গল্প_তোর_কারণে_ফিরে_আসা #সূচনা_পর্ব

0
49

সকালের সুন্দর সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়ে গেছে ঘুমন্ত পরীর ঘরটা। আর ঘুমন্ত পরী ঘুমিয়ে আছে, হঠাৎ বিরক্তিকর শব্দে ঘুমন্ত পরীর ঘুম ভেংগে গেলো। বিছানার উপরে উঠে বসে পরলো কিছুক্ষণ পরে ফিরোজ আহমেদ রুমে ডুকে ঘুমন্ত পরীর মাথায় হাত দিয়ে বললেন শুভ সকাল তূবা মামনি। তূবাও হাসি মুখে বললো শুভ সকাল আব্বু, তূবার সকল শুরু হয় তার আব্বুকে দেখে। তূবার বসয় এখন এগারো খুব শান্ত একটা মেয়ে তার বাবার রাজ কন্যা। তারা এক ভাই দুই বোন, তূবা সবার ছোট। তূবার বোন বড় সে এবার Hsc পরিক্ষা দিবে। আর তার ভাই এবার Ssc পরিক্ষা দিবে। তূবা পরে কাস সিক্সে এ, আজ নিলার কলেজে শেষ দিন তাই তাড়া সব বন্ধুরা প্লান করে এক সাথে কোথাও ঘুরতে যাবে। তাই নিলা আয়নার সামনে দারিয়ে খুব সুন্দর করে সাজছে,তূবা পিছনে এসে তার আপুকে এক মনে দেখছে তার আপু কি সুন্দর যে কেউ দেখলে প্রথম দেখাতেই মাশাল্লাহ বলে ফেলবে।

নিলা: কি রে কি দেখছিস এভাবে-

তূবা: তুমি এত সুন্দর কেনো আপু, তার উপরে এত সুন্দর করে সাজগুজ করেছো কেনো আজ?

নিলা: আমি সুন্দর কারণ আমার যে খুব সুন্দর একটা বোন আছে তাই আমি সুন্দর। আর সেজেছি আজ আমরা সব বন্ধুরা মিলে ঘুরতে যাবো তাই।

তূবা: ওয়াও তোমরা ঘুরতে যাচ্ছো?

নিলা: হুম, তুই যাবি আমাদের সাথে?

তূবা: না আপু তুমি যাও আমার ভালো লাগে না এই সব ঘুরাঘুরি। আমি কাটুন দেখবো তুমি যাও আনন্দ করে এসো।

নিলা: সব সময় তো কাটুন দেখিস আজ না হয় একটু আমাদের সাথে ঘুরতে গেলি। দেখবি ভালো লাগবে।

তূবা: তুমি তোমার বন্ধুদের সাথে মজা করবা আমি ছোট মানুষ সেখানে যেয়ে কি করবো আপু।

নিলা: চল না গেলেই দেখতে পাবি, তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।

তূবা: সত্যি বলছো আপু। দারাও আমি এখনি রেডি হয়ে আসছি।

তূবা একটা ব্লাক কালারের জামা পরে নিলো, চুল কোমর অব্দি হওয়ায় তূবা তার আপু কাছে চুল গুলো ঠিক করতে নিয়ে গেলো। নিলা সামনের চুল গুলো ক্লিপ দিয়ে আটকে দিলো আর হালকা করে বেবি ক্রিম লাগিয়ে দিলো সাথে লিপবাম, আর কাজল দিয়ে দিলো চোখে। তাতেই যেনো তূবাকে পরীর মত লাগছে। দুই বোন রেডি হয়ে চলে গেলো তাদের গন্তব্যে।

নিলা দেখছে তার সব বন্ধু বান্ধবী গুলো এক সাথে দারিয়ে গল্প করছে। নিলা তাদের কাছে পোছে গেলো।

নিলা: তোরা চলে এসেছিস সবাই?

সাগর: কিরে তোর এক্ষন আসলো কেনো।

নিলা: আরে বেশি না ১০ মিনিট তো লেট করেছি।

সুমা: হয়েছে বাদ দে, গালিব আর নিলয় এখনো আসেনি।

নিলা : দারা আমি নিলয় কে ফোন দিচ্ছি।

দূরে কারো কান্নার আওয়াজে ঘুরে দারায় নিলা,সাগর, সুমা, দেখে তূবা চোখ বন্ধ করে এএএএএ করে কান্না করছে।

নিলা: ও শিট আমি ভুলেই গেছিলাম তূবার কথা।

সবাই দৌড়ে যায় তূবার কাছে,

নিলা : বোন কি হয়েছে তোর?

তূবা: আপু আমার পা টা শেষ আমি মনে হয় আর হাটতে পারবো না রে। ঐ শয়তান লোক টা আমার পায়ের উপরে বাইকটা উঠায় দিছে।

সবাই এবার সামনের দিকে তাকালো, দেখে গালিব আর নিলয় বাইকে বসে আছে। গালিব আর নিলয় হা হয়ে তাকিয়ে আছ,

নিলা: গালিব তুই দেখে গাড়ি চালাতে পারিস না।

গালিব: ভাল করে দেখতো আদোও কি তোর বোন কে লেগেছে কি না।

নিলা এবার ভালো করে দেখলো তূবার পায়ের খুব কাছেই বাইকের চাকাটি দারিয়ে আছে। তূবা এবার কান্না থামিয়ে চোখ খুলে দেখে তার পা ঠিক আছে কিছুই হয় নি। এবার গালিব তার হেলমেট খুলে ফেললো বাইক থেকে নামলো। তূবা চোখ উপরে তুলতেই তার চোখ বড় হয়ে গেলো। যেনো সে তার স্বপ্নে দেখা সেই প্রিন্সকে পেয়ে গেছে। ৫ ফিট ৮ ইঞ্চি লম্বা চিকন ফরসা ধবধবে সাদা কপাল ভর্তি চুল। আর ব্লাক শার্ট পরাতে আরো বেশি সুন্দর লাগছে। কারো কথার আওয়াজে তূবার হুস ফিরে।

গালিব: লিটিল বার্ড তোমার কোথাও লাগেনি তো। সরি আমি আসো তারাহুরো করে আসতে গিয়ে এই ভুলটা করে ফেলেছি।

তূবা নিশ্চুপ, নিলা সবাইকে বললো চল অনেক দেরি হয়ে গেছে এবার যাওয়া যাক। সবাই একটা রিসোর্টে চলে গেলো যেখানে অনেক সুন্দর করে প্রাকৃতিক দৃশ্য গুলো তুলে ধরার হয়েছে। রিসোর্টের মধ্যে সব থেকে সুন্দর হচ্ছে পদ্ম পুকুরটা। পুরো পুকুর জুরে শুধু পদ্ম ফুল। পদ্ম ফুল তূবার সব থেকে প্রিও ফুল। তাই তূবা সবার সাথে না ঘুরে একা একা ওই পুকুর পারে চলে গেলো, তূবার খুব করে ইচ্ছে হলো কয়েকটা ফুল নেয়ার আর তাইতো সে পুকুর পার থেকে নিচে নামে ফুল নেয়ার জন্য। দুই তিনটে ফুল উঠানোর পরে তূবা স্লিপ করে পুকুরে পরে যায়। তূবা সাতার না জানায় চিল্লাতে থাকে কিন্তু কেউ তার কথা শুনতে পায় না। তূবা একটু একটু করে পানির নিচে ডুবতে থাকে।

[আমি আজ জীবনে প্রথম বার কোনো গল্প লিখছি জানি অনেক কিছুই ভুল হবে ছোট মানুষ হিসেবে ভুল গুলো ক্ষমা করে দিবেন]

–এই গল্প শুরু হবে মূলত তিন বা চার নাম্বার পর্ব থেকে, তাই ধৈর্য নিয়ে একটু গল্পটা পরবেন।

#গল্প_তোর_কারণে_ফিরে_আসা
#সূচনা_পর্ব
#লেখিকা_ছায়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here