আমার_বোবাফুল(৫৩.২) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

0
59

#আমার_বোবাফুল(৫৩.২)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

৫৩–শেষার্ধ·
নিচে নামতে অস্বস্তিতে কুঁকড়ে ছিল সুখ।মনে হচ্ছিল এবাড়িতে আজই সে নতুন।আপনজন আম্মু-আব্বু বাড়ির সবাইকে এক মূহুর্তের জন্য অপরিচিত ঠেকছিল। লজ্জায়, জড়তায় চুপসে বসেছিল ড্রয়িং রুমে। মেহমান এসেছে,আসছে এখনো। ইতোমধ্যেই বর্ণ-সুখের বিয়ের ব্যাপারে জানাজানি হয়ে গেছে পড়শিদের কানে।তবে স্যোশাল মিডিয়ায় এখনো জানায়নি বর্ণ।বউকে সে দেখার সুযোগ দেবে না কাউকেই।

ভারী শাড়িটা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল সে।উপরে উঠে এলো পুণরায়। মেরুন রঙা একটা শাড়ি বের করে বেডে রাখল। প্রথমবার ইবরাত’রা পড়িয়ে দিয়েছিল। এবার কারো কাছে গেলো না।নিজে নিজেই শাড়ি পড়ায় পারদর্শী সে। বলতে গেলে,এটা তার অন্যতম একটি শখ।কক্ষের আলোর ব্রাইটনেস একেবারে লো করে দিল।মিধির মিধির প্রখর। আয়নায় নিজের চেহারাটাও ভালো ভাবে লক্ষ্য করা যায় না এমন। ড্রেসিং টেবিলের সামনে খুব সাবধানে ভারী শাড়ি খুলে, বের করা শাড়ি গায়ে জড়ায় আলগোছে।কুচি ধরে গুঁজে দিয়েছে ঠিকই,তবে সব এলোমেলো।আলোর প্রখরতা বাড়িয়ে দিল এরপর। দ্বার আটকানো।কক্ষে সে ব্যাতীত কেউ নেই। যথাসম্ভব কুচি ঠিক করে আবার গুঁজে দেয়। এবার আঁচল ঠিক করার পালা। কাঁধ থেকে আঁচল সরিয়ে হাতে নিয়ে পিছু ঘুরতেই বেখেয়ালে নজর চলে গেল ব্যালকনিতে। অচিরেই আতকে উঠে সুখ। চোখে বিষ্ফোরণ। স্তব্ধ হলো চিত্ত। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল হতভম্ব চোখে।

বর্ণ বুকে হাত বিঁধে, ব্যালকনির থাই গ্লাস সম্পৃক্ত দেয়াল হেলে দাঁড়িয়ে। তুখোড়, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এদিকেই। সুখের মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।মানুষটা এখানে কী করে?সে ছাড়া তো রুমে দ্বিতীয় কারো উপস্থিতি ছিল না তখন!উনি কী তবে ব্যালকনিতে ছিল!

দম আটকে আসে সুখের। তড়িৎ হাতে এ-কাঁধে আঁচল তুলে ও-কাঁধ পর্যন্ত ঢেকে থম মেরে অন্যত্র ঘুরে গেল হাঁসফাঁস, ব্যাকুল মনে। বক্ষস্থলের হৃৎপিণ্ডে আলোড়ন উঠেছে। আড়চোখে তাকায়।বর্ণ তখনো তীর্যক দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে।একসময় এগিয়ে এলো।তাতেই নিঃশ্বাস থেমে গেল সুখের।
চোখ নামিয়ে নেয়। ব্যালকনি থেকে দ্বার অবধি যাওয়ার বিস্তর ফাঁকা জায়গা অবশিষ্ট ছিল।তবু, হেলেদুলে হেঁটে এসে সুখের গা ঘেঁষে পাশ কাটিয়ে চলে গেল বর্ণ।কদম দুয়েক বাড়িয়ে থেমে গেল আবার।কিছু না বলে নিঃশব্দে চলে যাওয়াটা বেমানান। পিছু ফিরে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ফিচেল হেসে বলল ধীমি আওয়াজে—

‘ দেখে ফেলেছি!’

চেপে রাখা শ্বাসটা মাত্রই ছেড়েছিল সুখ। বর্ণ’র নিঃসৃত বাক্য কর্ণকৌঠরে হতেই বিষ্ময়ে পিছু ঘুরে গেল তড়িৎ।

‘ কী দেখেছেন!’–চোখে ভীতি, দৃষ্টি করুণ।বর্ণ শীতল চোখে চেয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে এলো এক পা দু’পা। যথারীতি সুখ পিছিয়ে যায় আনমনেই। বর্ণ’র দৃষ্টি অবলোকন করে গলার কাছের উন্মুক্ত অঙ্গ শাড়িতে ঢেকে দিল।থামল না বর্ণ। ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে এগিয়ে যেতে যেতে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলে—

‘ দেখেছি কিছু একটা যেটা…’

পরবর্তী বাক্য অসম্পূর্ণ। হৃদয়টা ছুটছে সুখের। ভয়ার্ত চোখে পেছাতে পেছাতে ধফ করে বেডে বসে গেল।মাথা পিছিয়ে নিয়ে যায়।বর্ণও ঝুঁকে গেল। মুখোমুখি দুজন। নিকটে,খুব নিকটে। বর্ণ কোমরের পাশে,বেডে হাত রাখতেই আড়চোখে চায় সুখ। তর্জনী আর মধ্যমা আগে পিছে রেখে মানুষ হাঁটার মতো উন্মুক্ত উদরের দিকে এগিয়ে আনে হাতটা। ঢোক গিলল সুখ।শিরদাঁড়া শিরশির করে উঠে, লোমকূপ সিধে হয়ে যায় অচিরেই। নিঃশ্বাসের ভারী হয়ে আসছে ক্রমশ। বর্ণ’র শরীর থেকে ধেয়ে আসা পারফিউম মিষ্টি ঘ্রাণ নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করছে নেশার মতো।

চোখ খিচে অবচেতন মনেই সম্মুখে থাকা অত্যন্ত খারাপ পুরুষটির বুকের শার্ট খামছে ধরে সে।নখ বিঁধে যায় বোধহয়, সেদিকে ধ্যান নেই সুখের।থরথর কাঁপছে চোখ খিচে।

বর্ণ’র হাত তার কোমর ছুঁয়েনি।পিঠের দিকে চলে গিয়ে বেডে পড়ে থাকা জ্যাকেটে চলে গেছে।কানে উষ্ণ নিঃশ্বাস আঁচড়ে পড়ছে। ফিসফিস স্বর কৌঠরে পোঁছে যায়—

‘ বউ!’

এমন সম্মোহনী স্বর হৃদয় উপেক্ষা করার সাধ্য আছে?সুখ অস্ফুট শব্দে আওয়াজ করে,-‘ উঃ!’

ঠোঁটে তীক্ষ হাসি ফুটে বর্ণ’র। মোহিত চোখে একদৃষ্টে কম্পমান সুখের দিকে চেয়ে থাকার মাঝে আওড়ায়–

‘ তাহলে মানছিস তুই আমার বউফুল?’

চট করে চোখ মেলল সুখ। নির্বোধ চাহনি।চোখে চোখ পড়তেই থমথম খায়। প্রতিবাদ কিংবা প্রত্যুত্তর করার অবস্থায় নেই। মানুষটা এতো নিকটবর্তী হওয়ার অপরাধে মাথা ভো ভো করছে যে!

‘ কানে কানে একটা কথা বলি,শোন?’

সুখ সম্মোহিত,হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েছে।আনমনেই কান পেতে দিল উৎসুক চোখে। বর্ণ’র ঠোঁটের একপেশে হাসি কমল না।মিহি গলায় বলল—

‘ ভালো কীভাবে বাসতে হয় আমার রপ্ত নেই। হাতেখড়ি থেকে শিখিয়ে দিবি ফুল?কথা দিলাম, যেভাবে গড়বি সেভাবেই তৈরি হবো!’

কী দারুণ আবদার!হৃদ যন্ত্রটা থমকাল কী সুখের?চলকে উঠলো অন্তঃকরণ?জবাবের আশায় সুখের ঠোঁটের দিকে তৃষ্ণার্ত চেয়ে রয় বর্ণ।বিমূর্ত চোখে সুখ ঠোঁট নাড়ায় পরপর–

‘ ভালো বাসা-বাসির এই সীমাহীন পথের পথহারা পথিক বনে গেছি আমি নিজেই।এক ঝড়ের কবলে পড়ে হারিয়ে ফেলেছি পথ।ভুলে গেছি গন্তব্য!’

বর্ণ চেয়ে রয় নিষ্পলক। চোখে চোখ রাখে।খুব নরম গলায় বলল,

‘ আমি আছি তো!ঠিক মনে করিয়ে দেবো। আবারো ফিরিয়ে আনবো পথের শুরুতে। শুধু একবার হাতটা ধরে দ্যাখ।’ —সে হাত বাড়িয়ে দিল। সুখের কী হলো কে জানে। কাঁপা হাতটা বর্ণ’র হাতের উপর রাখল। মোহনীয় দৃষ্টি বর্ণ’র মুখশ্রীতে তখনো।বর্ণ হাতটার দিকে তাকালো একপল। এরপর সোজা হয়ে দাঁড়াল আচানক।এক ঝটকায় সুখকেও দাঁড় করাল।

‘ চল…!’

সম্বিত ফিরে সুখের। কদম তিনেক বাড়িয়ে পাথরের মতো স্থির হলো হঠাৎ। ছাড়িয়ে আনল নিজের হাত। ছিটকে দূরে সরে আসে।
ঘাড় বাঁকিয়ে তাকায় বর্ণ।ফের সুখের দিকে এগিয়ে গেল।

‘ চল আমার সাথে!’
‘ আপনার সাথে যাবো না আমি কোথাও!’

‘ যদি না যাস তো…’
‘ তো?’—ভ্রু কুটি করে আড়চোখে চায় সুখ।বর্ণ ঠোঁট বাঁকিয়ে এগিয়ে এলো।

‘ লিপ রিডিং করতে গিয়ে ওই অধর জোড়া ঘায়েল করেছে বহুদিন।তো, কাল রাতে ল্যাপটপে যা চলছিল আজ তোর উপর এক্সপেরিমেন্ট করবো।’—কানের গোড়ায় মুখ এনে বরাবরের মতো হিসহিসিয়ে বলল,-‘ আই’ল কিস ইয়্যু ডিপলি সুইটহার্ট!এখন যাবি কী যাবি না ডিসিশন তোর।এই স্বাধীনতাটা দিয়ে দিলাম।’

সুখের হাত আঁকড়ে নিচে এলো যখন বর্ণ। তখন অতিথি গিজগিজ করছে। তোয়াক্কা কে করে এসবের?বর্ণ সদর দরজার দিকে এগোল বউকে সঙ্গী করে।আইজা অতিথিদের অবলোকন করে দ্রুত এগিয়ে এলো।

‘ যাচ্ছো কোথায় ওকে নিয়ে? দেখতেই পাচ্ছো অতিথি এসেছে ওকে দেখবে বলে?’

বিরক্তি সূচক চাহনি নিক্ষেপ করে বর্ণ অসম্ভব ভ্রু কুঁচকে তাকাল। প্রশ্ন ছুঁড়ে গম্ভীর গলায় —

‘ আগে কখনো দেখেনি?’

রুবাইয়্যাত কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়।বিমুগ্ধ তাকিয়ে থাকে।কী দারুণ মানিয়েছে বর্ণ’র পাশে সুখকে। নিজের মেয়ে বলেই কী এমন লাগছে?আইজা একনজর রুবাইয়্যাতকে দেখে বলল,

‘ আগে দেখেছে মেয়ে হিসেবে। আর এখন দেখবে এ বাড়ির পুত্রবধূ এবং তোমার বউ হিসেবে।’

‘ নো নিড!ও আগেও ফুল ছিল, এখনো ফুলই আছে, ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।সের্ফ আসফিয়ান বর্ণ’র বাগানের ফুল হয়ে। যেখানে অন্যকারো উঁকি ঝুঁকি নট এলাও!’

‘ তাই বলে এভাবে বিয়ের পরদিন বউয়ের হাত ধরে বেরিয়ে যাবে বাড়ি থেকে। যাচ্ছোই বা কোথায়?’

‘ বউ নিয়ে এমন জায়গায় যাচ্ছি!শুনলে তুমি লজ্জা পেতে পারো! স্যরি, বলতে পারলাম না।তোমায় লজ্জায় ফেলতে আমার বিবেকে বাঁধছে!’

ভদ্রমহিলা তাজ্জব বনে ছোট জা’য়ের দিকে তাকালো একবার। এরপর নির্বিকার বর্ণকে দেখল।এই ছেলে এমন বেপরোয়া কথা বলতে শুরু করল কখন থেকে?প্রশ্ন করল বিষ্ময় নিয়ে—

‘তুমি আমারই ছেলে তো?’
‘অ্যানি ডাউট?’

তিনি বলে উঠলেন ব্যতিব্যস্ত হয়ে,
‘না!না…নাহ! আমার স্পষ্ট মনে আছে তোমার মতো দেখতে ছোট্ট একটা বেবিকে জন্ম দিয়েছিলাম আমি।কোন অদল বদল হয়নি!’

‘তবে মনে আর কোন সন্দেহ রেখো না ডেয়ার মম।আমি তোমারই পুত্রধন।’

আইজা দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করলেন।কাল থেকে ছেলের উপর অভিমান করেছিলেন। নিষ্ঠুর ছেলে তার অভিমান তো ভাঙালোই না। এখন মেজাজ খারাপি কথা বলে যাচ্ছে লাগাতার। তিনি বললেন,

‘কিন্তু তোমার স্বভাব চরিত্র আমার, তোমার ড্যাড নফেক্ট চৌদ্দ পুরুষের কারো সাথে তো মিলছে না পুত্রধন!কার মতো হলে তুমি?’

‘ মিল পাবে কোথায়?আসফিয়ান বর্ণ ডিফরেন্ট ফ্রম এভরিওয়ান এলস!’–এর বাংলা অনুবাদ(আসফিয়ান বর্ণ সবার চেয়ে আলাদা)

সুখ থমথমে মুখে নিরব চোখে চেয়ে।আইজা সরু দৃষ্টিতে তাকাতেই দ্রুত বর্ণ’র কাছে থেকে এক কদম আলাদা হয়ে দাঁড়ায়। বুঝাল ইশারায়—

‘ আমি ওনার সাথে যেতে চাইনি একটুও!’

“হটি-নটি তোর ওই ফিগারে কারেন্ট যেনো আছে…
ছুঁয়ে দিলে ঝটকা লাগে রে আয়না আরো কাছে…
তোর ঠোঁটে দু ঠোঁট রাখলে এই প্রাণটা যেনো বাঁচে …
তোর রিস্কি রিস্কি চাওনিতে/
হুইস্কির ফ্লেভার আছে!
উম্মাহ প্লীজ গিভ মি চুম্মা!!”

শাড়ি খামচে গাড়ির ডোরের সাথে সেঁটে আছে সুখ। অস্বস্তি, লজ্জায় কুঁকড়ে আছে মুখ। গাড়ির ড্যাশবোর্ডের সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজছে।কী বাজে শুনতে লাগছে শব্দ গুলো। উপরন্তু, পাশের সিটে থাকা পুরুষের অসভ্য দৃষ্টি,অধরে খেলে যাওয়া দুষ্টু হাসি তার হৃদয় তোলপাড় শুরু করেছে।গলা শুকিয়ে আসছে।ডোরের কাঁচ খুলে বাহিরের দৃষ্টিপাত করলে অস্তিত্বটা একটু কমতো। কিন্তু না… বউ হয়েছে গেছে নাকি সে ওই পুরুষটার!ব্যক্তিগত সম্পত্তি!যার মালিকানা কেবলমাত্র আসফিয়ান বর্ণ!অন্যকারো দেখার অনুমতি, অধিকার, দুঃসাহস কোনটাই নেই!

বর্ণ আড়চোখে দেখছে ক্ষণে ক্ষণে। ঠোঁটের পাশাপাশি ধুসর কালো মণি চক্ষুদ্বয়ও হাসছে।সময় সময় স্ট্রেয়ারিংয়ে আঙুল এমনভাবে নাচাচ্ছে যেনো গানটা বেশ মনোরঞ্জন করছে তার।

সুখের মুখের অব্যক্ত লজ্জা, অস্বস্তি’ অবলোকন করে খুব আনন্দ পাচ্ছে বর্ণ। আকম্মাৎ গান থেমে গেল। ভ্রু গুটিয়ে যায় আপনাআপনি। সুখের আঙুল বিচরণ করছে ড্যাশবোর্ড। পরক্ষণে বক্তার কন্ঠে বেজে ওঠে—

‘ আর কতো ভ্রষ্ট পথে হাঁটবে?সঠিক পথে ফিরে এসো বান্দা।ভালো হয়ে যাও।ভালো হতে পায়সা লাগে না…

সাউন্ড সিস্টেমে ওয়াজ খানা চলতে দিল সুখ। এবার ভালো লাগছে কিছুটা। আড়চোখে পাশে চেয়ে নড়েচড়ে বসল।বর্ণ ঠোঁট গোল করে সেকেন্ড কয়েক চুপ রয়। এরপর বলল তড়িঘড়ি ভঙ্গিতে—

‘ স্ত্রীর উপর অধিকার কাটানো স্বামীর হক!এমনই একটা বক্তব্য আছে খুঁজে দেখ তো ফুল!’

কেমন করে যেন তাকায় সুখ। জানতে চায় ক্ষিপ্র মেজাজে,

‘ পাত্রীর অসম্মতিতে বিবাহ করা জায়েয নেই।এমন বক্তব্য নেই?’

‘ পাত্রী মুখে না না করে যদি হৃদয় তার হাজার বার সম্মতি জানিয়ে আত্ম চিৎকার করে,তবে এমন জোরপূর্বক বিবাহ করাই যায়!’

বেজায় বিরক্তিতে মুখ ঘুরিয়ে নিল সুখ। দুনিয়া উল্টে যাক কথায় হারানো যাবে না।অসভ্য মানুষ।

‘ কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমায়?’

বর্ণ গম্ভীর মুখে বলল—
‘ অনেকদিন পর বাগে পেয়েছি। এবার কিডন্যাপ করবো তোকে। এরপর ফাদার ইন ল্য কে ফোন…’—কথার মাঝপথেই জোরে গাড়ি ঝেকে উঠে। আঁতকে উঠে সুখ। সিটব্যাল্ট বাঁধেনি, বর্ণ’র আদেশ উপেক্ষা করে জেদ ধরে বসেছিল তখন।সামনে ঝুঁকে পড়তে গিয়ে চোখ খিচে নেয়। অদ্ভুত… ব্যাথা লাগল শরীরের কোন অঙ্গে।একটি হাত এসে পূর্বেই আগলে নিল তাকে। অস্থির গলায় বলল—

‘ ফুল… ফুল আর ইয়্যু ওখে?লেগেছে কোথাও? ব্যথা পেয়েছিস?’

সুখ তখন কাঁপছে থরথর।কারো বুকে চুপটি করে সেঁটে। কিছু তিক্ত দৃশ্য ভাসে চোখের সামনে। মূহুর্তেই কম্পনের তীব্রতা বাড়ে। দুহাতে জাপটে ধরে আগলে রাখা মানুষটির গলা, ভীষণ শক্ত করে।বর্ণ গাড়ির ব্রেক কষে।মাথা নামিয়ে তাকায়। বুকে মুখ গুঁজে চোখ বুজে আছে সুখ।দুটো দেহের পাশাপাশি যেনো দু’টো হৃদয়েরও সন্ধি হলো আজ। সাক্ষী হিসেবে বাজল হৃদয়ের স্পন্দন গুলো।বর্ণ আবেশ মাখা গলায় ডাকল,-‘ আমার বোবাফুল!’

#চলবে🥀

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here