হৃদয়_এনেছি_ভেজা – [১৭]

0
40

#হৃদয়_এনেছি_ভেজা – [১৭]

দিয়া তার বাবা-মায়ের সঙ্গে নীরবে বসে আছে। নাজমুল সাহেব এতে বিচলিত হয়ে পরলেন। বললেন,
–“দু’দিন যাবৎ কথা বলছিস না, কী করলাম আমরা? এভাবে বাবা-মায়ের সাথে রাগ করলে চলে?”

দিয়া মুখ তুলে চাইলো না। সেভাবেই বসে রইলো। মিনমিন গলায় বললো,
–“আমি যখন বলেছিলাম বিয়ে করবো না তখন তুমি আমার মত ছাড়া-ই কেন আরেক জায়গায় বিয়ের কথা দিয়ে দিলে? তুমি যেদিন এই অকাজ করেছো সেদিন-ই আমি সাইফকে আমার মনের কথা জানাতে গিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে শুনি এই কাজ করেছো। কথা বলার মতো অবস্থায় রেখেছিলে বাবা?”

নাজমুল সাহেব মুখটাকে ঘুঁচে বললো,
–“আমি আসলে ভাবিনি এমপির মতো লোক আমার মতো মধ্যবিত্ত পরিবারে নিজের ছেলের জন্যে প্রস্তাব নিয়ে আসবে।”
–“সবাইকে এক দাড়িপাল্লায় মাপা ঠিক নয় বাবা। প্রস্তাব না আনলেও আমি এখন বিয়ে করতাম না!”

পাশ থেকে দিয়ার মা বললো,
–“থাক, এখন এত চিন্তা করতে হবে না। পাত্রপক্ষকে তোর বাবা না করে দিয়েছে।”

দিয়া তাতেও খুশি হলো না। বললো,
–“এখন তো আবার ওরা ভাববে বড়োলোক পেয়ে টাকার লোভে পরে বিয়েতে না করে দিয়েছি। এই অপবাদ আমি কিছুতেই শুনতে পারবো না বাবা!”

দিয়া চোখ তুলে তাকাতেই নাজমুল সাহেব খুব চমকে ওঠলো। দিয়ার চোখে অশ্রু চিকচিক করছে। নাজমুল তৎক্ষনাৎ মেয়েকে বুকে টেনে বললো,
–“এই বোকা। কাঁদিস কেন? এরকম কিছুই হয়নি। আমি তাদের থেকে সময় নিবো বলেছিলাম। সরাসরি হ্যাঁ তো বলিনি৷ তাছাড়া আমার মেয়ের খুশি সবার আগে। তুই আমাদের কথা কত ভাবিস, আর আমরা তোর কথা ভাববো না? এতই পাষাণ লাগে তোর বাবাকে?”
দিয়ার মা নীরবে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। এই মেয়ে তাদের বড়োই আদরের, বড়োই সাধনার।

————–
বিয়ের তোড়জোড় শুরু হলো। বিয়ের সকল প্রকার আয়োজনের ভার সিদাত এবং সাঈদ সাহেবের ম্যানেজারের ঘাড়ে গিয়ে পরেছে। সিদাত তার অফিস সামলে যতটুকু পারে ততটুকু করছে। এর মাঝে মাকে সিদাত এবং সাইফ দুজন মিলেমিশে দেখাশোনা করছে। মেহমানদের তালিকাসহ নানান কাজে সাঈদ সাহেবও হাত লাগাচ্ছে। বিয়ে হবে আরও দশ দিন বাদেই। তাড়াহুড়োর মূল কারণ সিদাতের মা জয়া। সে অতি দ্রুত বউ দেখতে চায়। যখন শুনেছে বিয়ে আরও দুই – তিন মাস পরে হবে তখন তার নিঃশ্বাস বেড়ে যায়। সে আবারও অসুস্থ হয়ে পরলেন। সাঈদ সাহেব তখনই বুঝলেন তার স্ত্রী কী চাইছে। সঙ্গে বুকের বা পাশে চিনচিনে ব্যথা অনুভব করলেন। স্ত্রীর কথা না বলতে পারার যন্ত্রণাটা সে একটু হলেও অনুভব করে।

দিয়া তার কাজিন বোনেদের সাথে বসে আছে। আজ গায়ে হলুদ। মোটামুটি অল্প করে সাজগোছ করে বসে আছে সে। তার বোনেরা, আত্নীয়’রা তো বিশ্বাস-ই করতে পারছে না এমপির বড়ো ছেলের সাথে দিয়ার বিয়ে হচ্ছে৷ তারা ভীষণ খুশি। দিয়াকে হাসি-মুখে বহু দোয়া দিচ্ছে। তবে সুযোগ বুঝে তাদের আবদারও জানাচ্ছে। তাদের সুবিধার জন্যে বেশ কিছু অভিযোগও করছে, যাতে দিয়ার শ্বশুরবাড়ির তরফ থেকে তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে দেওয়া হয়। দিয়ার বাবা-মাও নরম মনের মানুষ। তারা হাসি-মুখে সেসব গিলছে। কিন্তু দিয়া শুধু তাচ্ছিল্যের হাসি দিলো। খারাপ সময়ে যারা পাশে থাকেনি তারা বোধহয় আবদারের ঝুলি নিয়ে বসেছে। কিছু কিছু স্বজন তো তাদের মেয়েকে সাইফের ছোটো ভাই অর্থাৎ সিদাতের সাথেও লাগাতে চাইছে।

দিয়ার কয়েক জন বোন সিদাতের নাম্বার চেয়েছিলো। দিয়ার কাছে এমনিতেও নেই। তাই সে সোজা-সাপটা বলে দিয়েছিলো, “নেই।”
এতেই একেকজনের খোঁচানো শুরু। ঠাট্টা মশকরা, এমনকি দিয়াকে হিংসুটে বলতেও ছাড়ছে না তারা।
–“কী রে দিয়া? তুই দেবরের সাথে সেটিং করিয়ে দিতে ভয় পাচ্ছিস নাকি?”
–“ভয় পাবে না? ওর ভাগে যদি আমরা বসে যাই?”
–“আরে না। দিয়া লজ্জা পাচ্ছে বোধহয়। আচ্ছা, দেবরের নাম্বার দিতেও বুঝি লজ্জা পেতে হয়?”
–“থাক সমস্যা নেই। বিয়ের দিন আমরা নিজেরাই চেয়ে নিবো!”

কথাগুলো দিয়ার এতটা তিক্ত লাগছে বলার মতো নয়। কোনো-রকমে হলুদের অনুষ্ঠান গেলো। বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই সাইফের কল এলো। দিয়া সাইফের কল দেখে কিছুক্ষণ নীরবে চেয়ে ছিলো। তার কেমন যেন লাগছে কল রিসিভ করতে। দিয়া আশেপাশে তাকালো। তার বোনেদের অনেকেই তার ঘরজুড়ে বিচরণ করছে। কেউ কেউ ঘুমোচ্ছে আবার কেউ ফোন দেখছে। দিয়া মোবাইল নিয়ে বারান্দায় চলে এলো। রিসিভ করতেই সাইফ খুবই নরম গলায় বললো,
–“ব্যস্ত ছিলে?”

দিয়া ম্লান গলায় বললো,
–“সেরকম না। বলুন!”
–“কী বলবো? বলবে তো তুমি? এতকিছু লুকিয়ে রেখেছো, যা জানতে পেট মোঁচড়ায়!”
–“তাহলে বিয়ে কী সব জানার জন্যে করছেন? এরকম হলে এখনই “না” করে দিন। আমি বিয়ে না করেও থাকতে পারবো।”

সাইফ শুয়েই ছিলো। দিয়ার এহেম কথা শুনে সাইফ শোয়া থেকে উঠে বসলো বিস্ময়ে। থতমত খেয়ে বললো,
–“আমি তো শুধু আমার আগ্রহ জানিয়েছি। আর তুমি কী না বিয়ে ভাঙার দিকে চলে গেলে! ভয়ানক চরিত্রের মেয়ে মানুষ তো তুমি!”
–“আমি এমনই! আমি কোনো জানার বস্তু হয়ে নয়, স্ত্রী হয়ে আপনার বাড়িতে পদার্পণ করতে চাই। যদি সম্পর্কে ভালোবাসা এবং সম্মান-ই না থাকে তাহলে এই সম্পর্ক জুড়ে কী লাভ? এজন্য আগে-ভাগে সব মিটিয়ে ফেলা ভালো!”

সাইফ চাপা হাসলো। আর কিছু থাকুক বা না থাকুক, তার এই হবু বউটার কথার তেজ অনন্য। কেমন বাড়ীর বড়ো বউ হওয়ার ভাব আছে তার মধ্যে। সাইফ চাপা হেসে বললো,
–“কথার ঝংকার বলে দিচ্ছে, তুমি বড়ো বউ হওয়ার জন্যে পারফেক্ট।”
দিয়া এবার হেসে বললো,
–“প্রপোজ করার ক্ষমতা থাকলে বড়ো বউ হওয়াটা বড়ো ব্যাপার না। কারণ আমাদের মতো মেয়েদের প্রপোজ করাটাই সবচেয়ে কঠিন ব্যাপার।”
–“তা বুঝলাম। কিন্তু স্বভাব অনুযায়ী তুমি কখনো ত্যাড়া কথা বলো না। আজ কী এমন হলো যে এতটা চটে আছো? এনি প্রব্লেম?”
দিয়া তাচ্ছিল্যের সুরে বললো,
–“এটা মধ্যবিত্তদের সমস্যা বুঝলেন। যখন পরিস্থিতির খপ্পরে পরে মানুষ চিনতে শিখলাম, তখন থেকেই এই স্বভাব আমার মধ্যে উদয় হয়েছে। তাদের ভালো-মানুষী রূপ আজকাল সহ্য হয় না!”

সাইফ অবশ্য এসব ঘাটলো না। বেশি প্রশ্ন করতে নিলে না জানি দিয়ার মনটাই বিষিয়ে যায়। এজন্য সাইফ প্রসঙ্গ বদলে বললো,
–“হাতের মেহেদী দিয়ে আমার নাম লিখেছো তো? না লিখলে এখনই লিখে ফেলো। মেহেদী আমার খুব পছন্দ। নিজের নাম দেখলে আরও ভালো লাগবে।”

পরেরদিন বিয়ের অনুষ্ঠান হলো কমিউনিটি সেন্টারে। দিয়ার বাবা মোটামুটি খরচ করার অনুমতি পেয়েছে। এছাড়া সাঈদ সাহেব আর কোনো অনুমতি দেয়নি। নাজমুল সাহেব নিজের সাধ্য অনুযায়ী মেয়ের জন্যে স্বর্ণের অলংকার এবং মেয়ে জামাইয়ের জন্যে দামী ঘড়ি উপহার দিয়েছে। কারণ সে আগে থেকেই অবগত স্বর্ণ ছেলেদের জন্যে হারাম। এই কথাটা সাইফ নিজেই তাকে জানিয়েছে। নাজমুল সাহেব চেয়েও বেশি কিছু করতে পারেনি। এই একমাত্র মেয়েকে নিয়ে তার কতশত স্বপ্ন। মেয়েকে সে পেয়েছে বিয়ের প্রায় নয় বছর পর। আল্লাহ্’র কাছে অনেক চাওয়ার পরপর-ই এই দম্পতি দিয়াকে পেয়েছে। তাও দিয়া শুরুর দিকে ভীষণ অসুস্থ থাকতো। দুই বছর হবার পর থেকেই ধীরে ধীরে আল্লাহ্ মুখ তুলে তাকায় তাদের দিকে। নাজমুল সাহেবের পাইকারি কাপড়ের ব্যবসা ছিলো। তাই আগে তাদের পরিবার ভালোই স্বচ্ছল ছিলো। যখন দিয়া এইচএসসি দেয় তখনই হয় বিপত্তি। আগুন ধরে তার পুরো ব্যবসা শেষ। সেই সময় তার পথে বসার মতো অবস্থাম তাও বাড়ির ভাড়া এবং দোকানের ভাড়া নিয়ে কোনোরকম দিন পার করছে। সেই থেকে নাজমুল সাহেব ঘরেই বসা। চাকরি করতে চেয়েছিলো, কিন্তু চাকরি করতে গিয়ে রোগ-ব্যাধি দেহে বাঁধে। এই বিপদের দিনগুলোতে কোনো আত্নীয়-স্বজন তাদের খোঁজ নেয়নি। সবসময় দূরে দূরে থাকতো টাকা দেওয়ার ভয়ে।

সারা অনুষ্ঠানে দিয়ার বোনেরা বেয়াইয়ের সাথে ভাব জমাতে চেয়েছিলো অনেকবার। কিন্তু সিদাত এবং তার কাজিনরা সেভাবে তাদের গুরত্ব দেয়নি। শুধুমাত্র ভদ্রতার খাতিরে হাসি-মুখে কথা বলেছিলো এই যা!

এর কারণ সারা পথে সাইফ তাদের ট্রেনিং দিয়ে এনেছে, যেন ওদের সাথে সেভাবে কেউ না মিশে। সাইফ গতকাল দিয়ার সাথে কথা বলে সে যা বোঝার বুঝে গিয়েছিলো। দিয়া মুখ ফসকে সিদাতের কথাও বলে ফেলেছিলো। কারণ এই মেয়েগুলো স্বার্থ বুঝে টোপ ফেলছে। এই টোপ কেউ একবার গিললে সে একাই ধ্বংস হবে না। সঙ্গে পুরো পরিবারকেও শেষ করতে পারবে।

সিদাত অবশ্য একজনের মোহেই আটকে আছে। সে সচরাচর অন্য মেয়ের সাথে এতটা মিশে না। এটা তার স্বভাবে নেই। কথা বললেও কথা বলার সীমা লঙ্ঘন করে না। সে নারী জাতিকে যথেষ্ট সম্মান করে চলে।

বিয়েতে এসে অজানা কারণে তরীর কথা বড্ড মনে পরছে। গত পনেরো দিন যাবৎ তরীকে সে দেখেনি। চিঠি দেয়নি। কাজের ফাঁকে বহুবার যাওয়ার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু বাবার অসন্তুষ্টির ভয়ে যায়নি। অথবা এই সময়টায় অনয়ের বাসায় গিয়ে অন্তত একটি রাত থাকাটাও কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিলো৷ সিদাত আনমনেই ভাবলো,
–“আচ্ছা, এই অনুভূতিটা কী শুধুমাত্র বন্ধুত্বের? নাকি এর মাঝেও অনুভূতির বিরাট রহস্য লুকিয়ে আছে?”

এমন সময় অনয় এলো। একপ্রকার ছুটতে ছুটতে। সিদাতের কাঁধে চাপড় মেরে বললো,
–“শালা। এতক্ষণ ধরে খুঁজতেছি, দেখাই পাই না। মানে কী এসবের?”
–“দেখা তো আগেও হয়েছে। হঠাৎ এখন উত্তেজিত হওয়ার কারণ কী?” ভ্রু কুচকে বললো সিদাত।

–“আরে ধুর। জরুরি কথা আছে যা সপ্তাহখানেক ধরে বলার চেষ্টা করছি। কিন্তু নানা কারণে সে-কথা ভুলে যাই। এখন বহু কষ্টে মনে রেখে তোকে বলতে আসছি!”

–“কী কথা?”

–“তরী মেয়েটা তোকে চিঠি দিতে মানা করেছে। তার তোর বন্ধুত্বের প্রস্তাবও আজীবনের মতো প্রত্যাখান করে দিয়েছে। তুই আর ওকে চিঠি দিস না। ওর বাবা-মা অলরেডি দেশে ফিরছে। কোনো ভাবে তাদের হাতে চিঠি পরলে তরী না চাইতেও ফেঁসে যাবে।”

সিদাত নীরবে শুনলো। কিছুক্ষণ অন্যমনস্কও থাকলো। পরে কী মনে করে বললো,
–“বউ করার প্রস্তাব দিলে মানবে তো?”
অনয় যেন আকাশ থেকে পরলো। চোখ জোড়াও কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছে না। সিদাতের মাথা কী গেলো নাকি? কী-সব বাজে বকছে? অনয় অস্ফুট স্বরে বললো,
–“তুই বিয়ে করবি? তাও ওকে?”

দিয়ার দুজন কাজিনবতাদের পাশ কেটে যাচ্ছিলো। ওমনি ওদের কথোপকথন শুনে দুজনেই চমকালো। আহত সুরে বললো,
–“সিদাত, তোমার গার্লফ্রেন্ড আছে?”

সিদাত তাদের দেখে হাসি চওড়া করলো। বললো,
–“গার্লফ্রেন্ড নয় অবশ্য। বলতে পারেন মনের মানুষ আছে!”
ব্যথিত চোখে দুজন দুজনার দিকে চাওয়া-চাওয়ি করলো। অতঃপর অধরে কৃত্রিম হাসি ঝুলিয়ে কোনো রকমে পাস কাটিয়ে চলে গেলো। তাদের চেহারা দেখার মতো হয়েছিলো। অনয়ের মুখ-ভঙ্গি সবচেয়ে হাস্যকর।
–“তুই সিরিয়াস ভাই? আমার মনে হচ্ছে আমার পা জোড়া কাঁপছে। মাথা ঘুরিয়ে পরে যাবো ভাব। কী করে তুই এমন আতঙ্কে পা দিলি বাপ? কলিজা কাঁপলো না?”

সিদাত এবার স-শব্দে হেসে দিলো। বললো,
–“থাম অনয়। বেশি নাটক করিস না। আম জাস্ট কিডিং। সিরিয়াস নেওয়ার কিছু নেই।”
কিন্তু সিদাতের মনে হলো তার খাচায় বন্দি মনখানা খাচা ভেঙে মুক্তি পেয়েছে। তার স্বাধীন-চেতনা মন তার মুখের কথার তীব্র প্রতিবাদ জানালো।

©লাবিবা ওয়াহিদ
~[ক্রমশ]
বিঃদ্রঃ বইয়ের পান্ডুলিপি এখনো লেখা শেষ হয়নি। এজন্য চেয়েও রেগুলার গল্প দেওয়া হচ্ছে না। অত্যন্ত দুঃখিত পাঠকমহল। ভুলত্রুটি ক্ষমাসুলভ নজরে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্যও কিন্তু চাইছি❤️

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here