আমার_বোবাফুল(৬৫) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

0
56

#আমার_বোবাফুল(৬৫)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

“ আপনি হঠাৎ কী মনে করে?ক-কার কাছে এসেছেন?”– জেসির স্বর কাঁপে।ঢোক গিলে এধার ওধার পলক ছিটায়। সামনে মেহরাব।সরু চোখে তাকে দেখেই যাচ্ছে একদৃষ্টে ,সেই কবে থেকে।একসময় নিঃশব্দে এগিয়ে এলো।জেসি খেই হারিয়ে পেলে।কী করবে বুঝে উঠতে না পেরে পেছাতে শুরু করে।

“ এ-এভাবে এগুচ্ছেন কেন?ভয় পাচ্ছি আমি।বাড়িতে ভাইয়া নেই।”

“ সম্ভ্রমহানির ভয়?”

মেহরাব মুখ খুলল এবার।জেসি সায় দেয়, “ কিছুটা তেমনি!”

আর জবাব দেয়নি মেহরাব।জেসিকেও পেছাতে দিল না।হাত বাড়িয়ে তার বাহু ধরে আটকে দিল। এবং পরপরই শক্ত চোয়ালে বলল দ্বারের দিকে এগুতে এগুতে, “ চলো। বহুদিন স্বাধীন ভাবে বাড়িয়েছো, দ্যাট’স এনাফ!”

দু’কদম এগিয়ে হাত মুচড়ামুচড়ি করতে করতে জেসি প্রশ্ন করে, “ ক-কোথায় যাবো আপনার সাথে? মুক্তি দিয়ে সারাজীবনের জন্য ছেড়ে চলে এসেছি না?”

মেহরাব থেমে যায়।সেই সাথে জেসির হাত ও বাঁধন থেকে আলগা হয়ে গেল।এক কদম পিছিয়ে গেল সে। মেহরাব ধীরে পিছু ঘুরে আচমকা মুষ্টিবদ্ধ হাতে পাশে থাকা ফুলদানিতে আঘাত করতেই ফ্লোরে ছিটকে পড়ে ঝনঝন করে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে পড়ল সেটা। এরপরও সে থেমে থাকেনি। দুহাতে জেসির বাহু চেপে ধরে মুখোমুখি টেনে এনে বলল হুঙ্কার ছেড়ে, “ তোমরা ভাই বোন আর বন্ধু বান্ধব গুলো নাটক পেয়েছো আমার জীবনকে? আমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় বোনকে ব্লাস্ট…”–রাগ সংবরণ করে মেহরাব থেমে গেল। সে ফুঁসছে।জেসির চোখ টলমলে।থমকানো গলায় জানতে চাইল, “ ব্লাস্ট?”

সেই কথা সম্পন্ন করেনি মেহরাব।জেসিকে ছুঁড়ে ফেলার মতো ছেড়ে দিয়ে বলে গেল, “ বিয়ে করতে ইচ্ছে হয়েছে বিয়ে করেছো!ওখেই, মেনে নিয়েছিলাম। তোমাকে কখনো খোঁটা দিয়েছি? টর্চার করেছি কেউ? কষ্টে রেখেছি?”

চোখ নামিয়ে দুদিকে মাথা ঝাঁকায় জেসি।টুপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। মেহরাব ফের বলল, “ এরপর তোমার মনে হলো তুমি ভুল করেছো, শুধরে নেওয়া উচিৎ।তাই মুক্তি দিয়ে চলে এলে। মানে মন চেয়েছিল বিয়ে করলে, পরে ভুল বুঝতে পেরে চলেও এলে। এখানে ইক্সাক্ট আমার ভূমিকা কোথায়?অ্যান্সার মি!”

শেষোক্ত ধমকে জেসি কেঁপে উঠল। মেহরাব থেমে নেই, “ যেই মূহুর্তে আমার নামে কবুল পড়েছিলে সেই মূহূর্ত থেকে দু’জনের সম্পর্ক বাঁচিয়ে, টিকিয়ে রাখা বা বিচ্ছেদের জন্য দু’জনের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে, মেবি।নিয়েছিলে আমার সম্মতি? ছেড়ে আসার মতো এতো বড় স্পর্ধা দেখানোর আগে জানিয়েছিলে আমায়?”

জেসি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।হাতের উল্টো পিঠে চোখ মুছে অশ্রুসিক্ত চোখ‌ তুলে চায়। মেহরাব নজর সরিয়ে নিল তড়িৎ।

“ স্টপ ক্রাইং!আই ডোন্ট লাইক দিস হ্যাভিট!”–ধমকে কথাটি বলার ফাঁকে টি টেবিল থেকে টিস্যু নিয়ে এগিয়ে দিল।জেসি চোখ মুছে নাক টানে। কেটে যায় মূহুর্ত। দুজন চুপচাপ দাঁড়িয়ে রয়।

“ বিয়ে যেহেতু স্বেচ্ছায় করেছো, বিচ্ছেদ আমার চাওয়াতেই হবে।একা একা তো জীবন কাটানো সম্ভব না। তুমি চলে এলেও একসময় কাউকে না কাউকে লাইফ পার্টনার করতেই হবে। এরচেয়ে বরং তোমার সাথেই একটা জীবন পাড়ি দিয়ে দেই?”

এতোক্ষণের গম্ভীর, কঠোর ভাবটা কমে গিয়ে তার স্বরে শীতলতা ধরা দিল।জেসি মুখ খুলল, “ যাকে ভালোবাসেন না,যার জন্য আপনার চোখে কোন মায়া নেই, ভালোলাগা নেই তার সাথে এক জীবন কীভাবে পাড়ি দেবেন?”

ক্ষাণিক আগের উগ্র মেহরাব এখন শান্ত-সৌম্য।ধীর পায়ে কাছে এসে নিঃশব্দে জেসির মাথার পিছে, চুলে হাত গলিয়ে নিকটে এনে অধরে অধর জোড়া ডুবিয়ে দিল আকম্মাৎ। কোন পূর্ব ইঙ্গিত ছাড়াই।

জিসান তড়িৎ করে ল্যাপটপ ফোল্ট করে গলা খাঁকারি দিয়ে কপালে হাত ঘঁষে। ফোঁস করে দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুঝে নেয় এরপর।

দমবন্ধকর প্রলম্বিত এক চুম্বন শেষে ছাড় দেওয়া হয় জেসিকে।ছাড়া পেয়ে উল্টো ঘুরে মুখে হাত চেপে হা করে শ্বাস ফেলতে লাগে সে।মনে হচ্ছে শ্বাস আটকে আছে। শরীরটা অস্বাভাবিক কাঁপছে। বুকে হাত চেপেও হৃদ যন্ত্রের ধড়ফড় থামাতে ব্যর্থ জেসি।মেহবারের স্বর ভেসে আসে, “ এবার কী মনে হচ্ছে?শুনেছি হৃদয়ে কোন ফিলিংস না থাকলে এভাবে দীর্ঘ সময় কিস করা যায় না!”

দুহাতে জামা খামচে ধরে লজ্জায় ঠোঁট কামড়ে ধরে জেসি। পিছু ঘুরল না।একটু আগে যে মেহরাব তাকে কাছে টেনে নিল, ছুঁয়ে দিল সেই মেহরাবকে বড্ড অচেনা ঠেকছে।

যতটুকু সময় বলেছিল, ল্যাবে পৌঁছাতে ততটুকু সময় লাগল না সিয়ামের।এসেই সোজা জিসানের কেবিনে চলে এলো।

হাতের ফাইলটা দেখাল জিসান। এরপর বুকে হাত বেঁধে সটান দাঁড়িয়ে থাকে। রিপোর্টে বার বার নজর হাঁটিয়ে সিয়ান ফ্যালফ্যাল করে জিসানের দিকে চেয়ে বিষ্ময় সমেত বলল আচমকা, “ আসফিয়ান বর্ণ’স ডিএনএ ম্যাচ উইথ জোসেফ জোয়ার্দার!”

“ ইয়েস! রিপোর্ট আমাদের সেটাই তো বলছে!”
“ এ আবার কেমন টুইস্ট? আমাদের কোথাও ভুল হচ্ছে না তো?তুই শিওর টেস্টের জন্য যা পাঠিয়েছিলাম তা দু’জনেরি?নাকি শুধুই বর্ণ’র?”

“ অফকোর্স শিওর!”
“ ব্যাপারটা ওকে ইনফর্ম করতে হচ্ছে না এবার?”

“ হবে তো অবশ্যই!তবে ফেইস টু ফেইস!

আজ মেহেদী উৎসব।ছোট-বড় সকলেই মেহেদী পড়ছে।তুহফাকে মাঝে রেখে মেহেদী পড়িয়ে দিচ্ছে পার্লারের একজন।নূরা একহাতে লাগিয়ে এক কোণে বসে খালি হাতে ফোনে গেইম খেলছে, পাশে আরও দুটো বাচ্চা মেয়ে।আজকের জন্য তুহফার ফোন তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।মাহিরের কল এসেছিল একবার।নূরার আবার দয়ার শরীর।গত কয়েকদিন ধরে বর-কনের উপর হওয়া নির্মমতা সইতে না পেরে এবারে তুহফাকে লুকিয়ে চুরিয়ে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে।

সুখ শাড়ি পড়ছে। মেহেদী দেয়নি এখনো, উপর মহল থেকে নিষেধাজ্ঞা এসেছে বাইরের কারো কাছে যেনো মেহেদী না পড়ে।রাতে তার বেপরোয়া আশিক নিজের হাতে পড়িয়ে দেবে।রুমে তখন বর্ণ ছিল না।সুখ আপাতত মেরুন রঙা একটি শাড়ি গায়ে জড়িয়ে রুম থেকে বেরোলো।দু’পা বাড়াতে হয়নি, তন্মধ্যে বর্ণ কোত্থেকে ছুটে এসে পুণরায় রুমে ঢুকিয়ে দরজা আটকে দিল।সুখ চরম বিরক্তি দেখিয়ে মুখ তুলে জানতে চাইল ইশারায়, “ সমস্যা কী? হুটহাট এভাবে রুমে টেনে আনলেন কেনো?”

বর্ণ জবাব দিল না।চেয়েই রইলো। অপলক দৃষ্টিতে সুখের চোখ, ঠোঁটের নড়চড় ,মুখশ্রী, শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যেনো চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে। লজ্জা ঘিরে ধরে সুখকে।হাতে হাত ঘঁষে মুখ নামিয়ে নিতে গেলে বর্ণ পুণরায় থুতনি চেপে উপরে তুলে দিয়ে কাছাকাছি এসে বলল, “ নিচে যাবি এভাবে?”

“ কীভাবে?”

বর্ণ চুপ রয়। প্রত্যুত্তরে হাতের আঙ্গুলের ভাঁজে আঙুল গলিয়ে পিছমোড়ে আড়াআড়ি করে ধরে তাকে নিজের সাথে মিশিয়ে পুণর্বার বলল, “ এভাবেই যাবি?”

সুখ লাজুক হেসে উপর নিচ মাথা দুলাতেই সে বলল, “ দ্যান… লেটস হ্যাভ অ্যা কিস?”

হতবাক হয়ে তাকাল সুখ। ছাড় পেতে ছটফটানি শুরু দেয় তৎক্ষণাৎ।বর্ণ বলল, “ শৈল মাছের মতো করছিস কেনো?আমি তোর হাসবেন্ড হই, নট অ্যা স্ট্রেঞ্জার!অধিকার থেকে তো বঞ্চিত রেখেছিস।যা একটু জোরজবরদস্তি আদায় করছি, তাতেও এতো ছটফট?”

সুখ ফ্যাকাসে মুখ করে অসন্তুষ্টিতে ঠোঁট উল্টে করুণ চোখে চেয়ে রইল। কাজিন বানরগুলো খুব চতুর। প্রতিটি সাজ অনেক সূক্ষ্ম চোখে পরখ করে, তবেই তার সঙ্গ ছেড়েছে। এখন সাজ এলোমেলো করে তাদের সামনে গেলে- ‘ বর্ণ ভাই আদর দিয়েছে? কীভাবে আমাদের একটু বল?’ আরো এই সেই বলে মজা লুটবে সবাই।এই পাষণ্ড পুরুষকে কীভাবে বুঝাবে সেসব?বর্ণ ভ্রু নাচিয়ে জানতে চাইল, “ কিছু বলতে চাস?”

ঠোঁট নাড়ে সুখ, “ হ্যাঁ।”

বর্ণ মুখটা এগিয়ে নিয়ে এলো ।সব মনোযোগ সুখের ঠোঁটতেই আবদ্ধ। সেদিকে চেয়েই নেশাক্ত সুরে বলল, “ বল, শুনছি!”

“ ছেড়ে দিন না।”

থেমে গিয়ে বর্ণ এক ভ্রু তুলে বলল, “ এটাই বলার ছিল তোর?”

“ হুঁ!”
“ তুই ছাড়তে বললেই আমি নীরবে ছেড়ে দেবো, এটা বিশ্বাস করিস?”

নাহ্!সুখ দুদিকে মাথা ঝাঁকায়। বর্ণ ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে শীতল গলায় বলে, “ এটা আসফিয়ান বর্ণর কাজের প্রতি অন্ধবিশ্বাস নাকি অ-বিশ্বাস?”

পরপরই সুখের ঠোঁটের কোণে চুমু এঁকে মুখ সরিয়ে আনে সে।তার হাত ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে বলল, “ ফিরে এসে যেন হাত এমনই ফ্রেশ দেখি।আজ ফুলের হাতে মেহেদীর আঁচড় তুলবে স্বয়ং আসফিয়ান বর্ণ!গট ইট সুইটহার্ট?”

অবশেষে বর্ণ’র বন্দিনী থেকে ছাড় পেয়ে নিচে নেমে এলো সুখ।বাড়িতে অতিথিদের সরগম। হাঁটার ফাঁকে ফাঁকে অনেকের সাথেই টুকটাক কথা হয়ে গেল। ক্ষিদে পেয়েছে খুব, পেট ছুঁ ছুঁ করছে যেমন।রুবাইয়্যাত রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিলেন।খালামণিদের ভিড়িয়ে আম্মুর পাশে গিয়ে অল্পক্ষণ চেয়ে রইলো। ভদ্রমহিলা আগে থেকেই প্লেট ভর্তি খাবার তুলে রেখেছিলেন। প্লেট হাতে নিয়ে গিয়েও আশেপাশে পর্যবেক্ষণ করে হাত গুটিয়ে নেয় সুখ। বুঝায়–

“ কাজ করতে অনেকেই আছে এখানে।চলো খাইয়ে দেবে আমায়। অনেকদিন তোমার হাতে খাইনি।”–অথচ কাল রাতেও খেয়েছে। রুবাইয়্যাত হাসলেন মুগ্ধ হয়ে।খালামণিরা বলাবলি করছে, “ মেয়ের বিয়ে দিয়েছো আপা।এখনো বাচ্চাদের মতো খাইয়ে দিতে হয়?আজব!ইবরাত, মিলিকে তো আমি দিইনা কখনো!”

রুবাইয়্যাত জবাব দেন, “ সন্তান যতোই বড়ো হোক,মায়ের চোখে সে ছোট্টটাই রয়ে যায়। আমার একটা মাত্র মেয়ে। বিয়ে হোক বা একাধিক বাচ্চার মা, তবুও সে আমার কাছে ছোট বাচ্চাই থাকবে!”

কিছু কটু কথা শুনাতে ইচ্ছে হলেও তারা বলেনি আর কিছুই।সুখকে নিয়ে নিজেদের রুমে চলে এলেন রুবাইয়্যাত।তামিজ সাহেব তখন ছিলেন না। ভদ্রলোক বিয়ের তোড়জোড়ে ভীষণ ব্যস্ত।বেডে বসে সুখ প্রথমে আম্মুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

সুখের মুখে লুকমা তুলে দেওয়ার সময় তড়িঘড়ি করে অভ্র প্রবেশ করে, “ চাচ্চুর ওয়ালেট’টা দাও কাম্মা, দ্রুত…”– অভ্যন্তরীণ দৃশ্যে চোখ আঠকাতেই থেমে গিয়ে ব্যস্ততার সুর পাল্টে ব্যঙ্গ করে বলল, “ শুধু সুখ আপিকেই খাইয়ে দেবে? ওহ্ আমরা তো বানের জলে ভেসে এসেছি।”

“ আয়, তোকেও খাইয়ে দিই!”

সুখও হাসিমুখে ইশারায় কাছে ডাকল।ব্যস্ততা ভুলে অভ্র সত্যিই হা করে। রুবাইয়্যাত খুশিমনে তার মুখে লুকমা পুরে দিয়ে কাভার্ড থেকে ওয়ালেট বের করে দিলেন।চলে যাওয়ার আগে আরেক লুকমা নিল অভ্র। পিছু থেকে রুবাইয়্যাত বললেন, “ নূরকে পাঠিয়ে দিস অভ্র। বাচ্চাটাও কিছু মুখে তুলেনি সকাল থেকে।”

আড়চোখে চেয়ে পুণরায় নজর সরিয়ে আনে জেসি। বুকের ভেতরটা ঈষৎ ছলকে উঠে। পাশেই মেহরাব।জেসির লজ্জা লাগছে প্রচুর।কেনো কে জানে!আগে লোকটার পাশাপাশি, এমনকি গা ঘেঁষে দাঁড়াতেও এমন লজ্জা বোধ করেনি।হয়তো মেহরাবের সম্মতি ব্যতীত তাকে জ্বালাতন করতে পেরে ভালো লাগতো বলে। এখন মানুষটা রাগছে তো না, উল্টো ক্ষণে ক্ষণে ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে তাকে পর্যবেক্ষণ করছে।সময় দেখে নেয় জেসি।বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট বেজে। ভাইয়া এতোক্ষণে কেনো যে এসে পৌঁছাচ্ছে না!

জেসির হঠাৎ মনে উঠে- মেহরাব এই মূহুর্তে তাদের বাড়ির অতিথি। মেহমানদারি উপলক্ষে কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি। রয়েসয়ে জানতে চাইল, “ কিছু খাবেন?করে নিয়ে আসি কিছু?”

মেহরাব চট করে তার দিকে ফিরে ছোট ছোট চোখে তাকিয়ে বলল, “ বাড়িতে গেস্ট আসলে ‘কিছু খাবেন,করে দিই’ এমন মতামত নিয়েই কী তাদের আপ্যায়ন করা হয় এদিকে?”

জেসি থমথম খেয়ে যায়। জোরপূর্বক হাসতে গিয়ে ঠোঁটে চিনচিনে ব্যথা অনুভব করে অস্ফুট স্বরে ‘আহ্’ করে উঠে দ্রুততই ঠোঁটে হাত চাপে। পরক্ষণে ফ্যালফ্যাল করে মেহরাবের দিকে চাইল। মানুষটা হাসছে মিটিমিটি। তর্জনীতে মৃদু কপাল চুলকে ঠোঁটে হাসি বজায় রেখে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল, “ ঠোঁট কেটে গেছে?”

আমতা আমতা করে জেসি উঠে গেল, “ আ-আমি আপনার জন্য কিছু তৈরি করে আনছি।বসুন, ভাইয়া আসবে এখুনিই!”

রাতের আকাশে গুটিকয়েক তারাদের মেলা। রূপালী চাঁদ খানাও উঁকি দিয়ে আছে তন্মধ্যে।বাইরে মেহেদী উৎসবে মেতে উঠেছে সকলে।ফুলে ফুলে ভরা বড় স্টেজ। মাঝে তুহফাকে বসানো হয়েছে। ফটোশুট চলছে।অতিথিরা একে একে স্টেজে উঠে তুহফার পাশে বসে কেক কেটে ছবি ক্যাপচার্ড করছে। মিউজিকে গানের সুর, আতসবাজির রোশনাইয়ে নিবাসের আকাশ ঝলমলে।আরও কতো কী!

ক্ষণকাল সবার মাঝে থেকে আইজা বাড়ির ভেতরে চলে এলেন, সোজা নিজেদের বেডরুমে। এরপর দরজা ভিড়িয়ে চলে এলেন ব্যালকনিতে। সেখানে বর্ণ দাঁড়িয়ে ছিল আগে থেকেই তার দৃষ্টি ওই নিচে। যেখানে হৈচৈ রৈ রৈ আনন্দে মেতে উঠেছে সবাই। দূরে একাধিক মেয়েদের মাঝে সুখকেও চোখে পড়ছে। বর্ণ’র দৃষ্টি তার দিকেই আবদ্ধ।
ছেলেকে এখানে দেখে একটুও চমকালেন না আইজা। বরং নিঃশব্দে তার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নিজেও নজর নিবদ্ধ করলেন স্টেজে। প্রায় অনেক্ষণ কেটে গেল নীরবতায়। এরপর মুখ খুলে বর্ণ। অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই বলল, “ বেশ কয়েকদিন আগে একজনের সাথে মিট হয়েছে। কিছুটা স্প্যাশাল ছিল সে আমার জন্য।ইউ মাইট নো হিম!”

আইজা মুখ ঘুরিয়ে ছেলের দিকে তাকালেন।বর্ণর দৃষ্টি তখনও দূরের সুখের দিকে। মা’র দিকে একবারও চায়নি সে। ভদ্রমহিলা তপ্ত শ্বাস ছেড়ে জিজ্ঞেস করলেন, “ কে সে?”

#চলবে🍂

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here