায়াদয়া কারো কাছ থেকে পাইনি তাই আমার কারো প্রতিই মায়াদয়া কাজ করে না। আরেকটা বিয়ে করার কথাটা? তোমার মতো গাধা দুটো আছে পৃথিবীতে যে তোমার মতো আরেকটা গাধা পাবো বিয়ে করার জন্য?”
“কথা কম ঘুরান। আপনার আসল চেহারা দেখে ফেলেছি।”
“ইউনিভার্সাল ট্রুথ এগুলো। আমার আব্বার জায়গায় আম্মা মরলে আব্বা নিঃসন্দেহে আরেকটা বিয়ে করতো। ক’টা পুরুষ মানুষ বউ মরলে না বিয়ে করে থাকে? যত ভালোই হোক, যতই প্রথম বউকে ভালোবাসুক দ্বিতীয় বিয়ে সে করবেই। পরিবারের চাপে পড়ে হলেও করবে, প্রথম প্রথম না মানতে পারলেও একসাথে থাকতে থাকতে ঠিকই মেনে নেয়। তখন তার নাম হয় দ্বিতীয় সূচনা।”
পুনম রাগ করে শুয়ে পড়লো। নওশাদ বুঝলো। কাঁথার ভিতর ঢুকে পুনমকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো।
“তুমি রাগ করলে বোঝা যায় গাধা। গাল ফুলে যায়।”
পুনম নড়লো চড়লো না। নওশাদ পুনমকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
“আবার শাট ডাউন হয়ে গেলে?”
“আমি মরলে আরেকটা বিয়ে করবেন?”
“তুমি তো এখনও মরো নাই। মরো তারপর বোঝা যাবে আরেকটা বিয়ে করি নাকি করি না।”
“আপনি অনেক খারাপ।”
“তুমিও অনেক খারাপ। একবার বলেছি না তুমি ছাড়া আমার কেউ নেই, তাই এইসব বলবে না। তুমি যত উল্টাপাল্টা কথা, আমি যা অপছন্দ করি সেসব কথা যত বলবে, আমি তত তোমাকে কাঁদাবো। দেখবো কত কাঁদতে পারো।”
“আমার মেয়ে হলে জীবনেও এক বাবার এক ছেলের কাছে বিয়ে দিবো না।”
“মেয়ে হওয়া পর্যন্ত চলে গিয়েছো? তুমি না লাজুক?”
পুনম মুখে কুলুপ এঁটে রইলো। নওশাদ বুঝলো আজ আর জবাব পাওয়া যাবে না। তাই পুনমকে জড়িয়ে ধরেই চোখ বুঝলো। তবে নানান বিষয়ের চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে।
____________
আরিফ জেদ করে বলেছিল শুক্রবার তৌহিদাকে বিয়ে করবে। শুক্রবারে বিয়ে হবে বললেও হলো না। মাঝে কেটে যায় এক সপ্তাহ। আজ মঙ্গলবার। গত শুক্রবারে বিয়ে না হলেও এই শুক্রবার আরিফের বিয়ে। আরিফ রেস্টুরেন্টে বসে আছে দশ মিনিট যাবৎ। মোবাইল বের করে ফেসবুক স্ক্রল করতে থাকে। রুমঝুমের সাথে ওর যোগাযোগ নেই। হাসনাহেনাকে, ইসরাতকেও রুমঝুমের বিষয়ে কথা তুলতে নিষেধ করে দিয়েছে। নওশাদ কল করেছিল দুদিন। আরিফ রিসিভ করেনি। রিমিও কল করেছিল রিসিভ করেনি। আলামীনের সাথে গত বুধবার তুমুল ঝগড়া হয়েছে। আরিফের যা মন চায় তাই বলেছে।
আলামীন বরাবরই আরিফ, ইসরাতের প্রতি দুর্বল। বরাবরই, ওদের জন্মের পর থেকে। আলামীনের সমস্ত জীবন, অহংকার একদিকে তো আরিফ, ইসরাত অন্যদিকে। ছেলের চরম দুর্ব্যবহার সহ্য করতে না পেরে ডায়াবেটিস, প্রেশার বেড়ে অবস্থা বেগতিক হয়ে গিয়েছিল। রীতিমতো হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। নওশাদের সাথে হাসপাতালে দেখা হলে আরিফ এড়িয়ে যায়। শুধু কি নওশাদ? আরিফ কারো সাথেই কথা বলেনি। ছেলে হিসেবে বাবার প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য করে উধাও হয়ে গিয়েছিল। এইযে হাসনাহেনা কান্নাকাটি করেছে, আম্মুকেও তো সান্ত্বনা দেয়নি।
“মিস্টার আরিফ?”
আরিফ পিছনে ফিরে। ওয়েস্টার্ন ড্রেস পড়া মেয়েটি বলে,
“আমি তৌহিদা। আপনার সাথেই দেখা করার কথা?”
“জ্বি।”
“বসলাম?”
“শিওর।”
তৌহিদা চেয়ার টেনে বসে। “কফি অর্ডার দিচ্ছি।”
“শিওর।”
তৌহিদা কফি অর্ডার দেয়। রুমঝুম বাইরে কখনোই ওয়েস্টার্ন ড্রেস পড়তো না, এভাবে চুল স্ট্রেট করে, কালার করে ঘুরতো না। সবসময় এপ্রোন টাইপের বোরকা আর হিজাব পড়তো। এতটা হাই মেকআপও করতো না। আরিফ মেলাচ্ছে তৌহিদাকে রুমঝুমের সাথে। বিষয়টা মাথায় আসতেই আরিফের রাগ হলো। রুমঝুমকে মনে আনবে না ও। কিছুতেই আনবে না।
তৌহিদা আরিফের দিকে ফিরে বলে, “আপনাকে তুমি করেই বলছি যেহেতু আমাদের এইজ গ্যাপ বেশি না।”
আরিফ হালকা হেসে বলে, “শিওর।”
তৌহিদা কানের পিছনে চুল গুঁজে বলে, “কাল আমাদের এনগেজমেন্ট, দুদিন পরই বিয়ে তাই আমি তোমার সাথে খোলামেলাভাবে কিছু কথা বলতে চাই।”
রুমঝুম যদি নিজের জায়গায় ঠিক থাকতো তাহলে কি আরিফকে আজ এইসব ফেইস করতে হতো? হতো না।
তৌহিদা বলে, “তোমার কি রিলেশন আছে?”
আরিফ উত্তর দেওয়ার আগেই তৌহিদা বলে,
“অবশ্য রিলেশন থাকলেও আমার প্রবলেম নেই। আমি যেটার জন্য তোমার সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম সেটা হলো আমার রিলেশন ছিল। এখন নেই, তবে যখন ছিল এবং তখন খুব গভীর রিলেশনই ছিল। একটা সম্পর্ক এক্সট্রিমলি যতটা গভীর হতে পারে ঠিক ততটা গভীর। ওয়ান শর্ট অফ আমি টাইমপাস করেছি, একটা ভালো সময় এনজয় করেছি। তুমি প্রাপ্তবয়স্ক, আই হোপ তুমি বুঝেছো। দুই হাজার ছাব্বিশ সালে এটা কমন। আমার তোমাকে এটা ইনফর্ম করার ছিল। যাতে বিয়ের পর টক্সিকের মতো বিহেভ না করো।”
আরিফ শুনলো মন দিয়ে। ওর মনে হলো ওকে দূর থেকে দেখে মানুষ হাসছে৷ আয়হায়! মোঃ আরিফ হাসান আজীবন ফ্রেশ থেকে ওর লাভ কি হলো? আয়হায়। তৌহিদা বলে,
“আমাকে বিয়ে করতেই হতো। ফ্যামিলি প্রেশার দিচ্ছিলো অনেক। আব্বুও চাচ্ছিলো। আলামীন আংকেলকে আমি চিনি, আই গেজ তুমিও আংকেলের মতো ওপেন মাইন্ডেড হবে তাই বলছি বিয়ের পর কিন্তু আমি আমার লাইফস্টাইল চেঞ্জ করবো না। এখন যেভাবে আছি সেভাবেই থাকবো। কিচেনে গিয়ে খুন্তি নাড়তে পারবো না আমি।”
রুমঝুম সবসময় বলতো বিয়ে হলে ওর বাপের বাড়ি না যাওয়া ছাড়া আরিফকে কখনো ওদের হেল্পিং হ্যান্ডের হাতের রান্না খেতে হবে না। আর এই মেয়ে বলছে খুন্তি নাড়তে পারবে না? আরিফ নিজের অজান্তে ফের রুমঝুমের সাথে মেলালো।
“এন্ড আমার অনেক ছেলে ফ্রেন্ড আছে। তুমি আই গেজ টিপিক্যাল হাসবেন্ডদের মতো আমাকে ফোর্স করবে না যে ছেলে ফ্রেন্ড রাখা যাবে না। এন্ড দ্যা মোস্ট ইম্পর্টেন্ট ড্রেস! আমার ড্রেসআপ এমনই থাকবে। হেয়ারস্ট্রাইল চেঞ্জ হবে না। আমি কারো জন্য আই মিন তোমার পছন্দ মতো নিজেকে চেঞ্জ করতে পারবো না। যাই হয়ে যাক, আমি নিজেকে কখনোই চেঞ্জ করবো না। মোট কথা বিয়েটা করবো প্রেশার থেকে বাঁচতে, আমি নাহলে আগের মতোই থাকবো। আই হোপ তোমার সমস্যা নেই।”
এই কথাগুলো রুমঝুম বললে আরিফ ওকে কি করতো?
“না।”
কফি আসলো। তৌহিদা বলে, “আমি ঘুম থেকে মন মর্জি মতো উঠবো। সোজা ভাবেই বলছি আমার পারমিশন ছাড়া তুমি আমাকে টাচও করবে না। যেখানে খুশি যাবো, যা খুশি করবো। তুমি কিছু বলতে পারবে না। বুঝেছো?”
“হুম।”
“তোমার কিছু বলার আছে?”
“না।”
“আচ্ছা তুমি সিআইডিতে আছো না?”
“জ্বি।”
“তুমি যদি হুট করে মরে টরে যাও? এটা তো সমস্যা।”
রুমঝুম এটা বলতে পারতো? পারতো না। আরিফ মুখ বন্ধ করে রইলো। তৌহিদা কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে,
“হোয়াটএভার মুভ অন করা ব্যপার না।”
আরিফ কফি খেলো। তৌহিদা বলে, “তোমার হাইট ঠিক কত?”
“পাঁচ ফুট এগারো।”
“আমার পাঁচ ফুট পাঁচ। আই গেজ ঠিক আছে?”
“জ্বি।”
“ওহ হ্যাঁ আমি কিন্তু তোমার মায়ের সাথে থাকতে পারবো না। শ্বশুর শ্বাশুড়ির খেদমত করার নিয়ত নেই আমার। আই মিন আমার আলাদা বাসা চাই। তুৃমি আমি থাকবো। বুঝেছো?”
হাসনাহেনার ধারণা ছিল রুমঝুমের সাথে বিয়ে হলে সংসারে অশান্তি হবে। আরিফ মনে মনে পৈশাচিক হাসে। ওই সংসার ওর ভাঙতে হবে না। এই তৌহিদাই ভেঙে দিবে। ছোট করে বলে, “জ্বি।”
“বাচ্চাকাচ্চা নেওয়ার প্ল্যান নেই। বেবি নিলে মোটা হয়ে যায়। ফিটনেস নষ্ট হলে ঠিক করা কষ্ট। সো বেবির জন্য প্রেশার দিবে না। আমার বেবি টেবি নেওয়ার ইচ্ছাও নেই। বেশি বাচ্চা ভালো লাগলে একটা বাচ্চা মেইডসহ দত্তক নিয়ে নিও।”
“জ্বি।”
“তোমার বোন কি এলে বেশিদিন থাকে? আমার ঘরে বেশিদিন থাকা যাবে না। তোমার বাবা-মায়েরও। আমার বাসায় একচুয়েলি আসাই যাবে না। তুমি একা দরকার হলে দেখা করবে তোমার ফ্যামিলির সাথে। আমাকে ফ্যামিলি ড্রামায় ইনভলভ করবে না।”
“জ্বি।”
“বিয়ের পরে যেন সমস্যা না হয়।”
“জ্বি।”
আরিফ ঘড়িতে সময় দেখলো। উঠে দাঁড়ায়, বলে,
“আমার কাজ আছে। যেতে হবে।”
“কফি তো খেলে না।”
“রুচি নেই।”
“ওকে বাই।”
“আল্লাহ হাফেজ।”
তৌহিদা মুখটা কেমন যেন করলো। পরপরই মাথা দুলিয়ে বলে,
“আল্লাহ হাফেজ।”
আরিফ গা দুলিয়ে হাসে। লাইফ হেল করার জন্য তৌহিদার চাইতে বেটার অপশন হতেই পারে না। পারেই না। তৌহিদাকেই বিয়ে করবে ও। যা মন চায় হোক। সবার ভালো চাওয়া দেখবে ও।
___________________
এতসবের মাঝে জাইমার আব্বুর এক্সিডেন্ট হয়েছে। চলতি পথে সিএনজি উল্টে গিয়েছে। উনি বসা ছিলেন বা সাইডে। সিএনজি কাতও হয়েছে বা দিকে। ফলস্বরূপ বাম পা, বাম হাত ভেঙে গিয়েছে। আরিফ তৌহিদার সাথে দেখা করে জাইমার আব্বুকে দেখতে জবার বাসায় আসে।
কাকতালীয়ভাবে রুমঝুম, রিমিও ওই বাসায় ছিল। বকুল ছিল চারতলায় নওশাদের বাসায়। আরিফ রুমঝুমকে দেখেও না দেখার ভান করে মোতালেবের সাথে দেখা করে। মোতালেব মাথায়ও ভালো আঘাত পেয়েছে। মোতালেব বলে,
“তোমার বোনেরা তোমার বিয়ে নিয়ে এক্সাইটেড ছিল অনেক। জিসান তো কেনাকাটাও করে ফেলেছিল।”
“এখন যাবে না?”
“তোমার খালামণি যাবে না, আমার অবস্থা তো দেখছোই। তাই ওরাও যাবে না বলছে।”
“আচ্ছা আমি ওদেরকে বলবো।”
“ছুটি কয়দিনের?”
“পাঁচদিনের।”
“ওহ।”
“আপনি অসুস্থ। খালামণি মনে হয় না আপনাকে একা ফেলে যাবে। এখন যাওয়াটাও ঠিক না। কিন্তু সুস্থ হয়ে নিন। আপনার সুস্থতা উপলক্ষে পার্টি করা হবে। পার্টি আমি দিবো।”
“এত পার্টি দিতে হবে না। পার্টিতে যে টাকা খরচ হবে তা মসজিদে দান করা বেশি ভালো।”
“তা ঠিক।”
“তোমার খালামণি কোথায়? তোমাকে কিছু খেতে দিচ্ছে না কেনো?”
“এত ব্যস্ত হবেন না। আপনি অসুস্থ। আমি কি দাওয়াত খেতে এসেছি যে আসা মাত্রই খাবার দিতে হবে? আপনি সুস্থ হয়ে নিন। তখন খালামণিকে বলবেন তেহারি রান্না করতে, আপনার সাথে বসে কব্জি ডুবিয়ে খেয়ে যাবো।”
“তাও কিছু তো দিতে হয়?”
আরিফ উঠে দাঁড়ায়। “না লাগবে না। আমি চলে যাই, কাজ আছে।”
“তোমার খালামণিকে ডাকো। খালি মুখে কেনো যাবে?”
“না। আমি চলে যাই পরে আরেকদিন আসবো। খাওয়ার মতো সময় নেই।”
“পরে এসো আরেকদিন। বউ নিয়ে আসবে।”
যে না বউ! আরিফ হেসে বলে, “অবশ্যই। আজকে আসি।”
“সাবধানে যেও।”
“জ্বি।”
আরিফ রুম থেকে বেরিয়ে গেল। জাইমা, জেরিন ড্রয়িংরুমে। আর কেউ নেই।
আরিফ ওদের সামনে দাঁড়িয়ে বলে, “তোরা নাকি আমার বিয়েতে যাবি না?”
“আব্বুর শরীর ভালো না। আম্মুর মন খারাপ।”
“জিসান?”
“জিসানও যাবে না।”
“ওহ আচ্ছা। ঠিক আছে। আজ আসি।”
“চলে যাবে?”
“হুম।”
জাইমা বলে, “ভাইয়া একটা কথা বলি?”
“হ্যাঁ বল?”
“সব কেমন হয়ে গিয়েছে না?”
“কি সব কেমন হয়ে গিয়েছে?”
“মনে হচ্ছে সবাই অনেক দূরে চলে গিয়েছে।”
“কোথায়? সবাই তো আগেই মতোই আছে।”
“খালামণিরা কেউ কারো সাথে কথা বলে না, আমাদের কাজিন গ্রুপ থেকে তুমি লিভ নিয়ে ফেলেছো, ইসরাত আপু লিভ নিয়ে ফেলেছে। আপুকে কল দিলে আপু রিসিভ করে না, তোমাকে কল দিলে তুমি রিসিভ করোনা। আপু রুমঝুম আপুকে বকাবকি করেছে। সব উল্টাপাল্টা হয়ে গিয়েছে না?”
“আমার কাজ আছে। আমি গেলাম।”
আরিফ কোনোদিকেই তাকালো না। বের হয়ে গেল। ও বুঝতে পারছে না আরিফ ওর বাবার মতো তাই আরিফ সবার সাথে দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। ইসরাত কেনো ছোটবেলার মতো এখনও ওর দেখদেখায় কাজ করছে? অদ্ভুত! অবশ্য ভালোই হয়েছে, যাদের বাবা খারাপ, তারাও তো খারাপ হবে। এখন খারাপদের তো সবার সাথে যোগাযোগ রাখা উচিত না।
আরিফ গ্যারেজে গিয়ে রুমঝুমের দেখা আবারও পায়। আরিফ রুমঝুমকে পাশ কাটিয়ে যেতে নিলে রুমঝুম পিছন থেকে ডাক দেয়। তবে তা আরিফ বলে। আরিফ শুনেও না শোনার ভান করে। রুমঝুম আরিফের পিছন পিছন এসে আরিফ ভাইয়া বলে ডাক দেয়, আরিফ তখন দাঁড়ায়।
রুমঝুম ওর সামনে এসে বলে, “তোমার আইডি থেকে আমার ওইভাবে পোস্ট করা উচিত হয়নি। আমি বুঝিনি তোমার প্রোফেশনাল লাইফে প্রবলেম হবে। নিছক মজা করেই করেছি।”
আরিফ পাশ কাটিয়ে যেতে নিলে রুমঝুম বলে,
“আমি গাধামি করেছি, তোমাকে জানাইনি, আমি তোমার যোগ্য না, অল ট্রু। আমি জেনে-বুঝে তোমার ইমোশন নিয়ে খেলেছি, বিয়ের কথা উঠায় থার্ডক্লাস মানুষের মতো পরিবারের দোহাই দিচ্ছি তাও ঠিক। কোনো কারণ না বলে ব্রেকআপ করতে চাওয়া আরো খারাপ কাজ। ইসরাত আপুর সব অভিযোগ স্বীকার করেছি। তুমি সার্পোট না করলে আমি ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়তে পারতাম না সেটাও ঠিক। তোমাকে দেওয়া সব জিনিস ফেরত দিয়েছো। আমিও তোমাকে তোমার ড্রিম প্রফেশনে জয়েন করার আগে যে অনুপ্রেরণা দিয়েছি সেটা ফেরত দাও।”
আরিফ দাঁড়িয়ে যায়। রুমঝুম বলে, “মাথায় বুদ্ধি না থাকলেও আমার সেল্ফ রেসপেক্ট বেশি। সব ফেরত দেওয়া, ফেরত নেওয়ার খেলা হলে গত ছ্য় বছরে আমাকে তুমি যা যা দিয়েছো আমি সেগুলোও তোমাকে ফেরত দিয়ে দিবো।”
আরিফ তাকালোই না রুমঝুমের দিকে। রুমঝুম আরিফের সামনে এসে বলে,
“তোমার কোনো রাইট ছিল না আমাকে ওইভাবে মারার। ফেরত নাও মারগুলো।”
“আমার তোর গায়ে আঘাত করা উচিত হয়নি, সরি। আনফরচুনেটলি আমি আমার আব্বুর মতো বিহেভ করে ফেলেছিলাম। এগেইন সরি।”
রুমঝুম আরিফের নাকে বরাবর ঘুষি মারে। আরিফ নাকে হাত দিয়ে অবাক হয়ে রুমঝুমের দিকে তাকায়। আরিফের মনে হলো ওর নাকের হাড্ডি বোধহয় ভেঙে গিয়েছে। আরিফের মাইগ্রেনের প্রবলেম আছে। চট করে মাথা ব্যথাও উঠে গেল। রুমঝুম একই স্বরে বলে,
“আমার তোমার নাকে ঘুষি মারা উচিত হয়নি সরি। ফরচুনেটলি আমি তোমার বাবার মতো ব্যবহার করে ফেলেছি। এগেইন সরি।”
বলে ব্যাগ থেকে ইন্টেক নাপা এক্সট্রার পাতা বের করে। আরিফের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে,
“ধরো। ঔষধ খাও, কমে যাবে।”
আরিফ মাথায় হাত দেয়। রুমঝুম আবারও বলে,
“বড় ভাই হিসেবে বহুত মেরেছো। ইসরাত আপু, মাহতাব ভাইয়া, রিমি আপু আর আমাকে জালি বেত দিয়েও কঠিন মার দিয়েছো। সেই হিসেব ধরলাম না। বড় ভাইয়ের হিসেবে তো শোধবোধ হচ্ছে না, হচ্ছে ছয় বছরের শোধবোধ। ভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ারে থাকতে সিনিয়রের সাথে স্টেজ ডান্স পারফরম্যান্স করায় স্টিলের স্কেল দিয়ে মেরেছো না? সেটাও ফেরত দিলাম।”
বলেই রুমঝুম আরিফের গাল বরাবর ঘুষি দিয়ে বসে। আরিফের চট করে মাথা ব্যথা উঠে না গেলে ও ঘুষি গুলোতে এতটা ব্যথা পায় না। রুমঝুম হাত ঝেড়ে বলে,
“আমি জানি তুমি আমার ঘুষিতে একটুও ব্যথা পাওনি। এইসব ঘুষি তোমার জন্য কিছুই না। এর থেকে ডেঞ্জারাস মার খাও তুমি। যা চেহারা হয়েছে সেটা তোমার মাথা ধরে যাওয়ায় হয়েছে। একশোটা শলার বাড়িও মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে ভালো। আমার জন্য পারফেক্ট শোধবোধ। আমার জন্য তোমাকে অপমানিত হতে হয়েছে, তুমি আমাকে তাই শলার বাড়ি দিয়েছো। তুমি আমাকে শলার বাড়ি দিয়েছো তাই আমি তোমার নাকে ঘুষি দিয়ে তোমার মাথা ব্যথা তুলে দিয়েছি। কি ভেবেছো আমি খালামণির মতো? মার খেয়ে মার দিতেও পারি আমি।
আমাকে ওভাবে মারা উচিত হয়নি তোমার। একটা দুটো দাওনি, একটা দুটো দিলে কিছু বলতাম না। জেদ মিটিয়ে দিয়েছো। এটা কোনো শিক্ষিত মানুষের কাজ না। ভালোবাসলে ওভাবে মারা যায় না। তুমি সত্যিই খালুর মতো ব্যবহারের পরিচয় দিয়েছো। কিন্তু আমি জানি তুমি খালুর মতো না। কেউ না জানুক আমি জানি। তোমার অনেক রাগ উঠেছে স্বাভাবিক। রাগে তুমি দুটোর জায়গায় তিনটে থাপ্পড় দিলেও পারতে। ছোট থেকে তোমার, আম্মুর, আপুর, মামার থাপ্পড় খেয়ে অভ্যস্ত আমি। কিন্তু ওভাবে ঝাড়ু দিয়ে ছোটলোকের মতো মারবে কেনো? আম্মু আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল ফাইনালি তোমাকে বিয়ে করতে চাই কিনা? ঝাড়ু দিয়ে মারায় আমি না বলেছি। তুমি সেদিন ঝাড়ু দিয়ে না মারলে আমি হ্যাঁ বলতাম। সবার চিন্তা না করে শুধু তোমার আর আমার কথা ভাবতাম। শুধুমাত্র মেরেছিলে বলে জেদ করে তোমাকে বিয়ে করবো না বলেছি।”
নওশাদ তখন কলেজ থেকে ফিরে। দুজনকে একসাথে গ্যারেজে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দাঁড়িয়ে পড়ে। আরিফ নওশাদকে দেখে কোনো প্রকার বাক্য বিনিময় না করে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। আরিফ যেতেই নওশাদ বলে,
“ওর সাথে কি?”
রুমঝুম মুখ খুলে না। নওশাদ বলে,
“আরিফের শুক্রবার বিয়ে। ওর সাথে তোর সব শেষ না। তাহলে তোরা একসাথে কি করিস?”
রুমঝুম অবাক হয়ে নওশাদের দিকে তাকায়। আরিফের বিয়ে? এইজন্যই সব ফেরত দিয়ে দিয়েছে? রুমঝুম যেন আকাশ থেকে পড়লো। নওশাদ বলে,
“তোদের জন্য এমনিতেই আপাদের মধ্যে গন্ডগোল লেগেছে, দূরে থাক তোরা।”
রুমঝুম একরাশ বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞাসা করে,
“আরিফ ভাইয়ার সত্যিই বিয়ে? তৌহিদার সাথে?”
“কেনো হতে পারে না? তাছাড়া তুই বিয়ে করতে চাস না।”
“আমি তো…”
নওশাদ শক্ত গলায় বলে, “একটা সত্যি কথা জানিস? আরিফের দোষ নেই যে? অনেক ভাবনা-চিন্তার পর দেখলাম আরিফ তোর সাথে রিলেশনে ছিল, দিনশেষে বিয়ে করতে চেয়েছে। ও তো হারাম সম্পর্ককে উল্টো হালাল সম্পর্কে নিতে চেয়েছে। ওর দোষ কি? আমরা বড়রা ওর বংশ খারাপ, বেয়াদব, ওর বাবা খারাপ এইসব বলে ওকে স্টপ করে দিয়েছি। যেখানে এতদিন ধরে ও কিছুই জানতো না। আরিফও আর কিছু বলেনি। বড়দের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে।
কিন্তু তুই তো শুরু হতেই সব জানতি? তুই জেনে বুঝেই তো সম্পর্কে জড়িয়েছিস নাকি? এমন না বড় দুলাভাই নতুন নতুন সবাইকে অপমান করে। উনি অনেক আগে থেকেই করে। তোর আব্বুকেও আগে থেকেই করতো। রিলেশনে যাওয়ার পূর্বে মনে হয়নি আরিফের বাবা খারাপ? তাহলে তুই আগে থেকেই জেনে বুঝে সম্পর্কে জড়িয়ে এখন বিয়ের কথা উঠাতেই পাল্টি খেলি কেনো? দীর্ঘদিন রিলেশনে থাকার পরও মনে হয়নি আরিফের আব্বুর ব্যবহার খারাপ। কেউ মানবে না? বিয়ে কথা উঠলো আর ভোল পাল্টালি? নাকি তোকে সেজো আপা বুঝিয়েছে বিয়ে না করতে তারপর তোর বুঝ হয়েছে? তুই এতটা বলদ? মানুষের কথায় তোর বুঝ হয়? ইসরাত তোর মামির কাছে অনেক কথা বলেছে। শুনে নিস। আমার মতে ইসরাত ভুল কিছু বলেনি।
তোদের মধ্যে সম্পর্ক শেষ করার মতো একান্ত ব্যক্তিগত কোনো ঝামেলা না থাকলে সমস্যা তো তোর মধ্যে। আমরা সবাই যে লজিক দেখিয়েছি সেটা খুব বাজে লজিক। ওর বাপের কর্মফল ও কেনো ভোগ করবে? আরিফকে জানানো যেত না? তুই তো পারতি সব বলতে। আরিফকে অযথাই আমরা মাঝপথে দোষী বানিয়ে দিয়েছি। কোনো কারণ ছাড়াই। তাই এখন ওকে ওর মতো থাকতে দে।”
চলমান…..
(হ্যাপি রিডিং)

