আমার_বোবাফুল(৬১) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

0
54

#আমার_বোবাফুল(৬১)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

সুখকে কাছে টেনে নিল বর্ণ। অতঃপর গালের বাঁ পাশে দীর্ঘ এক চুম্বন এঁকে মনের সব সন্দেহ, দ্বন্দ্ব ভুলিয়ে দিয়ে ঠেলে দিল লজ্জার সাগরে। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে লজ্জাবতী রূপে চোখ খিচে তার বুকে লেপ্টে মুখ লুকায় সুখ। পুরুষটি কাছাকাছি এলেই হৃদয় থেকে শুরু করে সর্বাঙ্গে নিদারুণ কম্পন অনুভূত হয়। দাঁতে দাঁত খিচেও এই কাঁপুনি থামানো যায় না তখন।বর্ণ ছোট ছোট চোখে মোহিত দৃষ্টিতে চেয়ে রয়।বউফুলের মুখশ্রীর প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে গভীর পর্যবেক্ষণে মেতে উঠে চাহনিরা। হাঁসফাঁস করে সুখ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঠোঁট নেড়ে হাতের ইশারায় বলল, ‘ আপনি আমাকে “আই নিড ইউ ব্যাডলি” বলেছেন!মনে পড়ে?’

‘ হুঁ বলেছি!’– ভনিতা ছাড়াই জবাব করল সে।ফের বুঝায় সুখ,

‘এরপর “আই ও’ন্ট লস ইউ” বলেছেন!’
‘বলেছি।’

“আই’ল মেইক ইউ মাইন,অ্যাট এ্যানি কসট্” বলেছেন!’–চোখে চোখ রেখে সুখ বুঝায়।বর্ণ তার গালে হাত রেখে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে ঠোঁটে স্লাইড করতে করতে এবারেও জবাব করে, ‘বলেছি তো সুইটহার্ট!’

“আই ডোন্ট লিভ উইথ ইউ” বলেছেন।’
‘হুঁ!’

‘বাট একবারও “আই লাভ ইউ্যু বলেন নি” মিস্টার আসফিয়ান বর্ণ!’

এক ভ্রু তুলে সূক্ষ্ম চাহনি নিক্ষেপ করে বর্ণ।বলল,‘ সিরিয়াসলি?’

‘ উমঃ!’

‘ এর জবাবদিহি চাই তোর?’

প্রত্যুত্তরে গম্ভীর মুখে উপর নিচ মাথা ঝাঁকায় সুখ।বর্ণ ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল, ‘ এর কারণ একটাই।সেটা হলো তোকে বাকিসব করলেও লাভ-টাব করিনা।’

চোখ কপালে তুলে সুখ বিষ্ময় ভরা মুখে জানতে চায়, ‘ সত্যিই?’–শেষে মুখটা করুণ হলে এলো।বর্ণ কথাটির সত্যতা নিশ্চিত করতেই ছটফট করে ছাড়া পেতে। বুঝায়, ‘ ছাড়ুন খারাপ পুরুষ!থাকবো না আপনার সাথে। এখনি চলে যাবো নূরাকে নিয়ে।’

‘ যা খুশি কর। আমার তাতে কী?’

নিরেট গলায় কথাটি বলার ফাঁকে সুখ সমেত উঠে গিয়ে দুজন একসাথে বেডে শুয়ে পড়ল।জিমে গড়া শক্তপোক্ত পুরুষালী শরীরের নিচে রীতিমতো পিষ্ট হতে লাগলো সুখ।দম আটকে এসেছে প্রায়। ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে দেওয়ায় বর্ণ’র খোঁচা খোঁচা দাড়ির পরশে শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নেমে গেলো বোধহয়। লোমকূপ সিধে হয়ে উঠে। দুহাত লোকটার হাতে বন্দী বিধায় কিছু বুঝাতেও পারে না।মুখ দিয়ে কেবল অস্পষ্ট শব্দের উমঃ উমঃ শব্দ বেরোচ্ছে।

বিরক্তিতে একঝলক মাথা তুলে পুণরায় ঘাড়ে মুখ গুঁজে উন্মুক্ত কাঁধে ঠোঁট ছুঁইয়ে বর্ণ বলল,‘ এমন ছটফট করে না সোনা বউ। চোখের রঙ কেমন হয়েছে দেখেছিস?রাতে ঘুম হয়না আমার।আজ চুপচাপ সয়ে নে।’

বিগত কদিন ধরে একই কথা আওড়ে এভাবেই রাত্রি যাপন করেছে সে।আর সুখকে দিয়েছে অনিদ্রার রাত।চাদর খামচে ধরে বর্ণ’র ছোঁয়া গুলো ঠোঁট কামড়ে অনুভবে মত্ত হয় সুখ।এই পুরুষ কখনো এতোটা নিকটবর্তী এসে তার সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়াতে পারে তা কল্পনা তো দূর, কখনো দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেনি সে। অথচ… পরিস্থিতি আজ কতো সহজ।এই শখের পুরুষকে চাইলেই ছুঁতে পারছে, বক্ষস্থলে জড়াতে পারছে, নির্দ্বিধায় অভিমান-অভিযোগ উপস্থাপন করতে পারছে।এতো সুখ তার ভাগ্যে পাওনা ছিল বুঝি?

‘ সুখ তুমি আমাকে একা ফেলে এখানে চলে এলে?’

দু’জন কপোত কপোতী যখন পরষ্পরকে পরষ্পর গভীর অনুভবে লিপ্ত,ঠিক তখনই নিস্তেজ কক্ষে ছোট বাচ্চা কন্ঠটি কর্ণকৌঠরে আলোড়ন তুলল যেন।সুখ ছিটকে সরে আসে বর্ণ’র কাছ থেকে। হতভম্ব দৃষ্টিপাত করে দরজার অভিমুখে। ঘুমু-ঘুমু চোখ কচলে নূরা দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টি যদিও তাদের দিকে নয়।

বর্ণ’কে দেখে বুঝল লোকটা নিরুত্তাপ, শান্ত।সুখ হতাশ হয়। দুনিয়ার সব লজ্জা,জড়তা, অস্বস্তি কী তার শরীরেই ভর করে আছে?একটু লজ্জা তো ওই নির্লজ্জ লোকটারও থাকা উচিত ছিল।সে তড়িঘড়ি করে বেড থেকে নেমে গেল।গলায় হাত রেখে উপলব্ধি হয়- গায়ে ওড়না নেই। ইশশ্…ছোট্ট নূরার সামনে লজ্জায় কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে সুখের।মাটি ফাঁক করে লুকিয়ে যেতে প্রবল ইচ্ছে জাগে।হাত নেড়ে ইশারায় সাফাই গাওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু বুঝাতে চাইলে, নূরা তোড়াই পাত্তা দিল না। সবকিছু স্বাভাবিক এমন ভাব করেই দু কদম এগিয়ে এসে সুখের হাত ধরে টেনে নিয়ে আবার থেমে গেল।

বর্ণ’র কাছাকাছি আসতেই সে গলা খাঁকারি দিয়ে চোয়ালে হাত মাজল।নূরা ধীর কন্ঠে বলে, “ সুখের ওড়না দিয়ে দাও।দেখছো তো ও লজ্জা পাচ্ছে?”

সুখের কপালে হাত।ছুটে কোথায় পালিয়ে যেতে পারলে ভালো লাগতো! ওড়না টা বর্ণ’র হাতের মুঠোয় ছিলো। সেখানে থেকে নির্দ্বিধায় টেনে হাতে নিয়ে পরক্ষণে সুখের কাছে শপে দিয়ে দুজনে চলে গেলে রুম থেকে।বর্ণ ভ্রু তুলে চোখ কুঁচকে চেয়ে রয় তাদের যাওয়ার পথে। বিড়বিড় করে, “ আমার বিড়াল আমাকেই বলে ম্যাও?এঞ্জয়েবল!”
•··
আজ বিকালের দিকে তুহফার সাথে কথা বলতে এলেন রুবাইয়্যাত।মামিদের মধ্যে ওনার সাথেই তার বন্ধুসুলভ মানসিকতা। তাই আইজার পরামর্শে আযাদ সাহেব উনাকেই পাঠিয়েছেন কিছু কথা জানতে। রুবাইয়্যাত শুরুতেই বললেন,“ এখনো সময় আছে।মাহিরকে পছন্দ হলে বলে দিতে পারিস, তুফ্?”

তুহফা অস্বস্তিতে হাঁসফাঁস করে উঠল।হাতে হাত কচলে এধার ওধার নজর লুকায়। রুবাইয়্যাত কাঁধে হাত রেখে তাকে আস্বস্ত করেন, “ নির্ভয়ে বলে ফেল বাবু।তোর মামারা জানতে চাইছে সত্যিটা। নিঃসন্দেহে আজ পর্যন্ত তোর উপর তাদের কোন সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দেয়নি।দিয়েছে কী?”

দুদিকে মাথা ঝাঁকায় সে। দেয়নি কখনো। সুখের মতো,অভ্রের মতো তাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে এসেছে সবসময়। কখনো মা,বাবার অভাব বুঝতে দেয়নি;যদিও এই অভাবটা কখনো ঘুচবার নয়।তবু, তার কখনো মনে হয়নি- আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমিও এটা কিনতে বা করতে পারতাম;মা থাকলে এমন মমতা পেতাম।এতো সবের মাঝে একটা কথা সত্যি– বাবা মার প্রতি তার অটেল অভিমান।কেনো তাকে পৃথিবীতে একা ছেড়ে দুজন একসাথে পালিয়ে গেল? হারিয়ে গেল না ফেরার দেশে?

রুবাইয়্যাত বললেন,“ এটা তোর জীবন তুফ।ক্ষুদ্র পরিসরের এই জীবনে কাউকে ভালো লাগা, ভালোবাসা অপরাধ নয়।বলে দে?মামা’রা কেউ কিছু বলবে না।”

জল জমে চোখে,তুহফার এখনো মনে পড়ে কৈশোর কালে মামাদের স্নেহমাখা কথাগুলো– ‘ আমাদের তুফ্ মামণিকে একজন রাজপুত্রর হাতে তুলে দেবো।পুরো দেশ চষে সেই রাজপুত্তুরকে খোঁজে আনবো আমরা।সেই সুযোগ হবে তো?নাকি বড় হয়ে আজকাল’কার স্বাধীনচেতা মনোভাব নিয়ে বলবি- মামারা আমার শুনো,আমি নিজের ভালো বুঝতে শিখেছি।কাজেই, যোগ্য জীবনসঙ্গী আমি নিজেই নির্বাচন করবো।তোমরা ব্যাকডেটেড।বলেবি না তো এমন?”

তুহফা সেদিন লজ্জায় কাঁচুমাচু মুখে, কিন্তু গর্ব করে বলেছিল, “ মুটেও বলবো না।”

সেসব দিনের স্মৃতিচারণ করে মাথা নিচু করে নিল সে। ভঙ্গুর গলায় বলল, “ বাসি, ভালোবাসি!”–মাথা তুলে করুণ সুরে,“ বিশ্বাস করো মামি’মা আমি এমন কিছু হোক চাইনি। কিন্তু কীভাবে কীভাবে যেন মনটা…”

রুবাইয়্যাত কথা কেড়ে নিলেন, “ দূর পাগলি মন খারাপ করিস না তো আর।যা হয় তা ভালোর জন্যই হয়। এবার দেখ সামনে কী কী হয়!”

•··
এক কাণ্ড ঘটিয়েছে জেসি। ভোরে উঠে দুষ্টুমির ছলে শাড়ি পড়ে খোলা চুলে মেহরাবের সামনে গিয়ে, বিভিন্ন অঙ্গি-ভঙ্গি করে তাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালিয়েছে। এবং বলেছে- ‘আজ স্ত্রীর অধিকার সে আদায় করেই ছাড়বে।সেও দেখবে ডক্টর কতোটা ধৈর্যশীল পুরুষ।’

তার এমন নির্লজ্জতায় মেহরাব বার কয়েক নিষেধ করেছে- ‘জেসি যা করছে, পরবর্তীতে এর ফল তার জন্য শোভনীয় হবে না।’

কিন্তু জেসি কী এসব নিষেধ, হুমকি মানার পাত্রী? কিছু কিছু মানুষকে হুটহাট রাগিয়ে দিতে সে ভীষণ ভালোবাসে। কথায় কথায় ফট করে যে রেগে যায়,তাকে পেলে তো কথা-ই নেই।এই যেমন আসফিয়ান বর্ণ।তাকে সেদিনও কল করে ফোনের এপাশ থেকে একবার ডাকল–“ হিরো?”

বর্ণ জবাব দিল।জেসি আবার নামটা ধরে ডাকল।বর্ণ পুণরায় জবাব দেয়।সে আবার ডাকল এরপর আরো দু’বার… পর মূহূর্তে কিছু বলার আগেই ওপাশ থেকে ঝনঝন কিছু ভাঙচুরের আওয়াজ এলো এবং শক্ত কন্ঠে ধমক ভেসে এলো ধারালো ছুরির মতো, “ আর একবার নামটা তোর মুখ থেকে বের হলে এভাবেই থাপড়ে মাড়ি থেকে সব দাঁত উপড়ে ফেলবো পাজি।”

জিভ কামড়ে সন্তর্পণে লাইন কেটে দিয়েছিল তখন।এই কাজটা বর্ণ’র সাথে প্রায়শই করে সে।ভাইয়ার সাথে এসব করে আনন্দ নেই। হাজার বার সে ডাকলেও জিসান হাজার বারই আদুরে কোমল গলায় জবাব দেয়।

ঠিক এভাবেই…
মেহরাবকে চোখ রাঙাতে দেখে এক বুক সাহস দেখিয়ে কোলে গিয়ে বসল। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রথম কিছু সেকেন্ড স্তব্ধ হয়ে থাকলেও, খানিক বাদে আচমকা তার হাত ধরে টেনে সোজা রান্নাঘরে ঢুকিয়ে দিল আর বললো মেহরাব, “ স্ত্রী ধর্ম পালনের অন্যতম শর্ত কিচেন সামলানো।আজ থেকে সংসারের হাল ধরো। এরপর ভেবে দেখবো স্ত্রী’র অধিকার পাওয়ার কতোটা যোগ্য তুমি।”

মায়রা কাহিনীর কিছুই বুঝল না তবে হেল্প করতে চেয়েছিল রান্নায়।মেহরাব তাকেও কিচেন থেকে নিয়ে এলো।জেসিকে আদেশ দিল- ‘লাঞ্চ রেডি করতে।কী কী খাবে তাও লিস্ট বানিয়ে দিল।’

মীরাভকে নিয়ে ড্রয়িং রুমে বসে মেহরাব। ক্ষণে ক্ষণে কিচেন রুমের দিকে লক্ষ্য রাখছে।উদ্বিগ্ন মায়রা অনুধাবন করার চেষ্টা করছে কিছু।জেসিটা রান্নাঘরে কী করছে কে জানে!

আকম্মাৎ মেয়েলি কান্নার শব্দে মীরাভকে রেখে মেহরাব ছুটল কিচেনে।মায়রাও গেল ভাইয়ের পিছু পিছু।জেসির হাত কেটে লাল তরল বেরোচ্ছে।খুব বেশি কাটেনি,ব্যস তালুতে ছুরির পোচ লেগেছে সামান্য।ছুরি আর পেঁয়াজ ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে।

দ্রুত তাকে বেসিনে নিয়ে হাত ধুইয়ে দিল মেহরাব।রক্ত পরিষ্কার হওয়ার পরে হাত মুঠো করে আবার খুলতেই পুণরায় রক্ত ছুটে এলো।জেসির কান্না থামে না।এতো চিৎকার করে কান্না করছে যে,মায়রা শঙ্কিত।পাছে আশপাশের মানুষ ছুটে না আসে।কানে আঙুল চেপে এগিয়ে যায় সে, “ এইতো রক্ত বন্ধ হয়ে গেছে। কাঁধে না জেসি।”

অথচ তার কান্না কমার বদলে বেড়েছে বৈকি। একপ্রকার দুহাত ঝাঁকিয়ে কাঁদার তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করছে যেন। মেহরাব হতাশ চোখে ক্ষণকাল একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে মায়রা থামিয়ে দিল, “ তোর বউ, তুই সামলা ভাই। স্বেচ্ছায় তো বিয়ে করেছিলি।”

দু’জনকে রেখে সে চলে গেল। এখানে নিজেকে তৃতীয় পক্ষ ছাড়া আপাতত অন্য কিছু মনে হচ্ছে না।

মেহরাব বেজায় বিরক্তিতে ভ্রু গুটিয়ে চেয়ে আছে।জেসির আহাজারি কান্না থামার নাম নেই,“ আপনার কথা রাখতে গিয়ে আমার কতো বড় সর্বনাশ হয়ে গেল চোখ মেলে দেখুন একবার। অনুশোচনা হচ্ছে না,না?হবে কী করে আপনি তো আস্ত একটা খুমড়ো পটাশ!”

ছুরি টেনে আচানক মেহরাব বাঁ হাতে হালকা টান মারল।রক্ত দেখিয়ে বলল জেসিকে,“ মিস ইডিয়ট এবার আমিও তোমার তালে তাল মিলিয়ে কাঁদি?পড়শিরা এসে সার্কাস দেখে যাক?”

হুট করে থামিয়ে সে আবারো গলা ফাটিয়ে কান্না করে বলল,“ ঠিক আছে,তাই হোক।তবে মনে রাখবেন লেডিস ফার্স্ট। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস আছে। আপনি হাজার কেঁদে আমার ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারবেন না মিস্টার অ্যারোগেন্ট!আর একটা কথা ওটা মিস নয় মিসেস হবে।”

মেহরাব দমে গেল। তপ্ত শ্বাস ছেড়ে দুহাত পিছমোড়া করে একধাপ এগিয়ে এলো। এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে আরও দুধাপ এগিয়ে আচানক ঝুকে জেসির ঠোঁটের কিনারে আলতো ঠোঁট ছুঁয়ে সরে এলো পরপর।ব্যাস… শব্দ থেমে গেলো মেয়েটার।কথা বলতেই ভুলে গেল সে। বিষ্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে অক্ষত হাতটা দিয়ে মেহরাবের ঠোঁটের পরশ লাগা জায়গায় ছুঁলো। অন্তঃস্থল কাঁপছে, কাঁপছে সর্বাঙ্গ। অস্ফুট স্বরে মুখ ফুটে বেরিয়ে এলো, “ ইয়্যু কিসড্ মি!”

মেহরাব ঠোঁট একপেশে হেসে কিসের থেকে বেরোতে বেরোতে কাঁধ ঝাঁকিয়ে প্রত্যুত্তর করে যায়,“ ইয়াহ্ আই কিসড্ ইয়্যু।”

#চলবে🦋
[আগামী পর্বে হয়তো বর্ণ’র সব রহস্য উন্মোচন হবে…!]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here