গল্প_তোর_কারণে_ফিরে_আসা #পর্ব_১৪

0
43

#গল্প_তোর_কারণে_ফিরে_আসা
#পর্ব_১৪
#লেখিকা_ছায়ালিপি

গালিব তূবাকে কোলে তুলে নিয়ে রুমে গেলো, ডক্টর কে ফোন করে আসতে বললো। ডক্টর এসে কিছু মেডিসিন আর পায়ে লাগানোর জন্য এন্টিসেপটিক ক্রিম দিয়ে বললো দুইদিন রেস্ট করলা ঠিক হয়ে যাবে।

গালিব: খুব কষ্ট হচ্ছে জান!

তূবা : না এখন একটু ভাল লাগছে, আপনার নাকি কি ইনপোটেন কাজ আছে আপনি যান।

গালিব ফোন বের করে বাইরে চলে গেলো-
স্যার আমার দুইদিন ছুটি লাগবে আমি দুইদিন পরে জয়েন্ট করবো বলে ফোন রেখে দিলো,

গালিব: খুব খিদে পেয়েছে? দারাও আমি কিছু নিয়ে আসছি খাবার।

গালিব কিচেনে গিয়ে তূবার বানানো খাবার গুলো নিয়ে আসলো, এনে তূবাকে খাইয়ে দিলো। খেতে খেতে তূবাকে বললো আর যেনো কখনো না দেখি কিচেনে যেতে। যা লাগবে আমাকে বলবা।

তূবা খাওয়া শেষ করলে গালিব ওষুধ খাইয়ে দিলো।
তূবা উঠে দারাতে চাইলে তূবা কে বলে কোথায় যাবে আমাকে বলো?

তূবা চুপ থাকে,গালিব আবার বলে বলতে বলেছি না।
তূবা আসতে করে বলে আমি ওয়াশরুমে যাবো। গালিব তূবাকে কলে তূলে নেয়,

তূবা: আপনি তো বলেছিলেন আপনি আমাকে টার্চ করবেন না তাহলে কোলে নিলেন যে।

গালিব : শুনো বউ এখন তুমি অসুস্থ তাই এখন কোনো রুলস মানতে পারবো না। আর আমি তো তোমার সাথে বাসর সারছিনা এত ভয় পাচ্ছো কেনো।

গালিব তূবাকে ওয়াশরুমে নামিয়ে দিয়ে আসলো, আর বললো আমাকে ডাক দিবে আগ বাড়িরে একা আসতে যাবে না।আমি বাইরে দারিয়ে আছি-

তূবা কিছুক্ষণ পরে বাইরে আসলো, দরজা খুলতেই চমকে উঠে গালিব ঠায় দারিয়ে আছে।

গালিব: তোমাকে বলেছিলাম না ডাক দিতে কথা শুনো না কেনো।

তূবা: আমি ঠিক আছি, এতটুকু আঘাত পেয়েছি সেটাকে আপনি তাল বানিয়ে দিচ্ছেন কিন্তু।

গালিব: মেয়েদের সব গুলো স্কুরু মনে হয় ঢিলা, কথা কম বুঝে। তোমাকে একটা পিপড়া কামড়ালে আমি পিপড়ার জান নিয়ে নিবো।

তূবা: এটা কি একটু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে না, বাংলা সিনেমার নায়ক হয়ে গেলেন।

গালিব তূবাকে কোলে নিয়ে,

গালিব: সুইটহার্ট আমি চাই তুমি শুধু আমার জন্য কান্না করবে, কার কার জন্য নয়।

তূবা: আপনি আমাকে কান্না করাবেন কেনো?

গালিব: সেটা সময় হলে বুজতে পারবা কেনো কান্না করাবো মাই লিটিল বার্ড।

গালিব তূবাকে শুয়ে দিলো, বললো তুমি রেস্ট করো আমি দুপুরে জন্য কিছু রান্না করি।

তূবা: আমি ঘরে একা থাকবো না আমার ভালো লাগবে না।

সেই সময় অনি আসে –

অনি : ভিতরে আসতে পারি?

গালিব: চলে আয়, গালিব তূবাকে বললো এখন তো আর থাকতে ওসুবিধা হবে না তাই না লিটিল বার্ড! তোমারা দুইজন গল্প করো আমি একটু বাইরে যাবো।

গালিব চলে গেলো, অনি এসে তূবার পাশে বলে কিরে স্বামীর সেবা করতে যেয়ে এখন নিজেই স্বামীর কাছ থেকে সেবা নিচ্ছো। তূবা অনির এই কথা লজ্জা পেয়ে যায়।

তূবা: তূমি এই সময় কলেজে না যেয়ে এখানে কেনো?

অনি: কলেজে যাচ্ছিলাম হঠাৎ ভাইয়া ফোন করে বলো তোর এই অবস্থা, এখানে আসতে বললো তাই চলে আসলাম।

তূবা: ( লোকটা আমার জন্য এত ভাবে) আর আমি কিনা সব সময় বাচ্চামি করি

গালিব বের হওয়ার আগে অনিকে ডেকে বললো ভিতর থেকে দরজা লক করে দিতে। অনি নিচে এসে দরজা লক করে আবার উপরে চলে গেলো, তূবা আর অনি গল্প করছে।

তূবা: আমার ভাবি কবে হবে, আমি তো তোমার ভাবি হয়ে গেলাম আগে।

অনি: তোমার ভাইয়া আমাকে লাইক করর না আমি নাকি পাপাকি পারি, বাপের টাকা ফুটানি করি। আমার মনে হয় তোমার ভাইয়া অন্য কাউকে লাইক করে।

তূবা: ভাইয়া সেরকম ছেলে না, ভাইয়া ছোট থেকে লেখা পড়া আর ফ্যামিলি কে সময় দিয়েছে সব সময়। ভাইয়ার মন প্রান জুরে শুধু বই আর বই। জানোতো ভাইয়া প্রথম বার পরিক্ষা দিয়ে বিসিএস ক্যাডার হয়েছে যেখানে অনেকের ২ / ৩ বার লেগে যায়। ভাইয়া অনেক ভালো ভালো চাকরির অফার পেয়েছিলো কিন্তু ভাইয়া সেগুলো না করে আর্মিতে জয়েন্ট দেয় কেনো সেটা আমি জানতাম না। পরে আম্মুর কাছ থেকে শুনেছিলাম আব্বুর অনেক শখ ছিলো আর্মিতে জব করার কিন্তু আমার নানু বাড়ি থেকে আম্মুকে তারাতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিলো তাই আব্বু আম্মুকে নিয়ে পালিয়ে আসে ঢাকাতে, তাই আব্বুর আর জব করা হয় নি। ভাইয়া তাই আব্বুর ইচ্ছে পূরন করার জন্য আর্মিতে জব নিয়েছে।

আমি ভাইয়া বলেছিলাম তারপরে ভাইয়া তুমি অন্য জায়গায় জব করলে তো অনেক গুলো বেতন পেতে আর্মিতে তো অনেক কমটাকা বেতন দিবে তোমাকে।

সেদিন ভাইয়া বলেছিলো, আমি কোটি কোটি টাকা দিয়েও আব্বুর মুখে সেই হাসিটা এনে দিতে পারতাম না যেটা আমি আর্মিতে জব করে এনে দিয়েছি।

আর আব্বুতো মোটামুটি বিজনেস করে ভালো ইনকাম করেছে এগুলো দিয়ে আমারা তিন ভাই বোন সারাজীবন বসে খেলেও শেষ হবে না।

অনির চোখ বেয়ে দুইফোটা চোখে জল বেরিয়ে এলো,

তূবা: এই অনি কাদছো কেনো তুমি?

অনি: তোমরা অনেক লাকি রে, এত সুন্দর পরিবার একটা উপহার পেয়েছো। আর আমাদের কপাল কতটা খারাপ জন্মের পরে মাকে হারিয়েছি আব্বুর ও আদর ঠিক মত পাইনি, আব্বু আরেকটা বিয়ে করলো মামুনি অনেক ভালোবাসতো কিন্তু আব্বু তেমন সময় দিতো না তাই তো ভাইয়া এরোকম হয়ে গেছে। আমি খুব করে চাই জানোতো আর ১০ টা পরিবারে মত করে আমাদের পরিবার এক সাথে সবাই থাকতাম কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। ভাইয়া কোনো কিছুতেই ঐ বাড়ির কথা শুনিতে চায় না।

তূবা: খুব শীগ্রই তোমার মনের ইচ্ছা পূরণ হবে, কান্না করোনা।

কলিংবেল বেজে উঠলো, অনি বললো তুমি বসো আমি দেখি কে এসেছে। অনি নিচে গিয়ে দরজা খুলে দিয়ে দেখলো জিসান এসেছে, অনি উপরে উঠে গেলে জিসান সরি বলে।অনি পিছনে ঘুরে বলে কিসের জন্য?

জিসান: সেদিন তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি সেই জন্য সরি। আমার ঐভাবে বলা উচিত হয় নি।

অনি: ইটস অকে ভাইয়া সমস্যা নেই। আপনি বড় ভাই হন ছোট বোনকে শাষন করতেই পারে৷

জিসানের বুকটা চ্যাত করে উঠলো ভাইয়া ডাক শুনে, এই প্রথন অনি জিসানকে ভাইয়া ডেকেছে।

জিসান: আমার মনে হয়েছে তাই বললাম, আর আমি কালকে চলে যাবো তাই আর দেখা নাও হতে পারে। ভাইয়াকে আসলে বলো এই বক্সে তূবার জিনিস গুলো আছে।

জিসান চলে যাচ্ছিলো-

অনি: উপরে আসুন তূবা পায়ে আঘাত পেয়েছে দেখে যান,

জিসান: কি হয়েছে তূবার।

বলে দ্রুত তূবার রুমের দিকে হাটা দিলো,

জিসান: তূবা কি হয়েছে তোর দেখি দেখি।

তূবা : কিছু না ভাইয়া একটু গরম কফি পরে গেছিলো পায়ে। তুমি হঠাৎ এখানে কেনো?

জিসান: ভাইয়ার সাথে দেখে করতে এসেছিলাম একটু।

তূবা: উনি তো একটু বেরিয়েছে তুমি বসো এসে পরবেন উনি।

গালিব বাজার থেকে গিয়ে বাজার নিয়ে আসলো । বাড়িতে এসে আগে একবার তূবাকে দেখতে গেলো উপরে, তূবা অনি গল্প করছে জিসান বসে আছে। জিসান গালিব কে সালাম দিলো,

জিসান: ভাইয়া আপনি যে গুলো….

গালিব চোখের ইশারা দিলো, জিসান চুপ হয়ে গেলো।

গালিব: তোমারা বসো আজ লাঞ্চ আমরা সবাই এক সাথে করবো।

জিসান: না ভাইয়া আমি কালকে চলে যাবো তাই ব্যাগ প্যাক করতে হবে। অন্য সময় খাবো না হলে।

গালিব: বাড়ি যেয়ে সেরে নিও অনেক সময় আছে।

জিসান আর কিছু বললো না চুপ করে বসে থাকলো।

গালিব নিচে চলে আসলো এসে ফোন দিলো-

গালিব: আসালামু আলাইকুম আম্মু।

মিসেস ফাতেমা : ওয়ালাইকুম সালাম বাবা কেমন আছো।

গালিব: জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো, আম্মু আজ থেকে টিচিং ক্লাস শুরু করি তাহলে!

মিসেস ফাতেমা : আচ্ছা বাবা সমস্যা নেই, কি কি রান্না করবে আজ?

গালিব: গালিব কি কি রান্না করবে সব কিছু বললো,

মিসেস ফাতেমা : বাবা তূমি এতো কিছু একা কিভাবে রান্না করবা তূবা আছে তোমার পাশে, অকে ফোনটা দাও।

গালিব: আম্মু ওতো একটু সিক হয়ে পরেছে, গরম কফি পায়ে পরে গেছিলো তাই ডাক্তার অকে রেস্ট করতে বলেছে।
আপনি আমাকে বলুন আমি সব করতে পারবো আর এখন কেবল ১১ টা বাজে দুপুর হতে হয়ে আমার সব রান্না হয়ে যাবে।

মিসেস ফাতেমা এক এক করে সব রান্না শিখিয়ে দিচ্ছে, গালিব সেই ভাবে রান্না করছে। জিসান এর বোরিং লাগছিলো তাই সে নিচে এসে গালিবের কাছে গেলো,

গালিব: কি ব্যাপার চলে এলে যে

জিসান: দুই মেয়ের মধ্যে আমি একা বসে থেকে কি করবো, তাই চলে আসলাম। আপনার কিছু হেল্প লাগবে আমি করে দিবো।

গালিব: না না লাগবে না আমার রান্না মোটামুটি শেষ, এখন পরিবেশ করার পালা।

জিসান: দিন আমি হেল্প করি আপনাকে,

দুইজন মিলে টেবিলে এক এক করে সব রান্না করা খাবার সাজালো, তার পরে দুইজন উপরে গেলো। কাবাট থেকে কাপর নিয়ে চলে গেলো ফ্রেশ হতে।

গালিব গোসল শেষ করে এসে অনি, তূবা আর জিসান কে বললো নিচে চল খুব খিদে পেয়েছে।

অনি, তূবা জিসান সবাই দারালো যাওয়ার জন্য হঠাৎ গালিব তূবাকে কোলে তূলে নিলো, তূবা ভাইয়ের সামনে এমন কান্ডে লজ্জায় লাল হয়ে গেলো।

অনি: ও এম জি, কি রোমান্টি সিন।

জিসান চোখ নিচে করে সামনে চলে গেলো।অনি পিছন পিছন গেলো।

তূবা: আপনি এমন কেনো?

গালিব: আমি কেমন!

তূবা: ভাইয়ার সমনে এভাবে কোলে তুলে নিলেন কেনো?

গালিব: তোমার পায়ে ব্যাথা তাই। এখন কথা বলো না চুপ চাপ চলো।

গালিব নিচে এসে তূবাকে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে পাশের চেয়ারে নিজে বসলো। তূবা খাবেরে আইটেম দেখে অবাক এত কিছু গালিব একা রান্না করেছে, উনি নাকি বাঙালী খাবার রান্না করতে জানে না তাহলে,

তূবা: ওয়াও পোলাও, গরুর মাংস, আলু ভাজি, সবজি, সালাদ এত কিছু আপনি একা করেছেন?

গালিব: জ্বি বিবি জান আমি একা রান্না করেছি।

অনি: আমার পছন্দের গরুর কালা ভুনা, Tnx ভাইয়া।

তূবা: ঠোঁট উল্টে মনে মনে ( আম্মু হলে মুরগি, আর চিংড়ি রান্না করতে ভুলতো না, থাক উনি যে কষ্ট করে এত কিছু রান্না করেছে তাই অনেক)

গালিব: বিবি জান আপনি কি কিছু বলছেন?

তূবা: না কিছু বলিনি।

গালিব কিচেন থেকে দুইটা বাটি নিয়ে এসে তূবার সামনে রাখলো। তূবা বাটি দুটো দেখে চোখ বড় বড় করে ফেললো। গালিব সব কিছু একটু একটু করে প্লেটে তুলে নিলো, নিয়ে তূবাকে খাইয়ে দিচ্ছে, তূবা কিছু না বলে খেতে শুরু করলো।

তূবা: রান্নাটা কিছুটা আম্মুর মত ফ্রেবার পাচ্ছি।

গালিব: হুম কারণ শাশুড়ী আম্মুর কাছে রান্নাটা শিখেছি।

তূবা: রান্না বেশ মজা হয়েছে এর জন্য আপনাকে গিফট দেয়া হবে আপনার কি চাই বলুন।

গালিব: এখন খেয়ে নাও পরে রুমে গিয়ে বলবো।

তূবা বিশম খেলো, গালিব পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো তূবার দিকে।

অনি আর জিসান ও গালিবে রান্নার প্রশংসা করলো। খাওয়া শেষ করে জিসান বিদায় নিয়ে চলে গেলো, গালিব অনিকে তূবার সাথে থাকতে বলে জিসানকে এগিয়ে দিতে গেলো,

জিসান: ধন্যবাদ ভাইয়া, আমার বোনকে এত ভালোবাসা দেয়ার জন্য। আমার বোন খুব ভাগ্যবান যে আপনার মত লাইফ পাটনার পেয়েছে।

গালিব: তোমরা সবাই এভাবে আমার পাশে থেকো সব সময়।

জিসান গালিবের কাছে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। গালিব ভিতরে এসে, রুমে গেলো তিন জন সারা বিকেল গেমস খেলে মজা করে সময় পার করলো। তূবা কিছুক্ষণ এর জন্য ভুলেই গেছিলো গালিব যে তার ৯ বছরের বড় একদম বাচ্চা হয়ে গেছিলো, সন্ধার আগে আগে অনি বাড়ি চলে গেলো।

গালিব রাতের খাবার বানিয়ে উপরে নিয়ে গেলো, দুই জন খেয়ে নিলো। তূবাকে শুয়ে দিলো গালিব ঘুমানোর জন্য

তূবা : আপনি ঘুমাবেন না?

গালিব: না তুমি ঘুমিয়ে যাও, লিটিল বার্ড তুমি যে আমাকে পরে বলেছিলে যা চাইবো তাই দিবে। এখন কি আমি সেটা চাইতে পারি?

তূবা একটু ভয়ে ভয়ে-
তূবা: কি চান বলন……

গালিব: আমাকে একটু ভালোবাসতে পারবে…..সামান্য পরিমান ভালোবাসলেই হবে।

তূবা……….

গালিব: এখনি বলছি না আসতে আসতে সময় নাও।

গালিব চলে গেলো পাশের রুমে ঘুমাতে, তূবার চোখে ঘুম নেই। লোকটা কি বলে গেলো আমার ভালোবাসা পাবার জন্য লোকটা এমন ব্যাকুল হয়ে আছে আর আমি কি না…….
এই সব ভাবতে ভাবতে তূবা ঘুমিয়ে পরলো

চলবে………….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here