#আমার_বোবাফুল(৫২.১)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা
৫২–প্রথমার্ধ·
বর্ণ’র বাড়িয়ে দেয়া রুমালখানা হাতে নিল সুখ।আস্তে ধীরে অশ্রু ভেজা চোখ মুছে।কাজল লেপ্টে গেছে অল্পবিস্তর।বর্ণ আড়চোখে একবার দেখল।
‘ ক্যান আই হেল্প ইয়্যু?’
এমন ভাবে তাকাল সুখ, যেন ভুল জায়গায় বেফাঁস মন্তব্য করে ফেলেছে সে।অবশ্য বর্ণ তোয়াক্কা করল না সেসব। থুতনি ধরে পরবর্তী কোন কথা ছাড়াই সুখকে নিকটে নিয়ে এলো, একদম পরষ্পরের ঠোঁট ছুঁই ছুঁই।হাত থেকে রুমাল আলগা হয়ে আসে সুখের।পড়ে যাওয়ার আগে বর্ণ ক্যাঁচ করে নেয়। সযত্নে লেপ্টালো কাজল মুছে দিয়ে চোখে চোখ রাখে। আবেশ মাখা গলায় সুর টেনে বলল–
‘ মাই ফ্লাওয়ার কুইন!ইফ ইউ নিউ, হাউ সেডাক্টিভ ইউ লুক!’
সুখের দৃষ্টি কাঁপে হুটহাট। দাঁতে দাঁত চেপে চিবুক থেকে হাত সরিয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসল। চতুর্দিক থেকে উৎসুক দৃষ্টিরা উত পেতে তাদের দেখছে।
‘ বিয়ে হতে না হতেই তোমার ছেলে কেমন নির্লজ্জের মতো জনসম্মুখে আমাদের সুখ মায়ের খেদমত করছে দেখছো?’
‘ আমার চোখ নেই?’
আইজার পাল্টা প্রশ্নে কপাল গুটালেন আযাদ সাহেব।বললেন,
‘ তা থাকবে না কেনো? অবশ্যই আছে!’
‘ তাহলে নতুন করে জিজ্ঞেস করছো কেনো?তুমি যা দেখছো,আমিও তাই দেখছি। এমনকি উপস্থিত সবাই দেখছে তোমার ছেলের বউ পাগলামি!’
‘ আচ্ছা?ও এখন আমার ছেলে হয়ে গেল?’
আইজা জবাব না দিয়ে বিরক্তিতে মাথা ঝাঁকিয়ে অন্যত্র পা চালান। মাথা ভার হয়ে আছে। উপরন্তু, আগাম বার্তা ছাড়াই চোখের পলকে ছেলে বিয়ে করে নিয়েছে।এই সম্পর্কটায় তিনি রাজি কী না কিংবা তার মতামত টুকুও প্রয়োজন মনে করলো না?মা হিসেবে এতোটা তুচ্ছ তিনি? অভিমানে বুক ভারি হয়ে আসে আইজার।
‘ আজ থেকে আমরা বেয়াই হয়ে গেলাম!আয় ভাই কোলাকুলি করি!’
‘ তুমি এই বিয়েতে খুশি?’
‘ ছেলে বিয়ে করেছে। বউ আর মা দুটো একসাথে পেয়েছি। খুশি হবো না? তাছাড়া অসন্তোষ প্রকাশ করে লাভটা কী হবে? শুকনোতে লাফিয়ে মরলেও আমার জিদ্দি ছেলেটা শুনতো না!’ –শেষোক্ট বাক্যটি বললেন ভীষণ আফসোস নিয়ে।
তামিজ সাহেব দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন।অদূর থেকে একদৃষ্টে স্টেজের দিকে চেয়ে রইলেন। বর্ণকে বলা হয়েছিল –এই সম্পর্কে কেউ হস্তক্ষেপ করবে না, যদি সুখ স্বেচ্ছায় তাকে বিয়ে করবে বলে আসরে উপস্থিত হয়।
‘ আমার মেয়েকে তোমার পাজিটা রাজি করালো কীভাবে?’
আযাদ সাহেব ঈষৎ ভাবুক হলেন। খানিকক্ষণ কী যেন ভেবে ফোঁস করে তপ্ত দম ছেড়ে বললেন,
‘দেখতে হবে না ছেলেটা কার?ভাব একবার,তোর জেদি সিংহীকে এক তুড়িতে বশ করে কীভাবে আসরে এনেছে তখন।’
‘ গর্ব করছো?মেয়ের জামাই হিসেবে কোন গুন তো আমি ওর মাঝে খুঁজে পাচ্ছি না! কেমন বেয়াদবের মতো বলছিল আমার মেয়েকে চেয়ে না পেলে ছিনিয়ে নেবে! বুকের পাটা কতোবড়!’
•
আতঙ্কিত চোখে চতুর্দিকে বার কয়েক নজর হাঁটিয়ে নেয় সুখ। একবার নিজেকে পরখ করে। হাতের তালু ঘামছে। হয়তো অজানা ভয়ে।বোম ফিট করা হয়েছে নাকি এখানে। ঢোক গিলে এদিক ওদিক নজর ছিটানোর ফাঁকে বেখেয়ালে খানিক দূরের স্টেজে দৃষ্টি গেল।বর-কনের জন্য আলাদা আলাদা স্টেজ তৈরি হয়েছিল।এখন যেহেতু বিয়ের জুটি দুটো।তাই বর্তমানে দুটো স্টেজে দু জুটির অবস্থান।অপর স্টেজে মেহরাবের পাশে জেসি। লোকে ছবি তুলছে, কেউ প্রসংশায় পঞ্চমুখ; কেউ বা মুখ ভেংচি কেটে আদিখ্যেতা বলে চালিয়ে দিচ্ছে। মেহরাবের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে চোখাচোখি হয়ে গেল হঠাৎ। অপরাধ বোধ কাজ করে সুখের।সে কখনোই চায়নি দূরের মানুষটা এভাবে ঠকে যাক। কিন্তু… ভাগ্যের লিখন!সেটা যে খন্ডন করার সাধ্য কারো নেই।
‘ নজর ফিরিয়ে আন ফুল, আমি এদিকে!’
টুপ করে চোখ খিচল সুখ।আগামী এক মিনিট তাকে চুপচাপ বসে থাকতে হুমকি দিয়েছে বর্ণ।তাই বাধ্য হয়েই নিশ্চুপ বসেছিল।সময় শেষ হতেই বর্ণর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বুঝাল,
‘ হয়ে গেছে তো বিয়ে! আপনার জেদের কাছে হার মেনে নিলাম। জিতেছেন আপনি। এবার বোম্বগুলো ডিফিউজ করুন!’
বর্ণ নিরুত্তাপ বসে রইল।খানিক ঘেঁষে গেল সুখের নিকটে। ফটোশুট হচ্ছে। ঠোঁটে হাসি ঝুলিয়ে একহাত সুখের কোমরে রেখে বলল কন্ঠ খাদে নামিয়ে–
‘ স্মাইল প্লিজ!’
অথচ দম আটকে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়িয়ে রয় সুখ। প্রথমবার আপত্তিকর পুরুষালী স্পর্শে নাজুক শরীর থরথরিয়ে কেঁপে উঠল অচিরেই।অভ্র সহ আরো কিছু স্বর চেঁচিয়ে উঠে,
‘ আপ্পি মুখ গোমড়া কেনো?ছবি ভালো আসছে না। একটু হাসো!’
সুখের কানে পৌঁছায় না সেসব। খানিকটা সময় স্তব্ধ থেকে, এরপর ছুটে আসতে নিলে বর্ণ হাতের বাঁধন গাঢ় করে, দৃষ্টি ক্যামেরার দিকে। সুখের দমবন্ধকর প্রতিক্রিয়া দেখলোই না।অথবা, আড়চোখে দেখেও সুখকে বুঝতে দিল না তা।
হাতের পিঠে সজোরে চিমটি কাটতেই বর্ণ মিছে মিছি আর্তনাদ করে বলল ধূর্ত স্বরে,
‘ রিল্যাক্স জানেমান।এটা পাবলিক প্লেস।’
সুখ ক্ষিপ্র চোখে শাসায় । ঠোঁট নাড়ল–
‘ কিছু বলছিলাম আপনাকে? বোম্ব ডিফিউজ করেছেন?’
‘ দোস্ত… ভাবীকে কোলে করে নিচে হেঁটে আয়!শুট করবো!’
সিয়ামের গলা উঁচিয়ে উক্তিটি করা শেষ হতেই এক ঝটকায় সুখকে কোলে তুলে ফেলল বর্ণ। স্টেজ ছেড়ে ধীরে নেমে আসতে নেয়। সকলে হৈ হৈ করে উঠলো সমস্বরে।ফুলের পাপড়ির বৃষ্টি ঝরে পড়ে মাথার উপর।সুখ তখন পাথর বনে গলা পেঁচিয়ে আছে বর্ণ’র। শ্বাসটাও নিচ্ছে না।বর্ণ কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে বলল অপরাধী গলায়–
‘ সো স্যরি সুইটহার্ট! একটা ইনফর্মেশন দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। অ্যাকচ্যুয়েলি বোম্ব গুলো নকল ছিল সব!’
একটা বিষ্ফোরণ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই দ্বিতীয় বিষ্ফোরণ ঘটল যেন। সুখ নির্বাক বনে স্থির চেয়ে থাকে কেবল।ঠিক কী বলা উচিত? প্রতিক্রিয়া কেমন দেখানো উচিত? খুঁজে পায়না তৎক্ষণাৎ।বর্ণ হেঁটে যাচ্ছে দৃষ্টি সামনে রেখে, ঠোঁটে হাসি। ঝকঝকে চকচকে লাইট, ফুলের বৃষ্টি, ক্যামেরা ,মানুষের সোরগোল কর্ণকৌঠরে পৌঁছেও যেন পৌঁছাতে পারে না সুখের। সম্বিত ফিরতেই রাগে, দুঃখে, ভঙ্গুর মনে বর্ণ’র ঘাড়ের পিছু, যেখানে তার হাত ছিল সেখানে নখে খামচে ধরল কাঁকড়ার মতো সর্বস্ব দিয়ে।এ ছাড়া তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দেখানোর অন্য কোন মাধ্যমে খুঁজে পেল না।চিনচিনে ব্যথা অনুভূত করে বর্ণ ফের কানের গোড়ায় ফিসফিসিয়ে বলল ছন্দ ব্যথাতুর স্বরে–
‘ জংলি বিল্লির মতো এমন খামচি কোথায়, কখন, কোন পজিশনে দেয় জানিস তো?বলি…’
মুখটা যথাসাধ্য দূরে সরিয়ে আনে সুখ। ঠোঁটের হাসি,কথার ধরন সবকিছু অসভ্যের মতোন শুনাচ্ছে লোকটার।নজর গেল আশেপাশে।আম্মু-আব্বু,বড় আব্বু, আপ্পি খালা মণিরা,সব কাজিন সহ আরো অনেকের উপস্থিতি তাদের দু’পাশে। এতোক্ষণ ধরে সেদিকে খেয়াল না করলেও এবার স্পষ্ট সকলের দৃষ্টি অবলোকন করল সুখ। এরপর হতভম্ব মুখে নিজের অবস্থান পরখ করল, তার ধ্যানেই ছিল না যে –সে এখনো রকস্টার আসফিয়ান বর্ণ’র কোলে চড়ে আছে।
লজ্জায়, আড়ষ্টে জুবুথুবু হয়ে বর্ণ’র বুকে মাথা ঠেকিয়ে চোখ খিচল সুখ।রাগ, ক্ষোভ সব যেন মিলিয়ে গেল হাওয়ায়। এতো গুলো মানুষের সামনে কোন পুরুষের কোলে উঠেছে সে। ভাবতেই মাটি ফাঁক করে লুকিয়ে পড়ার ইচ্ছে জাগছে। ছটফটিয়ে উঠেও নামতে পারল না। বরং কানের কাছে বর্ণ’র মোহনীয় কন্ঠ হজম করতে হলো–
‘ বুকে প্রশান্তির ঢেউ উঠেছে ফুল।কান পেতে দেখ একবার!তোর নামে গর্জে উঠছে হৃদয়!’
•
‘ কংগ্রেটস!’
হাত বাড়িয়ে দেয় মেহরাব।হাতের কব্জিতে র-ক্তাক্ত ব্যান্ডেজ। কীভাবে আঘাত পেয়েছে বলেনি সে।মায়রা বার কয়েক জানতে চেয়েও বলাতে পারেনি। এড়িয়ে গেছে বিষয়টি।বর্ণ উপর নিচ মাথা ঝাঁকিয়ে হ্যান্ডশেক করে।বলল,
‘ স্যরি… বাট নট স্যরি!’
তাচ্ছিল্য হাসল বোধহয় মেহরাব।বর্ণ একঝলক জেসিকে দেখে বলে,
‘ ও আমার কাছে তুফ.. তুহফার মতোই। হাজার কোটি পুরুষের ভিড়ে ছোট বোনটির জীবনসঙ্গী হিসেবে আপনাকে সিলেক্ট করেছি ডক্টর।আশা করি তার যত্নে কোন ক্রুটি রাখবেন না!’ –দু কদম আগে বাড়ায়।জিসানকে জড়িয়ে কাঁদছে জেসি। একমাত্র ভাই ছাড়া কেউ নেই তার।ভাইয়ের ছায়া তলেই বড় হয়েছে জ্ঞান হবার পর থেকে।বাবা-মাকে ছবিতেই দেখেছে।আর ভাইয়ার মুখে মুখেই তাদের আদর-ভালোবাসার গল্প শুনে কল্পনাতে অনুভব করেছে।
‘ মিসেস মায়রা!’
মায়রা চমকে তাকাল অপ্রস্তুত হেসে।এতোক্ষণ জেসি আর জিসানের আবেগপ্রবণ দৃশ্যটা দেখেছিল একদৃষ্টে। দু’জনের মাঝে নিজেদের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছিল।ভাই-বোনের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা,টান,মায়া সবকিছু আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে নির্মল চোখের জলগুলোতে।সে ইতোমধ্যে জেনেছে জেসি সম্পর্কে।জিসানই বলেছে।ক্ষমাও চেয়েছে। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার কারণটা উল্লেখ করেনি।
‘ নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা!’ –মৃদু হেসে জানাল মায়রা। বর্ণ’র মুখটা যথেষ্ট গম্ভীর হয়।
‘ থ্যাঙ্কস অ্যা লট!’ –একটু থেমে,-‘ভাইয়ের বউয়ের উপর সো কল্ড ননদিনীর মতো নির্যাতন করবেন না; বিশ্বাসটা রাখতে পারি নিশ্চয়ই ?’
‘ এতো বাজে ভাবে ঠকানোর পর এই বিশ্বাসটা রেখে বোকার স্বর্গে বাস করছেন, বললে আমারো ভুল হবে না নিশ্চয়ই?’ –বুকে হাত বেঁধে যথেষ্ট শক্ত গলায় বলে মায়রা।বর্ণ মৃদু হাসে,
‘ নো.. নোপ!আসফিয়ান বর্ণ মানুষ চিনতে ভুল করে ন…’ –পরপরই মুখের হাসিটা ধফ করে নিভে গেল। তর্জনীতে ঠোঁট স্লাইড করে অদ্ভুত কঠিন দৃষ্টি ছুঁড়ে অদৃশ্যে।স্মৃতিপটে বোধহয় কিছু ভাসল তখন। চোয়াল শক্ত হয় অচিরেই।হাত মুঠো বদ্ধ করে বিড়বিড় করে,
‘ ওয়ান্স অ্যাপন অ্যা টাইম.. ভুল হয়েছিল বর্ণ! ইয়্যু মেইড অ্যা মিস্টেক!’
•
টগবগিয়ে ঘোড়া ছুটে চলেছে তুমুল বেগে। মৃদু আতঙ্ক, অজানা উচ্ছাস,নতুন অনুভূতির জোয়ারে সুখের সর্বাঙ্গ কাঁপছে পুণরায়। ঘোড়ার পিঠে আছে সে।লাগাম বর্ণ’র হাতে।তার এককালের শখের পুরুষ, কল্পনার রাজত্বে কেবল যার রাজ চলতো প্রতি ক্ষণে,প্রতি মূহুর্তে সেই পুরুষ আসফিয়ান বর্ণ।যাকে খানিক আগে কবুল করে হালাল পুরুষ হিসেবে গ্রহণ করেছে।
বর্ণ’র সঙ্গ দিতে সে চায়নি প্রথমে।সকলের জোরাজুরিতে মানুষটার হাত ধরে ঘোড়ায় পিঠে আরোহণ করেছে। আব্বুর দিকে চেয়ে চোখের ভাষায় বলেও ছিল–
‘ আমি উনার সাথে নয় আব্বু, তোমার সাথে বাড়ি ফিরতে চাই!’
রাতের বিশালাকার আকাশটা আঁধারে ঢেকে গেলেও রাস্তার দু-কুলের ল্যাম্পপোস্টের আলোতে আশ-পাশ দিনের মতোই আলোকিত। আশ্চর্য জনক এক ব্যাপার লক্ষ্য করল সুখ –পুরো রাস্তা খালি। কেবল তারা দুজন এবং ঘোড়া ব্যতীত। শহরের মানুষজন কোথায়?তারাই বা কোন পথে আছে?সুখ জানে না।শহরের পথ ঘাট চেনে না, সে এতোই নির্বোধ।
‘ আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধর ফুল!’
মিহি গলায় বলল বর্ণ। বাক্যটি উপহাস বৈ অন্যকিছু মনে হলো না সুখের কাছে। কেননা সে ঘোড়ার পিঠ থেকে ছিটকে পড়ার ভয়ে লোকটার গলা এমন সাপের মতো পেঁচিয়ে রেখেছে, নির্ঘাত নিঃশ্বাস ছাড়তেও কষ্ট হচ্ছে।ছেড়ে দিতে হাত আলগা করতে গিয়েও পুণরায় তড়িঘড়ি করে জড়িয়ে ধরল। বেশিক্ষণ তো ধরছে না,ব্যাস নিবাসের চৌকাঠ অবধি। এরপর একটা বিহিতে আসতে হবে।ঠকিয়ে বিয়ে করা হয়েছে তাকে। মিথ্যেবাদী, ধোঁকাবাজ!
ঘাড় বাঁকিয়ে চোখ উল্টে বর্ণ’র ঘর্মাক্ত মুখশ্রীতে নজর রাখে সুখ। দৃষ্টিতে পরিবর্তন দেখা দেয় পরপরই।চেয়ে থাকে তৃষ্ণায় চাতক পাখির মতো।ডায়রির মাঝে একটা পৃষ্ঠা ছিল।তাতে একটা লেখা–
“ প্রিয় শখের পুরুষ!
আপনাকে নিয়ে ঘেরা কল্প জগতে সর্বদা চুপটি করে বসে থাকা রাজকুমারী সেজে। রাজার-কুমার হয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে টগবগিয়ে ছুটে আপনি কী কখনো আমাকে তুলে নিতে আসবেন?এই অপেক্ষার অবসান ঘটবে কী কখনো ?এই এক তরফা অবাধ্য অনুভূতি গুলোর সার্থকতা মিলবে এ-জনমে? শুনুন সুন্দর পুরুষ, চুপিচুপি কানে কানে বলি –আমি আপনাকে ভালোবাসি!ঠিক ততোক্ষণ পর্যন্ত ভালোবাসবো; ততোক্ষণ পর্যন্ত নিজের করে পাওয়ার লোভে মুখিয়ে থাকবো যতোক্ষণ আপনি স্বেচ্ছায় আমাকে ভেঙেচুরে অন্য কারো হয়ে যাচ্ছেন!”
টুপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে গাল বেয়ে।এটা কী বাস্তব? না বাস্তবে ঢুকে পড়া কোন ভ্রম?সুখ দ্বিধান্বিত চোখে ফ্যালফ্যাল তাকিয়ে থাকল।হুটহাট একঝলক চোখে চোখ রেখে বর্ণ বলল হঠাৎই –
‘ কবুল বলেছি।তার উপর,খোলা আকাশ।আঁধার রাত।একা দুজন। ফাঁকা রাস্তা।চল দুজন মিলেমিশে কিছুমিছু করি আজ!’
(মাইন্ড সামলান পাঠকস্। ভোলাভালা রকস্টার আমার।কিছুমিছু মানে রাস্তার ধারে বসে গল্প করাকেও বুঝাতে পারে। অথবা, হাতে হাত রেখে খালি পায়ে বহুদূর হাঁটার কথা বলছে।বি পজেটিভ)
#চলবে🥀

