#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~
#পর্ব_২৮
#সমৃদ্ধি_রিধী
নওশাদ সকাল সকাল বাজারে গিয়ে ফ্রেশ মাছ, মাংস, সবজি নিয়ে এসেছে। পুরো মাসের বাজার করেনি। পুনম ফ্রিজে বেশিদিন আগের থাকা মাছ খেতে পারে না। ওর নাকি গন্ধ লাগে। তাই নওশাদ সব মাছ এক কেজি করে নিয়ে এসেছে। শেষ হলে আবারও বাজার করবে।
বাজার থেকে আনা সবজি, মুদি বাজার পুনম গুছিয়ে রাখলেও মাছ, মাংসের সামনেও গেলো না। নওশাদই ওগুলো কেটে, ধুয়ে বক্সে বক্সে ভরে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রেখেছে। আজকে সর্ষে দিয়ে পাবদা মাছ রান্না করা হবে। পুনম রান্নার সব সামগ্রী গুছিয়ে রেখে বেডরুমে গেল। নওশাদ তখন ওয়াশরুম থেকে বের হয়। কপালে চুল লেপ্টে আছে। নওশাদ আয়নার সামনে গিয়ে চুল মুছে মুখে ক্রিম দেয়। পুনম পিছন থেকে পেঁচিয়ে নওশাদকে জড়িয়ে ধরে। পিঠে গাল ঘষে বলে,
“কি ঠান্ডা শরীর।”
“গোসল করলে তো ঠান্ডা হবেই।”
পুনম ওভাবে ধরেই থাকে। নওশাদ চুল ঝাড়ে। “রান্না তুমি করবে না আমি?”
নওশাদের পিঠে গাল ঘষে বলে, “অবশ্যই আপনি।”
“কামচোর।”
“স্বামী আমার কাজ করতে পারদর্শী তাই চোর হলেও সমস্যা নেই।”
নওশাদ নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। চার্জার থেকে মোবাইল খুলে বলে,
“সেজো আপা কি কল দিয়েছিল?”
“না তো। কেনো?”
“জানি না। আমাকে কল দিয়েছিল। আজি রিসিভ করিনি। তাই ভাবলাম তোমাকে কল দিয়েছে কিনা।”
“না দেয়নি।”
“আমি কল ব্যাক করো তাহলে পরে।”
“আচ্ছা।”
নওশাদ মোবাইল নিয়ে বিছানায় গিয়ে বসে। পুনম বলে,
“আজকে একটু বের হবেন?”
“কোথায় যাবো?”
“এইযে ধরুন একটু রিকশা করে ঘুরবো, টংয়ের চা খাবো।”
নওশাদ পুনমের দিকে তাকিয়ে থাকে। পুনম বলে,
“আপনার সাথে সন্ধ্যায় রিকশা করে ঘুরিনি এখনও।”
“আচ্ছা যাবো।”
পুনম লাফাতে লাফাতে এসে নওশাদের পাশে বসে।
“আইসক্রিম?”
নওশাদ মাথা দুলিয়ে বলে, “খাওয়াবো।”
পুনম একটু ভেবে বলে, “বাজার করতে কত টাকা খরচ হলো?”
নওশাদ হিসেব করে বলে, “সব মিলিয়ে পাঁচ হাজার কত জানি এসেছে।”
“আমাকে এক হাজার টাকা দেন।”
নওশাদ ভ্রু কুচকে বলে, “কেনো?”
“কারণ আগামী একমাস আমি হেঁসেল পরিচালনা করবো।”
নওশাদ কপাল কুচকে তাকিয়ে থাকে। পুনম হাত পেতে বলে, “জলদি দিন।”
নওশা ফোঁস করে শ্বাস ফেলে। “মানিব্যাগে আছে নিয়ে নাও।”
পুনম নওশাদের মানিব্যাগ নিয়ে দেখে তাতে দেড় হাজার টাকা আছে।”
“পনেরোশো টাকাই নিয়ে নিলাম?”
“টিভি বাবদ ড্রয়ারে কিছু টাকা সরিয়ে রাখা আছে। সেটাও নিয়ে নাও।”
পুনম কপাল কুচকে বলে, “এভাবে কথা বললেন কেনো আপনি?”
নওশাদ চোখ সরিয়ে নেয়। পুনম তেজ দেখিয়ে বলে,
“নিবোই না আমি। আপনার এক টাকাও ধরবো না। লাগবে না আমার আপনার টাকা।”
নওশাদের মানিব্যাগ টাকা সমেত রেখে দিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে রুম থেকে বের হয়ে গেল। নওশাদ পুনমের যাওয়ার পানে এক ভ্রু উঠিয়ে তাকায়। পরক্ষনেই কাজে লেগে পড়ে। দশ মিনিট পর কাজ সেরে নওশাদ উঠে দাঁড়ায়। আড়মোড়া ভেঙে উদোম গায়েই কিচেনে যায়। পুনম এক চুলায় ভাত বসিয়ে দিয়েছে, অন্য চুলায় পাবদা মাছ ভাজি করছে।
নওশাদ কিচেনে আসতেই পুনম মুখ ঘুরিয়ে ফেলে। নওশাদ মনে মনে হাসে। পুনমকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে। পুনম নওশাদের হাত সরিয়ে দেয়। নওশাদ আবারও ধরে। পুনম রেগেমেগে বলে,
“বাড়াবাড়ি হচ্ছে কিন্তু।”
“আমি সবসময় বাড়াবাড়িই করি।”
“আমি কিন্তু..”
“তুমি কিন্তু?”
“গরম খুন্তি লাগিয়ে দিবো হাতে।”
নওশাদ হাত পুনমের মুখের সামনে নিয়ে বলে,
“লাগাও যদি মন চায়। আমি কিছু বলবো না।”
পুনমের আরো রাগ হলো। ও কি সত্যি সত্যিই লাগাবে? অদ্ভুত! ঝাড়া মেরে নওশাদের হাত সরিয়ে দেয়। নওশাদ গালে গাল ঘষে বলে, “তো কি অবস্থা?”
শেষ! সব রাগ শেষ। পুনম নওশাদের ফিরে বলে,
“আপনি ওইভাবে কথা বলেছেন কেনো?”
“আমার টোনই ওমন।”
“বাজে।”
নওশাদ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলে, “আমার না রান্না করার কথা?”
পুনম পাশ থেকে সরে দাঁড়ায়। “করুন।”
নওশাদ হাসে। পুনম নওশাদের পিঠে গাল লাগিয়ে রাখে। নওশাদ বলে,
“কি হয়েছে আজকে?”
“কিছু হয়নি।”
“তোমার না পুরুষ মানুষ ঘেন্না লাগে? পুরুষ মানুষকে জড়িয়ে ধরতে ঘেন্না লাগে?”
“আপনি আমার হাসবেন্ড। হাসবেন্ড জড়িয়ে ধরতে মজা। ঘেন্নাআআআ লাগে না।”
“ভালো একটা ডায়ালগ শিখেছি তোমার কাছ থেকে।”
“আপনার হাইট কত?”
“পাঁচ ফুট দশ।”
“আরিফের মতোই?”
“আরিফ আমার থেকে একটু লম্বা। ওর এগারো।”
“আমি মাত্র পাঁচ ফুট দুই। এইজন্যই তো লিটিপুটের মতো আপনার বুক সমান।”
“সুন্দর তো। হাইট ডিফারেন্সটা সুন্দর।”
পুনম নওশাদকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে রাখে। নওশাদ ওভাবেই সব মাছ ভাজি করে। পুনম বলে,
“আমার মনে হয় জ্বর আসবে।”
“ঔষধ খেতে হবে?”
“জানি না।”
“খারাপ লাগছে?”
“শীত শীত লাগছে।”
“শুয়ে থাকো।”
“না।”
রান্না প্রায় শেষের দিকে। নওশাদ ঢাকনা দিতেই পুনম নওশাদকে ছেড়ে দিলো। সেল্ফ থেকে পেঁয়াজ নিয়ে বলে,
“দাঁড়ান আমি আপনাকে পেঁয়াজ, শসা কেটে দেই।”
“মরিচও কাটো।”
পুনম ফ্রিজ থেকে মরিচ, শসা বের করে বলে, “আচ্ছা।”
পুনম সব কেটে দিলো। ছুরি ধুয়ে রেখে দিতেই কলিংবেল বেজে উঠলো। পুনম হাত ধুয়ে, হাত ঝাড়তে ঝাড়তে দরজা খোলে। জাইমা জেরিন দাঁড়িয়ে আছে।
“কি খবর?”
জেরিন জাইমা বাসায় ঢোকে। জেরিনের হাতে একটা বাটি, ঢাকনা দেওয়া। জাইমা বলে,
“মামা কোথায়?”
নওশাদ তখন কিচেন থেকে বের হয়। জেরিন হাতে থাকা বাটি টেবিলের উপর রাখে। নওশাদ বলে,
“বাটিতে কি?”
জেরিন বেসিনে হাত ধুয়ে বলে,
“আম্মু শুটকির মরিচ করেছে। তোমার জন্য পাঠালো।”
“জিসানের পড়াশোনার কি খবর?”
জাইমা বলে, “আমাদের চাচাতো ভাই বিদেশ থাকে না?”
“রেদোয়ান?”
“জ্বি। রেদোয়ান ভাইয়া গতকালকে এসেছে। দেশে এসেছে আরো আগেই। কালকে আমাদের বাসায় এসেছিল। জিসানের জন্য আইফোন এনেছে। পড়ালেখা বাদ দিয়ে কালকে থেকে মোবাইলই টিপছে।
“ওকে বাসায় আসতে বলিস। ওর সাথে আমার বোঝাপড়া আছে।”
পুনমের দিকে তাকিয়ে বলে, “গ্যাস নিভিয়ে ফেলো পাঁচ মিনিট পর।”
পুনম মাথা নেড়ে বলে, “জ্বি।”
নওশাদ যেতেই জাইমা পুনমকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে। “মামিগো তোমাকে একটা কথা বলবো।”
জাইমার হাতের উপর হাত রেখে পুনম বলে, “কি কথা?”
জেরিন সোফায় বসে বলে, “গভীর কথা। ডিপ কথা।”
পুনম ভ্রু কুচকে বলে, “কি এত গভীর কথা?”
জাইমা বলে, “নানুমণির ঘরে চলো।”
পুনম দরজার লক চেক করে, গ্যাস নিভিয়ে হোসনেআরার ঘরে যায়। পুনম বিছানায় বসে জিজ্ঞাসা করে,
“কি?”
“জাইমার একজনকে অনেক পছন্দ।”
“কাকে?”
“তুমি চিনো।”
“নাম কি?”
জাইমা লজ্জা লজ্জা মুখ করে বলে, “আশফিক মুজাহিদ।”
পুনমের নামটা চিনা চিনা লাগে। ও ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে জাইমার মুখের দিকে। অনেক চিন্তা ভাবনার পর মনে পড়লো ওয়েট! নামটা তো হুবুহু ওর ছোট ভাইয়ের মতো। তাহলে কি?
পুনমকে মুখ কুচকে তাকিয়ে থাকতে দেখে জেরিন বলে, “চিনো নাই? তোমার ভাই।”
পুনমের মুখের যে রিয়েকশন মনে হলো চারদিকে ফাআআআআ করে একটা শব্দ হলো। জাইমার ক্রাশের কথা শুনে পুনমের বুকে ব্যথা উঠে গিয়েছে। মুখ কুচকে বলে,
“ছিহ তোমাদের চয়েস এত বাজে কেনো?”
জাইমা কাচুমাচু করে বলে, “বাজে কোথায়? ভালোই তো মনে হয়েছে। চরম মাত্রার ক্রাশ খেয়েছি।”
“তোমরা সবাই পাগল। তোমাদের হাসবেন্ড চয়েস খুব বাজে।”
জেরিন ছোট ছোট চোখ করে তাকিয়ে বলে, “তুমি বলতে চাচ্ছো তোমারটা ভালো আর আমাদেরটা খারাপ?”
“আমারটা বলতে?”
“মামা আরকি।”
“তোমাদের মামা ভালোই। এমন হাসবেন্ড খুঁজলেও পাবে না।”
জাইমা মুখ কুচকে বলে, “দুনিয়ার সবচেয়ে বড় পাগল তো তুমি। মামা বলে ভালো! ভাই লাগবে না এমম হাসবেন্ড। তোমাকে মনে হয় এখনও আমাদের মতো খাডাইশ্শা ঝাড়ি দেয় নাই। একটা ঝাড়ি খেলেই তোমাদের মামা ভালো বাপ বাপ করে পালাবে।”
“হ্যাঁ আমিও তো তোমার মামার ভাগ্নি না আমাকে তোমাদের মতো ঝাড়ি দিবে?”
জেরিন, জাইমা শব্দ করে হেসে উঠে। পুনম সিরিয়াস মুখ নিয়ে বলে,
“দেখো আমার ভাই হলেও কি! ওর মতো খেচ্চর আমি দুনিয়াতেও দেখি নাই। ও মে, জুনের গরমেও ডেইলি গোসল করে না। দুই, তিনদিন পর পর গোসল করে। গায়ের সামনে ঘামের গন্ধে আসা যায় না৷ শীতকালে তো কথাই নেই, একমাস, দুইমাস পানির সামনে যায় না। তারপর একটা কাজও পারে না। ছাব্বিশ সাতাশ বছর অথচ নিজের জামাকাপড় নিতে ধুতে পারেনা। সব ভাবি ধোয় এখনও। শ্বাশুড়িও একটা খ্যাটখ্যাট করবে। আমি মেয়ে হয়েই তো সহ্য করতে পারি না। এইযে আমরা তিন ভাইবোন একটাও কাজকাম পারি না, তা কেনো? আমাদেরকে আকাইম্মা বানানো হয়েছে।”
জাইমা লজ্জা লজ্জা মুখ করেই বলে, “আমি করবো সব। আমি তো পারিই।”
পুনম ঢোক গিলে বলে, “তোমরা কি রিলেশনে আছো?”
জাইমা লজ্জা পায়। জাইমা এখন হ্যাঁ বললেই পুনম স্ট্রোক করবে।
“না। কিন্তু তোমাদের বিয়ের পর ওনার ছবি দেখেই চরম ক্রাশ খেয়েছি। লাইক হাও কিউট ম্যান! হাও ড্যাশিং! ওনার কি গার্লফ্রেন্ড আছে?”
“গোসল করে না ও। কিসের ড্যাশিং?”
“ধূর নেগেটিভ কথা বলো না তো। গার্লফ্রেন্ড আছে?”
“জানি না আমি।”
“একটু বলিও আমাকে প্রোপোজ করতে। ওনার সব ধুয়ে দিবো, তাও যেন আমাকে বিয়ে করে। এত্তো ভালো লেগেছে আমার। লিট্রেলি ম্যান এত ড্যাশিং কেউ কি করে হয়?”
পুনম মনে মনে জাইমাকে বকা দেয়।
“সিরিয়াসলি বলছো তুমি?”
জাইমা মাথা দুলিয়ে বলে, “হ্যাঁ, সিরিয়াসলিই বলছি। প্রতিদিন রাতে ওনার ফেসবুক আইডি, ইন্সটা আইডিতে গিয়ে ওনার ছবি দেখি। নাহলে শান্তি লাগে না।”
“পাগল ছাগল পোলাপাইন।”
পুনম রুম থেকে বেরিয়ে গেল। জাইমা জেরিন উচ্চশব্দে হেসে উঠে। হো হো করে হাসতেই থাকে। পুনম দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ওদের হাসি দেখে চিন্তায় পড়ে। মজা করলো নাকি আসলেই?
_______
সন্ধ্যা নামার পর ঠান্ডা লাগছে ভালোই। পুনম, নওশাদ ফুটপাতের ধারে হাঁটছে। পুনম নওশাদের হাত জড়িয়ে ধরে রেখেছে। নওশাদ পুনমের হাতে আলতো করে চাপড় মেরে বলে,
“বার্গার খাবে?”
পুনম দুদিকে মাথা নাড়ে। আজকে পুনম হিজাব পড়েছি। সব চুল একসাথে পিছনে ছেড়ে একটা ছোট্ট ক্লিপ দিয়ে বেঁধেছে। পড়নে গোলাপি রঙের শাড়ি। নওশাদ পুনমের চুল ঠিক করে দিয়ে বলে,
“তাহলে কি খাবে?”
“হাঁটি চলুন। কিছু খেতে হবে না।”
“তুমি কি কিছু খেতে চাইতে লজ্জা পাচ্ছো?”
“লজ্জা পাবো কেনো?”
“পেতেও পারো। তোমাকে বিশ্বাস নেই।”
“ধূরররর!”
নওশাদ হাসে। পুনমের গাল টেনে দেয়। পুনম নিজের গালে হাত বুলিয়ে বলে,
“এমন করলেন কেনো? ব্যথা পেলাম না?”
“পাওনি ব্যথা। মিথ্যে বলোনা।”
পুনম চোখ সরিয়ে নেয়। হাঁটতে হাঁটতে নওশাদের চোখ পড়ে সামনেই একটা লোক ঝুলিতে ফুল বিক্রি করছে। নওশাদ পুনমের হাত ধরে ওকে নিয়ে সেখানে গেল। দামাদামি করে দুটো বেলী ফুলের গাজরা কিনলো। পুনমকে বলে,
“পিছনে ফিরো।”
পুনম ফিরলো। নওশাদ সুন্দর করে, ধৈর্য নিয়ে একটা গাজরা পড়ালো। নওশাদ বলে, “সুন্দর লাগছে।”
পুনম নওশাদের হাতের দিকে ইশারা দিয়ে বলে,
“আরেকটা?”
“এটা বাসায় গিয়ে পড়াবো।”
“বাসায় কেনো?”
“রাতে পাড়িয়ে দিবো।”
পুনম নওশাদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। নওশাদ পকেটে হাত গুঁজে বলে,
“বায়োলজি ডিপার্টমেন্টর সফ্ট রোমান্স টপিকের উপর ক্লাস নিবো আজ।”
পুনম লজ্জা পেল। দৃষ্টি লুকিয়ে বলে, “আমি রাত এগারোটার পর পড়ি না। ক্লাসও করি না।”
নওশাদ হাসে। পুনমের হাত নিজের মুঠোয় নিয়ে বলে,
“কিন্তু আমি রাত এগারোটার পর বউয়ের সাথে এই টপিকে ক্লাস নিতে পছন্দ করি।”
“আমার সামনে টিচার হয়ে লাভ নেই কোনো।”
“তো কি হয়ে লাভ আছে? লাভার?”
পুনম অবাক হলেন। “আপনি ফ্লার্টও করতে পারেন?”
নওশাদ চোখ টিপে। পুনম চোখ বড় বড় করে ফেলে।
“আপনার আর কত রূপ দেখতে হবে? বড্ড ছপারুস্তম আপনি।”
“আর ছুমারুস্তম কোথায় রইলাম? সব তো প্রকাশ করেই ফেলছি।”
পুনম বলে, “আর কি কি জানেন?”
“অনেক কিছুই।”
চাহনি দেখে পুনম মুখ ঘুরিয়ে নিলো। নওশাদ পুনমের কাঁধ জড়িয়ে ধরে। পুনম নওশাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
“আমি কি ইন্ট্রোভার্ট?”
“নিঃসন্দেহে, অনেক ইন্ট্রোভার্ট তুমি।”
“আমি তো সবাইকে সব বলি।”
“তুমি সবাইকে সব বলো না মোটেই। তুমি আমাদের কথা জাইমা জেরিনকে বলো না। আবার জাইমা জেরিনের সব কথাও আমাকে বলো না। তোমার পেটে অনেক কিছুই থাকে আমি জানি। কিন্তু কি থাকে তা জানি না।”
“আপনাকে তো প্রায় সবই বলি।”
“তুমি আমার সাথে কমফর্টেবল ফিল করো তাই আমাকে সহজেই অনেক কিছু বলতে পারো।”
“জানেন বিয়ের দিন কে জানি বলেছিল মামা ইন্ট্রোভার্ট, মামিও ইন্ট্রোভার্ট। দুই ইন্ট্রোভার্ট সংসার করবে কি করে?”
“যেভাবে করছি সেভাবেই। ইন্ট্রোভার্ট দেখেই ভালো। একে অপরকে নিজেদের মতো করে বুঝে নেই।”
“আপনার সাথে এত কমফর্টেবল হলাম কি করে? কি আশ্চর্য!”
“কবুলের জোরে।”
পুনম নওশাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। চোখে চোখ পড়লেই পুনম হাসে। নওশাদ বলে,
“এমন সহজসরলই থেকো গাধা। জীবনে যত উপরেই যাও না কেনো এমনই থেকো। আমি আমাদের বৃদ্ধ বয়সে এই সময়গুলো বড্ড মিস করবো।”
_________________
তীব্র গরমে প্রায় পাগল পাগল অবস্থা। রুমঝুম ভার্সিটির গেট থেকে বের হতেই নবম আশ্চর্য দেখতে পেলো। একটা প্রাইভেট কারের সামনে মাহতাব বুকে হাত গুঁজে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আরিফ ওর মুখোমুখি পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে।
রুমঝুম মুখ স্বাভাবিক করে বিড়বিড় করে, “বিয়ের আসর থেকে পালানো কাপুরুষটা সিলেট থেকে চলেও এসেছে?”
“তোর খালাতো ভাইটা সুন্দর।”
কনকের কথা শুনে রুমঝুম ঘোর থেকে বের হয়। ভ্রু কুচকে বলে, “কোনটা?”
“কালো শার্ট পড়াটা তোর মাহতাব ভাইয়া না?”
“হ্যাঁ?”
“তোর মাহতাব ভাইয়ার পাশে নেভি ব্লু কালারের শার্ট পড়ে দাঁড়িয়ে আছে যে সে।”
মাহতাবের পাশে নেভি ব্লু কালারের শার্ট পড়ে দাঁড়িয়ে আছে আরিফ। কনক ফের জিজ্ঞাসা করে,
“তোর এই খালাতো ভাইটা কি লম্বা দোস্ত। হাইট কত রে?”
“জানি না।”
“আচ্ছা উনি কি সিঙ্গেল?”
“উনি গে। গে মানে তো বুঝিসই। ছেলে হয়েও আরেকটা ছেলের প্রতি দুর্বলতা অনুভব করে। এইযে পাশে মাহতাব ভাইয়া দাঁড়ানো? উনি মাহতাব ভাইয়াকে ভীষণ পছন্দ করে। এটা নিয়ে আমাদের ফ্যামিলিতে দারুণ ক্যাচাল হচ্ছে।”
কনক মুখ কুচকে ফেলে। “তওবা, তওবা, তওবা। আল্লাহ মাফ করুক।”
রুমঝুম মনে মনে বলে, “আমি বিয়ে করতে না পারলে কাউকে বিয়ে করতে দিবো না।”
রুমঝুম সাথে সাথে তওবা করে ফেলে। একবার গে বলায় যে মার খেয়েছে! রুমঝুম আর আরিফকে জীবনেও আর এইসব বলবে না।”
চলমান….
(হ্যাপি রিডিং)

