আকাশ_জুড়ে_একা_আমি #লামিয়া_ইসলাম #পর্ব_১৬

0
38

#আকাশ_জুড়ে_একা_আমি
#লামিয়া_ইসলাম
#পর্ব_১৬
(শব্দসংখ্যা ১০০০)

মেঘলা আর আরশাদ যখন কমিউনিটি সেন্টারে পৌঁছালো তখন বাজে প্রায় দুপুর দুইটা। মতিঝিলের এক স্বনামধন্য কমিউনিটি সেন্টারে তানিয়া আর নাবিলের বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে। মেঘলা কমিউনিটি সেন্টারে ঢুকতেই নাবিল আর তানিয়াকে স্টেজে বসা অবস্থায় দেখতে পেলো। তারা দুজনে কাপল ফটোশুট করছিল।

হুট করেই নাবিলের চোখ মেঘলার দিকে পড়ল। মেঘলাকে এখানে দেখে সে কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। সবচেয়ে বেশি সে অবাক হল মেঘলার সাজসজ্জা দেখে। সে কখনো মেঘলা কে এতো গর্জিয়াস সাজে দেখেনি। মেঘলাকে তার চোখে আজ এতো সুন্দর লাগছে কেনো?

মেঘলা মুচকি হেসে নতুন বর বউয়ের দিকে এগিয়ে গেল। আরশাদ ও তাকে অনুসরণ করতে লাগলো। মেঘলা স্টেজে উঠে হাসিমুখে রজনীগন্ধা ফুলের তোড়াটা নব দম্পতির দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,

” অভিনন্দন তোমাদের বিবাহিত জীবন সুখের হোক।”

মেঘলা কে দেখে নাবিলের মুখ থেকে যেন কোন কথা বের হচ্ছে না। সৌজন্যবশত তানিয়া ফুঁলের তোড়াটা গ্রহণ করল। আসলে নাবিল বুঝতে পারছে না এই সিচুয়েশনে তার কি করা উচিত। নাবিল দ্বিতীয়বার অবাক হল যখন সে মেঘলার পাশে আরশাদকে দেখতে পেল। এইতো কিছুদিন আগেই অফিসের একটা ইনভেস্টিগেশনে তার আরশাদের সাথে দেখা হয়েছে। কিন্তু আরশাদ মেঘলা সাথে এখানে কিভাবে? নাবিল কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই মেঘলা নিজ থেকে আরশাদকে সুঠম বাহুটাকে নিজের হাতে সাথে পেঁচিয়ে নিলো।তারপর আবার মুচকি হেসে বলল,

” উফ সরি পরিচয় করিয়ে দিতেই ভুলে গিয়েছি। ও আমার হাসব্যান্ড এএসপি আরশাদ ফরাজী।”

নাবিল বিষয়ে সাথে আরশাদের দিকে তাকিয়ে রইল। এ এখনো ঠিকমতো বিশ্বাস করতে পারছে না যে মেঘলা বিয়ে করে ফেলেছে।

” মেঘলা তুমি মজা করছো নাতো? ”

” নাবিল এসব ব্যাপার নিয়ে কেউ মজা করে নাকি। জানি বিশ্বাস করতে একটু কষ্ট হচ্ছে বাট দিস ম্যান ইজ মাই বিলাভড হাসবেন্ড।”

তাদের কথার মাঝখানেই স্টেজে নাজমা বেগম এসে উপস্থিত হলো। নাজমা বেগমের পিছনে মহল্লার গসিপ লাভার আন্টিদেরও দেখা গেল। এদের মধ্যে মিসেস হক মেঘলাকে বলল,

” দেখো দেখি কান্ড এক সপ্তাহ আগে বিয়ে করে ফেলেছো আমাদের বলবে না? এতো সুন্দর ছেলেটিকে তোমার সাথে দেখে আমি আরো তোমার মাকে জিজ্ঞেস করলাম যে ছেলেটি কে হয়। তখন তোমার মা বলল যে তোমার নাকি বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তবে জামাই কিন্তু বেশ সুন্দর। তা খাঁটি রত্নটিকে কোথা থেকে খুঁজে আনলে? ”

এবার মিসেস হকের কথায় আরশাদ নিজের মুখ খুললো।

“আহা আন্টি। কি যে বলেন না। খাঁটি রত্নতো হচ্ছে আপনাদের মেয়ে। আপনাদের মেয়েকে আমি বিয়ে করতে পেরেছি এটা আমার সাত পুরুষের সৌভাগ্য। বাই দ্যা ওয়ে আমি আমার পরিচয়টা দিতেই ভুলে গিয়েছি আমি এএসপি আরশাদ ফরাজী। বর্তমানে পিবিআইতে কর্মরত আছি।”

আরশাদের পরিচয় শুনে মেঘলাদের পাশের বাসায় বাড়িযওয়ালী রমিজা বেগম বিস্ময়ের সাথে বলে উঠলেন,

” এক মিনিট ওই যে কয়দিন আগে চট্টগ্রামে যে ২০০০০ কোটি টাকার ড্র্যাগ জব্দ হয়েছে সে কেসের দায়িত্বে কি তুমি ছিলে। আসলে আমার ছেলে কাস্টমসে আছে তো তাই অনেকবার ওর মুখে তোমার নাম শুনেছি।”

” জি আন্টি আমি সেই কেসের দায়িত্বে ছিলাম। ”

তাদের কথার মাঝেই মহল্লার আরেক মহিলা বলে উঠলো,

” তোমার নামের শেষে ফরাজি আছে। তাঁর বাবা কি শিল্পপতি আদনান ফরাজী? ”

“জি আন্টি।”

আর সাথে সম্পূর্ণ পরিচয় শুনে আশেপাশের সবাই বেশ অবাক হয়ে গেল। নাবিলের মা ও ইতিমধ্যে স্টেজে এসে উপস্থিত হয়েছেন। সে মনে মনে ভাবতে লাগলো এই ভাত বেচা মেয়েটার এতো ভালো জায়গায় বিয়ে কিভাবে হলো। মনে হয় ছেলেটাকে জাদু করেছে।মনে মনে সে মেঘলাকে গালমন্দ করতে লাগলো।মিসেস হক এবার নাজমা বেগমকে বললেন,

” ভাবি ছেলে তো অনেক ভালো ব্যাকগ্রাউন্ডের। তাহলে মেয়েকে এভাবে লুকিয়ে বিয়ে দিলেন কেনো?

নাজমা বেগম কিছু বলার আগেই আরশাদ তার কথায় বাধা দিয়ে বললো,

” আসলে আন্টি এখানে আমার শাশুড়ি মায়ের কোন দোষ নেই। আসলে মেঘলা আর আমি বর্তমানে দুইজনই প্রফেশনাল কারণে খুব ব্যস্ত আছি। আমি মেঘলাকে অনেক বছর ধরেই পছন্দ করতাম। কিন্তু আফসোস মেঘলা অন্য কারো ছিল তখন। আমি যখনই জানতে পারি যে মেঘলা এখন সিঙ্গেল আছে তখন আমি ডিরেক্ট বিয়ের প্রস্তাব দেই। আসলে আমি তো আর বোকা না যে এত ভালো মেয়েকে হাতছাড়া করব।তাই ঘরোয়া আয়োজনেই আমাদের বিয়েটা সম্পন্ন হয়েছে ।তবে যখন বড় করে অনুষ্ঠান করে বউ নিয়ে যাবো তখন অবশ্যই আপনাদের ইনভাইট করবো ”

কথাটা বলে আরশাদ বাঁকা চোখে নাবিলের দিকে তাকালো। নাবিলের মুখটা একদম কালো হয়ে আছে। তার এক্স তার থেকেও বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন পুরুষকে বিয়ে করেছে বিষয়টা বেচারা হজম করতে পারছে না।আরশাদের কথা শুনে মেঘলা ও কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেল। এই এএসপি নাকি তাকে এত বছর ধরে পছন্দ করে।গাড়িতে বসে মেঘলা আরশাদকে বলেছিল তাকে সবার সামনে একটু সাপোর্ট করতে তাই বলে এভাবে ডাহা মিথ্যা কথা বলা শুরু করবে। আশেপাশের ভিড় কিছুটা কমতেই মেঘলা খাবারের টেবিলে বসে মৃদু কন্ঠে আরশাদকে বলল,

” এসব কি উল্টাপাল্টা বকছেন? আপনার সাথে তো আমার দেখাই হলো সেদিন। তাহলে কিভাবে বলেন যে আপনি আমাকে অনেক বছর ধরে পছন্দ করেন?”

“তোমার মাথায় আসলেই গোবর ভরা। তুমি নাবিলের মুখটা দেখেছিলে কেমন কালো হয়ে গিয়েছে আমাকে তোমার সাথে দেখে।আমি তোমার প্রতি যত বেশি ইন্টারেস্ট দেখাব ও তত বেশি ইনসাল্ট ফিল করবে।”

আরশাদের কথা শুনে মেঘলা কিছুটা মুখ গোমড়া করে বলল,

“ঠিক আছে। তবে আর বেশি কথা বলবেন না।তাড়াতাড়ি খাবার খাওয়া শেষ করে আমার সাথে বের হয়ে যাবেন।”

আরশাদ মেঘলার কথার কোনো উত্তর না দিয়ে একনাগাড়ে মেঘলার দিকে তাকিয়ে রইলো। ইশ মেয়েটা এতো সুন্দর কেনো? লাস্ট এক মাসে আগে সে কল্পনা ও করতে পারেনি যে এমন একটা মোমেন্ট তার জীবনে আসবে। ভাবতেও পারেনি সে যে তার ১০ বছরের ভালোবাসা মেঘলা তার অর্ধাঙ্গিনী হবে।

——————-

মোতালেব সর্দারের দোকান বন্ধ করতে প্রায় বারোটা বাজলো। আশেপাশে একদম ঘুটঘুটে অন্ধকার। তার দোকানটা একটু গ্রাম্য সাইডে হওয়ায় এখানকার রাস্তায় তেমন লাইট নেই। হাতে থাকা বাটন ফোনের লাইটটাকে অন করে সে ধীরে ধীরে বাড়ির দিকে এগোতে লাগল। কিন্তু কিছু দূর যেতেই হঠাৎ সে চারপাশে মিষ্টি মিষ্টি একটা গন্ধ পেল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কেউ পিছন থেকে তার মুখ রুমাল দিয়ে চেপে ধরলো। মোতালেব সর্দার সাথে সাথে অচেতন হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ল।

রাত প্রায় তিনটার দিকে আরশাদের ফোন বেজে উঠলো। ফোন রিসিভ করতে ওপাশ থেকে সাদাত এর কন্ঠ শোনা গেলো।

” স্যার সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমাদের ধারনা মতে মোতালেব সর্দার হয়তো কিডন্যাপ হয়েছে। ”

” কি বলছো এসব? সিভিল ড্রেসে আমাদের পুলিশ তো ওনার আশেপাশে ছিল তাহলে এসব কিভাবে ঘটলো? ”

” স্যার কালকে তো পহেলা বৈশাখ ছিল। তাই সন্ধ্যার পর ওনার প্রটেকশনের দায়িত্বে যারা ছিলো তাঁরা ছুটিতে গিয়েছে। আর রাতেই ওনার কিডন্যাপিং হয়। রাত এগারোটা পঞ্চাশে উনি উনার ওয়াইফকে ফোনে বলেছিলো যে উনি বাসার জন্য রওনা দিয়েছে। প্রায় ২ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও উনি বাসায় না আসলে ওনার ওয়াইফ আমাদেরকে বিষয়টি জানায়। ”

” এক কাজ করো ফরেন্সিক টিম নিয়ে গিয়ে ওনার দোকানে আশেপাশে সার্চ কর। কোনো না কোনো ক্লু অবশ্যই খুঁজে পাওয়া যাবে। আর আমার সাথে লোকেশন শেয়ার করো আমিও ক্রাইম স্পটে যাবো।”

“ওকে স্যার।”

চলবে………..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here