আমার_বোবাফুল(৬৭) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

0
55

#আমার_বোবাফুল(৬৭)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

বর্ণ সেই রাতে পুণরায় গিয়েছিল রিকাজ ফরাজীর মুখোমুখি দাঁড়াতে।রিকাজ যেন জানতো বর্ণ আবার আসবে তার কাছে। তাচ্ছিল্য ভরে হেসেছিল খুব। কিছুতেই মুখ খুলতে চাইছিল না।তবে টর্চারের কাছে হার মেনে মুখ খুলতে বাধ্য হলো শেষে।

মাত্র দশ বছর বয়সে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়েছিল জোসেফের। চেহারার গড়নে অনেকটা বিদেশিদের ছাপ।তাকে নিজের চাহিদা মতো গড়ে তুলতে এতোটুকুও খুঁত রাখেনি রিকাজ ফরাজী।ড্রাগস, স্মাগলিং খুন-খারাবি রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশিয়ে দিয়েছে। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য যতোটুকু নিচে নামা প্রয়োজন ততোটুকু নিকৃষ্ট হতে উৎসাহ দিয়ে এসেছে দিনের পর দিন।তবে তারা এসব করে এসেছে লোকচক্ষুর অন্তরালে।এদেশ-ওদেশের একেক নারীকে জীবনসঙ্গী করার পেছনেও ছিল কেবল স্বার্থ রক্ষা।সেসব মেয়েদের কারো বাবা জোসেফের বিজনেস পার্টনার, অথবা কারো ভাইয়ের থেকে প্রতিশোধ নিতে বোনকে প্রেমের জালে আটকে বিয়ে করেছে।এই বিষয়ে ব্যতিক্রম ঘটেছিল শুধুমাত্র মায়রার ক্ষেত্রে।বিডি এসে রাস্তায়, উত্তপ্ত সূর্যের কিরণের নিচে ঘর্মাক্ত, স্নিগ্ধ বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে থাকা মায়রাকে দেখে প্রথমবারের মতো কারো জন্য সিক্ত হয়েছিল জোসেফ। এরপর যেচে কথা বলা, তারপর পরিচয়, বন্ধুত্বের হাত,অতঃপর হঠাৎ একদিন প্রেম-ভালোবাসা নিবেদন। মেয়েদের এক লহমায় ইম্প্রেস করতে সে বেশ পটু।মায়রাকে বিয়ে করে লাভের কোন দিক না পেয়ে রিকাজ দ্বিমত পোষণ করেছিল এতে। কিন্তু জোসেফ শুনেনি।
_
জোসেফের তখন পুরোপুরি অন্ধকার জগতে প্রবেশ ঘটেছে। সেবারই প্রথম তাকে নিয়ে রিকাজ বিডি এসেছিল। সেসময় শিকদার নিবাসের হালচাল পর্যবেক্ষণের ইচ্ছে হয়।পরে বর্ণ’কে নিয়ে পরিবারের এতো দরদ-ভালোবাসা দেখে সন্দিহান হলো রিকাজ। “যে তাদের ছেলের জায়গা দখল করে আছে!যার জন্য আইজা ছেলে হারা।” তাকে এতো ভালোবাসায়, আহ্লাদে রাখা আদৌ সম্ভব?রিকাজ পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে জানতে পারে,“ওইদিন আইজা’র টুইন ডেলিভারি হয়েছিল।” সেদিন আবারো ধোঁকা খেলো রিকাজ ফরাজী। বন্ধু নামের শত্রু দু’টো তাকে দ্বিতীয় বার ধোঁকা দিল যেন।

আরও কদিন পর্যবেক্ষণ করে রিকাজ কিছু ইরফর্মেশন উদ্ঘাটন করল।তা হলো- ‘বহুবছর আগে যে ছেলেকে হারিয়েছে, তাকে ওরা ভুলেও গেছে ততোদিন।শিকদার পরিবারে তার জন্য শোকের ছায়া ছিল না কোন। সবাই দিব্যি আরামের দিন উদযাপন করছে।’ দূর থেকে এসব তার চোখে বিধলো ভীষণ। ওদের সুখী জীবন যাপন সহ্য হলো না।তাই আরও একটা প্ল্যান কষে।

“এক ভাইকে দিয়ে অন্য ভাইয়ের গোছানো জীবন এলোমেলো করে দিলে কেমন হয়! এরপর আরেক ছেলের সর্বনাশ চোখের সামনে দেখে আযাদ-আইজা যখন ছটফট করবে, দৃশ্যটা ঠিক কতোটা মনোরঞ্জক হবে রিকাজ ফরাজীর জন্য?”

জোসেফ তার বাধ্য ছেলে।প্ল্যান মতোই সে বর্ণ’র কাছে গিয়েছিল ফ্রেন্ডশিপ করতে। এরপর…
_
রিকাজের কথা শেষ হওয়ার পরক্ষণেই জিভ টেনে কেটে নেওয়া হলো তার।বুকের ভেতর গেঁড়ে থাকা কলিজাটা কেমন দেখবে বলে, মানসিকতায় বড্ড হিংস্রতা মিশিয়ে আগুনে গলানো ছুড়ি চালিয়ে বুকে আঁকিবুঁকি করেছিল আসফিয়ান বর্ণ। পর মূহূর্তে থেমে গিয়েছিল বিড়বিড় করে এই বলে,

“ কন্ট্রোল ইউরসেল্ফ আসফিয়ান বর্ণ! কন্ট্রোল!এতো বছরের শোধ এক মূহুর্তে নয়, তিলে তিলে দিতে হয় ইয়ার। সেটাই তোর অ্যাচিভমেন্ট!”

জোসেফ পাশ থেকে চেঁচিয়ে উঠে, “ ওই ****কে শেষ করে দে বর্ণ।ওর চোখ দুটো তুলে আমার সামনে রাখ প্লীজ।”

মুখ থেকে জিভ আলাদা হয়ে যাওয়ার আগে রিকাজ অস্থিরতায় ছটফট করছিল, “ অনেক টর্চার করেছিস।এর হিসেব আর নেব না। অনেক আগেই নিজের লোক দেখানো মৃ!ত্যু’র আয়োজন করে এসব থেকে অবসর নিয়েছি।বউ-বাচ্চাকে খুব ভালোবাসি আমি। ওরা আমার জন্য কাঁদবে।লেট মি গো!”

বর্ণ’র আগে জোসেফ গর্জে ওঠে,“ ইয়্যু ড্যাডের বাচ্চা ****! আমাকে আমার মম-ড্যাড -ফ্যামিলি থেকে আলাদা করে ডে বাই ডে মিথ্যে বলে বড় করেছিস কু****! অন্ধকার লাইফে ডুবিয়ে রেখেছিস আমায়! তোকে ছেড়ে দেবে?বর্ণ… ভাই ভাই ওর বাচ্চাকে আমার কাছে এনে দে।ওকে এর সামনে আগুনে পুড়াবো আমিই!”

বর্ণ কিয়ৎকাল অনিমেষ তাকিয়েছিল তার দিকে। শরীরের প্রায় অর্ধেক ত্বক ঝলসে পচন এসেছে জোসেফের। সার্জারি প্রয়োজন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হবে শিঘ্রই। সম্পূর্ণ সুস্থ হতে কমপক্ষে ২ বছর বা তার চেয়ে বেশি সময়ও লাগতে পারে। অবশেষে কোন এক উসিলায় এখান থেকে, এখানের নিষ্ঠুর টর্চার থেকে মুক্তি মিলবে তার।বর্ণ আর তার মাঝে এই নিয়ে চুক্তিও হয়েছে। কিন্তু কেমন চুক্তি,সেটা সিক্রেট!

চোয়াল বেয়ে কাটা জিভ থেকে রক্ত গড়িয়ে শার্ট ভিজে গেছে। জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল রিকাজ। পুণরায় জাগানো হয়েছে।ফেরার সময় বর্ণ তাকে মন ভরে দেখল। চোখের তৃষ্ণা মিটছে না এই সামান্য র-ক্তে।তার আরও অনেক অনেক যন্ত্রনা প্রাপ্য। ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,“ তুই যেই জোসেফ জোয়ার্দারকে চরম মেহনতি করে তৈরি করেছিস, নামটা পৃথিবীতে থেকে পুরোপুরি ডিলেট করে তাকে ‘রণ’ হিসেবে নতুন ভাবে তৈরি করবো আমি।আমিই…কিং অব দ্য আই গ্যাং আসফিয়ান বর্ণ!”
_
মেহরাবরা যখন ঢাকায় প্রবেশ করে তখন সময় সাড়ে তিন, রাত্রির শেষ প্রহর।মায়রা হয়তো ঘুমে- এই ভেবে বাড়ির দিকে যায়নি তারা।ভোর পাঁচটা অব্দি শহরের এই রাস্তায় ওই রাস্তায় গাড়িতে চড়েই ঘুরে বেড়িয়েছে।

বাড়ি ফিরে মায়রাকে দেখেই ঝাপিয়ে পড়ল জেসি, “ ও…আপি কত্তো মিস করেছি আপনাকে। কেমন আছেন?”

মায়রা মুচকি হাসল, “ তোমাকে ফিরতে দেখে আগের চেয়ে বেটার।”

“ মীরাভ কোথায়?ওকে দেখে আসি।”

একরাশ উচ্ছ্বাস নিয়ে কক্ষের দিকে ছুটলো সে। পিছু থেকে মায়রা,

“ মীরাভ ঘুমোচ্ছে!”–বলতে গিয়েও থেমে গেল। মৃদু হেসে ঘাড় বাঁকিয়ে মেহরাবকে দেখল এরপর। ভাইটা বোধহয় লজ্জা পাচ্ছে।জেসিকে নিতে যাওয়ার কথাটা তাকে মুখ ফুটে বলেনি।একই বাড়িতে থেকে মেসেজে জানিয়েছে।

তুহফার ক্ষেত্রে মায়ের বদলি মা হিসেবে প্রথম যার স্থান, সে হলেন নানু।রাতে হানিফা বেগম তাকে নিজের কাছে এনে রেখেছেন।কোলে মাথা রেখে চুলে বিলি কেটে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছেন। মেয়েটা খুব কেঁদেছে তখন।ভোরের আযানের ধ্বনিতে ঘুম ভাঙল।তার আগেই হানিফা বেগম জাগ্রত হয়েছে।চোখ খোলে নানুকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দেখে গাল ভরে হাসল তুহফা।

“ উঠছস!”
“ হুঁ।”

তুহফা উঠে বসে।ঘড়ির দিকে তাকাতেই বুকটা ধড়াস ধড়াস করে উঠে। ঢোক গিলে ঠোঁট কামড়ে ধরে।আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এরপর? এরপর সে বউ সেজে এই বাড়ি থেকে, আপনজন ছেড়ে চেনা অথচ অচেনা এক পুরুষের হাত ধরে চলে যাবে। এরপর কখনো কখনো ফিরবে দু-তিন দিনের অতিথি হয়ে।

হানিফা বেগম মিটিমিটি হাসছেন। মূলত তিনি হাসি আটকাতে পারছিলেন না।তুহফা রাগ দেখিয়ে বলল, “ বুড়ি!আমাকে বিদায় দেওয়ার আনন্দে হাসছো না?ওটকো ঝামেলা তো এবার বিদায় হবে।”

হানিফা বেগমের হাসি নিভে গেল মূহুর্তেই।হাত উঠালেন, “ চপ বেয়াদ্দপ!কী আবোল-তাবোল বকোস?”

হাতটা পুণরায় নামিয়ে নিলেন বৃদ্ধা।তুহফা ছলছল চোখ নামিয়ে নেয়, “ তাহলে হাসছিলে কেনো?”

“ কাছে আয়।কানে কানে কই!”

কাল রাত মাহির এসেছিল।সাথে আরও দু’জন ভাই-ব্রাদার।ইবরাত, রুশ্মিতারা প্রথমে অদূরে স্টেজের পেছনে উল্টো ঘুরে থাকা তুহফাকে দেখিয়ে পয়সা উসুল করে। তারপর তার কাছে যেতে রাস্তা ফাঁকা করে দিল।মাহির সেই খুশি। মুঠোয় বাটা হলুদ,তুহফার গালে ছুঁইয়ে দেবে বলে।

পিছু থেকে তুহফার গালে হলুদ লাগাতে গেলেই সে ঘুরল তার দিকে। পরক্ষণে যেই চেহারার মুখোমুখি সে হলো,তাকে দেখেই দূরে ছিটকে গেল মাহির, “ দাদু আপনি?”

হানিফা বেগম মাথায় আঁচল টেনেটুনে বললেন, “ হে-রে বেটা, আমি।তোর না কাল বিয়া?এতো রাতে কী অঘটন ঘটাইতে আসছোস এখানে? আমার নাতির সাথ দেহা করবি?”

মাহির ফেঁসেছে অথৈ সাগরে। আমতা আমতা করে কোন রকম শালীকাদের চোখ রাঙিয়ে গেটের আসতেই পড়ে গেল বর্ণ’র সামনে। কোথাও থেকে ফিরছি বর্ণ। মাহির ভীষণ অসন্তুষ্ট হলো।কাল বোনের গিয়ে,অথচ আজও মহারাজ বাড়ির বাইরে বাইরে।

বর্ণ’র একহাতে গগলস, অন্যহাতে ফোন।চোখ তুলে ফট করে চাইতেই মাহির অপ্রস্তুত হেসে প্রশ্ন করে, “ ভ-ভাই আপনি!”

বর্ণ জবাব দেয়নি।কুঞ্চিত কপালে স্থির চেয়ে রইল কেবল।মাহির মুখের ভেতর জিভ কাটে। প্রশ্নটাতো বর্ণ তাকে করবে- ‘ সে এতো রাতে এখানে কেনো?’ তখন কী জবাব দেবে মাহির?

বর্ণ’র ইতিবাচক-নেতিবাচক কোন প্রতিক্রিয়া না পেয়ে মাহির জোরপূর্বক হেসে বিদায় বাণী শুনিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে আসতে ধরলেও সে স্থির দাঁড়িয়ে থাকলো।মাহির থেমে গিয়ে পিছু ঘুরে।বসের হলো কী?স্ট্যাচু হয়ে গেল হঠাৎ? জিজ্ঞেস করবে কিছু? আকম্মাৎ গমগমে ধমক ভেসে এলো, “ এখনো যাসনি চোখের সামনে থেকে?”

“ যাচ্ছি বস!”

সে যেতেই ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বর্ণ পিছু ঘাড় ঘুরাল। সেকেন্ড কয়েক চেয়ে এরপর তড়িৎ দৃষ্টিপাত করল তার রুমের বরাবর।সুখ ব্যলকনিতে দাঁড়িয়ে। রেলিংয়ে দুহাত ভাঁজ করে মুখ ঠেকিয়ে আছে সেথায়। বর্ণ’র ঠোঁটে বাঁকা হাঁসির রেখা দেখা যায়। এগিয়ে গেলো সামনে। চারি পাশে কোলাহল কমে এসেছে প্রায়। দীর্ঘ হৈ হুল্লোড়ের পর ক্লান্ত হয়ে পড়েছে সবাই।

নানুর মুখে মাহির এসেছে, এবং সে ভেবে নানুর সান্নিধ্যে গিয়েছিল শুনেই বিষন্নতার মাঝেও হেসে ফেলল তুহফা। পরপর লজ্জা পেয়ে মুখ লুকায় বালিশে। ইশশ্ মানুষটা কী লজ্জার সম্মুখীন না হয়েছিল তখন!

অনুষ্ঠান ছিল বাড়িতে, তবে বিয়ে কমিউনিটি সেন্টারে সম্পন্ন হবে তুহফার। কবুল বলতে গিয়ে গলায় বারবার আটকে যাচ্ছিল।পুরোটা সময় পাশে নানু বসা ছিল। বিদায় বেলায় খুব কাঁদল সে,মামাদের- মামিদের সবাইকে জড়িয়ে।শেষে বর্ণ’র দেখা পেয়েছে জন সমাগম থেকে দূরে।তুহফা ছুটে গিয়ে অনুমতি ছাড়াই ‘ভাইয়া’ ডেকে বুকে হামলে পড়ে হুঁ হুঁ কেঁদে ফেলল। স্কুল-কলেজে সহপাঠীরা যখন তাদের বড় ভাইকে জড়িয়ে আদর নিত, সেসব দেখে তারও খুব ইচ্ছে করতো এভাবে বর্ণ ভাইয়াকে একবার জড়িয়ে ধরতে কিন্তু কখনো সাহস হয়নি। লজ্জায়, জড়তায় মুখ ফুটে বলাও হয়নি।বর্ণ মাথায় হাত রেখে মাহিরকে গম্ভীর মুখে আদেশ করল, “ এটাই ওর শেষ কান্না তো? এরপর কখনো আর অশ্রু ঝরবে?”

মাহির দুদিকে মাথা ঝাঁকায়। অর্থাৎ ঝরবে না।সে ঝরতেই দেবে না। অনন্ত ভালোবাসা, যত্নের ক্ষেত্রে।সুখ গাল ফুলায় বর্ণকে নির্বিকার দেখে। দ্যাখো, আপু কীভাবে কাঁদছে জড়িয়ে। মানুষটার কী উচিৎ না- কান্না না আসলেও চেহারায় একটু দুঃখী দুঃখী ভাব ফুটিয়ে তোলা?তার তো অশ্রু থামছেই না!

তুহফার সাথে নূরা আর নানুকে পাঠানো হয়েছে।রাজবীর সহ তার বয়সী আরও দুটো কাজিনও গেছে।

ফুলে সাজানো বরের গাড়ি সাঁই সাঁই করে চলে গেল। রুবাইয়্যাত চোখ মুছে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে।মেয়ে হয়ে জন্ম মানেই একদিন নিজ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য পরিবারের সাথে জুড়ে যাওয়া।আইজা তার কাঁধ চাপড়ালেন আলতো, “ চল রুবি। বাড়িতে অনেক কাজ। অতিথিদের অনেকেই আজ রাতেও থাকবে‌।”

রুবাইয়্যাত অন্যমনস্ক হয়ে বললেন,“ ও’কে কখনো আমার পর ভাবিনি,তাই না আপা?”

“ বাঃ ”

শব্দ অনুসরণ করে তামিজ সাহেব তাকালেন।হাত বাড়িয়ে দিলেন সহাস্যে,“ এসো আম্মা!”

সুখ ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরল আব্বুকে। নিবাসে ফিরে এসেছে তারা। নিজেদের রুমে না গিয়ে সুখ সরাসরি আব্বু-আম্মুর কাছে এসে পড়েছে।
রুবাইয়্যাত কাপড় ভাঁজ করে কাভার্ডে তুলে রাখছেন। কোণা চোখে তাকে একবার দেখে সে ইশারায় আব্বুকে বুঝায়, “ একটা সিক্রেট শুনাই, আব্বু?”

#চলবে🦋

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here