জেন্টাল_মনস্টার #লামিয়া_রহমান_মেঘলা #পর্ব_৪৪

0
54

#জেন্টাল_মনস্টার
#লামিয়া_রহমান_মেঘলা
#পর্ব_৪৪ [নিকাহ এর রাতে]
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
চারজন মিলে খুব সুন্দর করে মনোযোগ দিয়ে আদ্রিসের জন্য বাসরঘর সাজিয়েছে।
চারিদিকে সুগন্ধি মোমবাতি জ্বলছে। মিষ্টি একটা ঘ্রাণ ভেসে আসছে।
টিমটিম আলোতে রুমটা মারাত্মক সুন্দর দেখাচ্ছে।
সাদা বিছনার উপর লাল গোলাপ দিয়ে ডেকোরেশন করা হয়েছে।
সব কিছু মিলিয়ে, মিরা, সায়ের, রেভেন, প্রিয়া তাদের কাজ নিয়ে ভীষণ খুশি।

তবে সায়ের সেই আগের মতই মিরাকে এভোএট করছে। মিরাকে কোন প্রকার পাত্তাও দিচ্ছে না। মিরার দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না।
মিরার ভেতরটা পুড়ে যাচ্ছে এই অনুভুতিতে।
মিরা এবার ঠিক করেছে যে কোন মূল্যে সে কথা বলেই ছাড়বে এখন সায়েরের সাথে।

কাজ শেষ হলে রেভেন এবং প্রিয়া বেরিয়ে যায়।
সায়েরও বেরিয়ে যেতে নিলে হটাৎ পেছন থেকে মিরা ওকে ধরে বসে।
সায়ের ফিরে চায় পেছন দিকে।
মিরা ছলছল নয়নে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
সায়ের তবুও গললো না।
গম্ভীর কন্ঠে প্রশ্ন করলো,

“কি হয়েছে?”

মিরা, সায়েরের গম্ভীর কন্ঠ শুনে নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। সায়েরের বুকে পড়ে হাউমাউ করে কান্না শুরু করলো,

“এমন করবেন না প্লিজ। দয়া করে আমার সাথে এমন করবেন না। আমি ও ভালোবাসি আপনাকে। আমাকে ক্ষমা করে দিন। আর দুরে সরিয়ে দিবেন না। প্লিজ।”

সায়েরের ঠোঁটে তখন বাঁকা হাসি। সে আয়নাতে মিরা এবং তার প্রতিবিম্ব দেখছে।
মিরার লম্বা চুলে হাত বুলিয়ে দেয় সায়ের।
নিজেকে সাভাবিক করে মিরাকে নিজের দিকে ফেরায়। মিরা হেঁচকি তুলছে। নাক লাল হয়ে আছে।

“মিরা তুমি জানো তুমি কি বলছো? এই অনুমতির জন্য প্রস্তুত ত?
আই এম নট এ জেন্টাল ম্যান মিরা।
আমার স্পর্শ ভালোবাসা উভয় ভয়ঙ্কর।”

মিরা আর কিছুই ভাবতে পারেনা। যেন ওকে পুরোটাই সায়ের নিয়ন্ত্রণ করছে।
সে মাথা নাড়িয়ে বলে,

“যা খুশি করুন। শুধু আমাকে ইগনোর করবেন না।”

সায়ের তখন মিরাকে ফের জড়িয়ে ধরে।

“ইট’স ওকে কেঁদো না। ঠিক হয়ে যাবে সব৷”

——-
বেশ কিছুক্ষণ পর ডিনার সেরে একটা ছোট খাটো পার্টির মত হয় মেনশনে।
আদ্রিতা বেনারসি বদলে একটা ড্রেস পরেছে সাদা রঙা৷ ড্রেস টা আদ্রিসের আনা ছিলো রাশিয়া থেকে।
ডিনার শেষে মিরা আদ্রিতাকে, আদ্রিসের রুমে বসিয়ে দিয়ে আসে।
চারিদিকের এত সাজ সজ্জা দেখে আদ্রিতার ভেতরে অজানা একটা ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে।
আদ্রিতা কিছু ভাবতে পারেনা।
এমন সময় কিছুক্ষণের মাঝেই আদ্রিস প্রবেশ করে রুমে।
আদ্রিতা মাথা নুইয়ে বসে আছে।

নিজের বেডে আদ্রিতাকে বউ সাজি তার জন্য অপেক্ষা করতে দেখে আদ্রিসের ভেতরে ঠিক কি অনুভুতি হচ্ছে এটা আদ্রিস নিজেও প্রকাশ করতে পারবে না।
এই অনুভুতি তাকে সব থেকে আলাদা অনুভব করাচ্ছে।
আদ্রিস বুকে হাত রাখে।
সে এক পা দু পা করে এগিয়ে যায় আদ্রিতার দিকে।
এই রাতটার জন্য সে কত অপেক্ষা করেছে।
তার অপেক্ষার অবসান হয়েছে।
আদ্রিস ধির গতিতে আদ্রিতার দিকে এগিয়ে যায়৷ আজ প্রকৃতিও জেন আদ্রিসের অপেক্ষার অবসানের সাক্ষী হতে এসেছে।
হটাৎ ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে এদিক ওদিক মাতাল করে।
বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ ভেসে আসতে থাকে।
মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, সেই আলোতে চারিদিকে আলোকিত হয়ে উঠছে।
দক্ষিণ দিকের জানালটা দিয়ে হাওয়া প্রবেশ করছে রুমে।
সেই বাতাসে মোমবাতি গুলো দোলা খাচ্ছে।

আদ্রিস বিছনার কাছে এসে আদ্রিতার সামনে বসে।
আদ্রিতার নিচু হয়ে থাকা মুখশ্রীর থুতনিতে হাত দিয়ে উঁচু করায়।
আদ্রিতা মাথা তুলে তাকায়।
দু’জনের চোখ চোখি হয়।
আদ্রিস পকটে থেকে একটা রিং বের করে।
আদ্রিতাকে পরিয়ে দেয়। রুবি পাথরের আংটি।
আদ্রিতা তাকিয়েই আছে আংটি টার দিকে। মারাত্মক সুন্দর।

“পছন্দ হয়েছে?”

আদ্রিতা মাথা নাড়ায়৷
আদ্রিস ভ্রু কুঁচকে তাকায়,

“কথা বল।”

আদ্রিতা চাপা কন্ঠো জাবাব দেয়,

“জি ভাইয়া৷”

কথাটা উচ্চারণ করতে দেরি ছিলো তবে আদ্রিতার গালে থাপ্পড় পড়তে দেরি হয়নি।
আচমকা এমন থাপ্পড় খেয়ে আদ্রিতা বিছনায় ছিটকে পড়ে।
আদ্রিস রাতে কিটমিট করতে করতে আদ্রিতার উপরে উঠে আসে।

“বেয়াদব মেয়ে। এট আমাদের বাসর রাত আর তুই এখন আমাকে ভাইয়া বলছিস? জানিস একটু পর তোর সাথে আমি কি করব?”

বাসর ঘরে বরের থেকে আদরের বদলে থাপ্পড় খেয়ে আদ্রিতা এমনি বেকুব বনে গিয়েছে। এর মধ্যে আদ্রিসের কথা তার মাথায় ঢুকছে না একটুও।
আদ্রিসের অতিরিক্ত রাগ হলেও সেটা নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রথম রাত এটা তাদের সে এভাবে ওয়েস্ট করে দিতে চায়না৷
হটাৎ আদ্রিস ওয়ার্নিং ছাড়াই আকড়ে ধরে আদ্রিতার ওষ্ঠদ্বয়।
আদ্রিসের হাত তখন আদ্রিতার জামার চেইনে।

“তুই আমার বউ আদ্রিতা। আজকের পর থেকে আমাকে হাসবেন্ড অথবা আদ্রিস বলে ডাকবি। ভাইয়া ডাক শুনলে না মেরে পুতে রেখে দেব বেয়াদব। ”

কথাটা শেষ হতেই আদ্রিস হঠাৎই এক ঝটকায় আদ্রিতার গাউনটা সরিয়ে নেয়। মুহূর্তের সেই অপ্রস্তুততায় আদ্রিতা লজ্জায় চোখ বুজে ফেলে,
যেন নিজের সমস্ত স্পন্দন গোপন করে রাখতে চায় ঠিক তখনই বাইরে আকাশে জমে থাকা কালো মেঘ হঠাৎ গর্জে ওঠে।
এক ঝলক বিদ্যুৎ চমকে ঘরটা এক সেকেন্ডের জন্য দপ করে আলোয় ভেসে ওঠে।
সেই ক্ষণিক আলোর ঝলকে যেন সময় থমকে দাঁড়ায়।
আদ্রিসের চোখে পড়ে আদ্রিতা,নতুন করে, অন্য এক রূপে।
এর আগে সে আদ্রিতাকে দেখেনি, এমন নয়।
কিন্তু আজকের দেখা যেন আলাদা,
আরও গভীর, আরও তীব্র, আরও অদ্ভুতভাবে নিজের করে নেওয়ার মতো।
আদ্রিস ধীরে ধীরে কাছে ঝুঁকে আসে।
কোনো কথা নয়, কোনো দ্বিধা নয়,
সে আদ্রিতার ওষ্ঠদ্বয় নিজের অধরে আবদ্ধ করে নেয়।
প্রথমে যেন সময় থমকে থাকে।
তারপর চুমুগুলো ক্রমে গভীর হতে থাকে,
অবিরাম, অস্থির, তবু এক অদ্ভুত আবেশে ভরা।
আদ্রিতা আর প্রতিবাদ করে না।
বাইরে মেঘ গর্জে ওঠে, আর ভেতরে জমে ওঠে অন্য এক ঝড়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরের বাতাস বদলে যায়।
নীরবতা, নিশ্বাস আর অদৃশ্য এক আকর্ষণে রাতটা ধীরে ধীরে গাঢ় হয়ে ওঠে।
সেই রাতের অন্ধকারে,
ঝড়ের শব্দ আর হৃদস্পন্দনের মাঝখানে,
আদ্রিস যেন আদ্রিতাকে আর এক মুহূর্তের জন্যও দূরে যেতে দেয়নি।

মাঝ রাত। আকাশে তখনো বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বৃষ্টি থেমেছে। পাতা থেকে টুপটাপ ফোটায় ফোটায় পানি চুইয়ে পড়ছে মাটিতে।
আদ্রিসের উদাম বুকের উপর শুয়ে আছে আদ্রিতা। ক্লান্ত সে। ভীষণ ক্লান্ত।
তাই ঘুমিয়ে আছে। আদ্রিস সিলিং এর দিকে তাকিয়ে নিজেদের বিগত বছর গুলোর বিচ্ছেদ, ভালোবাসা, এই পর্যন্ত পৌঁছানোর আগ পর্যন্তর পথ টুকু কল্পনা করে। কোন কিছুই সহজ ছিলোনা। কিন্তু সে করে দেখিয়েছে সবটা।
সে সেই মেয়েটাকে বিয়ে করে দেখিয়েছে যে মেয়েটাকে সে কুড়িয়ে পেয়েছিলো।
গোটা পৃথিবী যেন তার এবং আদ্রিতার বিয়ের বিরুদ্ধে ছিলো। তবুও সে হার মানে নি।
ধৈর্য ধরেছে। অপেক্ষা করেছে।
সব থেকে বড় কথা। আদ্রিস ভালোবেসেছে।
আদ্রিস নিচু হয়ে আদ্রিতার কপালে চুমু খায়।
ঠান্ডা অনুভব হতে আদ্রিতা ঘুমের মাঝেই আদ্রিসকে আরও জড়িয়ে ধরে।
আদ্রিস মৃদু হেসে ওদের শরীরে জড়িয়ে থাকা চাদরটা আরও টেনে নেয়।
এরপর ঘুমিয়ে যায়।

——–
সাজ সজ্জা তুলে ফ্রেশ হয়ে বিছনায় আসতে বেশ অনেকটা সময় লাগে মিরার।
মাত্র সে বিছনায় এসে বসেছে ঘুমাবে এখন।
ওদিকে বাহিরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
জানালা দিয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে দেখে মিরা। বিদ্যুৎ চমকে ওঠে আচমকা।
মিরা কেঁপে ওঠে। এমন সময় ঘাড়ে কারোর গরম নিঃশ্বাস অনুভব করে সে।
মিরা ফিরে চায়৷
সায়ের বসে তার পেছনে। মিরা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,

“ভেতরে এলেন কিভাবে? আমিত বন্ধ করে দিয়েছিলাম সব।”

সায়ের বাঁকা হেসে মিরার দিকে ঝুকে বলে,

“একটু আগে যে অনুমতি দিয়েছো এরপর আর পৃথিবীর কোন অনুমতির আমার প্রয়োজন নেই মিরা।
তুমি যেখানেই থাকো না কেন আমি ঠিক পৌঁছে যাব।”

মিরা আর কিছু বলবে তার আগেই সায়ের হুট করেই ওর ওষ্ঠদ্বয় আঁকড়ে ধরে।
মিরা বুঝে ওঠার আগেই নিজেকে সম্পূর্ণটা সায়েরের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে ফেলে।
মিরার হাত দু’টো এক হাতে চেপে ধরে রেখেছে সে। কোন ভাবেই মিরার ছাড়ার উপায় নেই।
বেশ কিছুক্ষণ পর সায়ের স্যাটিসফাই হলে সরে আসে মিরার থেকে৷
মিরার মুখশ্রী লাল হয়ে গিয়েছে।
সে ঘনঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
সায়ের বৃদ্ধ আঙ্গুল দিয়ে মিরার ঠোঁটে স্লাইড করে।
মিরা চোখ বন্ধ করে নেয়৷
সায়ের বাঁকা হেসে সরে আসে মিরার থেকে।

“দরজা ভালো করে লাগিয়ে ঘুমাও। নাহলে এই উকটো বিপদ টা আবারো ঘাড়ে উঠতে পারে ম্যাডাম।”

কথাটা বলতে বলতে সায়ের বেরিয়ে যায়৷
মিরা তাকিয়ে রয় সেদিকে। কিছুক্ষণ আগে কি ঘটে গেলো ভাববেই গা শিউরে উঠছে আর অদ্ভুত এক অনুভুতি হচ্ছে।

ওদিকে সায়ের বেরিয়ে যেতে যেতে ভাবছে।
যত দ্রুত সম্ভব রাশিয়া গিয়ে মেয়েটাকে বিয়ে করে নেবে সে।
কোন মতে এই দুরত্ব হজম হচ্ছে না তার।
ওদিকে আদ্রিস কত ধৈর্যশীল পুরুষ। আদ্রিতা এত কাছে থাকতেও কত অপেক্ষা করেছে তার৷
ভাবতেই অবাক লাগে।
আদ্রিস ধৈর্য ধরেছে। আদ্রিতাকে বড় করেছে। আদ্রিস অপেক্ষা নামক এই তিক্ত যন্ত্রণা অনুভব করেছে। আদ্রিস নিজেদের পথ চলা মশ্রীণ করতে চেয়েছে। পুরো পৃথিবী ওদের বিরুদ্ধে থাকলেও সে চেষ্টা করেছে আদ্রিতাকে আপন করে নিতে।
সব থেকে বড় কথা আদ্রিস ভালোবেসেছে।

——-
রাশিয়া,
মিসেস মিহু কফি কাপটা সেন্টার টেবিলে রাখলেন।
সার্ভেন্ট এসে খালি কাপটা নিয়ে গেলো।
যাবার সময় বেডরুমের দরজা লাগিয়ে দিয়ে গেলো।
মিসের মিহু সামনে তাকিয়ে রইলেন এক দৃষ্টিতে।
হটাৎ করেই বলে উঠলেন,

“বুঝলেন মিস্টার সুবহান। আপনার পরিবার আজ পরিপূর্ণ। শুধুমাত্র আপনিই নেই। আপনি যে শুখি পরিবার কল্পনা করতেন সর্বদা। আজ সেই পরিবার আপনার হয়েছে। কিন্তু আফসোস আমার পাশে দাঁড়িয়ে এসব দেখার জন্য আপনি নেই।
তবে চিন্তা করবেন না। খুব শীঘ্রহি আপনার খুনিকে শাস্তি দেব। সেই সাথে সানার সাথে এত বড় অন্যায় করা ব্যক্তিকেও ছাড়ব না আমি।”

মিসেস রাদিয়া সুলতানা মিহু তার দেয়ালে টানানো থাকা হাসান সুবহান আলভির বড় একটা ছবির সাথে এসব কথা বলছেন। ছবিতে তাকেও দেখা যাচ্ছে। তার পেটে সায়ের আসার পর ছবিটা তোলা। এটা মিস্টার হাসান সুবহান আলভির ভীষণ পছন্দের ছবি। তাইত এক বিবাহবার্ষিকীতে তাকে উপহার হিসাবে এই বিরাট ছবিটা দিয়েছিলো৷

মিসেস মিহু চেয়ারে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়।

——-

বাংলাদেশ।
আসরাফ খান বসে আছেন সোফায়।
কপালে চিন্তার ভাজ।
মিসেস মাধবী বেগম ঘুমিয়ে গেছেন বহু আগে। তিনি আজ ভীষণ খুশি।
তবে আসরাফ খান না হতে পারছেন খুশি। না পাচ্ছেন শান্তি। না তার ঘুম আসছে।
এমন কিছু তিনি লুকাচ্ছেন যা কেউ জানেনা। এবং তিনি চান না কেউ জানুক।

“হসান সুভহান আলভি, যেতে যেতে এত বড় নিউক্লিয়ার বম রেখে যাবি ভাবিনি রে।”

কথাটা বলে আসরাফ খান মাথায় হাত রাখলেন।

চলবে?

[ একটু বেশি রোমান্টিক বাসর চাইলে মন্সটার ই বুকটা ক্রয় করে নাও। লিংক কমেন্ট এ দিয়ে দেব]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here