#আকাশ_জুড়ে_একা_আমি
#লামিয়া_ইসলাম
#পর্ব_১৮
(পর্বসংখ্যা ১০০০+)
প্লেটে থাকা লাস্ট পিস চিংড়ি শেষ করতেই মেঘলা আরশাদকে বলল,
” তা আপনি হঠাৎ আজ এখানে? কি মনে করে এলেন?”
” তেমন কিছু না কাছাকাছি একটু কাজ ছিল। তাই চিন্তা করলাম দুপুরের খাবারটা এখান থেকেই খেয়ে যাই। বাই দ্যা ওয়ে বিল কত হলো? ”
” টাকা পয়সা কি খুব বেশি হয়ে গেছে যে বিল দিতে চাচ্ছেন? কালকের জন্য ধন্যবাদ আর আজকের এটা আমার পক্ষ থেকে আপনার জন্য ট্রিট। ”
” ধন্যবাদ। কিন্তু ট্রিট ছাড়া যে আমার আরো কিছু চাই? ”
আরশাদের কথা শুনে মেঘলা ভ্রু কুঁচকে বলল,
” আপনার আবার কি চাই? ”
” আসলে কালকে তো আদিব আর ইরিনার রিসেপশন। একচুয়ালি চট্টগ্রামে ঘটা বিষয়টা সম্পর্কে তো মোটামুটি আমাদের আত্মীয়-স্বজন সবাই জানে। আমি জানি তোমার জন্য একটু বিষয়টা আনইজি লাগবে, তারপরে যদি একটু কষ্ট করে কালকে রিসিপশনটা এটেন্ড করতে। ”
” জাস্ট এইটুকুই। আমি অ্যাটেন্ড করতে পারি তবে আমার একটা শর্ত আছে। ”
” জাস্ট এটেন্ড করলেই হলো তোমার যে কোন শর্ত আমি মেনে নেব। ”
“বউ ডাকটা শুনতে ভালো লাগছে না।”
আরশাদ কিছু না বোঝার ভান করে বললো,
“মানে?”
এবার মেঘলা কিছুটা রুক্ষ স্বরে বললো,
“এই এতো বউ বউ করবেন না। শুনতে কেমন যেনো কানে লাগে।”
“ঠিক আছে এখন থেকে ওয়াইফ ওয়াইফ করবো। ইংলিশে শুনতে তো ভালোই লাগবে তোমার।”
আরশাদের কথা শুনে মেঘলা বোকা বনে গেল। মেঘলা মনে হলে ভাবতে লাগলো, বিয়ের আগে তো একে ঠিকঠাকই মনে হতো। বিয়ের পড়ে কি উনি পাগল হয়ে গিয়েছে। মেঘলার মাথায় যখন এসব কথা একে একে ঘুর ঘুর করছে আরশাদ তখন নিজের প্লেটে থাকা সুস্বাদু সর্ষে ইলিশে আয়েশ করে কামড় বসাচ্ছে।
——————-
“বাহ শুনলাম বিয়ে করেছে নাকি? আমাদের এত বছরের প্রেম এত সহজে ভুলে গেলে?”
” হ্যাঁ করেছি আর কি বললে প্রেম? সেটার সম্মান কি তুমি আদৌ রেখেছো? আমার বন্ধু রাজীবের সাথে যখন ডাবল টাইমিং করেছিলে সেদিনই তুমি আমার লাইফে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছো। ”
“মানে কি বলতে চাচ্ছো?”
“রুবাব তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছ গত তিন বছর আগে তুমি আমার সাথে চিট করেছো। তাই তোমার সাথে সম্পর্কটা আমি গত তিন বছর আগেই শেষ করেছি।”
“তো মানুষ দ্বারা ভুল হতেই পারে আদিব। তাই বলে তুমি আমার সাথে রাগ করে বিয়ে করে ফেলবে।”
“তোমার সাথে রাগ করার মত রুচিও আমার নেই। আমি বিয়ে করেছি কারণ আমি আমার ওয়াইফ কে প্রথম দেখায় ভালোবেসে ফেলেছি তাই।”
“ভালোবাসা? তোমার ওয়াইফের ব্যাপারে বেশ ভালো খবরই কানে এসেছে।। শুনলাম নাকি কম বয়সেই বিধবা হয়েছে। তা এমন সেকেন্ড হ্যান্ড মেয়ের মধ্যে কি পেলে?”
“আমার ওয়াইফ বিধবা হোক আর যাই হোক তোমার থেকে অনেক গুনে বেটার। এটলিস্ট তোমার মতো নিজে বয়ফ্রেন্ডের বন্ধুর কাছে তো আর শরীর বিলিয়ে দেয় নি। ”
“আদিব মুখ সামলে কথা বলো।”
“রুবাব শুরুটা তুমিই করেছ। জাস্ট তোমার সম্মানের কথা ভেবে আমি তোমাকে কিছু বলছি না। রাজীবের সাথে তো শুনলাম ভালোই আছো তাহলে শুধু শুধু আমার লাইফে ইন্টারফেয়ার কেন করছো?”
এবার রুবাব নিজের গলার স্বর কিছুটা নরম করে আদিবের হাত টা নিজের কাছে নিয়ে বলল,
“আদিব আমি বুঝতে পেরেছি তুমি আমার সাথে রাগ করে বিয়েটা করেছো। দেখো রাজিবের সাথে আমি ভালো নেই। ও আমাকে অনেক মেন্টালি টর্চার করে।চলো আমরা সবকিছু আবার নতুন করে শুরু করি।”
রুবাবের কথার মাঝেই কেবিনের দরজা খুলে ইরিনা কেবিনের ভিতরে প্রবেশ করল। রুবাবকে এভাবে আদিবের হাত ধরে থাকতে দেখে ইরিনা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
” উনি কে আর উনি এভাবে আপনার হাত ধরে আছে কেনো?আপনি কি আমাকে ঠকাচ্ছেন?”
ইরিনাকে এই সময়ে এখানে দেখে আদিব কিছুটা থতমতো খেয়ে গেলো। সে নিজের হাতটা রুবাবের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে বললো,
” ইরিনা তুমি যেটা ভাবছো এমন কিছুই না। ”
ইরিনা আর এক মুহূর্ত ও ওখানে দাঁড়ালো না। শাড়ির আচল মুখে চেপে সে দৌড়ে কেবিন থেকে বের হয়ে গেল। আদিব ও পিছনে ছুটলো। এবার রুবাব নিজের মুখে শয়তানি হাসি ফুটিয়ে একলা একলা বলতে লাগলো,
” কি মনে করেছে এই মেয়েটা। ও আদিবের বউ হবে। এরকম একটা লো ক্লাস বিধবার কাছে আমি ঠকে যাব? কখনো না। আদিব শেষমেশ আমারই হবে। কারণ পুরুষ মানুষ প্রথম প্রেম ভুলতে পারে না। ”
—————–
ডিএমপি কমিশনের সাথে মিটিং শেষ করে বের হতেই আরশাদের ফোনে আদিবের ফোন এলো। কল রিসিভ করতেই ফোনের ওপর পাশ থেকে আদিবের অসহায় কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,
” ভাইয়া আমি অনেক বড় একটা ঝামেলা করে ফেলেছি। ”
” কি করেছিস? ”
হাবিব একে একে চেম্বারে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা আরশাদ কে খুলে বলল,
” এখন ইরিনা কই আছে? ”
” আমি ওর পিছে পিছে দৌড়ে গিয়েছিলাম কিন্তু হসপিটালে সামনে গিয়ে দেখি ও কোথাও নেই। ফ্ল্যাটেও যায়নি। আমাদের বাসায়ও ফোন দিয়েছিলাম ওইখানেও ও যায়নি। আমার অনেক টেনশন হচ্ছে এখন আমি কি করবো? ”
” তুই শুধু নামেই ডাক্তার হয়ে গেলি। এত বড় বোকা কি করে হোস তুই? রুবাব মেয়েটা কত ফাজিল সেটা কি তুই জানিস না। তাহলে কোন দুঃখে তুই ওর সাথে পুরানো স্মৃতিচারণ করতে গিয়েছিলি? ”
” ভাইয়া সরি ভুল হয়ে গিয়েছে। মা দুইবার অলরেডি ওকে ফোনে খুঁজেছে আমার কাছে। মা যদি এসব জানতে পারে আমাকে আর আস্ত রাখবে না। ”
” তোকেই ধরে এখন আমার পিটাতে ইচ্ছা করছে। এক কাজ কর মেঘলাদের বাসায় যা। আমার যতদূর ধারণা ও হয়তো ওখানে গিয়েছে। ”
” ভাইয়া প্লিজ তুমিও একটু আসো। ও অনেক রেগে আছে। ও তোমাকে অনেক সম্মান করে তুমি হয়তো বুঝিয়ে বললে ও বিষয়টা বুঝতে পারবে। ”
” ঠিক আছে আসছি।আর তোর চেম্বারে কি সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে?”
” জি আছে। ”
” আজকের ফুটেজগুলো সব নিয়ে আসিস।”
“ঠিক আছে ভাইয়া।”
————–
মোতালেব সর্দারের তিন নাম্বার আঙ্গুলের নখটা যখন প্লাস দিয়ে সিনথিয়া জামান তুলে ফেলল, তখন আস্তে আস্তে তার জ্ঞান ফিরতে লাগলো। আঙুলে ব্যথা অনুভূত হতেই সে চিৎকার করে বলল,
” এই মেয়ে তুই এসব কি করছিস? পুলিশ তোকে একবার হাতের কাছে পেলে তোকে আস্ত রাখবে না।”
” পুলিশ আমার নাগাল পাওয়ার আগেই তুই উপরে পৌঁছে যাবি। ”
কথাটা বলেই সিনথিয়া জামান মোতালেব সর্দারের চার নম্বর আঙুলের নখটাও তুলে ফেলল। সবগুলো নখ তোলা শেষ হতেই সে প্রতিটা নখের উপরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিল। অসহনীয় যন্ত্রণায় মোতালেব সর্দার চিৎকার করে যাচ্ছে কিন্তু তার চিৎকার শুনে সিনথিয়া জামান আরো বেশি ইনজয় করে যাচ্ছে। সিনথিয়া জামান এবার তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,
” যত ইচ্ছা চিৎকার কর। এই রুমটা সাউন্ড প্রুফ। তুই যতই চিৎকার করিস কেউ তোর চিৎকার শুনবে না। ”
এবার সিনথিয়া জামান পাশে টেবিলে থাকা ব্লেড টা তুলে নিয়ে মোতালেব সর্দারের পায়ের দিকে এগিয়ে গেল। ব্লেড দিয়ে পায়ের পাতায় আঁকা বাঁকা করে পোচ দিতে লাগলো।
” কেমন লাগছে তোর?কিছু মনে পড়ছে? ”
“এই শয়তান মা*গী কে তুই? সাহস থাকলে বল কে তুই?”
” আহা এত অধৈর্য হচ্ছিস কেন? আমার পার্টনারকে আসতে দে। তারপর তোকে সবটা বলবো যে আমি কে? ”
চিৎকার করতে করতে মোতালেব সর্দারের গলা ভেঙে গেছে। তাই সে আর এখন চিৎকার করতেও পারছে না। মনে মনে মৃত্যু প্রার্থনা করা ছাড়া তার কাছে আর কোনো পথ খোলা নেই। তার কাছে মনে হচ্ছে যত তাড়াতাড়ি তার মৃত্যু হবে ততো তাড়াতাড়ি সে এই অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে।
চলবে………
কেমন লাগছে গল্প? একটু ডিটেইলসে কমেন্টে জানাবেন। তাহলে আমি আপনাদেরকে আরো বড় বড় পর্ব দিতে পারবো।

