#আমার_বোবাফুল(৪৬.১)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা
৪৬–প্রথমার্ধ·💔
‘ গুড মর্নিং’ –মেসেজটি কাঙ্ক্ষিত নাম্বারে পাঠিয়ে ফোনের দিকে চেয়ে মুচকি হাসে মেহরাব। দুহাতের আঙুলের সহায়তা ফোনটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে চেয়ারে পিঠ এলিয়ে দেয়। দৃষ্টিতে ভাসমান হয় দুটো নিষ্পাপ মেয়েলি আঁখি পল্লব, কী আকর্ষণীয় ভীতই না ছিল সেই-আখিদ্বয়ের ধীর ধীর চাহনি।
টুং করে নোটিফিকেশন আসতেই স্ক্রিনে নজর ঘুরাল। ঠোঁটের হাসি প্রসস্থ হলো তার।জবাব এসেছে,
‘ গুড মর্নিং টু’
ঠোঁটে হাসি চেপে মেহরাব লিখে পাঠায় ফের,
‘ হোয়াটস-আপ?কী করা হচ্ছে ম্যাডাম?’
‘ আমি তো বসে!’
সে কী করছে না জানতে চাওয়ায় অল্প আশাহত হল।তবে, মনে নিল না। লিখল,
‘ রাতে ঘুম কেমন হলো?’
এক অক্ষরের প্রত্যুত্তর আসে, -‘ ভালো!’
মেহরাব হাসল ঠোঁট কামড়ে। কীবোর্ড কিছু শব্দগুচ্ছ তুলে পুণরায় কাট করে আবারো নতুন কিছু লিখল,
‘ আমার না রাতে ঘুম হয়নি।কেনো জানো?’
‘ কেনো?’
‘ একটা নিদ্রা-হরণী আমার চোখের ঘুম ছুরি করেছে!’
‘ কী বলো ব্যাড্ডি! তোমার ঘুম কেউ চুরি করেছে?এমন চোরও পৃথিবীতে আছে?’–অত্যাধিক আশ্চর্যান্বিত ইমোজি দেখা গেল মেসেজের পাশে।
মেহরাব ভ্রু কুঞ্জন করে।‘ব্যাড্ডি?’ শব্দটি তো নূরা ইউজ করে।তবে কী এতোক্ষণ নূরাই রিপ্লে করছিল? অল্পসময় থম মেরে থাকে মেহরাব।কপালে ফোন চেপে হতাশ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে আবারো চেয়ারে হেলান দেয়। মৃদু হাসি অধরে আর লক্ষ্য করা গেল না।মেসেজ নোটিফিকেশন আসে,
‘ বলোনা ব্যাড্ডি কোন সেই চোর যে তোমার ঘুম চুরি করেছে।তাকে শাস্তি দিয়েছিলে?’
→
ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে ঝরঝরে সিল্কি চুলগুলো কাঠিতে করে খোঁপা করে নিল সুখ।কানের দু’পাশ থেকে ছোট ছোট চুল বেরিয়ে যায় তবু।কী মনোরঞ্জক দৃশ্যটুকু। আজকাল চুলের যত্ন সে মোটেও করেনা।এর দায়িত্ব নিয়েছে আম্মু।চুলের প্রতি হঠাৎ অবহেলা চোখের সামনে না দেখতে পেরে তুহফাও সময় সময় শ্যাম্পু হাতে ধরিয়ে দেয়।
সুখ কোমরে হাত চাপে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে।নিন্মাধর দাঁতে চেপে ধরায় গালের একপাশে টোল পড়েছে।গুলুমুলু মিষ্টি মিষ্টি লাগল নূরার কাছে।তবে সুখের ক্ষুরধার দৃষ্টি অবলোকন করে ফোন খানা কোলে চেপে আড়াল করতে চাইল গুটিসুটি মেরে বসে।শেষ রক্ষা হলো না।সুখ এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে দেয়,
‘ কী করছো ফোনে?দেখি?’
‘ আরেকটু…’ –করুন চোখে ঠোঁট উল্টায় বাচ্চা মেয়েটা।মায়া-দয়া করে যদি আরেকটু-খানি ব্যাড্ডির সাথে গল্প করতে দেয়।
ফোন হাতে নিতেই সুখের প্রতিক্রিয়া হতভম্বে কঠোর হয়ে যায়। মেহরাবের পক্ষ হতে আসা মেসেজ,নূরার রিপ্লে-গুলো পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত হাতে লিখল প্রথমেই,
‘ স্যরি.. স্যরি.. রিপ্লাই গুলো নূর দিয়েছে এতোক্ষণ।বুঝতে পারিনি ও এমনটা করে বসবে!’
তৎক্ষণাৎ প্রত্যুত্তর আসে।যেনো অপেক্ষায়
ছিল, – ‘বুঝতে পারিনি মানে?তুমি হলে রিপ্লাই করতে না?’
ধপ করে বেডে বসল সুখ। চোখ মুখ শক্ত করে নূরার দিকে চায়।হাতের ইশারায় বলল,
‘ এসব কী? পারমিশন ছাড়াই ফোনে হাত দেওয়া কেমন ম্যানার?’
ব্যাথাতুর অভিনয়ে নূরা সেরা।এটা অস্বীকার করার মতো নয়। কাঁদো কাঁদো ভান ধরে গাঁই-গুঁই করে বলল,
‘ স্যরি.. আমার মনে হয়েছিল ব্যাড্ডি মর্নিং আমায় জানিয়েছে!’
‘ এখন মনে হচ্ছে না?’
নূরা ছুটে এসে কানের গোড়ায় ফিসফিসিয়ে কিছু বলল। অচিরেই হাত দুটো কিড়মিড় করে চোখ খিচে নেয় সুখ।এখনি কিছু ভাঙচুর করে ফেলতে পারে।নূরা ধীরে ধীরে বেড থেকে নেমে যায়,
‘ চলে যাচ্ছি সুখ.. স্কুলের হোমওয়ার্ক
বাকি!’ –মানে মানে দ্রুত কেটে পড়ল।
কক্ষ নির্জন হওয়ার পরপরই সুখের মুখশ্রী থেকে মেকি চঞ্চল ভাব দূরীভূত হয়ে যায়। আঁধার নেমে এলো চেহারায়। মুঠোয় থাকা ফোনটা আলগোছে বালিশে ছুঁড়ে অন্যমনস্ক হয়ে গেল একসময়।
থরথর শরীর কেঁপে উঠে সুখের। কাঁপা কাঁপা হাত দুটো চোখের সামনে তুলে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখে হঠাৎ মুখ ঢেকে নিল দু -হাতের তালুতে। বুকের ভেতরের পাঁজরটায় বড্ড যন্ত্রণা।মনে হচ্ছে, কাঁচের মত ফাটল ধরতে শুরু করেছে। এখনই ছিঁড়েখুঁড়ে র/ক্ত/ক্ষরণ হবে।দুহাতে হাঁটু চেপে ঠোঁট কামড়ে ধরে সুখ।চোখ জ্বালা করছে। অশ্রু-রা ভিড় জমিয়েছে কৌটায়।
‘ কাঁদছিস?’
সেকেন্ড ব্যয়ে মাথা তুলে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো সুখ।একদম স্বাভাবিক। ঠোঁটে মৃদু হাসি।যেনো কিছুই হয়নি। নিজস্ব ভাষায় জবাব করল,
‘ নাতো! চোখে ধুলোর মতো কিছু একটা পড়েছে।দেখো তো।জ্বালা করছে ভীষণ!’ –বলার ফাঁকে ঠোঁট কেঁপে উঠল।
তুহফার চোখে সন্দেহ।মুখ থেকে তোয়ালে সরিয়ে বাঁ-কাঁধে ফেলে এগিয়ে এলো। সুখের থুতনিতে হাত রেখে মুখটা উপরে তুলতেই ঝর্নার পানির মতো ঝরঝর করে দুচোখ ভরে বাঁধভাঙা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
কিঞ্চিৎ ভয় পেয়ে গেল তুহফা। এতো পানি গলছে মানে সত্যিই হয়তো কিছু পড়েছে।এতে চোখের ক্ষতি হতে পারে।
দ্রুত হাতে পানি মুছে গভীর দৃষ্টিতে সুখের চোখদ্বয় ঘুরেফিরে দেখে হতবুদ্ধির মতো চাইল সে। কিছুই তো দেখা যাচ্ছে না।তাছাড়া, ধুলো ময়লা ঢুকলে এমন বিরামহীন অশ্রু গড়ায় নাকি?তুহফা সংশয় নিয়ে সুখের চোখে চোখ রাখে।নিশ্চল দৃষ্টিতে চোখ পাকিয়ে আছে সুখ। অশ্রুসিক্ত চোখে তখনো গড়াচ্ছে জল।
ঈষৎ হেসে সরে আসে। হাতের উল্টো পিঠে চোখের পানি মুছে জিভে ঠোঁট ভিজিয়ে বুঝাল হাত নেড়ে,
‘ জলের সাথে ধুলো বেরিয়ে এসেছে হয়তো।এখন আর জ্বলছে না!’
‘ আর ইউ শিওর?’
সন্দেহ গেল না স্বর থেকে। উপর নিচ মাথা ঝাঁকিয়ে ‘হ্যা’ জানাল সুখ।গলায় ওড়না জড়িয়ে বেড থেকে নেমে বুঝাল,
‘ আমি নিচে যাচ্ছি!’
•
গত রাত জেলা ছাড়ার কথা বললেও বর্ণকে আজ ভোরেও শিকদার নিবাসে দেখা গেল।আযাদ সাহেব ছেলের দিকে গম্ভীর মুখে তাকিয়েছিলেন অনেক্ষণ। পিস্তল থেকে একবার বেরিয়ে গেলে যেমন পুণরায় গুলি ফেরানো অসম্ভব, তেমনি একবার বর্ণ’র জবান থেকে কথা বেরিয়ে এলে তার নড়চড় হয়না সাধারণত। অথচ আযাদ শিকদারের সুযোগ্য পুত্র আসফিয়ান বর্ণ এখনো বাড়িতে! আশ্চর্য জনক ব্যাপার-স্যাপার!
বর্ণ অবশ্য বিশেষ আমলে নেয়নি চারপাশের আব্বু-চাচ্চুর আড়চোখে তাকানো দৃষ্টি।মাহির এসেছিল আদেশ পেয়ে।এখন অভ্র’র সাথে গার্ডেনে।
‘ দাদুভাই তোমার হাতে এতোগুলা খামচির দাগ আইলো কোত্থেকে?’
হানিফা বেগম কথাটি বলার প্রায় অনেক্ষণ কেটে গেল। অথচ বর্ণ’র জবাব মিলল না। একমনে প্লেটের খাবার নাড়াচাড়া করার ফাঁকে সুখ কী ভেবে এক ঝলক চোখ তুলে হঠাৎ। পরপরই দ্রুত গতিতে নামিয়ে নেয়।তার দিকেই সূচালো চোখে চেয়ে আছে লোকটা।
বর্ণ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল।বলল, ‘ একটা জংলি বিল্লি ছিল!’
‘ জংলি বিল্লি! নিশ্চয়ই খুব ভয়ানক?’ – দুহাতে গাল চেপে অবাক গলায় জানতে চাইলো নূরা।বর্ণ সজোরে মাথা নাড়ায়,
‘ কোন সন্দেহ নেই!’
‘ মলম লাগাইছো? ডাক্তার দেখানো লাগবো না?সাইডেফেট(সাইড-ইফেক্ট )না ইংগিলিশে কী যেন কয় ওইটা হইব না?’
বর্ণ ভ্রু গুটিয়ে নিশ্চুপ মনে খাবার মুখে তুলা সুখের দিকে চেয়ে বলল টেনে টেনে,
‘ হবে না গ্র্যান্ডমম!আর না তো কোনো মলমের প্রয়োজন।এন্ড ইউ নো হোয়াট সুইট?এই সিগনেচার বয়ে বেড়াতে কিন্তু মন্দ লাগছে না!’
হুট করে কব্জির নিচে কালচে, নীলচে সরু আঁচড়ের রেখায় শব্দ করে অধর ছোঁয়াল। মণি চোখে খেলা করছে ধূর্ততা। আচমকাই ঠোঁটে হাত রেখে খুশ খুশ কেঁশে উঠল সুখ।
‘ এই নাতনি তোর আবার কী হইল?পানি খা।’
দু-আঙুলের ডগায় ঠেলে ছুঁড়ে মারতেই পানির গ্লাস বর্ণ’র প্লেটের পাশ থেকে স্লিপ খেয়ে সোজা সুখের হাতের নিকটে পৌঁছে গেল।একপল চোখ তুলে হেরফের না ভেবে গ্লাসের পানিটুকু পান করে নিল সুখ।
‘ হোয়াটস্ রং উইথ ইউ্যু, ফুল? সাবধানে খেতে হয়।বিয়ে করে আমাকে; আমাদের সবাইকে ছেড়ে বহুদূর পালিয়ে যেতে চাইছিস অথচ ঠিক মতো খাবারটাও খেতে শিখলি না আজো?কী বলো কাম্মা?’ –পাগলকে উষ্কে দেয়ার মত রুবাইয়্যাতকে শুনিয়ে বলল বাক্যকটা।
ভদ্রমহিলা মূহুর্তেই চুপসে গেলেন মুখ কালো করে। ঘনঘন পল্লব ঝাপ্টে কান্না আটকানোর চেষ্টায় মশগুল হয়ে করুন চোখে মেয়ের দিকে তাকালেন।
নূরা কোথাও চলে গেল পিলপিল পায়ে। পুণরায় ফিরে এলো।হাতে স্ক্যাচ বুক।
‘ বর্ণ আমাকে বলো না জংলি বিল্লিটা কেমন দেখতে ছিল?’ –সুরটা আবদারের। বর্ণ’র নজর ঘুরেফিরে নিষ্প্রভ সুখের দিকে চলে গেল আনমনেই। কিছুক্ষণ একদৃষ্টে চেয়ে বলল,
‘ একটু ইনোসেন্স..’
ফ্যালফ্যাল করে ক্ষণকাল তাকিয়ে স্ক্যাচ বুকে কী যেন আঁকল নূরা। অতঃপর বলল আগ্রহ প্রকাশ করে,
‘ আর?’
‘একটু বোকা!’
‘ আর?’
‘একটু ভীতু!’
‘ ভীতু?তারপর?’
‘একটু.. নিষ্ঠুর!’ – অসম্ভব ছোট ছোট চোখ করে থেমে থেমে বলল।
‘ তারপর?’
‘একটু ছলনাময়ী’
‘ ছলনাময়ী কেমন হয়?’– গালে পেন্সিল ঠেসে বিজ্ঞের ন্যায় নিজ মনে বিড়বিড় করল।ফের বলল,
‘ তারপর?’
বর্ণ’র মুখনিঃসৃত শব্দগুলো যতোবার বাক্য হয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, ততোই সুখের মসৃণ কপাল ধীরে ধীরে কুঁচকে যাচ্ছিল। ঠোঁটে ঠোঁট গুঁজে এক ভ্রু উঁচিয়ে বর্ণ পুণরায় বলল,
‘ একটু…’ — অমনোযোগী কন্ঠস্বর।
‘ বলছো না কেনো?’
‘ একটু অভিমানী!’
পুণরায় মাথা তুলল না সুখ। শ্বাস আটকে বসে রইল। যতো দ্রুত সম্ভব জায়গা প্রস্থান করতে হবে।
→
নূরা স্ক্যাচ শেষ করে বর্ণনা অনুযায়ী। সকলকে হৈ হৈ করে দেখাতে লাগল –বর্ণর দেখা জংলি বিল্লি কতো দারুন হাতে এঁকেছে সে।
তুহফা পেটে হাত চেপে হুঁ হা হাসিতে ফেটে পড়ে।এতো হাসাহাসি দেখে নূরার মনটা চুরমার হয়।বর্ণ বুড়ো আঙুল আর তর্জনী গোল করে এ্যাপ্রিসিয়েট করে ,
‘ সুপার্ব..!’
‘ আগামীতে সুখের এক্সিভিশনে তোকেই পাঠাতে হবে।’ —স্পষ্ট ভর্ৎসনা তুহফার স্বরে।
‘ সুখ তুমি দেখবে না কেমন এঁকেছি, বর্ণ’র জংলি বিল্লিকে?’
বর্ণ’র জংলি বিল্লি; ইয়েস.. ওয়ান এন্ড ওনলি। শব্দগুলো বর্ণ’র কানে বেশ সুরেলা শুনালো।আজ নূরার জন্য দোকানের যতো আইসক্রিম, সব ফ্রি।
থমথমে মুখে প্রায় অনেক্ষণ ধরে স্ক্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিল সুখ।মনটা ধন্য হলো কী না কে জানে।তবে খানিক পর কুনুই টেবিলে ভর দিয়ে দু-হাতের পাতায় চোখ চেপে ধরল।ঢের বুঝেছে বর্ণ’র এতোক্ষণের প্রলাপ সব তার উদ্দেশ্যে ছিল।পরোক্ষ ইঙ্গিতে নিজের এমন হাল বেহাল দশা দেখে…
‘ না বেড়ালের মতো হয়েছে,না ব্যাঙ, আর না গরু-ছাগল। সবকিছুর মিক্স ভার্সনে এটা কী খিচুড়ি বানিয়েছিস বনু আমার?’ —অভ্র খুব গভীর চোখ পরখ করল স্ক্যাচ খানা।নূরার আশা ছিল সুখ অন্তত তার প্রশংসা করবে। অথচ সে রেটিং দিল হাস্যরসহীন মুখে,
‘ ভীষণ বাজে দেখতে হয়েছে!’
→
মায়রা যোগাযোগ করেছিল। দু’দিন বাদে বিয়ের ডেট ফিক্সড করতে আসবে জানিয়েছে। সুখের এতে কোনো আপত্তি কিংবা মতামত নেই। বিয়ের ব্যাপারে বড়রা যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই সই। এসবের মাঝে বর্ণ কোন হস্তক্ষেপ করেনি। বরং সমানে বিয়েতে উৎসাহিত করছে সুখকে।মাহির বেশ চিন্তিত বসের কর্মকাণ্ডে।খুলিতে কী চলছে ওনার?এতো সহজে হাল ছাড়ার পাত্র তো তিনি কখনোই নন।এতো ধৈর্যশীলই বা কখন হলো আসফিয়ান বর্ণ?
কানে ব্লুটুথ চেপে বলল বর্ণ,
‘ বয়েস,রিসিডিউল দ্য টিকিটস!’
জবাব আসে, -‘ নো ওয়ে। জোসেফ জোয়ার্দার ক্যান চেঞ্জ কান্ট্রিস হোয়েন-এ্যাভার!’
বর্ণ চুপ করে থাকল ভ্রু গুটিয়ে। দ্রুত পা চালিয়ে কক্ষের দিকে অগ্রসর হওয়ার ফাঁকে একটা কাগজ ছিটকে এলো পায়ের সামনে।
মুখ কুঁচকে থেমে গেল তৎক্ষণাৎ।সজাগ দৃষ্টিতে এদিক ওদিক চেয়ে নজর আটকাল সুখের রুমের সামনে।দরজা ফাঁক।ভেসে বেড়ানো হাওয়ায় ধোঁয়ার অস্তিত্ব উপলব্ধি করা যায়।
চোখ ঘুরিয়ে কাগজে স্থির করল বর্ণ।
“ আবেগের বয়সে শখ করে একজনকে ভালোবেসেছিলাম।বুঝতেই পারিনি মানুষটা এতো দামি হবে।নইলে এমন বিষ পান কেও জেনে বুঝে করে?কতো বোকা আমি।”
থমকে চেয়ে থাকল।মুখটা গম্ভীর হয় অল্প। ধ্বক করে হৃদয়ের অন্তকোণে একটা সূক্ষ্ম চিনচিনে ব্যাথার উপদ্রব হল বোধকরি।
‘ চীফ.. ক্যান ইউ হেয়ার মি?’
‘ চীফ..’
‘ চীফ.. আর ইউ্যু ওকে?’
অন্যমনস্কে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিল বর্ণ।নাক আঙুল ঘঁষে দরজার নিকটে চলে এলো। ফাঁক ফোকর দিয়ে হালকা ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে। আলগোছে সামনে এক পা বাড়ায়।
দরজার হাতলে হাত রাখার সময় টের পাচ্ছিল হাতটা কাঁপছে মৃদু।এই হাতে প্রথমবার চাকু চালাতে গিয়েও যেখানে একবার কাঁপার প্রয়োজন বোধ করেনি ইতোপূর্বে, কতো পিস্তল ধরেছে কখনো এভাবে ভীতুর মত কাঁপন ধরেনি। অথচ আজ কোন ভীতিতে সামান্য দরজার হাতল স্পর্শ করতে হাত কাঁপছে?
আচমকা বুকের বাঁ পাশে হাত চাপল বর্ণ। বিড়বিড় করে,
‘ হোয়াই ইজ দিস বিটিং?’
সময় ব্যয় না করে ফট করে দোর খুলতেই…
#চলবে🥀

