আমার_বোবাফুল(২১) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

0
71

#আমার_বোবাফুল(২১)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

বুক কাঁপছে সুখের।গলা শুকিয়ে শরীরে ঘাম ছুটে। তড়িঘড়ি হাতে সেন্টার টেবিল থেকে পানি নিয়ে ঢকঢক করে চুমুকেই গ্লাসের জল শেষ করলো। বর্ণ’র পাশাপাশি বহুবার হয়েছে কিন্তু এতোটা নিকটবর্তী ইতোপূর্বে গিয়েছে বলে মনে পড়ে না তার।

অন্তঃস্থলের অস্থিরতা কমাতে সুখ রুম জুড়ে ত্রস্ত পায়চারি শুরু করে।একসময় বেডের কিনারা ঘেঁষে ধফ করে মেঝেতে বসে পড়ে।

কাগজটা আবারো চোখের সামনে মেলে ধরে।ছয়ের অধিক বার পড়েও চোখ সরাতে পারছে না। চোখদুটো অনিমেষ স্থির হয়ে আছে বর্ণর উড়িয়ে দেয়া ডায়েরির সেই ছেঁড়া পাতায়।

“যে তোমায় ভালোবাসে তাকে দুঃখ দাও!”
— হ্_হ্যাঁ!সে পেয়েছে দুঃখ! ভেঙেচুরে গুঁড়িয়েছে অন্তঃস্থল!শতো অনিদ্রার রাতে চোখে ঝরেছে অঝোরে বৃষ্টি, নিঃশব্দ আর্তনাদ গলাধঃকরণ করে নিতে হয়েছে বার বার; হাজারবার।
তবে কী বর্ণ এটাই চেয়েছিল?

প্রলম্বিত শ্বাস ছেড়ে কাগজটা গুটিয়ে বুকের কাছে দুহাত এনে ফেললো সুখ। মস্তিষ্ক প্রায় নিষ্ক্রিয়।একসময় উঠে গিয়ে স্টাডি টেবিলে চেয়ার টেনে বসলো।হাতে কলম তুলে কাগজের উল্টো পিঠে লিখে রাখলো,

❛❛ হয়তো একজনম আফসোস নিয়েই কাটিয়ে দিতে হবে —’আপনি ইচ্ছে করেই আমার হোননি বর্ণ ভাই..❞

এই মুহূর্তে যদি না সামনের এই ইট কংক্রিটের দেয়াল না থাকতো তবে নিঃসন্দেহে সুখ দেখতে পেতো গুনে গুনে ঠিক তিন দেয়ালের পরে ফাঁকা আঁধার কক্ষে আসফিয়ান বর্ণ নামক নিষ্ঠুর অন্তরে গড়া পুরুষটি হিতাহীত জ্ঞান শূন্য হয়ে চুল খামচে বসে আছে।ক্ষণে ক্ষণে বুকে হাত চেপে হৃদযন্ত্রের ছটফট কমাতে চেষ্টা করছে। পরক্ষণে ব্যর্থ হয়ে বিরক্তিতে দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করে হাত মঠোবদ্ধ করে সোফার হাতলে ঘুষি বসাচ্ছে।

পায়ের সর্বস্ব দিয়ে সোফায় আঘাত করে আয়নার সামনে চলে এলো বর্ণ।বাহিরেই বেরোচ্ছিল সে। মাঝপথে ফুলের জন্য সব এলোমেলো হয়ে গেলো। কোথায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল সেটাই মনে পড়ছে না এখন।

অস্থির গলায় বিড়বিড় করে কিছু একটা।

সুখের নখ বিঁধে যাওয়া স্থানে মৃদু চিনচিন করছে কিন্তু সেই সূক্ষ্ম ব্যাথা বর্ণর জীমে গড়া শক্তপোক্ত শরীর কাবু করতে অক্ষম।

“ আই কান্ট ব্রিথ প্রোপারলি।হোয়াই ইজ মাই হার্টবিট আউট অফ কন্ট্রোল?হোয়াটস গোয়িং অন মি,ড্যাম ইট?”

বিড়বিড় করে একটানে টিশার্ট শরীর থেকে আলাদা করে ফেললো সে। পরপর ছুঁড়ে মারলো দিক শূন্যে।কালো চাদরে আবৃত বেডের কোণায় গিয়ে পড়লো টিশার্ট খানা। হ্যাঁ,কালো-ই!এটাই তার প্রিয় রং। খুব খেয়াল করলেই পরিলক্ষিত হবে বর্ণ’র ব্যবহৃত অধিকাংশ জিনিসের রং ডার্ক!

উদম গায়ে আয়নায় নজর রাখে বর্ণ। পারফিউমের মাতাল করা কড়া ঘ্রাণে আশপাশ ভরে উঠেছে।বুকে,ঘাড়ে ঘামের উদ্রেক হয়েছে ইতোমধ্যে। আশ্চর্য!এমন ঠান্ডা পরিবেশেও ঘামছে কেনো শরীর?

বর্ণ রিমোট কন্ট্রোলার চেপে কক্ষ হালকা আলোকিত করে। অবচেতন মনে হাত বিচরণ করছে বক্ষদেশের ক্ষতস্থানে।

প্রথম প্রথম অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও শেষের দিকে যে সুখ ইচ্ছে করেই শক্তি প্রয়োগ করেছে বর্ণ’র তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক তা বুঝে নিতে সময় ব্যয় করেনি।সেও নিশ্চুপ দেখতে চেয়েছিল মেয়েটা কতোক্ষণ এভাবে খামচে ধরে রাখতে পারে!

চার চারটি নখের চাঁদাকৃতি রেখা দেখা যাচ্ছে বাঁ ঘাড়ের তলদেশে।কালচে নীল রঙ ধারণ করেছে সব। বিড়ালিনীর নখের প্রসংশা তবে করতেই হচ্ছে এবার?
বর্ণ নিজ মনে বলল অস্ফুট,

‘ কীটেন!’

“ সুখ.. সুখ”

দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ সমেত নূরার চেঁচামেচিতে ব্যালকনি থেকে চলে এলো সুখ। দরজা মেলে দিয়ে বুকে হাতগুজে ভ্রু কুটি করে সামনে দাঁড়িয়ে রইলো অল্পক্ষণ।

“ ভেতরে আসতে বলবে না?”

রুম এবং ব্যালকনির মধ্যস্থে অবস্থিত দেয়াল সম কাঁচের পর্দা গুটিয়ে রাখা।বাহিরের আকাশ স্পষ্টতই বোঝা যায়। ক্রমশ আঁধারে ঢেকে পড়ছে আকাশ।এখনি সন্ধ্যা নামবে।সুখ সেদিক থেকে নজর ঘুরিয়ে পুণরায় নূরার উৎসুক মুখশ্রীর দিকে তাকালো। আকাশের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বললো,

“ সন্ধ্যা হয়ে আসছে। ভেতরে আসার কোনো প্রয়োজন নেই।যাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসো।আমিও আসছি!”

মুখ ভেঙায় নূরা। ভেবেছিল এই সুযোগে সুখের রুমে গুঁজে থাকলে পড়া থেকে কিছু মূহূর্তের জন্য রেহাই পাওয়া যাবে।তার উপর এত্তো গুলো সিঁড়ি চড়তে চড়তে পানির পিপাসা পায়,সাথে কোমর ব্যথা।যদিও লিফটের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু কোন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কয়েক সপ্তাহ ধরে তা বন্ধ আছে।

“ এটা নাও বর্ণ পাঠিয়েছে তোমার জন্য!”

সুখ ক্ষুদ্র আঁখিতে নজর ফেলে।নেইল কাটার?
জিনিসটি হাতে নিয়ে জানতে চাইলো ইশারায়,

“ এটা দিয়ে আমি কী করবো?”

“ বলেছে তোমার সূচের চেয়েও সূচালো,ক্ষুরের চেয়েও ধারালো নখগুলো যেনো আগামী এক ঘন্টার মধ্যেই গোড়া থেকে ছেঁটে ফেলা হয়।যাতে অন্যকারো বুক র/ক্তা/ক্ত না হতে পারে!”

সুখ শঙ্কিত চোখে প্রথমে নিজের নখের দিকে তাকালো আনমনেই। অতঃপর ইশারায় কিছু বলতে চেয়ে থেমে গেলো। কঠিন শব্দের ইঙ্গিত নূরা বুঝবে না।তাই সে ফোনের কীবোর্ড প্রেস করে লিখলো,

“ অসম্ভব! আমার নখ আমার সম্পদ।অন্য কারো কথায় এই সুখ এখন আর প্রভাবিত হয়না বলে দিয়ে এসো তোমাদের রকস্টারকে!”

নূ্রা তিনবার লেখাটা পড়ে “আসছি” বলে উল্টো পা ঘুরাতে নিলো সুখ থামিয়ে দেয়,

“ কোথায় যাচ্ছো?”

নূরা বেশ গুরুগম্ভীর সুরে ছটপট গলায় শুধায়,
“ তোমাকে একটু আগে যা বললাম তা এক মিনিট পর্যন্ত দাঁড়িয়ে মুখস্থ করে এসেছি। এখন তোমার কথাগুলো বর্ণকে বলে আসি তাড়াতাড়ি।নয়তো ভুলে যাবো তো!”

সুখ হতভম্বে থম মেরে রইল।কথা মুখস্থ করে এসেছে মানে?এই পুরুষ আর কী কী দেখাবে কে জানে?

নূরাকে পুণরায় ফিরে আসতে দেখে সুখ প্রশ্নাতীত চোখে চায়। কাছাকাছি এসেই সে বললো মনে পড়ার ভঙ্গিতে ফিসফিসিয়ে,

“ বর্ণ আরো বলেছে যদি এক ঘন্টার মধ্যেই নখ ছেঁটে না ফেলো তবে শাস্তি হিসেবে কড়া রোদে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখবে!তুমি ওই ভিমরুলকে কী করেছো?”

দাঁতে দাঁত চাপলো সুখ। এমনিতেই সময় নির্ধারণ করে দিয়ে আদেশ জারি করলো, তার উপর শাস্তি দেওয়ার হুমকি?

তাচ্ছিল্য হাসলো সুখ।তাকে আগের মতো ভেবেছে পুরুষটি।যে বর্ণ’র পছন্দ মতো নিজেকে সাজাতে, ঘুচাতে এক পায়ে খাড়া থাকতো।তার সমস্ত কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার মাঝে তৃপ্তি খুঁজে নিতো!

সুখ দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে চোখ বুঁজে ।সে যতো দূরে সরে আসতে চাইছে মন, মস্তিষ্ক যেনো ততোই নিদারুণ ভাবে ধাবিত হচ্ছে বর্ণ’র প্রতি।কেনো.. কেনো.. কেনো? প্রতিবার উত্তর মিলে একটাই –পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো মন একবার যাকে ভালোবেসে তাকে ঘৃ!ণা করার বৃথা চেষ্টা।

আর পুরুষটিই বা কেমন?বার বার তাকে দুর্বল করে দিতে লাজ, লজ্জা,আত্মসম্মান পেছনে ঠেলে কাছাকাছি এসে পড়ছে।


রাতের খাবার এক টেবিলে বসেই খাওয়া হয়েছে সকলের। বর্ণ’ও বাদ যায়নি।সুখ চোখ না তুলেও টের পেয়েছে লোকটা সূচালো, তীর্যক চোখে তিনবার তাকিয়েছে তারদিকে।

তামিজ শিকদারের ঘরে গিয়ে তাকে ওষুধ খাইয়ে কিছুক্ষণ পাশে বসলো সুখ। ভদ্রলোকের হার্টের অসুখ। নিয়মিত মেডিসিন নিতে হয়। সুখ এই ব্যাপারে খুব সচেতন।বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে রোজ নিজের হাতে আব্বুকে ওষুধ খাইয়ে দেয়। বাহিরে থাকলে ভিডিও কলে ওষুধের হিসেব নিতেও ভুল করেনা।
রুবাইয়্যাত এই বিষয়ে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন।মেয়ে থাকতে তার আবার কীসের চিন্তা?

সুখ বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলো। সাইমা বুয়া আর রামসা তখন ড্রয়িং রুমে,সাথে হানিফা বেগম ও আছেন। টিভিতে প্রিয় সিরিয়াল চলছে তাদের।মিস দেয় কীভাবে?

সুখ কয়েক সিঁড়ি পার করতেই কোত্থেকে বর্ণ ছুটে এলো।মনে হচ্ছিল এতোক্ষণ তাকে বাগে পাওয়ার প্রতিক্ষায় বসেছিল।

“ আজকাল সীমাহীন অবাধ্য হয়েছিস দেখছি?কথা শুনছিস না আমার!সেটা ছাড়, বুকের কী হাল করেছিস উঁকি মেরে দেখেছিস একবার?আমি তো ভয়ে আছি বিড়ালিনীর আঁচড়ে কোথাও ইনফেকশন না হয়ে যায়!”

সুখ অসন্তুষ্ট!চরম অসন্তুষ্ট আসফিয়ান বর্ণ’র প্রতি!তার এসব যেচে পড়া আচরণের প্রতি!

অসন্তুষ্ট মিশ্রিত ক্ষিপ্র চোখে চেয়ে দ্রুত পা চালাল অগ্রভাগে।খুব বুঝতে পেরেছে তাকে রাগিয়ে দিতে ওঁৎ পেতে আছে লোকটা।

বর্ণ নিজের হাঁটার গতি বাড়িয়ে সুখের পাশাপাশি চলতে লাগে। স্ক্রিন অফ করে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ফোন থেকে নজর সরিয়ে ভ্রু গুটিয়ে বললো,

“ ধর,এই আঁচড়ের যের ধরে ঘুমের ঘোরে বড়সড় একটা অঘটন ঘটে গেলো?আম্মুকে কী জবাব দিবি তখন?শুনেছি আজব প্রাণীদের আঁচড়ের প্রতিক্রিয়ায় কেউ কেউ পাগল হয়ে যায়।আমারো যদি তেমন কিছু হয়?”

সুখ আর সহ্য করতে পারছে না এসব আজব বার্তা। দ্রুত কদমে এগুতে লাগলো সে।মনে হচ্ছে দৌড়াচ্ছে। বর্ণ’র গতি কমে ‌আসে।নিশ্চল চোখে ঘাড়ে হাত বুলিয়ে নিজের কাজে নিজেই খানিকটা অবাক হলো। রাতের ডিনার শেষে কোনদিকে না চেয়েই সে নিজ কক্ষের অভিমুখে হাঁটা ধরে সবসময়।আজ নিয়ম ভেঙে সেকি অপেক্ষা করছিল ফুলের?তার সাথে কথা বলতে?

কথার তালে কীসব আজগুবি কথাও বলে দিলো ধ্যানেই ছিল না তখন।সুখ সেকন্ড ফ্লোরে উঠে থামলো।বর্ণ এখন আর পিছু আসছে না।একনজর পিছু চেয়ে পুণরায় সামনে ছুটলো সুখ।

আইজা বিষ্ময়, আতঙ্ক কাটাতে পারছেনা কিছুতেই।এই প্রথম শিকদার বাড়ির দোরগোড়ায় পুলিশের আগমন ঘটলো।তাও কার খুঁজে?বর্ণ..

সময়টা সকাল সাড়ে আটটার।নূরাকে রামসার হাত ধরে স্কুলে পাঠিয়ে সবে ড্রয়িং রুমে বসেছিলেন রুবাইয়্যাত এবং হানিফা বেগমের সাথে। তখনই বাড়ির নাম্বারে গার্ড আতিফ ফোন করে জানালো গেইটে পুলিশ ফোর্স এসেছে।

বর্ণ’র মাঝে কোন ভাবাবেগ দেখা দেয়নি তখন। যেনো সে পূর্ব থেকেই অবগত ছিল।মাহিরকে ইশারায় কিছু একটা দেখিয়ে পুলিশের সাথে সাথে হেলেদুলে গাড়িতে উঠেছে।মনে হচ্ছে থানাতে নয় বরং দর্শকের সামনে কোন কনসার্ট পারফরম্যান্স করতে যাচ্ছিল।

বলা বাহুল্য, বর্ণ’র সম্মান রক্ষার্থে পুলিশ সিভিল ড্রেসে এসেছে।এই মিডিয়ার জগতে পান থেকে চুন খসলেই ব্রেকিং নিউজ করে দিতে দুবার ভাব্বে না।সত্য যাচাই করেই বা কয়জন?

আপ্যায়নে কোন ক্রুটি রাখেনি পুলিশ কমিশনার জুবায়ের। চোখে মুখে খুশির ধারা উপচে পড়ছে তার।বর্ণ’র সান্নিধ্য পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে আজ।

ভদ্রলোক নাকি তার বিশাল বড় ভক্ত।দেখা করে সেলফি নিতে চেয়েছিল বার কয়েক কিন্তু দর্শকের ভিড়ে বর্ণ’র কাছাকাছি পৌঁছা দুষ্কর ছিল। বর্ণ’ নিঃশব্দে ঠোঁট এলিয়ে হাসলো। কমিশনারের সাথে কয়েকটা সেলফিও নিলো।খানিক পর এএসপি ইয়াশ আদ্রিতের আগমন ঘটলে সকল অফিসার অবিলম্বে দাঁড়িয়ে কপালে হাত ঠুকে স্যালুট জানায়।বর্ণ তখন পায়ে পা তুলে আয়েশি ভঙ্গিতে যথাস্থানে বসে।

রূপম খুনের ব্যাপারে সাক্ষ্য লাগতো বর্ণ’র। যেহেতু রূপমের বহিষ্কারের দিন বর্ণ সেখানে স্বশরীরে উপস্থিত ছিল এবং তারই পরিবারের এক মেয়েকে কু প্রস্তাব দিয়েছিল স্যার!

বর্ণর পাশাপাশি সুখের মুখনিঃসৃত বাণী ও চাইছিলো অফিসার।বর্ণ ঠান্ডা গলায় যেনো হুমকি দিলো ,—

“ আজকের পর থেকে আমি কিংবা আমার ফ্যামিলির কোন সদস্য কোন ভাবেই রূপম হ/ত্যা কেসের সাথে ইনভল্বড হওয়া ইচ্ছে পোষণ করবো না। এটা আমার জন্য কতোটা মান হানি, হ্যাভ ইউ এ্যানি আইডিয়া অফিসার?ফার্স্ট টাইম হাসিমুখে স্বেচ্ছায় আপনাদের জিপে উঠে এসেছি বলে সেকেন্ড টাইম কিন্তু এমন হবে না; আন্ডারস্ট্যান্ড!”

এএসপি ইয়াশ আদ্রিত জোর পূর্বক হেসে মুখের অভ্যন্তরে দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করে সব শুনেছে।মাথার ভেতর ঝট পাকিয়ে যাচ্ছিল। রূপমের লাশের ওই পার্সেল ছাড়া কোন এ্যাভিডেন্স নেই খু নি পর্যন্ত পৌঁছার। পার্সেল নামক সেই কফিন থেকেও কোন ক্লু পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে আদৌ খুনি শনাক্ত করা সম্ভব হবে কী না জানা নেই।

রুমালে ঢাকা মুখশ্রীতে তখন চোখদুটোই দেখা যাচ্ছিল কেবল।যতোক্ষণ সেখানে ছিল বর্ণ’র অধরজুড়ে বাঁকা হাসির রেখা কিঞ্চিৎও কমেনি।।বাহিরে পা রাখতেই হাত মুঠো বদ্ধ হয়ে চোয়াল শক্ত হয়ে আসে আপনাআপনি।কালচে ধোসর চোখের গহীনে নিষ্ঠুর হিংস্রতা।মাহির বাইক নিয়ে বাহিরেই দাঁড়িয়েছিল।বর্ণকে চক্ষুগোচর হতেই এগিয়ে আসে! হঠাৎ….

#চলবে🦋
[ভুল ক্রুটি ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন রিডার্স 💜]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here