#গল্প_তোর_কারণে_ফিরে_আসা
#লেখিকা_ছায়ালিপি
#পর্ব_৬
তূবা চোখ খুলে দেখে অনি তার পাশে বসে আছে, তূবা তারাতাড়ি করে উঠে বলে এই লোকটা তোমার ভাই-
অনি: হ্যাঁ রে, আর তোমাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দিবো আমি বলে বুঝাতে পারবো না। তুমি আমাকে আমার বেস্ট গিফট দিয়েছো।
তূবা: তুমি কিভাবে জানলা?
অনি: ভাইয়া আমাকে সব কিছু বলেছে। আমার জন্মদিন এর জন্য তুমি ভাইয়াকে অনেক রিকুয়েষ্ট করে দেশে নিয়ে এসেছো।
তূবা: ( যাক বাবা বাচা গেলো) সত্যি কথা বলে নি। আচ্ছা তোমার ভাই কি আবার চলে গেছে তাহলে জাপানে?
অনি: পরে গিয়ে মাথাটা গেছে তোমার, ভাইয়া কে আর আমি কোথাও যেতে দেবো না।
তূবা: হুম, তোমার যা মন চায়। এখন আমাকে বাড়ি যেতে হবে আর থাকতে পারবো না।( না জানি ঐ মনস্টার টা আবার কখন চলে আসে।)
অনি: আচ্ছা চলো আমি তোমাকে বাড়ি দিয়ে আসি।
তূবা: না বইন থাক, আমি একা যেতে পারবো। তুমি তোমার ভাইকে নিয়ে খুশি থাকো।
অনি: কি রে হঠাৎ কি হলো তোমার?
তূবা: কই কিছু না,
তূবা আর কিছু না বলে তারাতাড়ি হেটে বাইরে বের হয়ে একটা রিকশা নিয়ে বাড়ি চলে গেলো, অনি ভাবছে হঠাৎ কি হলো এই মেয়ের এমন ব্যবহার কেনো করছে।
গালিব আর নিলয় গেলো নিলার সাথে দেখা করতে, নিলা তো অনেক খুশি, সবাই সবাইকে ৭ বছর পরে দেখছে। এখন আর কেউ ছোট নেই বড় হয়ে গেছে। তবে গালিব একটু বেশি বড় হয়ে গেছে। ৬ ফুট ২ লম্বা গায়ের রঙ আরো সাদা হয়ে গেছে। দেখলেই বিদেশি বিদেশি লাগছে।
নিলা: মাসায়াল্লাহ দোস্ত তুই অনেক সুন্দর হয়ে গেছিস, ফোনে তো ঠিক ভাবে বুঝাই যেতো না তোর সৌন্দর্য।
নিলয়: হুম এখন একটা দেশি মেয়ে দেখে বিয়ে দিতে পারলেই হয়।
গালিব: আমার বউ দেখ বাসর রাতে আমাকে দেখে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে না যায়। তার থেকে ভালো চিরোকুমার থেকে যাই।
নিলা: তুই বাঘ না ভাল্লুক যে তোর বউ তোকে ভয় পাবে।
তূবা বাড়িতে এসে মনে মনে ঠিক করলো সে কয়দিন কলেজ যাবে না।ফোন ও অফ করে রাখবে। ফোন অফ করতে যাবে সেই সময় মেসেজ আসলো-
লিটিল বার্ড সারপ্রাইজ টা কেমন লাগলো, আমার বোনকে তুমি সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পরে গেলে।
তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো, কোথায় দেখা করবে বলো?
তূবা রিপ্লাই দিলো-
আপনার সাথে আমার আর দেখা করার ইচ্ছা / প্রয়োজন কোনোটাই নেই।
মেসেজ সেন্ড করে গালিবের আইডি ব্লক করে ফোন অফ করে দিলো,
এবার তূবা নিশ্চিত হয়ে ঘুমাবে।
———————- ———————-
গালিব মেসেজ দেখে রিপ্লাই দিতে যাবে কিন্তু মেসেজ যাচ্ছে না। গালিব বলে লিটিল বার্ড তুমি যতই চেষ্টা করো আমার কাছ থেকে আর ছার পাবে না।
গালিব তার বাড়িতে না উঠে নিলয় এর বাসায় এসেছে, কারণ গালিব আগে যে বাসায় থাকতো সেটা বিক্রি করে দিয়েছিলো। এখন নতুন করে আবার বাড়ি কিনতে সময় লাগবে তাই আপাতত নিলয়ের বাসায় থাকবে। অনি ফোন করে জিগ্যেস করলো –
অনি : – ভাইয়া কোথায় তুমি?
গালিব: আমি নিলয়ের বাসায় উঠেছি।
তূবা: তুমি বাড়ি আসবে না?
গালিব: না, কালকে দেখা হবে। আমি ঘুমাবো অনেক টায়াড আমি।
অনি: অকে ভাইয়া! গুড নাইট।
—————————————————-
—————————————————-
তূবা ভাবছে কি করে ফেললো সে, ৭ বছর ধরে যাকে না দেখার জন্য সব সময় দোয়া করতো, আজ কি না সে নিজেই তাকে নিয়ে এসেছি। কি হবে আবার প্রমিস করেছি যা চাইবে তাই দিবো, এখন যদি ঐ অসভ্য লোকটা অন্য কিছু চায়। এমনি তো কেরেক্টার খারাপ মনস্টার টার, আমি আর বাইরেই বের হব না। দেখাও হবে না আর কোনো প্রবলেম ও হবে না।
তূবা ঘুমিয়ে পরলো। সকাল নয়টা বাজে এখনো উঠছে না দেখে নিলা তূবার রুমে গেলো,
নিলা- বোন এই বোন এখনো ঘুমাচ্ছিস যে কলেজ যাবি না।
তূবা: না আপু শরীর খারাপ করছে। ভালো লাগছে না তুমি বসে থাকো না আমার সাথে।
নিলা: একটা কথা জানিস কি তুই,গালিব দেশে এসেছে।
তূবা: হুম জানি। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড এর ভাই হয় সেই মহান ব্যক্তি।
( খাল কেটে কুমির তো আমি নিজেই নিয়ে এসেছি। আর আমি জানবো না)
নিলা: তোর বেস্ট ফ্রেন্ড অনি গালিব এর বোন। আর আমি এত দিন জানতামি না।
তূবা: আমি নিজেও কালকে জেনেছি।
নিলা: আচ্ছা তুই রেস্ট কর আমি অফিসে যাই।
তূবা:আচ্ছা আপু।
—————————————————-
গালিব সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলো, নিলয় অফিসে যাচ্ছে।
গালিব: তুই তো অফিসে চলে যাচ্ছিস এখন আমি কি করবো একা একা।
নিলয়: দোস্ত কিছু করার নেই, আমি অফিস থেকে তারাতাড়ি চলে আসবো।
গালিবের ফোন বেজে উঠে, ফোন হাতে নিয়ে দেখে অনি ফোন করেছে-
অনি: ভাইয়া বের হও, আজ তোমার সাথে ঘুরতে যাবো।
গালিব: তোর কলেজ নেই।
অনি: তুমি বের হও তো। আমি নিচে দারিয়ে আছি।
গালিব ফোন কেটে দিয়ে নিচে গেলো, দেখলো অনি গারি নিয়ে নিচে দারিয়ে আছে। গালিব একটা রিকশা ডাক দিলো।
গালিব: কোথায় যাবি বল মামাকে।
অনি: গাড়ি থাকতে রিকশা কেনো ভাইয়া।
গালিব: তোর বাবার গাড়িতে উঠার ইচ্ছা নেই আমার।
রিকশা ওয়ালা: মামা যাবেন নাকি চইলা যামু।
অনি: আচ্ছা ভাইয়া রিকশায় উঠো, আজ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি।
গালিব আর অনি দুইজনই রিকশায় উঠলো-
গালিব: ক্লাস বাদ দিয়ে হঠাৎ ঘুরতে বের হওয়ার কারণ কি?
অনি: তূবা আসেনি আজ তাই ভালো লাগছে না। কলেজ এর প্রথম দিন থেকে কোনো দিন আমরা দুইজন ক্লাস মিস করিনি কিন্তু আজ ও আসলো না আবার ফোনও ওফ তাই ভালোলাগছে না।
গালিব বুঝতে পারছে তূবা এই সব করার কারণ, তাই সে মিটি মিটি আসছে।
অনি: ভাইয়া কাল কে তূমি তূবা কে লিটিল বার্ড বলে ডাকছিলে কেনো? আর তোমাকে দেখেই বা কেনো ও অজ্ঞান হয়ে গেলো।
গালিব: সেটা আমি কিভাবে জানবো। হয়তো বা আমার মত সুন্দর ছেলে আগে দেখেনি তাই এমনটা হয়েছে।
অনি: তুমি সুন্দর আছো ঠিক আছে। কিন্তু তূবার ছেলেদের প্রতি ইন্টারেস্ট নেই।
গালিব: ছেলেদের প্রতি ইন্টারেস্ট নেই মানে কি????
অনি: আরে আমি সেটা বলিনি। ও ছেলেদের দুই চোখে দেখতে পারে না। পৃথিবীতে ওর বাবা ভাই আর ওর জিজু ছাড়া আর নাকি কেউ ভালো না।
গালিব: ( মেয়েটা আমার জন্য পুরু পুরুষ জাতিকে অবিশ্বাস করে সেদিন কি আমি বেশি বেশি করে ফেলেছি)
অনি: ভাইয়া কি ভাবছো?
গালিব: কিছু না, তোর কাছে তোর বান্ধবীর ফ্যামিলির কারো নাম্বার নেই?
অনি : আছে তূবার মায়ের,
গালিব : তাহলে ফোন কর।
—————————————————-
অনি: আসালামু আলাইকুম আন্টি,আমি তূবার বান্ধবী অনি বলছি।
মিসেস ফাতেমা : ওয়ালাইকুম সালাম, হ্যাঁ মা বলো কেমন আছো?
অনি: আলহামদুলিল্লাহ আন্টি ভালো আছি। আন্টি অনি কে একটু ফোনটা দিবেন, অকে ফোনে পাচ্ছি না।
মিসেস ফাতেমা : আচ্ছা মা তুমি একটু অপেক্ষা করো আমি দিচ্ছি।
মিসেস ফাতেমা তূবার রুমে গিয়ে দেখে তুবা ঘুমাচ্ছে, তূবাকে ডেকে তুলে দিলো –
মিসেস ফাতেমা : তোর বান্ধবী ফোন করেছে নে কথা বল।
তূবা: ঘুম অবস্থায় হ্যালো!
অনি: কিরে আজ কলেজ আসলি না, আবার ফোন অফ করে রেখেছিস কি হয়েছে তোর।
তূবা: আমি কয়দিন কলেজ যাবো না রে, আর আমার ফোন নষ্ট হয়ে গেছে।
অনি: কয়দিন কলেজ আসবি না মানে?
তূবা: একটু সমস্যা আছে তাই। তুই এখন কোথায়?
অনি: ভাইয়ার সাথে ঘুরতে বের হয়েছি।
তূবা: আচ্ছা শোন আমর একটা কাজ আছে পরেকথা বলবো।
তূবা ফোন কেটে দিলো, গালিব সব কিছুই শুনেছে ( লিটিল বার্ড আমার কাছ থেকে লুকিয়ে কত দিন থাকবে)
অনি গালিব দুইজন সারাদিন ঘুরাঘুরি করে নিলয়র বাসায় চলে আসলো।
অনি: ভাইয়া মা তোকে দেখতে চেয়েছে।
গালিব: মামুনিকে এখানে নিয়ে আসিস।
অনি: বাবা…
গালিব: রাত হয়ে গেছে বাড়ি যা।
—————————————————-
গালিব উপরে এসে দেখে নিলয় বসে টিভি দেখছে,
গালিব : কখন আসলি?
নিলয়: এই তো ১ ঘন্টা হলো, এসে দেখি তুই নেই।
গালিব: আমি একটু অনির সাথে বের হয়েছিলাম।
কথা বলে গালিব ফ্রেশ হতে চলে গেলো, ফ্রেশ হয়ে এসে গালিব নিলয় কে বললো-
গালিব: দোস্ত অনেক তো অপেক্ষা করলি আমার জন্য এবার বিয়েটা করে নে।
নিলয়: তুই তো আসলি ২ দিন হলো কিছু দিন রিলেক্স কর তার পরে না হয় এই সব নিয়ে ভাবা যাবে।
গালিব: আরে বেডা! বিয়ে কি তোর এক দিন ঠিক হয়ে যাবে। অনেক আয়োজন আছে না। কালকে আমরা নিলাদের বাড়িতে যাবো বিয়ের ডেট ফিক্সড করতে নিলাকে বলে দিস। আর আংকেল আন্টিকে বলে দিস কালকে আসার জন্য। আমরা সবাই কালকে নিলাদের বাড়িতে যাবো।
নিলয় : আচ্ছা দোস্ত ঠিক আছে।
—————————————————-
নিলয় নিলাকে ফোন দিয়ে সব কিছু বললো, নিলা বললো আচ্ছা ঠিক আছে আমি বাবার সাথে কথা বলছি।রাতে সবাই খেতে বসেছে, নিলা তার বাবাকে বললো-
নিলা: বাবা কালকে নিলয় এর বাবা / মা আসবে বিয়ের কথা ঠিক করতে। হঠাৎ করে সব প্লান করেছে তাই এরোকম হলো,
ফিরোজ আহমেদ : সমস্যা নেই মা, কালকে সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
তূবা: আপু ফাইনালি তোমার বিয়েটা হচ্ছে, আমি তো অনেক খুশি।
নিলা: তুই ভাব আমার বিয়েতে কি শপিং করবি। শাড়ি তো জীবনেও পরিস নি। বিয়েতে কি করবি।
তূবা: বিয়েতে শাড়ি পরতে হবে এটার কোনো রুলস আছে নাকি, জিনস প্যান্ট এর সাথে একটা হলুদ টপস পরে নিবো ব্যস হলুদ শেষ, বিয়ের দিন লাল টাইপ কিছু পরে নিবো এভাবেই বিয়ে কভার হয়ে যাবে।
মিসেস ফাতেমা : বিয়েতে যদি তুই এই ছাই পাস পরিস তাহলে তোর ঠ্যাং আমি ভেংগে ঘরে বসায় রাখবো বজ্জাত মেয়ে, মানুষ বিয়েতে কত সুন্দর করে মেকাপ করে শাড়ি পরে ঘুরো ঘুরি করে তা না কি সব ছাই পাস পরবে।
তূবা: তোমার মেয়ের বিয়ে তুমি শাড়ি মেকাপ পরে ঘুরে বেরিও মা।
এই কথা বলে তূবা দৌড় দেয় ঘরে, বাকি সবাই হাসতে থাকে তূবার কথা শুনে।
—————————————————-
সকাল সকাল মিসেস ফাতেমা আর নিলা রান্নার কাজ শুরু করেছে, তূবা শুধু খাবার গুলো টেবিলি সাজিয়ে রাখছে। সব কিছু কম্পিলিট হয়ে গেলে মিসেস ফাতেমা মেয়েকে একটা সুন্দর লাল জামদানি পরতে দেয়, তূবাকেও বলেছিলো পরতে সে না বলে দিয়েছে।
মিসেস ফাতেমা : বোনের শশুর বাড়ি থেকে লোক আসবে তাই একটু মানুষের বাচ্চার মত কাপর পরিস।
তূবা: বিয়ে তোমার বড় মেয়ের মা আমার না যে তারা আমাকে দেখবে।
বলে তূবা চলে গেলো নিজের রুমে, কাবাট থেকে একটা লং ব্লাক টি-শার্ট আর একটা ব্লাক প্লাজু ব্লাক ওরনা নিয়ে গোসলে ডুকে গেলো।
এর মধ্যে নিলয়রা চলে এসেছে সবাই বসে গল্প করছে, তূবা তখন রুম থেকে বের হয়ে সবার উদ্দেশ্য সালাম দিলো, মিসেস ফাতেমা তো তূবার ড্রেসের ছিরি দেখে চোখ বড় করে তাকিয়ে আছে তূবা ডোন কেয়ার ভাব করে রইলো, তূবা পিছনে সোফাতে কে বসে আছে সেটা দেখার জন্য একবার নজর দিলো, দেখার পরে তূবার হাত পা কাপা শুরু করে দেয় –
হায় খোদা এই মনস্টার টা বাড়িতে ও চলে এসেছে এখন আমি কি করি, আবার দিলো দৌড়।
তূবা মনে করেছে গালিব তাকে দেখতে পায়নি তাই এবাবে দৌড় দিয়েছে, গালিব তূবার কান্ড দেখে মিটিমিটি হেসে দেয়। বড়রা গল্প করছে তাই গালিব ছাদে চলে গেলো, যহেতু সে আগে এই বাড়িতে দুই একবার এসেছে তাই সব কিছু চিনে।ছাদে গিয়ে দেখে তূবা এক কোনে দারিয়ে আছে, গালিব চুপিচুপি তূবার পিছনে যায়-
গালিব: এই লিটিল বার্ড এখানে একা একা কি করো।
তূবা : পিছনে ঘুরে দেখে গালিব দারিয়ে আছে, তূবে চলে যেতে নিলে গালিব এক হাত দেয়ালে দিয়ে আটকে নেয়, আবার অন্য পাশ দিয়ে বের হতে নিলে অন্য হাতে সেটাও আটকে দেয়। তূবা এখন গালিবের দুই হাতের মাঝখানে দারিয়ে আছে। আর ভয়ে ঘনো ঘনো নিশ্বাস নিচ্ছে, গালিব এবার কথা বলা শুরু করলো।
গালিব: লিটিল বার্ড আজ কি তাহলে আমাদের বিয়ের কথাও বলে ফেলি তোমার বাবাকে।
তূবা: এই না না!
গালিব: তুমি না আমাকে লাইক করো তাহলে এখন না বলছো কেনো?
তূবা: আসলে আমি অনিকে বেস্ট সারপ্রাইজ গিফটটা দিতে চেছিলাম তাই আপনার সাথে নাটক করে নিয়ে এসেছি। এর থেকে বেশি আর কিছু না, আর আমি আপনাকে কখনো দেখিনি। দেখলে হয়তো এই ভুল কাজটা কোনোদিন করতাম না। যেটা করেছি সেটার জন্য সরি। এবার আমার রাস্তা ছারেন।
গালিব: ও র্যালি, আমাকে কি তোমার পুতুল মনে হয় যখন যে ভাবে খুশি নাচাবে। আর শুনো আমার ভয়ে কলেজ যাওয়া বন্ধ করতে হবে না, তুমি তোমার লাইফ যে ভাবে খুশি চলো, আমার জন্য আর লুকিয়ে ঘুরতে হবে না।
কথা গুলো বলে গালিব নিচে চলে গেলো, সবাই মিলে বিয়ের ডেট ঠিক করলো ১ মাস পরে বিয়ে। যাতে জিসান ছুটি নিয়ে আসতে পারে তাই এভাবে ডেট ঠিক করা হয়েছে।সব কিছু ফিক্সড করে নিলয়রা চলে গেলো । তূবা তখনো ছাদে দারিয়েছিলো। সে সেই ৭ বছর আগের কথাটা ভাবছে-
নিলা ছাদে গেলো-
নিলা: কিরে বোন তুই চলে এলি যে। ওরা তো সবাই চলে গেলো। বিয়ে ১ মাস পরে জিসানের জন্য ডেট পিছিয়ে দিয়েছে।
তূবা: কিছু না আপু এমনি চলে এসেছি, ভালো লাগছিলো না।
নিলা: তোকে একটা কথা বলি বোন।
তূবা: হুম বলো।
নিলা: আজ থেকে ৭ বছর আগে যখন তুই ছোট ছিলি তখন তুই গালিব এর জন্য পাগলামি করতি। আমি তখন গালিবকে তোর বিষয়ে সব কিছু বলেছেলাম। তুই ছোট ছিলি বলে গালিব তোকে এসব থেকে বের করার জন্য তোর সাথে সেইদিন ঐ নাটক টা করেছিলো, পরে ও আমাকে সব কিছু বলে দিয়েছে। আমি তোকে তখনি বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু গালিব বলতে দেয় নি। ও চেয়েছিলো তুই এসব বাদ দিয়ে যেনো পড়া তে ফোকাস দিস।
তূবা: আপু এগুলো তুমি আজ বলছো কেনো আমাকে, এই ৭ বছর তাহলে আমি খামোখা সেই মানুষকে ঘৃনা করে গেলাম।
নিলা: আজ বললাম কারণ তুই গালিব কে দেখে যেভাবে পালিয়ে এসেছিস সেটা দেখে সবাই অবাক হয়ে গেছে। আর যেহেতু সামনে আমার বিয়ে তোদের এখন প্রাই দেখা হবে তাই সত্যি টা তোকে জানিয়ে দিলাম।
তূবা: আপু এখন আমার কি করা উচিত তাহলে?
নিলা: প্রথমত গালিব কে ভয় না পাওয়া, তুই আজ অকে না চাইও মনে আঘাত দিয়েছিস। তাইতো সে ছাদ থেকে নেমে কোনো কথা না বলে চুপ ছিলো।
আপু আসলে আমি একটা ভুল করে ফেলেছি,
কি করেছিস তুই,তূবা সব কিছু খুলে বললো –
নিলা: পাগলি মেয়ে, এটা আমি গালিব এর কাছে সেই দিন শুনেছি। ও তোর বিষয়ে কোনো কথাই আমার কাছে লুকায় না। তুই আমার বোন মানে গালিব এর ও বোন। তাই এগুলো নিয়ে টেনশন করিস না।বিয়ের পিপারেশন নে।
তূবা ঘরে এসে ফোন অন করে গালিব কে আনব্লক করলো, তার পরে মেসেজ দিলো-
ভাইয়া সরি আমি এত কিছু জানতাম না আজ আপু সব কিছু করেছে, আর ছোট বেলায় আপনাকে বিরক্ত করার জন্য সরি।
গালিব মেসেজ পরে –
লিটিল বার্ড এখন তুমি আমার বিরক্ত করা দেখার জন্য প্রস্তুত হও
চলবে………

