আকাশ_জুড়ে_একা_আমি #লামিয়া_ইসলাম #পর্ব_২৩

0
34

#আকাশ_জুড়ে_একা_আমি
#লামিয়া_ইসলাম
#পর্ব_২৩
(শব্দসংখ্যা ১১০০+ )

রেস্টুরেন্টের জন্য বাজারগুলো মেঘনা নিজের হাতেই করার চেষ্টা করে। নিজে বাজার করলে একদম টাটকা টাটকা বাজার করা যায়।আজকে বাজার শেষ করে বের হতেই আরশাদের সাথে দেখা হল। আরশাদের দুই হাতেও বাজার ভর্তি।

” বাহ অনেক বাজার করেছেন। বাসায় মেহমান আসবে নাকি? ”

” না সেরকম কিছু না। কলিগদের সাথে ছোটখাটো একটি গেট টুগেদার আছে। ”

” হঠাৎ গেট টুগেদার? প্রমোশন পেয়েছেন নাকি? ”

” প্রফেশনাল লাইফের প্রমোশন পাইনি কিন্তু পার্সোনাল লাইফে পেয়েছি। ”

” মানে বুঝলাম না? ”

” এই যে আপনার মত একজন বউয়ের স্বামী হতে পেরেছি। তাই কলিগরা ট্রিটের আবদার করেছে।”

” বাসায় এত ঝামেলা না করলেই পারতেন।মিতু আন্টির উপরে তো অনেক প্রেসার পড়ে যাবে। ”

” না না বাসায় না গেট টুগেদার,আমার ফ্ল্যাটে হবে।”

” আপনি আলাদা ফ্ল্যাটে থাকেন?”

” হ্যাঁ এইতো কাছেই আমার ফ্ল্যাট, দশ মিনিটের রাস্তা। ”

” বাসার কাজ করতে ঝামেলা হয় না? ”

” আসলে আমি ইউনিভার্সিটি লাইফ থেকে একাই থাকি, তাই মোটামুটি কাজ, রান্নাবান্না সবই পারি।”

” বাহ বেশ ভালো তো, ফিউচারে আপনার বউয়ের আর রান্না করা লাগবে না। ”

কথাটা বলেই মেঘলা সাথে সাথে জিভ কাটলো। ইশ সে কি বলে ফেলল,সে তো ভুলেই গিয়েছিল এই লোকটার বৌ যে সে নিজেই।

” তা ঠিক বলেছ। সংসার নামক একটা ট্রায়াল দেবে নাকি আমার সাথে। প্রমিস করছি তোমাকে দিয়ে কোন কাজ করাবো না। জাস্ট একবার আমার বউউ হয়ে যাও, মাথায় তুলে রাখবো। ”

আরশাদের কথা শুনে মেঘলা কিছুটা থতমত খেয়ে গেল। তাই এই টপিক চেঞ্জ করতে সে কিছুটা রুক্ষ স্বরে বলল,

“বউউ ডাকা ছাড়া কি আপনি আর কিছু করতে জানেন না?”

আরশাদ কিছুটা নিচু স্বরে মেঘলার কানে ফিসফিস করে বললো,

“ইশ বউ তুমি এতো দুষ্ট কেনো?বয়স আমার ৩০ হতে পারে কিন্তু ভিতরটা এখনো ২২ বছর বয়সী পুরুষের মতোই স্ট্রং আছে।”

” আপনি শুধরাবেন না শুধু বকবক করেই যাবেন। ”

” আচ্ছা শোনো আমার একটু হেল্প লাগবে । আসলে আমি জানি তুমি এই বিয়েটা মানো না। কিন্তু আমার কলিগরা তোমার সাথে মিট করতে চাচ্ছিলো। তাই যদি তুমি সন্ধ্যার দিকে একটু কষ্ট করে আসতে।রাতের ডিনারটা আমার ওখানে করতে, তাহলে একটু ভালো হতো। কিন্তু তোমার যদি আনইজি ফিল হয় তাহলে আসার দরকার নেই। ”

” আপনি আমাকে এত ভয় পান কেনো? ডিরেক্ট বললেই তো পারেন এতো কিন্তু কিন্তু কেনো করেন। ”

” কারণ বউকে ভয় পাওয়া ভালো, তাহলে সংসার অনেক সুখের হয়। ”

আরশাদের কথা শুনে এবার মেঘলা মুচকি হেসে বলল,

” এতো ভয় পাওয়ার দরকার নেই, এরপর থেকে সোজাসুজি বলে ফেলবেন । আমি সন্ধ্যার মধ্যে পৌঁছে যাবো। ”

“ওকে, আমি তোমাকে লোকেশন শেয়ার করে দিচ্ছি।”

————————

মেঘলা এই রুম থেকে ওই রুম দৌড়াদৌড়ি করছে দেখে নাজমা বেগম বললো,

“কি হয়েছে তোর এভাবে এই রুম থেকে ওই রুমে চক্কর কাটসিস কেনো?”

“আরেহ মা মাহিরার সাদা কটন শাড়িটা কই? যেটা পহেলা বৈশাখে কিনলো। ঐ যে পাড়টা গাঢ় মেরুন কালারের।”

“ওই শাড়িটা মিহিরের রুমে রাখা। ভাজ করে ওখানেই রেখে এসেছিলাম। দাড়া আমি এক্ষুনি এনে দিচ্ছি।”

নাজমা বেগম শাড়িটা এনে মেঘলার হাতে দিয়ে বললো,

“এই নে। কিন্তু আজ শাড়ি পড়ে যাবি কোথায়? ”

“আসলে আরশাদ সাহেবের বাসায় একটা গেট টুগেদার আছে। উনি অনেক রিকয়েস্ট করেছিলো যাওয়ার জন্য তাই যাচ্ছি। ”

দুপুর বেলা হওয়ায় সবাই বাসায় ছিলো। মেঘলা আরশাদের বাসায় গেট টুগেদারে যাচ্ছে শুনে সবারই কান খাড়া হয়ে গেলো। মিহির দুষ্টমি করে বললো,

“বাহ্, আজকাল দেখি আপু গেট টুগেদারে যাচ্ছে। কোনদিন যেনো আরশাদ ভাইকে এনে বলে একে দুলাভাই বলে ডাক।”

নাজমা বেগম এবার মিহিরকে ধমক দিয়ে বললো,

“দুলাভাই হয় তোর।তো দুলাভাই বলেই তো ডাকবি। ”

মেঘলা এবার মিহিরের দিকে কটমট করে তাকিয়ে আবার নাজমা বেগমকে বললো,

“মা রাতে ফিরতে হয়তো একটু দেরি হবে।”

“আরেহ সমস্যা নাই, ধীরে সুস্থে আসিস।”

—————–

আরশাদ কাবাবের জন্য চিকেন টা ম্যারিনেট করছিলো তখনি দরজায় কলিং বেলের শব্দ পেলো। দরজা খুলে দেখলো মেঘলা দাঁড়িয়ে আছে। বেচারা আবার ও যেনো মেঘলাকে দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলো। সে মনে মনে বললো,

“এই মেয়েটা বেশি সুন্দর না এর শাড়ির কালেকশন গুলো সুন্দর, যতবারই এই মেয়েকে শাড়িতে দেখি আমি যেনো অন্য দুনিয়ায় হারিয়ে যাই।”

তাঁর ভাবনার মাঝেই মেঘলা তাঁর হাতে পড়া মেরুন কাঁচের চুরি আরশাদের সামনে ঝাকিয়ে বললো,

“কি হলো কোথায় হারিয়ে গেলেন?”

” ওহ হ্যা ভিতরে আসো। ”

মেঘলা ভিতরে এসে প্রথমেই আরশাদের ড্রয়িং রুম এর সাথে লাগোয়া বারান্দার দিকে গেলো। বেশ উচ্ছাসের সাথে বললো,

“বাহ, বেশ সুন্দর তো। ওপেন বারান্দা আমার বেশ ভালো লাগে।”

“তাই? আমাদের চয়েস তো অনেক সিমিলার। আমার ও এই বাসাটা নেয়া মূলত এই বারান্দার জন্যই।কিন্তু তুমি এতো তাড়াতাড়ি এসে পড়লে?”

“আপনাকে হেল্প করতে এলাম। ৫-৬ জনের রান্না ও বেশ ঝামেলার। বলুন কি কি করতে হবে।”

“ধ্যাত, আমার অভ্যেস আছে। আগেও রান্না করেছি। ট্রেনিং এর সময় তো পিকনিকে প্রায় ৫০-৬০ জনের ও রান্না করেছি । তোমার কিছু করা লাগবে না। তুমি বসো।”

আরশাদ কাবাব টা বানানো শেষ হতেই এক পিস কাবাব মেঘলার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,

“টেস্ট করে দেখো তো কেমন হয়েছে?”

মেঘলা এক বাইট নিয়েই বললো,

“আমি বিলিভ করতে পারছি না যে এটা আপনি বানিয়েছেন। ঢাকার বিখ্যাত সব রেস্টুরেন্টকেও আপনি বিট করতে পারবেন।”

“রিয়েলি, আহা আজ আমার রান্না শেখাটা সার্থক হলো।”

“কেনো?”

“রান্না করতে না পারলে কি নিজের বউয়ের থেকে এতো বেশি প্রশংসা পেতাম?”

“আপনি আবার শুরু করলেন। বাই দ্যা ওয়ে কখনো যদি আপনি পুলিশের জব ছেড়ে দেন তাহলে আমি আপনাকে আমার রেস্টুরেন্টের সেফ হিসেবে রাখবো।”

“জব কেনো ছাড়া লাগবে, নিজের পার্সোনাল শেফ হিসেবেই তো রেখে দিতে পারো।”

মেঘলা আরশাদের কথার মানে খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারলো। তাঁরপর ও সে তাঁর কথায় সায় দিয়ে বললো,

” ঠিক আছে,ভেবে দেখছি। ”

মেঘলার এই কথা শুনে আরশাদের মনে হলো খুশিতে লাফিয়ে লাফিয়ে নাচতে। সে সাথে সাথেই মনে মনে মানত করে ফেললো,

“হে আল্লাহ আমার বউ যদি আমার সংসার করতে রাজি হয়ে যায়, তাহলে আমি মসজিদে একটা না না দুইটা ছাগল দিবো।”

সে নিজের খুশিকে যথাসম্ভব দমিয়ে রেখে বললো,

“আচ্ছা খাবার গুলো সব রেডি হয়ে গেছে। আমি অনলাইনে কিছু মিষ্টি অর্ডার করেছিলাম। সেগুলো নিচে থেকে নিয়ে আসি।”

—————

“মা তোমার জামাই চাকরির পাশাপাশি একটা ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছে। আমার শশুরবাড়ি থেকে ২ লাখ দিয়েছে। তোমার জামাই বলেছে তোমাদেরকে ৫ লাখ দিতে তাহলে ও ব্যবসাটা একদম সুন্দর মতো শুরু করতে পারতো।”

পাঁচ লাখ টাকার কথা শুনে লাজু বেগম আঁতকে উঠলো। সে বললো,

“মা এটা কি বলছিস। কয়দিন আগেই তোে ভাইয়ের বিয়ে হলো। এখন কিভাবে এতো টাকা যোগাড় করি?”

“মা, সব তো তোমার মেয়ের সুখের জন্যই। এইটুকু ও করতে পারবে না। আর গ্রামের বাড়িটা তো খালিই পড়ে আছে। ঐটা বন্দক দিয়ে না হয় আমাকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দেও। ”

এবার লাজু বেগম আমতা আমতা করে বললেন,

“মা রাগ করিস না। আসলে ওই বাড়িটা তোর ভাইয়ের বিয়ের সময় বন্দক রেখেছিলাম।”

“কিহহ? তুমি আমাকে না জানিয়ে বাড়ি বন্দক রেখেছো? ওই বাড়ির উপর তো আমার ও অধিকার আছে। তাহলে কিভাবে ওই বাড়িটা বন্দক রাখলে?”

“মা তুই রাগ করিস না। শান্ত হ।”

“কিসের শান্ত হবো? ভাই বেইমানি করতেই পারে স্বাভাবিক তাই বলে তুমিও আমাকে ঠকালে?”

“আমার কথাটা শোন..”

“আর কোনো কথা শোনার নেই। তোমার ছেলেকে বলবে ১ সপ্তাহের মধ্যে আমাকে ৫ লাখ টাকা দিতে আর নইলে বাড়ির জায়গা ছাড়িয়ে আমাকে আমার জায়গা দিয়ে দিতে। আর একটাও যদি না করতে পারো তাহলে আমি তোমার ছেলের নামে মামলা করবো।”

কথাগুলো বলেই নাফিজা ঘর থেকে হনহন করে বের হয়ে গেলো। সামনে কি হবে ভেবে লাজু বেগমের মাথা ঘুরাতে লাগলো। সে কোনো কুলকিনারা খুঁজে পেলো না।

চলবে…….

৫০০ রিয়েক্ট হওয়ার আগেই আরেক পর্ব দিয়ে দিলাম। খুশি তো আপনারা? কমেন্টে আপনাদের অনুভূতি জানিয়ে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here