#গল্প_তোর_কারণে_ফিরে_আসা
#পর্ব_৩
#লেখিকা_ছায়ালিপি
স্কুলের সামনে দারিয়ে আছে তূবা’ গালিব এসে তাকে বাইকে করে নিয়ে যেতে শুরু করলো ১ ঘন্টা পরে তারা একটা বাংলোবাড়িতে আসলো। এটা গালিবদের একটা বাংলোবাড়ি’ এখানে কেউ আসে না শুধু দুই জন কেয়ারটেকার থাকে। তারাই দেখাশুনা করে,
তূবা চারদিকে একটু দেখে নিলো খুব সুন্দর পরিবেশ, শহরের কলাহল মুক্ত!!
গালিব তাকে হাত ধরে টেনে ভিতরে নিয়ে গেলো,তূবা খুশি মনে তার সাথে চলে গেলো। একটা রুমে গিয়ে থেকে গেলো গালিব, তূবাকে বললো এখানে বসতে’ তূবা ৫ মিনিট বসে থাকার করে গালিব আসলো। তারপরে কথা বলতে শুরু করলো,
গালিব: আচ্ছা লিটিল বার্ড, তুমি যে আমাকে বিয়ে করতে চাইছো তুমি জানো বিয়ের পরে স্বামী স্ত্রীর কি কি করে।
তূবা: হ্যাঁ জানি!
গালিব: সর্বনাশ ‘ এই মেয়ে বলে কি” আচ্ছা বলো তো কি কি করে।
তূবা: একসাথে ঘুমায়, গল্প করে, খাওয়া করে, কাটুন দেখে, ঘুরতে যায়, শপিং এ যায়। এগুলো করে”
গালিব একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে বলোলো আরো অনেক কিছুই করে আর যেগুলো আজ তোমাকে প্রাক্টিকালি দেখাবো-
গালিব: আজ স্বামী স্ত্রীর মাঝে সব থেকে ভালো যে সম্পর্ক টা হয় সেটাই দেখবো।
এই বলে গালিব তূবার কাছে যায়, তূবা তখন বলে ভাইয়া আপনি আমার কাছে কেনো আসছে। এবার তূবার হাত গুলো ধরে বেডলি ভাবে টার্চ করে গালিব’ তূবা ভয় পেয়ে যায় আর গালিবের চোখ গুলো লাল হয়ে যাওয়াতে তূবা আরো ভয় পেয়ে উঠে দৌড় দেয় দরজার দিকে। কিন্তু দরজা লাগা থাকার কারণে আটকে যায়’ গালিব বলে ভয় পাচ্ছো কেনো বিয়ের পরে তবে এই সব আমরা প্রতিদিন করবো-
গালিব তূবার খুব কাছে চলে যায় আর এক হাত দিয়ে তূবার হাত দুটো ধরে পিছনে আর এ হাত দিতে গাল পেয়ে ধিরে গালিব তার মাথাটা তূবার আরো কাছে নিয়ে আসে।
তূবা এবার খুব জ্বরে কান্না করে দেয়, গালিব ছেরে দেয় আর বলে এতুটুকুতেই ভয় পেয়ে গেলে লিটিল বার্ড এখোনও তো কিছুই করিনি। তুমি নাকি বিয়ে করবে আমাকে আমার জন্য সব কিছু বাদ দিয়ে দিছো। তো চলো বিয়ে করে নেই, আজই আমরা বিয়ে করবো চলো, আর আমরা এখানেই থাকবো দুজন।
তূবা কান্না করতে করতে বলে না আমি আপনাকে নিয়ে করবো না। আপনি খুব পচা, আপনি আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছেন। আপনি অনেক খারাপ, আমি আর কোনো দিন আপনার সাথে কথা বলবো না।আমি বাড়ি যাবো আমাকে বাড়িতে দিয়ে আসেন। আমি আপনাকে ঘৃণা করি। আপনি অনেক খারাপ, আমি আর এ জীবনে আপন মুখ কোনো দিন দেখতে চাইনা। যদি লজ্জা থাকে আপনি আর আমার সামনে আসবেন না।
গালিব বলে বারে আমি আবার কি করলাম বিয়ে তো তুমি করতে চাইলে। তুমি যেটা চিন্তা করেছো আমি তার থেকেও বেশি খারাপ, যেটা তুমি ধারণা করতে পারবে না- এই বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
বাইরে এসে কেয়ারটেকার কে বলে ড্রাইভার কে ডাক দিতে’ গালিব ফোন বের করে কাউকে ফোন দিয়ে বলে কফিশোপ এ দেখা করতে।
ড্রাইভার এসে তূবাকে বলে মামনি চলো তোমাকে বাড়িতে সিয়ে আসতে বলছে স্যার। তূবা কিছু না বলে তারাতাড়ি করে গাড়িতে উঠে যা। গালিব সেটা দেখে মৃদু হেসে বাইক নিয়ে পিছু পিছু যেতে থাকে। তূবা বাড়িতে আসলে তার মা তাকে জিজ্ঞেস করে কিরে আজ এত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলি যে। তূবা কিছু না বলে তার রুমে চলে যায়।
———————- ———————-
———————- ———————-
গালিব আর নিলা পাশাপাশি বসে আছে, গালিব সব কথা খুলে বলে নিলাকে আজকের কথা + সেদিনের বিয়ের কথাও। নিলা সব শুনে হত ভম্ভ হয়ে যায়। গালিব বলে অকে আর কিছু বলবি না, আমি যেভাবে বুঝিয়েছি আর মনে হয় না এই ভূত আর ওর ঘারে থাকবে।
দোস্ত এভাবে না বুঝিয়ে অন্য ভাবেও বুঝাতে পারতি, তূবা তো এখন তোকে ভুল বুঝবে। সেটা ব্যাপার না, কিছু দিন পরে ও এমনই আমাকে ভূলে যাবে’ আর আমি তো সামনের মাসে জাপান চলে যাচ্ছি। তাই ওর সাথে দেখাও হবে না, ও সব কিছু ভুলে দেখবি ভালো ভালোভাবে লেখা পড়া করবে।
———————- ———————- ———————- ———————-
❤️❤️❤️❤️
❤️❤️❤️
❤️❤️
❤️
তূবা বাসায় আসার পর থেকে রুমে ডুকে খুব কান্না করছে,গালিবের প্রতি খুব ঘৃনা জন্মেছে। আর কোনো দিন সে তার মুখ দেখতেও চায় না’!!
নিলা বাসায় এসে তূবার রুমে যায়, নিলাকে দেখে তূবা কান্না করে দেয়। নিলা দৌড়ে তূবার কাছে যায়-
নিলা: কি হয়েছে তোর এভাবে কান্না করছিস কেনো? মা কি তোকে বকেছে? স্কুলে কিছু হয়েছে বল আমাকে বোন আমার কি হয়েছে!!
তূবা কিছু একটা চিন্তা করে চুপ হয়ে যায়’ আর বলে তোর কথা মনে করেই কাদছিরে আপু” তুই বিয়ে করে শশুর বাড়িতে চলে গেলে আমার অনেক কষ্ট হবে তাই।
নিলা : অরে আমার পাগলি বোন রে, আমি কি এত তারাতাড়ি তোকে ছেরে যাবো নাকি। আগে লেখা পড়া করবো জব করবো তারপরে না বিয়ের কথা চিন্তা করবো।
জিসান: কি বেপার তোমরা দুইবোন তো ভুলেই গেছো যে তোমাদের একটা ভাই আছে। মাঝে মাঝে আমাকে মনে করেও একটু কান্না করিও কেউ।
তূবা: তোর জন্য কান্না করার জন্য তোর বউ আছে আমরা কেনো কান্না করতে যাবো রে। আর এমনিতেই তুই সব সময় আব্বু আম্মুর ভালো ছেলে, তোর জন্য সবার কত দরদ আমরা দুই বোন না হলে বাদ দিলাম তোর চ্যাপ্টার টা।
জিসান: ভাবলাম তিনটা আইস্ক্রিম কিভাবে খাবো তাই তোদের কাছে নিয়ে আসলাম। এখন তো দেখছি একা খেতে হবে।
নিলা: তুই তো আমার সোনা ভাই আমি কি তোকে কিছু বলেছি, তুই আমাদের একটা মাত্র ভাই তোর জন্য তো কান্না করবো তাই না।
তূবা : হইছে আমি খাবো না তেল ও মারবো না। ( তূবার মন খারাপ তাই আর এই সব কিছু ভালো লাগছে না)
জিসান ঠিক বুঝে গেছিলো তূবার মন খারাপ তাই তো সে আইসক্রিম নিয়ে এসেছিলো তূবার মন ভালো করার জন্য কিন্তু তবুও তার মন ভালো হলো না। এবার জিসান নিলার পাশে তাকালো নিলা তখন জিসান এর হাত থেকে দুইটা আইসক্রিম নিয়ে নেয়। তূবা কে দিলো একটা’ তূবা হাসি মুখে আইসক্রিম টা নিয়ে খাওয়া শুরু করলো।
এভাবে কিছুক্ষণ খুনশুটি করে যে যার রুমে চলে গেলো। তূবা আবার কান্না শুরু করে দিয়েছে, তার কেনো কান্না পাচ্ছে সে নিজেও জানে না। এভাবে কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পরে।
সন্ধ্যায় তার আম্মু এসে ডাক দেয়- কিরে মা কি হয়েছে তোর খাবি না। বিকেল গরিয়ে রাত হয়ে গেলো, আম্মু ভালোলাগছে না কিছু।
মিসেস ফাতেমা: কি হয়েছে মা আমাকে বল, তোর কি কিছু হয়েছে?
তূবা: আম্মু ভালো মানুষ কিভাবে চিনা যায়?
মেয়ের এমন আজব কথায় মিসেস ফাতেমা কিছুটা অবাক হয়’ তার পরে বলে কিছু হয়েছে মা বলো আমাকে।তূবা চুপ করে থাকে-
মিসেস ফাতেমা : তুমি যখন বড় হবে তখন তুমি নিজেই কে ভালো কে খারাপ চিনতে পারবে’ তাই ঠিক মত লেখা পড়া করে আগে নিজে ভালো মানুষ হতে হবে।
( আমি প্রমিস করছি আম্মু আমি অনেক লেখা পড়া করবো কিন্তু ভালোমানুষ হতে পারবো কি না সেটা জানি না)
কি রে কি ভাবছিস?
কিছুনা আম্মু চলো চলো খিদে পেয়েছে খুব’ জলদি খেতে দাও।
———————- ———————-
———————- ———————-
সেদিন এর পর থেকে আর কোনো দিন তূবা গালিব কে মনে করেনি। সে তার লাইফটা গুছিয়ে নিচ্ছে, সবাই সবার মত আছে। গালিব ও প্যাকিং শুরু করে দিয়েছে সামনের সপ্তাহে তাই ফ্লাইট, চলে যাচ্ছে সে জাপানে। আর কখন আসবে না এই দেশে। তার যে তার বাবার প্রতি এক আকাশ পরিমাণ ঘৃণা। কিন্তু মিস করবে তার বোন অনিকে ( মাস্তারা খান অনি)
। গালিব তার নামের পাশে খান লাগান না। সবাই তাকে গালিব নামে চিনে। কিন্তু তার পূরো নাম (আবরার খান গালিব) তার বাবা রেখেছে এই নাম তাই তো সে এই নাম ব্যবহার করে না।
কিন্তু তার সব জায়গায় আবরার খান বেশি দেয়া। যাওয়ার আগে তার বন্ধু দের সাথে দেখা করতে গেছে। গালিব যে এক বারি জাপান চলে যাচ্ছে এটা কেউ জানে না। তার বেস্ট ফ্রেন্ড নিলয় ছাড়া। নিলয় অনেক কান্না করেছে গালিবের এই কথা শুনে। কিন্তু কিছুই করার নাই’ নিলয় বলেছিলো সে তার সাথে যাবে কিন্তু গালিন নিষেধ করে দেয়। বলে তুই চলে গেলে তোর নিলার বিয়ে দিয়ে দিবে তোর শশুর তখন কি করবি। তুই এখানে থাক আর আমার বোনটাকে দেখে রাখিস।
———————- ———————-
আজ গালিব চলে যাচ্ছে’ নিলারা সবাই দুপুরে এক সাথে খাবার খাচ্ছে, নিলা সবার উদ্দেশ্য করে বলে আমি আজ বিকেলে বাইরে যাবো ফিরতে লেট হবে।
ফিরোজ আহমেদ : কেনো রে মা, কোথায় যাবি?
নিলা: গালিব চলে যাচ্ছে বাবা জাপানে। আমরা বন্ধুরা সবাই এয়ারপোর্টে যাবো তাই আসতে লেট হবে।
মিসেস ফাতেমা : সে কি রে তুই আজ বলছিস এই কথা, আগে বললে একদিন বাড়িতে দাওয়াত করতাম।
তূবা মনে মনে বলে মনস্টার টা চলে যাচ্ছে। যাক ভালোই হয়েছে,এমন মানুষ দেশে থাক যোগ্য না।
বিকেলে সবাই এয়ারপোর্টে যায়, সবাই অনেক কান্না করেছে গালিব কান্না করেনি সে যেনো বুকে পাথর দিয়েছে । সন্ধ্যায় প্লেন ছারবে, সবার সাথে কথা বলে বিদাই নিয়ে গালিব চলে যায় সবাই তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে কান্না করছে। গালিব একটি বার ও ফিরে চায় নি। হয়তো বা চোখের পানি লুকাচ্ছে।
চলবে……….

